ড্যানিয়েল হাক্বিকাতযু। হালের একজন দা’ঈ ইলাল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরেই বক্তব্য আর লেখালেখির মাধ্যমে লিবারেলিসম, সেক্যুলারিসম, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ সহ বিভিন্ন মতবাদগুলোর পেছনের ধারণা ও প্রস্তাবনাগুলোর ব্যবচ্ছেদ তিনি করে আসছেন। “সংশয়বাদী” বইটিতে নাস্তিকতা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ, মডার্নিটি, বিজ্ঞানবাদ, লিবারেলিসম ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের আলোকে চমৎকার আলোচনা এনেছেন তিনি।
অনেকেই মনে করেছেন বইটি হল নাস্তিকতার জবাবমূলক বই। এই ধারণাটি ভুল। বরং এটা হল পশ্চিমা মতবাদগুলো এবং তাঁদের কমন বক্তব্যগুলোকে প্রশ্ন করা, ব্যবচ্ছেদ করার, এগুলোর পেছনের ধারণা, পূর্বানুমানকে প্রশ্ন করার বই।
*যিনার প্রতি কঠোর মনোভাব, গাইরাত বজায় রাখা কি পযিটিভ 'ফ্রিডমে' বাঁধা দেয়?*
••• শিশুর সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যেন যোগ্য অভিভাবক এবং যথাযথ পরিচর্যা পায়—তা নিশ্চিত করার কোনো-না-কোনো ব্যবস্থা সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে থাকা উচিত। অযোগ্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকেরা যেন শিশুদের ভবিষ্যৎ অগ্রাহ্য করে যা ইচ্ছে তা-ই করতে না পারে, তাদের সন্তানেরা যেন সমাজের বোঝায় পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা কি সামাজিক দায়িত্ব না?
এ ধরণের লাইসেন্সের (সন্তান লালনপালনের লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট) বিধান ইসলামে আছে—নিকাহ। যথাযথভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু এলাহী ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ পালন করে বাস্তবায়ন করা হলে নিকাহ একটি স্থিতিশীল পরিবারের নিশ্চয়তা দেয়, যেখানে পিতা-মাতা সন্তানের লালনপালন করবে। আর তাদের সমর্থন দেয়ার জন্য থাকবে বৃহত্তর পরিবার ও সার্বিক সমাজ। অথচ দশকের পর দশক ধরে লিবারেল আর মডার্নিস্টরা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর নিরন্তর আক্রমণ করে যাচ্ছে।
তাদের মতে বিবাহ-বহির্ভুত যৌনতাকে নিষিদ্ধ করে ইসলাম যৌন স্বাধীনতার গলা চেপে ধরেছে। বাস্তবতা হলো যিনার নিষেধাজ্ঞার বিধান মানুষের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞা ডিভোর্সি-অবিবাহিত নারী এবং সন্তান পালন অনুপযুক্ত নারী-পুরুষের সন্তানের সংখ্যা সীমিত রাখে। এতে করে শিশুর এবং সমাজের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। সব ধরণের সমাজ-বৈজ্ঞানিক প্রমান এই বিধানকে সমর্থন করে। •••
— Daniel Haqiqatjou, সংশয়বাদী, পৃষ্ঠা. ২৩৯-২৪০
আমরা মুসলিমরা যিনা থেকে বেঁচে থাকি, কারণ এটা আল্লাহর আদেশ। একইসাথে চারপাশের এলোমেলো বাস্তবতা থেকেও সত্যের এই উপকারিতাকে আমরা চিনে নিতে পারি সহজেই।
ইবনে খালদুন বলেছেন — “কোনো জাতি যখন দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন তাদের রুচি-সৌন্দর্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়। মনের মায়া-মহানুভুবতা মরে যায়। তাদের মাঝে ব্যাপক অনৈতিকতা গড়ে ওঠে, ভীরুতা-নিচটা-শঠতা বেড়ে যায়!“
