ফ্ল্যাপঃ দয়াময় রব গোটা সৃষ্টিজগৎকে সাজিয়েছেন অপরূপ নৈপুণ্যে, সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন অনুপম কারুকার্যের হাজারো নিদর্শন। কত বদল আর বৈচিত্র্যে ঠাসা এ চরাচর! যেন প্রভুর পরম আসমানি স্পর্শ লেগে আছে প্রতিটি কোণে। একেক সৃষ্টিকে তৈরি করেছেন একেক ব্যঞ্জনায়। এজন্যই তো অহংকার তাঁর আপন চাদর। আমাদের যত প্রার্থনা ও স্তুতি —সকলই কেবল তাঁকে ঘিরে। তিনিই মানুষকে পাঠিয়েছেন জোড়ায় জোড়ায়; একে অন্যের ভূষণরূপে। আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন উত্তম রিজিকে, প্রখর মেধা আর তারুণ্যের প্রাণোচ্ছল চঞ্চলতায়। ভরসার ছায়া আর অবারিত অনুগ্রহে আগলে রেখেছেন তামাম কুল-কায়েনাত।
এসবরই স্বচ্ছন্দ ও সুখপাঠ্য পর্যালোচনা হাজির করেছেন বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় দাঈ শাইখ মিজানুর রহমান আজহারি। সেইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সামনে পেশ করেছেন সুস্থ-সুন্দর, সময়োপযোগী ও ঈমানদীপ্ত জীবনের নববি চালচিত্র। সময়ের সবুজ সওয়ারিদের আহ্বান করেছেন গৌরবময় সত্যের পথে।
একদিন আবু বকর (রা.) আয়িশা (রা.)-এর ঘরে গিয়ে দেখলেন - আয়িশা (রা.) নবিজির সাথে রাগী ভাষায় নিজের ক্ষোভ ঝাড়ছেন! আর নবিজি চুপ করে শুনছেন। মেয়ের এমন আচরণে আবু বকর (রা.) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। মেয়েকে শাসিয়ে বললেন - 'এতো বড় সাহস তোমার, নবিজির সাথে রাগী ভাষায় কথা বলছ!‘ এ কথা বলে তিনি মেয়ের উপর হাত তুলতে উদ্যত হলেন। এমন পরিস্থিতিতে রাসূল দাঁড়িয়ে গেলেন বাবামেয়ের মাঝে। রাসূলকে রক্ষাকবচ হয়ে দেখে আবু বকর (রা.) নিজেকে সংবরণ করলেন ও মেয়ের উপর ক্ষোভ নিয়ে প্রস্থান করলেন। আবু বকর (রা.) চলে যাওয়ার পর নবিজি আয়িশা (রা.)-কে বললেন, 'দেখেছো, কীভাবে লোকটার হাত থেকে তোমাকে বাঁচালাম!' নবিজির কথা শুনে আয়িশা (রা.) হেসে দিলেন। কারণ আবু বকর (রা.) সম্পর্কে "তোমার বাবা" না বলে 'লোকটা' বলেছেন। কিছুক্ষণ পর তারা আবার একত্রিত হয়ে গেলেন।
আবু বকর (রা.) কিছুক্ষণ পর যখন আবার আয়িশা (রা.) এর ঘরে প্রবেশ করে এবং দেখে আয়িশা রা. ও নবিজি হাসিমুখে কথা বলছে। তিনি অবাক হলেন কিভাবে নবী করিম সা. সবকিছু স্বাভাবিক করে ফেললেন!
মিজানুর রহমান আজহারির বইগুলো সাধারণত ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। তার রচনার মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর পথনির্দেশনা, ইসলামের মূলনীতি, এবং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ।
“আহবান” বইটি মূলত একটি শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী কাজ, যা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো এবং মানব জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোকপাত করে। বইটি মূলত তত্ত্ব ও চর্চার মাধ্যমে পাঠকদের ইসলামিক চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিচয় দেয়।
আল্লাহ তাআলার প্রতি ফিরে আসা নিয়ে তিনি সূরা ইনফিতারের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন।
মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, "হে মানুষ! কোন জিনিস তোমাকে তোমার রবের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে?" (সূরা ইনফিতার)
আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি তার গলদেশের শিরা অপেক্ষা অধিকতর নিকটবর্তী।' (সূরা কাফ: ১৬)
মিজানুর রহমান আজহারির বইগুলি অনেক পাঠকের মনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তার বক্তব্যের গভীরতা এবং চিন্তার প্রক্রিয়া অনেক যুবকের মাঝে প্রেরণা জাগিয়েছে। পাঠকরা তার লেখার মাধ্যমে ইসলামিক শিক্ষাকে প্র্যাক্টিকাল জীবনে প্রয়োগ করার পথ খুঁজে পেয়েছে।
আহবান বইয়ে বহুবিধ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে যা সব যুগ উপযোগি। এর মাঝে আলোচনায় বইটি হতে একটা গল্প তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রয়ামাত্র....
পরিশেষে বলি, মিজানুর রহমান আজহারির বইগুলো ইসলামী দর্শনের একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনা। যারা ইসলামের বিষয়ে জানার বা চিন্তা করার আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি উপকারী পাঠ।
মিজানুর রহমান আজহারী হুজুরের প্রথম বই 'ম্যাসেজ' আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছিল।এই বইটিও মা শা আল্লাহ অসাধারণ লিখেছেন।গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে- 'কাছে আসার গল্প'- আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় নিয়ে লেখা , 'হেলদি লাইফ স্টাইল'-বিশ্ব নবীর খাদ্য অভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনের উপর আলোকপাত করা হয়েছে, 'দেহাবরণ'- স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে লেখা , 'স্বপ্নকথা'- ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, 'দীপ্তিময় তারুণ্য'- নবী-রাসূল, সাহাবিদের বিশেষ ঘটনা থেকে দেখানো হয়েছে কিভাবে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হয় , 'আল্লাহর চাদর'- অহংকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যেমন অহংকারের পরিনতি,অহংকার থেকে মুক্তির উপায় , 'সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানারস'-সোশ্যাল মিডিয়াকে কিভাবে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায় তা তুলে ধরা হয়েছে , 'শেষ ভরসা'- তাওয়াক্কুলের ধরন, গুরুত্ব,নবী রাসূলদের জীবন থেকে তাওয়াক্কুলের উদাহরণ দেয়া হয়েছে
বইটি পরলে মানুষের বোধ ও বিশ্বাসে উন্নয়ন, আত্মিক সমৃদ্ধিলাভ, পাশাপাশি লাইফ স্টাইলে ভালো পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ, পড়ে ফেললাম প্রিয় বক্তা মিজানুর রহমান আল আজহারি হুজুরের এই বছর রমজানে প্রকাশিত বই - ❝আহবান - আধুনিক মননে আলোর পরশ❞ এক কথায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উল্লেখ্য করেছেন প্রিয় শায়েখ, যেগুলো আমাদের তরুণ প্রজন্মের জানা ও মানা একান্ত প্রয়োজনীয়। সব মিলিয়ে খুব ভালো মানের লিখা ছিলো। সমকালীন প্রকাশনীকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব ভালোমানের ইসলামিক বই আমাদের উপহার দেয়ার জন্য৷
বর্তমান যুগ নানা রকম সমস্যা আর ফিৎনায় জর্জরিত। পরিস্থিতি এমন যে ,যেই লোকটি পাপাচারের শেকল ভেঙে মুক্ত হয়ে আসতে চায় আল্লাহর সান্নিধ্যে, সে-ও সফলকাম হতে পারছে না তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে। কিন্তু ইসলামকে আকড়ে ধরে যে বাঁচতে চায় , সে জিতবেই। অবশ্যই জিতবে।শুধু চলার পথটা পরিবর্তন করতে হবে। আবার পথ তো অনেক। কোন পথে যাবো? মিজানুর রহমান আযহারীর 'আহ্বান' বইয়ে এইকথাই বলা আছে। বর্তমান সময়ে কিভাবে আপনি একজন ঈমানদার মুসলিম হয়ে চলতে পারবেন, কিভাবে নিজেকে দূরে রাখতে পারবেন সুদ,ঘুষ,গীবত এর মত নিকৃষ্ট পাপাচার থেকে, আপনার খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক আশাক কেমন হলে আপনার জন্য ভালো, এরসবই বলা আছে এই বইয়ে।
আমরা কম বেশি সবাই হয়তো মিজানুর রহমান আযহারীকে একজন বক্তা ও ইসলামিক স্কলার হিসেবে চিনি। যার ওয়াজের সুর শুনতে দুর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসত মানুষজন। একজন বক্তা হওয়ায় ,লেখক হিসেবে তার প্রতি আমার আশা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু বইয়ের প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়তেই বুঝলাম আমার ধারণা শতভাগ ভুল। এত সুন্দর করে হয়তো বাংলাদেশের অনেক সাহিত্যিকরাও লিখতে পারবে না। প্রত্যেকটা জিনিস তিনি অত্যন্ত মার্জিত ও সরলভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
'আহবান' বইটি আমার মতে যারা নিজেদের আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের প্রত্যেকেরই পড়া উচিৎ। যারা চায় না , তাদেরও পড়া উচিৎ।
দিনশেষে আপনার আমলনামাই দেখা হবে , আপনার জীবনের সম্পদ,অভিজ্ঞতা,আনন্দ, এইসবের কোনো মূল্য থাকবে না ।