ছোট্ট বাচ্চুর নিজের দেশটা খুবই সুন্দর। কিন্তু তার তাজ্জব লেগে যেত নয়াপাড়ার জমিদারবাড়ি দেখে—যে-জমিদারবাড়ির এক-নম্বর আমলা তার বাবা। শীতলক্ষ্যা নদীর পারে বড়-মেজো-ছোট তরফের চক-মেলানো দোতলা বিশাল সব ঘরবাড়ি। ঘোড়াশালে ঘোড়া, পিলখানায় হাতি। শীতলক্ষ্যার বুকে ঝাঁক-ঝাঁক পাখি আর সার-সার নৌকা। এক-মাল্লা, দো-মাল্লা, তে-মাল্লা। ফি বছর পুজোর সময় বাবার পাঠানো নৌকোয় চড়ে বাছুরা পৌঁছে যেত নোয়াপাড়ায়। সেই জমিদারবাড়িতেই দেখা ইন্দুর সঙ্গে। বাচ্চুর থেকে কত আর বড়, কিন্তু যেমন সাহস, তেমনই বুদ্ধি ইন্দুর। বাচ্চুকে ইন্দু বিন্নির খই আর লাল বাতাসা খাওয়ায়, আবার ভয়ও দেখায়। কখনও পরি সেজে, কখনও সার্কাসের কায়দায় উঁচু কার্নিসের উপর দিয়ে সটান হেঁটে গিয়ে। এই বাচ্চু আর ইন্দুকে নিয়েই পুববাংলার চিত্রময় পটভূমিকায় এই দুর্দান্ত উপন্যাস। ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক কিশোরীর রুখে দাঁড়ানোর আশ্চর্য কাহিনী।
Atin Bandyopadhyay (Bangla: অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়; anglicised spelling of surname: Banerjee) is a noted writer of Bengali literature. He was born in 1934 in Rainadi, Dhaka.
He spent his childhood in a joint family set-up in the then East Bengal of undivided India and studied in Sonar Gaon Panam School. After the Partition, migrated to India. He earned his undergraduate degree in commerce in 1956 and subsequently earned a teacher's training degree, all from the University of Calcutta. He took various jobs as a sailor, truck-cleaner, primary school teacher. Also became headmaster of a senior basic school. Settled permanently in Kolkata in 1963. Here also he took on various jobs like factory manager, publication advisor and lastly journalist.
The first story of the author was published in the magazine Abasar of Berhampore. He has penned many works since then, but his masterpiece is a three-part trilogy on the Partition: Nilkantha Pakhir Khonje (নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে), Aloukik Jalajan (অলৌকিক জলযান) and Ishwarer Bagan (ঈশ্বরের বাগান). Another famous writer of Bengal, Syed Mustafa Siraj has compared Nilkantha Pakhir Khonje (নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে) with Greek tragedies and also found it tuned with the core spirit with the Bangla literature like Bibhutibhushan Bandyopadhyay's Pather Panchali.
কী যে অদ্ভুত সুন্দর একটা বই!প্রায় শতবর্ষ আগের ঢাকার পটভূমিতে লেখা।বাচ্চু আর জমিদারের মেয়ে ইন্দুর বিচিত্র সব অভিযান, অভিমান আর পূজার দিনগুলি যেমন আছে, তেমনি আছে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বর্তমানে এ বই লিখতে গেলে লেখককে দু'বার ভাবতে হতো। গল্পটা একদিকে জমজমাট, অন্যদিকে তখনকার সমাজ বাস্তবতা ও ধর্মীয় কুসংস্কার ধরে রেখেছে নিজস্ব ধরনে। দুঃখজনক বিষয়, এসব ব্যাপারে সমাজ এখনো তেমন প্রাচীনই রয়ে গেলো। মানুষ আর এগোতে পারলো কই?
