দ্বিতীয় বিয়ের পর তারেকের জীবনে এক রহস্যময় নারীর আগমন ঘটে। স্ত্রীর অদ্ভুত স্বপ্ন জনিত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সে মুখোমুখি হয় জটিল কিছু সত্যের। বুঝতে পারে, প্রতারিত হয়েছে সে-নিরেট মিথ্যের চুড়ায় দাঁড়িয়ে আছে তাদের সম্পর্ক। এবার তার সিদ্ধান্ত নেবার পালা। অন্যদিকে বিকারগ্রস্ত ভাইকে নিয়ে অভিশপ্ত জীবন পার করছে সাবেরি লাহা। আদিম কোনো অপদেবীর অভিসম্পাত নাকি অতীতের পাপ, কোনটা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদেরকে? ‘পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে’ ঘুরে বেড়িয়েছে অত্যাশ্চর্য মানব মনের গলি-ঘুপচি। বিভ্রান্ত হয়েছে লৌকিক ও অতিলৌকিকতার হাতছানিতে। লোভ, সহিংসতা আর প্রবঞ্চনা ছাড়াও প্রেম-দ্রোহের এক বিচিত্র জগত এটি।
Tania Sultana (Bengali: তানিয়া সুলতানা) is a fiction writer. At 1999, she went to Rome, Italy with her family and started living there. She had gratuated in Tourism from the university of Cristoforo Colombo. She is also passionate about painting and writing poetry.
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ের সময় তারেক ভেবেছিল এবার জীবনে স্তিথি আসবে। কিন্তু না, তার স্ত্রির রয়েছে দুর্বিষহ দুঃস্বপ্নের ভয়। আর এই রহস্যের সমাধান করতে যেয়ে এমন কিছু সত্যের মুখোমুখি হল তারেক যা তার কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কি সিদ্ধান্ত নেবে এখন সে? অন্যদিকে, শাখাপুরী গ্রামের বিত্তশালী লাহা পরিবারে ১৯ বছর আগে কি ঘটনা ঘটেছিল যার জন্য অভিশপ্ত জীবন যাপন করছে সাবেরি লাহা ও তার বিকারগ্রস্ত ভাই? অতীতের পাপ নাকি সত্যি অপদেবির অভিশাপ?
এই প্রথম Tania Sultana আপুর কোনো বই পড়লাম এবং স্বীকার করছি আমার এই ক্ষুদ্র পাঠকসত্তা তার জাদুকরী লেখনীর অন্ধভক্ত হয়ে গেছে। বইটা শুরু করে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত শেষ না করে উঠতে পারিনি।
অপদেবী লিলিথ এর অলৌকিকতার সাথে সাথে মানব মনের লোভ, শঠতা আর ধর্ষণের মত সংবেদনশীল বিষয়ের মনস্তাত্তিকতাও উঠে এসেছে উপন্যাসে।
যারা থ্রিলারের সাথে সাথে সমকালীন/সামাজিক উপন্যাস পছন্দ করেন, তাদের অবশ্যই ভাল লাগবে।
ওহ, আর যারা জানেন না তাদের গেতারথে জানাচ্ছি, বই এর দারুন প্রচ্ছদ লেখিকা নিজেই করেছেন। লেখালেখির সাথে সাথে উনার আঁকার হাতও চমতকার!
এক নজরে-
নামঃ পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে লেখিকাঃ Tania Sultana জনরাঃ থ্রিলার পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৯১ প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশকঃ Mohammad Nazim Uddin রেটিংঃ ৪/৫ প্রকাশকালঃ বইমেলা ২০২২ মুদ্রিত মূল্যঃ ২২০
লাশটাকে খাদানোর পর বিল্লার হঠাৎ করেই কী হলো আবার গিয়ে মাটি খুঁড়ে বের করে সেই মাদুরে মোড়ানো লাশটি। আর যা দেখতে পায় তাতে বিল্লা ও তার সহকর্মী চারুণের পিলে চমকে উঠে। ভয়ের শীতল শ্রোত আজও তাড়া করে বেড়ায় তাদের।
অন্যদিকে তারেকের জীবন চলছিল অনেকটাই এলোমেলো। হুট করেই ঠিক হলো তার দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী দীপার রহস্যময় আচরণ তারেককে ফেলে দেয় এক অদ্ভুত দোলাচালে। সবকিছু যেন বড়ই অদ্ভুত। সমাধান পাওয়া মুশকিল।
শাখাপুরির সেই লাহা পরিবার এখন আর আগের মতো নেই। সব যেন স্তব্ধ। মানসিকভাবে অসুস্থ ভাই, পুরব দাসকে নিয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করছেন বাড়ির মালকিন সাবেরি লাহা। কিন্তু অবস্থা বড়ই শোচনীয়। মূর্তিঘরের সেই মূর্তিগুলো নিয়ে সাবেরি লাহার মনে এক অদ্ভুত আতঙ্ক। আতঙ্কের কারণ প্রায় সবার কাছেই অজানা। কিন্তু গন্ডগোলের আভাস পায় সবাই। আভাসটা অভিশাপের, কিন্তু কেন এই অভিশাপ?
