Jump to ratings and reviews
Rate this book

কোডনেম : বারবারোসা

Rate this book
কোডনেম : বারবারোসা, রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে আর তার পরের দশ দিনের ‘কম জানা’ এবং প্রায় অজানা ঘটনার গল্প। গল্পের সাথে ইতিহাস চলে, আর চলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামরিক চরিত্র। যুদ্ধের সিক্রেট পরিকল্পনা, সেই ছকের বাস্তবায়ন; চাল আর পাল্টা চালে– সত্য, মিথ্যা, অর্ধ সত্য সব একসাথে মিশে যায়। স্তালিন-হিটলার ছাড়াও, আরও বহু চেনা-অচেনা নাম আর মুখের অন্তহীন মিছিল। গল্পের পাতায় সিক্রেট-আর্কাইভ, গুপ্তচর, জঙ্গি বিমান, এবং অবশ্যই প্যাঞ্জার আর অতি অবশ্যই ব্লিৎসক্রিগ। গল্প, কিন্তু সত্যি। জার্মান যুদ্ধ মেশিন আর লালফৌজ– দুই পক্ষের তুল্যমূল্য লড়াই। ঘটনাক্রম কখনো যেন থ্রিলার, কখনো সাসপেন্স, কখনো ষড়যন্ত্রের প্যাকেজ।

400 pages, Hardcover

Published February 1, 2022

2 people are currently reading
34 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (71%)
4 stars
2 (28%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Preetam Chatterjee.
6,833 reviews369 followers
March 29, 2022
বই: কোডনেম বারবারোসা
লেখক: শোভন চক্রবর্তী
প্রকাশক: বইচই পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২
ফরম্যাট: হার্ডবাউন্ড
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৪০০
মূল্য : ৪৬৬ /-

ইতিহাসের সঙ্গে ক্ষমতার একটা নিবিড় সর্ম্পক রয়েছে। ক্ষমতায় সংগ্রামে যারা বিজয়ী হয় তারাই রচনা করে ইতিহাস। পরাজিতরা ইতিহাস রচনা করে না। আর বিজয়ীরা তাদের মতো করে, তাদের অবস্থানে থেকে ইতিহাস রচনার চেষ্টা করে থাকে। পরাজিতরা বরাবরই হতভাগ্য।

দ্য ভিঞ্চি কোড উপন্যাসে লেখক ড্যান ব্রাউন বলছেন, “History is always written by the winners. When two cultures clash, the loser is obliterated, and the winner writes the history books-books which glorify their own cause and disparage the conquered foe. As Napoleon once said, 'What is history, but a fable agreed upon?”

পতন অভ্যুদয় বন্ধুর পন্থায় ধাবিত বিশ শতক। ১৯১৪ থেকে ১৯৪৫ সালের যুগটিকে এরিক হবসবাম বলছেন সর্বনাশের যুগ বা The Age of Catastrophe।

বিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে পৃথিবী কম মতদ্বৈধ, টালমাটাল, বিপর্যয় দেখেনি। তবু ঐতিহাসিকের সমষ্টি আজ অবধিও সহমত যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নামক ঘটনার তুলনা মেলা দুষ্কর। সভ্যতার মর্মান্তিকতম ঘটনাগুলির মধ্যে একক হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবেতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধই এর উৎস।

প্রথম মহাযুদ্ধের সূত্রপাত নিয়ে প্রভূত আলোচনা হয়েছে। জন মেনার্ড কেইনসের মত বুদ্ধিমান ব্যক্তিও ভেবেছিলেন যে ধনতন্ত্রের এত উন্নত স্তরে, অবাধ বাণিজ্য, স্বাধীন বা মুক্ত মুদ্রা বিনিময় ইত্যাদির ফলে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এরকম মহাযুদ্ধ ঘটা কার্যত অসম্ভব।

'The Oxford History of the First World War' নামক মহাগ্রন্থের সম্পাদক , ঐতিহাসিক হিউ স্ত্রাচান বলছেন - '....it was an unnecessary war fought in a manner that defied common sense, but on the other it was the war that shaped the world in which we still live. When the First World War began, historians, especially in Imperial Germany, identified a ‘long’ nineteenth century, starting with the French Revolution in 1789 and ending in 1914.'

