Jump to ratings and reviews
Rate this book

বামপন্থার সুরতহাল : বদরুদ্দীন উমরের ইতিহাস পরিক্রমা

Rate this book
বদরুদ্দীন উমর ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। চাকরি ছেড়ে তিনি এলেন সার্বক্ষণিক রাজনীতির পিচ্ছিল পথে। যোগ দিলেন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টিতে (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)। সেখানে বনিবনা হলো না। এরপরও তিনি কমিউনিস্ট রাজনীতি করেছেন। গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে নানান সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন অনেকগুলো বছর। একই সঙ্গে সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন। লেখালেখি করেছেন দুহাতে। ক্লান্তি তাঁকে স্পর্শ করেনি। বদরুদ্দীন উমর কি কেবল একজন শিক্ষক, লেখক, নাকি রাজনীতিবিদ? একসময় ইউরোপে একটা কথা চালু হয়েছিল—অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল। এর সরল ব্যাখ্যা হলো—একজন একাডেমিশিয়ান একই সঙ্গে হতে পারেন অ্যাকটিভিস্ট। পণ্ডিতেরা তত্ত্ব দেবেন আর পলিটিশিয়ানরা মাঠে তা প্রয়োগ করবেন, এই সনাতন রীতি এখন অচল। তত্ত্ব ও প্রয়োগের মিথস্ক্রিয়ায় যে অর্গানিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তার প্রতিফলন ঘটে দৃষ্টিভঙ্গিতে ও কাজে। বদরুদ্দীন উমরের মধ্যে একজন অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়ালকে খুঁজে পাওয়া যায়। এ বইটি লেখা হয়েছে বদরুদ্দীন উমরের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে। এখানে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা। একই সঙ্গে তিনি দিয়েছেন বাম রাজনীতির একটি সুরতহাল রিপোর্ট।
মহিউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি রাজনীতিক-লেখক-গবেষক বদরুদ্দীন উমরের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারে জানা যায় তাঁর জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা। একই সঙ্গে উঠে এসেছে এ দেশের বাম রাজনীতির একটি সুরতহাল রিপোর্ট।

192 pages, Hardcover

Published October 1, 2024

37 people want to read

About the author

জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (11%)
4 stars
3 (33%)
3 stars
3 (33%)
2 stars
2 (22%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 5 of 5 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,672 reviews441 followers
December 17, 2024
বইয়ের নাম "বামপন্থার সুরতহাল" হলেও সাক্ষাৎকারের খুব কম অংশ জুড়েই বামপন্থা নিয়ে আলোচনা আছে। মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিবের ভূমিকা, দেশের রাজনীতি নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি নিয়েই মূলত বদরুদ্দিন উমর কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত দুটো অংশ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে -


"...শেখ মুজিব ইয়াহিয়ার সঙ্গে বসলেন ভাগ-বাঁটোয়ারা করার জন্য। ভুট্টোই আসলে বাংলাদেশের পিতা। ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল।কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল থাকলে তার পক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া... সে জন্য সে চাইছিল ইস্ট বেঙ্গল চলে যাক, আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হব।কাজেই শেখ মুজিব বিভাজন চাননি।শেখ মুজিব বাংলাদেশ চাননি, বাংলাদেশ চেয়েছিল ভুট্টো। এটা সত্যি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হতে এবং এখানকার একটা স্বায়ত্তশাসন, কিন্তু পাকিস্তান ভাঙতে চাননি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে কী হয়েছিল তা শেখ মুজিব কখনো শুনতে চাইতেন না, এটা সবাই জানে। তিনি কিছুতেই শুনতে চাইতেন না যে ১৯৭১ সালে কী হয়েছিল। বাংলাদেশ যে তাঁর অনুপস্থিতিতে স্বাধীন হয়ে গেল, এটা তাঁর পক্ষে কিছুতেই হজম করা সম্ভব ছিল না। তিনি যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেন না এটা এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ হয়ে যাওয়া একেবারে শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এ জন্য তিনি কোনো রকমে ১৯৭১ সালে যে লড়াই হয়েছিল তা শুনতে চাইতেন না।"

