জেনেটিক্স বিষয়ে বাংলা ভাষায় একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
জেনেটিক্স বিষয়ে মানুষের জ্ঞানের সূচনা থেকে শুরু করে এই বিজ্ঞানটির ক্রমঃবিকাশ এবং সর্বশেষ অগ্রগতিগুলোকে সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক ও শিক্ষক আরাফাত রহমান। বিজ্ঞান যে এত রোমাঞ্চকর হতে পারে, এই বইটি পাঠ করলে সেটা আবারও উপলব্ধি হবে। আমাদের আশেপাশের অজস্র অসুখের কারণকে যেমন চেনা যাবে এই বইটি পাঠ করলে, তেমনি একইভাবে জীন প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদেরকে নতুন নতুন যে সকল সম্ভাবনা, যে নতুনতর বিপদগুলোর মুখে ঠেলে দিতে পারে, সেটা নিয়েও লেখক আলোচনা করেছেন। তরুণ শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যত গবেষকরা এই বই থেকে সবচাইতে বেশি উপকৃত হবেন।
সম্পূর্ণ রঙিন এই বইটির গায়ের দাম ৪৩০ টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৭। পাতায় পাতায় রয়েছে অজস্র ছবি, ছক ও সরণী।
বইটি সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিমত:
" বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই আক্ষেপ করে বলে 'ইশ্! এই লেখাগুলো যদি বাংলায় থাকত! একবার বাংলায় পড়লেই বোঝা সহজ হয়ে যেত!' আমাদের শিক্ষার্থীদের এই দুঃখ অবশেষে ঘুচতে যাচ্ছে। আরাফাত রহমান সহজবোধ্য, আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল সহজ বাংলায় লিখেছেন বংশগতিবিদ্যা নিয়ে। জেনেটিক্সের গবেষণায় আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ মাতৃভাষায় তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকা। বাংলায় এমন বই যত বেশি প্রকাশিত হবে, তত বেশি পাঠক তৈরি হবে, আগ্রহী গবেষক তৈরি হবে, বংশগতিবিদ্য তত বেশি মানুষের কল্যাণে আসবে। " -আদনান মান্নান সহযোগী অধ্যাপক, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
" বইটির চমৎকারিত্ব এর ইতিহাস-সচেতন উপস্থাপনায়। জেনেটিক্সের জ্ঞান কীভাবে ধাপে ধাপে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেটার আকর্ষণীয় বিবরণের পাশাপাশি আধুনিকতম প্রযুক্তিগুলোও এখানে আলোচিত হয়েছে। মুখস্থবিদ্যার বদলে জেনেটিক্সকে বুঝতে সাহায্য করবে এই বই, এর ভাষাটাও সকলের উপযোগী। জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার জন্য যারা নিজের জ্ঞানের ভিত মজবুত করতে চান, যারা ভবিষ্যতের গবেষক হয়ে উঠতে চান, এমন সকলেই এ বইটি থেকে উপকৃত হবেন। " -সৌমিত্র চক্রবর্তী সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড
বিজ্ঞানে উৎসাহী যে কারোর জন্য জেনেটিক্স নিয়ে লেখা বেশ ভালো একটা বই। ধাপে ধাপে বংশগতিবিদ্যার ইতিহাস, এতে বিভিন্ন বিজ্ঞানীর অবদান চমৎকার লেগেছে। এরপর ডিএনএ, আরএনএ, প্রোটিন, অ্যামাইনো এসিড, জিন, জিনোম, মিউটেশন, এপিজেনেটিক্স, ক্রিস্পার প্রযুক্তি এগুলোর সহজ বর্ণনা দুর্দান্ত লেগেছে৷ ছবি আর গ্রাফগুলোও পরিষ্কার আর বোঝার জন্য খুব ভালো। মাইটোসিস, মায়োসিস কোষ বিভাজন, ক্রোমাজমের বিভাজন এগুলো বিস্তারিত ভাবে ছবি সহ থাকলে ভালো হত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাংলা পরিভাষার ব্যবহারে লাইনগুলো বেশ খটমটে হয়ে গিয়েছে।
