শার্লক হোমস এর জনক আর্থার কোনান ডয়েল একবার পরির পাল্লায় পড়েছিলেন। অনেক 'গোয়েন্দা রহস্য' মীমাংসা করতে পারলেও, পরির রহস্য তিনি সমাধান করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের দুইটা মাত্র পিচ্চি তাদের পোষা পরি দিয়ে ঘোল খাইয়ে দিয়েছিল আর্থার কোনান ডয়েলকে।
পর্তুগালে অন্য তিনটা পিচ্চি আবার ৫০ হাজার লোককে মন্ত্রমুগ্ধ করে নাচানাচি করিয়েছিল সূর্যকে।
ইতালিতে এলিয়েনরা এসে বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছিল, জানেন কি? আফ্রিকার আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছিল আত্মাখেকো ডিমেন্টররা! মৃত্যুর পরেও প্রাণ ফিরে পেয়েছিল বিভিন্ন দেশের ৩৮ জন সৌভাগ্যবান!
আচ্ছা, বেশি দূর যাওয়ার দরকার নেই। নীলক্ষেতের হোম ইকোনোমিক্স কলেজে কোথা থেকে এলো এই রাক্ষুসে পোকা? মীরপুরের, সেগুনবাগিচার, ময়মনসিংহের তিনটা ফ্যামিলি এমন আজব আচরণ করছে কেন? ভূত দেখে স্কুলের বাচ্চারা একসাথে কয়েক'শজন অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে কেন?
এ সবই জানতে পারবেন এই বইটা পড়ে। স্বাগত জানাচ্ছি আপনাকে রহস্যের জগতে।
আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে গুজবপ্রিয় জাতি বললে আশা করি খুব একটা ভুল হবেনা।কোনো একটা অতিরঞ্জিত বিষয় শোনা বা জানার পর তা সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ না করে,সেটা আরো ভালোভাবে অতিরঞ্জিত করে অন্যদের সামনে কেমন করে উপস্থাপন করা যায়,তা নিয়ে আমরা বেশ উত্তেজিত ও ব্যস্ত হয়ে পরি।বিজ্ঞানের ব,ই,জ,ঞ,আ,ন কে শূন্য বলে আউট করে দিয়ে মাঠে গু+জ+ব এর সেঞ্চুরি+ডাবল সেঞ্চুরি+... পূর্ণ উত্তেজনার সাথে ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রচার করতে থাকি।লেখক বইটিতে নিজেই বলেছেন,"মিরাকল বা অলৌকিক বলে যা কিছু প্রচার হয়,ভালোভাবে অনুসন্ধান করে দেখলে তার পিছনে কোনো না কোনো যৌক্তিক কার্যকারণ খুজে পাওয়া যায়।কিন্তু আমরা অনেকেই সেই কারণ না খুজে 'চিলে কান নিয়ে গেছে' শুনেই চিলের পেছনে দৌড়াই।নিজের কানে হাত দিয়ে দেখি না যে কান জায়গা মতো আছে কিনা।"এই বইটি লেখকের মিস্ট্রি সলভিং কিছু লেখার সংগ্রহ।বইটিতে লেখক 17 টি অমীমাংসীত রহস্য....উপ্স,সরি, 'অ' তে তো ক্রস দেওয়া আছে,তাই না?তাহলে,17 টি মীমাংসীত রহস্যের গল্প বলেছেন,যেগুলো প্যারানরমাল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়।কিন্তু,লেখক প্রতিটি ঘটনার পিছনে যৌক্তিক কার্যকারণ দেখিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে,এগুলো প্যারানরমাল কোনো ঘটনা নয়।17 টি রহস্যের গল্পের ভিতর 7টি দেশের ভিতরের এবং 10 টি দেশের বাইরের রহস্য।