Jump to ratings and reviews
Rate this book

অদ্ভুত

Rate this book
-> ড্রাগনফল

প্রাইভেট টিউটর সিফাতের শখ থাকলেও সাধ্য নেই পছন্দের ফলটা কিনে খাবার। অযাচিতভাবেই শখটা একদিন পূরণ করলো অচেনা ফলবিক্রেতা। বাড়ি পৌঁছে অবাক হয়ে সিফাত খেয়াল করলো, ডিমের খোসার মতোই ফলটার আবরণ ভেঙে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে কিম্ভুতদর্শন এক ড্রাগনের বাচ্চা!
এই গল্পটা একইসাথে বার্নিং ডিজায়ার নামক মিহিদানার মতো এক মাদকের বিরুদ্ধে, যা গোটা দেশে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। অজানা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে নামলো নারকোটিকস প্রিভেনশন টাস্ক ফোর্সের অপারেশনাল চীফ এবং তার ছোট্ট দল। তবে ওদের মাথার ওপর ঝুলছে নিষেধাগার খড়্গ। একটু বেচাল হলেই বন্ধ যেতে পারে পুরো স্কোয়াডের কার্যক্রম।
লড়াইটা শেষ হয়েও কিন্তু শেষ নয়, মাত্র শুরু হচ্ছে। প্রাচীন এক কিংবদন্তিকে যদি চোখের সামনে সত্য হতে দেখেন, বিশ্বাস করতে পারবেন তো?

-> দেবং

লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা বিখ্যাত রহস্যোপন্যাস লেখক রুপম রাহার ট্র্যাভেল ভ্লগার স্ত্রী ক্যামেলিয়া নিখোঁজ। অপহরণকারী কে, তা জানতে খুব বেশি সময় লাগলো না অবশ্য। স্ত্রীকে বাঁচাতে ওকে যেতে হলো অন্ধকার আর আতঙ্কে ঘেরা ভয়ঙ্কর এক গ্রাম “দেবং”-এ।
প্রতিপক্ষ এক ভয়ানক সিরিয়াল কিলার। কোন মোহে পড়ে একের পর এক খুন করে যাচ্ছিলো সে, তা জানতে পেরে লোকটার ওপর মায়া জন্মাবে নাকি ঘৃণা করবে, তা ঠিক ঠাহর করতে পারছে না বেচারা লেখক।
অদ্ভুত এক নির্দেশ পেলো রুপম। মৃত্যুর আগে জীবনের সবচেয়ে সেরা গা ছমছমে হরর উপন্যাসটা লিখে যেতে হবে ওকে, এবং...
পুরোটাই হতে হবে বাস্তব ঘটনার উপজীব্যে!
অগত্যা, হাতে কলম তুলে নিলো রুপম রাহা।
শেষবারের মতো?

176 pages, Hardcover

First published October 14, 2023

1 person is currently reading
24 people want to read

About the author

যতক্ষণ পর্যন্ত না হাল ছেড়ে দেয়া হয়, হেরে যাবার সম্ভাবনা থাকে শূন্যের কোঠায়...

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (21%)
4 stars
12 (28%)
3 stars
15 (35%)
2 stars
3 (7%)
1 star
3 (7%)
Displaying 1 - 22 of 22 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,686 reviews456 followers
June 12, 2024
বইয়ের প্রথম নভেলা "ড্রাগনফল" এর পুরো কাহিনিতে নতুনত্ব বা বিশেষত্ব কোনোটাই বিশেষ নেই। শেষে কী হবে যে কেউ ধরে ফেলতে পারবে। দ্বিতীয় নভেলা "দেবং" সে তুলনায় অনেক পরিণত ও গোছানো লেখা। শেষের টুইস্ট আরেকটু জমিয়ে দেওয়া যেতো হয়তো। পড়তে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,123 reviews1,111 followers
November 8, 2023
ড্রাগনফল গল্পটা একটা কিশোর ফ্যান্টাসি বলা চলে। শেষে কিছু টুইস্টের দেখা মিললেও পরিণতি একদম প্রেডিক্টেবল। তাই খুব বেশি অবাক হয় নি। তবে এ ধরনের গল্পে কিছু হিউমারের উপস্থিতি গল্পটাকে আরো বেশি উপভোগ্য করে তোলে (নিতান্তই ব্যক্তিগত মতামত (জাফর স্যারের কিশোর ফ্যান্টাসি পড়ে পড়ে এই একটা দিক মাথার মধ্যে গেঁথে গেছে, হিউমার লাগবেই।) )।

সে যাকগে, দ্বিতীয় গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। প্রথম থেকেই গল্পের মধ্যে ঢুকে গেছিলাম। উপভোগ ও করছিলাম। কিন্তু শেষটা বড্ড তাড়াহুড়োই শেষ করে ফেলেছেন লেখক। দেবং গ্রাম আর তার মানুষগুলোর আরো পরিষ্কার একটা ছবি আশা করেছিলাম। প্রচ্ছদে যেমন গভীর একটা ইঙ্গিত দেওয়া ছিল সেরকম কোন পরিবেশ গল্পটিতে তৈরি হয় নি। প্রচ্ছদ দেখে আগেই মাথার মধ্যে স্পয়লার হিসেবে ঢুকে গিয়েছিল গ্রামের ছবিটা। ঐখানেই মারা খেয়েছি আরকি।

তো বইপাঠ শেষে 'অদ্ভুত আবেশ' এর একটু কমতি আমি অনুভব করেছি। আশা করি দ্বিতীয় কিস্তিতে (ভূমিকা থেকে আঁচ করেছি) আরো দারুণ কিছু অবশ্যই পাব। সেই আশাতেই থাকলাম।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books407 followers
October 26, 2023
দুটো ফ্যান্টাসি নভেলার সমন্বয়ে লেখা অদ্ভুত নামের এই বইটা। প্রথম নভেলার নাম ড্রাগনফল। একজন ড্রাগন ফল কিনে এনে সেখান থেকে অদ্ভুতভাবে ড্রাগনের বাচ্চার দেখা পায়। বাচ্চাটা হারিয়েও যায়। এরপর থেকেই গল্পের শুরু। এই গল্পের শুরুটা ছিল বেশ ইন্টারেস্টিং। পড়তে ভালোই লাগছিল। কিন্তু মধ্যখানে বার্নিং ডিজায়ার নামক এক ড্রাগ ও এর আবির্ভাবের তদন্তের বিষয় চলে এলো। যেটাকে পুরোপুরি ফোর্সড মনে হয়েছে। যেন ড্রাগনের বাচ্চার সাথে নায়কের আবার মিলনের উদ্দেশ্য ছাড়া এই সাবপ্লটের কোনো অর্থ ছিল না। ইভেন এই প্লটটার কোনো ইতিও টানা হয়নি। এজন্য সম্ভাবনাময়ী নভেলাটা খাপছাড়া লেগেছে।

দ্বিতীয় নভেলা বেশ ইন্টারেস্টিং। দেবং নাম। শুরু থেকেই এটাতে হুকড হয়ে গিয়েছিলাম। কল্পনাশক্তির সাহায্যে আদিবাসী একটা মিথ দাঁড় করিয়ে বেশ ভালোভাবেই উপস্থাপন করেছেন লেখক। গল্পের সেটআপ, বিল্ডিং, চরিত্রায়ন সবই ভালো ছিল। বেশ কিছু উদ্ভট ও গা শিরশিরে অনুভূতিও হয়েছে। তবে শেষটা একেবারেই সাধারণ। প্রেডিক্টেবল। আরেকটু জটিল কিছু আশা করেছিলাম শেষে।

যাইহোক, সবমিলিয়ে মিশ্র একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে অদ্ভুত থেকে। লেখকের লেখার ধরন ও উপস্থাপন ভঙ্গি সুন্দর। আরবান ফ্যান্টাসি ধারা উনার সহজাত। সামনেও হয়তো আরও ভালো কিছু পাবো তার থেকে।
Profile Image for Rafia Rahman.
418 reviews222 followers
November 23, 2023
বই: অদ্ভুত
লেখক: আহনাফ তাহমিদ
জনরা: আরবান ফ্যান্টাসি
প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ
প্রকাশনী: বুক স্ট্রিট
প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০/-

ফ্যান্টাসি জনরা নিয়ে কমবেশি আমরা সবাই জানি কিন্তু সাবজনরা? আরবান ফ্যান্টাসি নিয়ে আমার জানাশোনা অল্পই ছিল। বইয়ের সুবাদে আরও খোঁজখবর নিয়ে ধারণা মোটামুটি স্পষ্ট হয়েছে। তাই বইয়ের প্রতিক্রিয়া শুরুর আগে সাবজনরা নিয়ে একটু বলি তবে যদি আপনি জেনেই থাকেন তো এই অংশটা স্কিপ করতে পারেন। আমাদের চিরচেনা জগতের ভিতরে লুকায়িত রহস্যময় জাদুর জগৎকে আরবান ফ্যান্টাসি বলা যায়। আরও যদি পরিষ্কার করে বলি তো, শহর বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে অতিসাধারণ মানুষদের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে আছে এমন কিছু মানুষ যাদের আছে বিশেষ কিছু ক্ষমতা। তবে এই ক্ষমতা পাওয়ার জন্য তাদের বেশ কিছু পথ চলতে হয়। আর এই পথচলা বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। এককথায়, ❝শহুরে প্রেক্ষাপটে রচিত ফ্যান্টাসিকেই আরবান ফ্যান্টাসি বলে❞।

১৭৪ পেইজের বইয়ে আছে দুটি নভেলা। প্রথম নভেলা শেষ করে প্রথমে আমি বুঝিই নাই যে শেষ হয়ে গেছে! ভেবেছিলাম ইন্টারকানেক্টেড হবে। কিন্তু না, সম্পূর্ণ আলাদা কনসেপ্টের দুটি প্লট। প্রথম নভেলা বাংলার এক কিংবদন্তি নিয়ে, অন্যটি লেখকের নিজস্ব সৃষ্টি।

ড্রাগন ফল:

লাল, মেজেন্টা, বেগুনি, সবুজ রঙের মিশেলে অদ্ভুত দেখতে একটা ফল হলো ড্রাগন ফল। সম্প্রতি সময়ে ভালোই জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে দেশে, খাদ্য গুণেই হোক বা দর্শনগুনে ক্রেতাদের বেশ আকৃষ্ট করছে। পরিবারপরিজনহীন, চাকরির সন্ধানে ঘুরতে থাকা এক যুবকের কাছে এই দামী ফল বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না। তবে বেশ কিছুদিন ধরে সিফাতের ড্রাগন ফল খেতে ইচ্ছে করছে। বাসার সামনের ফল বিক্রেতা মামার ফলের ঝাকার দিকে প্রতিদিন কিছুসময় তাকিয়ে থাকে তবে কেনা আর হয়ে ওঠে না। জন্মদিনে হঠাৎই উপহার পেয়ে যায় সিফাত, তাও ❝ড্রাগন ফল❞! কিন্তু... রুমে এনে যেয়ই না রাখা তখনই ডিমের মতো ফেটে বেড়িয়ে আসে ছোট্ট এক ড্রাগন!

