"অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক।" (সূরা: ইউসুফ- ১০৬)
জ্বিন জাতি নাফরমানি শুরু করলে আল্লাহ তাআ'লা তাদের ধ্বংস করে মানব জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করেন। কিন্তু মানব জাতিও জ্বিনদের মতো আল্লাহ তাআ'লার দেখানো পথ থেকে সরে শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। জেনে-বুঝে তো আবার কখনও ভুলে ও অজ্ঞতাবশত মুসলিমরা এই পাপে জড়িয়ে যাচ্ছে। বইয়ে এমনই বহু শিরকের কথা বলা হয়েছে যা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে।
শিরক কী? সহজ কথায়, আল্লাহ তাআ'লা ব্যতিত অন্য কোনো কিছুর প্রতি ইবাদত বা বিশ্বাসকেই শিরক বলে। শিরক ২ প্রকার: ১. বড় শিরক: আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোনো ব্যক্তি, কবর, বস্তুর কাছে মাথা নত বা সাহায্য চাওয়া। এই ধরনের ব্যক্তিরা জাহান্নামে যাবে। ২. ছোট শিরক: আমলের কাঠামো ও মুখের কথায় আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে সমকক্ষ সাব্যস্থ করা। এই ধরনের ব্যক্তিরা জাহান্নামে যাবে কিনা তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
মুনাফিক ব্যক্তি যার ভিতরের অবস্থা একরকম আর বাহ্যিক প্রকাশ বিপরীত। এইজন্য ইসলামে দেখিয়ে ইবাদত করতে মানা করা হয়েছে। মুসলিম ব্যক্তি নামাজ, রোজা, যাকাত সঠিকভাবে পালন করবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য। কিন্তু তা যদি মানুষকে দেখানোর জন্য হয়ে থাকে আল্লাহ তাআ'লা স্বয়ং তার জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রেখেছেন।
শিরক এমনই মারাত্মক গুনাহ যে আল্লাহ তাআ'লার নিকট তার জন্য দু'আও করা যাবে না। (সুরা আত্-তাওবাহ্- ১১৩ আয়াত)
আমাদের সমাজে প্রচলিত এমনই কিছু শিরক নিয়ে বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে: ১. পীর-দরবেশ, ওলী-আউলিয়া এবং কবরে শায়িত ব্যক্তির নিকট দু'আ করা। ২. জাদুবিদ্যার শরণাপন্ন হওয়া। ৩. তাবীজ-কবজ, তাগা, বালা ইত্যাদি ব্যবহার করা। ৪. গাছের নিকট ভোগ দেওয়া। ৫. কবর-মাযার ও দরগায় দান বা ভোগ দেওয়া। ৬. আল্লাহ তাআ'লা সর্বত্র বিরাজমান বা মানুষের অন্তরে বাস করেন এমন বিশ্বাসও শিরক। কারণ পৃথিবীর সকল স্থান পবিত্র নয়। তেমনি একজনের অন্তরে একজন আল্লাহ কীভাবে থাকে? বরং আল্লাহ তাআ'লার ক্ষমতা ও ইলম সর্বত্র। ৭. তাগুতের অনুকরণ। ৮. তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণ, পূর্ববর্তীদের দোহাই, বাপ-দাদার দোহাই দেওয়া। ৯. গণকের নিকট যাওয়া ও কথা বিশ্বাস করা। ১০. তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি কামনা করা। ১১. অন্যায়ভাবে কাউকে হ*ত্যা করা। ১২. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনোকিছুর নামে শপথ করা। ১৩. লোক দেখানো আমাল করা। ১৪. যুগ বা সময়কে গালি দেওয়া। ১৫. শারীয়াত প্রবর্তনে অংশীদারত্ব। ১৬. কোনো কিছুকে কুলক্ষণ বা অশুভ মনে করা। ১৭. সালাত পরিত্যাগ করা। ১৮. নিজের মত বা প্রবৃত্তি অনুসরণ। ১৯. সীমালঙ্ঘন ও অতি প্রশংসা। ২০. নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে নূরের তৈরি মনে করা। আল্লাহ তাআ'লার কাছে চাওয়া বাদে রাসূল-নবীদের কাছে চাওয়া।
শিরককে বাঁচতে মুসলিমদের সচেতন হতে হবে এবং প্রচুর তাওবাহ করতে হবে। আল্লাহ তাআ'লা কোন পাপকে ক্ষমা করবেন আর কোনটা করবেন না তা শুধু তিনিই জানেন। কিন্তু বান্দা হিসেবে আমাদের বারবার আল্লাহর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, সাহায্য চাইতে হবে।
সুরা: আর্-রূম- ৩১-৩২ আয়াতে আল্লাহ তাআ'লা মুসলমানদের সাবধান করেছেন মাযহাবে বিভক্ত হয়ে দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড না করতে। নিজস্ব মতবাদের ফলে মুসলিমরা দলে দলে আলাদা হয়ে গেলে তারা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
বইয়ে বিভিন্ন শিরকের কথা কুরআন শরীফ ও হাদীসের আলোকে করা হয়েছে। কিছু ঘটনার কথা আছে, সাবধান বানী আছে। কিন্তু বিভিন্ন গোষ্ঠী অতীতে কি ফল ভোগ করেছে, কী কী শিরক হতো তা নিয়ে আরও আলোচনা থাকলে ভালো হতো। ইতিহাস আমরা পড়ি যেন তা থেকে শিক্ষা নিতে পারি। কিন্তু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলে অতীত ফলাফলও তো পুনরাবৃত্তি হতে পারে তাই না? শিরকের বিভিন্ন প্রকার, হারাম, কুফরি, মুশরিক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরপর লেখা হয়েছে। কুফর-মুশরিক নিয়ে আগে আলোচনা করে পরে শিরকের বিস্তারিত আলোচনা করলে বরং বেশি ভালো হতো। ঢালাওভাবে একটার পর আরেকটা টপিক আসার কারণে মাঝেমধ্যেই পড়ার সময় মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছিল।
বই: অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক লেখক: খলীলুর রহমান বিন ফযলুর রহমান (রহ.) প্রকাশনী: তাওহীদ পাবলিকেশন্স