সাইরাস। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র। সমসাময়িক পারসিক জাতির কাছে পিতা, গ্রিকদের কাছে আইনপ্রণেতা এবং ব্যাবিলনীয়দের কাছে মুক্তিদাতা। একমাত্র অইহুদি তিনি, যাকে ইহুদি ধর্মবিশ্বাস মেসায়াহ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। আধুনিক মুসলিম তাফসির বিশারদরা কোরআনে বর্ণিত যুলকারনাইন হিসেবে উপস্থাপন করতে চান তাকে। বিশ্ববিজেতা আলেকজান্ডর, জুলিয়াস সিজার এবং লরেন্স অব অ্যারাবিয়া তার থেকে নিয়েছেন অনুপ্রেরণা। থমাস জেফারসন, ডেভিড ভেন গুরিয়ন কিংবা রেজা শাহ পাহলভীদের মতো অনেকের জন্য তিনি আদর্শ। কে সাইরাস? কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো ইতিহাসের প্রথম বৈশ্বিক সাম্রাজ্য? কেন তার সামনে একে একে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৎকালীন পরাশক্তিগুলো? ভিন্ন ভাষা আর সংস্কৃতির মানুষেরা কী বুঝে স্বেচ্ছায় আনুগত্য করেছে তার? ইতিহাস, উপকথা আর কিংবদন্তিকে সঙ্গে নিয়ে অভিনব এই যাত্রা, দমন-পীড়নের আবহে দাঁড়িয়ে মানুষকে জয় করা মানুষের সন্ধান!
আমি নন ফিকশন পড়ি না। কেবলমাত্র সাইরাসকে নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহের কারণেই পড়েছি। লেখক গল্পের মত করে বলে গেছেন ইতিহাস, উপকথা এবং কিংবদন্তি। অবশ্যই একটু ভারী শব্দচয়ন আর খানিকটা গভীর রচনাশৈলীতে। তারপরও পড়তে খারাপ লাগে নি। বরং ঘটনাগুলো সাজানো, রেফারেন্স, প্রাসঙ্গিকতাগুলো এত সুন্দরভাবে একটার পর একটা স্থাপন করা হয়েছে যে বেশ উপভোগই করেছি। এত সাদামাটা ছোটখাটো বইয়ে এত এত তথ্যে ঠাঁসা, যে আপনার বইয়ের সংগ্রহে একটা মূল্যবান রত্ন হিসেবে থাকবে। নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে একটা দারুণ ক্লাসিক সংযোজন।