বাংলার পরিচিত এক কিংবদন্তি হলো ❝বগালেকের ড্রাগন❞। নভেলার প্লট এই কিংবদন্তি ঘিরেই। কেওক্রাডং পাহাড়ের পাদদেশে এক গ্রামে হঠাৎ একদিন আকাশ থেকে নেমে আসে এক বিকটদর্শন প্রাণী! কারো কাছে দৈত্য তো কারো মতে পাহাড়ের দেবতা। এই দেবতা /দৈত্যরুপী ড্রাগন বাচ্চাদের খাওয়া শুরু করে। গ্রামবাসীকে বাঁচাতে শুরু হয় যুদ্ধ! ফলাফল, আগুনে পুড়ে মারা যায় বগা ও সৃষ্টি হয় বগালেক। কাহিনী শুরু হয় ড্রাগনের বাচ্চা সিফাতের কাছে আসা দিয়ে। মিষ্টি একটা বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। তারপর নিখোঁজ হয়ে যায় পিচ্চি ড্রাগন। এরপরের ঘটনা কয়েকবছর পর সিফাতের এনপিএসটিএফের অফিসার হয়ে ❝বার্নিং ডিজায়ার❞ নামক ড্রাগের বিরুদ্ধে লড়াই। এতখানি অংশ পর্যন্ত এসে আমি ধরেই নিয়েছিলাম ড্রাগন রহস্য খোলাসা ও ড্রাগ চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই দেখবো। আপনিও যদি আমার মতো এই দুটো পয়েন্ট মাথায় রেখে পড়েন তো হতাশ হবেন। কারণ গল্পের সমাপ্তি দুই বন্ধুর মিলন দিয়েই! ড্রাগন ফল কেন পেলো, রহস্য কী, ড্রাগের চক্রের কিছু না বলেই হুট করে শেষ! শুরুতে যতটা আশাবাদী ছিলাম শেষে ততই আশাহত হয়েছি।

দেবং:

দেশের সনামধন্য লেখক রুপম রাহা কিন্তু ইদানিং কিছুই লিখতে পারছে না। সুন্দর গোছানো একটা জীবনের স্বপ্ন যে প্রিয়জনের সাথে দেখেছিল সেই কিনা বিশ্বাসঘাতক করলো! স্ত্রীর প্রেমিকের সন্ধানে হাজির হয় অজন্তা আর্ট গ্যালারীতে। প্রেমিকপ্রবরের আঁকানো ছবি দেখে মাথা ঘুরে ওঠে রুপমের। এ কার চক্করে পড়েছে ক্যামেলিয়া! প্রেমের জগৎ মনে করে যেখানে পা দিয়েছে তাতো নরক! আর প্রেমিকপুরুষ তো সাক্ষাৎ শয়তান! স্ত্রীকে বাঁচাতে রুপম ছুটে যায় অজানা অদ্ভুত এক গ্রামের খোঁজে। কিন্তু শিকার-শিকারীর খেলায় জয়ী হবে কে?

দেবং নামক এক গ্রামকে নিয়ে লেখা ছোট এই নভেলা। গ্রামবাসীর দেবতা দেবং আর আছে তার সেবক ও পূজারীরা। প্রথমটার তুলনায় এই নভেলার গাঁথুনি বেশ মজবুত মনে হয়েছে। শুরু থেকে শেষ ঘোরের মধ্যে ছিলাম! গুনীজনদের কদর সর্বত্রই কিন্তু সেই গুন নিজের মধ্যে নেওয়ার জন্য যদি দিতে হয় চড়া মূল্য তখন? বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র কে বুঝা যাবে শেষে তবে এন্টাগোনিস্টের জন্য প্রথমে কিছুটা মায়া হতে পারে। অনেক অভিভাবকদের মধ্যে দেখা যায় নিজের সন্তানের সাথে অন্যদের তুলনার চল। মেধাবী না হওয়া, গুন না থাকা যেন পাপ! আর এই পাপ থেকে বাঁচতেই এন্টাগোনিস্ট নিষিদ্ধ পথে এগিয়ে যায়। পরিণতি? শেষ অংশ প্রেডিক্টেবল ছিল। কিছু টুইস্টের আশা করেছিলাম, মিরাকেল হবে ভেবেছিলাম কিন্তু লেখক সাধারণ একটা সমাপ্তি টেনেছেন। ওভারঅল ভালো লেগেছে।

বই পড়ার পর প্রচ্ছদটা বেশ কয়েকবার দেখলাম, জাস্ট... অদ্ভুত মানানসই! টুকিটাকি কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। বাঁধাই, পেইজের মান, হার্ড কভারের মান ভালোই বলা যায়।
Profile Image for হাসিন ইশরাক  (Hasin Ishraq).
1 review2 followers
August 11, 2025
Rating 3.5/5
পড়ে শেষ করলাম লেখক আহনাফ তাহমিদের লেখা প্রথম মৌলিক "অদ্ভুত"। কেমন ছিল সেই যাত্রা? সাহিত্যের চিরাচরিত দিকগুলি বইয়ে কতটুকু ধরা দিয়েছে? এবং ভালো-মন্দ মিলিয়ে পড়া শেষ করে অনুভূতি কি তা নিয়েই আজকের পোস্ট।

গল্পের প্লটঃ
এই মৌলিকটি দুইটি পৃথক নভেলার সমন্বয়ে লেখা। প্রথমটির নাম ড্রাগনফল- আরবান ফ্যান্টাসি এবং দ্বিতীয়টি দেবং- ডার্ক থ্রিলার। প্রথম নভেলাতে দেখা যায় প্রাইভেট টিউটর সিফাত একবার এক অচেনা ফল বিক্রেতার কাছ থেকে পছন্দের ফল নিয়ে বাড়ি ফেরে। বাড়ি পৌঁছে অবাক হয়ে সিফাত খেয়াল করে, ডিমের খোসার মতোই ফলটার আবরণ ভেঙে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে কিম্ভুতদর্শন এক ড্রাগনের বাচ্চা! ডুগু নামের সেই ড্রাগনকে নিয়েই কাহিনী এগোতে থাকে। একইসাথে কাহিনীতে এসে জুড়ে বসে মাদকের বিপক্ষে এক অভিযান। দ্বিতীয় নভেলাতে এক বিখ্যাত লেখক রুপম রাহার স্ত্রীকে নিখোঁজ হতে দেখা যায়। স্ত্রীকে বাঁচাতে লেখককে যেতে হয় অন্ধকার আর আতঙ্কে ঘেরা ভয়ঙ্কর এক গ্রাম “দেবং”-এ। মূলত তাদের দুজনের সংসার জীবন, মধ্যকার সম্পর্ক এবং দেবং গ্রামে যাত্রা- এই নিয়েই পুরো নভেলা।

ড্রাগনফল- রেটিং ২.৫/৫
Positive notes ঃ গল্পের চরিত্রায়ন বেশ ভালো। সিফাতের সাথে যেভাবে ডুগুর পরিচয় হয় এবং যেভাবে বর্ণনার ভেতর দিয়ে কাহিনী শুরুতে এগোতে থাকে তা পছন্দ করার মত। অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয় এখানে বর্ণনাতে উঠে এসেছে। একটা টার্ম আছে- Artistic Use of Language অর্থাৎ ভাষার শৈল্পিকতা। লেখকের লেখায় এই দিকটা আমার ভালো লেগেছে।
Negative Notes ঃ
(স্পয়লার হতে সাবধান) সত্যি বলতে গেলে প্রথম নভেলা পড়ে আমি কিছু হতাশ হই। কারণ যাত্রার শুরুতে যতটা চমকপ্রদ ছিল কাহিনী পরবর্তীতে আর তেমন থাকে না। গল্পের ফ্লো এবং প্লট দুইটাই যেন হারিয়ে যায়। ফ্যান্টাসি গল্পে পুরোপুরি সামাজিক প্রেক্ষাপট চলে আসে এবং মাদক নিয়ে বাকী যে অংশটা চোখে পরে সেখানে কাহিনী লিনিয়ার হয়ে যায়। খুব বেশি আগ্রহ তৈরি হয় না সামনে কি আছে জানার জন্য। যেন কাহিনীর শুরু আর শেষে ফ্যান্টাসি আর মাঝে বড় একটা অংশ শুধু সামাজিক বিষয়াদি। লেখককে প্লট নিয়ে আরও কাজ করা উচিত ছিল। পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে বর্ণনা মিসিং অনেক ক্ষেত্রেই। এই দিকটাও মাথায় রাখা উচিত ছিল। পয়েন্ট আকারে বললে,
Positive Sides:
১। চরিত্রায়ন
২। ভাষাগত শৈল্পিকতা
Negative Sides:
১। ডেপথ অফ থিম
২। পরিবেশের বর্ণনা
৩। ফ্লো চেঞ্জ বা লিনিয়ার হয়ে যাওয়া

দেবং- রেটিং ৩.৫/৫

Positive notes ঃ এই নভেলাটা মুগ্ধ করার মত। চরিত্রায়ন থেকে শুরু করে প্লট, থিমের গভীরতা, কাহিনীর ফ্লো সবকিছুই একদম খাপে খাপ। কোন মুহূর্ত এখানে পাঠককে হতাশ করবে না। ধরে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধের মত শেষ পর্যন্ত। এই লেখাটা অনেক মেচিউর এবং লেখক যে যাত্রাটার ভেতর দিয়ে পাঠককে নিয়ে যায় সেটা প্রতিটা সময়েই সন্তুষ্ট করে চলে। বিশেষ করে রুপম রাহা আর তার স্ত্রী কেমেলিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে যেভাবে শুরু থেকে শেষ অবধি দেখানো হয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য। মং এর চরিত্র নিয়ে না বললেই নয়। ডায়লগগুলি ভালো করেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে এবং বেশ ইউনিক করে রাখতে পেরেছে চরিত্রটাকে।

Negative Notes ঃ (স্পয়লার এলার্ট)
.
.
.
.
.
.
.
.
এই কাহিনীতে শেষের দিকে আরেকটু বেশি টুইস্ট এক্সপেক্ট করছিলাম। যা পাই নি। আর কাহিনীতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে খটকা চোখে পরে। যেমন আর্ট এক্সিবিসনে বিশেষ কক্ষে রাখা ছবিগুলি বিশেষ মানুষদের জন্য প্রদর্শনী করা হয়। কেমেলিয়া বিয়ের অনেক আগে থেকেই এক্সিবিসনে যায় এমন একজন চরিত্র। অথচ কখনও একদিনের জন্যও তার চোখে সেই ছবিগুলি ধরা দেয় নাই, এমনকি সে কোনোদিন ঐ "বিশেষ প্রদর্শনী" র কিংবা সেই কক্ষেরও কোন আঁচ পায় নাই। আবার মং যেমন অনেক হত্যা করে বেড়ায় ঠিক তেমনি ভিলেইনও অনেক হত্যা করে বেড়ায় দেশে বিদেশে। এবং হত্যাগুলি যে খুব বড় রকম পরিকল্পনা করে হয়েছে এমনও না। এমনকি রুপম রাহার হত্যার কেসটাতেও লেখকের বাবা জানতো ঠিকানা। জায়গামত গিয়ে ইনভেসটিগেসন করলে অবশ্যই ধরা পরে যাবে ভিলেইন। যতই নিঃসঙ্গ মানুষকে হত্যা করা হোক না কেন এত সহজে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পার পেয়ে আসা যুক্তিযুক্ত না। রুপম রাহার হত্যার অনেক আগেই ভিলেনের ধরা পরে যাওয়া উচিত ছিল। ঠিক এই পয়েন্টে আমার কাছে গল্পটা লজিকাল গ্রাউন্ড থেকে দূরে চলে যায়।

Positive Sides:
১। প্লট অনেক ভালো, পাঠককে ধরে রাখতে পারার মত
২। বেশ কিছু সেনসিটিভ জায়গা অনেক চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে, বর্ণনা এবং নেরেটিভ ভাল
৩। চরিত্রায়ন
৪। একেক পর্বে একেক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা- এই চিন্তাটা অসাধারণ
৫। ডায়লগ মেকিং

