এই বইতে লেখক কিশোর-কিশোরী পাঠকদের তাদের সমবয়সী পাঁচটি ছেলেমেয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের সাথে পাঠকেরাও পড়তে পড়তে নেচার ওয়াক করবে যুক্তরাষ্ট্রের বনানী, জলপ্রপাত, পাহাড় ও সৈকতে। পাইনবনে হাঁটতে গিয়ে দেখতে পাবে সন্ধ্যাবেলা উড়ছে ফ্লায়িং সসার ও নাইট রাইডার নামে দুটি উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি। নিঃশব্দে ঘাস খাচ্ছে মা-বাবা ও শিশু নিয়ে হরিণদের পুরো একটি পরিবার। ওয়ালোওয়া পাহাড়ে ট্রেনে চড়তে গিয়ে ডাকাতদের পাল্লায় পড়ে বেঁচে যাবে নাটকীয়ভাবে। আর রহস্যময় বাতিঘরে দাঁড়িয়ে দেখবে সমুদ্রজলে ডিগবাজি খাচ্ছে ডলফিন।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।
মঈনুস সুলতানের লেখার ভক্ত আমি। তাঁর লেখা যেখানে যা পাই, তা গোগ্রাসে গিলি। যথারীতি এ বইটিও খুব উপভোগ করেছি। কিশোর-কিশোরী পাঠকদের জন্য বলা হলেও এ বইয়ের গল্পগুলো ভ্রমণকাহিনী পড়তে পছন্দ করা যেকোনো বয়সী পাঠকদের আনন্দ দেবে।