কিন্তু তবুও যুদ্ধ হলো।

প্যারিস পীস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যে লয়েড জর্জ বলেছিলেন, ""We want to protect the future against a repetition of the horrors of this war...", তিনিই পরবর্তীকালে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে "We shall have to fight another war again in 25 years time."

সত্যি হলো সেই ভবিষ্যৎবাণী। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানির পোল্যান্ড অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

সমস্ত আকাশটা ডেকে উঠল যেন কেশর-ফোলা সিংহ;
তার লেজের ঝাপটে ডালপালা আলুথালু করে
হতাশ বনস্পতি ধুলায় পড়ল উবুড় হয়ে;
হাওয়ার মুখে ছুটল ভাঙা কুঁড়ের চাল
শিকল-ছেঁড়া কয়েদি-ডাকাতের মতো।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দায় কার ?

প্রায় সকলেই হিটলারের আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদকে দায়ী করেছেন। সাথে সাথেই প্রশ্ন ওঠে -- প্রথম মহাযুদ্ধ কি কোনও সমঝোতার মাধ্যমে রাখা যেত না?

বদলাতো কি পরিস্থিতি যদি বিসমার্ক বা তালেরাঁর মতো নেতা থাকতেন?

উইলসনের চৌদ্দ দফা সদিচ্ছা স্বত্ত্বেও ইঙ্গ-ফরাসি প্রতিহিংসার প্রতিক্রিয়ায় ফ্যাসিজম আর ফ্যাসিজমের আঁতুড়ঘড়েই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্ম।

ঐতিহাসিক এরিক হবসবাম তাঁর The Age of Extremes: The Short Twentieth Century, 1914–1991 মহাগ্রন্থে দায়ী করেছেন বিশ্বব্যাপী মান্দ্য ও তৎপ্রসূত বেকারিকে। আবার একাধারে হিটলারের সাথে স্তালিনকেও দায়ী করেছেন হবসবাম।

এ যে পি টেইলর তাঁর 'The Origins of the Second World War' বইয়ে মতপ্রকাশ করেছেন যে এ যুদ্ধ কারোরই মস্তিষ্কপ্রসূত নয়, সম্মিলিত ভুলের ফসল। জার্মানরা নিজেদের দায় এড়াতে হিটলার ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের ঘাড়ে চাপিয়েছেন সমস্ত দায়ভার।

শোভন চক্রবর্তীর লেখা এই বই, যুদ্ধের পাশাপাশি স্তালিন আর হিটলারের গল্প বলে। গোটা বইয়ের তেইশটি অধ্যায়ের গল্প অনেক সময়ই, যুদ্ধের পাশাপাশি স্তালিন-হিটলারের অন্তরঙ্গতম মনস্তত্ব ছুঁয়ে গেছে।

বাঙালী পাঠক, চিরাচরিত যে উপায়ে স্তালিন আর হিটলারকে পড়েছেন, জেনেছেন সেইভাবে নয়; বেশ কিছুটা অন্যভাবে।দুই ডিক্টেটর সম্পর্কেই অনেক চিত্তাকর্ষক তথ্য আছে। অনেকসময়ই, সেসব তথ্য বাংলাভাষায় একেবারে নতুন।

স্তালিনের শৈশব, তরুণ হিটলারের স্বপ্ন, প্রায় চল্লিশের কাছে পৌঁছে স্তালিনের টিনএজার প্রেমিকা – খুব সম্ভবত বাংলা ভাষায় এইবারই প্রথম। স্তালিনের উচ্চতা, নকল মদ্যপান; হিটলারের চা-পানের ইচ্ছা, কেক খাবার প্রতিযোগিতা – বাংলাভাষায় নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী চেষ্টা।

হিটলার ও স্তালিন -- ইতিহাসের বরপুত্র দুজনেই। প্রচুর মিল , অমিলও প্রভূত। অ্যালান বুলক তাঁর 'Hitler and Stalin: Parallel Lives' বইতে হিটলার ও স্তালিনের একটি ছয়-দফা তুল্যমূল্য করেছেন। চলুন, দেখা যাক পাঠক :

১) They were born ten years apart, Stalin on December 21, 1879, at Gori in Georgia, Hitler on April 20, 1889, at Braunau on the River Inn. This gap in age is a fact never to be forgotten in any comparison of the different stages of their careers; it grew even wider at the end, Hitler dying in 1945 at the age of fifty-six, Stalin outliving him to die, in 1953, at the age of seventy-three.