Negative Sides:
১। কিছু কিছু জায়গায় কাহিনীর ফ্লো অনেক বেশি ফাস্ট, নভেলা হলেও সেই অংশগুলিকে আরেকটু সময় দেয়া যাইতো
২। কাহিনীতে লজিকাল এক্সপ্লেনেসান পাওয়া যায় না সবকিছুর

যাই হোক, লেখক প্রতিশ্রুতিশীল। আশা করি সামনে আরও ভাল লেখা পাব। হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Sakib A. Jami.
348 reviews41 followers
January 18, 2026
কিংবদন্তি অনেক হয়। যার সত্য, মিথ্যে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই বাংলায়ও অনেক কিংবদন্তি আছে। অনেক মিথ আছে। তেমনই এক মিথ বগালেকের ড্রাগন। সত্যিই কি ছিল এমন ড্রাগন? পাহাড়ের অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে এসে খেয়ে ফেলতে শুরু করে সেই অঞ্চলের গ্রামের মানুষদের। ভয়ে, আতঙ্কে ব্যতিব্যস্ত গ্রামবাসী তাই এমন এক ভয়ংকর দর্শন এক প্রাণীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু মানুষ কি আর পারে এমন শক্তিশালী জীবের সাথে? তাই রক্ষাকর্তা হিসেবে আসে জলদেবতা। আর এখানেই বগালেকের ড্রাগন কিংবদন্তির সূচনা।

আমাদের এই গল্পটা সিফাতের। এতিমখানায় বড়ো হওয়া সিফাতের দুই কূলে কেউ নেই। নিজ চেষ্টায় পড়াশোনা করা, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে চাকরির যুদ্ধে নিজেকে সঁপে দিয়েছে। বর্তমানে টিউশনি করে নিজের খরচ চালাচ্ছে। সাথে ভার্সিটির বড়ো ভাইসুলভ জিতু ভাইয়ের ছায়া তো আছেই।

জীবনে চলার পথে হুটহাট এমনভাবে মোড় নেয়, কেউ কল্পনাও করতে পারে না। একজন ফল বিক্রেতার ঝুড়িতে ড্রাগন ফল দেখে লোভ লাগে সিফাতের। কিন্তু পকেট সায় দেয় না। কোনো এক অদ্ভুত কারণে একটি ড্রাগন ফল হাতে আসে। আর তাতেই বদলে যায় সিফাতের সেই সময়টা। ড্রাগন ফল থেকে ড্রাগন বের হচ্ছে, সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য? এমন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়ে ছোট্ট ড্রাগনের সাথে বন্ধুত্ব। কিন্তু ড্রাগনের মতো কোনো প্রাণী চার দেয়া��ের শহরে থাকবে ভাব যায় না। তাই সিফাতকে ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু কোথায়?

ঠিক অনেক বছর পর বাংলদেশে বার্নিং ডিজায়ার নামক এক ড্রাগের উত্থান হয়। জীবনের অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে মাদক চোরাচালান নির্মূলে কাজ করছে সিফাত। এনপিএসটিএফ-এর হয়ে কাজ করে চেষ্টা করে এর মূল উপড়ে ফেলার। কিন্তু কতটা সম্ভব হবে? এই গল্পে ড্রাগনের ভূমিকা কী? সিফাত কি পারবে দক্ষতার পরিচয় দিতে?

গল্পের শুরুটা ভালো ছিল। একটু রহস্য রহস্য আভাস ছিল। কিন্তু হুট করেই যেন খেই হারিয়ে ফেলল। বিশেষ করে যে ধারার গল্পের সূচনা, সেই ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নখাতে গল্পের প্রবাহ বেশ হতাশ করেছে। ড্রাগনের যাত্রা থেকে সিফাতের মাদক চোরাচালান বন্ধের যে গল্পের মোচড়, সেটা কেন যেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শেষটা প্রত্যাশিত ছিল। যেমন আশা করেছি তেমনই। এটাও হতাশ করা অন্যতম কারণ। কিছুটা বাচ্চাদের গল্প মনে হয়েছে। শিশু-কিশোরদের গল্পটা ভালো লাগলেও লাগতে পারে।

তবে যে জিনিসটি ভালো লেগেছে, সেটা লেখকের চরিত্র গঠন। সিফাতের জীবনের গল্প। মানুষ লেগে থাকলে একসময় সফলতা পাবেই। সিফাতের মধ্য দিয়ে যেন লেখক সেই বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন। সিফাতের সংগ্রামের কথা পড়তে ভালো লেগেছে। এই দিকটায় কোন রকম কার্পণ্য করেননি। তাছাড়া লেখকের লেখনশৈলী ভালো। শব্দচয়ন ভালো লেগেছে। বর্ণনাভঙ্গি সাবলীল। তবে দুর্বল গল্পের কারণে বইটি ঠিক প্রাণ পেল না। শেষের দিকে তাড়াহুড়ো আর যেনতেনভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা না থাকলে হয়তো আরো উপভোগ হতো।

▪️গল্প : ড্রাগন ফল
▪️বই : অদ্ভুত
▪️লেখক : আহনাফ তাহমিদ
▪️প্রকাশনী : বুকস্ট্রিট
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.২/৫

......

যেকোনো সম্পর্ক খুব গুরুত্ব বহন করে। সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব দুই প্রান্তে থাকা দুই মানুষেরই। কিন্তু কখনও সেই সম্পর্কের বাঁধনে টান পড়ে। দুর্বল হয়ে পড়ে ভালোবাসার বন্ধন। যেখানে ভালোবাসার শক্তিতে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়া। এই দায় কার? কেন ভালোবাসার সম্পর্কগুলো এভাবে ফিকে হয়ে যায়। সম্পর্কের মর্যাদা কি কেউ রাখতে পারে না?

বিখ্যাত লেখক রুপম রাহার জীবনে ঘটে গেছে এক অন্যরকম ঘটনা! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পছন্দ, এরপর প্রেম করে বিয়ে। ক্যামেলিয়া রাহার সাথে ভালোই দিন কাটছিল রুপমের। একই সাথে কলমের জাদুতে মাতিয়ে রেখেছিল সাহিত্যপ্রেমী জনগনকে। কিন্তু সুখের পরে দুঃখ আসে। ভালো সময়ের পর খারাপ সময় ঘিরে ধরে। সব ঠিক থাকলেও ক্যামেলিয়া সাথে বৈবাহিক জীবন পূর্ণতা পায় না। একটি সন্তানের অভাব যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় রুপমের অক্ষমতাকে।

বিষন্ন দিনগুলোতে ক্যামেলিয়াও খুঁজতে চায় নিজেকে ফিরে পাওয়ার মন্ত্র। ট্র্যাভেল ভ্লগ করে ভালো থাকতে চায়। পরিচয় হয় জাভেদ রহমান নামের একজনের সাথে। তার সাথে কী সম্পর্ক ক্যামেলিয়ার? স্বামীর সাথে বাকবিতন্ডায় একদিন ঘর ছেড়ে চলে যায় ক্যামেলিয়া। এরপর আর খুঁজে পাওয়া যায় না। স্ত্রীকে খুঁজতে অন্ধকার ঝাঁপ দিতেও প্রস্তুত রুপম। সামনে আসে জাভেদ রহমান। যার অতীতের গল্প বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। সবকিছুর উত্তর পাওয়া যাবে দেবং-এ….

অদ্ভুত বইটির দ্বিতীয় গল্প “দেবং” প্রথম গল্প থেকে বেশ ভালো। গল্পের একটা নির্দিষ্ট ছন্দ ছিল। যে ছন্দ একটি রহস্যের আবহ বেশ ভালোভাবেই তৈরি করছে। গল্পটা আগের গল্প থেকে পরিণত লেগেছে। গল্পের ধারা স্বাভাবিক ছিল। মূল চরিত্রগুলোর জবানিতে উঠে এসেছিল ঘটনাক্রম। ফলে একই ঘটনাক্রম ভিন্ন আঙ্গিকে পাঠকের সামনে এসে ধরা দেয়। চরিত্রগুলোকে লেখক যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, সাধুবাদ দিতে হয়। প্রতিটি চরিত্র, তাদের বদলে যাওয়ার কারণ, তাদের মানসিক অবস্থা লেখক ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন দক্ষতার সাথে। ফলে চরিত্রগুলোকে অনুভব করা সহজ হয়েছে।

প্রতিটি মানুষই এমন কাউকে পাশে চায়, যার সাথে নিজেকে সুখী দেখতে পারে। একেকজনের কাছে সুখের সংজ্ঞাটা একেকরকম। কোনো এক দম্পতির কাছে সুখ মানে হয়তো সন্তান। সেই সুখের দেখা না পেলে দূরত্ব বাড়ে। সম্পর্কের মাঝে বিশাল এক গর্তের আবির্ভাব হয়। যে গর্ত পূরণ হতে সময় লাগে না। ভিন্ন কেউ এসে বুজে দেয় সেই গর্ত। কিন্তু গর্ত পূরণের উপাদান সত্যিই কি স্বচ্ছ, না ভেজালযুক্ত সেটা বুঝতে অনেক সময় লাগে।

এই গল্পের শেষটা অন্যরকম। এই ধরনের গল্প বা উপন্যাসে লেখকের চেষ্টা থাকে শেষের দিকে কিছু চমক দেওয়ার। যে ধারায় গল্প প্রবাহিত হয়, তার থেকে ১৮০° গল্প ঘুরে যায়। এখানে লেখক সেই চেষ্টা করেননি। বরং স্বাভাবিক ঘটনাক্রমেই গল্পের বর্ণনা করেছেন। হয়তো এটাই লেখকের চমক। যেখানে আমার মতো অধিকাংশ পাঠকই হয়তো মিরাকল কিছুর প্রত্যাশায় ছিল।

লেখক বইটির মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাবা-মায়ের প্রত্যাশার চাপ সন্তানকে পিষ্ট করে ফেলে। বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে কত সন্তান নিজের মনের ঔজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে সেই হিসেব কি কেউ রাখে? সবাই তো আর সমান হয় না। সবার মেধাও এক হয় না। তবুও এর-ওর সাথে তুলনা, তার মতো করতে চাওয়ার চেষ্টায় সন্তান নিজেকে হারিয়ে অন্য সত্তায় পরিণত হয়। যে সন্তান ভয়ংকর কোনো কর্ম ঘটিয়ে ফেলতে পারে।

▪️গল্প : দেবং
▪️বই : অদ্ভুত
▪️লেখক : আহনাফ তাহমিদ
▪️প্রকাশনী : বুকস্ট্রিট
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫
Profile Image for Zasia Tashnuva.
2 reviews
March 5, 2024
ডুগু ক্যারেক্টার নিয়ে একটা উপন্যাস চাই ❤️‍🔥
ভালো লেগেছে৷ পড়ে দেখতে পারেন। ছোট দুইটা গল্প ভিন্ন দুই প্লটে। দারুন সময় কাটবে।
Profile Image for Mahrin Haque  Moho.
35 reviews7 followers
November 10, 2023
ধরুন শখ করে একটা ড্রাগন ফল কাটতে বসলেন খাবার জন্য, সেটা থেকে হঠাৎ যদি কোন ড্রাগনের বাচ্চা বের হয় কেমন হবে?? কিংবা ধরুন আপনি একজন নামকরা লেখক, সময়ের পরিক্রমায় লেখার সৃজনশীলতা বেশ খানিকটা মিইয়ে গেছে, কোন অদ্ভুত কারনে কেউ আপনার জীবনের বদলে কোন শ্রেষ্ঠ লেখা লিখতে বললো আপনার কেমন লাগবে?

