“হোয়্যাটস বি.এইচ?” “উম্ ব্লাডহাউন্ড!” “মানে?” “গোয়েন্দার আরেক প্রতিশব্দ” এক বৃষ্টিস্নাত সকালে হঠাৎই ফোন পেয়ে শহরের বিখ্যাত জাদুঘরে গিয়ে এক অদ্ভূত কেসের দায়িত্ব পায় সৌম্য বোস, প্রাক্তন সেনাকর্মী, বর্তমানে সাধারণ এক গোয়েন্দা। গভীর রাতে কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক উপজাতির মোড়লের কঙ্কাল চুরি গেছে, সাধারণের চোখে একদমই মূল্যহীন সেটি। তার ওপর কড়া পাহারার নজর এড়িয়ে একটা অত বড় আর ভারী জিনিসকে নিয়ে যাওয়াও খুব সহজ কাজ নয়! তবে? কঙ্কাল গেল কোথায়? টাকার অঙ্ক বেশ ভালো হওয়াতে সৌম্য নেমে পড়ে কঙ্কাল খুঁজতে… জনবহুল শহরে একটা কঙ্কালকে খুঁজে পাওয়া নিশ্চয়ই একেবারেই কঠিন কাজ না, সৌম্য তাই মনে করে। যদিও কারোর ধারণা অবশ্য অন্য… তবে তার আরও একটা কাজ ছিল, সেটা হয়তো বেশীই গুরুত্বপূর্ণ! সকালের ফোন আসার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তার ঘরে প্রবেশ ঘটে দুজন মানুষের। প্রতিবেশী সুশোভন বক্সী এবং তার স্ত্রীর। তাদের একমাত্র কন্যা জন্মদিনের রাত থেকেই নিখোঁজ। পুলিশ দারোগা হওয়া সত্ত্বেও নিরুপায় সুশোভন বাবু হাতজোড় করে সৌম্যকে অনুরোধ করেন মেয়েকে খুঁজে আনার জন্য! দেনায় জর্জরিত সৌম্য সেরকম কিছু না ভেবেই নিয়ে ফেলে দুটো কেস! মনে বিশ্বাস রাখে দুটো কেসেরই সঠিকভাবে সমাধান করে ফেলতে পারবে সে! কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সে এক জড় আর এক জীবের খোঁজে… সৌম্য কি সফল হল? নাকি বাকি সকলের মত সেও বিশ্বাস করতে শুরু করে এই বাস্তবতা মেশানো দুনিয়ার বাইরে কিছুর অস্তিত্ব আছে যার আপাতদৃষ্টিতে কোন ব্যাখ্যা মেলে না! সেই ‘কিছু’ টা কী? কেও বলে ডার্ক স্ফিয়ার, কেউ বলে আদারওয়ার্ল্ড! আর… সেইখানে যাদের অবাধ বিচরণ তারা? তারা কারা? নাকি এসব সত্যিই একটা দুঃস্বপ্ন? আদারওয়ার্ল্ড সিরিজের প্রথম সুপারন্যাচারাল অ্যাকশান থ্রিলার বই ব্লাডহাউন্ড - যার পাতায় নিহিত রয়েছে সব উত্তর!
হাই..হ্যালো..নমস্কার সবাইকে! সবে মাত্র যাত্রা শুরু হল! বায়োগ্রাফি সেভাবে এখনও বলার মত কিছু নেই। আপনাদের আশীর্বাদ আর শুভেচ্ছা পেলে ভবিষ্যতে লিখব খন! "হিডেন আই" দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম,দেখা যাক কতদূর যেতে পারি। যারা আমার লেখা পড়েছেন,অনুরোধ করব রেটিং সহ একটি ছোটো হোক কিংবা বড় হোক রিভিউ লিখে যাবেন! আলোচনা এবং সমালোচনা দুটোই কাম্য। ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন!
