🩵 ২০২২ সালে একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশিত হয়েছিল, আর আমি...
আমি নির্বোধের মতো সেই রত্নটিকে উপেক্ষা করে চললাম দীর্ঘ ৩ বছর। শেষমেশ ২০২৫-এ এসে যখন বইটি হাতে নিলাম, তখন যেন হৃদয়ের কোথাও এক তীব্র আর্তনাদ উঠল—কেন এত দেরি হলো! বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা উল্টে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল, আমি যেন হারিয়ে যাওয়া এক প্রিয়জনের স্মৃতি ঘাটছি যাকে সময় থাকতে ভালোবাসা হয়নি।
বইটি শেষ করার পর বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হলো। এতদিন যে আমি কী ভয়াবহ এক অভাব বয়ে বেড়িয়েছি, তা যেন হঠাৎ করেই উপলব্ধি করলাম।
ইশ! যদি পেতাম সে সুযোগ একবার,
ভারতের বুক পেরিয়ে যেতাম বাংলার পার।
সে ২০২২-এর বইমেলার ভিড়ে,
খুঁজে নিতাম তোমার লেখা, ভালোবাসার গন্ধে ঘেরা।
হাত বাড়িয়ে তুলে নিতাম সে বই,
যার পাতায় পাতায় আমার মনেরই কথা বই।
তখন হয়তো বাতাসও হাসতো নিঃশব্দে,
আর হৃদয় বলত—"এই তো, যা খুঁজছিলে বহু দিনে।"
এক বই, আর তিন বছরের হাহাকার—এভাবে কেউ কারো জীবন পাল্টে দিতে পারে, কে জানতো!
প্রতিটি অক্ষর যেন ঠিক আমার জন্যই লেখা—একটুও কম নয়, একটুও বেশিও নয়। মনে হয় আরিফ আজাদ স্যার আমার খুব চেনা কেউ—নিতান্ত ঘরের মানুষ, যিনি আমাকে প্রতিদিন নীরবে পর্যবেক্ষণ করেন, আমার হাসি-কান্না, টানাপোড়েন, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সবই যেন জানেন।
মনে হয়, তিনি শুধু একজন লেখক নন—তিনি আমার মনের একজন সাক্ষী। একান্ত আপনজন, যাঁকে বলা যায় না এমন কথাগুলোও তিনি কোনো এক রহস্যময় উপায়ে পড়ে ফেলেন।
তিনি যেন সেই অমূল্য বন্ধু, যে কানে ডলা দিয়ে নয়, বুকের গভীর মমতায় আমাকে পথ দেখান—ভুল ধরিয়ে দেন, কিন্তু ভাঙেন না। তাঁর শব্দগুলো বকাঝকা নয়, বরং আদরে মোড়ানো মৃদু আলিঙ্গন।
এই বই পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল— আমি যেন লেখকের মনের কোনো হারানো খণ্ড!
যেন কলম নয়, হৃদয়ের ভাষায় লেখা আমারই গল্প।
পড়তে পড়তে অবাক হই—মনে হয়, আমি বুঝি তাঁর চোখের সামনেই ছিলাম এতদিন!
পাপে পা ফসকালেই মনে পড়ে—আহা, আরিফ আজাদ স্যার তো তাঁর কিতাবে এ পথ থেকে ফেরাতেই চেয়েছিলেন। তবু আমি ভুললাম কেন?
বইটির কথা বলতে গেলেই মন ভরে ওঠে,
তবু যেন অনুভূতির সবটা বলা হয়ে ওঠে না...
জীবনে যদি আর মাত্র একবার বই পড়ার সুযোগ থাকে,
আমি নিঃসঙ্কোচে 'এবার ভিন্ন কিছু হোক' তুলে নেবো হাতে—
কারণ কিছু বই শুধু পড়া নয়, বাঁচার প্রেরণা হয়ে ওঠে।
আলহামদুলিল্লাহ, বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ই মনোযোগের বন্ধন ধরে রাখে।
যেভাবে শুরুতে আরিফ আজাদ স্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ঠিক সেভাবেই তা রক্ষা করেছেন, নিখুঁতভাবে।
শব্দের এমন অলংকার আমাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য, সমকালীন টিমকে অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা।