নিরিবিলি একটি গ্রামের স্কুল শিক্ষক জয়নাল সাহেব। অংকের হিসাব মেলাতে গিয়ে সংসারের হিসাবই এখনো শুরু করা হয়ে উঠেনি তাঁর। স্কুল শিক্ষকতার শেষ দিনে বিদায় সংবর্ধনায়, স্কুল থেকে তাঁকে দেয়া হয়েছে কয়েক ভরি ওজনের একটি রূপার দেবী মূর্তি।
মূর্তিটা আসলেই রূপার কিনা! এ ব্যাপারে অবশ্য নিঃসংশয় হওয়া যাচ্ছে না। তবে দেবী মূর্তিটা বেশ আকর্ষণীয়। অনেক প্রাচীন মূর্তিটা আসলে কিসের দেবী, কেউ জানেনা।
প্রধান শিক্ষক দীপংকর বাবু, উপহারটি সস্তায় এমন এক জায়গা থেকে কিনেছেন, যেটা কাউকে বলাও যাচ্ছে না। তাছাড়া মুসলিম শিক্ষককে কেন দেবী মূর্তি উপহার দেয়া হবে, অনেকের এই প্রশ্নে তিনি বিব্রত। কেউ উপহারের শৈল্পিক দিকটা দেখছে না। আফসোস।
তবে উপহারটা যাকে দেয়া হবে, সেই জয়নাল সাহেব তাঁর পক্ষ নিলেন। উপহার তো উপহারই। এটা তো আর পূজা দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। অনেক বাড়িতেই বাচ্চারা পুতুল নিয়ে খেলে, বসার ঘরে সাজিয়ে রাখে। তিনিও না হয় শো পিস হিসাবে সাজিয়েই রাখবেন। এমন অজস্র এন্টিক শো পিস হরহামেশা মার্কেটেই বিক্রি হয়। স্কুল কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান সাহেবের প্রাচীন জিনিসপত্রের বিষয়ে বেশ পড়াশোনা আছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জয়নাল সাহেবকে ফিসফিসিয়ে বলেন, দেখে মনে হচ্ছে এটা সাধারণ কোন দেবী মূর্তি না। হয়তো কোন তান্ত্রিক মতের দেবী মূর্তি। এ জিনিস ঘরে না নেওয়াই ভালো, তবে নিলে সাবধানে থাকবেন।
তবুও এই দেবী মূর্তি নিয়ে জয়নাল সাহেব ঘরে আসলেন।
আর সেদিন থেকেই ঘটতে লাগলো একের পর এক বিষ্ময়কর ঘটনা। তবে কি এই নাম না জানা দেবী মূর্তি, একটু একটু করে তার সুরভিত মায়ার জাল বিছিয়ে দিচ্ছে? নাকি অপেক্ষায় আছে আরো ভয়ংকর কিছুর?
সেই রহস্যময় 'মায়া'র ভুবনে পাঠককে স্বাগতম। যে ভুবনে একবার প্রবেশ করলে ফিরে আসার পথ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
মায়া তৌফিক মিথুন পরিবার পাবলিকেশন্স প্রকাশকালঃ ঈদুল আযহা' ২০২০ ক্যাটাগরি: উপন্যাস সেক্টর: সমসাময়িক, রহস্য, ভালোবাসা।