গল্প পড়তে কার না ভাল্লাগে বলুন? গতানুগতিক ধারার বাইরে একটু আলাদা ভাবে সময় কাটাতে গল্পটাই বেশ কাজে দেয়, স্বল্প সময়ে একটা কাল্পনিক অস্তিত্বে নিজেকে কল্পনা করানো বেশ রোমাঞ্চকর অনূভুতি। বলছিলাম আহনাফ তাহমিদের লেখা অদ্ভুত বইটির কথা। পুরো বইটিতে মাত্র দুটো নোভেলা আছে। আর এই ছোট কাহিনির রেষই আপনাকে দৌড়াবে বেশ খানিকটা পথ।


       দেবং এর রাজত্বে ড্রাগনফল


🟣 ড্রাগনফল
অদ্ভুত বইয়ের প্রথম নোভেলাটা বেশ আগ্রহ জাগানিয়া। নিজের ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে? এরকম এক যুবকের গল্প বলি যে পথিমধ্যে হাঁটতে হাঁটতে প্রায়ই দেখে তার সাধ্যের বাইরের একটা ফল। খেতে ইচ্ছে জাগলে এসব ছোঁয়া সম্ভব হয় না সবার। কিন্তু সেটা যদি ড্রাগন ফল হয়? ধরুন আপনি কোন না কোন ভাবে ফলটা সংগ্রহ করলেন খাবারের জন্য আর তখনই তার ভিতর থেকে এক ড্রাগন বের হয়ে আসলে কি করবেন? ঠিক এমন অদ্ভুত ঘটনাই ঘটেছিলো সিফাতের সাথে। বেশ অবাক হয়ে ভাববেন এটা কি সম্ভব? তখনই ঘটনার মোড় ঘুরে দাঁড় করাবে নারকোটিক ডিপার্টমেন্টের সামনে। যেখানে পুরো যুবক সমাজকে অন্ধকার জগতে অভিষেক ঘটাতে আবির্ভাব হবে বার্নিং ডিজায়ার নামক এক ভয়ানক মাদকের।


ড্রাগনফল গল্পতে যেমন কল্পনার মেলবন্ধন, ঠিক তেমনি এতে রয়েছে বাস্তব কিছু অবক্ষয়ের উদাহরণ। সমাজের বাস্তব প্রতিলিপি লেখক সুক্ষ্ম ভাবে ড্রাগনের কল্পকাহিনির মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। মরণ নেশা মাদকদ্রব্য দিন কে দিন যুবসমাজকে যে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে নতুন-নতুন কোন উপায়ে লেখক এই দিকটা গল্পে তুলে ধরেছেন। তবে টুইস্টটা প্রেডিক্টেবল মনে হয়েছিল আমার কাছে। ছোট্ট ছিমছাম গল্পের আয়তনে মন্দ নয়, এই টুইস্ট। অদ্ভুতুড়ে ড্রাগনের কীর্তি দেখে কোহি মিল গ্যায়া মুভির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলো!! সব মিলিয়ে ভালো,খুব উপভোগ্য যে তা নয়।



🟣দেবং
সেলিব্রেটি কাপল, আপনি ও আপনার স্ত্রী। 
ধুম করে একদিন নিখোঁজ হয়ে গেলেন আর জনপ্রিয় লেখক হবার সুবাদে কেউ যদি আপনার কাছে আবদার করে বসে, জীবনের সবচেয়ে সেরা হরর উপন্যাস আপনাকে লিখতে দিতে হবে। বাস্তবে ঘটা কাহিনির আলোকে এমন বই লিখতে কেমন লাগবে আপনার? আত্মায় কাঁপুনি উঠার কথা না?! জনপ্রিয় লেখক রুপম রাহা ও ট্রাভেল ব্লগার ক্যামিলিয়ার জীবনের প্রথমাংশের দিনগুলো স্মরণের মাধ্যমে কাহিনির শুরু।

এরপর তাদের জীবনের ক্রিটিক্যাল মূহুর্তগুলোকে একত্রিত করে লে���ক যেভাবে গল্পকে দাঁড় করিয়েছেন এটা বেশ প্রশংসনীয় ছিলো।

দেবং নভেলাটা ছোট্ট কিন্তু মুগ্ধতা ছড়িয়েছে পুরো গল্পে। এই গল্পের ফ্লোটা বেশ স্মুথ ছিলো। লেখকের লেখনশৈলীতে, প্রতিটা ঘটনাকে লেখক ডায়েরি লেখার ছন্দে পাঠককে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছেন গল্পের প্রতি। ছোট্ট একটা কনসেপ্ট কিন্তু বেশ প্রবল ও দৃঢ়। 

গৎবাঁধা থ্রিলারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ভেবেছিলাম কিন্তু এখানেই লেখক ইউ টার্ন মেরেছেন। যত যাই হোক ভেবেছিলাম অন্তিম মূহর্তে কোন কারিশমা তো লেখক দেখাবেন, কিন্তু তা আর হয়নি..

সবখানে কেনো হ্যাপি এন্ডিংইই হতে হবে?

দেবং এর রাজত্ব না-হয় পুরো দেবং গল্পেই থাকুক। লেখকের তৈরী করা ভিলেনিয়াস ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ শক্তপোক্ত ছিলো যায়। তবে দুটি গল্পের পার্থক্য করলে দেবং এর কনসেপ্ট বেশি শক্ত ও চিন্তাভাবনার ফসল মনে হয়েছে।

প্রোডাকশন ও সম্পাদনাঃ বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ ভালো ছিলো, বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ নজরকাঁড়া ছিলো। পুরো বইতে চোখে তেমন ভুল, প্রিন্টিং মিসিং কিছুই চোখে পড়েনি। 


ড্রাগনফল ৩/৫
দেবং ৪/৫
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
295 reviews24 followers
February 20, 2024
~ড্রাগনফল নিয়ে ভাবনা ~

রুপকথার জগতে বিচরণ করতে আমার কাছে এখনো বেশ ভালোই লাগে। অন্তত বাস্তবের এই কঠিন জগতের থেকে ওখানে কিছুটা নিজের মতো শান্তিতে থাকা যায়। রুপকথার রাজকন্যা হতেও ভালোই লাগে। রুপকথা কেনো যে বাস্তবে আসে না ইসস! আফসোস করতে বসে যাই।

এই রুপকথা বা ইংরেজি নাম ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড যেটাই বলা হোক এখানে আসলে থাকে কল্পনার তুলি। লেখক নিজের মতো করে তুলি ছুঁয়ে এঁকে দেন যেন রঙিন আরেকটা জগত। লেখকের লেখায় তাঁরা জীবন্ত। তাঁদের অস্তিত্ব রয়েছে। আলাদা জগত আছে, ছোট ছোট চরিত্র আছে।

ঠিক তেমনি ভাবে একটা গল্প বলেছেন লেখক আহনাফ তাহমিদ। ওনার এই গল্পটা শুনতে মোটামুটি লাগলো। একটা ফ্যান্টাসি জগতের গল্প। যার সাথে তিনি যোগসূত্র এনেছেন বর্তমান সময়ের। আসলে বর্তমানে কেউ আসলেই বিশ্বাস করবে না এসব হতে পারে।

অনাথ সিফাতের পৃথিবীতে আপন বলতে কেউই নেই। চাকরির দৌড়ে পিছিয়ে পড়া সিফাতের দিন চলে টিউশনি করিয়ে কোনওক্রমে। তবে যার জীবনে কষ্ট আছে তাঁরও তো মাঝে মাঝে শখ হয় মনে তাই না। তাঁদেরও কত কিছু পেতে মন চায়।

রোজ ঝাঁকা মাথায় এক ফলওয়ালাকে দেখে সিফাত, যার ঝাঁকা ভর্তি ড্রাগন ফল দিয়ে। টুকটুকে ড্রাগন ফল দেখে সিফাতেরও ইচ্ছে হয় একবার একটু খেয়ে দেখে। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তবে একদিন তাঁর হাতে একটা ড্রাগন ফল দিলেন ওই ফলওয়ালা। বললেন সিফাতের জন্মদিনে ছোট্ট একটা উপহার। অবাক হলেও ফলটা সে বাসায় নিয়ে আসে।

বাসায় এনে ফলটা কাটতে গিয়ে ঘটলো এক আশ্চর্য ঘটনা! ফলের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এলো একটা ড্রাগনের বাচ্চা! এ্যাঁ এটা আবার কী করে সম্ভব! সিফাত হা করে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এবার এই বাচ্চাটা নিয়ে কী করবে সে?

ওদিকে নারকোটিকস ডিপার্টমেন্ট নাজেহাল নতুন এক মাদকের ভয়াল থাবায়। মিহিদানার গুঁড়োর মতো জিনিসটার আবার আছে একটা কাব্যিক নাম "বার্নিং ডিজায়ার"। ইতিমধ্যেই মারা গেছে অনেক মানুষ এই মাদকের থাবায়। যে করেই হোক থামাতে হবে এই জিনিসটা। কিন্তু কীভাবে? এই মাদকের চালান যে আসলে কোথা থেকে আসে জানাটা খুব মুশকিল। কারণ সঠিক তথ্য কেউ জানে না।

গল্পটা মোটামুটি ভালোই। তবে প্লটটা বেশ পরিচিত লাগলো বলেই বোধহয় শেষটা কী হবে ধরতে পারছিলাম একটু একটু করে। তবে একেবারে খারাপ না। ফ্যান্টাসি গল্পের এলিমেন্ট ভালোই ছিলো এখানে।

~দেবং গ্ৰাম ও কিছু রহস্যময়তা ~

ড্রাগন ফলের গল্প তো শুনলেন। এবার চলুন ঘুরে আসি কোথাও থেকে। গ্ৰামে যাবেন? গ্ৰামটার নাম হচ্ছে "দেবং"। আপনাদের কাছে হয়তোবা গ্ৰাম মানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা সুন্দর কোনো দৃশ্য। হুম গ্ৰামীণ জীবনে এমনি হয় আসলে সবখানে।

কিন্তু লেখক তাঁর "অদ্ভুত" বইটিতে আমাকে শোনালেন তাঁর দ্বিতীয় গল্পে দেবং গ্ৰামের কথা। যেখানে যাওয়া মানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নেয়া। কী বিশ্বাস হচ্ছে না তো! দেবং গ্ৰাম নিয়ে বরং রুপম রাহার থেকে কিছু শোনা যাক।

রুপম রাহার ডায়েরিতে শুরুতেই আছে দেবং এর কথা। বারবার তিনি বলেছেন কেউ যেন দেবং গ্ৰামে কখনো ভুল করেও না আসে। আসলে আর বেঁচে ফিরে যাবার উপায় নেই যে! তিনি আটকে গেছেন এখানে। নিজের ভবিষ্যৎ কী হবে, আদৌ বেঁচে থাকবেন কী না তিনি জানেন না।

রুপম রাহা জনপ্রিয় একজন লেখক। বাজারে বইয়ের কাটতি তাঁর তুঙ্গে। এবং সিনেমার স্ত্রিপট, নাটকেও লিখেছেন বেশ। স্ত্রী ক্যামেলিয়া জনপ্রিয় একজন ট্রাভেল ব্লগার। বিভিন্ন জনপ্রিয় স্থান নিয়ে ইউটিউবে দারুন কন্টেন্ট বানান। স্ত্রীকে নিয়ে সংসার জীবন আপাতদৃষ্টিতে সুখি মানুষ রুপম।

কিন্তু জীবনের সব প্রাপ্তিতে থাকে অপূর্নতা। স্ত্রীকে সন্তান দিতে পারছেন না নিজের শারীরিক অক্ষমতার কারণে। স্ত্রীও বোধহয় এই অপূর্নতায় ঝুঁকে পড়েছে অন্য কারো সাথে। দাম্পত্য কলহের জেরে প্রিয় স্ত্রীকে সপাটে চড় কষিয়ে দিলেন তিনি। এবং রাগ করে ক্যামেলিয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ। এটাই যেন সর্বনাশের শুরু।

স্ত্রীকে খুঁজতে রুপম পৌঁছে গেলেন সেই ভয়াবহ দেবং গ্ৰামে। এবং তাঁর জন্য আরো বিষ্ময় অপেক্ষা করছিলো সেখানে। এক ভয়াবহ সিরিয়াল কিলার তাঁকে ভার দিলো জীবনের শেষ লেখা লিখে যেতে। তাতে বোধহয় তিনি ও ক্যামেলিয়া বাঁচতে পারেন।

রুপম লিখে চলেছেন সেই খুনির কথামতো। বাঁচতে কী পারবেন রুপম, ক্যামেলিয়া? নাকি দেবং গ্ৰামের রহস্যময় জগতে হারিয়ে যাবেন চিরতরে?

আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে লেখকের এই গল্পটা। বেশ থ্রিলিং স্বাদের এবং রহস্য রোমাঞ্চে ভরপুর। প্রতিটি মুহূর্তে যেন উত্তেজনা বাড়ছিলো এরপর কী হবে। প্লটটাও বেশ দারুন হয়েছে। এবং এই গল্পে লেখকের লেখনশৈলী যেন প্রথমটাকে ছাড়িয়ে গেছে একদম।

সব মিলিয়ে আমি অদ্ভুত দুটো গল্পে ডুবে ছিলাম। লেখক আহনাফ তাহমিদ ভালোই লিখেছেন। ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে লেখনশৈলী এই প্রত্যাশা রইলো। শুরু হিসেবে ভালো হয়েছে।

~আনুসাঙ্গিক কিছু~

বইয়ের প্রচ্ছদটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। দুটো গল্পকেই উপস্থাপন করা হয়েছে প্রচ্ছদে। এবং বুক স্ট্রিট প্রকাশনার বাঁধাইও বেশ মজবুত, প্রিন্ট ভালো। দু একটা ছাপার ভুল ছাড়া বানান ভুল লক্ষ্য করিনি। বই হিসেবে আনুসাঙ্গিক এসব ভালো ছিলো।

বইয়ের নাম: "অদ্ভুত"
লেখক: আহনাফ তাহমিদ
ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫
Profile Image for Habiba♡.
352 reviews23 followers
November 22, 2023
সত্যি বলতে ফ্ল্যাপ পড়ে ড্রাগনফল নিয়ে যে গল্প পড়তে যাচ্ছিলাম সেটা নিয়েই বেশ এক্সাইটেড ছিলাম তবে খুবই সাদামাটা লেগেছে সেটা, রুপকথার গল্পের মতো। ছোটবেলায় পড়লে ভালো লাগতো নিসন্দেহে। ভাই কে পড়ে শুনেয়েছি তার ভালোই লেগেছে। লেখকের এই প্রথম বই পড়ছি যেহেতু মনে মনে দ্বিতীয় গল্প নিয়েও সন্দিহান ছিলাম। কিন্ত হ্যাটস অফ! দ্বিতীয় গল্পের এন্ডিং সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। দেবং গ্রাম নিয়ে যে প্লট সাজানো হয়েছে এবং ক্যারেক্টারকে যে ফাদেঁ ফেলা হয়েছে পড়তে বেশ ভালো লাগলো স্পেশেলি রুপম রায় এর শেষ লেখাটায়। ইউজুয়ালি আমরা ভাবি সবসময় মেইন ক্যারেক্টার টা বেচেঁ যাবে, আমিও আউট ওফ বক্স ভাবিনি। কিন্ত আমার ভাবনা নাজেহাল করেছে তাতেই ভালো লেগেছে। মূলত দ্বিতীয় গল্পটাই অদ্ভুত বইয়ের প্রাণ বলা চলে।
Profile Image for Rehnuma.
451 reviews22 followers
Read
May 15, 2024
বিউটি ভ্লগ দেখেন? আমি দেখিনা। তবে মাঝেমধ্যে এখনকার প্রিয় শব্দ ❛ভাইরাল❜ হওয়া কিছু জিনিস মাঝেমাঝে চোখে পড়ে। তো, বেশ শুনেছি এরকম বিউটি ভ্লগে সুইটিপাই আপুরা নাকি মেকাপ বা ভিডিওতে তাদের ক্রিয়া সম্পাদনকালে হাতের মধ্যে ম্যাজেন্টা, সাদা জাতীয় এক ফল নিয়ে খাইতে থাকেন। ফলটা ইদানিংকালে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। মাশাআল্লাহ দামও সেই। ❛ড্রাগন ফল❜ নামেই পরিচিত সেই ফল।
এমন যদি হতো, কোনো আপ্পি মেকাপ করার সময় ফলটা কাটতে গিয়ে দেখলেন ভেতর থেকে ছোট্ট একটা ড্রাগনের বাচ্চা বেরিয়ে উঁকি দিচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া কী হতো?
❛আআআআআআআআআআআআ!❜

এতিম সিফাত টিউশনির কটা টাকা দিয়ে দিনাতিপাত করে। পড়াতে যাওয়ার সময় ভ্যানে থরে থরে সাজানো ড্রাগন ফলগুলো দেখে তার মন কেমন করে। ❛ইশ! যদি মুখে দিতে নিতে পারতাম এর স্বাদ!❜ এমন একটা ইচ্ছা হলেও সাধ্য নেই সেই ভাইরাল ফলের স্বাদ নেওয়ার। তাই বিরস বদনে চলে যাওয়া ছাড়া গতি নেই।
তবে একদিন কী হলো ড্রাগন ফল বিক্রেতা ডেকে সিফাতকে একটা ড্রাগন ফল দিলেন মুফতে। ইতস্তত করলেও নিয়ে নিলো সিফাত। বাসায় এনে ফলটা টেবিলে রেখে একটু সরেছিল। এরপর দেখলো কেমন অদ্ভুত শব্দে ড্রাগন ফলটা ফেঁটে তার থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা সুন্দর ড্রাগনের বাচ্চা। প্রথমে ভয় এরপর আদিম প্রবৃত্তি কৌতূহলে এগিয়ে গেলো বাচ্চাটার সামনে। দুটো দুই প্রজাতির প্রাণী এক অপরকে দেখে স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্রোহ করে বসলো। আত্মরক্ষায় সিফাত নিলো ঝাড়ু আর বাচ্চাটা ❛ক্রিইচ❜ শব্দ করতে লাগলো।
অল্পেই দুজন বন্ধু হয়ে গেলো। সিফাত তার ডুগুকে কাপ নুডুলস আর পানি খাওয়ায়। পালিয়ে রাখে। এরপর একদিন পড়াতে গিয়ে জরুরি ফোনে বাড়ি ফিরে দেখে ঘর লন্ডভন্ড করে ডুগু নাই হয়ে গেছে। কোথায় গেছে অজানা।
এদিকে অনেকবছর বাদে নারকোটিক্স ডিপার্টমেন্টের চৌকষ অফিসার সিফাত ঘাম ঝরিয়ে ফেলছে দেশে মা দক নিরসনে। শহরে কী এক নতুন নে শাদ্রব্য এসেছে, লোকে তাকে ❛বার্নিং ডিজায়ার❜ বলে ডাকছে। এর মূল খুঁজতে পাহাড়ি অঞ্চল বগা লেকের দিকে যাত্রা করে সিফাত ও তার দল। বগা লেককে ঘিরে চালু আছে এক কিংবদন্তী। মিশন আর কিংবদন্তীর মেলবন্ধনের শেষটা কেমন হবে?

বিখ্যাত লেখক রুপম রাহা। হাতে যাই লিখেন বেস্ট সেলার হয়ে যায়। রুপমের স্ত্রী ক্যামেলিয়া। ভালবেসে একত্রে জীবন চলার শপথ নিয়েছিল। সংসারে সুখ, বাইরে সাফল্য সব নিয়ে ভালো যাচ্ছিল। কিন্তু সুখ ক্ষণস্থায়ী এক বস্তু। এই সুখেই ভাটা পড়লো রুপমের সন্তান জন্মদানের অক্ষমতার সংবাদ। মা হতে না পারার দুঃখ, দুজনের মধ্যে ভালোবাসাকে যেন দূরে সরিয়ে নিতে থাকলো। একসময় ট্রাভেল ভ্লগ করে পরিচিতি পেলো ক্যামেলিয়া। এদিকে হয়তো, ❛রাইটার্স ব্লক❜ নামক ব্যাপারটা ঘিরে ধরেছে রুপমকে গত ছয় বছর ধরে। সন্তান জন্মদানের অক্ষমতা, স্ত্রীর সাথে দূরত্ব সব মিলে লেখা আর আসেনা। সোনার তরীতে ধান না দিলে কৃষকের দাম নেই। তেমনি রুপমও হারিয়ে যেতে লাগলো।
এরকম সময়েই এক সন্ধ্যায় স্ত্রীর সাথে তুমুল কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সপাটে চ ড় বসিয়ে দিলো রুপম। কী থেকে কী হয়ে গেলো। স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। কয়েকদিন খোঁজ না পেয়ে খোঁজ করে এমন এক জায়গার সন্ধান পেলো যেখানে যাওয়া আর মৃ ত্যুকে ডেকে আনা সমান। স্ত্রীকে বাঁচাতে তাকে যেতে হবে ❛দেবং❜ নামক গ্রামে। সেখানে খ্রু নামক সেই ভয়ানক ব্যক্তির কথায় তাকে লিখতে হবে হরর উপন্যাস। সেই ব্যক্তির সাথে কথা বলে অদ্ভুত দোটানায় পড়ে যায় রুপম। জীবনের কত মোড়, কত ঘটনা। যত যাই হোক উপন্যাস শেষ করতে হবে একটা ডায়েরিতে। পারবে তো? নাকি দেবং নামক ভয়ানক গ্রামে এসেই জীবনের প্রদীপ নিভে যাবে?

এ এক ❛অদ্ভুত❜ জগৎ!


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝অদ্ভুত❞ আহনাফ তাহমিদের লেখা উপন্যাসিকা সংকলন। দুটো উপন্যাসিকার সমন্বয়ে লেখক তার ❛অদ্ভুত❜ জগৎ সাজিয়েছেন।
প্রথম নভেলা ❛ড্রাগন ফল❜। এটা কিংবদন্তী, আরবান ফ্যান্টাসি আর থ্রিলারের মিশেলে লেখা। বগা লেকের কিংবদন্তীর সাথে শহুরে জীবনের এক নিঃসঙ্গ ছেলের জীবনের কথা লিখেছেন।
নভেলার শুরুটা বেশ চমকপ্রদ এবং আগ্রহ জাগানিয়া ছিল। পড়তে বেশ লাগছিল। সিফাত নামক ব্যক্তির ছাত্রজীবনের পরে চাকরির খোঁজে হতাশ জীবন এবং পরবর্তীতে কর্মজীবনের ঘটনা আলাদাভাবে এসেছে। কয়েকটা পর্বে গল্পের বিস্তার ছিল।
কর্মজীবনের অংশে নে শাদ্রব্য ও এর ভয়াবহতা নিয়ে সুন্দর একটা মেসেজ আছে। এ অংশটা ভালো ছিল। তবে শুরুর মতো আগ্রহ কমে গেছিলো। শেষটা অনেকটাই আকাঙ্ক্ষিত ছিল। তবে আশানুরূপ ছিল না। শেষটা গোঁজামিল জাতীয় লেগেছে। শুরুর মুগ্ধতা বজায় রাখতে পারেনি।

পরের নভেলা ❛দেবং❜। এই গল্পটা শুরু থেকে শেষ পুরোটাই দারুণ উপস্থাপন করেছেন লেখক। প্রায় পরিচিত প্লট হলেও দারুণ উপস্থাপন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সমাপ্তির জন্য গল্পের ভালোলাগা বজায় ছিল।
জাভেদ চরিত্রটা ক্রুর, নি ষ্ঠুর আবার অত্যা চারিত, নিগ্রহে অবহেলিত এক অদ্ভুত চরিত্র। তার উপস্থিতির এবং নিজের চরিত্রের বিস্তৃতি সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। রুপম রাহা আর ক্যামেলিয়া কেন্দ্রিক গল্পে লেখক হুট করেই এমন মোড় দিয়েছেন এবং শেষের ক্লাইম্যাক্স স্বাভাবিকভাবেই অচিন্তনীয় ছিল বটে। হরর, ফ্যান্টাসি, তন্ত্রমন্ত্র এবং রহস্যের মিশেলে এই গল্পটা আলো ছড়িয়েছে বেশ। এ ধরনের গল্পের শেষটা সাধারণত যেমন হয়ে থাকে লেখক সে পথে না গিয়ে অন্য নতুন পথে হেঁটেছেন। ফলে পড়ার পর অদ্ভুত লেগেছে। শেষটা এমন বলেই কি মুগ্ধতা ছড়িয়ে ছিল?