এসকল রহস্যের উত্তর লুকিয়ে আছে "পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তর" বইটিতে।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: শুরুটা করছি গল্পের স্টোরিলাইনের মাধ্যমে। স্টোরিলাইন বা প্লটকে ইউনিক বলাটা ভুল হবে। সাদামাটা। বেশ চমৎকারভাবে সাধারণ একটা স্টোরিলাইনকে বিল্ড আপ করা হয়েছে। এই উপন্যাস পড়লে সবচেয়ে বেশি আপনার চোখে যে বিষয়টি আসবে তা হলো, আমরা খালি চোখে যা দেখি কিংবা আমরা যা শুনে আসি তার সবটাই সত্য হয় না। এমনও হতে পারে, আমরা এমন কিছু গোপন সত্য নিয়ে বেঁচে থাকি যা সবার অজানা। অনুভব তিনিই করতে পারেন যাঁর সঙ্গে ওই ঘটনাটি ঘটে। আর কেউ নয়। মেসেজটা সুন্দর ছিল। এমনকি এ বইয়ের অন্যতম চরিত্র তারেক ও রাদ শাহামাত মধ্যকার এক সংলাপে ফুঁটে আসা একটি বিষয় আমার মনে দাগ কেটেছে। সংলাপের সামান্য অংশটা তুলে ধরছি:
"ফোঁস করে শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো সে। “এই যে আমরা এত উদার হওয়ার কথা বলি, হতে পারি না কেন, ভাই? আমি কেন পারি নাই? কেন দীপাকে ঠিক আগের মতো জোর দিয়ে বলতে পারি নাই, যাওয়ার দরকার নাই, থাকো! আমি তোমার পাশে আছি।”
“বিষয়টা এত সহজও না।” নরম কণ্ঠে বলল রাদ শাহামাত।"
আমরা যতোই উদারতার কথা বলি না কেন দিনশেষে যখন উদার হবার সময় আসে তখন প্রায়ই সেটা করতে পারি না। হয়তো, ঘৃণা জন্মায় অথবা জন্মায় দ্বিধা। এটা সত্য। এটাই বাস্তবতা।
এ বইয়ে কঠিন কিছু অজানা সত্য কিংবা রহস্যকে তুলে ধরার মাধ্যমে লেখিকা এক কঠিন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছেন যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তারেক ও রাদ শাহামাতের এমন ছোটো একটি সংলাপ ছাড়াও আরও বেশকিছু ছোটো ছোটো বিষয় ছিল যা সত্যিই ভাবায়। সাদামাটা এই প্লটটাকে কী অসাধারণভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে! সত্যিই প্রশংসনীয়।
এবার আসি, লিখন-পদ্ধতি প্রসঙ্গে। ২০১৬ সাল থেকে মৌলিক উপন্যাস লেখা শুরু করেন তানিয়া সুলতানা। লেখালেখির পাশাপাশি চমৎকার একজন আঁকিয়ে তিনি। প্রতিভাবান এই মানুষটির প্রথম কোনো বই পড়লাম আমি। আর সত্যি তাঁর করা পেইন্টিং'র মতোই তাঁর লিখন-পদ্ধতিও মুগ্ধ করল আমায়। লেখার সময় কী পরিমাণ মায়া নিয়ে তিনি লেখেন এ বই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমি এর আগে আর কোনো বই তাঁর পড়িনি তাই বাকিগুলোর কথা আপাতত বলতে পারছি না কিন্তু এই বই? এককথায়, অসাধারণ লিখন-পদ্ধতি৷ মাইন্ডব্লোয়িং। আর এজন্যই তাঁর বাকি বইগুলো পড়ে ফেলার ইচ্ছেও আছে আমার। আমি সত্যিই ইমপ্রেসড। প্রত্যেকটি ঘটনার বর্ণনাভঙ্গিও ছিল সুন্দর। সাবলীল।
আমার মতে, প্রত্যেক ফিকশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ক্যারেক্টর ডেভোলপিং ও তাঁদের অ্যাক্টিভিটিজ। এ উপন্যাসের ক্ষেত্রেও আমি এ ব্যাপারটায় নজর রেখেছি। উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্রই ছিল সক্রিয়। যাঁর যতোটুক আউটপুট দেবার কথা সে ততোটুকুই দিচ্ছিল। আমার এক্সপেক্টেশন মোটামুটি পূরণ হয়েছে। ওভারঅল, ভালো ছিল। শুধু একটা চরিত্রকে নিয়ে হালকা হতাশ হয়েছি আমি। তা ছিল, চারুণ শীলের সহকর্মী বিল্লা। এই চরিত্রকে নিয়ে একমাত্র যে টুইস্টটি ছিল সেটিই আর প্রকাশ পায়নি। বিস্তারিত শেষাংশে বলব। এছাড়া বাকি যতো ক্যারেক্টর ছিল প্রায় সবাই ছিল নিজ নিজ স্থান থেকে অ্যাক্টিভ এবং সবার অ্যাক্টিভিটি ছিল সন্তোষজনক। আই অ্যাম ইম্প্রেসড।
