Jump to ratings and reviews
Rate this book

আবরার জনতা

Rate this book
মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও সাম্প্রতিক সময়ের উপর লেখা ১৫ টি গল্প ও একটি ইশতেহার।

191 pages, Hardcover

First published March 26, 2021

2 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (10%)
4 stars
5 (50%)
3 stars
2 (20%)
2 stars
2 (20%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for Dhiman Dey.
15 reviews3 followers
August 22, 2021
'আবরার জনতা' বইটা পড়ার আগে শুনেছিলাম যে বইটা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলনের সাথে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত গল্প নিয়ে লেখা। সে ভেবেই এই বইটা অর্ডার করা। সাধারণত নতুন লেখকদের বই আমি সুযোগ পেলেই কিনি, পড়ি। কিন্তু কখনো কোনো রিভিউ দেয়া হয় না। এটা থেকেই না হয় রিভিউ দেয়া শুরু হোক।

১৯১ পৃষ্ঠার বইয়ের মধ্যে ১৫ টা গল্প। স্বাভাবিকভাবেই খুব বড় নয় সেগুলো। মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প পড়েছি। সে হিসেবে ভেবেছিলাম সেরকম ই হয়ত গল্পগুলো। কিন্তু প্রতিটা গল্প এই ছোট পরিসরেই লেখক এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেন পড়তে গিয়ে কোনো একঘেয়েমি না আসে। তাছাড়া গল্পগুলোর মধ্যে একটা কাব্যিক ভাব ও ফুটে উঠেছে। ব্যাপারটা কেমন সেটা আসলে লিখে বুঝানোটা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু মনে হয়েছে, আমি একটা গল্পের সাথে একটা কবিতাও পড়ছি। যে কবিতার মধ্যে আক্ষরিক ছন্দ না থাকলে ভাবের দিক থেকে একটা ছন্দ আছে।

লেখক গল্পগুলো লিখেছেন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। একটার থেকে আরেকটার দৃষ্টিকোণ খুবই আলাদা। কিন্তু তারপরো মনে হয়, প্রতিটা গল্প একটা অপরটার সাথে জড়িয়ে আছে। এটা হতে পারে, লেখকের নিজের জীবন থেকে অনেক গল্প নেয়া, এ কারণে। প্রতিটা গল্পের মধ্যেই রয়েছে সহমর্মিতার আভাস। কোনো গল্পে সেটা প্রকট, আবার কোনোটাতে প্রচ্ছন্ন। তবে, লেখক যে একটি সহমর্মী সমাজ, একটি সহমর্মী পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, সেটা তার প্রতিটা গল্পে অতি সুচারুরূপে ফুটে উঠেছে। এমনকি সহমর্মী এই সমাজ গড়ায় যদি কেউ আগ্রহী থাকে তাদের সাথে লেখকের যোগাযোগের জন্য কিছু তথ্য ও দিয়ে দিয়েছেন বই এর শেষের দিকে।

তাছাড়া বাস্তবতার সাথে আদর্শের মিল, লেখকের নিজেকে কিছু জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আনা, বেশ কিছু মায়াবী ঘটনার মিশেলে প্রতিটি গল্পই হয়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর।

আর সবগুলো গল্পের শেষে রয়েছে একটা ইশতেহার, যেখানে লেখক তার মতে আদর্শ সমাজব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন, যেখানে তিনি সহমর্মিতা কে প্রাধান্য দিয়েছেন।

'আবরার জনতা' বইটির লেখক 'মোঃ সামিন রহমান'। বইটি Empathy Nation থেকে প্রকাশিত।
Profile Image for Rizal Kabir.
Author 2 books45 followers
July 3, 2021
নাম শুনে মনে হচ্ছিল, কেবলমাত্র সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়েই এই বই। পড়তে গিয়ে বুঝলাম, এর ব্যাপকতা আরো গভীরে – যার প্রতিফলন রয়েছে প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত। অদ্ভত, অন্যরকম এবং সাহসী এক প্রচ্ছদ – বিস্ময় নিয়ে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকার মত।

আমরা এক। এখানে এই ‘এক শব্দটা যে বহুবচন, এটা হৃদয়ে নিতে হবে, মানতে হবে
পনেরোটি ছোটগল্পেই বিভিন্নভাবে এই সার্বজনীন মানবতার বার্তা তুলে এনেছেন লেখক। আর গল্পগুলোর সিংহভাগই মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আবরার জনতা গল্পগ্রন্থে কখনও যুদ্ধের ময়দানে কখনও বা ঘটনার অন্তরালে গল্পগুলো এগিয়ে চলেছে। প্রতিটি গল্পের প্লটে রয়েছে ভিন্নতা, তবুও প্রতিটি গল্পেই কোনো না কোনোভাবে উঠে এসেছে আবহমান বাংলার আর্তনাদ। হত্যা, রাহাজানি, নির্যাতন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে লেখকের প্রচ্ছন্ন সাহসী অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে চরিত্রদের কণ্ঠে।

কিছু সত্য আমরা উচ্চারণ করি, মেনে নেই। আবার কিছু সত্য আমাদের চারপাশের নিত্যকার জীবনে মিশে থাকলেও সেগুলো আলাদাভাবে মনে করি না। হঠাৎ তার উল্লেখ আমাদের মনে একটা স্পর্শকাতর অনুভূতির জন্ম দেয়। কয়েকটি গল্পে একদম সাধারণ ভাষায় এমন কিছু কথাও খুঁজে পেয়েছি যা আসলে আমাদের মর্ম স্পর্শ করে অবলীলায় –
‘তোকে ভালোবাসি ৷’
মানব ইতিহাসে এই বাক্যটা শব্দ করে কোনো বাবা তার সন্তানকে কখনো বলেছেন কিনা? শাফকাত সাহেব এমনটা দেখেন নি কখনো। মায়েরা এসব পারে। বাবাদের যেন কিসের দ্বিধা।

আরেকটি ব্যাপার না বললেই নয়ঃ তা হলো রূপক এবং ভাষার ব্যবহার। বিভিন্ন অংশে এমন বাক্য পড়তে গিয়ে চমৎকৃত হয়েছি বারবার সেজন্য।
হারিকেনের কাচের দেয়ালে পুড়তে থাকা সময় এবং দৃশ্যপটে যেন কিছু রোমাঞ্চ যুক্ত হয়।
কিংবা
এসব হাসপাতাল ছেঁড়ে হাঁস আর পাতালের দুনিয়ায় ফিরতে হবে শিগ্রি।

পড়তে গিয়ে কিছু জায়গায় থমকে গিয়েছি মুগ্ধতায়। মনে হচ্ছিল, বাহ লাইনটা আরো একবার পড়ি তো।

লেখককে ব্যক্তিগতভাবে চিনি বলেই কয়েক জায়গায় হোঁচট খেয়েছি এই ভেবে যে, লেখক এসব চিন্তা-ভাবনা কিভাবে করলো? পরে অবশ্য নিজেই বুঝতে পেরেছি, লেখক হতে হলে কল্পনার ডালা নিয়ে বসতে হয়। নিজেকে সম্ভব-অসম্ভব সব স্থানেই ভাবতে হয়। সামিন রহমান বেশ সাফল্যের সাথেই তা করেছেন। যদিও দুই এক জায়গায় খিস্তিমূলক ভাষা একটু অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে।
পেট্রোল বোমা, পাখি পুকুর ও প্রিয়, শাফি, আবরার জনতা – এই গল্পগুলো আমার বেশি ভালো লেগেছে। বাস্তবতা এবং পরাবাস্তবতার একটা সীমারেখায় পাঠককে ধাঁধায় ফেলার একটা পরোক্ষ চেষ্টাও ছিল মাঝে মাঝে।
উপমহাদেশের মানুষের ইতিহাস এবং চরিত্র যদি বিশ্লেষণ করি – কয়েক জায়গায় লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অতি-আদর্শিক মনে হলেও বিষয়ভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনে লেখক ভালই কাজ করেছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে।

নব্বইয়ের দশকে জন্মানো বাংলাদেশের তরুণসমাজের কাছে সত্যিকার অর্থে বাকস্বাধীনতা একটি গোপন আস্পর্ধা আর গালভরা শব্দ। সমকালীন ব্যক্তিনির্ভর, স্বার্থান্বেষী নোংরা রাজনীতি আর ইতিহাসবিকৃতির অংশ হয়ে আছি আমরা সবাই।
আবরার জনতা এর থেকে বের হয়ে আসুক সহমর্মিতা চর্চার মাধ্যমে।
Profile Image for Ishan.
6 reviews2 followers
March 1, 2023
#বুক_রিভিউ