শেষ করলাম একদিনেই। এক "ভয়ংকর" ভালোলাগা তৈরি হলো 'আদারওয়ার্ল্ড'-কে ঘিরে। যেখানে মোরাম্মু, উক্কাকু, নক্কাকু, মোহ -র লোভ যেমন এক পৈশাচিক উল্লাস তৈরি করে, তেমনই আছে মিলি, ডিফেন্ডার-দের মতন রক্ষণশীল বোরো উপজাতি। সৌম্য বোস একজন সাধারণ মানুষ হয়েও আদারওয়ার্ল্ড - এ নিজেকে যেভাবে একজনের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সমর্পণ করে সেই বর্ণনা অসাধারণ। তবে মিলি, তৃণা যে কোথাও হারিয়ে যেতে পারে না তা আশা করি "ব্লাড হাউন্ড" -র পরবর্তী সিরিজ-এ পূর্ণ হবে।
#আমার_বইপড়া_২০২২ #bookish_subhajit #শুভর_আলোচনায় ⚠️ বই- ব্ল্যাডহাউন্ড ⚠️ লেখক- সায়ন দাশ ⚠️ প্রকাশনা- প্ল্যাটফর্ম প্রকাশন ⚠️ মুদ্রিত মূল্য- ২০০/- ⚠️ প্রচ্ছদ- কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল ⚠️ পাতা- ১৬৮ টি ⚠️ প্রথম প্রকাশ- ফ্রেবরুয়ারি ২০২২ ⚠️ পেপার ব্যাক ------------------------------------------------------- ⚠️ "We're everywhere, out there, among you" - C.J. Morrow এই ব্ল্যাডহাউন্ড কোন বই না, কোন সাধারণ মানুষের লেখা না, কোন সাধারণ ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড এর লেখা এটা না, কারণ এর সবই হলো আদারওয়ার্ল্ড এর ঘটনা। যেখানে একটার সাথে আফ্রিকার কোন মিল নেই। কিন্তু আছে এক অদেখা অজানা সংযোগ যাকে উপেক্ষা করাটা বড্ড কঠিন, ওই খানিকটা Avengers এর মত। কিন্তু সত্যিই কী সংযোগ টা অন্যরকম নাকী সেটা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যাই হোক এবার সরাসরি লেখাতে প্রবেশ করি। সৌম্য বোস, এই উনি হলেন এই বই এর নায়ক। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ, কিন্তু পূর্বে ছিলেন একজন সেনাকর্মী। এবার এই উপন্যাস এ আছে দুটি কেস। আর সেই দুটিরই সমাধানে নামে এই সৌম্য বোস। প্রথমটি হলো দারোগা সুশোভন বক্সী এর একমাত্র কন্যা জন্মদিনের রাত থেকে নিখোঁজ। তাই সুশোভন বাবু এবং তার স্ত্রী আসেন এই সৌম্য এর কাছে, এবং সব খুলে বলেন তার মেয়ে সম্পর্কে। আর দ্বিতীয় কেশ হলো শহরের এক নামকরা মিউজিয়াম থেকে নিখোঁজ হয় একটা বহু পুরানো কঙ্কাল। নিখোঁজ না বলে চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ করেন মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। আর সেই চুরি যাওয়া কঙ্কাল উদ্ধার এর দায়ভার পরে এই সৌম্য বোস এর উপর। টাকার অঙ্ক ভালো থাকার জন্য সৌম্য দুটো কেসই নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এবার চলে তদন্ত অনুসন্ধান। একদিকে সজীব আর এক দিকে নির্জীব এর সন্ধান এ সৌম্য বেরিয়ে পড়ে। আর সেই অনুসন্ধান করতে গিয়েই উঠে আসে তার জীবনের এক অন্ধকারময় ইতিহাস, যে ইতিহাস তাকে নিয়ে যায় এক অন্য জগৎ এ। যে ইতিহাস বড় আকার ধারণ করে বর্তমানে এসে। আর সেখানেই খুলে যায় আর এক অন্য universe এর রাস্তা। তারপর......... আর এই তারপর এর পরের কাহিনীই বলে এই বই। এক আদারঅয়ার্ল্ড সিরিজ এর এক অসাধারণ সুপারন্যাচারাল অ্যাকশশান থ্রিলার বই "ব্লাডহাউন্ড" ..................... ------------------------------------------------------- ⚠️ ভালো লেগেছে- ১.) অসম্ভব ভালো প্লট। একদম নতুন ধরণের লেখা। একজন বাঙালি গোয়েন্দা কে দিয়ে যে এই রকম মাল্টিভার্স লেভেল এর লেখা রচনা করা যায় তা সত্যিই বিরল।