এই গল্পটাও প্রায় ১০-১১টা পর্ব বা অধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। রুপম রাহার ডায়েরি এবং ক্যামেলিয়ার বয়ান দিয়েই গল্পের সিংহভাগ এগিয়েছে। তবে আমার কাছে কিছু অধ্যায়ের শিরোনাম থাকা, কিছু অধ্যায়ে শুধু অধ্যায় নম্বর দেয়াটা কেমন খাপছাড়া লেগেছে। শেষের গুলোতে শিরোনাম থাকলেও শুরুর কয়েকটাতে ছিল না।

লেখক তার এই ❛অদ্ভুত❜ জগৎ নিয়ে সামনে আরো গল্প লিখবেন। অদ্ভুত জগতের জন্য শুভকামনা।
লেখকের ইবুক ❛দূত❜ পড়েছিলাম গতবছর। এই দুইজন যে একই লেখক সেটাও বইটা হাতে পাওয়ার পর জেনেছিলাম।
Profile Image for Taznina Zaman.
251 reviews63 followers
July 24, 2024
১৮.০৭-১৮.০৭

আহনাফ তাহমিদের অনুবাদে বেশ অনেক বই পড়া থাকলেও এটা আমার পড়া তার প্রথম মৌলিক। ড্রাগনফল নভেলাটা সাদামাটা, পড়তে ভালো লাগে কিন্তু আহামরি কিছু নয়। দেবং নভেলার লেখনী এবং কাহিনী দুটোই ভালো, তবে উপজাতিদেরকে নিয়ে যেহেতু সমতলের মানুষেরা এমনিতেও অনেক বাজে কথা বলে, কাজেই ঐ চরিত্রটাকে সাধারন মানুষ হিসেবে রাখলেই ভালো হতো বলে আমি মনে করি। এখন এটা বলা যাবে যে ড্রাগনফলে তো একজন উপজাতি পজেটিভ রোলে ছিল, তাহলে এখানে নেগেটিভ রোলে দেখালে খারাপ কী? আসলে মানুষ ভালোর চাইতে খারাপটাই বেশি মনে রাখে।

বইটা আশানুরূপ ভালো না লাগলেও আহনাফ তাহমিদের লেখার হাত ভালো। আশা করছি সামনে উনার হাত দিয়ে আরো পরিণত ও সুন্দর মৌলিক পাবো। শুভকামনা।
Profile Image for ANIT.
86 reviews2 followers
January 20, 2024
দুইটা ছোট ছোট নভেলা।
ড্রাগনফল
মোটামুটি ছিলো। কিশোরগল্প বলা যায়। কাহিনী খুব দ্রুত শেষ হয়েছে মনে হলো। আর হ্যাঁ ইঁদুরগুলা কারা, তা জানার সৌভাগ্য তো আসলেই আর হয়নাই। 🥲
৩/৫
দেবং
অসাধারণ প্লট, ভালো প্যারেন্টিং যে কেনো দরকার তার ভালো উদাহরণ বলা যায়। 🙌🏻
"In the absence of words from a timid son, you may discern the reflection of a parenting approach that failed to foster resilience."
When a son is timid, his behavior may reflect the impact of parenting that didn't provide the necessary support and encouragement to develop resilience. The silence of the son implies unspoken struggles influenced by a lack of effective nurturing during his upbringing, echoing the idea that parental guidance plays a crucial role in shaping a child's ability to face challenges with strength and resilience.
৪.৫/৫
Profile Image for Sumaiya.
292 reviews4 followers
July 4, 2024
বইটা যদি শুধু দেবং এর হতো তাহলেই ভালো ছিলো হয়তো!
ড্রাগনফল ভালো লাগেনি!
আর দেবং শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রেখেছে।
Profile Image for আশিকুর রহমান.
155 reviews28 followers
October 24, 2023
4.5/5

ড্রাগনফল
ড্রাগনের গায়ের মতো আঁশওয়ালা লাল টুসটুসে ফলটা চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়ার মানুষ বেশ পছন্দ করে। বেশ কিছুদিন হলো বাংলাদেশেও জায়গা করে নিয়েছে বিচিত্র-দর্শন ফলটি।
মনে করুন, একদিন ফলওয়ালার ঝুড়ি ভর্তি ড্রাগনফল দেখে কিনে গিয়ে গেলেন বাসায়। এরপরই ঘটলো বিপত্তি।
আচমকা ডিমের মতো ফেটে গিয়ে ফলটার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ক্ষুদে একটা ড্রাগন!
কী করবেন তখন? সবার চোখের আড়ালে লুকিয়ে রাখবেন প্রাণীটাকে নাকি বাবাগো-মাগো বলে ঝেড়ে দৌড় দেবেন দিনদুপুরে ড্রাগনের বাচ্চা দেখে?
এমনই চমৎকার একটা কনসেপ্ট নিয়ে লিখিত উপন্যাসিকা 'ড্রাগনফল'। ঠাসবুনোটে লেখা গল্পটা একটানে পড়ে যাবার মতো। জিম বুচারের 'দ্য ড্রেসডেন ফাইলস' সিরিজের কল্যাণে আরবান ফ্যান্টাসি খুবই পছন্দের একটা জনরা। সে জন্যই শহুরে পটভূমিতে রচিত ফ্যান্টাসি জনরার বই দেখলেই চোখটা চক চক করতে থাকে আমার। আহনাফ তাহমিদের স্বভাবসুলভ মেদহীন লেখনশৈলীর কারণে একটানে পড়ে যাওয়া গেছে। তাছাড়া গল্পটা পড়তে গেলে আরবান ফ্যান্টাসি নিয়ে কোনো পূর্ব ধারণা না থাকলেও উপভোগ করতে বিন্দুমাত্র সমস্যা হবে না। গল্প নিজগুণেই টেনে নিয়ে যাবে আপনাকে।
আরবান ফ্যান্টাসি জনরায় যেমন ভাল-মন্দের চিরাচরিত লড়াই থাকে, তেমনি থাকে বন্ধ্বুত্ব-বৈরিতা আর সাহসিকতার কথকতা। সেদিক দিয়েও ড্রাগনফল উতরে যাবে ষোলোআনা।

দেবং
অনেক তো বই পড়েছেন- দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের গল্প বলা হয় যেখানে। সুপারপাওয়ারড নায়ক এসে হা হা করে অট্টহাসি দিতে থাকা ভিলেনকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে, অপহৃত নায়িকাকে ড্রামভর্তি আস্তানা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে, অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে নীড়ে ফিরে চলে গেছে।
উঁহু! দেবং এর গল্পটা সেরকম না। আটপৌরে বাঙালির মাথায় আক্ষরিক অর্থেই আকাশ ভেঙে পড়লে আসলে সে কী-ই বা করতে পারে? দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ে নেমে যাবে? নাকি অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করবে মহাশক্তিধর প্রতিপক্ষের কাছে? দেবং-এর গল্পটা তেমনি সাধারণ একজন মানুষের অশুভ এক পাকচক্রে আটকে যাবার গল্প। ক্ষমতাহীন, লোকবল ছাড়া সামান্য একজন রূপম রাহা, তাও আবার লেখক মানুষ- যারা কি না বিক্রি কমে যাবার ভয়ে বিতর্কিত আর বিপজ্জনক সব কিছু থেকে গা বাঁচিয়ে চলতে পছন্দ করে- সে কী করবে ভয়ঙ্কর এক সিরিয়াল কিলারের বিরুদ্ধে?
'অদ্ভুত' বইটার দ্বিতীয় উপন্যাসিকা 'দেবং'-এর গল্প গড়ে উঠেছে এমনিভাবেই।
পুরো গল্পটাতে সবচেয়ে মনোযোগ কেড়ে নেবার মতো দুটো ব্যাপার রয়েছে- প্রথমত, যাকে নিয়ে গল্প লেখা হয়েছে- সেই রূপম রাহাই গল্পের প্রধান চরিত্র নয়। দ্বিতীয়ত, গোটা গল্পটাতে চাইলে আপনি নিজেকে বসিয়ে নিতে পারবেন রূপমের ড্রাইভিং সিটে। মাছে-ভাতে বেড়ে ওঠা বাঙালি, নির্বিবাদী মানুষ আপনি; সত্যি সত্যি কোনো সিরিয়াল কিলারের বিরুদ্ধে, তাও আবার তার নিজের আস্তানায় আপনি আসলেই কিছু করতে পারবেন? পারবেন স্ত্রীকে বাঁচাতে? একটু ভেবে বলুন। উত্তরটা পছন্দ নাও হতে পারে।
তবে দেবং-এর গল্পটা বাস্তব আর ফ্যান্টাসির মিশেলে লেখা বলেই হয়তো আশা একটু হলেও বেঁচে থাকে।
দুটো উপন্যাসিকার মধ্যে দেবং-ই বেশি ভালো লেগেছে পার্সোনালি। কারণ গল্পে চরিত্রগুলোর লেয়ার অনেক বেশি, রহস্যে ঘেরা।
আহনাফ তাহমিদের প্রথম উপন্যাস 'আলাদিন' হলেও নিজের জাত চিনিয়েছে 'অদ্ভুত' দিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আলোর মুখ দেখেছে বইটি। তবে অপেক্ষার ফল সবসময়ই মধুর হয়। অদ্ভুতও তার ব্যতিক্রম না। আশা করি পাঠকরা নতুন কিছুর স্বাদ আহরণ করতে পারবে। বুকস্ট্রিটের ক্লাসি প্রোডাকশন ও আবুল ফাতাহর দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশিত হয়েছে চলতি অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ।
Profile Image for Arfaz Uddin.
93 reviews8 followers
September 29, 2025
অদ্ভুত অর্থ যাহা স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক। আর স্বাভাবিকতার সংজ্ঞার আড়ালে থাকে লবডঙ্গা নানা কান্ড। সেই কান্ড আর অকান্ডের কান্ডজ্ঞানহীন কার্যাবলি নিয়ে যতবেশি আলোচোনা করা যায়, সেটা ততটাই অর্থহীন হয়ে যায়৷ আর এই অথর্ব অর্থহীনতায় ডুবে যায় স্বাভাবিকতার কোনো এক অবছায়া, জন্ম দেয় এক নতুন সত্তার৷

