ফয়জুল ইসলামের জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৬৩, ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়েছেন পাবনা জিলা স্কুল ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পরে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নক্ষত্রের ঘোড়া’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। ফয়জুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তাঁর ‘খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক’ বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার লাভ করেছে।
বইটা পড়ে বিচিত্র সব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আমার।প্রথম গল্প "খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক" কুয়াঝরানিদের নিয়ে লেখা।গল্পের একদম শেষে এসে জাদুবাস্তবতার ছোঁয়া রেখেছেন লেখক। ভালো লেগেছে গল্পটা। দ্বিতীয় গল্প "তাহের আলী,ইন্দুর এবং সোনালি।" নাম দেখেই শহিদুল জহিরের কথা মনে পড়ে যাবে।মনে পড়বে পুরো গল্পতেই।জহিরীয় এবসার্ডিটি, রসবোধ সবই উপস্থিত গল্পে।গল্পে জহিরীয় যে বস্তুটা নেই তা হচ্ছে পরিমিতিবোধ। গল্পটি যেখানে থামলে সর্বাঙ্গসুন্দর হোতো অযথা তার চেয়ে সামনে এগিয়েছে এবং পুরো গল্পের আমেজ অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে।তারপরও দারুণ একটা গল্প বলা যায় এটাকে। এই পরিমিতিবোধের অভাব বোধ করলাম "বাবা " গল্পেও।এতো চমৎকারভাবে লেখা একটা গল্পের পরিণতি খুব সরল,খুব একপেশে। শেষ গল্প "গগনশিরিষ" মুগ্ধ করেছে।তপন শহিদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে। কিন্তু সে তার বন্ধু সামাদ আর প্রেমিকা রুনুর স্মৃতিতে বারবার ফিরে আসে।এরা স্মৃতিতে অম্লান করে রাখে তপনকে। হোক সেটা ১৯৭৮,১৯৯৯,২০০৬ বা ২০১৩।এদের স্মৃতিঘরে আমরাও সঙ্গী হয়ে তপনের ভীরুতা, প্রেম, যুদ্ধ আর আত্মত্যাগের সাক্ষী হই।রুনুর মুখের কিছু সংলাপ খুব নাটকীয় হলেও তার আর সামাদের বেদনাবোধ পাঠককেও আক্রান্ত করে।প্রতিটি গল্পই সুখপাঠ্য। বই পাঠের অভিজ্ঞতা মিশ্র হলেও লেখক ফয়জুল ইসলামের প্রতি আগ্রহ তৈরি হোলো।তার অন্য লেখাগুলো পড়তে হবে।
চারটি গল্প চার ধরনের তবে সবগুলোই ভালো লাগার মতো। তবে লেখকের লেখনী আরেকটু আঁটসাঁট হওয়া দরকার।সুন্দর গল্প গুলোকে সাদাত হোসাইন স্টাইলে টেনে লম্বা করবার ধাত থেকে লেখকে বেরিয়ে আসতে হবে।
১.খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক: প্লট বেশ ইউনিক।কুয়াঝরানি হাবিব আর তার সঙ্গীর আশা,হতাশা ও প্রত্যাশার গল্প।বিগত হওয়া একটি পেশা এবং এর সাথে জড়িত ভালো একটা জীবন পাবার স্বপ্নে বিভোর দুজনের দুঃসহ জীবন পার করবার বৃত্তান্ত। গল্পের শেষ অংশের জাদুবাস্তবতা দারুণ ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করবে পাঠকের মনে।
২. আবু তাহের,ইন্দুর এবং সোনালি: শহীদ জহির স্টাইলের গল্প সুতরাং মজার গল্প হতে বাধ্য।প্রেমিকার ভাইকে তরমুজ খাইয়ে মারবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা সেইসাথে সোনালি কে পাবার আকুলতা বেশ হিউমারাস।
৩.বাবা: ছেলে নিখোঁজ হবার পর একজন পিতার দীর্ঘ অপেক্ষায় ভেঙে পড়বার গল্প।বাবারা খুব শক্ত মানুষ হোন, একমাত্র সন্তানের প্রতি ই তাদের যত বিহ্বল দূর্বলতা।
৪. গগনশিরিষ: মৃত বন্ধুকে স্মৃতিতে জিইয়ে রাখার প্রয়াস আমাকে ভীষন স্পর্শ করেছে।বন্ধুর প্রেমিকা এবং একটি বৃক্ষের সাদৃশ্যকরণ, নানান টাইমলাইনে নানান স্মৃতির উজ্জীবন ব্যক্তিগতভাবে বেশ রিলেট করার মতো। তবে এখানে ব্যাকড্রপ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের কথাও উঠে এসেছে।
চার গল্পের এক সংকলন। তবে, স্থান অল্প হলেও গল্পকার নিজের শক্তি বেশ ভালো করেই দেখিয়েছেন পুরো বই জুড়ে।
গল্পকে কোন জায়গায় আটকে দিতে হবে সেই বিষয়ে লেখক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সাথে অমিল থাকলেও কিংবা দ্বিতীয় গল্পজুড়ে শহীদুল জহিরকে বেশ স্পষ্ট করে লক্ষ্য করা গেলেও ফয়জুল ইসলাম যে ভালো গল্প লিখেন তা মেনে নিতে দ্বিধা করা যায় না একবারের জন্য হলেও।
ভালো লেগেছে। প্রতিটি গল্পের subject ভালো । তবে পড়ার সময় good আর excellent এর difference টা বার বার মনে পড়ছিল। শহীদুল জহিরের প্রভাব প্রতি লাইনে প্রছন্ন। এতটা প্রভাব কি ভাল? তবে লেখকের সব বই পড়ব।