বই : আবরার জনতা
লেখক : মোঃ সামিন রহমান
প্রকাশনী : Empathy Nation
প্রকাশকাল : ২৬শে মার্চ ২০২১.
মূল্য : ২৫০ টাকা

প্রথমেই পাঠকের উদ্দেশ্যে বলতে চাই----
আবরার জনতা বইটিতে বাংলাদেশে সংঘটিত ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ তৎকালীন সময়ের কিছু ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত বইটিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বর্তমান সময়ের পাঠকের সংযোগসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ছোট বড় ১৫ টা গল্প ও ১ টা ম্যানিফেস্টোর সমন্বয়ে বইটি গঠন করেছে লেখক।

সূচিপত্রঃ
পেট্রোল বোমা
পাখি, পুকুর ও প্রিয়
ওঠ
শাফি
নানু
বাঘ
একটি শোকস্নাত বর্ণহীন কবিতা
শদেবাংলা
ভুলুমাঝি
সেলাই
গুলিখেকো
হলুদ দাঁত
মুকুল
সবুজ শার্ট
আবরার জনতা
সহমর্মী দেশ ইশতেহার।

এখানে দেওয়া প্রতিটা গল্পের প্রেক্ষাপট ও কাহিনী দারুণভাবে তৈরী করা হয়েছে।প্রতিটি গল্পের প্রেক্ষাপট এক নিমিষেই পাঠককে নিয়ে পৌছে দিবে সেই সময়ের দুর্ধর্ষ সব লড়াইয়ে। পাঠক অনুভব করবে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে।তবে কিছু কিছু বিষয় লেখক তার নিজস্ব কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে লিখতে চেষ্ঠা করলেও তা শেষপর্যন্ত সুন্দর ইতি টানতে পারেনি।তবে বাকি গল্পগুলোতে কিছু ভুল ছাড়া তিনি তার সুন্দর হাতের কাজ দেখিয়েছেন। আগ্রহ হারালেও টানা শেষ করে উঠতে হয়েছে আমাকে।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী বরাবরই আমার অনেক প্রিয়।একটা সময় ছিলো যখন যুদ্ধের কাহিনী নিয়ে বই এমন কোনো বই পেলেই সেটা এ�� নিমিষেই শেষ করতাম আমি।কিন্তু সময়ের সাথে সাথে হয়তো আমার পছন্দও বদলিয়েছে। তবে টান বলেন বা আকর্ষণ সেটা ঠিক আগের মতোই আছে।এমনই একটা আলাদা আকর্ষণ নিয়ে বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম।কিন্তু বইয়ের শুরুতেই প্রথম গল্প যেন আমার জ্বলন্ত আকর্ষণে জল ঢেলে ছাড়ল।গল্পটাতেই লক্ষ করলাম সময়ের যে প্লটহোল টা হলো তা আমাকে ভাবিয়েছে।একটা প্রজন্ম কখন যে আরেকটাতে রুপ নিলো তা বুঝতে গেলে আপনার মাথা ঘুরতে থাকবে।তাছাড়া রাজাকারের কোনো গুন বা লক্ষন না থাকা সত্ত্বেও একজনকে রাজাকার সাব্যস্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে বাবা ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন। একটা কথা বা একটা সমর্থনে যদি কেউ রাজাকার হয়ে যায় তাহলে হয়তো এই বাংলায় এখন পর্যন্ত রাজাকারের অভাব হবে না।যাইহোক পরবর্তী গল্পগুলো ভালো লেগেছে।আর গুলো নিয়ে না বলি।লেখার ধরণ ভালো লেগেছে অনেক।তবে কাহিনীর প্রেক্ষাপট এবং শব্দবুননে আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিলো।
সঠিক উপস্থাপন এবং হঠাৎ করেই দৃশ্যপটের আমূল পরিবর্তন আমাকে হতাশ করেছে।তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে নতুন পাঠককে বইটি পড়ার জন্যে সাজেস্ট করব না। কারন তারা বইটি পড়া মাত্রই বইপড়ার আগ্রহ হারাবে।


প্রোডাকশন কোয়ালিটি,মলাট,প্রচ্ছদ ও নামকরণঃ
অনেক অনেক ভালো কাহিনী ও প্রেক্ষাপটে রচিত বইও কিন্তু মাঝে মাঝে পাঠকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার একটা মাত্র কারন অসংখ্য বানান ভুল।বইটির কোথাও লেখা... বুমা আবার কোথাও লেখা বোমা....এমন কতটা বানান ভুল আছে তা আমার গণনা করতেও হয়তো অধিক সময় লেগে যাবে।বাইন্ডিং ভালো ছিলো।প্রচ্ছদ অনেকটাই ত্রুটিপূর্ণ মনে হয়েছে সাথে নামকরন নিয়ে না বলি।নামকরণের কারনে হয়তো অনেক পাঠক বইটি পড়তে আগ্রহ প্রকাশ করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হতাশ হয়ে ফিরবে।


বরাবরই সব ধরনের বই পড়ার অভ্যাস আছে বিধায় বইটা থেকে মুখ সরিয়ে নেইনি।তবে প্রতিটা মুহূর্তে আগ্রহকে যেন মাটিচাপা গর্ত থেকে তুলে আনতে হয়েছে।যাইহোক লেখকের লেখার হাত ভালো।প্রথম লেখা ব‌ই বিবেচনা করে লেখকের লেখার হাতকে প্রশংসা করাই যায়। তবে উল্লেখ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি আর একটু মনযোগী হলে হয়তো ত্রুটিমুক্ত লেখা বের হয়ে আসবে আশা করছি।বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে অবিরত ধারায় কলম উচিয়ে ধরুক লেখক। লেখকের জন্য হৃদয় নিঙ্গড়ানো অফুরন্ত ভালোবাসা ও শুভ কামনা রইল।

রেটিংঃ৪.৫/১০

বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি মার্জনীয়। ধন্যবাদ।
1 review
Read
February 18, 2023
♦আবরার জনতা বইটি মুক্তিযুদ্ধের নানা গল্প নিয়ে লিখিত। গল্পগ্রন্থটি সাজানো হয়েছে ১৫টি গল্প ও একটি ম্যানিফেস্টো দিয়ে।গল্পের মেইন আকর্ষণ ছিলো আবরার জনতা গল্পটি।

♦একনজরে সূচিপত্র:
‌▪️পেট্রোল বুমা
▪️পাখি, পুকুর ও প্রিয়
▪️ ওঠ
▪️শাফি
▪️ নানু
▪️ বাঘ
▪️ একটি শোকস্নাত বর্ণহীন কবিতা
▪️ শদেবাংলা
▪️ ভুলুমাঝি
▪️সেলাই
▪️গুলিখেকো
▪️ হলুদ দাঁত
▪️ মুকুল
▪️সবুজ শার্ট
▪️আবরার জনতা
▪️সহমর্মী দেশ ইশতেহার।

