শত্রুপক্ষকে অস্ত্র সরবারহের অভিযোগে পবিত্র নগরী আলামুত আক্রমণ করে বসলো পরাক্রমশালী পার্সিয়ান বাহিনী। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়িয়ে বিজয়ী হলো পার্সিয়ানরা; মেতে উঠলো বিজয় উদযাপনে। বাদশাহ’র সম্মানে আলামুতেই আয়োজন করা হলো এক আড়ম্বরপূর্ণ ভোজসভা। আর সেখানেই ঘটে রক্ত হিম করা ঘটনা—শাহজাদা দাস্তানের হাতে খুন হলো তারই পিতা বাদশাহ শারামান। কিন্তু দাস্তানের দাবী সে নির্দোষ। সুপরিকল্পিতভাবে বিছিয়ে রাখা ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়েছে সে, হাজার বছর ধরে গুপ্ত অবস্থায় থাকা এক অলৌকিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করাই যে ষড়যন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য। সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কে? এর মাধ্যমে নিজের কোন স্বার্থই বা হাসিল করতে চাচ্ছে সেই ষড়যন্ত্রকরী?
কাহিনী ভাল লেগেছে, কিন্তু অনুবাদ ভাল লাগেনি। অনেক বানান ভুল, বাক্য গঠনে আড়ষ্টতা, অপ্রচলিত শব্দের অনুপযুক্ত স্থানে ব্যবহার যা পড়ার মজা নষ্ট করে দিয়েছে। এই বই এবং মুভিটা আমার কৈশোরের বড় এক জায়গা জুড়ে আছে। বড় আশা নিয়ে বসেছিলাম, কিন্তু খুব হতাশ হলাম। এক তারা দিতাম, কিন্তু শুধু কাহিনীর জন্য ২ তারা দিলাম।
❝এই উপন্যাসটি ‘প্রিন্স অব পার্সিয়া’ গেমের ডাইহার্ড ফ্যান তথা অন্ধ ভক্তদের জন্য একেবারেই নয়।❞
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট—মরুভূমি—হাসানসিন—পার্সিয়ান—ষড়যন্ত্র সবকিছু মিলিয়ে ❛প্রিন্স অফ পার্সিয়া❜ উপন্যাসটি দারুণ প্যাকেজ বলা যায়। অ্যাডভেঞ্চার, সাসপেন্স, থ্রিল সবকিছু এই উপন্যাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস প্লট, প্রেক্ষাপট যখন মরুভূমি তখন এমনিতে আগ্রহ জেগে উঠে পড়ার জন্য। পারস্য রূপকথা কিংবা তৎকালীন শাহাজাদা-শাহাজাদী, বাদশা চরিত্রগুলো যখন নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে ব্যস্ত তখন কিছু চরিত্র গড়ে উঠে সত্য ও সংগ্রামের প্রতিক হিসেবে।
❛প্রিন্স অফ পার্সিয়া❜ উপন্যাসে পাঠক সেসব উপকরণ পাবে যেগুলো কোনো আরব্যোপন্যাসে থাকে। আসন্ন বিপদের আভাস, শত্রুদের পদধ্বনি, আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতা এইসব যেন ঘোর লাগিয়ে দেয়। কিছুটা নস্টালজিয়া অনুভব হয়। সবমিলিয়ে দারুণ।
➲ আখ্যান—
শত্রুপক্ষকে অস্ত্র সরবারহের অভিযোগে পবিত্র নগরী আলামুত আক্রমণ করে বসলো পরাক্রমশালী পার্সিয়ান বাহিনী। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়িয়ে বিজয়ী হলো পার্সিয়ানরা; মেতে উঠলো বিজয় উদযাপনে। বাদশাহ’র সম্মানে আলামুতেই আয়োজন করা হলো এক আড়ম্বরপূর্ণ ভোজসভা। আর সেখানেই ঘটে রক্ত হিম করা ঘটনা—শাহজাদা দাস্তানের হাতে খুন হলো তারই পিতা বাদশাহ শারামান।
কিন্তু দাস্তানের দাবী সে নির্দোষ। সুপরিকল্পিতভাবে বিছিয়ে রাখা ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়েছে সে, হাজার বছর ধরে গুপ্ত অবস্থায় থাকা এক অলৌকিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করাই যে ষড়যন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কে? এর মাধ্যমে নিজের কোন স্বার্থই বা হাসিল করতে চাচ্ছে সেই ষড়যন্ত্রকরী?