বইয়ে ছিল, মোট ৬১ টি অধ্যায়৷ আর প্রত্যেকটি অধ্যায় ছিল আকারে ছোটো। কিছু কিছু অধ্যায় তো এক পৃষ্ঠায় শেষ হয়েছে। ছোটো ছোটো অধ্যায়ের ফলেই এটি একটানা পড়ে শেষ করে ফেলার মতো বই। খুব বেশি সময় লাগবেই না। তাছাড়া তানিয়া সুলতানার লেখনীতে এমন একটা টান আছে যা আপনাকে ঘোরগ্রস্ত করে ফেলতে পারে৷ এটা হলেও আমি অবাক হবো না কারণ লেখিকার মাঝে আসলেই এ গুণটি আছে। তাঁর লেখার হাত অনেকটা হিপনোটিজমের মতো। ঘোর থেকে বের হতে পারবেন না৷ কোনো কারণে বই রেখে উঠলেও আপনার মাথায় বইয়ের ঘটনাবলী ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকবে৷ পরবর্তী ঘটনা জানার জন্য মন উসখুস করবে। বইটি শেষ করার তাড়না অনুভব করবেন। আর এটিই একজন সাহিত্যিকের স্বার্থকতা। সত্যিই তিনি একজন অসাধারণ লেখিকা, আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন, তানিয়া সুলতানা নিজেই। আগ���ই বলেছি, উনি একজন আঁকিয়ে। আঁকার হাতও উনার চমৎকার। বইটির প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে, তবে বইয়ের স্টোরিলাইনের সঙ্গে প্রচ্ছদের সামঞ্জস্যতা কম ছিল। বইটি যেই ঘটনার উপর বেসড করা এবং যেই গোপন সত্যগুলো সামনে এসেছে সে অনুযায়ী প্রচ্ছদের কালার কম্বিনেশনটা আ���েকটু ডার্ক কোনো রঙের হলে ভালো হতো।
একটি বইয়ের প্রডাকশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যেই অংশটি রাখে সেটি হলো সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং। আলোচনা করা যাক, এ প্রসঙ্গে। কেমন ছিল এ বইয়ের সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং? এর উত্তর দিতে হলে, প্রথমেই কিছু কথা বলে নেওয়া ভালো। বাতিঘর প্রকাশনীর বই নিয়ে প্রায়ই বইপাড়ায় একটি প্রচলিত কথা আছে, এ প্রকাশনীর সম্পাদনা ভালো না। বানান ভুল থাকে প্রচুর। পড়ার সময় একটি অসহ্যকর অবস্থায় পড়েন প্রায় অনেকেই। এক্ষেত্রে বলতেই হয়, বাতিঘর প্রকাশনীর বই পড়তে হলে আপনায় কোন বানান সঠিক, কোনটি ভুল ও কোন শব্দের ব্যবহার কোথায় হবে, কোথায় নয় এসব ভুলে গিয়ে তাঁদের বই আপনার পড়তে বসতে হবে। কেননা, আমার মনে হয় বাতিঘর প্রকাশনীর বই খুব সম্ভবত সম্পাদনা হয় না। অন্তত এই বইটি পড়ার পর থেকে আমার তাই ধারণা। কারণ একজন সম্পাদক অবশ্যই "কি" ও "কী"র মধ্যে পার্থক্য অবশ্যই জানবেন, সেটা লেখক কিংবা লেখিকা না জানলেও। অথচ এ বইতে "কি" এবং "কী" এতো গোলযোগ দেখেছি যে এরপর থেকে আমার মনে হয়, রাইটার যে ফাইল পাঠিয়েছে ঠিক সেটাই ছাপাখানায় চলে গিয়েছিল। অর্থাৎ, র ফাইল।