♦পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বইটি শুরু হয়েছে পেট্রোল বুমা গল্প দিয়ে। আর শেষ ম্যানিফেস্টো দিয়ে।ম্যানেফস্টো টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। লেখক খুব করে চাচ্ছিলেন ১৯৫২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব ঘটনা তুলে ধরার।অনেক ঘটনা তুলে ধরেছেন যা পড়ে মনে হলো প্রত্যেকটা মানুষের কথাগুলো ভাবা ধরকার। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ঠিকি কিন্তু স্বাধীন হতে পারিনি।স্বাধীনতার এতো বছর পর এসেও আমরা আজ স্বাধীন নয়,না আমরা স্বাধীন ভাবে বাঁচতে পারছি।
পেট্রোল বুমা গল্পে বাবার নিষেধ থাকা সত্বেও ছেলের যুদ্ধে অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে আর বুঝার মতো।ভুলুমাঝির গল্পে মাঝির গান গাওয়া অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন।
হলুদ দাঁত গল্পে বাচ্চাকে পানিতে চুবিয়ে মারা আর জীবন দেখতে পেলো মাটিতে পড়ে থাকা জড়বস্তুুর মতো পাগল ছেলেটার মৃতদেহ। কচি রক্তের স্বাদ পেয়ে রাক্ষুসে মাটির জেগে উঠা।কথাগুলো হৃদয়ে আগাত করেছে।
৭ অক্টোবর ২০১৯ বুয়েটে আবরার হত্যা হয়েছিলো।লেখক খুব সুন্দর করে আবরার কাহিনী তুলে ধরেছেন।
"সহমর্মি দেশ ইশতেহার" গল্পটি দ্বারা পাঠককে জাগিয়ে তোলা, নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছেন।
প্রত্যেকটা গল্প দিয়েই লেখক কিছু না কিছু বুঝাতে চেয়েছেন।একটি সহমর্মি দেশ গড়ে তুলার প্রচেষ্টা করেছেন।প্রত্যেকটা গল্পের মাঝেই বুঝাতে চেয়েছেন আমাদের অবস্থান ও বাস্তবতা।
আমাকে নিয়ে ভেবো না দাদা,তুমি পালাও।আমিতো তোমাদেরই মাঝে বেঁচে থাকবো।শুধু আমার জামাটা ছিঁড়া, নোংরা।শরীরটা খারাপ।খেতে পাইনা তো, তাই।তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করোনা দাদা।তুমি পালাও।তোমাকে পালাতে হবে।দেশকে স্বাধীন করবা তুমি।আর তখন, নতুন নতুন জামা পড়ব,ভালো ভালো খাবার খাব,কতো মজা হবে,,,,পালাও দাদা,পালাও।দাদা পালাও কথাগুলো যেনো কানে বার বার ভাজতেছে।

লেখক চেয়েছেন আমাদের দেশে যেনো ধর্ম,বর্ণ, জাতপাতের কোন কিছুর ভেদাভেদ না থাকে। লেখক বলেছেন আমাদের এই স্বপ্নের সহমর্মি দেশে, আমরা সহমর্মিতা চর্চার সুযোগ খুঁজি সাতটা বিভাগে। যতা:
১. শিল্প, সাহিত্য ও মিডিয়া।
২. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
৩. নেতৃত্ব ও ক্ষমতাবান।
৪. জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ।
৫. রাষ্ট্র, শাসন ও বিচারব্যবস্থা।
৬. উদ্যোক্তা ও অর্থনীতি।
৭.শিক্ষা, সমাজ ও সম্পর্ক।

♦যে উক্তিটি ভালো লেগেছে, ❝শত্রুকে ভালোবাসো, ক্ষমা করে দাও, তার হৃদয় জিতে নাও।❞

♦ব্যক্তিগত মতামত:
বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে।আমি ভেবেছিলাম বইটি হয়তো আবরারকে ঘিরে লেখা।পড়ার পর বুঝতে পারলাম শুধু আবরারকে নিয়ে নয় এখানে অনেক কিছুর উল্লেখ আছে।
একটা বই লিখতে হলে অনেক তথ্যের প্রয়োজন হয়,আর এই বইয়ে অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন লেখক যা সহজসাধ্য নয়। যদি লেখক এভাবে লিখে যান তাহলে খুব শীঘ্রই তিনি সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহন করতে পারবেন।তবে এই বইটার মতো পাঠক ধরে রাখার কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

♦সমালোচনা:
লেখক কোনো কোনো জায়গায় খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ করে ফেলেছেন আবার কোনো জায়গায় অতিরিক্ত কথা বলেছেন যার কারণে গল্পের মাধুর্য হারিয়েছে।বানানের দিকে লেখকের আরও খেয়াল রাখতে হবে।লেখার ধরন অভূতপূর্ব এভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।প্রথম লেখক হিসাবে ভালোই লিখেছেন।

♦সবশেষে বলতে চাই:
অনবদ্য রচিলেন লেখক সাহেব।কলম চলুক নিরলস গতিতে। আপনার জন্য শুভ কামনা। আগামীর পথ সুদৃঢ় ও দীর্ঘায়িত হোক।

♦ব্যাক্তিগত রেটিং:৬/১০

বই :আবরার জনতা
লেখক :মোঃ সামিন রহমান
প্রকাশনী :Empathy Nation
প্রকাশকাল : ২৬ মার্চ ২০২১
মূল্য :২৫০৳
রিভিউ :খাদিজা আক্তার
(ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন🙏)
1 review
Read
August 17, 2021
"আবরার জনতা"
লেখক:- মোঃসামিন রহমান
বিষয় :- মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও সাম্প্রতিক ঘটনা।

মূল উদ্দেশ্য সহমর্মিতা তৈরী ও তা বাস্তবে পরিণত করা।

"Words are beautiful but actions are Supreme"
বইয়ের শুরুতে এই বাক্যটি অবশ্যই আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।

"পুরোনো চালে ভাতে বাড়ে আর নতুন চাল স্বাদে বাড়ে"( আমার উক্তি) 
"পুরোনোর প্রতি মানুষের আস্থা বেশি থাকে"(লেখকের কথা)
আমরা বরাবরই যারা লেখালেখিতে নিজেদের স্থান তৈরী করে নিয়েছেন খুব শক্ত করে তাদের বই ঘুরেফিরে পড়ি ও পড়ার জন্য অ���্যকে উদ্বুদ্ধ করি। নতুন লেখকদের লেখার খোঁজ খবর যেমন কম রাখি তাদের বই পড়ার ক্ষেত্রেও খুব অনিহা। 
এটা কখনোই ভাবিনা নতুনদের জায়গা না দিলে পুরোনো তাঁরা কি করে হবে। চাপাবাজী করে লাভ নাই। আমি নিজে যত বড় কথা বলিনা ক্যান কাজের বেলায় আমিও ঠনঠনাঠন।

মোঃ সামিন রহমান পেশায় একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে।  একজন অঙ্কুরিত লেখক বলা যায় তাঁকে। আবরার জনতা তাঁর লেখা প্রথম বই।
১৫টি ছোট ছোট গল্প দিয়ে পুরো বইটা সাজানো। একটি ইশতেহার আছে বোনাস হিসাবে। ইশতেহার হলো কিভাবে চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটালে জীবনের প্রতিটি ধাপে, সমাজে আমুল পরিবর্তন আসবে তা নিয়ে(বইটি না পড়লে ইশতেহার সম্পর্কে কি করে জানবেন?)।

বইটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে লিখেছেন এবং গঁদ বাধা নিয়মে মুক্তি যুদ্ধকে উপস্থাপন করেনাই এটা তার লেখার একটা বড়দিক। ওনার লেখার ভালো, মন্দ অনেক দিক আছে কিন্তু সবকিছু নজর আন্দাজ করলে এই হিসেবে ওনাকে বাহ বাহ দেওয়া যেতেই পারে অনেক ভালো চিন্তা শক্তির প্রকাশ করেছেন এই নবীন লেখক।
তার ১৫টি ছোট গল্পের মধ্যে "একটি শোকাস্নাত বর্ণহীন কবিতা" এই গল্পটি আমার অন্য রকম ভালো লেগেছে। ছোট একটা তিন, চার পাতার গল্প কিন্তু কি গভীর মানে! 

লেখায় চিন্তা,কল্পনা,বাস্তবতা  আছে তাঁর, মানতে হবে।
ওনার লেখা এই বইয়ে "বাঘ " গল্পটা সম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য লেখা সেখানে গল্পের উছিলায় লেখক যে প্রশ্ন ছুরে দিয়েছেন তার উত্তর আমারো খুব জানতে ইচ্ছে করে.... যুদ্ধের পর মুজিব নজিরবিহীন কাজ করলেন সব কালপ্রিটদের ক্ষমা করে দিলেন। অথচ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মারার জন্য গুপ্তহত্যার ছক কাটা হলো! মুজিব বেঁচে গেলে কি হতো? এই পিতা এই দেশটাকে তাঁর সবটুকু উজাড় করে দিলেন।
তবুও তাঁর পরিবার ও তাঁকে হত্যা করার জন্য গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করা হলো।তাঁর মৃত্যুতে বা হত্যায় এতো নীরবতা ক্যান ছিলো? বাংলার এই দূর্বল, ভিতু জনগণ মুজিবের ভাষনের ও তর্জনীর হুঙ্কারে পাকসেনাদের সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে ভয় পেলো না অথচ মুজিব এর মৃত্যুতে কেউ রাজপথেও নামলোনা! ক্যান? ভয়ে নাকি শোকে? নাকি জনগণও তখন এই মৃত্যুর পক্ষে ছিল? যদি মৃত্যুর পক্ষে থাকে তবে ক্যান ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর আমারো খুব জানতে ইচ্ছে করে।