দেশের উচ্চ শিক্ষার পরিমণ্ডলে জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় যেমন জৈব রসায়ন, অণুজীববিজ্ঞান, জৈব প্রযুক্তি এই ধরনের বিষয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে তরুণদের মাঝে। আর এই সবগুলো বিষয়েই জেনেটিক্স বিষয়ক এক বা একাধিক কোর্স থাকে। তবে সমস্যা হল, স্কুল কলেজে পড়া দুই একটি চ্যাপ্টারের মাধ্যমে জেনেটিক্স নিয়ে যে আগ্রহ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তৈরি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল পরিসরের কোর্সে অনেকেরই একটু হোঁচট খেতে হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, একাডেমিক ম্যাটেরিয়ালের খটমটে স্বভাব। তাই অনেকের মধ্যেই উৎসাহটা উবে গিয়ে হতাশা চলে আসে। রেজাল্টও খারাপ হতে থাকে। এর থেকে উৎরানোর একটি উপায় হতে পারে, একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি সে সংক্রান্ত কিছু সৃজনশীল বই পড়া। যেখানে একটু গল্প, একটু উতিহাস, একটু রসের মাধ্যকে কঠিন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
আরাফাত রহমানের জেনেটিক্স বইটি বাংলা ভাষায় সেরকমই একটি অনবদ্য সংযোজন। যেকোন স্তরের বিজ্ঞানে আগ্রহী পাঠকই এটা পড়ে উপকৃত হবেন।
বইটির নাম দেখেই বুঝা যায় বইটি মূলত জেনেটিক্স নিয়ে লেখা।বইটি মূলত জেনেটিক্স এর প্রাথমিক ধারনাটুকু বর্ণনা করা হয়েছে।আবিষ্কারের পিছনের গল্প না জানলে বিজ্ঞানীরা কিভাবে কাজ করে,কিভাবে বিজ্ঞান এগিয়ে যায় তা বোঝা যায়না।তাই বংশগতি সম্পর্কে আমরা কিভাবে জানলাম,তার পরিপ্রেক্ষিতও রয়েছে বইটিতে।বংশগতির শুধু প্রাথমিক কিছু বিষয় মোটাদাগে বর্ণনা না করে অন্যান অগ্রসর বিষয় বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে।সাথে আছে আধুনিক জেনেটিক্সের বিভিন্ন হট টপিক নিয়ে তর্ক বির্তকের কারন সমূহ।
লেখক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং বর্তমানে জেনেটিক্স,জিনোমিক্স ও বায়োইনফরমেটিক্স বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডে।তার সুপাঠ্য লেখনী যেকোন পাঠককে আকর্ষিত করবে এবং জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করবে এটা নিশ্চিত।
বইটির যে টপিকটি আমার সবথেকে ভালো লেগেছে সেটা এপিজেনেটিক্স এবং ক্রিসপার।বইটিতে মেন্ডেলের সূত্র থেকে শুরু করে বর্তমানের বহুল আলোচিত জিন এডিটিং প্রযুক্তি ক্রিসপার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।আমরা হয়তো মানুষের অনেক রোগ জিনোম পরিবর্তন এর মাধ্যমে সারিয়ে মানুষের দূর্ভোগ কমিয়ে ফেলতে পারব ক্রিসপার প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাহলে মানুষের জিনোম পরিবর্তনে নৈতিকতার প্রশ্ন কেন তোলা হচ্ছে সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে এখানে।কিভাবে আমরা বুঝতে পারি মাইটোকন্ড্রিয়া এক সময় স্বাধীনতা মাইক্রোঅর্গানিজম থেকে বর্তমানে প্রকৃত কোষের অঙ্গানুতে পরিবর্তন হয়েছে।জেনেটিক নিয়ে আগে ধারনা ছিল বংশগতির বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র ডিএনএ কোডের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় সঞ্চলিত হয় তবে বইটি পড়ে জানতে পারলাম এপিজেনেটিক্স এর মাধ্যমেও কিছু বৈশিষ্ট্য সঞ্চলন সম্ভব। কেন রানী মৌমাছি আর কর্মী মৌমাছির জিনোম একই রকম কিন্তু এদের আচরণ,শরীরতত্ত্ব ও বাহ্যিকরূপ একবারেই আলাদা তা জানতে হলে বইটি পড়ে ফেলুন।