এখন অনেকেই আমার কথা শুনে একপ্রকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন তবে বাতিঘর প্রকাশনীকে আমি এ ব্যাপারে দোষারোপ করছি না। কেন? খেয়াল করে দেখবেন, অন্যান্য যতো প্রকাশনী রয়েছে তাঁদের মধ্যে বাতিঘর প্রকাশনীর বইয়ের দাম তুলনামূলক কম। সাশ্রয়ী। যেই বই নিয়ে আমি রিভিউ লিখছি, সেই বইয়ের কভার প্রাইজ মাত্র ২২০ টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা, ১৯১। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, বইয়ের দাম কম কিনা। এখন বইটি যদি কোনো ভালো সম্পাদক ও প্রুফ রিডারের হাত দিয়ে আসে (যদিও আমি নিশ্চিত না, থাকতেও পারে। থাকলে এতো ভুল থাকাটা দুঃখজনক) তবে কি এ বই সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া সম্ভব? না। অন্যান্য প্রকাশনী যেখানে প্রডাকশনের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করে না সেখানে বাতিঘর প্রকাশনী একটু ব্যতিক্রমী। সাশ্রয়ী মূল্যে বই দিয়ে থাকে যেন তাঁদের প্রকাশিত বই পড়াটা সহজ হয়। আমরা পাঠক/পাঠিকারা আসলে একসাথে সবই চাই কিন্তু সবকিছু একসাথে পাওয়াটা সম্ভব না। সুতরাং, এখানে প্রকাশনীর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেবার পক্ষে আমি নই যদি কোনো এডিটর কিংবা প্রুফ রিডার না থেকে থাকে। কারণ দিনশেষে আমরা পাঠক/পাঠিকারাই সাশ্রয়ী মূল্যে বই কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। প্রডাকশন উন্নত মানের হলে, বইয়ের দামও বাড়বে। এটা যদি মেনে নেবার মানসিকতা থাকে তাহলেই এসব ভুল-ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ জানানো সম্ভব। তার আগে নয়।
পেজের মান, বাঁধাই ও প্রিন্টিং সব ঠিকঠাক ছিল৷ বাতিঘর প্রকাশনীর আগেরকার প্রডাকশনের চাইতে এখনকার প্রডাকশন অনেক উন্নতমানের হয়েছে। বলতেই হয়।
বইয়ে যে বানানগুলো এক বা একাধিকবার ভুল ছিল:
বেসিক্যালি এই অংশে আমি পৃষ্ঠা সংখ্যা উল্লেখ করে জানিয়ে দেই কোন পৃষ্ঠায় কোন শব্দটি ভুল হয়েছে তবে এ বইয়ের সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং সম্পর্কে যেমনটা বললাম সে অনুযায়ী পরবর্তী এডিশনে বানান ঠিক হবার সম্ভাবনা কম। তাই একনাগাড়ে বানানগুলো বলে যাচ্ছি যেন লেখিকার সুবিধা হয়। বামপাশে থাকবে বইয়ে ব্যবহৃত ভুল শব্দ আর ডান পাশে সঠিক শব্দ।
১. পৃষ্ঠা: ৩৪-তে 'নাকি ইরিনের ব্যাপারটি কোনোভাবে অস্বস্তি তৈরি করছে তার ভেতর।' "?" হবে "।" নয়। ২. পৃষ্ঠা: ৭৪-তে একটি কথোপকথনে একজন বক্তার সংক্ষিপ্ত উত্তর 'না' ছিল। সেখানে কোনোপ্রকার কোটেশন অর্থাৎ, ইনভার্টেড কমা ছিল না। ৩. পৃষ্ঠা: ১০৮-এ তারেকের 'আপনারা বাচ্চা.......' এই ডায়লগে কোনোপ্রকার ইনভার্টেড কমা ব্যবহার করা হয়নি। ৪. পৃষ্ঠা: ১২৮-এ 'তোর শশুড়-শাশুড়ি কেমন আছে।' "?" হবে "।" না। ৫. পৃষ্ঠা: ১৬২-তে 'তারপর সমস্ত শাখাপুরি যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ভ্যানে করে করে লাশ নিয়ে বনের পথ ধরলো লোকদুটো।' হবে, 'তারপর সমস্ত শাখাপুরি যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে তখন ভ্যানে করে করে লাশ নিয়ে বনের পথ ধরলো লোকদুটো।' পৃষ্ঠা: ১৬৬-তে 'অমর বিশ্বাস অবিশ্বাসে কী আসে যায়?" "আমার" হবে। টাইপিং মিসটেক। ৬. পৃষ্ঠা: ১৬৭-তে "চেষ্টা" শব্দটিকে "চেষ্ট" লিখে রাখা হয়েছে। টাইপিং মিসটেক। ৭. পৃষ্ঠা: ১৭০-তে 'না গেলে কিভাবে বুঝবে।' এটা হবে, 'না গেলে কীভাবে বুঝবে!' ৮. পৃষ্ঠা: ১৭৬-এ 'এ কয়টা মাস আমি কত কষ্টে পার করছি।' "।" নয় "!" হবে।
