জিগলীপুরার রাজবাড়ির একটা রোমাঞ্চকর ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসের সঙ্গে হঠাৎ করেই জড়িয়ে পড়েছিল কয়েকজন। কী সেই ইতিহাস? কী হয়েছিল কাঞ্চনগড়ে? কেন মরিয়া হয়ে মৃত্যুর জন্যে অপেক্ষা করছিল রাধামাধব মল্লিক?… এই কাঞ্চনগড়ের সঙ্গে কীভাবে মেহেন্দিপুরের বালাজি মন্দির জড়িয়ে পড়ল? কী যোগসূত্র? কেন যেতে চেয়েছিল মাহেন্দ্রানী, ধ্রুব আর আশুতোষ মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দিরে?… মাহেন্দ্রানী সিরিজের দ্বিতীয় বই এটি।
মাহেন্দ্রানী নামের সেই মেয়েটির কথা মনে আছে আপনাদের? নিতান্ত সহজ, সুশ্রী এই মেয়েটির মধ্যে ছিল কিছু ঐশ্বরিক শক্তি৷ তাই নিয়ে সে দুর্গতের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল বারবার। এই বইয়ে স্থান পেয়েছে তার তিনটি অভিজ্ঞতা। সেগুলো হল~ ১. অভিশপ্ত নূপুর; ২. আমাকে মৃত্যু দাও; ৩. মেহেন্দিপুরে মাহেন্দ্রানী। এই তিনটি গল্পেই যোগসূত্র হয়ে থেকেছে মেহেন্দিপুরের বালাজি মন্দির। তিনটি কাহিনিতেই ভয়ংকর চেহারায় প্রকট হয়েছে প্রাচীন কোনো অভিশাপ। ঘনিয়েছে রীতিমতো আতঙ্কজনক কিছু মুহূর্ত। তারই পাশাপাশি তিনটি গল্পেই দেখা গেছে আর্তের জন্য মাহেন্দ্রানী'র কষ্টস্বীকার, আর ধ্রুব ও তার মধ্যে মৃদু গুঞ্জনের মতো করে বয়ে যাওয়া এক অনুভূতির শব্দ— যাতে আছে শ্রদ্ধা, নির্ভরতা, ভালোবাসা। সব মিলিয়ে তিনটি গল্প পড়তে বেশ ভালো লাগল। রক্ত, মাংস, নরমুণ্ড প্রভৃতির আতিশয্যের বদলে এদের শক্তির উৎস হল সহজ ভাষা ও সহানুভূতি। যাঁরা ভয়ের গল্পের মধ্যেও মানবিক সম্পর্কেরই অনুরণন খোঁজেন, তাঁরা এই সুমুদ্রিত, সু-অলংকৃত বইটিকে পড়ে দেখতে পারেন। অলমিতি।