টানটান উত্তেজনাময় চারটি নভেলা নিয়ে সংকলিত এই বই। প্রতিটি গল্পই রহস্য রোমাঞ্চের ঠাস বুনোটে ভরপুর। এখানে কোনও শখের গোয়েন্দা নেই, যাঁরা আছেন তাঁরা প্রত্যেকেই পোড়খাওয়া ইনভেস্টিগেটিং পুলিশ অফিসার। ক্লু মিলিয়ে অংক কষে মস্তিষ্কের ধূসর কোশকে উত্তেজিত করে কেস সল্ভ করার পরিবর্তে মিডিয়া, ওপরমহল এবং রাজনৈতিক-বিবিধ চাপ সামলে বাস্তবের ঘাম-গন্ধ মেখে এ-বইয়ের কাহিনিগুলিতে এগিয়েছে তদন্ত। প্রথাগত 'হু ডান ইট' ঘরানার বাইরে সম্পূর্ণ অন্যরকম এই রহস্য সিরিজ।
বাঙালির রহস্য কাহিনী দাদা-কাকা-মামা জাতীয় সিভিলিয়ান গোয়েন্দাদের পরিধির বাইরে বেরিয়ে একটা আপাতঅর্থে পরীক্ষনমূলক স্টেজে বিস্তার করছে, এটা আনন্দের বিষয়। প্রাপ্তমনস্ক পোলিস-প্রসিডিওরাল ঘরানাটি বরাবরই এ বাংলায় ব্রাত্য। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সেই শূন্যস্থান পূরণ করবার চেষ্টা করলেও, শবরের গপ্পোগুলো কিছু সংলাপ-ভিত্তিক দুর্বল গোয়েন্দাকাহিনী হিসেবেই থেকে গেছে। প্রসঙ্গত মনে পড়ে সুভাষ ধরের লেখা পুলিশ কাহিনীগুলোর কথাও। তবে প্রকৃত অর্থে, পুলিশি তদন্তের প্রতীয়মান জটিলতার খোঁজে হাতে তুলে নিতে হয় দুই বাংলার এক-ঝাঁক নতুন প্রচেষ্টাদের। অনিরুদ্ধ সাউ-এর 'ফাঁদ' ঠিক এই পৃথিবীর নবীন সদস্যদের একটি।
'গোপা গোয়েন্দি' খ্যাত লেখকের নাম আগে শুনে থাকলেও, তার লেখা পড়া হয়ে ওঠেনি। সেই নিরিখে কৃষ্ণেন্দু মন্ডল অলংকৃত প্রচ্ছদটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। তবে চোখে লাগে, তমোজিৎ দেবের অভ্যন্তরীণ অলংকরণ। যা শিশুতোষ ও অ্যামেচারিশ। লেখকের প্রচেষ্টা ও পাঠ-অভিজ্ঞতা দুটোই সমৃদ্ধ করতে অসফল। নিটপিকিং করছি না। এটুকু ত্রুটি স্বচ্ছন্দে অদেখা করাই যায়, যদি মূল গল্প ভালো হয়। এখানেই লেখকের আসল পরীক্ষা।
বইতে পাচ্ছেন চারটে ছোট-বড় উপন্যাসিকা। চারটের কেন্দ্রেই বহরমপুর থানার এ.এস.আই, জিশান আলী। তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সর্বোপরি ক্রাইম সলভিংয়ের আশ্চর্য ন্যাক, অচিরেই তাকে ডিপার্টমেন্ট এবং বন্ধু মহলে পরিচিতি দেয় 'সলিউশন আলী' নামে।!
