কাবাগৃহের তলা থেকে খননকাজের সময় কী শিলালিপি পাওয়া গিয়েছিল? কেন সেই লিপি পড়ার জন্য জনৈক ইহুদীর সাহায্য নিতে হলো? কী-ই বা লেখা ছিল সেখানে? জমজম কূপ থেকে উদ্ধার করা সামগ্রীগুলো কাদের ছিল? মদিনার আগের নাম কবে থেকে ‘ইয়াসরিব’ ছিল? কেন ছিল? মদিনার অবাক করা ইতিহাস আপনি জানেন কি? সেই সাথে মক্কার অবিশ্বাস্য সব ইতিহাস ও নানা কিংবদন্তিই বা বাদ যাবে কেন? হাজরে আসওয়াদ কারা চৌচির করে দেয় বলেন তো, কেন দিয়েছিল? কাবাগৃহের আগের নকশার সাথে বর্তমানের কী পার্থক্য? ‘বাক্কা’-র প্রাচীন ইতিহাস জানেন কি? আর সব শেষে জেরুজালেম—আগে কী নাম ছিল এ শহরের? কীভাবেই বা তা ধ্বংস হয়ে যায়? কী রহস্য লুকিয়ে আছে জেরুজালেমের পাহাড়কোলে? পবিত্র ভূমির হাজার হাজার বছরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির পাশাপাশি কত শত অবাক করা নিদর্শন, তা কি আর বলে শেষ করা যায়? মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম- এই তিন পবিত্র শহরের সহস্র বছরের ইতিহাস আর জানা-অজানা নানা নিদর্শন ছবিসহ মলাটবদ্ধ করার প্রয়াস এই বই- “মক্কা মদিনা জেরুজালেম”।
Born in Bangladesh, Abdullah Ibn Mahmud passed his childhood in Dubai, the UAE, the tourists' heaven. Returning to his home country, he passed his intermediate from Science department in 2011 from Notre Dame College, Dhaka. After that, he started his B.Sc. in the top-most engineering university of the country, BUET (Bangladesh University of Engineering & Technology) in Electrical & Electronic Engineering (EEE). After obtaining B.Sc., he went on to pursue MBA in 2017 and finished the degree from the highest academic institution in the business line, IBA of Dhaka University.
He started his writing career during his undergrad life and earned huge popularity through his historical writings published in the Bangla version of the popular analyst platform of South Asia, Roar Global. His writings on Roar Bangla have accumulated over 3.6 million readers in the last two years alone.
Abdullah loves to read and impart knowledge to those who like easy-reads. He is one of the pioneers of the country who popularized the reading of non-fiction or history-based contents. His favorite topics include- myths, theological history, tech, and he totally adores Dan Brown & J. K. Rowling, having grown up reading their fictions, but making a career of non-fiction, mostly. His published works now total up to 6, with quite a few in the pipeline, including approved translation works.
শৈশবের গোড়ার ছয়টি বছর কেটেছে আরব আমিরাতের দুবাইতে। ২০১১ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করে আন্ডারগ্র্যাড শুরু করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগে। ২০১৭ সালে বুয়েট থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
ভার্চুয়াল জগতে লেখালেখির সূচনা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঢোকার পর থেকে। বুয়েটে শেষ বর্ষে থাকাকালীন লেখা শুরু করেন রোর বাংলা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে জনপ্রিয়তা পায় তার শতাধিক ফিচার, তার লেখাগুলো পঠিত হয় সাম্প্রতিক সময়েই প্রায় ৩৬ লক্ষ বার। ভালোবাসেন নতুন কিছু জানতে এবং জানাতে; প্রযুক্তি আর ফিকশন ছাড়াও পছন্দের বিষয়- বৈশ্বিক ইতিহাস, মিথ এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব।