#স্পোয়েলার_অ্যালার্ট চারুণ শীল ও বিল্লা মিলে ললিতার লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার পর কেন বিল্লা পুনরায় গিয়ে মাটি খুঁড়ে ললিতার লাশ বের করে আনল? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি চারুণ শীল বিল্লার মাটি খোঁড়াখুঁড়ি দেখে প্রথম যে সম্ভাবনার কথা ভেবেছিল সেটা আদৌ সত্য কিনা তাও জানা যায়নি। এ বিষয়টা রহস্যই থেকে গেল। হয়তো আর কখনোই জানা সম্ভব নয়। ক্যারেক্টর ডেভোলপিং অংশে মূলত বিল্লা চরিত্রকে নিয়ে যে অভিযোগ করেছিলাম, এটাই সেই কারণ।
ভিন্নধারার বাস্তবধর্মী কোনো উপন্যাস পড়তে আগ্রহী? তাহলে অবশ্যই এ বইটি আপনার জন্য।
বই: পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে লেখিকা: তানিয়া সুলতানা প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী প্রচ্ছদ: তানিয়া সুলতানা মুদ্রিত মূল্য: ২২০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১
পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে আমাদের দেখা হয়েছিল যবে কিছু দিশেহারা গল্প আড়মোড়া ভেঙেছিল সময়, সমীরণে ক্ষতরা তখন দগদগে প্রকট আমার মরচে পড়া বন্ধ হৃদয়ে প্রলয়ের মহাসংকট আমাদের কি আবার দেখা হবে আমরা কি হাঁটবো চিনিগুঁড়ো জোছনায় শস্যের আল ধরে পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে?
পৃথিবীর প্রান্তর ছুঁয়ে কখনো হেঁটে যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকাতে হয়। এই পেছনের অতীত জুড়ে কিছু গল্প থাকে, না বলা হাহাকার থাকে। সেগুলো কেউ জানে না। কাউকে বলা যায় না। নিজের ভেতরে দুমড়ে মরে সেই না বলা কথাগুলো। স্মৃতির পাতাতে ভেসে ওঠে সেই বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। ভুলতে চেয়েও ভোলা যায় না। একদিন সেগুলো ভুলতে হয়। কষ্টের মুক্তির জন্য কাউকে সেগুলো জানাতে হয়। তবেই প্রশান্তি মিলে। সেই অন্যকেউ কি তার সাথে হাঁটবে সেই অতীতের দুঃসহ স্মৃতির গা ঘেঁষে? না-কি সবার মতো একা করে চলে যাবে? তবে তাই সই! যে চলে যাওয়ার, সে চলেই যাক! এই বৃহৎ পৃথিবীতে একা একাই চলতে হবে। নিজের মতো বাঁচতে হবে। হাঁটবে হবে ঘোর অমাবস্যার অন্ধকারে কিংবা ভরা জোছনার পূর্ণিমায়, পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে।
• কাহিনি সংক্ষেপ :
ভালোবেসে বিয়ে। তবুও তারেকের সাথে ইরিনের সংসারটা আর দশটা সাধারণ সংসারের মতো নয়। অর্থ প্রাচুর��যের মধ্যে বড়ো হওয়া ইরিন যখন তারেকের হাত ধরে মধ্যবিত্তের জীবনে প্রবেশ করল, সে দেখতে পেয়েছিল এক বাস্তব জীবনের খণ্ডচিত্র। বুঝতে পেরেছিল, এমন জীবন সে চায় না। আর চাওয়া না চাওয়ার ভেদাভেদে ইরিন একদিন হারিয়ে গেল। তারেকের জীবন থেকে অনেক দূরে সে গন্তব্য। ইরিনের শোকে মূহ্যমান তারেক সিদ্ধান্ত নিল, আবারও নিজের জীবন রাঙাবে। এছাড়া কীই বা করার আছে? জীবনের অনেক পথ বাকি। এই দীর্ঘ পথে একা থেকে করবেটা কী? নিজের জীবন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারণেই তারেকের জীবনে আসে অন্য কেউ। দীপা হয়ত পারবে তারেকের জীবন নতুন করে সাজাতে। পারবে তো?