২) Fifteen-hundred miles separated Georgia, on the borderlands of Europe and Asia, between the Black Sea and the Caucasus, and Upper Austria, in the heart of Central Europe, between the Danube and the Alps. An even greater distance separated their historical and social development. Yet there were features in common in the backgrounds of the two men.

৩) Neither belonged to the traditional ruling class and it is difficult to imagine either coming to power in the world into which they were born.

৪) Their careers were possible only in the new world created by the breakdown of the old order in Europe, as a result of the First World War—of the defeat first of tsarist Russia, then of the Central Powers, and of the revolutions that followed.

৫) Yet their ideas and beliefs were formed and remained set in the mold of the world in which they grew up. Stalin’s Marxism, Hitler’s combination of Social Darwinism and racism were nineteenth-century systems that reached the peak of their influence in Europe at the turn of the century, in the last decade of the nineteenth, the first of the twentieth century.

৬) The same was true of their tastes in art, architecture, literature, and music, subjects on which they claimed to lay down the law and in which neither showed the least sympathy...

ইতিহাস সাক্ষী যে হিটলারকে অনুপাতে, কিঞ্চিৎ গণতান্ত্রিক সিঁড়ি বেয়েই উঠতে হয়েছে। সুতরাং বক্তৃতা এবং কলাম লেখা ছিল হিটলারের হাতিয়ার। স্তালিন সেই অর্থে ছিলেন 'স্ট্রীট ম্যানেজার'।

তাঁর বক্তৃতা, হিটলারের জ্বালাময়ী ন্যারেটিভের তুলনায় নেহাতই সাদামাঠা। কিন্ত সংগঠক বা ace-অর্গানাইজার হিসাবে স্তালিন অনেক বেশী সফল। নাজি পার্টীতে হিটলারের মূল কাজ ছিল স্রেফ বক্তৃতা দেওয়া ও স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা। পার্টি গঠনের কাজ করতেন গোয়েবলস। এবং নাজি পার্টিতে হিটলারের কর্তৃত্ব কখনোই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় নি।

ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ঐতিহাসিক মার্টিন হাউসডেন ভারী সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন দুই'হুজুরের এই চারিত্রিক দ্বিত্বের। তিনি লিখছেন , "“For all the similarities that can be identified between Hitler and Stalin, there were big differences. Unlike Hitler, Stalin did not preach racial and national intolerance openly. In public, he spoke of friendship and equality between peoples. Hitler’s use of pseudo-religious terminology found no comparison in Stalin’s speeches. Hitler enjoyed the loyalty of his subordinates; Stalin motivated support through arbitrary terror. Hitler never brought Germany to a position of autarky; in Russia Stalin began to achieve it.”

জার্মানি আর সোভিয়েত ইউনিয়নের যে চুক্তি, এবং পরবর্তী যে সিক্রেট প্রোটোকল, এবং স্তালিন-হিটলারের চুক্তির পরে, সিক্রেট প্রোটোকল মেনে, রাশিয়াতে বসবাসকারী কম্যুনিস্টদের প্রতি সহানুভূতিশীল, অভিবাসী জার্মান লোকেদেরকে স্তালিনের সিক্রেট পুলিশযে জার্মান গেস্টাপো’র হাতে তুলে দিত, এটাও বাংলাতে প্রায়-নতুন একটা তথ্য।

আমরা জানি যে লেনিনের ন্যাচারাল উত্তরাধিকারী ট্রটস্কিকে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়া ‘সুযোগ্য উত্তরসূরি’ স্তালিন, ফ্যাসিস্ট হিটলারের সঙ্গে এক মৈত্রী চুক্তি করেন, রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি বা মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি। ১৯৩৯ সালের ২৩ অগস্ট মস্কোতে স্তালিনের উপস্থিতিতে সে চুক্তির সঙ্গে একটি গোপন চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয় বাল্টিক দেশগুলি সম্পর্কে, সে দেশগুলির অজ্ঞাতসারে।