প্রকাশিত নন্দিত বইগুলোর মাঝে আছে- ইহুদী জাতির ইতিহাস, অতিপ্রাকৃতের সন্ধানে, এলিরিন, দ্য প্রফেট, সিক্রেট মিশনস, ইত্যাদি।
❛আব্রাহামিক ধর্মের তথা তিন সেমেটিক ধর্মের পবিত্র নগরী হিসেবে মক্কা, মদিনা আর জে রু জালে মের আছে আলাদা তাৎপর্য। শত সহস্র বছর ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এই তিন নগরী। মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ই হু দীদের কাছে তীর্থস্থান। এই তিন নগরীর আছে ইতিহাস। একে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে রাজনীতি, ব্যবসাসহ নানা অজানা ব্যাপার।❜
মক্কা
ইসলাম ধর্মানুরাগীদের কাছে পবিত্রতম নগরী হলো মক্কা। যেখানে আছে আল্লাহর ঘর কাবা, মসজিদুল হারাম,আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদের ﷺ জন্মভূমি। মক্কার পুরো নাম ❛মাক্কাহ আল-মুকাররামাহ❜। ইতিহাসের গলিতে ঢু মারলে এই নগরীটির অতীত জানা যায়। মক্কা নামটি আগে ছিল না। একে ডাকা হতো বাক্কা নামে। এছাড়াও ইতিহাসবিদদের এই নগরী নিয়ে আসছে অবাক করা গবেষণা। আপনি যদি শুনেন কেউ দাবি করছে মক্কায় আসলে আমাদের নবীজীর ﷺ জন্মই হয়নি, পুরো ঘটনা আবর্তিত হয়েছে অন্য কোনো নগরীতে যা কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে গেছে! এছাড়াও মক্কার কাবা শরিফের ইতিহাস বিস্তর। বর্তমানের কাবার মডেল ইব্রাহিম (আ) এবং ইসমাইল (আ) এর তৈরি করা মডেলের মতো নয়। আছে কিছু ভিন্নতা। পবিত্র নগরীর ইতিহাস জানতে গিয়ে জানা যায় যে শহরে র ক্তপাত নিষিদ্ধ সে নগরও ভিজেছিল মানুষের শোণিতে। হ্যাঁ, প্রাচীনকাল থেকে নিকটতম অতীতেও কাবায় আক্র মণ হয়েছিল, ঝরেছিল র ক্ত। এছাড়াও জমজম কূপের ইতিহাস, কালো পাথর, কাবার চোখধাঁধানো সেই গিলাফ নিয়ে আছে ইতিহাস। মনে আছে তো মহানবী ﷺ জন্মের ঠিক আগ মুহুর্তে ঘটেছিল আব্রাহার বাহিনীর সেই অভিযান যেখানে আল্লাহর পাঠানো আবাবিলের ঝাঁকের অলৌকিক কীর্তিতে ইতিহাসের রচনা হয়েছিল? মক্কা এবং আশপাশের দেখার মতো স্থানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দর্শন করে। ইসলামের ইতিহাসের নিদর্শন দেখে এবং উমরা করতে আসে। মক্কা অতি প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মীয় ক্ষেত্রে ছিল পবিত্র, আছে এবং থাকবে।
মদিনা
মুসলিমদের দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী মদিনা। যার পুরো নাম ❛মদিনাহ আল মুনাওওয়ারাহ❜। তবে অবশ্যই জানা আছে নবীজীর ﷺ রওজা মুবারক অবস্থিত এই জায়গাটি আগে মদিনা নামে ছিল না। এর পূর্বনাম ছিল ❛ইয়াসরিব❜। ইসলাম প্রবেশের পর ধীরে ধীরে এর নাম হয় মদিনা। হিজরতের পর নবীজী ﷺ মদিনায় বসবাস করেন এবং এখানে থেকেই ইসলামের প্রচার করতে থাকেন। মদিনার ইতিহাস সম্পর্কে বেশিরভাগটাই এসেছে মহানবীর ﷺ হিজরতের পর। আজকে আমরা যাকে সৌদি আরব নামে জানি আপনি কি জানেন এই নামটি মূলত একটি পরিবারের নাম থেকে এসেছে? ❛সৌদ❜ পরিবারের কাছে ক্ষমতা যাওয়ার পর থেকেই আমরা সৌদি আরব নামে জানতে শুরু করি। কিন্তু কীভাবে হাত বদল হয়ে এলো সৌদি পরিবারের কাছে ক্ষমতা? কীভাবেই বা তারা অর্থনীতিতে এতটা সমৃদ্ধ হলো? এই ইতিহাস অবাক করবে। তরল সোনা তথা পেট্রো দিয়ে এবং পর্যটনের মাধ্যমে দেশটি নিজেকে উন্নত করেছে। এই নগরীর আশপাশেও আছে দেখার মতো অনেক স্থান। এরমধ্যে অবশ্যই আছে মসজিদে নববী, নবীজীর ﷺ রওজা মুবারক সহ নানা মসজিদ।