অতিপ্রাকৃতিক গল্প সম্বন্ধে আমার আগ্রহ প্রায়ঃশই কাজ করে। অদ্ভুত বইটির প্রচ্ছদ আমাকে কিছুটা আকর্ষীত করে, এই প্রচ্ছদের এলিমেন্ট গুলোর সামাঞ্জস্যতা এবং টাইপোগ্রাফিখানাও বেশ চমৎকার লাগে। সেই থেকেই এই বইয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। সেখান থেকেই এই বই পড়া৷ বইটির লেখক তরুন নবীন আহনাফ তাহমিদ৷

ড্রাগন ফল থেকে ড্রাগন বের হলে যে কেউ অবাক হবে। কিংবা কোনো চিত্রকর্ম যদি তুলে ধরে এমন কোনো নিষিদ্ধবিদ্যার যজ্ঞ, তখন যে কারো কাছে অবাক লাগবে। তাই অদ্ভুত নামক বইটিতে লেখক দুটি অদ্ভুতুরে নভেলা তুলে ধরেন।

বইটি দুই ভাগে বিভক্ত, দুটি নভেলা রয়েছে৷ একটির নাম ড্রাগনফল অপরটি হচ্ছে। প্রথমত আলোচোনা করি নভেলা ড্রাগনফল নিয়ে। গল্পটি নিজেও বেশ কয়েক ভাগে বিভক্ত, কিন্তু প্রথম দুটি অংশের মধ্যকার দুরত্ব আরেকটু বেশি৷ তবে দুটি অংশ দিয়েই গল্পের কানেক্টিভিটি ক্রিয়েট করতে সক্ষম হন লেখক। তবে লেখক কোথায় যেনো গল্পটার মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেন। গল্পটার মূল আকর্ষন স্থিমিত হয়ে আসে যখন দৈর্ঘে গল্পটা কিছুটা বেড়ে যায়। গল্পের এলিমেন্টগুলো কিছুটা খাপছাড়া হয়ে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত গল্পটাকে একটা রূপ দেন লেখক, যেটা আমার কাছে মন্দ লাগেনি৷ তবে গতানুগতিক গল্পের মাঝে একটু নতুনত্ব পেলে মন্দ হতো নাহ। তবে লেখনি বেশ ঝরঝরে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে লেখকের বর্ননা খাপছাড়া হয়ে যায়, তবে গল্পের স্রোতধারাকে ধরে রাখেন তিনি।

দ্বিতীয় নভেলা দেবং আসলে কি নিয়ে সেটি ঘুনাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি শুরুতে।তবে গল্পখানা ধীরে ধীরে নিজের মূল আকর্ষণে পৌছায়। তবে সেই পৌছানোর গতিধারা বেশ ধীর। আসলে অতটা গল্পের পর যদি মূল গল্পের দিকে লেখক প্রবেশ করেন তাহলে সেটা সকলের কাছে কিছুটা বিরক্তিকর। বরং গল্পের ভূমিকাকে আরেকটু ছোট করে পরিবেশন করা গেলে মন্দ হয় না। তবে এই গল্পের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতার স্বাদ পাওয়া গেছে, যা আগের নভেলার তুলনার ভালো। তবে এই গল্পের প্লটের মাঝেও কিছুটা কমতি ছিলো, গল্পের এলিমেন্ট গুলোকে আরেকটু বিন্যাস করা গেলে গল্পটা অনেকাংশে উপভোগ্য হত।

মোটকথা লেখকের প্রথমাংশের বই হিসেবে আমার কাছে খারাপ লাগেনি, তবে লেখকের নিজের লেখাকে আরো ইম্প্রুভ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে যা লেখক চাইলেই কাযে লাগাতে পারবেন।
Profile Image for Tanvir Kaiser.
1 review1 follower
November 13, 2023
পিতায়া. . . হাজার বছরের বিবর্তনের বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে, সুদূর মধ্য আমেরিকায় গুটি কয়েক ক্যাকটাসের গায়ে, হঠাতই এক কালপঞ্জিকে বিভ্রান্ত করে দেয়া দিনে, অগণিত কাঁটার অস্তিত্বকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে, রসালো রঙিন আর মাংসল অবয়বে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়! কাঁটার মাঝে ফল! অদ্ভুত ব্যাপার! ধীরে ধীরে পিতায়া নামের এই ফল পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অদ্ভুতদর্শন হওয়ার কারণেই হয়তো, এই ফলের সাথে জুড়ে যায় হাজার বছরের পুরনো আরেক অদ্ভুত পৌরাণিক প্রাণীর নাম। পুরো পৃথিবীর মানুষ একে এখন এক নামেই চেনে. . . ড্রাগন ফল! কিছুটা দেরিতে হলেও, এই ফলটিকে এখন আমরাও চিনি। কেবল ফল হিসেবেই চিনি অবশ্যই। তবে যে ফল খোদ কালপঞ্জিকে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে, তা পাঠকমনেও খানিক বিভ্রান্তি আর আপাত ভ্রমের জন্ম দিতে পারে। অনুবাদ পাড়ার পরিচিত নাম, প্রিয় বন্ধু আহনাফ তাহমিদের দ্বিতীয় মৌলিক ‘অদ্ভুত” এর প্রথম গল্প “ড্রাগন ফল” পাঠককে এমনই ভ্রান্তি-মেশানো এক বাস্তবতার সন্ধান দেবে। আর ভ্রান্তি-মেশানো এই বাস্তবতার ব্যাখ্যা খুঁজতে আগ্রহী হলে, পাঠককে গল্পটা পড়তেই হবে!


“অদ্ভুত” এর দ্বিতীয় গল্প “দেবং” এর একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের মাঝে নব্বই এর দশকে জন্ম নেয়া যে কোনো পাঠক নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি নিঃসন্দেহে খুঁজে পাবেন। হরর জনরার এই গল্পে লেখক সফলতার সাথে অদ্ভুত এক বিষণ্ণ-অশরীরী-অন্ধকার আবহ তৈরি করেছেন। গল্পটা পড়ে আর চরিত্রগুলোর দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে পাঠকের মনে অব্যক্ত বিষণ্ণতা ভর করতে পারে, আসন্ন এক অনিশ্চিত আতংকও পাঠকের সঙ্গী হতে পারে। হরর পড়তে ভালো লাগলে, দেবং পাঠকের ভালো লাগবেই।
আরবান মিথোলজি আর হররের মিশেলে “অদ্ভুত” হয়ে উঠেছে একইসাথে আলো আর অন্ধকারের গল্প। লেখকের লেখার ধরনে প্রাঞ্জলতা আর বাক্যের গঠনগত সহজবোধ্যতার জন্যে এক টানেই পুরো ১৭৪ পৃষ্ঠার বইটা পাঠক শেষ করতে পারবেন।
1 review1 follower
April 15, 2025
এই প্রথম লেখকের বই পড়লাম। বেশ চমৎকার লেখনশৈলী। পড়া সহজ। এমন সহজ ভাষায় আরবান হরর থ্রিলার বেশ কম ই চোখে পড়ে। লেখকের কাছে এমন আরো বই এর প্রত্যাশায় আছি
Profile Image for Akash Rahman.
47 reviews9 followers
April 9, 2025
আমরা বইপোকা বন্ধুরা প্রায়ই আড্ডায় বসি। বিষয়বস্তু হিসেবে থাকে অসংখ্য বই, সাহিত্যের নানা বিষয়, কিছু লিটারারি টার্মস, বিবিধ জনরা কিংবা নিছক সমালোচনা। এরকমই এক আড্ডায় সেদিন বলেছিলাম যে, আমি ছোটগল্প, নভেলা এসব তেমন পড়িনা। কারন, অতীতে অনেক ছোটগল্প আমাকে হতাশ করেছে। আজকের রিভিউতে কথাগুলি বললাম এজন্যে যে, সম্প্রতি ছোটগল্প/উপন্যাসিকা নিয়ে আমার ভুল ভেঙ্গেছে একটি বই, সেটি হল আহনাফ তাহমিদ সাহেবের অদ্ভূত।

বইটিতে একটি কানেক্টেড ইউনিভার্সকে ঘীরে মোট দু’টি গল্প আছে। গল্পদ্বয়ের কাহিনী সংক্ষেপ নিয়ে আলাদা করে লিখছিনা, পাঠপ্রতিক্রিয়ায় নানা কথার ফাঁকেই ওটা সেরে ফেলব, যাতে পাঠকদের জন্য সারপ্রাইজ থাকে।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ আমার মতে, সাহিত্যের বেশ কঠিন এবং বৈচিত্রমুখী এক ধারা হল এই নভেলা, যা প্রায়শই লেখকদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে। অল্প শব্দের মধ্যে পুরো একটি গল্প কিংবা জীবনযাত্রার কিছু অংশ ফুটিয়ে তোলা সহজ নয়। এখানে উপন্যাসের মত দীর্ঘ মনোলগ কিংবা ব্যাকস্টোরি দেখিয়ে চরিত্র চিত্রায়ণের সুযোগ কম। যার ফলে, লেখককে অনেক কথা উহ্য রাখতে হয়, অনেককিছু লিখতে যেয়েও লেখা হয়ে ওঠেনা। এমতাবস্থায়, গল্পের মূলভাব ঠিক রেখে সংক্ষেপে পাঠকদের কাছে কোন মেসেজ দিতে হলে প্রচুর সাহিত্যিক মুন্সিয়ানার প্রয়োজন।

শুরু করি বইয়ের ২য় গল্পটি দিয়ে, গল্পের নাম দেবং। এটিকে একবাক্যে বিবৃত করতে হলে বলব, রহস্য, তন্ত্রমন্ত্র এবং কিছুটা রিভার্স সাইকোলজির মিশেলে গঠিত মেদহীন একটি থ্রিলার। গল্পের শুরুতে অল্প কথায় ক্রাইসিস ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে এভাবে যে, গল্পের মূল চরিত্র রুপম রাহা, যে একজন সুবিখ্যাত লেখক। হঠাৎ ঝড়ের মত তার জীবনে আবির্ভূত হয় কিছু সমস্যা, সেগুলা বুঝে ওঠার আগেই সে জড়িয়ে যায় বড়সড় বিপদে। এই বিপদ থেকে বাঁচতে হলে তাকে একটি গল্প লিখে যেতে হবে। সাথে পারিপার্শ্বিক বর্ণনা দিয়ে লেখক ধারনা দিয়েছেন যে, বিপদটি কিরকম।

এখানে অল্প কথায় পাঠককে আটকে ফেলার মত বেশ কিছু এলিমেন্ট আছে। গল্পের শুরুতে ইনফো ডাম্পিং না করে লেখক সরাসরি পাঠক যা জানতে চায় সেটাই বলেছেন, অর্থাৎ, প্রধান চরিত্র বিপদে পড়েছে। গল্পে তন্ত্রমন্ত্র এবং অতিপ্রাকৃত কিছু ম্যাকগাফিন ব্যবহার করে থ্রিল আনা হয়েছে। কিন্তু লেখক সাহেব আসল স্কিল দেখিয়েছেন এন্ডিংয়ে। আর এখানেই দেবং গতানুগতিক গল্প থেকে আলাদা হতে পেরেছে। স্পয়লার না দিয়ে বলি, অতিপ্রাকৃত গল্পে যেরকম এন্ডিং থাকে এখানে এন্ডিং তারচেয়ে একদমই আলাদা। আবার মাথা ঘোরানো টুইস্ট কিংবা গল্পের শেষে ভয়ংকর কোন সত্য উদ্ঘাটনের মত বিষয় নেই এখানে। লেখক সাহেব টুইস্ট দিয়েছেন বটে, কিন্তু সেটা গল্পের শেষে নয়, বলতে গেলে গোটা গল্পটাই একটা সুবিশাল টুইস্ট।

