অতীতের এক অন্ধকার চিত্রপটের মাঝে ঘনীভূত কুয়াশা, যার মাঝখান থেকে ভেসে আসা অসহায় মানুষের আর্তনাদ। মুহুর্তে সেই চিত্রপট রক্তিম বর্ণ ধারণ করে, যার মাঝে ফুটে ওঠে অপক্ক থেকে জীর্ণ, খণ্ডিত যোনিপথ। সেই অন্ধকার পথে কান পাতলে শোনা যায় বিদেশি সেনার বুট ও গুলির শব্দ। চিত্রকর এবং দর্শকের চেতনা মিলেমিশে গেলে, দু-চোখে ধরা দেয় এক আলো-আঁধারি রাস্তা, যার মাঝে বয়ে চলেছে রক্তধারা। সেই ধারাকে লক্ষ করে কিছু দূর গেলেই রাস্তার মাঝে এক নগ্ন ক্ষতবিক্ষত মাতৃ-অবয়ব। যার ছিন্ন পেটের নাড়ী যুক্ত হয়ে আছে কিছু দূরে পড়ে-থাকা এক মৃত ভ্রূণে। সেই মৃত ভবিষ্যতের দুই চোখে চোখ রেখে দেখা যায় এক সমুদ্র সৈকত, যার বালুরাশির ওপর পড়ে আছে হাজার হাজার মৃতদেহ। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের রংও রক্তিম। সেই রক্তাক্ত চিত্রপটে একটি দরজা, যা ভেদ করে বীভৎস এক আওয়াজ ভেসে আসছে। সেদিকে ছুটে গেলে দেখা যায় এক বৃদ্ধা বমি করছেন, যার মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে নোংরা বীর্য মাখা পোকা। নিমিষে চিত্রপটটি ঢেকে যায় সেই সব পোকায়। এখন আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু মুহুর্তে সেই চিত্রপটের পোকাগুলি এক একটি শব্দের রূপ ধারণ করে রচনা করে ফেলে এক রক্তাক্ত ঐতিহাসিক দলিল, ১৯৩৭ নাননিং।
১৯৮২ সালের ৯ এপ্রিল জন্ম। লেখিকা গবেষনাধর্মী লেখা লিখতে ভালোবাসেন। লেখালেখির পাশাপাশি নাট্য পরিচালনা এবং অনু-চলচ্চিত্র তৈরি করেন। লেখিকার নিজস্ব একটি নাটকের দল আছে, যার নাম 'অরাম নাটুয়া'। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। লেখিকার বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রন্থ 'লাল চিনার পাতা', 'সেথায় চরণ পড়ে তোমার', 'বিস্মৃতির দর্পনে বিশ্বরূপ', '১৯৩৭ নানকিং', 'মীরা', '১৯৮৪ সর্দার গদ্দার হে', 'ভাঙা শিকারা', 'ধর্ষণের সেকাল ও একাল'।
The book depicts the carnage quite vividly but lacks a coherent narrative. It is almost a collection of stories or photographs of Chinese atrocities in Nanking, with a few jump-cuts to modern America.