জেরু জালে ম
এই নগরী তিন সেমেটিক ধর্মের জন্যই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুসলিমদের প্রথম কিবলা (ই হু দীদের কিবলা), মাসীহ তথা খ্রিস্টের জন্মস্থান, ই হু দী দের প্রমিজড ল্যান্ড। এখানেই আবার ফিরে আসবেন ঈসা (আ) তথা যীশু খ্রিস্ট। এখানেই আবির্ভূত হবেন ই হুদী দের রক্ষাকর্তা। যে তাদের পবিত্রভূমি উদ্ধার করে দিবে এবং এখানেই নির্মিত হবে ❛থার্ড টেম্পল অফ সলোমন❜। জে রুজা লেমের ইতিহাস বহু প্রাচীন। একে কেনান ভূমি নামে ডাকা হতো। ইয়াকুব (আ) কে আল্লাহ স্বপ্ন দেখান এবং একটু প্রতিশ্রুত ভূমি দিবেন বলে জানান। এখানেই নির্মিত হয় মসজিদুল আকসা। যা কালের বিবর্তে হারিয়ে গেছে। আছে এখন এলাকাটি আর সম্ভাব্য স্থান। বায়তুল মুকাদ্দাস এবং আকসা নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। জানা অজানা তথ্য আছে, আছে কিছু ভুল ধারনা। এখানেই মিরাজের রাতে নবীজী ﷺ নামাজ আদায় করেছিলেন। আমরা যাকে মসজিদুল আকসা বলে জানি আদতে এটি নির্দিষ্ট কোনো মসজিদ নয়। একটি এলাকা। এখানেই আছে সোনালী গম্বুজের সুন্দর সেই ❛ডোম অফ দি রক❜। এখানেই আছে দ্য গোল্ডেন গেট। বিশ্বাস করা হয় এই গেট দিয়েই ঢুকবেন ভন্ড মাসীহ তথা দা জ্জাল। আমরা তো অনেক ধরনের সিনড্রোমের নাম শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট নগরী ভ্রমণের পর কোনো সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কথা শুনেছেন? বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলেও ❛জে রুজা লেম সিন্ড্রোম❜ নামে অদ্ভুত এক রোগ আছে। এবং এই সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছে। জে রুজালে ম পবিত্র নগরী। তবে এই এলাকা কার অধ্যুষিত, কে এই এলাকার আসল দাবিদার এই নিয়ে চলে আসছে র ক্তক্ষয়ী এক বিবাদ। পবিত্র এবং প্রতিশ্রুত ভূমির দাবিদার বনি ইস রা ইল। কিন্তু এখানে আছে ফি লি স্তি নিরা। এটি তাদেরও ভূমি। কুরআনের সূরা মায়িদা আয়াত ২১ এ আছে, ❛হে আমার জাতি, তোমরা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন এবং তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যেও না, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।❜ এখানে মুসা (আ) এর জাতিকেই বলা হয়েছে। যাদের আমরা বনি ইস রাই ল নামে চিনি।
তবে কুরআনের সুরা বাকারা আয়াত ১২৪ এ বলা আছে, ❛আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না।❜
নানা চুক্তি, হেলাফেলা মিলিয়ে আজ এই শহর সেমেটিক ধর্মের মানুষগুলোর জন্য পবিত্র। তবে কে আসলে দাবিদার সেটা উল্লিখিত আয়াত ইঙ্গিত করে না? আল্লাহ অত্যাচারীদের সাথে কখনোই থাকেন না। এখানে দর্শনীয় স্থান আছে। মুসলমানের মসজিদ, ই হু দী উপাসনালয়, খ্রিস্টানের চার্চ রয়েছে। তিন ধর্মেরই পবিত্রতা বহন করে যাচ্ছে নগরীটি। এখানেই আছে মিরাজের সেই পাথর, আছে বুরাককে বেঁধে রাখা দেয়াল, চার্চ সহ নানা স্থাপনা।
আমাদের তিন পবিত্র মসজিদ মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদুল আকসা তথা বাইতুল মুকাদ্দাসের অবস্থান এই তিন নগরীতে। ইতিহাস সামনে আরো রচিত হবে। দেখা যাক সামনে কী কী ঘটে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝মক্কা মদিনা জে রুজা লে ম❞ বইটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদের লেখা ধর্মীয় স্থানের ইতিহাস বিষয়ক বই। লেখক সেমেটিক ধর্মের ইতিহাস নিয়ে বেশ দারুণ কিছু বই লিখেছেন। সেগুলোর বেশিরভাগ পড়া। এই বইটিতে লেখক পবিত্র তিন নগরীর ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। তবে গুরুত্বপুর্ণ, অজানা, আবার জানা কিন্তু ভুল ব্যাপারগুলোও খোলাসা করেছেন।
বইটি তিনটি ভাগে বিভক্ত নামের মতোই। শুরু হয়েছে মক্কার ইতিহাস দিয়ে। বইটির সিংহভাগ জুড়েই ছিল মক্কার ইতিহাস। মক্কার ইতিহাস অনেক অনেক আগের। কীভাবে আজকের এই মক্কা হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হলো এই নগরী তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এনেছেন লেখক। উক্ত নগরী সম্পর্কে আপনার ধারনা না থাকলে এখানে প্রথম পাঠ হিসেবে সুন্দর একটু ধারনা পাওয়া যাবে। বাক্কা থেকে কীভাবে এলো মক্কা, বিবি হাজেরার ইতিহাস এবং ইসমাইল (আ) এর ইতিহাস, হেজাজ থেকে মক্কা কিংবা হারিয়ে যাওয়া পেট্রার কথা এসেছে। এসেছে কাবা ঘরের ইতিহাস, এর আশপাশে প্রতিটি জিনিসের ইতিহাস।
মক্কার পরেই দ্বিতীয় পবিত্র স্থান মদিনা। মদিনার ইতিহাস এই বইতে নবীজীর ﷺ হিজরতের পরের ঘটনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ইয়াসরিব থেকে কী করে আজকের মদিনা এলো সে আলোচনা হয়েছে। তবে আমা কাছে সবথেকে আকর্ষণীয় লেগেছে সৌদি আরব নামের পেছনের কথা। এ সম্পর্কে আমার ধারনা খুব একটা স্পষ্ট ছিল না। এখানে সংক্ষেপে যা জেনেছি ভালো লেগেছে। সৌদি পরিবারের ইতিহাস, অন্তর্দ্বন্দ্ব, তাদের নীতি, ক্��মতায় আসার পর ওয়াহাবী নিদর্শন এবং প্রাচীন অনেক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারগুলো এসেছে। তাদের মাধ্যমে মদিনার উন্নতকরণ সেটা আদতে কতটা ইসলামের জন্য ভালো বা বিশ্ববাসীর কাছে কেমন দৃষ্টি লেখক সে বিষয়েও কিছু আলাপ করেছেন। সালাফি আর ওয়াহাবী মুভমেন্ট, বিশ্বাস নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এরপর তৃতীয় পবিত্র স্থান জে রুজা লেম। এই নগরীর ইতিহাস, বর্তমান এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। মসজিদুল আকসা, বাইতুল মুকাদ্দাস নিয়ে যে ভুল ধারনা সেটাও আলোচিত বিষয় ছিল। তিন সেমেটিক ধর্মের বিশ্বাস এবং সামনে কী হবে এসব নিয়েও ধারনা দিয়েছেন লেখক। তবে এই বিষয়ে আগে বই পড়া থাকায় এবং লেখকেরই কিছু লেখা পড়ার জন্য আমার কাছে অনেকগুলো তথ্যই বেশ পুনরাবৃত্তি মনে হয়েছে। প্রাথমিক ধারনা দেয়ার জন্য এগুলো অবশ্যই দরকার। জানা থাকায় আমার কাছে লেগেছে একই তথ্য আবার পড়ছি। মূল এই বইতেও কিছু জায়গায় একই তথ্য এসেছে তবে সেটা ব্যাখ্যার প্রয়োজনে।
বইটির সবথেকে ভালো দিক লেখক গদবাধা বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বর্ণনার সাথে অনেকগুলো ছবির মাধ্যমে পাঠককে ভ্রমণ করিয়ে এনেছেন পবিত্র সেই শহর গুলোতেও। রঙিন ছবি হওয়ায় সেগুলো বুঝতে আরো সুবিধা হয়েছিল। বইটি দারুণ। আপনি যদি সেমেটিক ধর্মের পবিত্র নগরীর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান এবং কিছু প্রচলিত ভুল ধারনা ভাঙতে চান বইটি সানন্দে পড়তে পারেন। তবে এগুলো সম্পর্কে অনেক বেশি ধারনা থাকলে হয়তো বইটি আপনাকে খুব বেশি খুশি নাও করতে পারে। তবে ইতিহাস বিষয়ক বই মাত্রেই আমার আগ্রহ তৈরি হয়। বইটি পড়ে আমার ভালো লেগেছে। লেখক বইতে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা নিয়ে আগাগোড়া একটি বই দাড় করানো যায়। এসব বিষয় নিয়েও জানার আগ্রহ রইলো।