বেশ ভালো লেগেছে। ২.) প্রতিটা পর্বের উপস্থাপন অসাধারণ। অত্যন্ত সামঞ্জস্য পূর্ণ লেখা এবং পর্ব সজ্জা। ৩.) প্রতিটি চরিত্র সৃষ্টিও অসাধারণ। ৪.) লেখা অত্যন্ত সাবলীল সুন্দর এবং মেদবিহীন ঝড়ঝড়ে। ⚠️ ভালো লাগেনি- ১.) দু একটা বানান ভুল চোখে পড়েছে। ২.) অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি শব্দের ব্যাবহার বইটার পড়ার গতি কমিয়েছে। ------------------------------------------------------- ⚠️ প্রচ্ছদ- এক অসাধারণ কাজ হলো এই বই এর প্রচ্ছদ। কৃষ্ণেন্দু দা এর কাজ নিয়ে কিছু বলতে যাওয়াও বৃথা। কারণ দাদার প্রতিটা কাজ অসাধারণ। এই বইও তার ব্যাতিক্রম না। ⚠️ বই এর বাঁধন এবং পাতার মান- প্ল্যাটফর্ম প্রকাশনা এর কাজ নিয়ে ও বিশেষ কিছু বলার নেই। কারণ তাদের কাজও বরাবরই অসাধারণ। বই এর বাঁধন অত্যন্ত সুন্দর এবং মজবুত। সাথে পাতার মান অত্যন্ত উন্নত। ধন্যবাদ প্ল্যাটফর্ম প্রকাশন এর কর্ণধার তন্ময় দা কে। ⚠️ এই বই বেশ কিছু ছোট ছোট ছবি আছে, আর সেগুলি করেছেন সৌরভ আঢ্য দাদা। প্রতিটাই বেশ সুন্দর। ধন্যবাদ সৌরভ দা কে। -------------------------------------------------------- ⚠️ বই এর অভার অল রেটিং- ৪/৫ ⭐⭐⭐⭐ ------------------------------------------------------- ধন্যবাদ সকলকে 🙏 ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন 😍 আর অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন 😍 আরও বেশি করে বই পড়তে থাকুন এবং সমৃদ্ধ হতে থাকুন 🙏😍🤩 এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে লাইক করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Bookish Subhajit কে। এবং সাবক্রাইব করতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেল Bookish Subhajit কে। ধন্যবাদ 🙏 📸 ছবি- আমার তোলা
🍁সদ্য শেষ করলাম লেখক সায়ন দাশের লেখা ব্লাড হাউন্ড উপন্যাসটি। ২ সপ্তাহ মতোই আগে কিনেছি বইটা, বইয়ের বিষয় আর কভার টা আমাকে এতো টাই আকর্ষণ করছিল সেই হিসাবেই কিনি, আর তারপরে বইটা পড়তে শুরু করলাম। 🫠 শুধু পড়িনি, গিলেছি। যে টুকু পাবো বলে শুরু করেছিলাম, পড়াড় পরে তাঁর চেয়েও বেশী পেয়েছি। প্রথমেই বলে রাখি এটা ঠিক আর সব গোয়েন্দা কাহিনীর মতো নয়, যেমন গোয়েন্দা দেখাবে ভৌতিক ঘটনার পিছনে আছে এক অন্য ষড়যন্ত্র.. সেরকম কাহিনী নয় এটা।
কিছু কিছু বই আছে যেগুলো ভীষণ থ্রিলিং, কিন্তু বইয়ের শুরু তেই একটা বোরিং ভাব আসে। এই বইটা প্রথম পেজ থেকে শেষ পেজ, পুরো টাই থ্রিলিং, এক পেজ কেও পড়লে, বইটা তাকে নিজে থেকেই টেনে নেবে নিজের দুনিয়ায়।
🍁উপন্যাসের গোয়েন্দা হলো সৌম্য বোস, এক সময়ে সেনাবাহিনী তে কর্মরত ছিলো, বর্তমানে সাধারণ এক গোয়েন্দা। একদিন সকালে তাঁর দুই প্রতিবেশী এলো, তাঁদের একমাত্র কন্যা নাকি উধাও হয়ে গেছে। বেশী কিছু না ভেবেই সৌম্য কেস নিয়ে নিল।
সেদিনই, তাঁর একটু পরেই সৌম্যর ফোনে একটা কল এলো,সে হাজির হলো শহরের বিখ্যাত জাদুঘরে। সেখানে গিয়ে অদ্ভুত আরেক কেসের দায়িত্ব পেল সে। কালেরে গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক উপজাতির মোড়লের কঙ্কাল পাওয়া গেছিল, হটাৎ করেই সেটি নাকি উধাও হয়ে গেছে।
✴️কোথায় গেল কঙ্কালটি? ✴️কে নিয়ে গেল? ✴️কড়া নজরদারি এড়িয়ে কিভাবেই বা নিয়ে যেতে পারল সে?