এবার আসা যাক, প্রথম গল্পে। নাম ড্রাগন ফল হলেও এর আসল অর্থ উপলদ্ধি করতে হলে পড়তে হবে বইটি। দেবং গল্পে লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এভাবে, যে একটা প্রেডিক্টেবল গল্পকে তিনি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে, ভিন্নধর্মী টুইস্ট দিয়ে পাঠকের কাছে পেশ করেছেন। আর ড্রাগন ফল গল্পের বিশেষত্ব হল যে, এখানে টুইস্টের বদলে উনি চমক দিয়েছেন আনকোরা প্লট এলিমেন্ট দিয়ে। এর জনরা হল আরবান ফ্যান্টাসি।

পড়াশোনার ফাঁকে প্রাইভেট টিউশনি করা ছেলে সিফাত সামান্য এক ড্রাগন ফলের জন্য কিভাবে এক জাদুকরি অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে গেল, সে গল্পই বর্ণিত হয়েছে এখানে। গল্পে দু’টি সময়রেখা দেখানো হয়েছে, প্রথমাংশে সিফাতের ছাত্রজীবন, পরের অংশে সিফাতের কর্মজীবন। সাথে যুক্ত হয়েছে, প্রত্যাহিক জীবনযাপনের কিছুদিক, যাকে ইংরেজিতে বলে slice of life. আরও যুক্ত হয়েছে মাদকের করাল গ্রাসে জর্জরিত মানবজীবনের দুর্দশা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। যে ক’টি এলিমেন্টের কথা লিখলাম এগুলো বিশেষ কিছু না, অনেক গল্পেই থাকে। কিন্তু এগুলো উপস্থাপনের ভঙ্গিমা ছিল ভিন্ন। সিফাত ড্রাগন ফল খেতে চায় কিন্তু অর্থাভাবে সেই ফলটা তার কেনা হয়ে ওঠেনা। তারপরও একদিন অদ্ভূত এক উপায়ে তার হাতে এসে পড়ে এই ফল। লেখক শুরু থেকেই বোঝাতে চেয়েছেন যে, এখানে ব্যাখ্যাতীত, অতিপ্রাকৃত কিছু জড়িত, কিন্তু রহস্য রাখবার জন্য সেগুলোকে বেশি খোলাখুলিভাবেও দেখিয়ে দেননি।

গল্পের ২য় ভাগে লেখক একটা ভিন্ন এপ্রোচ নিয়েছেন। হয়ত ভবিষ্যৎ কোন উপন্যাসে তিনি এপ্রোচটির সদ্ব্যাবহার করবেন। এপ্রোচটি হল ডিটেকটিভ এলিমেন্ট। এ অংশে অতিপ্রাকৃত প্লটের সমান্তরালে একটা গোয়েন্দা গল্পের অবতারণা করেছেন তিনি। আর বলতেই হচ্ছে, এ অংশটিই সবচেয়ে উপভোগ্য। দারুণ একটি এসপিওনাজ থ্রিলারের স্বাদ পেয়েছি এ অংশ পড়ার সময়। নিয়াজ মোর্শেদ চরিত্রটিও মনে রাখার মত, সাথে ভার্সিটি লাইফের সেই লাজুক ছেলে সিফাতের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও উল্লেখযোগ্য। অতিপ্রাকৃত গল্পের সমাপ্তিতেও জাদুকরি আভা বিদ্যমান থাকাটাই স্বাভাবিক। তব��� শেষটায় কিছুটা বিষাদের ছায়া পেয়েছি। এন্ডিংয়ের সাথে How to Train Your Dragon ছবিরও হালকা মিল ছিল বলে মনে হয়েছে।

পরিশেষে বলব, অদ্ভুত বইটিতে আহনাফ তাহমিদ সাহেব যে সাহিত্যিক গুণাবলীর সমাহার করেছেন, তাঁর পরের বইগুলিতে এই গুণের প্রসার দেখতে চাই।
পার্সোনাল রেটিং ৩.৭/৫
Profile Image for Jonny Star.
11 reviews14 followers
February 12, 2024
বই রিভিউ
বইয়ের নাম অদ্ভুত
প্রকাশক বুক স্ট্রিট
আহনাফ তাহমিদ রাতুল ভাইয়ের সম্প্রতি বের হওয়া বই অদ্ভুত
ওনার করা অনুবাদ পড়া হয়েছে বেশ কয়েকটা
কিন্তু মৌলিক হিসেবে এটাই প্রথম পড়লাম
ব্যক্তি রাতুল ভাই আর লেখক রাতুল ভাই উভয়েরই ভক্ত আমি
তবে ভক্তের দৃষ্টিকোণ থেকে না লিখে বরাবর বইয়ের একজন পাঠক হিসেবে লেখার চেষ্টা করেছি


অদ্ভুত বইতে দুটো গল্প - "ড্রাগনফল" আর "দেবং"

"ড্রাগনফল" গল্পটি মূলত গড়ে উঠেছে সিফাত নামের এক যুবকের জীবনে একটি ড্রাগনফল পাওয়া এবং এরপরে তার জীবনের নানা রকম পরিবর্তন আর পরবর্তী পর্যায়ে দেশে মাদকের বিরুদ্ধে সিফাতের অভিযান সবকিছু নিয়ে
গল্পের শুরুটা খুবই সাধারণ দৈনন্দিন জীবন যাপন ঘিরে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত রহস্যের ঘটনাচক্র গুলো দারুণ সুন্দর আর রোমাঞ্চকর ছিল
খুবই ছিমছাম ভাবে সাজানো রহস্যের গল্প
পড়তে গিয়ে চরিত্র গুলো চারপাশের পরিচিত মনে হচ্ছিল বারবার
ভীষণ ভালো লাগলো
সদ্য পড়াশোনা শেষ করে জীবনযুদ্ধে নামা সিফাত বড় হয়েছে এতিমখানায়, তাই তার জীবনযাপন খুবই সাদামাটা, এই ব্যাপারটা খুব নিপুণ ভাবে তুলে ধরেছেন গল্পে।
আবার সিফাতের টিউশনি করানোর বিষয়টিও সাধারণ একটা ঘটনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ভাইয়ের কাছ থেকে অভিভাবকসুলভ ছায়া সিফাতের জীবনে বড় অবদান।
এর মাঝেই হঠাৎ করে উদ্ভট এক লোকের কাছ থেকে একটা ড্রাগন ফল নেয় সিফাত
হঠাৎ করেই সিফাত টের পায় সেই ড্রাগন ফলটি আসলে ফল নয়, যখন দেখতে পায় সেটা থেকে কিম্ভূত একটা বাচ্চা ড্রাগন বেরিয়ে আসে
এরপরই ঘটতে থাকে নানান রকম অদ্ভুত সব ঘটনা
একসময় ড্রাগনের বাচ্চাটি চলে যায়
এরপর গল্পের নতুন মোড় শুরু হয়
সিফাত একসময় চাকরি পায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টাস্ক ফোর্সে
সিফাত আর তার দলের সদস্যরা সদ্য আসা একটা ড্রাগের রহস্য তদন্তে নেমে পড়ে
নানান রকম ঘটনাচক্রে সিফাত সেই তদন্তে তুমুলভাবে জড়িয়ে পড়ে যেখানে জীবনাশঙ্কা রয়েছে
এরই মধ্যে প্রাচীণ এক কিংবদন্তির রহস্যের খোঁজ পায় তারা
গল্পের শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর সব ঘটনা চলতে থাকে
শেষ পর্যন্ত কি হলো? সিফাত আর তার দলবল কি পারলো মাদকের উৎসের রহস্য সমাধান করতে না-কি জীবন বিপন্ন করতে গিয়ে নতুন কোন রহস্য উন্মোচিত করলো সবাই

অসাধারণ একটি গল্প "ড্রাগন ফল" পড়ে পুরোটা জানতে হবে


বইয়ের অপর গল্পটির নাম "দেবং"
নামটাই ভীষণ অদ্ভুত
অনেকদিন পরে একটি পৈশাচিক রহস্যোপন্যাস পড়লাম
চরিত্র চিত্রন ভালো লেগেছে
গল্পের উপস্থাপন করার ধরণটাও বেশ আকর্ষণীয়
এরকম একটা গল্পের জন্য পুরোপুরি মানানসই মনে হয়েছে
গল্পটি গড়ে উঠেছে বিখ্যাত রহস্যোপন্যাস লেখক রূপম রাহাকে নিয়ে
দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন লেখক যার বই থেকে বেশ কিছু ব্যবসাসফল সিনেমাও তৈরি হয়েছে
ব্যক্তি জীবনে সফল লেখক একসময় বিয়ে করেন সহপাঠী ক্যামেলিয়া নামের একজনকে
সুখী দম্পতির জীবনে নতুন মোড় আসে যখন নতুন লেখকদের ভিড়ে রূপম রাহা হারিয়ে যেতে থাকেন আর অপরদিকে তার স্ত্রী ফটোগ্রাফি আর ভিডিও দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করতে থাকেন
দাম্পত্য জীবনে শুরু হয়ে যায় নানারকম টানাপোড়েন
গল্পের নাটকীয়তার শুরু হয় রূপম রাহার স্ত্রী নিখোঁজ হবার পরে
রহস্যোপন্যাস লেখক নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পাবার জন্য বাস্তব জীবনের রহস্যময় একটা অজানা গন্তব্যের দিকে ধাবিত হতে থাকেন
তবে খুব দ্রুতই রূপম খোঁজ পেয়ে যায় অপহরণকারীর
কিন্তু স্ত্রীকে বাঁচাতে তাকে যেতে হবে একটি গ্রামে যার নাম "দেবং"
অদ্ভুত আর অজানা আতঙ্কে ভরা একটি গ্রাম দেবং
ধীরে ধীরে লেখক বুঝতে পারেন তার স্ত্রীর অপহরণকারী একজন ভয়ংকর রক্তপিপাসু সিরিয়াল কিলার এবং বিপথগামী উপাসক, প্রয়োজনের তাগিদে যে কাউকে নিমিষেই খুন করে ফেলতে পারে
একসময় রূপম সেখানে পৌঁছে জানতে পারে সবকিছুই যখন তার পেছনে ফেরার উপায় বন্ধ হবার পথে
তখনই সে নির্দেশ পায় জীবনের শেষ উপন্যাস লিখতে হবে যা হতে হবে পুরোটা বাস্তব ঘটনার আলোকে
তার চেয়েও ভয়ংকর নির্দেশ উপন্যাসটা হতে হবে গা ছমছমে ভৌতিক উপন্যাস
অগত্যা হাতে কলম নেয় রূপম রাহা
শেষ পর্যন্ত পারবেন কি জীবনের শেষ ভৌতিক উপন্যাস লিখে যেতে আর নিজের স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে
না-কি রহস্যময় গল্পে নতুন কিছু ঘটবে
পুরোটা জানার জন্য দেবং শেষ পর্যন্ত পড়তেই হবে

দুটো গল্পই রহস্যের, তবে পুরোপুরি ভিন্ন আঙ্গিকে রচিত
অল্প পরিসরে দারুণ দুটো গল্প এক নিমিষেই পড়ে ফেলেছি
খুবই ভালো লাগলো
ভীষণ আশাবাদী হচ্ছি এই ভেবে যে গল্প দু'টোর চরিত্র গুলোকে প্রিয় রাতুল ভাই মানে লেখক সামনে আবারও নিয়ে আসবেন
সেই জন্য অপেক্ষায় থাকছি
2 reviews4 followers
April 15, 2025
Interesting urban fantasy thriller. A very nice read.
Displaying 1 - 22 of 22 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.