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদ সুন্দর। বইটির সম্পাদনা মোটামুটি ভালো ছিল। কিছু জায়গায় অভ্র থেকে বিজয় কনভার্ট করার সময় ভুল রয়ে গেছিল। অনেকগুলো শব্দের মাঝেই ❛ড়❜ জাতীয় অক্ষর ঢুকে গেছিল। মুদ্রণ প্রমাদ ছিল। তবে বইটির সাজসজ্জা নিয়ে কথা না বললেই নয়। এই বইটি আমি শুধু নাম দেখেই নিয়েছিলাম। বইটি নেয়া পর বইয়ের ভেতর দেখে আমি মুগ্ধ। চার কালারে তৈরি বইটিতে অসংখ্য ছবি আছে এবং যার কোয়ালিটি অনেক ভালো। বইটির পৃষ্ঠার রঙটাও দারুণ এক কথায়। ২৭০ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ৬০০ টাকা কিছুটা বেশি মনে হলেও ভেতরের সাজসজ্জা দেখে আমার মনে হয়েছে দামটা একদম গলা কাটা না। অন্যধারা প্রকাশনীর সবথেকে সুন্দর বই আমার মতে এটি।
❛ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে পবিত্রতার চিহ্ন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তিনটি নগরী। শেষ জামানার অনেক হিসাব হবে এইখানে। ততদিনে আমাদের বিশ্বাস, পবিত্রতা আর ভবিষ্যদ্বাণীর কতটুকু প্রকাশ পাবে? শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। শুকিয়ে আসছে ফোরাতের পানি। গোপনে কি আয়োজন চলছে থার্ড টেম্পল নির্মাণের? গোল্ডেন গেট দিয়ে ঐশীবাণী এসেছিল এক ধর্মের ধারনা। এখানেই দেখা হয়েছিল মাতা মেরির সাথে তার সঙ্গীর। এখানে দিয়েই কি ঢুকবে কেয়ামতের অন্যতম লক্ষণ দা জ্জা ল?❜
লেখক আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ এর মক্কা মদিনা জেরুজালেম বইটা কোনো বিস্তারিত ইতিহাসের বই নয়, এখানে কেবল সেমেটিক ধর্মের তিন শহরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে সেই সাথে উঠে এসেছে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহাসিক সচিত্র বর্ণনা। যা পড়ে ইসলাম ধর্মের প্রাণের শহর মক্কা ও মদিনা আর ইহুদী, খ্রিস্টান ও ইসলাম তিন ধর্মের জন্যই গুরুত্ব বহন করা জেরুজালেম শহরের রাজনৈতিক ধর্মীয় আর প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পাবেন, যা পড়ে একটা ধারণা লাভ করবেন, জানতে পারবেন বেশ কিছু জানা অজানা বিষয়। ভাঙ্গবে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও।
মক্কা, যার আরবি পুরো নাম মাক্কাহ আল মুকাররামহ, নামটার কথা আসলেই আমাদের সবারই চোখের সামনে ভেসে উঠে মসজিদুল হারামের সেই কিউব আকৃতির কালো গিলাফ ঢাকা মহান সৃষ্টার ঘর। লেখক মক্কার অংশে একদিকে যেমন মসজিদুল হারাম নির্মানের ধর্মীয় ইতিহাস বর্ণনা করেছেন সেই সাথে তুলে ধরেছেন মক্কা এবং কাবাকে ঘিরে ঘটে চলা বা ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা যার কোনো কোনোটা আবার রক্তাক্ত ইতিহাসও বলা যায়। আছে কাবাকে ঘীরে ঘটা নানান ঘটনা, সেই সাথে দেখতে পারবেন কাবার ভিতরে ও বাইরের রঙিন ছবিও। সেই সাথে আছে জমজম কূপ, সেই পবিত্র কালো পাথর হাজরে আসওয়াদের বর্ণনা। আরো আছে মক্কায় ঘটা সেই ত্বাইরান আবাবিল ঘটনার বর্ণনাও, আজকের কাবার নকশার ইতিহাসসহ মক্কার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং শেষে এসে মক্কার সকল অতীত ও বর্তমান দর্শনীয় স্থানের সাথে লেখক সচিত্র পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