এই কেস টিও নিয়ে নিল। আর নেমে পড়ল এক সাথে দুটো কেসের সমাধান করতে। সমাধান সূত্রেই জড়িয়ে গেল অজানা অচেনা এক রহস্যের জালে, নিজের অজান্তেই প্রবেশ করল অন্য এক জগতে।
✴️সৌম কি সফল হলো? নাকি বাকি সকলের মত সেও বিশ্বাস করতে শুরু করল এই বাস্তবতা মেশানো দুনিয়ার বাইরে কিছুর অস্তিত্ব আছে যার আপাতদৃষ্টিতে কোন ব্যাখ্যা মেলে না! সেই 'কিছু' টা কি? কেও বলে ডার্ক স্ফিয়ার, কেউ বলে আদারওয়ার্ল্ড! আর... সেইখানে যাদের অবাধ বিচরণ তারা? তারা কারা? নাকি এসব সত্যিই একটা দুঃস্বপ্ন?
🍁লেখক এখানে এমন এক গোয়েন্দাকে সৃষ্টি করেছেন, এতো দিনে কম বেশি অনেক গোয়েন্দা গল্পের সাথেই পরিচয় হয়েছে, এই রকম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটা মানুষ, নেশাখোর, দেনার দায়ে জর্জরিত, সব সময়ে অন্যের কাছে মার খাওয়া গোয়েন্দাকে দেখিনি। একজন সাদামাটা গোয়েন্দা, নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই.. এরকম অদ্ভূত গোয়েন্দার সাথে কখনো বাস্তব কখনো অবাস্তব জগতের লড়াই... লেখকের লেখনীতে সেই লড়াই হয়ে উঠেছে জীবন্ত।
🍁গোয়েন্দার সাথি অসম্ভব ক্ষমতা সম্পন্ন এক মেয়ে নাম মিলি। সব সময়ে বিভিন্ন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে চলেছে সৌম্য কে । কিন্তু কে এই মিলি? কি তাঁর পরিচয়?
🍁এই বইয়ে উঠে এসেছে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া এক উপজাতির কথা, যারা ছিলো অসম্ভব শক্তিশালী আর জাদুবিদ্যা তে ভীষণ পারদর্শী।
🍁বইয়ের বাইন্ডিং, পেজ কোয়ালিটি ভীষণ ভালো। কভার নিয়ে নতুন কি বলব, বইয়ের কভার টাই আমাকে বইটা কেনার জন্য আগ্রহী করেছে।
🍁বইয়ে ছোট ছোট অলংকরণ আছে।
🍁দু একটা প্রিন্টিং মিস্টেক চোখে পড়ছে।
❤️বইটা নিয়ে খারাপ লাগা নেই তেমন। তবে দেবলীনা চরিত্রটিকে হয়ত আরেকটু বাড়ানো যেত, যেমন টা শেষে গিয়ে হলো... পাঠক ঠিক যেন উত্তর পেল না সব প্রশ্নের... এন্ডিং টা বোঝাচ্ছে হয়ত এই বইয়ের পরবর্তী খন্ড আসবে, যদি আসে তা যেন খুব শীঘ্রই আনা হয়😍😍😍... দারুন একটা বই পড়লাম ❤️ গল্পে অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা আছে, তবে তা সত্ত্বেও গল্পের গতি কোনো জায়গাতেই সেগুলো আটকাতে পারেনি, পড়তে পড়তে সব সময়ে পাঠকের মনে হতে থাকবে.. "এর পর কি হবে, এর পর কি হবে.."
😍তবে আর দেরি কেন, আপনিও প্রবেশ করুন এই আদার ওয়ার্ল্ডে যেখানে ঘেঁষা ঘেসি করে দাড়িয়ে রয়েছে সব চার পেয়েরা, তাঁরা কেও এ জগতের নয়! নগ্ন দেহ, সিংহ ভাগেরই মাথা থেকে নাক অবধি কিছুই নেই... কারোর কানের দুপাশ থেকে বেরিয়েছে দুটো সিং, শিরদাড়া বেয়ে উঠেছে লম্বা হাড়....