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
উপন্যাসটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার মনোযোগ আকর্ষণ ধরে রাখবে। মাঝপথে থেমেও গেলেও সামনে কী হবে সেটা জানার জন্য উদগ্রীব হবেন। উপন্যাসে এমন টুইস্ট রয়েছে যেটা ক্ষণিকের হতবিহ্বল করবে আপনাকে। তখন মাথায় আসবে, আহা! এইভাবেও সবকিছু ঠিক করা যায়? কিন্তু সেটা কীভাবে?
● প্রারম্ভ—
গল্পটা শুরু এক পরাক্রমশালী সাম্রাজ্য নাম—পার্সিয়া থেকে। সে-ই সাম্রাজ্যের এক রাজকুমার ছিল শারামান, অন্যজন নিজাম। শারমান কোনোভাবে বাদশা বনে যায় নিজামের সহযোগিতায়। তার দুই সন্তানের পাশাপাশি আরেকজন সন্তানের ভার তিনি স্বেচ্ছায় বহন করেন! টাস ও গার্সিভ দুই পুত্রসন্তান থাকার পরেও বাদশার পরিবারটি ছিল অসম্পূর্ণ! কিন্ত কেন? আর দাস্তান নামের ছেলেটিকে বাদশা কীভাবে নিজের সন্তান বলে আখ্যায়িত করলেন? রহস্য কী?
গল্পের শুরুতে হুকড হওয়ার মতো কারণ ছিল। শুরুটা মূলত এইভাবে...
● গল্প বুনন—
লেখকের গল্প বুনন প্রক্রিয়া বেশ সাবলীল। পর্যবেক্ষণ করার জন্য বেশি প্রেশারের কোনো দরকার নেই। স্মুথ পাবে সিকুয়েন্স চেঞ্জ হচ্ছে, আর গল্প মোড়ে মোড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। টানা পড়ে গেলেও বিন্দুমাত্র ক্লান্তি আসবে না। বরঞ্চ আপনি নিজে গল্পের মায়াজালে আটকে যাবেন।
● লেখনশৈলী—
প্রাঞ্চল আর সুনিপুণ। শব্দচয়নে দক্ষতা আর বাক্যগঠনে কারিশমা পুরো উপন্যাসকে পারস্যের রূপে রূপান্তরিত করে ছেড়েছে। প্রেক্ষাপটের সাথে তাল মিলিয়ে লেখনশৈলী বেশ উত্তম।
তবে অনুবাদকের অনুবাদে সেটা হয়ে উঠেছে আরও জীবন্ত।
● বর্ণনাভঙ্গি—
প্রত্যকটা সিকুয়েন্সের যথাযথ বর্ণনা সুস্পষ্ট ভাবে দিয়েছেন লেখক। অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিনিসের বিবরণ বেশ সাবলীলভাবে পাঠকদের মস্তিষ্কে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস করেছেন। অনুভূতি জাগ্রত করার জন্য নাটকীয়তার দরকার হয়নি, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সেটা মনের সিলভার স্ক্রিনে এমনিতে জায়গা করে নিয়েছে। তৃপ্ত হওয়ার মতো ছিল সবকিছু।
● চরিত্রায়ন—
চরিত্রগুলো ছিল এই উপন্যাসের প্রাণ। প্রত্যকটি চরিত্র যেন জীবন্ত। কে স্পেশাল আর কে হ্যাটেড সেটা না হয় উপন্যাস পড়ে বুঝে নিবেন। অনিন্দ্যসুন্দর এক শাহাজাদীর দেখাও পেয়ে যাবেন। দেখা পাবেন ভয়ংকর এক গুপ্ত গোষ্ঠীর!