মদিনা, ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর, আমাদের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর এই স্মৃতিবিজড়িত শহরের পুরো নাম মাদিনাহ আল মুনওওয়ারাহ। এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো মসজিদে নববী ও প্রিয় নবীর রওজা মোবারক। সেই সাথে আছে আরো দুটো গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ, মসজিদে কুবা এবং মসজিদে আল ক্বিবলাতাইন। মক্কার ইতিহাস যতটা বৈচিত্র্যময় আর বিস্তৃত সেই তুলনায় মাদিনার ইতিহাস খুবই কম। লেখক এখানে অধিকাংশই বর্ণনা করেছেন আমাদের নবী করিম (সা.) এর সময়কার উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং মদিনা শহরের রাজনৈতিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস। এক ফাঁকে লেখক আজকের সৌদি আরব হওয়ার পিছনের গল্প তথা সৌদি রাজ পরিবারের উত্থানের গল্পও তুলে ধরেছেন, সেই সাথে মক্কা ও মদিনাকে ঘীরে সৌদি সরকারের নানান পরিকল্পনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ভাঙ্গার কথাও উঠে এসেছে। সাথে লেখক শেষে এসে আগের মতো মদিনা শহরেরও উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ও স্থানের সাথে সচিত্র পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
জেরুজালেম, পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর গুলোর একটি। এই শহরকে হিব্রুতে বলে ইয়ারুশালেইম বা শান্তির শহর আর আরবিতে বলে 'আল কুদস। এখানেই খ্রিস্টপূর্ব ৯৫৭ সালে সুলাইমান (আ) নির্মান করেন প্রথম উপসনালয় বাইতুল মুকাদ্দাস যা ইহুদিদের প্রার্থনার কেবলা আর আমাদের মানে ইসলাম ধর্মের ছিলো প্রথম কেবলা। কিন্তু ব্যবিলনীয়রা তা ধ্বংস করে দেয়। এরপর আবারও খ্রীস্টপূর্ব ৫১৬ সালে আগের জায়গায় নির্মাণ করা হয় দ্বিতীয় উপসনালয় যা ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ধ্বংস করে দেয়। তো এই বাইতুল মুকাদ্দাস এখন আর না থাকলেও ধারণা করা হয় এটা হারাম শরীফ এলাকাতেই ছিলো। ঘরটি না থাকলেও ঘরের পবিত্রতা ছিলো, এখনও আছে, থাকবে। তাই বাইতুল মুকাদ্দাস বলতে কোনো নির্দিষ্ট ইমারতকে বুঝায় না বরং বুঝায় বিশাল এলাকাকে যেখানে আছে নানান স্থাপনা যেমন সোনালী গম্বুজের মসজিদ, আছে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. যে পাথরে ভর করে মিরাজ গমন করেছেন বলে ধারণা করা হয় সেই পাথর। এই বাইতুল মুকাদ্দাস মক্কা মদিনার পর আমাদের তৃতীয় তীর্থস্থান।
জেরুজালেমের কথা আসলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে সোনালী গম্বুজের এক মসজিদের চিত্র, এটা কিন্তু বাইতুল মুকাদ্দাস নয়, তবে দ্বিতীয় বাইতুল মুকাদ্দাস যেখানে নির্মান করা হয়েছিলো সেখানেই এই সোনালী গম্বুজের মসজিদ তথা ডোম অফ দ্য রক বা কুব্বাতুস সাখরাহ ৬৯১সালে নির্মাণ করেন উমাইয়া খালিফা আব্দুল মালিক বলে ধারণা করা হয়।
এছাড়াও লেখক জেরুজালেম সিন্ড্রোমের মতো অদ্ভুত রোগের পাশাপাশি তিন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান জেরুজালেমের অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানের সাথে সচিত্র পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বইটিতে।
পরিশিষ্ট, মক্কা মদিনা জেরুজালেম শহরকে ঘিরে লেখা এই বইটা পড়ে আমার দারুণ লেগেছে। ধর্মীয় ইতিহাস ছাড়াও জানতে পেরেছি রাজনৈতিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ক জানা অজানা নানান সংক্ষেপে তথ্য যা আগে জানা ছিলো না। এছাড়াও হালকা নীলাভা পৃষ্ঠার বইটির প্রোডাকশন অনবদ্য লেগেছে, সেই সাথে উপভোগ করেছি বইটিতে ব্যবহার করা প্রতিটি রঙিন ছবিও, সময় নিয়ে প্রতিটি ছবিই দেখেছি মুগ্ধ হয়ে।