কদিন আগে বইয়ের এক গ্রুপে একটা খেলা খেলেছিলাম। সেখানে অন্তত একটি বই পড়লে লেখকের জন্য পয়েন্টস যোগ হচ্ছিল পাঠকের খাতায়। তো সেখানে দেখলাম, কয়েকজন লেখকের কোন লেখাই এখনো আমার পড়া হয়নি। তার মধ্যে ভাবলাম, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় এর একটা বই পড়ি। তাঁর দেশভাগ সিরিজটাও আমার এখনো পড়া হয়নি। কিন্তু এত বড় কলেবরের বই হাতে নিয়ে না পড়লে ভালো লাগে না। তাই ভাবলাম অন্য একটা বই শুরু করি। বিন্নির খই লাল বাতাসা ক্যাটাগরির দিক দিয়ে কিশোর উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত হলেও লেখক এমন কিছু বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন উপন্যাসটিতে, যে এটিকে অনায়াসে ক্লাসিকের কাতারে ফেলা যায়। আশ্চর্যরকম প্রাসঙ্গিক বইখানা৷ উপন্যাসের মূল চরিত্র দুই কিশোর কিশোরী, বাচ্চু আর ইন্দু। ইন্দু জমিদারের মেয়ে, তার বাবার কাছারিতে উচ্চপদে কর্মরত বাচ্চুর বাবা। সেই সূত্রে দুজনের বন্ধুত্ব। বাচ্চু একজন সাধারণ গ্রাম্য কিশোর। ভূতপ্রেত, পরী, অলৌকিকে তার বিশ্বাসের অভাব নেই। সেই দুর্বলতার কথা জেনে ইন্দু তাকে নিয়ে মজা করে। ইন্দু অসমসাহসী, বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী এবং মায়াবতী এক মেয়ে। পোষা হাতি লক্ষীর প্রতি তার অগাধ মমতা। সে সার্কাসের কৌশল শিখেছে, ফলে কার্নিশে হাঁটতে বা এক পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে তার কোন অসুবিধা হয় না। সে প্রায়ই বাচ্চুকে নিয়ে খুঁজতে বেরোয় নদী কোথায় যায় সেটা। কিন্তু বাচ্চু এসবে ভয় পায়। ভাবে ইন্দু হয় পরী, নয় দেবী। মরশুমটা পূজোর। নায়ে নায়ে ঠাকুরের ভীড়। গ্রাম, নদীনালা, ধানক্ষেত, সুপারিবাগান এসবের মায়াময় বর্ণনায় লেখক এক অসম্ভব সুন্দর কল্পলোকের সন্ধান দেন। কিন্তু সবকিছু সরল থাকে না। এক পূজোর মরশুমে ইন্দুর চিঠি আসে বাচ্চুর কাছে, যাতে ইন্দুর বাঁচার আকুলতা বাচ্চুকে নাড়া দেয়। সে জমিদারবাড়িতে যায় পূজোর ছুটি কাটাতে। গিয়ে দেখে ইন্দু বন্দী। গ্রামের এক সাহসী, বহির্মুখী, পৃথিবীকে দেখতে চাওয়া কিশোরী যে ধর্মব্যবসায়ীদের কাছে এক হুমকি বলে বিবেচিত হবে এ আর নতুন কী! ত্রিকালদর্শী সাধু সর্বজ্ঞ, যিনি ইন্দুর বাবার গুরুদেব, তার মোহমায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে বাড়ির সকলেই ভেবেছেন যে ইন্দুর উপর কোন অশুভ আত্মার প্রভাব রয়েছে। ইন্দু আর বাচ্চু অভিযানে নামে নিজেদেরকে মুক্ত করতে এবং সবশেষে খুঁজতে বেরোয় জীবনের আশ্চর্য গতিপথ, একসাথে। অদ্ভুত একটি কিশোর উপন্যাস আসলে এটি। সব বয়েসী পাঠকদের উপযোগী বইটি নানা কুসংস্কার এবং ধর্মব্যবসার দিকে আঙুল তোলে। দেখিয়ে দেয় কত সহজেই মানুষকে মূঢ় বানিয়ে রাখা যায়। স্রোতের বিপরীতে যারা হাঁটে তারা সম্মুখীন হয় কত অজস্র বিপদের। বাচ্চুর দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি বলা হলেও মূল চরিত্র আসলে ইন্দু। বাংলা সাহিত্যে এমন অসাধারণ কিশোরী চরিত্র বিরল। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় এর সাথে প্রথম পরিচয় সারাজীবন মনে থাকবে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫
চঞ্চল, ছটফটে, বর্ণিল চরিত্রের ইন্দু মানুষ নাকি পরী-তা ভেবে পায় না নিরীহ, আলাভোলা প্রকৃতির বাচ্চু। সমবয়সী ইন্দুর দৌরাত্ম্যে সময়ে সময়ে নাজেহাল হলেও ইন্দুর আকর্ষণ এড়িয়ে থাকতে পারে না সে। কাজেই, মানুষ নাকি পরী-এই ধন্দ নিয়ে বেড়ে উঠছিলো দু'জনে। পাঁচ আনি জমিদার বাড়ির মেয়ে ইন্দু। কাউকে বিশেষ পরোয়া করে না। স্বভাবে প্রচণ্ডরকমের দুরন্ত। শাসন-বারণ থাকলেও কে তা পাত্তা দেয়। এই দেখা যায় দেয়ালের কার্ণিশ বেয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কিংবা প্রকান্ড ছাদে যেখানে অনেক পাথরের পদ্মফুল ফুটে আছে সবচেয়ে কোণার দিকের পদ্মফুলের উপর পরী হয়ে উড়ে যাচ্ছি উড়ে যাচ্ছি ভাব করে দাঁড়িয়ে থাকে। কখনও বা সিঁড়ি দিয়ে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে যাওয়া, দৌড়াতে দৌড়াতে নদীর ধারে যেয়ে নৌকায় লাফিয়ে উঠে দড়ি কেটে দেয়া, কিংবা বিশাল সুপুরির বনে ম্যাজিকের মতো অন্তর্ধান হয়ে বাচ্চুকে চমকে দেয়া ইন্দুর একদম বাঁ হাতের খেল। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে যখন তখন লক্ষ্মীর শুঁড় বেয়ে বেয়ে ওর পিঠে চেপে বসা। বাচ্চু এ সময় কাঠ হয়ে বসে থাকে ভয়ে। ওহহো! লক্ষ্মীর পরিচয়টাই তো দেয়া হয়নি। লক্ষ্মী জমিদার বাড়ির পোষা হাতি। ইন্দুর জানের জান। তবে, বাচ্চুর সাথে যে ইন্দু কেবল দুষ্টুমি করে জ্বালিয়ে মারে তা কিন্তু না। বিন্নির খই লাল বাতাসা যে খেতে কতো মজা তা তো ইন্দুই বাচ্চুকে শিখিয়েছে। আবার খেতে বসলে ইন্দুর দিদিগিরি করা চাই.. বাচ্চুকে মাছের কাঁটা বেছে দিবে। এমন ধারা পাগলাটে ইন্দুকে ভালো না বেসে কী থাকা যায়?
হঠাৎ একটা গোপন চিঠি আসে বাচ্চুর কাছে। এ হেন পাগলা ইন্দু দেবীর দিব্যি দিয়ে লিখেছে পূজোর ছুটিতে বাচ্চু যেন আসে! নয়তো ইন্দু নাকি হারিয়ে যাবে। অজানা বিপদের আশংকায় ছ্যাঁত করে বাচ্চুর মন। ইন্দুর বিপদে না যেয়ে কী পারে? পূজোয় জমিদার বাড়িতে যেয়ে দেখে কেমন থমথমে একটা পরিবেশ। আনন্দ আর হুল্লোড়ে ভরে থাকা বাড়িটার সর্বত্র জড়িয়ে আছে একটা ভয়ের চাদর। এই বাড়িতে নাকি ধেয়ে আসছে কঠিন বিপদ! সবচেয়ে অবাক হলো ইন্দুকে দেখে। আগের সেই ফ্রক পড়া দু:সাহসী মেয়েটাকে কোথাও খুঁজে পেলো না বাচ্চু। বরং গোলগাল ফর্সা মুখ, এক ঢাল চুল খোপা করে রাখা, শাড়ি পড়নে খুদে এক ভদ্রমহিলার দর্শন পেলো সে। আগে তো ধন্দ ছিলো মানুষ নাকি পরী, এবারে আবারও ধন্দ। দেবী? আসলেই দেবী? নাকি সত্যি দুরন্ত ইন্দু?
গল্প এগিয়ে যায়। এক কাপালিকের চোখ পড়েছে ইন্দুর উপর। ধর্মের নাম দিয়ে সর্বজ্ঞ নামের এই বাটপার দখল করতে চায় সব। ইন্দু ভন্ডামি ধরে ফেলায় এখন তার ঘোর বিপদ। বিন্নির খই-এর বিপদে লাল বাতাসা কেমন করে চুপ থাকে? রাতের আঁধারে ওরা পরিকল্পনা করে শায়েস্তা করতে হবে এদের।
মোটা দাগে কাহিনি এটা হলেও অসম্ভব রকমের সুন্দর একটা বই। বইটা পড়তে পড়তে কতোবার যে গুজবাম্প হইলো! বলার বাইরে। কিশোর উপন্যাস তো এমনই হওয়া উচিত। প্রকৃতির উদার বর্ণনা, ইন্দু-বাচ্চুর খুনসুটি, ওদের ভয়, ভয়কে জয় করার কৌশল.. অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এতো মায়া মায়া লেখা! ইশ! শুরুটা অবশ্যই দুর্দান্ত। মাঝে দিয়ে একটু খানি স্লো হয়ে গেলেও এন্ডিং এমন হুড়াহুরি করে দেয়ায় ভালো লাগেনি মানে দুক্ষু পেয়েছি এই যা! চোখের সামনে কেবল একটা দৃশ্য ভাসছে.. ফ্রক পড়া একটা মেয়ে তীব্র জ্যোৎস্নার মায়াবী আলোতে বন পেড়িয়ে ছুটে যাচ্ছে, আর পিছু নিচ্ছে একটা ছেলে.. বনের নীরবতা খান খান করে ভেসে এল একটা প্রশ্ন... 'নদী কোথায় যায় রে?'