♥️এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে এবং নিত্য নতুন বই সম্পর্কিত তথ্য পেতে like, follow..করে সাপোর্ট করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Books With Amir কে❤️। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং অতি অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন ❤। ধন্যবাদ🙏
বইয়ের নাম - ব্লাড হাউন্ড লেখক - সায়ন দাশ প্রকাশনী - প্ল্যাটফর্ম দাম - ২০০/-
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২২ - এ লেখক সায়ন দাশের লেখা দ্বিতীয় বই সদ্য প্রকাশিত ' ব্লাড হাউন্ড ' পড়ে ফেললাম। আসলে পড়ে ফেললাম বলা হয়তো একটু ভুলই হবে রীতিমত গোগ্রাসে গিলে ফেললাম বলা চলে। পড়ার পর এবার আসে রিভিউ এর পালা। কিন্তু তার আগে ছোট করে আলোচনা করে নেওয়া যাক বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে।
বিষয়বস্তু:- পেশায় প্রাক্তন সেনাকর্মী সৌম্য বোস, চাকুরী ছাড়ার পর নিতান্তই সখের বশে গোয়েন্দা হয়ে বসে। প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি কেসে সফলতা অর্জনের পর বেশ নাম ডাকও হয় তার। কিন্তু তারপর বিভিন্ন কারণে দেনায় জড়িয়ে পড়ে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার মুখে, এক বৃষ্টিভেজা সকালে হঠাৎই একটি ফোন পায় সে। স্থানীয় এক মিউজিয়াম থেকে রাতের বেলায় চুরি গেছে এক উপজাতি মোড়লের কঙ্কাল। সেই কঙ্কাল ফিরিয়ে আনার অনুরোধ পেয়ে বড় মাপের একটা টাকার অফারও পায় সেই মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের থেকে। কিন্তু তার কিছুক্ষন পরেই আরো একটা কেসের ভার এসে পড়ে তার উপর। স্থানীয় পুলিশ অফিসার সুশোভন বসুর মেয়ে দেবলীনা রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যায় নিজের বাড়ি থেকে। দেবলীনার মায়ের মুখের দিকে চেয়ে সে কেসটা নিতে বাধ্য হয়। এবং তারপরেই পুরো বই জুড়ে একইসাথে সমান্তরালে এগোতে থাকে দুটো কেসের ইনভেস্টিগেশন। কেসের সূত্রেই তার আলাপ হয় মিলি নামক একটি রহস্যময়ী মেয়ের সাথে..কে এই মিলি? এরপর কিছুদিন পর থেকেই সৌম্য বোস বুঝতে পারে দুটো কেসের মধ্যেই অদ্ভুত ভাবে একটা যোগসূত্র রয়েছে। কী সেই যোগসূত্র? নিজের বাড়ি থেকে দেবলীনা তার জন্মদিনের রাতে রহস্যজনক ভাবে উধাওই বা হলো কীকরে? সৌম্য কি আদৌ পারবে তাকে খুঁজে আনতে? মিউজিয়ামের কড়া প্রহরার মধ্যেও কঙ্কাল চুরি করলো কে? এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এই বইতে। জানতে হলে একবার পড়ে নিতেই হবে।
রিভিউ - বইয়ের ক্ষেত্রে একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি ওয়ার্ড আছে সেটি হলো ' পেজ টার্নার ' অথবা ' আনপুটডাউনেবেল ' । এই দুটো শব্দই একেবারে খাপ খেয়ে যায় এই বইয়ের সাথে। একবার যদি পড়া শুরু করেন তবে রুদ্ধশ্বাসে শেষ করেই আপনাকে থামতে হবে। বইটিতে থ্রিল তো অবশ্যই আছে কিন্তু সেই থ্রিলের সাথেও রহস্য, ফ্যান্টাসি, রোমান্টিসম, অ্যাকশন, সর্বোপরি ভয় সবকিছুরই একেবারে পারফেক্ট ব্লেন্ডিং করেছেন লেখক। আর তাতে কোথাও একবারের