অন্তিম মুহূর্ত লেখক : আব্দুল মালিক আল কাসিম প্রকাশনী : রুহামা পাবলিকেশন বিষয় : পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম অনুবাদ : আব্দুল্লাহ ইউসুফ বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮৮‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।’ পবিত্র কুরআনের এ আয়াতটি আমরা প্রায় সকলেই মুখস্থ পারি, কিংবা এর অর্থটুকু হলেও জানি। কিন্তু কতটুকু আমরা মৃত্যুর মর্ম অনুধাবন করি? মৃত্যু নিয়ে কি আদৌ আমরা ভাবি? কিন্তু একটা সময় আসবে, যখন আমাদের মৃত্যু নিয়ে ভাবতে হবে; ভাবতে হবে মৃত্যু-পরবর্তী জীবন নিয়ে। সে জীবনে নিজের অবস্থা কেমন হবে—এমন সকল প্রশ্ন নিয়ে আমরা ভাবব; ভাবতে বাধ্য হবো। সে সময়টাই আমাদের এ জীবনের অন্তিম মুহূর্ত। – এ দুনিয়া থেকে যতজন বিদায় নিয়েছে, সবাইকে অন্তিম মুহূর্তের কষ্ট-যন্ত্রণা সয়ে যেতে হয়েছে। নবি-রাসুল আলাহিমুস সালাম-এর জন্যও কষ্ট-যন্ত্রণার এ অন্তিম মুহূর্তটি এসেছিল। এসেছিল সালাফে সালেহিনের জীবনেও। জীবন সায়াহ্নে আসা সে সময়টা নিয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন, নবি-রাসুল ও সালাফে সালেহিনের শেষ সময়ের চিত্রগুলো উঠে এসেছে ‘অন্তিম মুহূর্ত’ বইটিতে। এটি শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিমের الأنفاس الأخيرة গ্রন্থের সরল অনুবাদ।
এই ব্যস্ত কোলাহলময় জীবনকে নিয়ে নতুন ভাবে ভাবতে ও তার বাস্তবতা তুলে ধরতে বইটি অনেক কার্যকরী প্রমাণিত হবে ইন শা আল্লাহ!! জীবন ও তার বাস্তবতা নিয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ সব আলোচনা নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। প্রায় প্রতিটি বাক্যেই রয়েছে চিন্তার খোরাক ও হৃদয়কে নাড়া দেয়ার ক্ষমতা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট সালাফ ও ব্যক্তিবর্গের অন্তিম মুহূর্তের অবস্থা ও উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে এই বইতে। পুরো জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া শিক্ষা থেকে বের হওয়া হৃদয়বিদারক উক্তিগুলোতে আমাদের জন্য রয়েছে অমূল্য সব উপদেশ ও দিকনির্দেশনা।
বরাবরের মতো রুহামার এই বইয়েরও প্রচ্ছদ,কাগজ,অনুবাদ,বাক্য গঠন এসবকিছুই খুব উন্নত মানের। সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজগতের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।
অবশেষে আলোচ্য বইয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশঃ-
নিশ্চয় মৃত্যুর মুহূর্ত ও তার পরবর্তি অবস্থা নিয়ে সর্বদা ভয় ও ভাবনায় থাকা, নেক আমল ও তাওবার মাধ্যমে তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা, এগুলো হচ্ছে উত্তম মানবের গুণ। এগুলোই পূণ্যবানদের সাধনা।
আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার মৃত্যু সজ্জায় বললেন, "তোমরা আমাকে ওঠাও।" তখন লোকেরা তাকে এতটুকু পরিমাণ উঠাল যে, তিনি বাতাসের ঘ্রাণ নিলেন। তারপর বললেন, "হে দুনিয়া, তোমার ঘ্রাণ কতই না উত্তম! কিন্তু তোমার দৈর্ঘ্য কতই না কম। তোমার প্রাচুর্য কতই না স্বল্প। অথচ আমরা তোমাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তোমার ধোঁকায় ঘুরপাক খেয়েছিলাম।"
এ জীবন! এ জীবন খুবই ছোট। তার বেশির ভাগই তো কত কারণে চলে গেল। আর বাকি সময়টুকুকে তুমি বিভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে, ওজর দিয়ে দিয়ে নষ্ট করছ?