● সমাপ্তি—
পরিমার্জিত। হওয়ার দরকার এমন ছিল। তবে নাটকীয়তা আরেকটু আশা করছিলাম। যে সভা ঘিরে সবকিছু সে-ই সভায় সবকিছুর অন্ত হলে আরও খুশি হতাম। তারপরও ভালোই।
➢ লেখক ও অনুবাদক নিয়ে কিছু কথা—
লেখক জেমস পন্টির পড়া প্রথম কোনো বই, অনুবাদক রুদ্র দা বেশ ভালো বই চুজ করেছেন। অন্তত কিছু ঘণ্টার পার্সিয়া সাম্রাজ্যে ডুব দিয়ে ঘোরে থাকার মতো যথেষ্ট। অনুবাদ যথেষ্ট প্রাঞ্জল বাংলায় বললে মাখন। বইটি উপভোগ করতে পেরেছি সাবলীল অনুবাদের জন্য।
● সম্পাদনা ও বানান—
কয়েক জায়গায় টাইপো ছিল, বানান ভুল সামান্য।
● প্রচ্ছদ, অলংকরণ—
দারুণ ও দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ করেছেন জুলিয়ান ভাই। উপন্যাসের প্রত্যকটি এলিমেন্ট দারুণ ভাবে ফ্রন্ট ও ব্যাক কাভারে ফুটিয়ে তুলেছেন। লেটারিং ভালো লেগেছে।
বইয়ে অনেক ইলাস্ট্রেশন রয়েছে যেটা পড়ার সাথে সাথে ভিজুয়ালাইজ করতে দারুণ সাপোর্ট দিবে।
● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—
হার্ড পেপারব্যাক—শক্তপোক্ত বাঁধাই—ক্রিম কালারের পেজ আর কী দরকার? প্রিমিয়াম ফিল নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সতীর্থের সিগনেচার হিসেবে এই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পেপারব্যাক বেশ আকর্ষণীয়।
➠ বই : প্রিন্স অফ পার্সিয়া | জেমস পন্টি ➠ জনরা : অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার ➠ প্রথম প্রকাশ : এপ্রিল ২০২১ ➠ অনুবাদক : রুদ্র কায়সার ➠ প্রচ্ছদ : লর্ড জুলিয়ান ➠ প্রকাশনা : সতীর্থ প্রকাশনা ➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৮০ টাকা মাত্র ➠ পৃষ্ঠা : ১৮৪
কাহিনি সংক্ষেপঃ শক্তিশালী এক সাম্রাজ্য পার্সিয়া। এখানকার দূরদর্শী বাদশাহ শারামান একদিন ভরা বাজার থেকে একটা বাচ্চা ছেলেকে তুলে আনলেন। নিজের পুত্র হিসেবে স্থান দিলেন নিজের পরিবারে। ছেলেটার নাম দাস্তান। যার শরীরে রাজরক্ত না থাকলেও বাদশাহ শারামানের ছেলে হ��সেবে ও পার্সিয়ার শাহজাদা হিসেবে বেড়ে উঠতে লাগলো সে।
অনেক পরে বাদশাহ'র নির্দেশ অমান্য করে আলামুত শহরে আক্রমণ চালালো পার্সিয়ান সেনাবাহিনী। এই আক্রমণ পরিচালনার অগ্রভাগে রইলো শাহজাদা দাস্তান আর তার দুই ভাই যুবরাজ টাস ও গার্সিভ। সবসময়ের মতোই তাদের পরামর্শদাতা হিসেবে ছিলেন বাদশাহ শারামানের ভাই ও রাজকীয় প্রধান উপদেষ্টা নিজাম। আলামুত শহর দখলে তো এলোই সেই সাথে দখলে এলো এখানকার শাহজাদী তামিনা, যার রূপ ও গুণের কোন শেষ নেই।
ওদিকে বিজয় উদযাপনের সময় রহস্যজনকভাবে মারা গেলেন বাদশাহ শারামান। সন্দেহের তীর তাঁরই পালকপুত্র দাস্তানের দিকে। সবাই ভাবতে শুরু করলো সিংহাসনের লোভে বাদশাহকে খুন করেছে দাস্তান। পালাতেই হলো তাকে। ঘটনাক্রমে তার সঙ্গী হলো আলামুতের শাহজাদী তামিনা। আর দাস্তানের হস্তগত হলো এমন এক ছোরা, যার কাঁচের হাতলের ভেতরে রয়েছে অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন বালি যা সময়কে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