জন্যও মনে হয়নি গল্পের গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তুমুল স্রোতের মধ্যে ভেসে যাওয়া ডিঙি নৌকার মতই তরতরিয়ে এগিয়ে গিয়েছে গল্প। যারা লেখকের আগের বই 'হিডেন আই' পড়েছেন তারা জানবেন ' অ্যাকশন ' ঘরানায় লেখকের ভালোই মুন্সিয়ানা রয়েছে। প্রত্যেকটি লড়াই - এর দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে লেখার দক্ষতায়। কিন্তু এই বইতে লেখক নিজের পূর্ববর্তী সমস্ত লেখাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন বলে আমি মনে করি। সমস্ত ঘরানায় সমানভাবে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে লেখক প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। কিছু কিছু ভয়ের দৃশ্য এমনই আছে যে অন্ধকার ঘরে একাকী বসে পড়লে আপনার রোমকূপ খাড়া হতে বাধ্য। সবমিলিয়ে ভীষণই এনগেজিং একটি বই এই ' ব্লাড হাউন্ড ' । নতুন রকম কনসেপ্টের উপর লেখা একটি বই পড়তে হলে অবশ্যই হাতে তুলে নিতে পারেন এটা।
এবার যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এত বড় রিভিউ তো লিখলেন, এত ভালো লাগার জায়গা তো বললেন..কিন্তু কোথাও কি খারাপ লাগার মত জায়গা তৈরি হয়নি? তাহলে সেই প্রশ্নগুলির উত্তরে আমি বলি না হয়নি, হয়তো দুই এক জায়গায় বর্ণনা কিছু কম হলেও পারতো..তবুও যেহেতু তার জন্য গল্পের গতি খর্ব হয়নি তাই সেই ব্যাপারটাকে ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখাই যায়। আর সর্বোপরি লেখকের দ্বিতীয় বই এটি। সেই হিসেবে দেখতে গেলে আমি অন্তত কোন খারাপ লাগার মত বিষয়ের খোঁজ পাইনি। গল্পের শেষে একটি ওপেন এন্ড রাখা হয়েছে। যতদূর মনে হচ্ছে এটির হয়তো দ্বিতীয় পর্ব আসলেও আসতে পারে। যারা যারা বই পড়বেন তারা লেখককে অবশ্যই এটার জন্য অনুরোধ করবেন। এই বলে শেষ করলাম আমার আজকের আলোচনা। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
লেখক সায়ন দাস মহাশয় এর প্রথম লেখা "হিডেন আই" পড়ে ইস্তক আমি ওনার তথা ইভা সেনের ফ্যান। খুব আশা নিয়ে বসে ছিলাম ইভাসেন সিরিজের দ্বিতীয় বই এর জন্য , কিন্তু খবর পেলাম এবার হাতে আসতে চলেছে ওনার আদারওয়ার্ল্ড সিরিজের এই বইটি। তক্কে তক্কে ছিলাম এবং বইমেলা থেকেই সংগ্রহ করে ফেলে ছিলাম বইটি। কেনার পর সঙ্গে সঙ্গে পড়তে পারি নি ঠিকই, কিন্তু কদিন আগেই পড়ে শেষ করে ফেলেছি।
প্রথমে বলি এটা প্ল্যাটফর্ম প্রকাশনীর একটি পেপার ব্যাক। পেজ quality এবং মুদ্রন দারুণ। গোটা বই তে একটিই মাত্র মুদ্রণ গত ত্রুটি আছে। কিন্তু আভিযোগ অন্য জায়গায় - পেপার ব্যাক হলেও book cover এর quality টা আরও একটু ভালো করলে ভালো হতো , নইলে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে কভার তথা বই দুটিই।