"পাকিস্তান হওয়ার পর যেসব আন্দোলন হয়েছে-ভাষা আন্দোলন, '৬৯- এর গণ-অভ্যুত্থান, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কোনোটাতেই শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর এসব আন্দোলনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপর '৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর তিনি মহারাজার মতো সিংহাসনে বসলেন এবং মনে করলেন 'আমি কি হনু রে'। যে জনগণ তাঁকে এত সমর্থন দিয়েছে, রক্ষীবাহিনী গঠন করে তিনি সেই জনগণের ওপর জুলুম করতে শুরু করলেন। বিরোধী লোকদের, বিশেষ করে যুবকদের মেরে বস্তাবন্দি করে, নর্থ বেঙ্গলের পাবনা, যশোরের মতো জায়গায় মেরে মানুষকে শেষ করে দিয়েছে। কোনো রকম বিরোধিতা সহ্য করতেন না। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে এ দেশের মানুষ কিছুই পায়নি।"


ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী, তারা নিশ্চয়ই এটুকু পড়ে হতবাক হবেন না।শেখ মুজিবের অনেক ভূমিকা বিতর্কিত এবং তার মহামান্যা কন্যা তা ধামাচাপা দিয়ে জোর করে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো, ভেবেছিলো ক্ষমতা থেকে  আর কখনোই কেউ তাকে নামাতে পারবে না। ৩৬ জুলাইয়ের পর আড়ালে চাপা পড়ে থাকা বহু অপ্রিয় সত্য সামনে আসছে, অনেকে অনেককিছু বলতে পারছে ও প্রকাশ করতে পারছে। এ বইয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে মে মাসে আর প্রকাশিত হয়েছে শেখ হাসিনার পতনের পর।
উমর মে মাসে বলেছেন," জামায়াতে ইসলামের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বাংলাদেশে ", "বিএনপি শেষ" ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এখন ক্ষমতা দখলের আগেই এরা সর্বেসর্বা হয়ে বসেছে। মহিউদ্দিন আহমদ কেন বই প্রকাশের আগে এসব অংশ পুনরায় সাক্ষাৎকার নিলেন না সেই প্রশ্ন রয়ে যাবে।
বদরুদ্দীন উমরের সবচেয়ে বড় গুণ, নির্বিকারভাবে তিনি বেয়াড়া সত্য উন্মোচন করতে পারেন। কিন্তু তাতে সত্য থাকলেও দূরদর্শিতা নেই, ধীশক্তি নেই। আছে একরাশ বিরক্তি। প্রায়ই তার বিরক্তি গালাগালির পর্যায়ে পৌঁছে যায় ( বদমাইশ, ছোটলোক এই ধরনের গালি আছে প্রচুর)। সমস্যা হচ্ছে, এই মুহূর্তের হাওয়া যেদিকে বইছে আমাদের প্রবীন বুদ্ধিজীবীর কথাবার্তা বড্ড বেশিই সেরকম। সত্য তুলে ধরলাম কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নিলাম কী, তা থেকে ভবিষ্যৎ করণীয় কী, কোন ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করা থেকে বিরত থাকতে হবে তার কোনো রূপরেখা নেই। নবীনের রক্তদানের পুণ্যে স্বৈরশাসকের পরাজয় ঘটেছে। এখন দেশ গঠনে আমাদের প্রয়োজন  ধৈর্য, স্থৈর্য আর প্রবীণের প্রাজ্ঞতা; সবকিছুর প্রতি এরকম একপেশে তিতিবিরক্ত সমালোচনা নয়।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,484 reviews566 followers
November 4, 2024
'ভুট্টোই আসলে বাংলাদেশের পিতা। ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল । কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল থাকলে তার পক্ষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া...সে জন্য সে চাইছিল ইস্ট বেঙ্গল চলে যাক, আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হব। কাজেই শেখ মুজিব বিভাজন চাননি । শেখ মুজিব বাংলাদেশ চাননি, বাংলাদেশ চেয়েছিল ভুট্টো। এটা সত্যি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হতে এবং এখানকার একটা স্বায়ত্তশাসন, কিন্তু পাকিস্তান ভাঙতে চাননি। ' - বদরুদ্দীন উমর

২০২৩ সালে ১১ ই মে বদরুদ্দীন উমরের বাসায় যান মহিউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিন ঘন্টার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন মহিউদ্দিন আহমদকে। সেই সাক্ষাৎকার ও বদরুদ্দীন উমরের কিছু লেখাকে পুঁজি করে সাজানো হয়েছে 'বামপন্থার সুরতহাল: বদরুদ্দীন উমরের ইতিহাস পরিক্রমা'। এক শ বিরানব্বই পাতার বইটির প্রকাশক   'প্রথমা'।