একদিকে বাদশাহকে খুনের দায়ে পুরো পার্সিয়ান সেনাবাহিনী খুঁজছে দাস্তানকে। আর অন্যদিকে সময় নিয়ন্ত্রক ছোরার খোঁজে দাস্তানের পেছনে লেগে আছে ভয়ঙ্কর গুপ্তঘাতকদের সংগঠন হাসানসিনের বেশ কয়েকজন সদস্য। ষড়যন্ত্রের শিকার দাস্তান ও শাহজাদী তামিনার জীবন মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেলো। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সাথে সাথে দাস্তানকে ঠেকাতে হবে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র, যা বাস্তবায়িত হলে সময়ের লাগাম ছুটে যাবে খোদ সময়ের হাত থেকেই। ভয়াবহ বিপদের মধ্যে পড়ে যাবে সমস্ত বিশ্ব।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২০১২/২০১৩ সালের দিকে আমার ডেস্কটপ কম্পিউটারে হাতে গোনা যে কয়টা গেম ছিলো, তার মধ্যে একটা ছিলো 'প্রিন্স অফ পার্সিয়া'। অনেক খেলেছি গেমটা। অনেক মানে, অনেক। এরপর 'প্রিন্স অফ পার্সিয়া - দ্য স্যান্ডস অফ টাইম' নামে একটা হলিউড মুভিও রিলিজ পায়। সেটাও দেখেছিলাম। কিন্তু এটাকে বই হিসেবে কখনো হাতে নিয়ে পড়বো এমনটা কখনোই ভাবিনি। মুভির কাহিনিটাই বর্ণিত হয়েছে জেমস পন্টি'র 'প্রিন্স অফ পার্সিয়া - দ্য স্যান্ডস অফ টাইম' বইটাতে। উপন্যাস আর কমিকসের মিশেলে এটার ভাষান্তর করেছেন রুদ্র কায়সার।
কিশোর অ্যাডভেঞ্চার ও ফ্যান্টাসি ধাঁচের এই উপন্যাসে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন। এই ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। রুদ্র কায়সারের অনুবাদ মোটামুটি সহজবোধ্য হলেও ছিলো বেশ কিছু বানান জনিত আর বাক্য গঠন জনিত সমস্যা। যেমন 'সাম্রাজ্য' কথাটাকে বারবার 'সম্রাজ্য' লেখা হয়েছে। 'ছাদ'-কে লেখা হয়েছে 'ছাঁদ'। এছাড়াও ছিলো বেশ কিছু টাইপিং মিসটেক। এসব কারণে বইটা পড়তে গিয়ে ঠিক যতোটা উপভোগ করবো বলে ভেবেছিলাম, ততোটা করতে পারিনি।
'প্রিন্স অফ পার্সিয়া' গেমের সাথে উপন্যাসটাকে মিলানো যাবে না সম্পূর্ণভাবে। বরং মুভি'র সাথে মিল পাওয়া যাবে। যেহেতু আমি মুভিটা অনেক আগে দেখেছিলাম, তাই স্পয়লার খেয়ে বসে ছিলাম আগে থেকেই৷ কিন্তু কেউ যদি মুভিটা না দেখে থাকে, তার কাছে 'প্রিন্স অফ পার্সিয়া - দ্য স্যান্ডস অফ টাইম' বইটা বেশ উপভোগ্য লাগবে। বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চার ও ফ্যান্টাসি জনরার ভক্ত পাঠকদের জন্য ভালো একটা চয়েজ হতে পারে বইটা।
বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি চমৎকার। সতীর্থ বরাবরের মতোই প্রোডাকশনে কোন ছাড় দেয়নি। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। তবে লর্ড জুলিয়ানের করা প্রচ্ছদটা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। উনার বেস্ট কাজগুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত, যে কারণে এই সাদামাটা প্রচ্ছদটা সম্ভবত আমাকে টানতে পারেনি।
আলামুত রাজ্য জয় করে বিজয়োল্লাসে মেতে উঠেছে সবাই। বিশেষ করে যুবরাজ দাস্তানের সাহসিকতা এবং বিচক্ষণতার প্রশংসায় সকলেই পঞ্চমুখ৷ কিন্তু পরমুহূর্তেই ঘটল এক অপ্রত্যাশিত ব্যাপার, দাস্তানের হাতে নিহত হলেন পার্সিয়ার একচ্ছত্র রাজা! কিন্তু দাস্তানের দাবী সে নির্দোষ, পরিবারের মাঝেই খুঁজে পেল ষড়যন্ত্রের প্রখর আভাস। এক অলৌকিক শক্তির পিছুটানে ষড়যন্ত্র শ্বাপদের মতো ফুঁসে উঠেছে। কী সেই অলৌকিক