এবার আসা যাক কেমন লেগেছে সে ব্যাপারে। এই প্রসঙ্গেই লেখক বন্ধুকে বলছি -- "জীবনে অনেক গোয়েন্দা গল্প পড়েছি , কিন্তু এমন প্যালপ্যালে - জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া - মালখোর এবং সিগারেটখোর - হ্যাঙ্গ ওভার সর্বস্য - ল্যাথার্জিক - দেনার দায়ে জর্জরিত - আর লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট মার খেয়ে ভুত হওয়া গোয়েন্দা আমি এর আগে দেখিনি ; এমন একজন গোয়েন্দা কে পেলাম যে কিনা একদম বাস্তবের মাটি থেকে উঠে আসা এবং কোনো রকম কোনো স্পেশাল পাওয়ার ছাড়াই নিজের কাজ করেছেন। সব থেকে বড় কথা এই চরিত্র কে নিয়ে একটা আদারওয়ার্ল্ড সিরিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে কিন্তু বুকের পাটা লাগে। আর সাহসটুকুই অনায়াসে দেখিয়ে ফেলেছেন লেখক। এর জন্যই কুর্নিশ করি ওনাকে। আর এই সাহসে ভর করে ওনার কলম আরও দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আর একটা ব্যাপার পাঠক কে টানবে, তা হলো বইটির নামের অভিনবত্ব আর মানে .. আমি ভীষণ অবাক হয়েছি নামের রহস্য ভেদ হবার পর।"
এছাড়া লেখকের স্মার্ট ও সাহসী লেখনীর তারিফ না করে থাকাই যায় না। এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হলো , লেখক কখনই গল্পের চরিত্রদের মস্তিস্ক-চোখ-কান-হাত-পা-মন কোনোটিকেই অকারণ সৌজন্য বোধে বেঁধে ফেলেন নি। গল্পের প্রয়োজনে যেখানে যেমন দৃশ্য ও ভাষার প্রয়োগ এসেছে তা আমার যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত বলেই মনে হয়েছে।
গল্পের গোয়েন্দার শক্তি স্বরূপিনী সঙ্গিনী চরিত্রটি কে আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। তবে হ্যাঁ, একটা কথা বলতেই হচ্ছে যে, বইটি পড়ে যতটা ভয় পাব বলে ভেবে আমি ভয়ে মরে যাচ্ছিলাম , ততটা ভয় আমি পাই নি। এই জায়গাটায় আর একটু ভীতিপ্রদ হলে ভালো হতো।
আপাত দৃষ্টিতে কিচ্ছু না পারা, হেরে যাওয়া একটা মানুষের গল্প এটি। কিন্তু খুব অবাক লেগেছে একটা বিষয়ে যে সেনাবাহিনীতে থাকার পরেও এনার জীবন এমন লাগামহীন কেনো, এই রহস্যের উত্তর অবশ্য গল্পের শেষে রেশ হিসাবে রেখে গেছেন লেখক যা সিরিজের পরের বইটার হদিস দেয়। এই সিরিজের পরের বই এর জন্য আমি কিন্তু বেশ আশাবাদী।
এই বইটা বইমেলায় কেনা আমার প্রথম বই তাই এটা দিয়েই শুরু করেছি পড়া.. আমার একটা সমস্যা হলো কাজের চাপের ফলে একটা ছোটো বই একদিনে কেনো, ২ দিনেও শেষ করার মতো সময় পাইনা.. ফলে রোজ একটু একটু করে পড়ি.. এখানেও তার অন্যথা হয়নি, কিন্তু সত্যি বলছি মোটেও ছাড়তে ইচ্ছা করেনি.. একদিন তো এমন হয়েছে রাতে ৩:৩০ নাগাদ কাজ শেষ করে, ভাবলাম একটু পড়ি, ৫ টার আজানে মাথা তুললাম.. আর তখনকার অনুভূতি টাও সাংঘাতিক ছিলো, কিরম যেনো দম বন্ধ করে পড়ছিলাম, দিয়ে শ্বাস ছাড়লাম.. তখনই ভেবেছিলাম "বাপরে কি লিখেছে রে বাওয়া", এমনকি এটাও মনে আছে সেটা ৬৭ নম্বর পাতা ছিলো.. এটাও ভেবেছিলাম "ভাগ্যিস আজকে রবিবার, নইলে আমার অফিসের কি হতো আমি জানিনা..!!" একদিকে ঘুম ডাকছে আর একদিকে বই.. কি জ্বালা বাওয়া.. শেষে ঘুমোবো এটাই মনস্থির করে এটাই ভাবলাম "ব্যাটা ভালো সাসপেন্স করেছে, দেখি এবার wrap up কি করে..!!" যদিও তখনও আরো জ্বাল বোনা বাকি ছিলো...!!! যাইহোক শেষ পর্যন্ত কাল রাতে বইটা শেষ হলো... আর শেষে wrap up টা কিন্তু বেশ একটা রেশ রেখে গেলো, আর পরে সৌম্য বোস যে আবারও ফিরবেন তার একটা নয় অনেকগুলি জায়গা রেখে গেলো..!!!