সিরিজের প্রথম গল্প 'ফাঁদ'। মুর্শিদাবাদের পটভূমিকায় কিছু তরুণের মৃত্যু। আপাতদৃষ্টিতে একটি সোজাসাপ্টা সিরিয়াল কিলিংয়ের কেস। কেসের দায়িত্ব বর্তায় সুপার-কপ, পৃথ্বীরাজের ওপর। ব্যক্তিত্ববান ও তুখোড় এই সিনিয়র অফিসারটিকে অ্যাসিস্ট করতে গিয়ে জিশান আলী নিমজ্জিত হয় পুলিশি বিউরোক্রাসির রাজনীতির গভীরে। কথায় বলে, never meet your heroes। নৈতিকতার গোলকধাঁধায় আটকে পড়ে, আলী যেন পুনরায় উপলব্ধ করে উদ্ভৃতিটির কঠিন সার্থকতা।
লেখক শুরুতেই একটা ভীষণ প্রতিশ্রুতিমান কাঠামো ছকলেও, গল্পটি দ্রুত নিমজ্জিত হয় অগোছালো বিন্যাস ও এক্সপোজিশনের পাঁকে। যা নিতান্তই হতাশ করে। একই কথা সমানতালে প্রযোজ্য বইয়ের পরবর্তী কাহিনীর খাতেও। 'দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে?' নামক এই গল্পটি স্রেফ দুর্বলই নয়, বিরক্তিকরও বটে। হাস্যকর ট্রিটমেন্টে গল্পটি তথাকথিত 'নুয়া' ঘরানার নামে একটি প্রহসন যেন। লেখাটির অন্তর্ভুক্তি, বইটির মান এক লহমায় অনেকটা নামিয়ে আনে। একেবারেই মনে রোচে না, বলাই বাহুল্য।
তবে, এসব পেরিয়ে পাবেন বইয়ের তৃতীয় গল্প, 'দাগ'। বড় কলেবরের, জমাটি রহস্য। বিচ্ছিন্ন ঘটনার, জটিল সমাবেশ। বহরমপুর থানায় এক জনৈক তরুণীর লেখানো মিসিং রিভলবারের রিপোর্ট। চতুর্বেদি পরিবারের মেয়ে বিপাশার হাতে তার নিজের স্বামীর মৃত্যু। পুরনো কিছু সূত্র ধরে, পুনরুদ্দীপ্ত এক সম্পর্ক। ঘটনার জটিলতায়, জিশান আলীর 'সলিউশন আলী' হিসেবে যথাযথ আত্মপ্রকাশ। গল্পের গতিপ্রকৃতি আপনাকে হিগাশিনোর '...সাসপেক্ট এক্স' এর কথা মনে করালেও করাতে পারে।
তবে দুঃখের বিষয়, এই গল্পের শেষলগ্নেও একগুচ্ছ অতিকথনে মেতেছেন লেখক। লেখনীর বুনোট কিঞ্চিৎ অগোছালো ও নড়বড়ে। ত্বরান্বিত গদ্যগুণে, গল্পের অন্তরে সম্মিলিত হওয়া দায়। তবুও, পাঠক হিসেবে আপনি পাবেন এক ধূসর পৃথিবীর চাবিকাঠি। যেখানে মিলিয়ে যায়, ঠিক-ভুল ও সাদা-কালো মাঝের সূক্ষ বিভাজন! মিক্সড ব্যাগ, যাকে বলে।
শেষ পাতে, বইয়ের অন্তিম ও সর্ববৃহৎ গল্প, 'দাগ - ২', পূর্বকথিত গল্পের দ্বিতীয় ভাগ। প্রায় একশো পৃষ্ঠার এই গল্পটি, আমার কাছে সিরিজের শ্রেষ্ঠ কাহিনী। আগের প্রতিটি গল্পের থেকে পরিণত এবং অনেকাংশে পরিতৃপ্তিকর। লেখকের সচেতন প্রচেষ্টায়, দেখা মেলে এক ঝাঁক নবীন ও পুরাতন মুখের। আপাতঅর্থে ভদ্রসমাজের সম্মানীয় সদস্য হলেও, অবয়বের আড়ালে তাদের অন্ধকারছন্ন রূপ ভীতি উদ্রেককারী। তাদের আচরন কখনো লোভের বশবর্তী, কখনো বা প্রতিশোধস্পৃহায় মত্ত। নীতি-দুর্নীতি ও আদর্শের টানাপোড়নে, মাথাচাড়া দেয় মোরালিটির অবক্ষয়। সমাজের স্বযত্নে লালিত ন্যায়, নিগৃহীত হয় ন্যায়পালকের হাতেই। কেবলমাত্র এই সলিড গল্পটির খাতিরেই, বইটি কিনে বা পড়ে দেখা যায়।
তাই বলবো, গল্পগুলোর সার্বিক দোষ-ত্রুটির বাইরে, দিনের শেষে চরিত্র হিসেবে 'সলিউশন আলী' সম্ভাবনায় সিক্ত। তার অবস্থান তথাকথিত নায়কখচিত প্যারামিটারের বাইরে। এবং এটাই তার ইউ.এস.পি। সে ভিন্ন, তবে মানবিক। এবং ভীষণ মাত্রায় ধূসর। অবশ্য, এরই সাথে যদি গল্পের সামগ্রিক মান লেখক কৃপায় বর্ধিত হয়, তবেই পাঠকের লাভ। নচেৎ নিকট ভবিষ্যতে এহেন প্রতিশ্রুতিমান সিরিজটির হাল খোদ সলিউশন নিজেও ধরতে পারবে কি না সন্দেহ।
