“এই বইটার গল্পগুলো ও তার চরিত্রেরা কোনও প্রবল ক্র্যাশ মিউজিক ছাড়াই লৌকিক থেকে অলৌকিকে, বাস্তব থেকে অতি বা পরাবাস্তবে এমন স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়ে যে পাঠকের মনে হবে সেইটেই স্বাভাবিক, আমিও পারি। পাঠককে এইভাবে গল্পের মধ্যে টেনে নেবার এই কৌশলটা যার থাকে তার থাকে। গল্প লেখার ওয়ার্কশপ করে তাকে বাগে পাওয়া যায় না… লিখিয়ে, তাঁর জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা, এরাই যেন কল্পবাস্তবের রক্তমাংসে প্রসারিত হয়ে রূপ বদলে এসে ঢুকে পড়ছে কল্পনার ভুবনে, আর ঢুকে এসে অসামান্য কিছু অনুভূতির মুহূর্তকে তৈরি করছে। সেইসব মুহূর্তে একটি কুকুর যখন একটি নক্ষত্রের প্রেমে মৃত্যুহীন হয়ে ওঠে, কিংবা নড়বড়ে বিষ্টুখুড়োর সামনে দাঁড়ানো পাঁচিলের ওপারে রাজা-রাজকন্যার কল্পভুবন তৈরি হয়, জলদস্যুর মিথ-এর সঙ্গে অক্লেশে মিশ খেয়ে যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স-এর আপাত ইনকমপ্যাটিবল কল্পনা, তখনও তাকে অস্বাভাবিক ঠেকে না। মনে হয় এমনটা হতেই তো পারে… ” -দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য (ভূমিকা)
ফ্যান্টাসি তথা কল্পকাহিনির সংজ্ঞা কী? বিদ্বান ও বিদগ্ধেরা ওই ধারাটির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে গিয়ে নানা খটোমটো শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেন। আলোচ্য সংকলনে লেখক সে-সবের তোয়াক্কা করেননি। তিনি বরং খুব সহজ ভাষায়, সহজ ভঙ্গিতে, চেনা-যায়-এমন চরিত্রদের নিয়ে একগুচ্ছ গল্প পেশ করেছেন— যেখানে জাদু বা ম্যাজিক, কল্পবিজ্ঞান, আর হয়তো-বা অলৌকিক মিলে-মিশে গল্পের চালিকা হয়ে উঠেছে। দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের 'ভূমিকা'-র পর এতে আছে ইয়ং-অ্যাডাল্ট পাঠকদের জন্য মোট বারোটি গল্প। তারা বিন্যস্ত হয়েছে এইভাবে~ (ক) পুরানো সেই দিনের কথা (পুরাণ ও জাদু): - ১. অরুণগিরির বন্দি; ২. লুব্ধক; ৩. চন্দ্রাবতী; ৪. হৃদয়রানি। (খ) নমো যন্ত্র (বিজ্ঞানের স্পর্শ): - ৫. রত্নগুহার প্রহরী; ৬. শব্দভেদী; ৭. গন্ধকুবেরের মন্দির; ৮. রিনির ঈশ্বর। (গ) শেষ হয়ে হইল না শেষ (আশা ও কল্পনা): - ৯. স্বর্গলোকের দরজা দিয়ে; ১০. অরণ্যরক্ষী; ১১. প্রতীক্ষমান; ১২. অধিনায়ক। ঝকঝকে, নির্মেদ লেখনী এবং নিটোল ও বৈচিত্র্যময় প্লট এই কাহিনিদের মুখ্য আকর্ষণ। তাই গল্পগুলো একবার ধরলে পরপর পড়েই যেতে হয়। তবে আমার কাছে গল্পগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের কেন্দ্রে থাকা মূল্যবোধের জন্য। বিশেষত প্রেম, আর অন্যায়ের প্রতিবাদ— এই দুই অস্তরাগের মায়া ছড়িয়ে রয়েছে এদের সর্বত্র। আমার মতে, এখানেই এই গল্পগুলো আর পাঁচটি কল্পকাহিনিকে ছাপিয়ে গেছে।
বইটির ছাপা শুদ্ধ এবং বর্ণ-সংস্থাপন নয়নসুখকর। মিশন মণ্ডলের অলংকরণ গল্পগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে, যদি মনে রাখার মতো কিছু কল্পকাহিনি পড়তে চান, তাহলে এই বইটি পড়লে আপনি হতাশ হবেন না বলেই আমি মনে করি। অলমিতি।
স্বর্গলোকের দরজা দিয়ে সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায় কল্পবিশ্ব এই বইটা পড়ার আগে ফ্যান্টাসি সম্পর্কে কোন পরিষ্কার ধারণা ছিলো না।একমাত্র রূপকথার কিছু গল্প এই জঁরে পড়া ছিলো।এই গল্প গুলি পড়ে সে ধারণা পাল্টে গেল।এই সব গল্পে বাস্তব গল্পের সাথে মিশেছে অদ্ভুত যত কল্পনা।সেই কল্পনার কোন সীমা নেই।রূপকথা থেকে তাসের দেশ ,সেখান থেকে পুরাণ ,আবার সেখান থেকে জলদস্যু আর কল্পবিজ্ঞান, সেখান থেকে অলৌকিক ঘটনা সবই হাজির। এই বইয়ের সব গল্পই খুব ভালো লেগেছে।এনার গল্প বলার ভঙ্গি অসাধারণ।কোন গল্পই শেষ না জেনে থাকা যায় না।গল্পের শেষে গল্পের সূত্র গুলি পাওয়ার ঘটনা জেনে বেশ ভালো লাগলো। বইয়ের ছাপা কাগজ বাঁধাই বেশ ভালো। আমার রেটিং 5/5