ইসলাম সহ সেমেটিক বাকি দুই ধর্মের (ইহুদী,খ্রিষ্টান) ইতিহাস, ধর্মীয় গুরুত্ব, এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে, তাদের জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদের লেখা "মক্কা মদিনা জেরুজালেম" বইটি এক অনন্য সৃষ্টি। এই বইয়ে মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেম—তিনটি পবিত্র নগরীর ধর্মীয়, ঐতিহাসিক, এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গোছানো ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক সংক্ষেপে এই নগরীগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরলেও তার প্রতিটি বর্ণনা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।
বইয়ের প্রথমেই আলোচনা করা হয়েছে মক্কা নিয়ে, মক্কা, যাকে আরবিতে "মাক্কাহ আল-মুকাররামাহ" বলা হয়। এটি ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম শহর। লেখক মক্কার ইতিহাস শুরু করেছেন পবিত্র কাবা গৃহের নির্মাণ ও ধর্মীয় তাৎপর্য দিয়ে। কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর পাশাপাশি জমজম কূপ, হাজরে আসওয়াদ, এবং আব্রাহার হাতির মতো বিশেষ ঘটনারও চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন লেখক এখানে। এছাড়া মক্কা শহরের বিভিন্ন স্থাপত্য,বর্তমান সৌদি আরবের আধুনিকায়ন, এবং কালে কালে মক্কার ঐতিহাসিক নিদর্শনের সংরক্ষণ ও ধ্বংসের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বইটিতে। মক্কার বিবরণ পড়ার সময় মনে হয়েছে আমি যেন মক্কাতে ভ্রমণ করছি এখন।
বইয়ের দ্বিতীয় অংশ মদিনাকে নিয়ে, ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর মদিনার কথা শুনলেই প্রথমেই মনে আসে সবুজ গম্বুজযুক্ত মসজিদে নববী এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকের কথা। লেখক এখানে মদিনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি মসজিদে কুবা ও মসজিদে আল ক্বিবলাতাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কথাও উল্লেখ করেছেন। মদিনায় যুগে যুগে যেসব জাতিগোষ্ঠী বসবাস করতো, তাদের সম্পর্কেও এই অংশে আলোচনা করা হয়েছে, সেই সঙ্গে, মহানবীর (সা.) সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং সৌদি শাসনামলে শহরের পরিবর্তন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে বইটির এই অংশে। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,সালাফি ওয়হাবি মুভমেন্ট সমন্ধেও বেশ ভালো পাঠ আছে এই মদিনা অংশটিতে।
জেরুজালেম হলো এই বইয়ের তৃতীয় এবং শেষ অংশ, পৃথিবীর প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি জেরুজালেম, যা হিব্রুতে ইয়ারুশালেইম এবং আরবিতে আল-কুদস নামে পরিচিত। এই নগরী সেমেটিক তিনটি ধর্মের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইতুল মুকাদ্দাসের ইতিহাস এবং এটি ঘিরে ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই অংশে। সোনালী গম্বুজের মসজিদ (ডোম অফ দ্য রক), মিরাজের পাথর, এবং বাইতুল মাকদিসের বর্তমান অবস্থানসহ অন্যান্য নিদর্শনের কথাও উঠে এসেছে এখানে। এছাড়াও ইজ্রায়েল প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বিবরণও বেশ সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন লেখক।