ড্যানিয়েল হাকিকাতযুর জন্ম টেক্সাসে। পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ডে। আলাসনা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য ও সমসাময়িক মতবাদ নিয়ে লেখালেখি করে থাকেন। বইটি মূলত তার বেশ কিছু প্রবন্ধের সংকলন। সেক্যুলারিযম-নারীবাদ-মডার্নিটি সহ বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে বইটিতে তার লেখা উঠে এসেছে। অনুবাদ করেছেন লেখক আসিফ আদনান।
মানব রচিত এমন কোন মতবাদ পৃথিবীতে নেই যা কিনা সামগ্রীকভাবে মানবজাতির যৌক্তিক সমাধান দিতে পেরেছ বরং যা রয়েছে তা সামাজিক সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে। তারপরও অসংখ্য মানুষ বিশেষত পশ্চিমাদের সেই মানব রচিত মত বা দর্শনকেই আঁকড়ে ধরতে দেখা যাচ্ছে, এই ব্যাধি ছড়িয়েছে পূর্বেও হয়তো অজান্তে আপনি, আমিও...। এটা এ জন্য নয় যে তাদের কাছে বিকল্প নেই বরং এ জন্য যে তাদের চিন্তা করতেই শেখানো হচ্ছে নাস্তিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ, মডার্নিটি, বিজ্ঞানবাদ, লিবারেলিসমের মত ভিত্তিহীন স্তম্ভের উপর দাড় করিয়ে। ফলস্বরূপ সামাজিক স্থিরতাতো আসেইনি বরং তা পুঁজি করে তারা সৃষ্টিকর্তা কেন্দ্রিক বিশ্বাসকে বিশ্বব্যাপী ভূলুণ্ঠিত করার অভিযানে নেমেছে। হার্ভার্ডে পড়াকালীন সময়ে লেখক ড্যানিয়েল হাক্বিকাতযু এটা এত ভালই টের পেয়েছিলেন যে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীদের পর্যন্ত এই তালিকায় খুঁজে পেয়েছেন। আশ্চর্য হয়ে তিনি লক্ষ্য করলেন এসকল মতবাদের বলিষ্ঠ ভিত্তি পর্যন্ত নেই যার ব্যাপারে বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখনও অজ্ঞই রয়ে গেছে আর তাদের উপরই বিভিন্ন কৌশলে তা প্রবেশ করানো হচ্ছে উন্নত শিক্ষার নামে, বাকস্বাধীনতার কথা বলে, আধুনিক উন্নত হওয়ার প্রলোভনে। এর পর তিনি নাস্তিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, নারীবাদ, মডার্নিটি, বিজ্ঞানবাদ, লিবারেলিসমের মত বিশ্বাস গুলোকে ব্যাবচ্ছেদ করে দেখালেন। সততার চোখে দেখতে জানলে আপনি আবিস্কার করবেন এই ঠুনকো বিশ্বাসগুলো তথাকথিত উন্নত বিশ্বে জয়জয়কার হয়ে আছে অথচ অসারতা গুলো অনেকের দেখা হয়না চোখ মেলে, যার প্রকৃত সমাধান রয়েছে ইসলামে।
আজকে পড়ে শেষ করলাম। বইটাতো দারুন! বই নিয়ে আলোচনা না করলেও চলবে। অনুবাদ কেমন হবে সে নিয়ে একটু চিন্তায় ছিলাম, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ অনুবাদও চমৎকার হয়েছে।
I quite enjoyed reading this book but sometimes it was mundane and felt repetitive. I would definitely recommend the book to someone who is trying to make sense of his doubts of Islam in this Modern Era.
বর্তমান সময়ের মানুষ আধুনিক সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন নিয়ম ও বিধিনিষেধ পরিমাপ করে পশ্চিমাসভ্যতার নিক্তিতে। কিন্ত এই বইতে ইসলামকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমা সভ্যতার "ডাবল স্ট্যান্ডার্ড" বা ভণ্ডামি। পশ্চিমারা কেবল সেই নিয়মই বানায় এবং প্রচার করে যা শুধুমাত্র তাদের সুবিধা প্রাপ্তির জন্য। এই ব্যাপারটাই খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।