রহস্য গল্পের বহু ধারা ও উপধারা আছে। অধিকাংশ পাঠকের মতো লেখকেরাও প্রায়ই তার 'হু-ডান-ইট' ধারাটিতে সবটুকু মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করেন। মনস্তত্ত্ব নিয়ে আগ্রহী লেখকেরা 'হোয়াই-ডান-ইট'-টিকেও সযত্নে লালন করে থাকেন। তবে, অন্তত এপার বাংলায়, খুব কম লেখকই অনুসন্ধানের পদ্ধতিগত খুঁটিনাটিতে মনোযোগ দেন। ফলে 'হাউ-ডান-ইট' ব্যাপারটির সেভাবে চর্চা হয় না। সৌভাগ্যক্রমে ইদানীং বাংলায় পোলিস প্রসিডিওরালের ধারাটি রাজর্ষি দাস ভৌমিক আর পিয়া সরকারের মাধ্যমে গভীরতা পাচ্ছে। সেই ধারাতেই আমরা পেলাম এই বইয়ের চারটি লেখা। অনিরুদ্ধ সাউ তাঁর 'গোপা গোয়েন্দি' সিরিজের মতো কোনো সিভিলিয়ান রহস্যভেদীকে আনেননি এখানে। তার বদলে এই বইয়ের চারটি লেখায় রহস্যভেদী মাত্রেই পুলিশ— যাঁদের কাজ করতে হয়েছে বাস্তবের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই। কিন্তু তাঁদের সেই তদন্তেও 'হু' বা 'হোয়াই' ডান-ইটের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে 'হাউ'— অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার পদ্ধতি। এই বইয়ের প্রথম লেখা 'ফাঁদ'। এটি সাম্প্রতিক কালের মধ্যে আমার পড়া সবচেয়ে স্মরণীয় প্রাপ্তমনস্ক রহস্য ও অনুসন্ধানের আখ্যান। সবচেয়ে বড়ো কথা, এই লেখার কেন্দ্রে ও পরিধিতে আছেন একঝাঁক ধূসর চরিত্র— যাঁদের প্রথাগত ভালো-মন্দ, হিরো-ভিলেন বিভাজনে আদৌ ফেলা যায় না। এ.এস.আই জিশান আলি'র সঙ্গে আমাদের আলাপ হয় এই লেখার মাধ্যমেই। দ্বিতীয় লেখা 'দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে?'-র নাম শুনে সিরিও-কমিক কিছু বলে মনে হলেও এ এক বিশুদ্ধ নোয়া (noir) কাহিনি। আপাত অলৌকিক কিছু অভিজ্ঞতা আর অনেকখানি মিথ্যের মধ্য দিয়ে এই গল্প আমাদের বলে এক পার্ফেক্ট ক্রাইমের কথা— যার অনুসন্ধান করতে হয় নিয়ম-ভাঙা পদ্ধতিতেই। তৃতীয় লেখা 'দাগ'-ই আমাদের সামনে জিশান আলি-কে "সলিউশন" হিসেবে পেশ করে। তাতেই আমরা এক সাংঘাতিক ধাঁধার মুখোমুখি হই। কোনো তুলনা না করেই বলি, অপরাধ ও শাস্তির প্রথাগত বিভাজন ঘুচিয়ে দেওয়া এই গল্প বুঝিয়ে দেয়, বাংলাতেও 'দ্য ডিভোশন অফ সাসপেক্ট এক্স'-এর মতো বুদ্ধিদীপ্ত লেখা হওয়া সম্ভব। চতুর্থ লেখা 'দাগ-২' আমি এই বইয়েই প্রথমবার পড়লাম। জিশান আলি'র যাবতীয় অনুসন্ধান তথা পরিকল্পনার সারাৎসার হিসেবে এই লেখাটিকে চিহ্নিত করা চলে। আগের লেখাগুলোর চরিত্রদের ফিরিয়ে এনে, ভালো-মন্দ সব মিলিয়ে সবক'টি চরিত্রকেই নিজস্ব ক্লোজার দিতে চেয়েছে এই লেখা। কিন্তু পেরেছি কি? বইটি পড়ে আমার মনে হল, অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলায় ক্রাইম থ্রিলারের কাঠামোটি ভাঙতে চেয়েছেন লেখক। তিনি আগে একঝাঁক ধূসর অথচ ভীষণভাবে বাস্তবানুগ চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। তারপর তাদের দিয়ে পদ্ধতির দিক দিয়ে সঠিক অথচ অনৈতিক কাজ করিয়েছেন। এই