দেশের ভিতরের রহস্যের ভিতর রয়েছে ভূতের বাড়ির দুই বাসিন্দা মিতা ও রিতার রহস্য,গেছো মানবীর রহস্য,ময়মনসিংহের Adam ফ্যামিলি এর রহস্য,দেশের বিভিন্ন স্থানে,বিভিন্ন স্কুলে আলাদা আলাদা সময়ে একসাথে অনেক মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার রহস্য (মাস হিস্ট্রিয়া)।দেশের বাইরের রহস্যগুলোর ভিতর রয়েছে লচ নেস মনস্টার,এলিয়েনদের মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো,এলিয়েনদের ক্রপ সার্কেল বানানো,ফাতিমাতে হাজার হাজার মানুষকে সূর্যকে নাচানোর রহস্য সহ আরো কিছু রহস্য ও তার সমাধান।লেখক প্রতিটি রহস্য ও তার সমাধানের তথ্যের উৎসের লিংক দিয়েছেন প্রত্যেকটি আর্টিকেলের শেষে।এখন আসি কিছু সমস্যায়।114 পৃষ্ঠার দ্বিতীয়,তৃতীয় ও চতুর্থ বাক্যে সমস্যা রয়েছে মনেহয়।16 পৃষ্ঠায় লেখার শিরোনামে 'লক নেস' ব্যবহৃত হলেও আর্টিকেলে সব স্থানে 'লচ নেস' ব্যবহৃত হয়েছে।24 পৃষ্ঠায় সপ্তম লাইনে একটি শব্দের বানানে ভুল রয়েছে।কিন্তু,সম্পূর্ণ বইয়ে এত কম ভুল অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার।বইটি আমার বেশ ভালো লেগেছে।সর্বশেষে,বইটি লেখার জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
This entire review has been hidden because of spoilers.
লেখক পেশায় একজন ফ্যাক্ট চেকার। ফেসবুকে তাকে ফলো করি অনেকদিন যাবৎ। এই বইয়ের বেশিরভাগ লেখা ফেসবুকেই পড়েছি তার টাইমলাইনে। অনবদ্য লেখেন। বিশেষ করে সমাজে প্রচলিত পপুলিস্ট ঘটনা, কুসংস্কার কিংবা এজাতীয় ঘটনাগুলোর ভিতরে ঢুকে ঢুকে, সেগুলোর মাঝের গুজবগুলোকে রেফারেন্স দিয়ে দিয়ে ডিবাঙ্ক করার তার যে স্টাইল, সেটার কোনো তুলনা হয় না।
এই বইটা বেরুনোর সাথে সাথেই কিনেছিলাম। লেখকের লেখার সাথে যেহেতু আগে থেকেই পরিচিত, তাই জানতাম হতাশ হবো না। এই বইয়ে মোট ১৬টা রহস্যের সমাধান আছে। কিন্তু তার ফেসবুক টাইমলাইনে আরও অনেক ইউনিক প্রবন্ধ আছে, যেগুলো একসাথে করলে আরও কয়েকটা বই হয়ে যাবে। লোকটা কেন এরপর আর কোনো বই বের করলেন না, জানি না।
হ্যাঁ, তার আরও একটা লেখা পেয়েছি 'ভূত এক্সপোজড' নামক একটা বইয়ে। ওইটাও এই ধরনেরই অতিপ্রাকৃতের লৌকিক ব্যাখ্যামূলক একটা বই। কেউ ইচ্ছা করলে পড়তে পারেন।
তবে আমার সূক্ষ্ম ডাউট হয় এই লোকটার আসল পরিচয়ের ব্যাপারে। ফেসবুকে লেখকের দুটো আইডির কোথাও তার কোনো স্পষ্ট ছবি নেই। আমার মনে হয়, তিনি হয়তো জহিরুল ইসলাম ছদ্মনামধারী ভিন্ন কেউ। ভিন্ন অতি পরিচিত কেউ। যাকে আমি চিনি। 😌
[বইটা পড়েছি চার বছর আগে। এতো দেরি করে রিভিউ দিলাম কেন? আজ এই বইটা সম্পর্কে একজন জিজ্ঞেস করলো ইনবক্সে। মনে পড়ে গেলো চার বছর আগের কথা। বইটা আমার শেলফ থেকে অনেকে ধার করে পড়েছে। মিনিমাম ২০ জন তো হবেই। নিতে নিতে এখন বইটা আর আমার কাছে নেই 🙂। দেখি, খুব শিগগিরই আরেকটা সংগ্রহ করতে হবে ব্যক্তিগত পাঠাগারের জন্যে। এর মাঝে গুডরিডসেও আসা হয় না অনেকদিন। আজ সে কথা মনে পড়ায় গুডরিডসে এলাম। সংক্ষিপ্ত মনের কথাও লিখে গেলাম!]