সাবেরী লাহার পরিবারে রহস্য কেউ জানে না। গ্রামের কোণে কানাঘুষা চলে, গাছের আড়ালে পাতার ফিসফিস শোনা যায়। তবুও লাহা পরিবারের ভেতরে থাকা গোপন কথা চার দেয়ালের বাইরে আসে না। সেই দেয়ালে বন্দী চারটি জীবন। সাবেরী লাহা, তার ভাই পূরব দাস, আর দুই ভৃত্য বলয় ও কাকলী। ভাইকে নিয়ে বেজায় দুঃশ্চিন্তায় আছে সাবেরী। দিনে দিনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে তার ভাই। কিছুই করা যাচ্ছে না। কোনো এক পাপের ফল, কিংবা অভিশাপের উত্তাপে ঝলসে গিয়েছে লাহা পরিবার। অতীতের সেই দিনের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে ওঠে সাবেরী লাহা। কী সেই পাপ? কার অভিশাপ লেগেছে? এ থেকে ভাইকে বাঁচাতে পারবে সাবেরী?
তারেক ভেবেছিল আবার বিয়ে করলে তার খামখেয়ালি জীবন আবার গুছিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু তার ভাবনা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। দীপা মেয়েটা কেমন যেন! আড়ষ্ট হয়ে থাকে সবসময়। রাতে ঠিক মতো ঘুমোতে পারে না। অনেক চেষ্টা করে তারেক জানতে পারল, কী সব স্বপ্ন দেখে দীপা। দীপার অতীত ইতিহাস গোপন করা হয়েছিল তারেকের কাছে। নিজেকে প্রতারিত ভাবতে শুরু করে সে। তারপরও মনের কোণে কোথায় যেন একটুখানি ভালোবাসা ঠাঁই পেয়েছে। ভালোবাসা, না-কি করুণা? দীপাকে সুস্থ করতে তারেক ছুটে চলেছে অতীতে। ভালোবাসার জন্য তো এতটুকু করাই যায়! নির্লিপ্ত দীপার কি তাতে মন গলবে? না-কি করুণা ভেবেই কাটিয়ে দেবে সবসময়?
১৯ বছর আগের সেই রাতের কথা ভুলতে পারে না চারুন শীল। যা দেখেছি বা শুনেছিল, সব সত্যি? না-কি অতিরিক্ত নেশার ফল? এতগুলো বছর পর এখনো ঘোর লাগে, মনে হয় সব মিছে। সব মায়া। আরও আছে ললিতা। গ্রামের মানুষ তাকে সাক্ষাৎ দেবী দূর্গার আশীর্বাদপুষ্ট মনে করে। আশীর্বাদ, না অভিশাপ? দেবী, না অপদেবী? রহস্যটা যে সবার আড়ালে থাকতে চায়।
দীপাকে সুস্থ করতে চায় তারেকের বড়ো ভাইতুল্য রাদ শাহমাত। তার স্ত্রী আজরাও চায় দীপা সুস্থ হয়ে উঠুক। দীপার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দুজন। সাহায্য করতে গিয়ে দীপার জীবনের এমন এক অন্ধকার দিক উঠে এসেছে, তা না জানলেই হয়ত ভালো হতো। কোথাও বেজে উঠেছে ভাঙনের সুর। বিষাদের ছায়া নড়ছে এদিক ওদিক। অথবা শেষবেলায় মিলনের রঙেই জীবন রাঙাবে। হয়ত...