শক্তি, কে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করল রাজাকে। বিস্তীর্ণ মরুভূমি, প্রিয়জনের ষড়যন্ত্র, গুপ্তঘাতকের আক্রমন, সত্যের প্রতি অমোঘ টান- কোথায় নিয়ে যাচ্ছে নিয়তি দাস্তানকে? এডভেঞ্চারের ডাইহার্ড ফ্যান না হলেও বেশ উপভোগ করেছি বইটা। কাহিনী বেশ সুন্দর ছিল, এত সুন্দর কাহিনী এত অল্প পরিসরে উপস্থাপনের জন্যে লেখকের প্রতি খানিকটা ক্ষোভ রয়েছে মনে। চাইলেই ডিটেইলিস, ঘটনাপ্রবাহ, চরিত্রায়ন বাড়িয়ে বেশ বড় উপন্যাস লিখতে পারতেন লেখক। গল্প বেশ দ্রুত শেষ হওয়ায় আমি খানিকটা অসন্তুষ্ট, তবে সন্তুষ্টির পাল্লা অসন্তুষ্টির থেকে বেজায় ভারী! বেশ উপভোগ্য ছিল, ঘটনাপ্রবাহ মনে ধরেছে। কেউ বইটা পড়ে আরেকটু ভালো অনুধাবন করতে চাইলে মুভিটাও দেখে নিতে পারেন।
অনুবাদ নিয়ে অভিযোগ নেই বললেই চলে। সতীর্থের প্রডাকশনে একটা চমৎকার বই পড়লাম।
Prince of Persia নস্টালজিয়া ভরা একটা গেম। ছোটবেলায় মামার নোকিয়া বাটন ফোনে এই গেম টা দেখেছিলাম, Prince of Persia: The Sands of Time. তারপরেই গেমটিতে আসক্ত হয়ে পড়লাম। একে একে এর সিকুয়াল গুলো খেলতে লাগলাম। প্রথম পিসিতে এক্সপেরিয়েন্স করেছিলাম স্কুল ফ্রেন্ড ফাহিমের বাসায়। সেসময় টিফিন টাইমে ওর বাসায় গিয়ে আমরা এসব গেমস খেলতাম। ক্লাস টাইমে বসে বসে গেম এর তলোয়ার ডিজাইন করতাম। আর সে জন্যই বইটা কেনা,,
বই সম্পর্কে: বইটা পড়তে একটু কষ্ট হয়েছে, সংলাপগুলো অগোছালো, আরো সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা যেত। সংলাপ পড়তে পড়তেই বোঝা যায় কে বলছে। প্রতিবারই বলে দিতে হয় না যে কে কথা বলছে।
অনুবাদক নিজেই বলেছেন, বইটা 'প্রিন্স অফ পার্সিয়া' গেমের অন্ধ ভক্তদের জন্য না। বইটা প্রিন্স অফ পার্সিয়া কমিক্সের আলোকে তৈরি একটা এডভেঞ্চার উপন্যাস।
বইটি মূলত Prince of Persia: The Sands of Time মুভির স্ক্রিপ্ট এর কার্বন কপি। কেউ মুভিটা দেখে থাকলে বইটা আর পড়তে হবে না।
বই:- প্রিন্স অফ পার্সিয়া: দ্যা স্যান্ডস অফ টাইম অনুবাদক:- রুদ্র কায়সার লেখক:- জেমস পন্টি জনরা:- এডভেঞ্চার উপন্যাস প্রকাশনী:- সতীর্থ প্রকাশনী পেজ:- ১৮২ পার্সোনাল রেটিং:- ৬/১০
বেসিকালি মুভির গল্পটাই, শুধু বইয়ের পাতায় উঠে এসেছে। তবে সুবিধাজনক ব্যাপার হলো মুভিটা যতটাই বাজে, লেখক ততটাই ভালো করে গল্পটা লিখতে পেরেছেন। ইলাস্ট্রেশনগুলো উপভোগ্য ছিল, কিন্তু সংখ্যায় আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম। অনুবাদের ব্যাপারে বলতে গেলেঃ কাঠখোট্টা ও প্রাঞ্জলতাবিহীন। অনেক জায়গায় সাবলীল শব্দের পরিবর্তে খটমটে তৎসম পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। অনুবাদটা ভালো হলে আরেকটু উপভোগ করতে পারতাম।
অনুবাদক নিজেই বলে দিয়েছেন 'অনুবাদকের কথা' অংশটায় যে, এই উপন্যাসটি ''প্রিন্স অব পার্সিয়া'' গেমের ডাইহার্ড ফ্যান তথা অন্ধ ভক্তদের জন্য একেবারেই নয়। তবে তারা যদি পড়ার ইচ্ছা রাখে তবে বইটিকে স্রেফ একটি অ্যাডভেঞ্জার উপন্যাস হিসেবেই পড়তে এবং গেমের সাথে তুলনা না করতে। এখন গেম বা মুভির সাথে তুলনা করে পড়লে অবশ্যই হতাশ হতে হবে।
যাই হোক, বইটা বেশ গতিশীল ছিল। সর্বোপরি ভালো একটা সময় কেটেছে। ^__^