এই চুক্তির বলেই হিটলারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্তালিনের রাশিয়া, যৌথ আক্রমণে ভাগাভাগি করে নেয় পোল্যান্ড। আর বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভের আগেই স্তালিনের রাশিয়া গায়ের জোরে দখল করে নেয় লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া।

আর বেয়াড়া ফিন���্যান্ডকে শায়েস্তা করতে ১৯৩৯-এর ৩০ নভেম্বর জল ও বিমানপথে সোভিয়েট ‘মুক্তিফৌজ’ ঝাঁপিয়ে পড়ে, ছোট্ট সে দেশের সেনাবাহিনী সন্ধি করতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে তিন মাস লড়াই চালানোর পর।

যুদ্ধের গল্প – সুতরাং শোভনের বইয়ে বেশ কিছু পরিসংখ্যান আছে। তবে সেই পরিসংখ্যান একেবারের জন্যই অঙ্কের ক্লাস হয়ে যায়নি। সোভিয়েত ইউনিয়নের উপরে হামলার যে প্ল্যান–তার তাত্ত্বিক বা হোমওয়ার্কের আঙ্গিক, আর বাস্তব রূপায়ন নিয়ে সবিস্তারে বলা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে, ২১শে জুনের প্রায় প্রত্যেক মুহূর্তের রোজনামচা আর ২২শে জুনের প্রায় প্রতিটি ঘণ্টার বিবরন আছে। এবং তার আগের একটি অধ্যায়ে, ঐ একই জুন মাসের, যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় প্রতিদিনের খবরাখবর।

যুদ্ধের শুরুতে স্তালিনের জেনারেলদের অপ্রস্তুত অবস্থা বিশদে বলার পাশাপাশি, লাল সৈনিকদের ব্রেস্ট-লিটোভস্ক কেল্লার অসম সাহসী যুদ্ধের কথা লেখকের ভাষ্যে এসেছে।

ব্রেস্ট-লিটোভস্ক কেল্লার গল্প, পার্টি রাজনীতির চটি বইয়ের পরিসর ছাড়িয়ে, সম্ভবত এই প্রথম বাংলা ভাষায় পাঠক পড়তে চলেছেন।

পাশ্চাত্য সভ্যতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যথা , পঞ্চম শতকে রোমান সাম্রাজ্যের পতন, চতুর্দশ শতাব্দীর ইউরোপের ব্ল্যাক ডেথ ও বিশ শতকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপরে আধারিত ইয়ান পিয়ার্সের উপন্যাস 'The Dream of Scipio'-র এক চরিত্র বলছে, “When all this is over, people will try to blame the Germans alone, and the Germans will try to blame the Nazis alone, and the Nazis will try to blame Hitler alone. They will make him bear the sins of the world. But it's not true. You suspected what was happening, and so did I. It was already too late over a year ago...."

ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী তাঁর 'যুদ্ধ ও শান্তি' নামক প্রবন্ধে লিখছেন, 'সন্দেহের অবকাশ নেই যে নাৎসি-সোভিয়েত চুক্তি সম্পাদনে হিটলারের চেয়ে ঢের বেশি আগ্রহ দেখান স্তালিন ও মলোটভ। জার্মান জেনারেল হালডারের ডায়েরিতে পড়ি, হিটলার এ-বিষয়ে কোনও চাপ দেননি।

ঠিক চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (২৩শে অগস্ট, ১৯৩৯) রিবেনট্রপ গোপন প্রোটোকল সহ (যাতে পোল্যান্ড ও অন্যান্য সন্নিহিত দেশভাগের কথা ছিল) চুক্তি সই করেন।'

সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকে মূল পাঁচটি পর্বে বিভক্ত করা যায় :

১) প্রথম পর্ব : ১৯৩৯ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৪১ সালের ২১শে জুন পর্যন্ত - যুদ্ধারম্ভ এবং পশ্চিম ইউরপের দেশসমূহে জার্মান সৈন্যদের আক্রমণাভিযান ;