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক বোধহয় বদরুদ্দীন উমর। তিনি বিগত ষাট বছর ধরেই শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে এসেছেন। আজকে শেখ মুজিবের যেসব সমালোচনা শুনি তা গত ৫০ বছর ধরেই বলে ও লিখে এসেছেন বদরুদ্দীন উমর। এমনকি শেখের আমলেই তাকে খারিজ করে দিয়েছিলেন তিনি। তাই বদরুদ্দীন উমর সত্যি বলতে নতুন কিছু বলছেন না। পুরোনো কথাগুলোই আরও উত্তেজিত হয়ে বলছেন।

বর্তমানে বদরুদ্দীন উমরের বিরানব্বই বছর বয়স। তিনি মাত্র এক বছর আগে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী দুইটি রাজনৈতিক দল নিয়ে সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, তাতে মনে হয় বাংলাদেশের বামপন্থিদের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা অদূরদর্শিতা ও পরিস্থিতি বুঝতে অপারগতা।

বিএনপি:

'রিজভী তো একটা নির্বোধ, আবোলতাবোল কথা বলে। জনগণকে খালি বলছে, 'ভোট দিতে যেয়ো না, ভোট দিতে যেয়ো না।' নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, যদি ১ শতাংশ লোকও ভোট দেয়, তাহলেও এটি বৈধ নির্বাচন। বিএনপির এই নির্বাচন বয়কট করাকে '৭০ সালে ন্যাপের নির্বাচন বয়কট করার সঙ্গে তুলনা করা যায়। '৭০-এর নির্বাচন বয়কট করে ন্যাপ যেমন শেষ হয়ে গিয়েছিল, বিএনপিও সেভাবে শেষ হয়ে গেছে। এ দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। ২০২৪ সালের পর আপনি আর বিএনপি দেখবেন না, বিএনপি শেষ। ' পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫

জামায়াত:

'রাজনীতি আছে, সেহেতু ধর্মীয় রাজনীতি কিছুটা থাকবে। কিন্তু এটা কখনোই প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না, এটা একটা ডমিনেন্ট ফ্যাক্টর হিসেবে কখনোই আসতে পারবে না। এখনো নেই, ভবিষ্যতেও আসতে পারবে না। এ দেশে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ইসলামী শাসনতন্ত্রসহ এ ধরনের যেসব সংগঠন আছে, তারা এ দেশে ক্ষমতা দখল করবে, এর কোনো সম্ভাবনা নেই। ' পৃষ্ঠা ৬১

বদরুদ্দীন উমর কতখানি অদূরদর্শী ও রাজনৈতিক পালাবদল বুঝতে অপারগ তার উৎকৃষ্ট নিদর্শন উপর্যুক্ত বয়ান।

বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে বলেছেন,

'বাংলাদেশের সংবিধান সম্পূর্ণ বেআইনি। এই সংবিধানের জন্য উচিত ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটা নতুন কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লি বা গণপরিষদ নির্বাচন করা। সেটা না করে একটা অধ্যাদেশের মাধ্যমে শেখ মুজিব ইয়াহিয়া খানের নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লি গঠন করলেন। তার মানে '৭১ সালে যে পরিবর্তন হয়েছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে সেসব লোক তো এই কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে এল না, সেই আগেকার লোকেরাই থাকল। এর অর্থ কী! '


শেখ মুজিবকে নিয়ে বলেন,

'শেখ মুজিবের মেয়ে এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে যা করছেন, তাঁর বাবাও তা-ই করে গেছেন । '৭৫ সালে আইন করে তিনি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করলেন, খবরের কাগজ নিষিদ্ধ করে দিলেন । এত বড় একটা ফ্যাসিস্ট কাজ, সেটা নিয়ে তো লোকে কথা বলেনি । তারা বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু করছে জাতির পিতা! এখানে তো বঙ্গবন্ধু ছাড়া কথা বলে না। আমাকে কলকাতার একজন বলেছিলেন, আরে মশাই, আমাদের এখানে তো গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল কাউকে এসব কিছু বলে না। আপনাদের ওখানে গেলে শেখ মুজিবের নামও কেউ করে না, সবাই খালি বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু করে । এই বঙ্গবন্ধু তো বঙ্গ শত্রুতা করে সাড়ে তিন বছরে মারা পড়লেন, নিজে মারা পড়লেন এবং আওয়ামী লীগকে শেষ করলেন । কিন্তু যেহেত আওয়ামী লীগ সেই ১৯৪৯ সাল থেকে একটা সংগঠন হয়েছে, তার আবার পুনর্জন্ম হলো। এরপর এখন পর্যন্ত থাকল একটা ফ্যাসিস্ট সংগঠন হিসেবে। '