• পাঠ প্রতিক্রিয়া :
লেখিকা তানিয়া সুলতানার প্রথম কোনো বই পড়লাম। বইটি পড়ে মিশ্র এক অনুভূতি হচ্ছে। কোথাও ভালো লেগেছে। কোথাও বা মনঃপুত হয়নি। আরও ভালো হয়ত হতে পারত। তবে লেখিকার লেখার মধ্যে একটা মাদকতা আছে। অন্যরকম মায়া আছে। যেই মায়ার আবেশে খুব সহজেই জড়িয়ে যাওয়া যায়। ভিন্নধারার লেখনী বেশ মুগ্ধ করেছে। লেখিকা শব্দচয়ন যথেষ্ট ভালো লেগেছে। সচরাচর এমন শব্দচয়ন অন্যান্য সমসাময়িক লেখকদের মাঝে দেখা যায় না, তাই প্রথম প্রথম বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল। এই কারণে আমার কাছে গল্পের গতি কমে যাচ্ছিল। পরে অবশ্য লেখিকার লেখার মায়ায় এতটা জড়িয়ে গিয়েছিলাম, অসুবিধে হয়নি তেমন।
লেখিকা গল্প বলার ধরণ ভালো ও স্পষ্ট। পাঠককে খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে পারবে। উপন্যাসের শুরুটা রহস্য দিয়ে হলেও এর পরবর্তী অংশগুলোতে ঠিক রহস্য ছিল না। এই বইটিকে থ্রিলার বলা যায় কি না জানি না। তবে আমার কাছে সামাজিক উপন্যাসই লেগেছে। মাঝে রহস্য খেলা করলেও শুরু ও শেষে সামাজিক উপন্যাসের আবহ ছিল। শেষটা ঠিক মনঃপুত হয়নি। বেশ সাদামাটা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মাঝের দিকে যেই রহস্যের জাল বোনা হয়েছিল, তার কিছুই ছিল না শেষে। আমি আরেকটু আশা করেছিলাম। এছাড়া দীপার স্বপ্ন দেখার কারণ আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলাম বলেই হয়ত শেষে এসে আকর্ষণ কমে গিয়েছিল।
গল্পে অনেক চরিত্রের আনাগোনা ছিল। কিছু প্রধান চরিত্রের সাথে প্রয়োজনের তাগিদে কিছু চরিত্র আনা হয়েছে। তবে প্রত্যেকেই ছিল স্বতন্ত্র। উপন্যাসটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে চরিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারেক, দীপা, সাবেরী লাহা, পূরব দাস, রাদ শাহমাত, আজরা - সবাই ছিল নিজ গুণে শক্তিশালী।
উপন্যাসে অল্প কিছু মানসিক রোগের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ভালো লেগেছে। তবে যেটা ভালো লাগেনি, ছোটো ছোটো অধ্যায়ে বর্ণনা। কিছু কিছু অধ্যায় এত ছোটো ছিল যে, গল্পের গতি কমে যাচ্ছিল বারবার। এতকিছুর পরও উপন্যাসটা আমার ভালো লেগেছে। হয়ত আরও ভালো হতে পারত।
• বানান ও সম্পাদনা :
এই একটা বিষয় নিয়ে এত কথা বলেছি, এখন আর বলতে ইচ্ছা করে না। তবে কিছু বিষয় না বললেই নয়। কোনো লেখক বা লেখিকাকে ই/য় এর ভুল করতে দেখি তখন খারাপ লাগে। আমরা সাধারণ মানুষ। এমন ভুল করতেই পারি। কিন্তু একজন লেখক বা লেখিকা বইয়ে এমন ভুল করলে মানতে পারি না। এই বইয়ে কয়েক জায়গায় এমন ভুল লক্ষ্য করেছি। হতে পারে অনিচ্ছাকৃত ভুল, কিন্তু পরবর্তীতে ঠিক করে ফেলা উচিত ছিল। এছাড়া সমাসবদ্ধ পদের ক্ষেত্রে দুইটি শব্দ একসাথে লেখার নিয়ম থাকলেও, বইয়ের কয়েক জায়গায় আলাদা করে ছিল।
বানানের কয়েকটা বিষয় দৃষ্টিকটু লেগেছে। অনেক বানানে চন্দ্রবিন্দু দেওয়া হয়নি। এক জায়গায় অ্যালোভেরা বানান ভুল ছিল। আমরা কোনো উৎকট গন্ধকে বোটকা গন্ধ বলি। বইয়ে ভোটকা গন্ধ লেখা ছিল। এগুলো সম্পাদনার সময় ঠিক করে নেওয়া যেত। যদি সম্পাদনা হয়ে থাকে তো!