সবশেষে এটাই বলবো বইটি সম্পর্কে,,, বই পড়তে কোন বাঁধা নাই। সমালোচনা করতে হলেও বই পড়তে হবে। আর আমরা নতুনদের বই পড়ে সমালোচনা ও আলোচনা করলেইতো ভবিষ্যতে জাফর ইকবাল,হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, আহমেদ ছফার মত গুণী লেখক পাবো।
লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

শাহারিয়া আক্তার
Profile Image for Muin Mohammad Mozammel.
62 reviews9 followers
November 18, 2021
"সহসা এই মহাবিশ্বে যত নাটক, যত গল্প, যত গান সত্য হয়ে বেঁচে ছিল, তাদের হরফ, যতিচিহ্ন, শব্দের বুনন, বাক্যের জ্বাল টুকরো টুকরো হয়ে উড়ছে"

ভিন্ন স্বাদের ১৪টা ছোটগল্প আর ১টা গল্প নিয়ে আবরার জনতা বই। গল্প লেখার ধরণও প্রশংসনীয়; চিন্তার খোরাক জোগায়। সমকালীন বাস্তবতায় অতীত সময়কে এক নজর দেখতে চেয়েছেন লেখক। শুধু দেখেই ক্ষান্ত হননি, পর্যালোচনা করেছেন নিজস্ব বিবেচনায়। নিজের বোধ আর ভাবনাকে প্রকাশ করেছেন পরিমিত ভাবে, কোন এক বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখেননি। শুধু একটা শব্দ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন সবার মাঝে, তা হল সহমর্মিতার বাণী। তার সহমর্মিতার ডাকে বুঝতে পারা যায়, বর্তমান সময় আর এর পদে পদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ঘটনা তাকে আলোড়িত করে।

লেখকের লেখার হাত চমৎকার। বেশিরভাগ গল্পেই গল্পের আবহ উপস্থাপনও ভালো লাগছে। লেখকের কাছ থেকে নিয়মিত বিরতিতে লেখা প্রত্যাশা করছি। বইটির নাম নির্বাচন ও উৎসর্গ অংশটুকু নিঃসন্দেহেই প্রশংসার দাবিদার।

সব মিলিয়ে অতীতের ছায়ায় বর্তমান সময়ের বাস্তবতার প্রতিফলন যেভাবে ঘটেছে, তাতে করে মনে হয়েছে পর্যাপ্ত সময় পেলে লেখক অনেকদূর যাবেন। শুভকামনা থাকলো।
Profile Image for Aridee Hasan Sakib.
59 reviews1 follower
July 5, 2023
বইয়ের নাম :- আবরার জনতা
লেখক :- মোঃ সামিন রহমান
প্রচ্ছদ :- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান
প্রকাশনী :- Empathy Nation Limited
প্রথম প্রকাশ :- ২৬ মার্চ ২০২১
মুদ্রিত মূল্য :- ২৫০ ৳
পৃষ্ঠা :- ১৯১


অনুভূতি কথন :-

আবরার জনতা বইটি মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও সাম্প্রতিক ১৫ টি গল্প ও একটি ইশতেহার নিয়ে লেখা।
প্রতিটা গল্পেই লেখক আলাদা কল্পনায় হারিয়ে গেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ কে নিজের চোখে দেখে নি তারপরেও সেগুলো নিজের মতো করে অনুভব করার চেষ্টা করেছে। তার লেখা পড়ে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটু হলেও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

➰ পেট্রোল বোমা

গল্পটা মানিক সর্দারের যে কিনা যুদ্ধ পছন্দ করতো না। তার ছেলে ইলিয়াস একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলো। মানিক সর্দারের মতে মুক্তিযুদ্ধ ছিলো একটা বাজে পলিটিকাল কামড়া কামড়ি। যুদ্ধের পর মানিক সর্দারের ছেলে ইলিয়াস ঠিকই বেচে ফেরে। কিন্তু ইলিয়াসের কাছে তার বাবার প্রতি একটা দূরত্ব হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাবা ছেলের অভিমান এই গল্পে ফুটে উঠেছে।

➰ পাখি, পুকুর ও প্রিয়

এই গল্পটা পাখির দৃষ্টিতে যুদ্ধ কেমন ছিলো। তারাও যে ওই পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট করেছে তা সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে লেখক।

পুকুরে যে লাশ ভেসে থাকতো যুদ্ধের সময় এমন কিছু বর্ণনা ফুটে উঠেছে গল্পটিতে। পুকুরের যে আলাদা গল্প থাকতে পারে। পুকুরের কাদার মধ্যেও অনেক লাশের সমাধি আছে। লেখক কল্পনার মাধুরি মিশিয়ে যা লেখছে সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রিয় গল্পটি পুকুর পাড়ে বসে গল্প করছে প্রেমিক -প্রেমিকা। তাদের রোমাঞ্চকর কথাবার্তার মাধ্যমেও লেখক মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথা তুলে এনেছেন।

➰ ওঠ

এই গল্পটা দুটো ভাইয়ের। এখানে ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনারের তাৎপর্য ফুটে উঠেছে। শহীদ মিনারের প্রাঙ্গনে নুরুল পাগলা কে দেখতে পাওয়া যায়। ছোট ভাইয়ের শোকে এমনটা হয়েছে। সেই নুরুল পাগলা মানুষের মধ্যকার ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে তোলার কথা বলেছে এই ওঠ গল্পটির মাধ্যমে।

➰ শাফি

এই গল্পটা মেজর শাফকাতের,যে মুক্তিবাহিনীকে দুচোখে দেখতে পারেনা। তার স্ত্রীর সবসময় মৃত সন্তান জন্ম দেয়। যুদ্ধের পাঁচ বছর পরে ইসলামবাদের হাসপাতালে এবার শাফকাতের বাচ্চা হয় এবং মা ও বাচ্চা দুজনেই সুস্থ। তবে সমস্যা হচ্ছে মেজর শাফকাত দুটো বাচ্চা দেখতে পায়,যেখানে সবাই একটা বাচ্চা দেখতে পায়। এই গল্পটা প্রথমে খারাপ লাগলেও একটা অদৃশ্য ছেলের শাফির প্রতি যে ভালবাসা দেখিয়েছেন শাফকাত সাহেব সত্যিই চোখে পানি এসেছিলো।

➰ নানু

সামিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্প লেখার খাতিরে তার নানুর কাছে গল্প শোনে। একজন অন্ধের চোখে মুক্তিযুদ্ধ কেমন এই গল্পে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তার ভাই যতই রাজাকার হোক তাকে ছোট বেলায় আদর করতো এটার জন্যই তার কাছে অনেক ভালো মানুষ ছিলো তার বড় ভাই।

➰ বাঘ

ক্যাম্পাসের মঞ্চ নাটকের জন্য প্রান্ত বঙ্গবন্ধু ও শহীদ সাহেবকে নিয়ে নাটক লিখেছে। নাটকটা তার মেসের বড় ভাই সুমনকে শোনাচ্ছে। এই গল্পটা আমার কাছে বেশ নাটকিয় লেখেছে। প্রান্তের লেখা পুরো নাটক সুমনের পছন্দ হয়না, তাই খাতা কলম প্রান্তের কাছে থেকে নিয়ে নিজের মত লিখতে শুরু করে। কি এমন লিখলো জানতে পড়তে পারেন গল্পটি।

➰ একটি শোকস্নাত বর্ণহীন কবিতা

এই গল্পে কয়েকটা কাগজের জবানবন্দিতে মুক্তিযোদ্ধা ছেলের প্রতি মায়ের লেখা শোকাহত লেখা ও কবিতা লেখার বিষয়টি চলে এসেছে। কবিতা টা আমার বেশ ভালো লেগেছে।

আমি তো কাঁদবো না
আমি তো কাঁদবো না।
না কখনোই না। আজ বড় আনন্দের দিন।
আমি জেনেছি আমার ছেলে যেমনটি ভালোবাসতো আমাকে তেমনি ভালোবাসতো তার ভাষাকে। আমি মেনে নিয়েছি।
হ্যাঁ, আমি মেনে নিয়েছি।
তার মৃত্যু, তার বীভৎস মৃতদেহ, তার…..
এই ভেবে উল্লাসিত হয়েছি
যে রোষ, যে প্রাণশক্তি, ঐ প্রাণহীন শরীরে আমি প্রত্যক্ষ করেছি তা ওই অন্ধকার গুলোর জীবন্ত হৃদপিণ্ড চিপে ছিড়ে ফেলবার জন্য যথেষ্ট।