শেখ হাসিনাকে নিয়ে তার মন্তব্য,

'শেখ হাসিনা মনে করছেন, তিনি ২০৪১ সাল পর্যন্ত থাকবেন। ১০০ বছর বয়সেও তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, এই তাঁর ধারণা । তাঁর বয়স তো কম না, জন্মেছেন ১৯৪৪ সালে । দুই বছর গোপন করে দেখিয়েছেন ১৯৪৬ সালে । ৮০ বছর হয়েছে তাঁর বয়স । আব্বা বলতেন, ১৯৪৪ সালে সেক্রেটারি হওয়ার পর শেখ মুজিব যখন এলেন, তখন কথায় কথায় বললেন যে তাঁর একটা মেয়ে আছে । ৮০ বছর বয়স হলেও তাঁর শরীর এখনো শক্ত আছে । আওয়ামী লীগে তাঁর পরে কেউ নেই । শেখ হাসিনা যদি না থাকেন, তাহলে আওয়ামী লীগ ভেঙে যাবে। '

বাংলাদেশের বামপন্থিদের নিজেদের কোনো চিন্তা করার ক্ষমতা নেই। তারা চীন ও রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। বদরুদ্দীন উমর একটি চীনপন্থি দলে যোগ দিয়েছিলেন। আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করেছেন, চীনপন্থি দলের চীনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তারা ভারতের চীনপন্থিদের মারফতে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে! এমনকি বাংলাদেশের বামপন্থি রাজনীতি কীভাবে চলবে তার ব্যবস্থাপত্র পশ্চিমবঙ্গের চীনপন্থি নেতা চারু মজুমদার ঠিক করে দিতেন বলেও দাবি করেছেন।

এই বইয়ে পুরো একটা অধ্যায় আছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রকাশকদের নিয়ে। কীভাবে তারা বদরুদ্দীন উমরের মতো ব্যক্তির পয়সা মেরে দিয়েছে তা প্রত্যেকটি প্রকাশনীর নামসহ বলেছেন বদরুদ্দীন উমর। এভাবে বলার সৎসাহস সম্ভবত ওনারই আছে।

বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে একমত হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তিনি তার মতের বাইরে ভিন্নমত শুনতে ও গ্রহণ করতে বিশেষ আগ্রহী বলেও মনে হলো না। তবুও তার একটা ঝজু শিরদাঁড়া আছে। কোনোদিন নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। এমন ব্যক্তির কথা ও বিশ্লেষণ পড়তে পারাও বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে এক্ষেত্রে নিজের আকল কাজে লাগাতে হবে। বদরুদ্দীন উমরের চোখে সবকিছু দেখা বোধহয় ঠিক হবে না।

তিন ঘন্টা করে সর্বমোট দুইটি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক শ বিরানব্বই পাতার একটা বই হওয়ার কথা না। এখানেও হয়নি। বদরুদ্দীন উমরের আত্মজীবনী ও তার বিভিন্ন লেখা থেকে উদ্ধৃতি নিয়েছেন মহিউদ্দিন আহমদ এবং যুক্ত করেছেন তার তিনটি বড়ো লেখা। ফলে বেড়ে গেছে বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং দাম।

যাঁরা বদরুদ্দীন উমরের পাঁচ খণ্ডের আত্মজীবনী ইতোমধ্যে পড়ে ফেলেছেন, তাঁরা হয়তো আফসোস করবেন। কেননা এখানে তার আত্মজীবনীর বাইরে কথা খুব কম আছে।