বইটার প্রথম প্রকাশের সময় দেখলাম, ১৯৯১.. ইশ! সত্যজিৎ রায় মারা গেলেন ১৯৯২ এ। নয়তো অপু-দুর্গার মতো একটা ক্লাসিক জুটি বাংলা সিনেমা পেয়ে যেত��� ইন্দু-বাচ্চুর মধ্য দিয়ে... আফসোস! খুব আফসোস।
বইটা অনেক দিন ধরে পড়ার খুব শখ ছিল। হারুন ভাইকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ বইটার জন্য। ❤️
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেশভাগ সিরিজের কথা শোনে নি এমন বাঙালি পাঠক পাওয়া দুষ্কর। বহুদিন ধরে আমি ' নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে' কিংবা 'ঈশ্বরের বাগান' - এর সুখ্যাতি শুনে এসেছি। তবু কেন জানি না এই লেখককে জানার প্রথম বই হিসেবে একে বেছে নিলাম। হয়তো তার জন্য অনেকাংশে দায়ী বই বইয়ের প্রচ্ছদ আর নাম। এই বই যদিও কিশোরপাঠ্য তবে এর গভীরতা সমাজের অন্ধত্বকে এত সহজভাবে তুলে ধরেছে যা ভাষায় বলে বোঝানো যায় না।
ছোট্ট বাচ্চুর নিজের দেশটা খুবই সুন্দর। কিন্তু তার তাজ্জব লেগে যেত নয়াপাড়ার জমিদারবাড়ি দেখে - যে জমিদারবাড়ির এক নম্বর আমলা তার বাবা। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বড়-মেজো-ছোট তরফের চক-মেলানো দোতলা বিশাল সব ঘরবাড়ি। ঘোড়াশালে ঘোড়া, হাতিশালে হাতি। শীতলক্ষ্যার বুকে ঝাঁক-ঝাঁক পাখি আর সার-সার নৌকা। এক-মাল্লা, দো-মাল্লা, তে-মাল্লা। ফি বছর পুজোর সময় বাবার পাঠানো নৌকায় চড়ে বাচ্চুরা পৌঁছে যেত নোয়াপাড়ায়। সেই জমিদারবাড়িতেই দেখা ইন্দুর সাথে। বাচ্চুর থেকে কত আর বড়, কিন্তু যেমন সাহস, তেমনই বুদ্ধি ইন্দুর। বাচ্চুকে ইন্দু বিন্নির খই আর লাল বাতাসা খাওয়ায়, আবার ভয়ও দেখায়। কখনও পরি সেজে, কখনও সার্কাসের কায়দায় উঁচু কার্ণিসের উপর দিয়ে সটান হেঁটে গিয়ে। বহু বছর বাদে সেই ইন্দুর বাড়ি আবার বাচ্চু উপস্থিত যখন তার মারাত্নক বিপদ। সে না আসলে ইন্দু নদীর পাড়ে হারিয়ে যাবে। এই বাচ্চু আর ইন্দুকে নিয়েই পূববাংলার চিত্রময় পটভূমিকায় এই দুর্দান্ত উপন্যাস। ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক কিশোরীর রুখে দাঁড়ানোর আশ্চর্য কাহিনী।
এই উপন্যাসের গল্পের সাথে বেশ মিল পাওয়া যায় প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের 'দেবী' -র। জমিদার বাড়িতে এক কাপালিকের কুমারী হওয়ার আহ্বান আসে ইন্দুর কাছে। আর সাথে সাথে মাঠে মাঠে ছুটে বেড়ানো মেয়েটাকে বন্দি করে ফেলা হয় চারদেয়ালের মাঝে। ফ্রক ছেড়ে তার পরনে আসে লালপাড় শাড়ি। কিন্তু তেমনই মজার নানান ঘটনার মাধ্যমে এই সব কিছুকে নস্যাৎ করে দিয়ে সে আবার স্বাধীন হয়। এই গল্প কেবল ছদ্মনামে থাকা ' বিন্নির খই' আর 'লাল বাতাসা' নামের কিশোর কিশোরীর নয়, এই গল্প পুববাংলার হিন্দু জীবনযাত্রার অদ্ভুত এক দিক তুলে ধরেছে। তাদের সহজ সরল জীবন আর স্বপ্নিল ভাবনায় কি যেন এক রূপকথার জগৎ তৈরি হয় আমার মনে, কৈশোর পার করেও মনে হয় পূর্ণিমার রাতে পরিরা হয় পরিরা হয়তো সত্যিই উড়ে বেড়ায় রাতের আকাশে।