জীবনভর বুক পকেটে আগলে রেখে যে স্মৃতি জমায় মানুষ, সেসব ফেলে এক শান্ত বিকেলে কতো সহজেই চলে যায় তারা। আর কখনোই ফিরে আসেনা মায়াভরা এই পৃথিবীতে।
ছোট একটামাত্র জীবন। কিন্তু এই এক জীবনেই মানুষ কতো কিছু ছেড়ে দেয়ার দুঃখ জমায়। কাছের মানুষ, বাড়িঘর, জমানো স্মৃতি কিংবা সত্যি না হওয়া স্বপ্ন — সব ছেড়ে দিতে হয়। এই ছেড়ে চলে যাওয়ার গল্পগুলোতে বিষাদ জড়িয়ে থাকে, জড়িয়ে থাকে কতো না বলা কথা, দুঃখ।
ছেড়ে চলে যাবার এইসব গল্পগুলোতে সাক্ষী হিসেবে পড়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা একটা নিঃসঙ্গ বাড়ি। মানুষের মত নিজের কাছে জমতে থাকা দুঃখগুলোকে প্রকাশ করতে না পারার আফসোস নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।
মানুষ আসে, চলে যায়। তারপর নতুন মানুষ আসে, সেও চলে যায়। কেউ কেউ ফিরে আসে। কেউবা কখনোই ফিরে আসে না। কিন্তু বাড়িটা রয়ে যায়, কতো মানুষের স্মৃতি আগলে রাখে অকপটে। কী ভীষণ শূন্য সেসব বাড়ি! অব্যক্ত ব্যাথা নিয়ে বেঁচে থাকা আমাদের — বিষাদবাড়ি।
বিষাদবাড়ি — দুঃখ জমাট বাঁধা জীবনের এক অনন্য উপাখ্যান, এক অজানা টানাপোড়েনের গল্প, বিষাদের গল্প। বিষাদবাড়ি জয়নব, হালিমা কিংবা অবন্তীর গল্প। অথবা এই অজানা গল্পটা হয়তো আমাদের সবার।
গভীর জীবনবোধের এক অনন্য উপাখ্যানে হারিয়ে যেতে পড়ুন — বিষাদবাড়ি।
I have been working at Masco Group as an Assistant Merchandiser for around 1.5 years. Before that, I worked at H&M in the Material Integrity team for around 6 months. I've worked to ensure 100% sustainable and recycled materials. That valuable journey has boosted my experience and interest in Textiles!
I am also an Author. I have already published 4 books. Besides, I am very good at Public Speaking also. I had won the Public Speaking Championship two times!
I am a highly organized, ambitious, and hard-working individual, with broad skills and experience in handling multiple tasks daily competently.
আচ্ছা আপনি কখনো কোন বড়োসড়ো দুঃখ পেয়েছেন? কিংবা কখনো একাকীত্ব বিষণ্নতার টের পেয়েছেন? অনুভব করতে পেরেছেন খুব কাছের মানুষ/ আপন মানুষদের হারিয়ে ফেলার খুব বাজে অনুভূতি? তাহলে চলুন বিষাদ বাড়ির আঙিনায় __________ জয়নবের ভাই এবং ভাবি শহরে জীবন যাপন করলেও জয়নব গ্রামে খুব সহজ সরল জীবনযাপন করছিল তার মা কে নিয়ে। বাবাকে হাড়িয়ে এখন জয়নবের পুরো পৃথিবী জুড়ে রয়েছে শুধুমাত্র তার মমতাময়ী মা। তাই একদিন মায়ের কথায় বিয়ে করে হালিমাকে। মা এবং হালীমাকে নিয়ে খুব সুখী ও সুন্দর দিন অতিবাহিত করছিল জয়নব।হালিমার সাথে তার প্রেম,ভালোবাসা কি মধুর ছিল।কি আশ্চর্য!!হুট করে একজন অপরিচিত মানুষ, কতটা আপন হয়ে উঠল।