বইটির সচিত্র বিবরণ যেকোনো পাঠকদের চোখের সামনে মক্কা,মদিনা এবং জেরুজালেমের পুরো ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলবে। বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যেন আমি নিজেই সেই নগরীগুলো ভ্রমণ করছি। প্রতিটি পরিচ্ছেদে চিত্রসহ উপস্থাপনা বইটিকে আরো জীবন্ত করে তুলেছে। রঙিন পৃষ্ঠা এবং উন্নত বাইন্ডিং বইটিকে এক অনন্য নান্দনিকতা দিয়েছে। লেখকের ভাষা সরল, যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ধর্মীয় ইতিহাস ছাড়াও প্রত্নতাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরেছি এই বইটি পড়ে, যা আগে জানা ছিল না।
"মক্কা মদিনা জেরুজালেম" বইটি শুধু ধর্মীয় অনুরাগীদের জন্য নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে যারা আগ্রহী, তাদের জন্যও এ এক অসাধারণ রচনা। লেখক ইতিহাসের জটিলতাকে সহজ ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন, যার জন্য বইটিকে অনেক গতিশীল লেগেছে। আমার পড়া এই বছরের বইগুলোর মধ্যে এই বইটিকে অন্যতম সেরা লেগেছে। ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৫/৫
ইসলাম ধর্মের গোড়াপত্তনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দুটি নগরী মক্কা ও মদিনা। আর জেরুজালেম ইসলামের সাথে সাথে খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মের অনুসারীদের জন্যও অত্যান্ত পবিত্র স্থান। তবে এই তিনটি নগর সম্পর্কে সাধারন মানুষের যতটুকু জ্ঞান তার বেশিরভাগই আধ্যাতিক অংশগুলোর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য নগরের মতই এই তিনটি নগর সমূহরেও ইতিহাস আছে। ধর্মগুলো প্রত্যাবর্তনের আগে ও পরে এই নগরগুলোরও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিকাঠামোর ভাঙ্গাগড়া চলেছে নিয়মিতই। শাসক ও শাসনতন্ত্রের রদবদলে পর্যায়ক্রমে এসেছে পরিবর্তন। পরিবর্ততিত হয়েছে পবিত্র ভুমির পবিত্র অবকাঠামো গুলোও। লেখক তার গবেষনামূলক এই বইয়ে খুব সহজ ভাবে সেই পরিবর্তন ও অতীত ইতিহাসগুলো তুলে ধরেছেন।
বইটির তিনটি অংশে তিনটি নগরী নিয়ে কথা বলেছেন। সবচেয়ে বেশি তথ্য উপাত্ত দেয়া হয়েছে মক্কা নগরীর। ইসলামের পবিত্র কাবা ঘর ও এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য স্থাপনার নিয়েও রয়েছে বিস্তুারিত বিবরন। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে মদিনা নগরীর কথা। এই নগরীর উথান এর শাসনতন্ত্র, এর বিভিন্ন অবকাঠামো নিয়ে সল্পপরিসরে আলোচনা রয়েছে বইটিতে। রঙ্গিন ছবির মাধ্যমে বিষয়বস্তুর উপস্থাপন আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে বইটিকে। বিভিন্ন রেফারেন্স বইয়ের খটমটে বর্নণা লেখক খুব প্রাঞ্জল ভাষায় তার বইটিতে তুলে ধরেছেন। নগরীগুলোর বর্ননায় ইসলামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উঠে এসেছে এখানে। উন্মোচিত হয়েছে অনেক অজানা তথ্য। যাদের ইতিহাস নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে তাদের বইটি বেশ ভালো লাগবে।
It did not reach the height of his other book, which led me to buy this book. There are so many books written in Bangla and English on this topic; not a single topic excited me or I think I learn new things. May be as a voracious reader of the topic, this book was not for me. But I think for a beginner who are interested in Abrahamic religion it is good book.
অনেক অজানা তথ্য জানলাম। আব্দুল্লাহর অন্যান্য বইগুলোর মতোই সুখপাঠ্য। বোনাস পাওনা উন্নতমানের কাগজে ছাপা এবং রঙ্গিন ছবিগুলো। জেরুজালেম অংশটা একটু রিপিটিটিভ মনে হয়েছে, বিশেষ করে আল আকসা বিষয়ক তথ্যগুলো।