আর, বদরুদ্দীন উমরের সাক্ষাৎকার পড়তে চাইলে 'রাবেয়া বুকস' কর্তৃক প্রকাশিত তার সাক্ষাৎকারসংকলন পড়ার পরামর্শ দেবো। সেখানে গত তিন দশকে দেওয়া বদরুদ্দীন উমরের অনেকগুলো ছোটো-বড়ো সাক্ষাৎকার স্থান পেয়েছে। যা বহুমাত্রিক বদরুদ্দীন উমরকে বুঝতে আরও সাহায্য করবে এবং দামের বিবেচনা করলে দুইটায় বইয়ের দাম প্রায় সমান। কনটেন্ট হিসেবে 'রাবেয়া বুকস' প্রকাশিত সাক্ষাৎকার যোজন যোজন এগিয়ে থাকবে। 
Profile Image for Ashik.
221 reviews42 followers
November 10, 2024
এন্টি এস্টাবলিশমেন্ট ঘরানার লেখক হিসেবে বদরুদ্দীন উমর সুপরিচিত, বিশেষ করে তার স্পষ্টবাদিতার জন্য। জনতুষ্টিবাদের রমরমার মাঝে উমর সাহেবও কিঞ্চিৎ সেদিকে হেলে পড়েছেন কি না সেটা নতুন করে ভাববার বিষয়। পপুলিস্ট লিডাররা জানেন তাদের অডিয়েন্স তাদের থেকে কী শুনতে চায়, তাদের বক্তব্যও তেমন টাইপ হয়ে থাকে। বদরুদ্দীন উমরের কথাবার্তার টোন অনেকটা পপুলিস্ট নেতাদের মতোই শোনালো কেন জানি!
এসব কথাই তো জনতা শুনতে চায় এখন।

সমালোচনা এবং বিদ্বেষের মাঝে একটা সূক্ষ্ণ পার্থক্য রয়েছে, সেটা বজায় রেখে চলা কঠিন, তবে অতি জরুরি। সমালোচনা করতে গিয়ে উমর সাহেব অনেকবার অনেকের উপর যেভাবে চরাও হলেন, সেটাকে সমালোচনা না বলে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বলাটাই সমীচীন। সমালোচনাকে রেফারেন্স হিসেবে নেওয়া যায়, বিদ্বেষমূলক আলাপ রেফারেন্স হিসেবে খাটে না। বইয়ের অনেক কথাই রেফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত হবে কি না সে ব্যাপারে সন্দিহান।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, শেখ মুজিব, হাসিনাকে নিয়ে বেশকিছু মতামত পাওয়া যায় এবং সেগুলো রাখঢাকা ছাড়াই, আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে।
বিএনপি এবং জামাত নিয়ে করা তার ভবিষ্যৎ বাণী(!) জুলাই আন্দোলনের পর ভুল প্রমাণিত হলেও বাকি চিন্তাভাবনা কতটা ফলপ্রসূ হবে সেদিকে তাকিয়ে থাকবো।

বইয়ের নামের সাথে বিষয়বস্তুর মিল নেই। এখানে না আছে বামপন্থার সুরতহাল, না আছে বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক পরিক্রমার সাজানো গোছানো কোন টাইমলাইন।

সবশেষে একটা কথা বলা জরুরি মনে করছি।
মৌলবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উমর সাহেব বলেছেন, "মৌলবাদের মূল কথা হলো একটা বই বা কিতাবে যা আছে তা মানতে হবে। কিতাবের মৌলিক কথা মানতে হবে এবং এর বাইরে যাওয়া যাবে না।"
এই সংজ্ঞার সূত্র ধরে বলি, আমাদের বামপন্থায় বিশ্বাসী কমরেডগণ "মার্কস-লেনিন-মাও" বৃত্ত থেকে বের হতে পারেন না এবং সর্বক্ষেত্রে তাদের আদর্শ বা কিতাবে বর্ণিত বাণীসমূহের বাস্তবায়ন চান, এর বাইরে যেতে চান না; এক্ষেত্রে তাদেরও মৌলবাদী বলা যাবে কি?
এই একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো।
Profile Image for Jahangir Alam.
115 reviews9 followers
November 22, 2024
গত ১১ মে, ২০২৪ লেখক মহিউদ্দিন আহমদ ৯২ বছর বয়সী বদরুদ্দীন উমরের সাক্ষাৎকার নেন। সেখানে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রশ্নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বদরুদ্দীন উমরের এই সাক্ষাৎকারকেই বইয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। আলোচনায় প্রাসঙ্গিকতা বুঝাতে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বইটিতে বদরুদ্দীন উমরের আগের কিছু ডকুমেন্টেড লেখাও এড করেন। এছাড়া বইয়ের শেষে পরিশিষ্ট অংশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার কমিউনিস্ট পার্টির কিছু ঐতিহাসিক দলিল সংযুক্ত করা হয়।

বইটি নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য করবেন, কোনরকম ভূমিকায় না গিয়ে সরাসরি কিছু কথা বলি,