২) দ্বিতীয় পর্ব : ১৯৪১ সালের ২২শে জুন থেকে ১৯৪২ সালের ১৮ই নভেম্বর পর্যন্ত - সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর জার্মানির আক্রমণ , যুদ্ধের আয়তনবৃদ্ধি এবং হিটলারের ব্লিৎজক্রিগ;

৩) তৃতীয় পর্ব : ১৯৪২ সালের ১৯শে নভেম্বর থেকে ১৯৪৩ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত - যুদ্ধের মোড় বদল, অক্ষশক্তির আক্রমণাত্মক রণনীতির ব্যর্থতা ;

৪) চতুর্থ পর্ব : ১৯৪৪ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ১৯৪৫ সালের ৯ই মে পর্যন্ত - ইউরোপে অক্ষশক্তির পরাভব, দ্বিতীয় রণাঙ্গন বা সেকেন্ড ফ্রন্টের উদ্ঘাটন , নাৎসি দখল থেকে ইউরোপীয় দেশসমূহের মুক্তি , জার্মানির পতন ও আত্মসমর্পণ ;

৫) পঞ্চম পর্ব : ১৯৪৫ সালের ৯ই মে থেকে ২রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত - জাপানের পরাজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান।

শোভন চক্রবর্তীর এই বইয়ের আখ্যান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দশদিনের মাথায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রায় চার বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলা ইস্টার্নফ্রন্টের যুদ্ধ যে এখনই থামবার নয়, শেষ অধ্যায়ে সেই হদিশ দেওয়া আছে।

এই বইয়ে নির্দিষ্ট উদাহরণের ভিত্তিতে, প্রচুর স্বলজ্ঞাত ও নতুন লেখাপত্র ও দলিলাদির সাহায্যে , তৎকালীন রাজনীতিজ্ঞ ও সেনাপতিদের স্মৃতিকথার সহায়তায় বর্ণিত হয়েছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রথম দশদিনের ঘটনাবলীর কাহিনী। শোভন তাঁর বইয়ে নির্দিষ্ট বিশেষ কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও উপনীত হয়েছেন।

সর্বমোট পাঁচ খন্ডে প্রকাশিতব্য এই বইয়ের পরবর্তী খন্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান রইলাম।

উপসংহারে আরেকবার ফিরতে হবে আলোচনার সূচিমুখে। মহাভারতে।

সংবেদী পাঠক লক্ষ্য করলে, মহাভারত ও বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের ইতিহাসের কিছু অদ্ভুত সমাপতন পাবেন।

হিটলারের জার্মানী প্রথমে স্তালিনের রাশিয়ার সাথে জোটবদ্ধ হয়ে পোল্যাণ্ড আক্রমণ করে। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জার্মানিকে পরাস্ত করে। এতে বিশ্বে দুটো মেরু তৈরি হয় - উদারনৈতিক প্রজাতন্ত্র ও মুক্ত-বাজার অর্থনীতির প্রতিভূ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া।

বিশ্বের বহু দেশ প্রথম বা দ্বিতীয় - কোন একটি লবিতে যোগ দান করে। ভারত কোন দিকেই যায়নি, তাই জোট নিরপেক্ষ দেশ । নানা বিষয়ে এই দুই প্রধানে ধুন্ধুমার শুরু হয়, যেমন, কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস ইত্যাদি। পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ, যেমন লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া ইত্যাদিতে রাশিয়া নিজের 'পাপেট গভর্ণমেণ্ট' রেখেছিল। পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার এই সব দেশের বিদ্রোহী ও রাশিয়ার গণতন্ত্রপ্রেমীদের আন্দোলনের ফলে সোভিয়েত ভগ্নদশা প্রাপ্ত হয় ও কালের প্রবাহে লয়প্রাপ্ত হয়। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এই পূর্ব ইউরোপের দেশে তথা সমগ্র পৃথিবীতে একক শক্তি হিসেবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।

একইভাবে, কংসহত্যার পর শ্বশুরমশাই মগধরাজ জরাসন্ধ যখন যাদবদের মথুরা ঘেরাও করে তখন তাঁর বাহিনীর মধ্যে ছিল হস্তিনাপুরের কৌরবরাও। ভারতের আঠারোটি যাদবগোষ্ঠী একটি সংঘ বানিয়ে থাকতেন, যাকে যাদব যুক্তসংঘ বলা চলে। যেমন, বৃষ্ণি গোষ্ঠীতে কৃষ্ণ, ভোজ গোষ্ঠীতে কৃতবর্মা ইত্যাদি। এই সংঘের হেড কোয়ার্টার ছিল মথুরাতে - সংঘ্মুখ্য ছিলেন কৃষ্ণের দাদু উগ্রসেন।