এখন যদি জানতে যাওয়া হয় বইটি কারা পড়তে পারবে তাহলে বলবো জেনেটিক্স বিষয়ে জানতে আগ্রহী যেকোন পাঠকের জন্যই লেখা হয়েছে বইটি।তবে আমার মনে হয়েছে এইচএসসি লেভেলের জীববিজ্ঞান বইটি আগে পড়া থাকলে বইটি বুঝতে আরো বেশি সুবিধা হবে।আমার মনে হয়েছে বইটি জেনেটিক্স বিষয়ে পাঠ্য বইয়ের চমৎকার সম্পূরক হিসাবে কাজ করবে।জেনেটিক্স বংশবিদ্যার সহজ পাঠ বইটা বাংলায় জেনেটিক্স সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যেকোন মানুষের জন্য অবশ্য পাঠ্য বলে মনে করি।
ভার্সিটিতে ভর্তির শুরুতেই যদি এই বইটা পড়া থাকতো, তাহলে হয়ত অনেক কিছুই সহজ হয়ে যেত।
স্কুল কলেজে থাকাকালীন সময়টাতে প্রচুর গল্প উপন্যাস পড়লেও, ইউনিভার্সিটিতে ওঠার পর আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি শুধু এমন বইগুলোই পড়তে যেগুলো বায়োলজিকাল সায়েন্স রিলেটেড হবে। সাথে সহজে বোধগম্য, ইন্টারেস্টিং এবং একাডেমিকে হেল্পফুল এমন ফিচারগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছি।
আর আমার ইন্টারেস্টের সাথে শতভাগ মিলে গেছে এই বইটি। আমার রেটিংঃ ১০/১০ (মাস্টারপিস হিসেবে সংগ্রহে রাখার মতো ❤️)
স্পেনের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের মৃত্যুর সাথে সাথে পুরো রাজবংশই বিলুপ্ত হয়ে যায়। না, কোনো যুদ্ধে তার মৃত্যু হয়নি। সতেরো প্রজন্ম ধরে নিজেদের বংশের মধ্যে বিয়ের ধারা বজায় রেখেছিল তারা। বংশগতির রোগে এ রাজবংশের বিলুপ্তিই ছিল যার শেষ পরিণতি! অন্যদিকে, পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিখ্যাত নাম নিকোলো প্যাগানিনির জন্য শাপে বর হয়ে এসেছিল বংশগতিরই এক রোগ! হাতের আঙুলগুলো অদ্ভুতভাবে বাঁকিয়ে বেহালার চার তারে আশ্চর্য সুর তুলতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। শেষমেশ, তার এ অতিমানবীয় কর্মকাণ্ডে জনসমাজে ‘শয়তানের উপাসক’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। প্যাগানিনির সাফল্য কিংবা রাজা দ্বিতীয় চার্লসের মৃত্যু, দুটি ঘটনার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে মূলত বংশগতির একটি উপাদান- জিন। জিন হলো বংশগতির আণবিক একক যা ডিএনএ-তে লিপিবদ্ধ থাকে। বংশগতিবিদ্যা বিজ্ঞানের একটি বিশাল শাখা। বংশগতিবিদ্যার এই বিশাল জগতের সাথে খুব ভালোভাবেই পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম হবে লেখক আরাফাত রহমানের ‘জেনেটিক্স: বংশগতিবিদ্যার সহজ পাঠ‘ বইটি।
জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কিংবা বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু পাঠক মাত্রই বইটি থেকে উপকৃত হতে পারবেন, জেনেটিক্সের মজার জগতের রোমাঞ্চও উপলব্ধি করবেন বেশ ভালোমতোই। তবে জীববিজ্ঞানের বেশ কিছু ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা ব্যবহার ও কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ বাক্যের বিন্যাস পড়ার স্বাভাবিক গতিতে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তবে এতে বইয়ের মূল বিষয়বস্তু আহরণে বিন্দুমাত্র সমস্যার সৃষ্টি হবে না! সব মিলিয়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ে অনন্য এক সংযোজন হয়ে থাকবে বইটি।