‘জুলাই, ১৯৪৩’। নিজের সময়পঞ্জিতে এই এন্ট্রির পাশে স্বহস্তে লিখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু— Began work. কাজ শুরু করলাম। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড জুড়ে তাঁর সেই ‘কাজ’ ঘুম কেড়ে নেবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্রের। জন্ম দেবে এই কালখণ্ডে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাপরম্পরার— আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারত অভিযান।
সিঙ্গাপুর থেকে মালয় উপদ্বীপ ধরে, আধুনিক তাইওয়ান এবং মায়ানমার হয়ে উত্তর-পূর্বের পথে ভারতে পা রেখেছিলেন নেতাজি ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ। কোহিমার মাটিতে ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে তুলে দিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় পতাকা। তাঁদের অপার দুঃসাহস, অদম্য দেশপ্রেমের সাক্ষী এই ভূখণ্ড।
ইতিহাসসিক্ত সেই পথ ধরে যাত্রা করেছেন অভিযাত্রী অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়। নিছক ভ্রমণকথা নয় এ-বই, বরং প্রচেষ্টা এক ইতিহাসকে ফিরে বাঁচার, ভূখণ্ডের স্মৃতি হাতড়ে তুলে আনা ভারতবর্ষের ‘স্বাধীনতার শেষ যুদ্ধ’-এ এক দুঃসাহসী দেশনায়ক এবং তাঁর হার-না-মানা ফৌজের মরণপণ লড়াইয়ের অজানা কাহিনি।
পর্বতারোহী, অভিযাত্রী, বক্তা, লেখক। অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের নামের পাশে এমন একাধিক অভিধা বসতে পারে। ভ্রমণের নেশা বরাবর ছিল; কালক্রমে তাতে মিশেছে আবিষ্কারের উত্তেজনা ও অভিযাত্রীর দুঃসাহস। আফ্রিকা মহাদেশের বুক চিরে সাইকেল সফর থেকে শুরু করে হিমালয়ের নাম-না-জানা হিমবাহে নতুন প্রজাতির খোঁজ, ইউনান পর্বতের অনাবিষ্কৃত শৃঙ্গজয় থেকে শংকরের পথ ধরে ‘চাঁদের পাহাড়’-এ পাড়ি— এমনই সব অভাবনীয় অভিজ্ঞতায় ভরা তাঁর ঝুলি।
অভিযানের গল্প বলার ডাক এসেছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জেনোমিকস পর্যন্ত। জেমু গ্যাপ আরোহণের জন্য হিমালয়ান ক্লাবের তরফ থেকে ২০১৩ সালে পেয়েছেন জগদীশ নানাবতী পুরস্কার। পাঁচ মহাদেশ মিলিয়ে গোটা তিরিশেক দেশে অনিন্দ্য ছুটে বেরিয়েছেন গল্পের খোঁজে। ছাপার হরফে নথিবদ্ধও হয়েছে সেসব গল্প।
নমস্কার লেখক, প্রথমেই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই নেতাজি কে নিয়ে লেখার জন্য। ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুবাদে বা কুবাদেই বলুন আমার বাংলার দক্ষতা "সুচাগ্রো মেধুনী"র মতোই। তাই সত্যই প্রথমে এত সহজ বাংলা পড়তেও কঠিন লাগছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে যখন সয়ে গেল তখন এক ঢাকায় পরে ফেললাম বইটি। দশম শ্রেণীর আইসিএসই ইতিহাস এর project এ নেতাজি ছিল আমার টপিক। স্বাভাবিক ভাবেই গুগল বাবার সাহায্য নিতেই হয়েছিলো। তখন হয়তো এই বই থাকলে অনেক সাহায্য পেতাম। বইটি vlog আর ইতিহাস এর একটা অসাধারন মেল বন্ধন। তাই বই পড়ার সাথে সাথে বেড়ানো আর জ্ঞান অর্জন দুই হলো। সিঙ্গাপুরে, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড আর মিনমার ঘরা হয়ে গেলো এক সাথে, নেতাজির বেনজীর জীবন ইতিহাস এর সাথে। নেতাজির সম্বন্ধে যত বলা হয়ে ততই যেনো কম। ওনার মত নায়ক, দূরদর্শী, সাহসী, জ্ঞানী ও দেশপ্রেমী কেও হবে না। পেরুমোল জি আর কলিপ্রসাদ জি র মত নেতাজী উদ্দীপ্ত মানুষ এত কষ্টেও ওনাকে বুকে আগলে রেখেছেন। ভারত সরকার এর ঐদাশিন্য দেখেও চোখ কপালে উঠে যায়। আমার অল্প জ্ঞ্যানে কিছু উপলব্ধি আপনাকে জানাবো। প্রথম, বাংলাতে কিছু বানান এত কঠিন, সিংগাপুর অভিযানে, যে পড়তে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আর দুই, এই লেখা বাংলা আর ইংরেজি দুটোতেই চাপলে ভালো হয়ে। শুধু বাঙালি নয়, গোটা ভারত আর বিদেশে এই বই পৌঁছে যাওয়া উচিত। ধন্যবাদ 😊🙏।
This entire review has been hidden because of spoilers.