যন্ত্র কী? তন্ত্রে 'যন্ত্র' বলতে আমরা কিছু জ্যামিতিক আকারের সমন্বয়কে বুঝি— যারা সাধকের আধ্যাত্মিক ভাবনার সারটুকুর আধার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু শুধু ক'টি ত্রিভুজ, বৃত্ত আর পদ্মের পাপড়ি আকারের রেখার মধ্যে কী এমন শক্তি লুকিয়ে থাকে, যার টানে সাধক থেকে ভক্ত— সবাই একে খোঁজেন?
তন্ত্রের অংশ হিসেবে ব্যক্ত সাধনা ও নিহিত দেহতত্ত্বর অতি সংক্ষিপ্ত বিবরণের মাধ্যমে এই প্রশ্নটিরই উত্তর খুঁজেছেন লেখক।
মোট ছেচল্লিশটি এক কি দু'পাতার অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে আলোচ্য বইটি। সহজ অথচ কিঞ্চিৎ নীরস ভঙ্গিতে এই অধ্যায়গুলোতে তুলে ধরা হয়েছে তন্ত্রের পূজা ও ভাবনার নানা দিক। কিন্তু...
মুশকিল হল, এই সংক্ষিপ্ত তথা প্রায় বীজাকার পরিবেশনের ফলে বইটি অনুসরণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে আমি এই বইয়ের এমন ক'টি অধ্যায়ের শীর্ষক উল্লেখ করছি, যাদের নিয়ে আলোচনা পাতাদেড়েক কি দু'পাতায় সেরে ফেলা হয়েছে~
১. মাতৃকাবর্ণ
২. মহালয়া
৩. আঠারো হাতের দুর্গা
৪. তান্ত্রিক দেবদেবী
৫. দেহযন্ত্র।
বুঝতেই পারছেন, এইসব প্রসঙ্গ এক-একটা আস্ত বই দাবি করে। সেখানে এতটা সংক্ষেপে তাদের উল্লেখ থেকে না পাওয়া যায় বিস্তৃত ধারণা, না জাগে কোনো অধ্যাত্মবোধ।
তবে হ্যাঁ, 'কাপালিকের কীর্তিকলাপ' আর 'তান্ত্রিকের ত্যাঁদড়ামো' গোছের যে-সব আবর্জনায় এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যের আঙিনাটি দূষিত হচ্ছে, তার বাইরে, তন্ত্রের প্রকৃত রূপটি বুঝতে চাইলে এমন বই-ই কিন্তু পড়া দরকার। শুধু এই শুষ্কং কাষ্ঠং জিনিসের পাশে সতীন্দ্রমোহন কি পাঁচকড়ি না পড়লে সবটাই ফসকে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়— এই আর কি।