লেখারা শেষ অবধি আমাদের সামনে প্রশ্ন তোলে, মস্তিষ্কের হার বা জিতই কি শেষ কথা? সেই জয়ের জন্য, বা অন্যকে জেতানোর জন্য কতদূর যাওয়া যায়? হু-হাউ-হোয়াই— সব ছাপিয়ে এরা এক কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথে আমাদের নামিয়ে দেয়, যেখানে "সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই।" লেখকের ধারালো এবং বুদ্ধিদীপ্ত লেখনী ইতিমধ্যেই পাঠকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। সেই নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের প্রচ্ছদ ও তমোজিৎ দেবের অলংকরণ বইটির যথাযথ পরিবেশনে সহায়ক হয়েছে। বইটির ছাপাও শুদ্ধ। 'দাগ-২'-এর একেবারে শেষটা কিছু পুনরুক্তিমূলক ব্যবহার ও অসংলগ্ন অনুচ্ছেদের বিন্যাসে সামান্য এলোমেলো হয়ে গেছে। তাতে গল্পের পাঞ্চ কিছুটা হলেও কমে গেছে। পরের সংস্করণ প্রকাশের আগে শেষটা আরেকবার গুছিয়ে নিলে লেখক উপকৃত হবেন। সব মিলিয়ে, আলো আর কালো মেশানো এই চারটি লেখা আমার চমৎকার লাগল। রহস্যপ্রেমী পাঠকেরা এদের আপন করে নেবেন এবং তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় জিশান আলি অচিরেই ফিরে আসবেন— এই আশা রাখি।
এই প্রথম লেখকের কোন বই পড়লাম। বলতে দ্বিধা নেই লেখকের লেখার মুন্সিয়ানা যথেষ্ট পরিণত। একবারে আগাগোড়া টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল প্রতিটি গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। পুলিশ প্রসিডিওর এ তদন্তের ছবি দেখা গেছে প্রতিটি গল্পের প্লটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটনা গুলো অস্বাভাবিক মনে হলেও লেখকের কলমের গুণে উৎরে গেছে।
এই বইটি অনিরূদ্ধবাবুর লেখা আমার পড়া তৃতীয় বই। আগের বইগুলোর মতো এখানেও তদন্তের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে লেখক কোনো ফাঁক রাখেননি। তবে এক্ষেত্রে মূল চরিত্রের পরিবর্তন রয়েছে—আগের গল্পগুলিতে যেখানে গোপা গোয়েন্দী ছিল মুখ্য চরিত্রে, এই সংকলনের কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ ও প্রতিভাবান পুলিশ অফিসার জিসান আলি, যিনি “সলিউশন আলি” নামেও পরিচিত।
বইটিতে মোট চারটি গল্প রয়েছে: ১. ফাঁদ ২. দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে? ৩. দাগ ৪. দাগ-২
লেখক ভূমিকাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই সংকলনে বেশ কিছু নতুন এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। আমি সেই টেকনিক্যাল আলোচনায় না গিয়ে, গল্পগুলো কেমন লেগেছে, সেটার ওপরই আলোকপাত করছি।
🧩 ফাঁদ
এই গল্পে বহরমপুরে এক সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব ঘটে। আপাতদৃষ্টিতে সোজাসাপটা কেস হলেও ডিসিপি পৃথ্বীরাজ দক্ষতার সাথে কেসটি সমাধান করেন। জিসান আলির পার্শ্বচরিত্র হিসেবে আবির্ভাব হলেও, গল্পের অন্তিম পর্বে তিনি নিজের জাত চিনিয়ে দেন। লেখার গতি ও ভঙ্গিমা এতটাই সাবলীল যে পাঠক কখন যে গল্পের শেষে পৌঁছে যান, টেরই পান না।
👻 দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে?