সমালোচনা: বইয়ের কভারটা একদমই চাইল্ডিশ। আর কাঁচা হাতের কাজ। প্রচ্ছদ দেখলে বাজারি কমদামি 'ঈশপের গল্প' টাইপ বই মনে হয়। এদিকটা নজর দেওয়া দরকার ছিল।
আপনি কি জানেন? ১.বিজ্ঞান জিন-পরী বিশ্বাস না করলেও ১৯২০ সালে ইংল্যান্ডের কোটিলিং গ্রামে সত্যি সত্যি পরীদের ক্যামেরা বন্দী করা হয়েছিলো যা পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল! ২.ডাইনোসর লক্ষ লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হলেও স্কটল্যান্ডের লস নেস লেকে দেখা মিলে ছিল ডাইনোসরের!
৩.এলিয়েন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না হলেও ২০১৩ সালে ইটালির সিসিলি দ্বীপের ঘরবাড়িতে এলিয়েনরা আগুন লাগাতো!
৪.২০১৭ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ার আকাশে ৩৩০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের এক বিশাল ফেরেশতার দেখা গিয়েছিল!!
৫.ইউরোপের আর্মেনিয়ার এক মেয়ে কান্না করলে চোখ থেকে ডায়মন্ড বের হতো!
৬.১৯১৭ সালের ১৩ অক্টোবর পর্তুগালের একটা প্রদেশে হঠাৎ করেই সূর্য নাচতে এবং ঘুরতে শুরু করেছিল! সূর্য পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার কথাও শোনা যায়।
এরকম আরও বহু অবিশ্বাস্য ঘটনা আছে পৃথিবীতে। এরকম মোট ১৭টি রহস্যময় ঘটনা নিয়ে লেখা হয়েছে 'অমীমাংসিত রহস্য' বইটি।কিন্তু প্রত্যেকটা ঘটনার যথাযথ বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দেওয়া হয়েছে🙂।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইয়ের প্রত্যেকটা ঘটনাই থ্রিলিং।জিন-পরী বা ফেরেশতা রহস্য দারুণ। ময়মনসিংহের Adam Family সম্পর্কে পড়তে গিয়ে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছে।মিরপুরের ভূতের বাড়ির রহস্য আগেই পড়েছিলাম ব্যাঙাচিতে।মিরাকল অব ফাতিমা পড়ে কনফিউজড।ক্রপ সার্কেল,এক্সরসিজম,বা মৃত মানুষ বেঁচে যাওয়া ঘটনা বেশ ইন্টারেস্টিং। রহস্য প্রেমী হলে বইটা আপনার জন্যই।লেখার মান সম্পর্কে বলার দরকার নেই লেখকের আইডিতে বহু লেখা পাবেন,পড়লে বুঝবেন।
আমার ব্যাক্তিগত র্যাটিংঃ ৯/১০
বইয়ের নামঃ অমীমাংসিত রহস্য লেখকঃ জহিরুল ইসলাম
[লেখক বইয়ে দেওয়া ছবিগুলো চিহ্নিত করেনি সঠিকভাবে। এবং সোর্স হিসেবে ইন্টারনেটের লিংক দেওয়ার স্টাইলটা দৃষ্টিকটু]
#পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ রোজকার জীবনে অনেক রহস্যময় ঘটনা আমাদের সাথেও ঘটে যার তাৎক্ষণিক ব্যাখা দাঁড়া করানো না গেলেও এর বিস্তৃত প্রভাব পড়ে আমাদের সমাজ এবং সমাজের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর ওপর। যখন ইন্টারনেটে প্যারানরমাল কনটেন্টের পরিমাণ ক্রমশ বর্ধিষ্ণু হয়ে পড়েছিল ঠিক তখনই জহিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমে সাড়া জাগানো দেশি-বিদেশি ১৭ টা আপাতদৃষ্টিতে অলৌকিক বলে মনে হওয়া ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ নিয়ে হাজির হয়েছেন তার অ মীমাংসিত রহস্য বইটিতে। বইয়ের প্রতিটা ঘট���া নিঃসন্দেহে চিত্তচাঞ্চল্যকর। তবে সব ঘটনা ততটা রহস্যময় নয় তবুও বেশ একটা সোরগোল তুলতে সক্ষম হয়েছিল।
বইটার বিশেষত্ব হলো:
( ০১. ) বইটা পাঠককে গবেষণা সচেতন করে তুলতে যথেষ্ট সাহায্য করে। একসময় বলা হোত " প্রিন্ট ইজ প্রুফ " অর্থাৎ কিনা কোনো লেখা ছাপা হওয়া মাত্রই সেটা প্রমাণ স্বরূপ উপস্থাপন যোগ্য। কিন্তু এখন আর সে কথা বলা যায় না। রোজকার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি ছাপা হলেই যে সে খবর সত্যি হবে তার আর আজ কোনো অর্থ হয় না। যে কেউ যা খুশি ছাপিয়ে ফেলতে পারে। বিশাল সংখ্যক মানুষের ভেতরে তা ছড়িয়ে দিয়ে " বিভ্রান্তি " ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই এখন, যেকোনো কিছু পড়ার পরে সেটাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তার পেছনের সত্যতা নিরূপণের একটা প্রয়োজনীয়তা বিশেষ ভাবে দেখা দিয়েছে। আর তার জন্য মানুষকে প্রথমেই তথ্য সন্ধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কেউ তৈরি করা তথ্য আমাদের সামনে উপস্থাপন করা মাত্রই তা বিশ্বাস করা থেকে আমাদেরকে বেড়িয়ে আসতে হবে ।
( ০২. ) বইটিতে প্রতিটি ঘটনাটার বর্ণনার শেষে লেখক তার গবেষণার তথ্যগুলো যেখান থেকে পেয়েছেন তাও সংযোজন করে দিয়েছেন। পাঠক চাইলে এখান থেকে আরও বিস্তারিত ভাবে ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।
( ০৩. ) সমাজে গেড়ে বসা কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস প্রবণতাকে সমূলে উৎপাটন করতে এ ধরণের বই নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার উদ্যোগ ।
বইটির সমালোচনা:
(০১) বইটার প্রধানতর দূর্বল দিক তার ভাষা।
বইটিতে কিছু জায়গায় অহেতুক ভাবে বাংলা হরফে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা না করাই শ্রেয় ছিলো। তদুপরি বাংলা বানানেও লেখক যথেচ্ছাচার করেছেন। উচ্চারণ প্রাধান্য দিয়ে কিংবা নিজ আঞ্চলিক ভাষাকে রচনায় প্রয়োগ করে লেখালেখির যে নতুন ধারা বাংলায় শুরু হয়েছে এটা বোধকরি তারই প্রকাশ। তবে এক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ভাষার শব্দের বানান কেমন হবে সে বিষয়ে একটা ব্যাকরণ অনুসৃত হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করি , বিশেষত তখন, যখন সেটা উদ্ধৃতি চিহ্নের বাইরে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
শব্দ আর বানানের প্রয়োগে যত ভিন্নতাই থাকুক সেটা বইটার পাঠপ্রবাহকে বিন্দুমাত্র বাঁধা দেয় না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠক একনাগাড়ে বইটা পড়ে শেষ করতে পারবেন এবং যখন শেষ করবেন তখনকার তিনি বইটা পড়া শুরুর মুহূর্তের মানুষটার থেকে যথেষ্ট বদলে যাবেন বলেই আমার প্রত্যাশা।
(০২) প্রতিটা অধ্যায়ের শেষে ওয়েবসাইট ঠিকানা উল্লেখ করার পদ্ধতিটা সত্যিই সুন্দর ছিলো না।
এর ফলে বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা বেড়েছে আর কাগজের অপচয় ঘটেছে। আমি মনে করি প্রকাশকের এক্ষেত্রে আরও বেশি কৌশুলী হওয়া উচিত ছিলো। কেননা এই ব্যাপারটা পাঠক বই হাতে নেয়ার পরে শুরু থেকেই এমন সংকেত বহন করে যে বইটা প্রকাশ করার পেছনে তাদের মনযোগহীনতা ছিল। ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ বই: অ মীমাংসিত রহস্য লেখক: জহিরুল ইসলাম প্রকাশক: প্রান্ত ( বইমেলা ২০২১) মুদ্রিত মূল্য: ৳ ২৫০ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~