১।

যেকোনো বইয়ের একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, যদিওবা তেমন কিছু এই বইটিতে পাইনি। মূলত বদরুদ্দীন উমরের গণকণ্ঠ পত্রিকা পরিচালনার সময়কাল নিয়ে কিছু ডিটেইল আলাপ হয়েছে, বাকিটা খাপছাড়া বিচ্ছিন্ন কিছু প্রশ্ন। আমার কথা হচ্ছে বদরুদ্দীন উমরের অলরেডি চার-পাঁচ খন্ডের আত্নজীবনী আছে যেখানে বিশদভাবেই তার বাম রাজনীতির জীবন নিয়ে তিনি লিখে��েন। যদি তার রাজনৈতিক জীবন নিয়েই বিশ্লেষণ করতে হয় তবে সেখান থেকেই তোহ ভাল গবেষণাধর্মী কাজ করা যায়। এক কথায় বললে বইটিতে অনেক টপিকই উঠেছে, যদিও অপর্যাপ্ত এবং খাপছাড়া।

২।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। উল্লেখ্য আমি শুরুতেই বলেছি উমর স্যারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে, মে মাসে। সে সময়ের বিবেচনায় উনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বেশকিছু কমেন্ট করেন যেমন —

• ন্যাপের মতন বিএনপিও শেষ হয়ে গেসে;
• জামাতের কোন ভবিষ্যৎ নেই;
• বড়সড় কোন বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখি না কারণ সংগঠন ছাড়া বিপ্লব সম্ভব না।

স্যারের এই কথাগুলো মে,২০২৪ এর বিবেচনায় অপ্রাসঙ্গিক নয়। এমন একটা কিছু যে হবে সেটা সেসময় প্রেডিক্ট করা অসম্ভব ছিল। মানুষ তোহ ভবিষ্যৎ জানে না।

কিন্ত অক্টোবর, ২০২৪ এ প্রথম প্রকাশিত একটা বইয়ে এইসব মন্তব্য তুলে আনা অবশ্যই অপ্রাসঙ্গিক কেননা তিনি এখনো জীবিত আছেন। তার সাথে কথা বলে, বর্তমানের বাংলাদেশ (জুলাই পরবর্তী) নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনা তুলে আনা যেতো। জুলাই অভ্যুত্থানকে স্যার কিভাবে দেখেন, বাংলাদেশের ফিউচার কি, বা বিএনপি-জামাতের এখন প্রজেকশন কোনদিকে যাচ্ছে ইত্যাদি।

৩।

১৯৭৫ পরবর্তী বাম রাজনীতি কিংবা উমর স্যারের সেসময়ের এক্টিভিটি নিয়েও কোন আলাপ নেই। শুরুতে একটা ফ্লো থাকলেও পরে মনে হয়েছে নিতান্তই তাড়াহুড়ো করে সাক্ষাৎকার সমাপ্ত করা হয়েছে।

৪।

৯২ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ-শিক্ষক-গবেষক-লেখক থেকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করার মতন অনেক এলিমেন্ট ছিল। সেসব প্রশ্ন যা থেকে ব্যক্তি উমরকে জানা যায়। জীবনের পথ চলতে হওয়া ভুল, এখন জীবনকে কিভাবে দেখেন ইত্যাদি। এটি একটি অসমাপ্ত কাজ, কিংবা সারফেস লেভেলের কাজ বলেই মনে হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে কেউ বদরুদ্দীন উমর নিয়ে আরো ভাল কাজ করবেন।

৫।

প্রথমা প্রকাশনী হয়তবা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে যে আমার মতন মিডল ক্লাস আমজনতার আর বইপত্র পড়ার প্রয়োজন নেই — নাহলে ১৮০ পেজের এমন একটা বইয়ের দাম কেন ৫২০ টাকা হবে সেটা আমি বুঝতে পারছিনা।
Profile Image for Parvez Alam.
308 reviews12 followers
October 24, 2024
বদরুদ্দীন উপরের সাক্ষাৎকারের উপরে লেখা বই। ইতিহাসের এমন এমন কিছু জানতে পারবেন যেটা আপনি হা করে দিবে। রক্ষীবাহিনীর বাস্তব এমন এক কাহিনী লেখা ছিলো সেটা পড়ে যা বুঝলাম মুজিব মরার জন্য নিজেই মুল কারন।
Displaying 1 - 5 of 5 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.