গল্পটিতে একটি হরর উপাদান রয়েছে। পড়তে ভালো লাগে ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য গল্পের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে।
🩸 দাগ ও দাগ-২
এই দুটি গল্প আয়তনে বড় এবং কন্টেন্টের দিক থেকেও বেশী জমজমাট। বিশেষ করে দাগ-২ নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ থ্রিলার। চরিত্র ও প্লট ডেভেলপমেন্ট খুবই দক্ষতায় করা হয়েছে।
📌 কেন পড়বেন এই বইটি?
১. লেখকের সাবলীল, সহজপাঠ্য yet gripping লেখনী। ২. গল্প পড়তে পড়তে কখন যে একাত্ম হয়ে যাবেন, বুঝতেই পারবেন না। ৩. লেখক ছোট ছোট সংলাপ বা ঘটনার মধ্যে সূক্ষ্ম ক্লু ফেলে যান, যা পরে অর্থবহ হয়ে ওঠে। ৪. শেষের ব্যাখ্যাগুলো—অনিরূদ্ধবাবুর ট্রেডমার্ক—খুব যত্ন নিয়ে লেখা, যা গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করে।
📚 প্রকাশনা ও ছাপার মান
বইটি বিভা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত পেপারব্যাক সংস্করণ। কাগজের গুণগত মান, ফন্ট ও বাইন্ডিং ঠিকঠাক। কোনো বড় মুদ্রণ বিভ্রাট চোখে পড়েনি। বর্তমান বাজারে যেখানে বইয়ের দাম লাগামছাড়া হারে বাড়ছে, সেখানে বিভার মতো প্রকাশনী সংস্থা সুলভ মূল্যে ভাল বই প্রকাশ করার জন্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
🍂📖বইয়ের নাম - ফাঁদ 📖🍂 ✍️লেখক - অনিরুদ্ধ সাউ 🖨️প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন 📑পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২৪৮
📔🎭(সলিউশন সিরিজ চ্যাপ্টার ১)🎭📔
📑ফাঁদ 📑দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে ? 📑 দাগ 📑 দাগ -২
🍂🌟ঘৃণা , লোভ আর জিঘাংসা বারংবার মাথা চাড়া দেয় মানুষের সমাজে । খ্যাতি , ঐশ্বর্য আর ক্ষমতার অলিন্দেই রিপুর তাণ্ডব বোধহয় সবচেয়ে বেশি । জন্ম নেয় ধুরন্ধর সব অপরাধী । মানব - মন পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল গোলকধাঁধা । এর দ্বারা যেমন কেউ নতুনের সৃষ্টি করে , আবার কেউ বুনে চলে গভীর ষড়যন্ত্র । কিন্তু কেউ কেউ আবার ক্ষমতা রাখে সেই ষড়যন্ত্রকে ভেঙে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার । সে যেভাবেই হোক না কেন । এ গল্প হল সেরকমই কয়েকটি জীবনকে ন্যায় পাইয়ে দেবার — শিকারির ফাঁদ বুঝে শিকারি’কে শিকার বানানোর । সম্বল । শুধুমাত্র তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর উপযুক্ত ও নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা । টানটান উত্তেজনাময় এই থ্রিলারের কেন্দ্রীয় চরিত্র পুলিশ অফিসার জিসান আলি । লোক - মুখে যিনি পরিচিত ' সলিউশন আলি ' নামে । তাকে কেন্দ্র করেই রহস্য রোমাঞ্চের ঠাস বুনোটে ভরপুর চারটি নভেলা । আর সেই অনবদ্য চার - এর গভীরে ঝাঁপ দিয়ে সম্পূর্ণ রসাস্বাদন করতে পাঠকগণকে অবশ্যই ধরা দিতে হবে লেখকের এই পাতা ‘ ফাঁদ ’ - এ ।🌟🍂