কৌরবরা পাঞ্চালকে দ্বিখণ্ডিত করে উত্তর পাঞ্চালের রাজধানী অহিচ্ছত্রে নিজেদের পাপেট গভর্নমেন্ট রেখেছিল; দক্ষিণ পাঞ্চালের রাজধানী কাম্পিল্য থেকে রাজত্ব করতেন দ্রুপদ। যুক্তসংঘের নায়ক কৃষ্ণ দুই কৌরব ভীম আর অর্জুনকে নিয়ে মগধরাজ জরাসন্ধকে বধ করে। এতে দুটো মেরু তৈরি হয় - যুক্তসংঘীয় যাদব ও ইম্পিরিয়াল কুরু।

শাম্বকে বন্দী করা নিয়ে যাদব ও কুরুদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। অবশেষে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যুক্তসংঘীয় যাদবরা পাঞ্চাল ও পাণ্ডবভ্রাতাদের নিয়ে কুরুদেশকে পরাস্ত করে। পাঞ্চাল কুরুদের কবল থেকে মুক্তি পায়। কুরুদেশ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পাণ্ডবরা পায় হস্তিনাপুর ও কৃষ্ণের প্রপৌত্র যাদব বজ্র পায় ইন্দ্রপ্রস্থ।

অদ্ভুত সমাপতন।

অর্জুন তাঁর পথ নির্দেশক কৃষ্ণকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'সত্য' ও 'অহিংসার' মহত্ব যদি এক হয় তাহলে শ্রেষ্ঠ কে?

প্রত্যুত্তরে বাসুদেব বলেন: অহিংসা। সত্যের স্থান এর পরে তিনি যোগ করেন, 'বরং মিথ্যা বাক্যও প্রয়োগ করা যেতে পারে, কিন্তু প্রাণী হিংসা নৈব নৈব চ'। অপরপক্ষে শ্রীকৃষ্ণের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল একত্বের, ধর্মরাজ্য স্থাপনের। ধর্মরাজ্য স্থাপনের জন্য যে যুদ্ধ তা-ই ধর্মযুদ্ধ। অহিংসা পরমো ধর্ম্ম ধর্ম্ম হিংসা তথৈব চ। অনর্থক হিংসা করা নিষ্প্রয়োজন কিন্তু ধর্ম রক্ষার্থে হিংসাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

ধর্মের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে অহিংসা নয়, হিংসাই কর্তর্ব্য। ভারতযুদ্ধের প্রধান চরিত্র বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ স্বধর্মচ্যূত হননি বলেই বরণীয়। ব্যর্থ হবেন জেনেও কুরু রাজসভায় শেষ চেষ্টা করেছিলেন তিনি শান্তির জন্য।

মহাভারতের সর্বত্র ক্ষাত্রতেজের দাপট, আখ্যানের বহমানতা জুড়ে রক্তের বন্যা। কিন্তু তবুও যখন শান্তিপর্বে দেখি ভয়াল সংগ্রামের শেষে, প্রবল ঝঞ্ঝা ও রক্তক্ষরণের পর শান্ত প্রকৃতির মত পঞ্চপান্ডব রাজ্যপাটে বসেছে , সুখী জনসাধারণ , তখনই সার্থক হয় মনুষ্যজন্ম।

দেখি মানবাধিকারের জয়জয়কার।

শান্তিই শেষকথা , যুদ্ধ অথবা অঘোষিত ঠাণ্ডাযুদ্ধ নয়।

অলমিতি।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,475 reviews559 followers
March 25, 2025
ইংরেজি ও অপরাপর ভাষায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ নিয়ে বিস্তর লেখালিখি হয়েছে এবং আজতক চলছে। অথচ বাংলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বইয়ের বড্ড অভাব। বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য কীর্তি 'দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস'কে বাদ দিলে বাংলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে পড়ার মতো লেখা অত্যন্ত কম। এখানেই শোভন চক্রবর্তীর সাফল্য। তিনি পড়াশোনা করে লেখার চেষ্টা করেছেন দুনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো সামরিক অভিযান 'অপারেশন বারবারোসা' শুরুর আগের কাহিনি ও অভিযানের পহেলা দশ দিন নিয়ে।

পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধের দুই প্রধান ব্যক্তি স্ট্যালিন ও হিটলার। তাদের বেড়ে ওঠা ও কর্তৃত্ববাদী মনকে বোঝার ও পাঠককে বোঝানোর প্রচেষ্টা করেছেন শোভন চক্রবর্তী। যা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। বিশেষ করে, জার্মানির সঙ্গে অনাক্রমণ চুক্তির পর স্ট্যালিন এক ধরনের আত্মতৃপ্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল, একসময় হিটলার মস্কো আক্রমণ করবেই। তবে তা এই চুক্তির মাধ্যমে অন্তত ১৯৪২ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া গেছে। ফলে তিনি তার লাল ফৌজকে প্রস্তুত করার কিছুটা সময় পেলেন। এই চিন্তা থেকেই হিটলারের সোভিয়েট ইউনিয়নে হামলার বিষয়ে অনেকগুলো গোয়েন্দা তথ্য পেলেও তিনি তাতে কান দেননি। বরং তথ্যদাতাদের বকাঝকা করেছেন। অন্যদিকে, স্বৈরাচার স্ট্যালিন সেনাবাহিনীর ওপরের কর্মকর্তাদের অনেককেই সন্দেহের বশে খুন করেছিলেন। গণহারে কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করে শ্রম শিবিরে হিজরত করতে পাঠিয়েছিলেন। তাই হিটলারের মনে হয়েছিল, দুর্বল লাল ফৌজকে নিকেশ করার এই হলো মোক্ষম সুযোগ।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জার্মানি আচমকা আক্রমণ তথা ব্লিৎসক্রিগের মাধ্যমে দেশের পর দেশ ফতে করে নেয়। তাদের এই যুদ্ধজয়ের অন্যতম কারিগর প্যাঞ্জার নামে ট্যাংক। এই ট্যাংকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য দ্রুত গতি ও প্রত্যেকটি ট্যাংকের সঙ্গে থাকা রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা। ফলে প্যাঞ্জার ট্যাংকগুলো পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতে সহজে ও সুপরিকল্পিতভাবে শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে। আর, সোভিয়েট ইউনিয়ন তখনো তাদের টি-৩৪ ট্যাংক মাঠে নামাতে পারেনি। তাদের পুরোনো ট্যাংকগুলোতে কোনো রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। একেবারেই আ্যনালগ পদ্ধতির ট্যাংকগুলো কোনোক্রমেই জার্মান প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। তাই প্রথমদিকে জার্মানির হাতে মার খেয়ে ভূখণ্ডের পর ভূখণ্ড হারিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

যুদ্ধের প্রথমে বার্লিনের হাতে মস্কোর নাস্তানাবুদ হওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্যালিন স্বয়ং। তিনিই ছিলেন লাল ফৌজের মালিক ও একমাত্র আদেশদাতা। তার নির্দেশ ছিল না, জার্মানি ফৌজ হামলা করলে করণীয় সম্পর্কে। কারণ তিনি বিশ্বাসই করতেন পারছিলেন না যে, হিটলার রাশিয়ার হামলা করার হিম্মত দেখাবে।


বাংলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মতো কাজ করা প্রায় অসম্ভব। তবে শোভন চক্রবর্তী ভালো লিখেছেন। পুঁথি প্রকাশনীর চার শ পাতার বইটির প্রথম দুই শ পাতা একবসায় পড়ার মতো। পরের অংশ কিছুটা গতি হারিয়েছে। বর্ণনাগুলো একঘেয়ে মনে হচ্ছিল। তা-ও সবমিলিয়ে, 'অপারেশন বারবারোসা' পড়ার মতো বই।
3 reviews
March 29, 2023
I think this book is actually a gem because I don't think that there has been such an informative non-fiction book on World War 2 written in Bengali language.
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.