➰ শদেলাংবা

নমিসা নামের একটা মেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে চিঠি আদান-প্রদান করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম নমিসা নামের উল্টো সামিন রাখে নমিসা। নমিসার সাথে বাংলদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে চিঠি আদান-প্রদান হয় সামিনের সাথে। তারা দুজনেই নতুন একটা সুন্দর দেশের স্বপ্ন দেখে যেটা বাংলাদেশের উল্টো নাম শদেলাংবা।

➰ ভুলুমাঝি

ভুলুমাঝি নদীর এপার থেকে ওপারে মানুষ পাড়াপাড়ের কাজ করে। মাঝেমধ্যে নৌযাত্রীদের সুরেলা গান শোনায় ভুলু মাঝি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতায় ভুলু মাঝি তার পরিবার হারিয়ে ফেলেছে।

➰ সেলাই

এই গল্পটা একটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মকবুলের। মকবুলের চরিত্র তেমন ভালো না,তারপরেও রহিমা তার স্বামীকে প্রচুর ভালোবাসে। একদিন দালানকোঠার কাজে দিনমজুরি করার সময় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। যদিও সকল খরচ ওই বাড়ির মালিক বহন করেছেন। মকবুলের চিকিৎসার জন্য দশটা সেলাই দেয়া হয়,যার মধ্যে অসাবধানতার কারণে দুইটা সেলাই খুলে যায়। এই গল্পটা বইয়ের সাথে যুতসই মনে হয় নি আমার। তেমন ভালো লাগেনি বলতে গেলে।

➰ গুলিখেকো


এই গল্পটা রংপুরের পটভূমি নিয়ে লেখা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দারোয়ানের ছেলে বাসায় ফিরছিলো। তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে দিয়ে পাকিস্তানি জীপ ও লাশভর্তি ট্রাক চলে গেলো। তার পিছে অনুসরণ করে দুটো ছেলে গেলো এবং সাজুও তাদের পিছনে গেলো। পাকিস্তানি জিপ আজিমপুর কবরস্থানে থামিয়ে লাশ ফেলে চলে যাওয়ার পর ছেলে দুটো জব্বার ভাইয়ের লাশ সনাক্ত করে কবর দেয়।

➰ হলুদ দাত

এই গল্পটি একটি সতীর্থদের দলের যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে হলুদ দাঁত আলা পাগল ধাচের ছেলে আসে খাবারের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে যে একজন পাগল ধাচের ছেলেরো অবদান আছে তার নিখুঁত চিত্র এই গল্পে ফুটে উঠেছে। পাগলদের মধ্যেও দেশপ্রেম থাকে এমনটাই লেখক বুঝাতে চেয়েছে।

➰ মুকুল

ঘরের মধ্যে মাহিম নামের এক ছেলেকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছে। তার সমস্যা তার মাথার পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভব করে এবং নিজেকে মুকুল দাবি করে। মাহিম তার মাকে পছন্দ করলেও তারা বাবাকে দুচোখে দেখতে পারেনা। মাহিমে মধ্যে মুকুল চরিত্রে রুপান্তরিত কেমনে হলো এবং ভাষা আন্দোলনের সময় পুলিশি অত্যাচারের বর্ণনা কিভাবে জানলো,জানতে পড়তে হবে সাইকোলজিক্যাল বইটি।

➰ সবুজ শার্ট

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কলেজে শোকযাত্রা হবে। শিক্ষার্থীরা বন্ধ পাবেনা ভেবে কিছুটা হতাশ হয়ে গেলো। এক শিক্ষার্থী তার বন্ধু জামিলের কাছ থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোচনা গ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়ার জন্য। এই বইটি পড়ার মাধ্যমেই ছেলেটি স্বপ্নের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন দেখতে পায়। যেখানে প্রচন্ড রোদে বিরাট প্লাকার্ডে রক্তে লেখা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। সেখানে মিছিলের ভিতরে পুলিশের গুলিবর্ষণ ও টিয়ারগ্যাস দেয়া হয়। এক সবুজ শার্ট পড়া ছেলে যার বুকে গুলি লেগেছে সে বাচার আকুলতা প্রকাশ করছে। হঠাৎ শিক্ষার্থীটির ঘুম ভেংগে গেলো।

➰ আবরার জনতা

আবরার জনতা গল্পটি সুলতান ও স্টিফেন নামে এক পাদ্রির, যে দেশের ডাকে যুদ্ধে এসেছে। তারা ঝর্ণার পাশ দিয়ে হাটার সময় একটা মৃত বাচ্চা দেখলে ঝর্ণার কাছেই কবর দিয়ে দেয়। এক রাত ঝর্ণার পাশে বিশ্রাম নিয়ে আবার তাদের পথচলা শুরু করে। পথিমধ্যে একটা আদিবাসী গর্ভবতী মহিলাকে দেখতে পায়। মহিলাটা প্রসব যন্ত্রনায় কাতর সুলতান ও স্টিফেন কি করবে ভেবে পায় না। হঠাৎ নদীতে ভেলা ভাসিয়ে এক ডাক্তারের আগমন হয়। ডাক্তারটা আদিবাসী মহিলাটির ডেলিভারি করায় এবং সে নিজেও জানে না ২০২১ থেকে কিভাবে ১৯৭১সালে আসলো। সুলতান ও স্টিফেন এর সাথে এ সময়কার কথা শোনে এবং দেশ স্বাধীন ও বিভিন্ন ঘটনাবলির কথা বলে। টাইম ট্রাভেল এর মিশ্রণ এই গল্পটা বেশ ভালোই লেগেছে।

➰ সহমর্মী দেশ ইশতেহার

এখানে লেখক আমাদের সকলকে মিলেমিশে থাকার কথা বলেছেন। কিভাবে অন্যের সমস্যা নিজের সমস্যা ভাবলে মুক্তি পাওয়া যায়, স্বাধীনতার মর্ম কি..? এই ইশতেহারে অনেক সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রচ্ছদ,বানান ও অন্যান্য :-

বইয়ের নামকরণের একটা গভীর অর্থ আছে। প্রচ্ছদটা বেশ সুন্দর ও বইয়ের সাথে প্রচ্ছদের রঙ লাল বেশ মানিয়েছে এবং বই প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় সবুজ রঙের পৃষ্ঠা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বইয়ে অসংখ্য বানান ভুল যা বেশ কষ্ট ভুগিয়েছে আমাকে। যেমন:- নানু গল্পে দাদি শব্দ কই থেকে আসলো, বুমা, ইটা এগুলো কেমন শব্দ..? প্রডাকশন ভালো হলেও কিছু পৃষ্ঠায় অপর পৃষ্ঠার কালির দাগ দেখা যাচ্ছে। এটা লেখকের প্রথম বই হিসেবে ভালোই লিখেছেন, তবে কিছু গল্প বইটায় না থাকলেই বইয়ের মান ভালো থাকতো। এতে সব বয়সের ছেলে মেয়ে বইটা পড়তে পারতো। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে আপনি আরো মনোযোগী হবেন আপনার লেখার প্রতি। সবশেষে একটা কথা বলবো বইটা পড়লে একটু হলেও নিজেকে দেশপ্রেমি অনুভব হবে। তাই এ প্রজন্মের ছেলেমেয়ে যারা অনেক কিছুই জানেনা তাদের জন্য বইটা পড়ার অনুরোধ রইলো।



রেটিং :- ৬.৫
Profile Image for Md Arif.
1 review
February 13, 2023
◾আবরার জনতা◾

পুরো বাংলাদেশকে এক মলাটে তুলে আনার প্রয়াস যেন এ বই আবরার জনতা। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমানের বাংলাদেশ এবং সাথে দেশটিকে এক সহমর্মি দেশে পরিণত করার জন্য ১৫ টি গল্পের সাথে রয়েছে এক সহমর্মিতার ইশতেহার আর সাথে একটুকরো আবরার। সবার প্রতি অনুরোধ আধো আধো না পড়ে পুরো রিভিউটি পড়ে বই সম্পর্কে ধারণা নিতে........