ভাবা যায়? কাহিনী এভাবেই এগুতে থাকে। কিন্তু কথায় আছে না,বেশি সুখ কপালে সয়না। হঠাৎ একদিন জয়নবের মা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। "জীবনভর বুক পকেটে আগলে রেখে যে স্মৃতি জমায় মানুষ, সেসব ফেলে এক শান্ত বিকেলে কতো সহজেই চলে যায় তারা। আর কখনোই ফিরে আসেনা মায়াভরা এই পৃথিবীতে।" জয়নবের মনের আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে,পৃথিবীটা শূন্য মনে হয়,বাড়িটা কেমন যেন প্রানহীন লাগে,অশান্তি লাগে,অসহায় লাগে।বিষাদে বিষাদাচ্ছন্ন ও ছন্নছাড়া পাগলের মত হন্যে হয়ে বেঁচে থাকে।মায়ের শোক যেনো কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিল না।এমনই একদিন হঠাৎ করে বড় ভাইয়ের পরামর্শে জমি বিক্রি করে জয়নব ও হালিমা চলে যায় শহরে।হালিমারও অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল শহর ঘুরে দেখার।ভাগ্যক্রমে তারা দু'জনই শহরে কাজ পেয়ে যায়।তাদের দিন ভালোই যাচ্ছিল, বড় ভাই-ভাবিকে পাশে পেয়ে বেশ খুশি ছিল দু'জন। হালিমা যেদিন জানতে পারলো সে গর্ভবতী সেদিন জলদি বাড়ি ফিরে আসে এবং অপেক্ষা করতে থাকে কখন জয়নব বাড়ি ফিরবে আর সে এই সংবাদটা জয়নবকে দিবে।হালিমার যেন সময় কাটছেই না,অপেক্ষার প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না। কিন্তু কে জানতো হালিমার এই অপেক্ষার প্রহর যে আর কোনো দিনই শেষ হবার নয়। কে জানতো হালিমার স্বপ্নের শহরে আসাটাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াবে?শুরু হবে এক অভিশপ্ত অধ্যায়। কিন্তু কিভাবে? গভীর বিষাদের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাড়িয়ে থাকে একটি বাড়ি, লেখক সেই বাড়ি নাম দিয়েছেন "বিষাদবাড়ি। "
গল্পের শুরুটাই হয় আরশির আত্মহত্যা দিয়ে।বইয়ের ঠিক এক,দুই পেইজেই লেখক আপনার মাথায় একটি প্রশ্ন জাগিয়ে দিবে "কে এই আরশি?আরশি কেনো আত্মহত্যা করল?" মোটামুটি একটি টান টান উত্তেজনা নিয়েই চলে যাবেন জয়নব এবং হালিমার গল্পে।দেখতে পাবেন শহুরে জীবন এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র। অপহরণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, দুঃখ কষ্টের আরো না বলা গল্পগুলো লেখক তার এই ছোট্ট "বিষাদবাড়ি"তে তুলে ধরেছেন।তিনি আরো তুলে ধরেছেন একটি পরিবারের টানাপোড়নের গল্প,বখে যাওয়া পাড়ার ছেলেদের অত্যাচার,সমাজের প্রভাবশালী লোকদের ক্ষমতার অপব্যবহার, অবন্তীর চাপা কষ্ট,মেয়ে মানুষদের মেনে নেয়া-মানিয়ে নিতে শিখা ও জীবনের নানা জটিলতা স্বচ্ছভাবে অনেকটা লেখক তার কলমের কালিতে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এবং লেখক যে তার লেখার পাশাপাশি বইয়ের প্রচ্ছদ ও বইয়ের নামকরণে যথেষ্ট সর্তক ছিলেন সেটা বইটি পড়লেই বুঝতে পারবেন।এটি তার দ্বিতীয় বই হিসেবে দারুণ লিখেছেন। সর্বোপরি বলতে চাই,কোনো এক বিকেলের অবসরে সঙ্গী করে নিতে পারেন নাহিদ আহসানের এই অসাধারণ ট্রাজেডি উপন্যাস "বিষাদবাড়ি"কে। খুব সুন্দর, সহজ,সরল বুলি দিয়ে লেখক পুরোটা বই লিখেছেন।আশা করি গল্পটা বুঝতে কারোর অসুবিধে হবেনা এবং সেই সাথে "বিষাদবাড়ি"র গল্প সবার মন ছুঁয়ে যাবে।
বইঃ বিষাদবাড়ি লেখকঃনাহিদ আহসান Nahid Ahsan ধরণঃসমকালীন উপন্যাস রেটিঃ৪.৫/৫ পৃষ্ঠাঃ১১৯