• প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন :
এই বইটা কেনার একটি কারণ ছিল, প্রচ্ছদ। যা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। লেখিকা নিজেই প্রচ্ছদ এঁকেছেন। সাধারণ প্রচ্ছদ কিন্তু দেখতে ভালো লাগে।
এই বইটার প্রোডাকশন একটু দুর্বল মনে হয়ে হয়েছে। বাঁধাই খুলে যাচ্ছিল। আরও দুই তিনজনের হাত ঘুরে এলে খুলেও যেতে পারে। বাতিঘর প্রকাশনীর বর্তমান বাঁধাই অনুসারে আরেকটু পাকাপোক্ত বাঁধাই আশা করেছিলাম।
পরিশেষে, কিছু কিছু সময় মনের কথা শুনতে। নিজের অনুভূতিগুলো জানতে হয়। আমরা বেশিরভাগ সময় তা শুনতে চাই না, জেনেও না জানার ভান করি। সমাজের দোহাই দিয়ে পিষে মেরে ফেলি নিজের ভালো থাকার শেষ সম্বলকে। লোকে কী বলবে, সমাজ কী ভাববে; এমন ভাবনাগুলো আমাদের ভেতরে থাকা সুখী আত্মগুলোকে শুষে নেয়। দ্বিধা বিভক্ত হয়ে দোটানায় পড়ে আমরা যখন নিজের অনুভূতিগুলোকে প্রাধান্য দেই, তখন বড্ড বেশি দেরি হয়ে যায়...
বই : পৃথিবীর প্রাচীন প্রান্তরে লেখিকা : তানিয়া সুলতানা প্রচ্ছদ : তানিয়া সুলতানা প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশনী প্রকাশকাল : মার্চ, ২০২২ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৯১ মুদ্রিত মূল্য : ২২০৳ ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৭৫/৫
দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রী দীপার অদ্ভুত স্বপ্নের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তারেক এমন কিছু ঘটনার সম্মুখীন হয়, যা সে চিন্তাও করেনি। তাকে ঠকানো হয়েছে, তা নিশ্চিত -কিন্তু সে কী করবে এ প্রশ্ন তাও রয়েই যায়।
মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক- হয়ত সারাজীবন যেই ভয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তা বাস্তবতার সামনে নগন্য হয়ে পড়ে ��কথা এইবইতে ঘুরেফিরে দেখা দেয়।
লেখা ঝরঝরে,আর কেমন মায়াময়। তবে এধরনের বই আমি খুব একটা পড়ি না, দুঃখকষ্টের ব্যাপারগুলি ছাপার অক্ষরে কেন জানি আরো অস্বস্তি হয়। তবুও শেষ করতে খুব বেশি হোঁচট খেতে হয়নি। লেখক পুরানদিনের বেশ একটা রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করতে গিয়ে সফল হলেও বেশকিছু জায়গায় রহস্য থেকেই যায়। হয়ত বইটা আরেকটু এগিয়ে নেয়া যেত।
সমাপ্তি নিয়ে কোন অভিযোগ নেই, তবে মনখারাপ ধরনের বইগুলোর সাথে আমার কোনোকালেই খুব একটা বন্ধুত্ব ছিল না এখানেও তেমনটা লেগেছে। রহস্য শুরু করলে সেইটার পুরোটা না জানলে মন খুঁতখুঁত করতে থাকে। এই গল্পটায় রহস্য, মানসিক ব্যাধি, অপদেবী, কুসংস্কার -সবই আছে কিন্তু কোনোটাই মনমত জায়গায় ঠেকেনি।
পুরো গল্পে অনেক চরিত্র এসেছে কিন্তু এসবের মধ্যে যেন কাউকেই খুব একটা চিনে উঠতে পারিনি বলে মনে হচ্ছে।
তাও অদ্ভুতভাবে আমি বইটার মায়া কাটিয়ে উঠতে পারছি না....এখনো খানিকটা ঘোরে আছি। জানতে ইচ্ছা হয় এরপর দীপার কী হলো, অথবা লাহা বাড়ির শেষ পরিণতি।