🔸প্রথমেই গল্প নিয়ে কথা বলি,
বইটিতে লেখক ভাষা থেকে শুরু করে বর্তমান কালের বাংলাদেশ নিয়ে মোট ১৫টি গল্প রয়েছে। গল্পগুলোর যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হচ্ছে গল্পগুলোর অভাবনীয় দৃশ্যপট, প্রেক্ষাপট এবং নতুন কিছু দৃষ্টিভঙ্গি। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। যেমন:

"পাখিটির মনে পড়ে। একটা রাখালের মতো দেখতে মানুষের হাতে সোজা লাঠির মতো দেখতে একটা কি যেন ছিল। রং কালো। মুখটায় গর্ত। সেই গর্ত দিয়ে সাঁই সাঁই কি বেরুচ্ছিল, আর ঠাস ঠাস শব্দ হচ্ছিলো। এতে অন্য মানুষগুলো টুপ করে মারা যাচ্ছিল। এই মানুষটাকে রাখাল বলা যাবে না।"

বলুন তো এখানে রাখালটা কে? যদি পেরেও থাকেন তবুও কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে তাই না? রাখালটি হচ্ছে পাকিস্তানি মিলিটারি সৈনিক।

সাথে নতুন কিছু চিন্তার খোরাকও পাবেন। যেমন:
১) হরতাল তো আমার প্রিয়, ঢাকা শহর কি সুন্দর ফাঁকা হয়ে যায়, বাতাসটাও অনেক পরিষ্কার লাগে।
২) আমার কাছে যুদ্ধ ছিল এক বাজে পলিটিকাল কামড়াকামড়ি। পার্থক্য হলো একদল ভাষণ দেয় উর্দুতে, আরেকদল বাংলায়।
৩) ওঠ তোরা। ওঠ। কিরে? উঠবি না, কখন বেলা হয়ে গেছে। উঠবি না তোরা। ওঠ.....
৪) মুজিবঃ আমার জন্মভূমি কোনটা স্যার? জন্মানোর সময় ছিল ভারত, এরপর পাকিস্তান এরপর বাংলাদেশ।
৫) হাসান অশিক্ষিত দেশপ্রেমিক। এজন্যই বুঝি ওর দেশপ্রেমটা খাঁটি।
৬) দেশটা ভাগ করলে নেতা হওয়া সহজ।
৭) এরা ভাবে এদের কথার ঢং, বিজ্ঞাপন, থিম সং, আর এটা সেটা ডিজিটাল বুঝ দিলে আমরা পটে যাবো।

এরকম আরো অনেক চমৎকার প্রেক্ষাপট ও দৃষ্টিভঙ্গি বইটির আনাচে-কানাচে। একজন লেখক ডে কাগজে লেখেন তার আত্মউক্তি, বর্তমানের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে টাইম ট্রাভেল করে চলে যাওয়াসহ নানা প্রেক্ষাপট।

🔸এবার আসি বইটির কিছু সমালোচনা নিয়ে,

বইটির গল্পগুলোর ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও চিন্তাভাবনা থাকলেও গল্পের অন্যতম প্রধান দিক স্টোরিটেলিং খুবই দুর্বল লেগেছে আমার কাছে। কিছু গল্পে সময়টা খুবই দ্রুত চলে গিয়ে ভিন্ন দৃশ্যপট চলে এসেছে (যেমন পেট্রোল বোমা গল্পে), আবার কোনটায় লেখক ভিন্ন প্রেক্ষাপটের বিষয় দিয়ে নির্দিষ্ট ঘটনাকে ভালোকরে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি (যেমন পাখি, পুকুর, প্রিয় গল্পে)। তবে বেশিরভাগ সময়ই সমস্যা ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে দৃশ্যপট চেঞ্জ হওয়া যা গল্পের স্টোরিটেলিংকে দুর্বল করেছে। তবে লেখক যা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন গল্পগুলোতে তা সম্ভব হলে চমৎকার কিছু গল্প হতো। লেখকের প্রথম বই হিসেবে আশা করি ভবিষ্যতে এগুলো আরো উন্নত হবে। তবে এরমানে এই না যে সবগুলিই একরকম। আমার ভালো লাগা গল্প শাফি, নানু, একটি শোকস্নাত বর্ণহীন কবিতা,মুকুল, আবরার জনতা....

বইটির আরেকটা বিষয় নিয়ে বলতে হয়। সেটা হচ্ছে বইটিতে গল্পের ভিতর কিছু গালি, কুরুচিপূর্ণ কথা ব্যবহার করা হয়েছে কয়েকটি গল্পে যা আমার অতিরিক্ত লেগেছে। কম বা যথার্থ হলে ভালো হতো।

সবশেষে যে বিষয়টা নিয়ে আমার ঘোর আপত্তি তা হচ্ছে পাকিস্তানিদের উদাহরণ দিয়ে ইসলামকে কটাক্ষ করা বা চেষ্টা করা। এটা যে শুধু এ লেখক করেছেন তা না, মুক্তিযুদ্ধের গল্প হলে সকলেই এ।কুরুচিপূর্ণ কাজটা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় করেন। তবে তারমানে এই না আমি লেখককে দোষারোপ করেছি। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা যে ইসলামকে অস্ত্র বানিয়ে তাদের হারামকে হালাল বানিয়েছে তা আমি।অস্বীকার করব না। এক্ষেত্রে সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু লেখক আমার ভালো লাগা একটি গল্প 'শাফি' তে বিষয়টা একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। যদিও তিনি এটা স্বেচ্ছায় করেননি, পাকিস্তানিঘেষাদের বিষয়টা বোঝাতেই।করেছেন।

এরসাথে সম্পর্কিত আরেকটা বিষয় বলি। মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার, পাকিস্তানি মিলিটারি তাদের কারোর দাঁড়ি-টুপি ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড ছিল পুলিশ-আর্মিদের মতো, এমনকি অনেক অমুসলিমও সে দলে ছিল। গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন। কিন্তু গল্প পড়লে দেখতে পাই তাদের দাড়ি-টুপি আছে, তারা নামাজ পড়ে সাথে সাথে মানুষ মারে। যেটা আমার কাছে (শুধু লেখককে বলছি না, সকলকে বলা) ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছুই মনে হয় না।

🔸এবার আসি বইটির এক অনবদ্য একটি অংশ যা বইটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে তা হচ্ছে বইটির সহমর্মিতার ইশতেহার। ইশতেহারে লেখক বাংলাদেশকে সহমর্মি দেশে গড়তে ৭টি বিভাগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইশতেহারের কোন অংশ নিয়ে বলব বুঝতে পারি না। আমার কাছে পুরো ইশতেহারটা সবদিক থেকে সঠিক, যুক্তিযুক্ত, সময়োপযোগী এবং বাংলাদেশের সাপেক্ষে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে। ইশতেহারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পারলে ইন শা আল্লাহ বাংলাদেশ সহমর্মিতার এক দেশ হয়ে উঠবে। লেখকের প্রতি আমার অনুরোধ সামনে আপনার কাছ থেকে ইশতেহারের মতো এমন প্রবন্ধধর্মী বই চাই। আমার মনে হয়েছে প্রবন্ধধর্মী লেখায় আপনার কাছ থেকে চমৎকার কিছু পাবো।

সবশেষে বলতে চাই বইটি যেন পুরো বাংলাদেশকে এক মলাটে সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এক প্রয়াস। কতটুকু বইটিকে তুলে ধরতে পেরেছি জানি না তবে সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।

একনজরে বই পরিচিতি:-
বইয়ের নামঃ আবরার জনতা
লেখকঃ মো: সামিন রহমান
প্রকাশনীঃ ইমপ্যাথি ন্যাশন
কভারঃ হার্ডকভার
প্রচ্ছদঃ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান
চিত্র অঙ্কনেঃ সাদি এমদাদ
প্রকাশকালঃ ২৬ মার্চ ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯১
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
8 reviews1 follower
February 18, 2023
🔰🔰 রিভিউ নং; 'এক'

"শত্রুকে ভালোবাসো, ক্ষমা করে দাও এবং তার হৃদয় জিতে নাও।"

বইয়ের ধরণ : ছোটোগল্প
শিরোনাম : আবরার জনতা
লেখক : মো. সামিন রহমান
প্রচ্ছদ : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান
প্রকাশক : Empathy Nation Limited
প্রথম প্রকাশ : ২৬শে মার্চ, ২০২১খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৯১ পেজ
মুদ্রিত মূল্য : ২৫০টাকা মাত্র

