বিগত কয় বছর ধরে ক্রমাগত পুজোয় 'দীপকাকু চাই!' 'দীপকাকু চাই!' বলে বাড়ি-পাড়া-বন্ধুমহল সব মাথায় করেছিলাম। ১৪২৮-এ এসে মেওয়া ফললো। অদ্ভুত সিরিজ এই একটা। মাঝে হঠাৎ করে বন্ধই বা কেন হয়ে ছিল আবার আজকের এই আজব পুনরাগমন। কলকাতা থেকে দূরে যারা আমরা বসবাস করি, তাদের কাছে প্রকাশকদের হাঁড়ির খবর জানাটা ভারী মুশকিল। দুয়েকটা চিঠি পত্তর লিখব তারও জো নেই, আনন্দমেলার আবার সম্পাদকীয় জিনিসটার প্রতি গভীর অরুচি। যাক গে সেসব। বাজারি মনোপলির পাঁক ঘেঁটে কোনো লাভ নেই। সোজা গপ্পে আসা যাক।
তা, কাহিনী ভীষন ক্লিশেড। বাঙালির গোয়েন্দা গপ্পের ভ্রমনের পটূমিকা থাকবে না, সেটা হয় না। এখানেও আছে। দীপকাকু, ঝিনুক এবং বাকিরা স্বপরিবারে এবারে উত্তরবঙ্গে। বেড়াতে এসেছেন দার্জিলিং ঘেঁষা লেপচাজগতে। এসেই তালেগোলে জড়িয়ে পড়লেন সেখানকার মঠ-অধ্যক্ষ-এর মৃত্যু রহস্যে।
উপন্যাস জুড়ে দুটো মোক্ষম গলদ। প্রথমটা আমার নিজের খাতায় বরাদ্দ। এত বছর পরে চরিত্রদের সাথে সাক্ষাৎ হলো বটে, তবে বিগত গল্পের মূল কিছু তথ্য সেই অর্থে মনে করতে পারলাম না। দীপকাকু কি শুধুই শখের গোয়েন্দা? ঝিনুক কি তার নিজের ভাইঝি? হলে সবাই একে অপরকে আপনি বলে সম্বোধন করছে কেন?
এই এইখানে বলে রাখি ঝিনুক আমার ওই....যাকে বলে... ছেলেবলার ক্রাশ 👍 জানি না, এই তথ্যে আপনাদের কি লাভ হলো। তবে সেই তাকেই আগের কিছু গল্পে বেশ ম্যাচিউর ভাবে লেখা হয়েছিল। এখানে কেন জানি না সেই এক ঘেয়ে গোয়েন্দার স্কুলপড়ুয়া-মার্কা কিশোর সহকারী হিসেবে সে বিদ্যমান। কে জানে, হয়তো তিল কে তাল করছি আমি।
এবারে আসি, দ্বিতীয় গলদে। এবং এটাই মোক্ষম। সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় প্রবীণ সাহিত্যিক। হয়তো আমার ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যায়। তবে, দীপকাকুকে তিনি যুগের সাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন নি। হয়তো এটা আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। দিনের শেষে গল্পখানা স্রেফ শিশুদের জন্যে লেখা এক পুজাবার্ষিকীর অংশ। এখানে হালের তান্ত্রিক হরর গুঁজে দেওয়া চলে না। তবে আমি সেসব চাইছিও না। চাইছি শুধু একটু লজিক। এই নতুন জায়গায় ঘুরতে এসে, পারমিশন না নিয়ে ক্রাইম সিন এক্সামিন করা। লোকাল আই-ওর সাথে বচসা। সখের গোয়েন্দার প্রতি অফিসারের শ্লেষ। শিঘ্রই লালবাজার থেকে আসা ফোন, এবং সেই ইন্সপেক্টরের প্রাইভেট ডিটেকটিভ-এর পদলেহন। সবটাই আগে বহুবার পড়েছি না?
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের উমাশঙ্কর চৌবের মতন একজন বাস্তববাদী রহস্যসন্ধানীর গল্প পড়ে আসার পর, এবারের দীপকাকু একেবারেই মুখে রচল না। কিন্তু তাই বলে বলছি না, পড়বেন না। অবশ্যই পড়ে দেখুন। পুজোর দিনে, পুরোনো ধাঁচের রহস্য গল্প ভালই লাগবে। আর হ্যা, ঝিনুক যে মার্শাল আর্টসটা এখনো সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে সেটা জেনে - চিত্ত বেজায় বিগলিত।
এবারে চলি।