এবার আসি বইয়ের লেখা, আঁকার কোয়ালিটি নিয়ে.. প্রথমত আমি একটাও বানান ভুল পাইনি.. আর প্রচ্ছদ, ভেতরের আঁকা যথেষ্ট ভালো, শিল্পী কৃষ্ণেদু মন্ডল এর কাজ নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই..!! কিন্তু একটা জিনিস আমি বলবো, লেখা অনেক গুলো পর্বে ভাগ, সেটা তো ঠিকই আছে.. কিন্তু পর্বের মধ্যেও কয়েকটা জায়গায় সিন চেঞ্জ আছে, সেটাও সাভাবিক.. কিন্তু অন্যান্য বইতে যেটা হয় সিন চেঞ্জ করল স্টার বা কিছু দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে সিন চেঞ্জ হচ্ছে, কিন্তু এখানে সেটা করা হয়নি.. ফল স্বরূপ খেঁই হারিয়ে ফেলেছি মাঝে মাঝেই.. যদিও এরকম সিন চেঞ্জ খুব কমই আছে, কিন্তু তাও প্রকাশক কে আমি এটার ওপর নজর দিতে বলবো.. এছাড়া আর একটা সামান্য ভুল ছিলো, যেটা আশা করি পরের মুদ্রনে প্রকাশক ঠিক করে নেবেন..!!! ব্যাস আমার এটুকুই বলার, বইটি কিন্তু টান টান উত্তেজনাময়...!!! আমার যদি অফিস না থাকতো এক রাতে শেষ করতাম for sure..!!!🔥🔥🔥🔥
সৌম্য একজন প্রাক্তন। যদি বলেন প্রাক্তন কী, তাহলে উত্তরে একে-একে আসবে সৈন্য, গোয়েন্দা, সফল মানুষ, স্বামী... ইত্যাদি ইত্যাদি। বর্তমানে সে পুলিশের চোখে স্ত্রী'র অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য সন্দেহভাজন। হাতে কাজ নেই। পকেটে টাকা নেই। আছে দুনিয়ায় যাবতীয় গুন্ডার কাছে ধারদেনা আর সস্তা মদের নেশা। এহেন সৌম্য'র কাছে, একেবারে ছপ্পর ফাঁড়কে স্টাইলে, একসঙ্গে দুটো কেস এসে পড়ল। একটা অপহরণের— সেও আবার স্থানীয় পুলিশ অফিসারের অষ্টাদশী কন্যার। একটা চুরির— যেখানে মিউজিয়ামে রাখা একটা মূর্তির ভেতরে রাখা শতাব্দীপ্রাচীন কঙ্কাল উধাও হয়েছে। তারপর এল নানা রহস্যময় চরিত্র, স্বপ্ন আর ভ্রম, খুনখারাপি, বীভৎস নানা চেহারা আর কীর্তিকলাপ, জাদু, গুলিগোলা, প্রচুর রক্ত আর অশ্রু। অবশেষে লেখাটা শেষ হয়ে গেল। নাকি হল না?
এই লেখায় গতি আছে৷ পড়তে শুরু করলে শেষ না করে থামা যায় না। কিন্তু... ১) লেখায় সৌম্য'র গোয়েন্দাগিরি বা সৈন্যসুলভ আচরণের বিন্দুমাত্রও পেলাম না। ইনফ্যাক্ট এই তদন্ত বা ধোঁকার টাটির জন্য সৌম্যকেই কেন বেছে নেওয়া হল— তার একটিও বাস্তবানুগ কারণ পাওয়া গেল না। ২) দেশজ মিথ বা পুরাকথার লেশমাত্রও পেলাম না এই গল্পে। এখানে হররের যাবতীয় ভাবনা বিদেশি বই ও সিনেমা থেকে আমদানিকৃত। ৩) একটি চরিত্রের আচরণও বিশ্বাসযোগ্য নয়। ক্লাইভ বার্কারের 'দ্য লাস্ট ইল্যুশন'-এর ধাঁচে লেখক একটি সিরিজ ফাঁদতে চলেছেন— এটা বেশ বুঝতে পারছি। তবে বাংলায় এমন কিছু করতে চাইলে চরিত্র, পারিপার্শ্বিক, সর্বোপরি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত পুরাকথা দেশজ হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে, অন্তত আমি, 'আদারওয়ার্ল্ড' সিরিজ অনুসরণের উৎসাহ পাব না। বরং ইভা সেনের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইলাম।
হিডেন আই পড়ার পর থেকেই লেখকের নতুন লেখা পড়ার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। হতাশ হলাম না এবারেও... ভয়ের গল্প সেইসাথে রোম্যান্টিক ঘরানাতে লেখার ক্ষেত্রেও লেখকের হাত যে যথেষ্ট ভালো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা! বরাবরের মত অ্যাকশান দৃশ্য গুলিও দুর্দান্ত, যেন চোখের সামনে ভাসে! প্রতিটি চরিত্র মনে দাগ কেটে গেছে। একটা তারা কাটলাম কারণ মনে হয়েছে ক্লাইম্যাক্স আরেকটু ভালো হলে ভালো লাগত সেইসাথে মূল ভিলেনকে যদি আরও যুতসই দেখানো যেত। আসলে এক্সপেকটেশন এরমই হয়ে গেছে কি বলব। উপন্যাসে ইভা সেনের পর ইংরেজিতে যাকে বলে আরেকটি "Badass" চরিত্রের দেখা পেলাম! বহুদিন মনে থেকে যাবে মিলি নামক চরিত্রটি। সিক্যুয়েলে মিলি ও সৌম্যের আরেকটি জমজমাট গল্পের অপেক্ষায় থাকলাম।