পাঠ-প্রতিক্রিয়ায় : মৃনাল চন্দ্র

🔰পাঠ-পর্যালোচনা:
"আবরার জনতা" বইটি মূলত 'পেট্রোল বোমা,' 'পাখি, পুকুর ও প্রিয়,' 'বাঘ,' এবং 'আবরার জনতা'-র মতো ভিন্ন ভিন্ন শিরোনাম ও স্বাদ-সম্বলিত মুক্তিযুদ্ধের নানা ধাঁচের মোট ১৫টি গল্প নিয়ে লেখিত এবং শেষে রয়েছে লেখকের একটি প্রচারপত্র; যা দেশ ও জনগণকে সহমর্মীতার বার্তা প্রদান করে৷ লেখক প্রতিটি গল্পই বেশ যত্নশীল হয়ে সাজিয়েছেন, এবং গল্পগুলো মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা-আন্দোলন-কেন্দ্রিক আর প্রতিটি গল্পের মাধ্যমে লেখক মূলত 'সহমর্মীতা'র বার্তাটিই তুলে ধরেছেন।

🔰পাঠপ্রতিক্রিয়া:
একঘেয়েমি-বিস্বাদ-মার্কা ইতিহাসকে মজাদার গল্পে ঢেলে অনেকটাই সাম্প্রতিকের নিরিখে সাজানোর কারণে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা-আন্দোলনের টুকটাক ইতিহাসকেও সুস্বাদু খাবারের মতোই গলাধঃকরণ করা গেছে৷ তাই বলতেই হবে, গল্পগুলো বেশ লেগেছে; বিশেষত লেখকের ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচের ছাঁচে ঢেলে গল্প সাজানোর এই মুন্সিয়ানাটা অবাক করার মতোই। লেখক তার প্রচারপত্রে জাতিকে জানিয়েছেন এবং জাতির নিকট আশা করেছেন, একটি সহমর্মী দেশ। যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতপাতের কোনো বিভেদ থাকবে না। আর এ লক্ষ্যেই লেখক তার লক্ষ্য পূরণের ফরমায়েশ সাজিয়েছেন সাতটি বিভাগে; যা একটি সহমর্মী দেশ ও জাতি গড়তে আমাদের সহায়ক হবে, যথা: (১) শিল্প, সাহিত্য ও মিডিয়া। (২) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। (৩) নেতৃত্ব ও ক্ষমতাবান। (৪) জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ (৫) রাষ্ট্র, শাসন ও বিচারব্যবস্থা। (৬) উদ্যোক্তা ও অর্থনীতি। (৭) শিক্ষা, সমাজ ও সম্পর্ক। লেখকের এই সহমর্মীতার বার্তা জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে যাক; কারণ আমরা সত্যিই একটি সহমর্মী দেশ ও জাতি চাই।

🔰সাহিত্য-সমালোচনা:
আজকাল সম্ভবত সাহিত্য থেকে সমালোচনার পাঠটি চুকেই গেছে। সাহিত্য-আসরে সাহিত্য-সমালোচনা আজ বড়ো একটা দেখা যায় না। আমি মোটেই সমালোচক নই, তবুও এখন থেকে দুই চারিটি কথা বলার প্রচেষ্টা করব। বিজ্ঞজনরা আমার এই ধৃষ্টতা মার্জনা করবেন।
'আবরার জনতা' পড়ে লেখক 'সামিন রহমান'-এর গল্প সাজানোর হাত মোটামুটি ভালোই মনে হয়েছে; বিশেষত তিনি গতানুগতিক ধারায় গল্প না-লেখে বরং নিজস্ব ধাঁচের ছাঁচে গল্প সাজিয়েছেন, সাহিত্যে যা নতুনের কেতনের মতোই সম্ভাবনাময় ও আনন্দের। তবে, লেখকের ভাষা-চর্চা তথা শব্দ চয়নের বিষয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে। বইটিতে সাহিত্যের রূপ ও রসের উপস্থিতি বেশ অল্পই পেয়েছি; অথচ, এই রূপ ও রসটিই ছোটোগল্পে সজীবতা আনে এবং অলঙ্কারের প্রয়োগেও লেখক খানিকটা কার্পণ্যতা দেখিয়েছেন বলেই মনে হয়েছে। আর গল্পগুলোতে মোটামুটি লুপহোলও আছে, যা পাঠকের পাঠে প্রচুর বিরক্ত করে, সেইসাথে ছোটোগল্পের চরিত্রের নামকরণগুলো আরও প্রাঞ্জল করলে, ভালো লাগত। বইটিতে বানান ভুল রয়েছে আর এই বানান-ভুললের সংখ্যা একটি বইয়ের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি। লেখকের বাক্য গঠন ও অনুচ্ছেদ-বিন্যাসও ততটা ভালো লাগেনি, এ বিষয়ে লেখকের আরও যত্নশীল হওয়া দরকার।

পাঠকদের উদ্যেশে বলব; বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আশাকরি, ভালো লাগবে।

ধন্যবাদ।
Profile Image for Sourav Mia.
1 review
March 8, 2023
#বই_পর্যালোচনা।

বই : আবরার জনতা
লেখক : মোঃ সামিন রহমান
প্রকাশনী : ইমপ্যাথি ন্যাশন
প্রকাশকাল : ২৬ মার্চ ২০২১
মূল্য : ২৫০ টাকা
রিভিউ ‌ : সৌরভ মিয়া

বিষয় বস্তু- ❝আবরার জনতা বইটি দেখে মনে করেছিলাম বুয়েটের আবরার ভাইকে নিয়েই লেখা কিন্তু না‌ ভিন্ন কিছু দেখার সুযোগ হলো।
লেখক তার ব‌ইয়ে ১৫টি গল্প ও একটি ম্যানিফেস্টো দিয়ে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধ এবং ভবিষ্যত দেশের চিত্র তুলে ধরেছেন।
তুলে ধরেছেন বেশ কয়েকজন ঘুমন্ত আবরারের জীবন চিত্র‌ও।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ- প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম, কয়েক প্রজন্ম পার।
যুদ্ধের রেশ কেটে গেছে সেই কবেই, সে-সময়ের তান্ডব লীলা চোখ জুড়ে হয়তো এখন‌ও কারো ভেসে ওঠে আবার উঠে না।
আবরার জনতা ব‌ইয়ে লেখক সেই সময়ের চিত্র সাবলীল ভাবে তুলে ধরেছেন।
মানুষ ভুলে যায়, ভুলে যাওয়া তার চিরন্তন স্বভাব। তবে চাইলেই কি সবকিছু কি এত সহজেই মূর্ছা যায় ?
জীবন, রক্ত, সম্ভ্রম দিয়ে পাওয়া মাটি, ধুলি-কণা কারো কারো মাঝে দাগ কেটে যায় চির জীবনের জন্য। যেমন দাগ কেটে আছে লেখকের মনে।

সেই চেতনাকে কাজে লাগিয়ে লেখক সামিন রহমান তার বইয়ে গেঁথে রেখেছেন জীবন্ত ১৫ টি গল্প। জীবন্ত বলেছি এজন্য‌ই যে, ব‌ইয়ের বেশ কয়েকটা গল্প পড়ে আপনি নতুন জীবনের উদয় খুঁজে পাবেন, খুঁজে পাবেন অজানা কিছু রহস্য।
কোন কোন লেখক তার ল��খায় প্রতি অধ্যায়-আধ্যায় অথবা প্রতি পৃষ্ঠায়-পৃষ্ঠায় টুইস্ট রাখেন, কিন্তু আবরার জনতা ব‌ইয়ে লেখক তার ব‌ইয়ে দু চার লাইন অন্তর অন্তর টুইস্ট রেখেছেন।
ব‌ইয়ের একেকটা লাইন পড়তে গিয়ে আমি অনায়াসে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গভীর মগ্নতায় ডুবিয়ে গিয়েছি।

উক্তিঃ- লেখক তার ব‌ইয়ে বেশ কিছু উক্তি প্রজ্জলিত করেছেন যার মধ্যে সবথেকে বেশি যে উক্তিটি ভালো লেগেছে, ❝শত্রুকে ভালোবাসো, ক্ষমা করে দাও, তার হৃদয় জিতে নাও।❞

মন্তব্য:
লেখক তার বইয়ের শেষে রেখেছেন একটি ইশতেহার, সহমর্মিতার ইশতেহার। ১৯১ পৃষ্ঠার বইয়ের ১৮০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত এই ইশতেহার।
বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটা ভূখণ্ডের অসামাজিক জঞ্জাল একত্রে পুড়িয়ে সুন্দর দেশ গড়তে ইশতেহারের দ্বিতীয় কিছু হয়না।
আমি লেখকের সাথে চূড়ান্ত ভাবে একমত পোষণ করছি।

সমালোচনাঃ- বইটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। ব‌ইটি পড়ে নিশ্চয়ই মুগ্ধ হয়েছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ব‌ইটি পড়ে নতুন করে অনেক কিছু জেনেছি এবং শিখেছি।
তবে এটাও ঠিক ভালো লাগার পাশাপাশি কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়াও পেয়েছি।
ব‌ইয়ে কিছু কিছু জায়গায় লেখক লেখার সামঞ্জস্যতা হারিয়েছেন। কয়েকটা গল্পের মধ্যে তিনি হুট করেই প্যাটার্ন পরিবর্তন করেছেন এবং এক‌ই শব্দ বারবার ব্যবহার করছেন যা পড়তে গিয়ে খুব একঘেয়েমি লেগেছে।
আবার বেশ কয়েক জায়গায় কিছু ভায়োলেন্স শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা না করে চাইলে প্লটটা ভিন্ন ভাবে ভিন্ন ভাবধারার সাজানো যেতো। এছাড়া বানানের দিকে লেখকের আরও খেয়াল রাখা উচিত ছিল, আশাকরি পরবর্তীবার থেকে এই বিষয়টার প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিবেন।

শেষ কথা- লেখাগুলো হৃদয় নিঙড়ানো ছিলো, হৃদয় ছুয়ে গেছে। একজন লেখক এতটা গভীর ভাবে তার চিন্তার বহিঃপ্রকাশ শৈল্পিক আকারে তুলে ধরতে পারে আজ বুঝলাম।
প্রথম ব‌ই হিসেবে লেখার হাত বেশ পটুই ছিল বলা চলে।
ভবিষ্যতে লেখকের কাছে থেকে এরচেয়ে আরো ভালো কিছু পাবো আশা রাখি।
সত্যের পথে কলম চলুক অবিরত।
প্রিয় সামিন ভাইয়ার জন্য রইলো একবুক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা।

ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০
Profile Image for Nayeem Khandoker.
1 review1 follower
February 18, 2023
১৫টি ছোট গল্প আর একটি ইশতেহার দিয়ে লেখক সামিন রহমান সাজিয়েছেন তার প্রথম কাগুজে সন্তান ❝ আবরার জনতা ❞।

বইটির ধরন সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে বইটির প্রচ্ছদে৷ চমকপ্রদ এই প্রচ্ছদটির কারিগর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান৷

প্রতিটি গল্প ছবিতে রুপ দিয়েছেন সাদি এমদাদ৷ যা এই বইটিকে আলাদা বিশেষত্ব দিয়েছে বলে আমার ধারনা৷

বইটি পড়ার ইচ্ছে মোটেই ছিলো না৷ সাধারনত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের বইগুলো হয় নন ফিকশান৷ আর নন ফিকশানের প্রতি আগ্রহ ছিলোনা৷ তবে জাফর ইকবাল, আহসান হাবীব সহ প্রমূখ ব্যক্তিবর্গের বাণী দেখে আগ্রহ জন্মায়৷ তারপর শুরু করলাম.....

কি অদ্ভুত!
এতো দেখি ফিকশান৷ খুবই বৈচিত্রময় একটি ফিকশানের বই৷ যে ফিকশানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের ইতিহাস৷ বাঙালির গর্বের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। প্রথম গল্পটি পড়েই থমকে গিয়েছিলাম৷ এভাবেও গল্প লেখা যায়? মনে হচ্ছিলো নিজের চোখের সামনে ঘটছে সকল ঘটনা৷ পাঠককে এমন অনুভব করানোর ক্ষমতা সকলের হয় না৷ সামিন রহমানের সেই ক্ষমতা আছে.....


যদিও বলা হয়েছে ছোট গল্প৷ তবে মনে হচ্ছিলো, ৩০০ পৃষ্ঠার উপন্যাসের থেকে কম কিছু নয় এক একটি ছোট গল্প৷

নিপুণভাবে গল্পের মাধ্যমে পাঠকের মাঝে ঢুকিয়েছেন স্বাধীনতার চেতনা, বাঙালিয়ানা চেতনা৷ আমি নিশ্চিত বইটি পড়ে পাঠকের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে৷

গল্পগুলোতে লেখক তুলেছেন মা হারা সন্তানের কথা, সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদের কথা, ভাইহারা ভাইয়ের কান্না ইত্যাদি৷ এগুলো আমরা আগেও জানতাম! তবে আসলেই কতটুকু অনুভব করতে পেরেছি? নিশ্চয়ই পারিনি৷ তবে লেখক সাহেব লেখনীর গুণে অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন৷

এই গল্পগুলো আলাদা আলাদা হলেও, ১৪ টি গল্প ঠিক একটিমাত্র জিনিসকেই তুলে ধরেছে৷ তা হলো ❝ সহমর্মিতা ❞৷ কেমন হতো যদি যুদ্ধ, মারামারি, হত্যা ধর্ষণ না হতো? কেমন হতো যদি আমরা আলাদা আলাদা জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে ❝মানুষ❞ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতাম? কেমন হতো যদি আলাদা আলাদা দেশ বিভক্তি না হয়ে, একটি মাত্র দেশ হিসেবে পুরো বিশ্ব থাকতো? লেখক সে চিত্রই মূলত তুলে ধরেছেন এই বইতে৷

সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, প্রথম ১৪ গল্পে শুধু সহমর্মিতার সাথে পরিচয় করানো হয়েছে৷ এখন সহমর্মিতা কি? কি লাভই বা আছে যদি আমরা সহমর্মি হই? ঠিক এই উত্তর দেবার জন্যই লেখক একটি ইশতেহারও দিয়েছেন যার নাম Empathy Nation.

আমি মনে করি বইটি প্রত্যেকের পড়া উচিৎ৷ মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির প্রতি আগ্রহ থাকলে বইটি আপনার জন্য৷

যদি আগ্রহী নাও হন, তবুও বইটি আপনার জন্য৷ কারন এটি একটি ছোট গল্পের বই৷

লেখক বইটির রিভিউ চান নি৷ চেয়েছেন বইটি পড়ে, পাঠক যাতে সহমর্মিতার ডাক দেয়৷ তাই আমিও ডাক দিলাম সহমর্মিতার....

রেটিংঃ- ৮/১০
1 review1 follower
August 26, 2021
পড়ে ফেললাম মোঃ সামিন রহমান এর 'আবরার জনতা' বইটি। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আছেন। আবরার জনতা বইটি পড়ে- আমার কেমন লেগেছে, তা-ই জানাবো আপনাদের।

বই: আবরার জনতা
লেখক: মোঃ সামিন রহমান
প্রকাশনী: Empathy Nation
মূল্য: ২৫০৳
প্রচ্ছদ: আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান

আবরার জনতা বইটি মূলত একটি গল্পগ্রন্থ। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আলোকে ১৫ টি গল্প আর একটি ইশতেহার নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। শুরুতেই বইটির উৎসর্গপত্রে চোখ আটকে যাবে আপনার। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে- বিইউপি'র আবরার, বুয়েটের আবরার এবং ডিআরএমসি'র আবরারকে। সম্ভবত একারণেই বইটির নাম রাখা হয়েছে, 'আবরার জনতা'। নাম দেখেই আন্দাজ করেছিলাম বইটিতে চমৎকার কিছু আছে। এবং আমি আশাহত হইনি।

কিছু কিছু গল্প বর্ণনা করতে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিতে হয়। যা এই লেখকের মাঝে আছে। এই বিষয়টি আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে।

গল্পগুলো পড়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে। অনেককিছু জানতে পেরেছি। বইটি পড়ে মনে হলো- আঞ্চলিক ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও লেখক বেশ দক্ষ। তবে কেন জানি মনে হচ্ছিলো- গল্পের চরিত্রগুলো খুব দ্রুত অবস্থান পালটাচ্ছিল, যার কারণে খানিকটা অসুবিধে হচ্ছিলো বুঝতে। তাছাড়া বাদবাকি আমার কাছে ঠিকঠাকই মনে হয়েছে। আপনারা চাইলে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। আশাকরি ভালো কিছু পাবেন।
Displaying 1 - 12 of 12 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.