অন্তিক মাহমুদের “তিন” পড়তে গিয়ে বারবারই তাঁর আগের উপন্যাস “চল”এর কথা মনে পড়ে। তুলনামূলকভাবে “তিন” অনেক বেশি সংযত, সরল এবং গঠনে কম জটিল, যা একদিক থেকে পাঠযোগ্যতা বাড়ালেও অন্যদিকে “চল”এর মত রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক ঘনত্বের অভাব কিছুটা অনুভব করায়।
তবে এই সরলতার মধ্যেই লেখক যে শক্তিশালী চরিত্র নির্মাণ করেছেন, সেটাই উপন্যাসটির প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে দিশা, তার মারকুটে, তীব্র এবং কিছুটা অপ্রত্যাশিত আচরণ তাকে গল্পের সবচেয়ে জীবন্ত চরিত্রে পরিণত করেছে। দিশা অস্থিরতা ও বিদ্রোহের প্রতীক, যা গল্পকে আলাদা মাত্রা দেয়।
তাউস চরিত্রটি মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ আকর্ষণীয়। তার মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে লেখক যে দ্বন্দ্ব ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন, তা গল্পের আবহকে গভীর করে তোলে। আর সেলিম চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়। সে কি বাস্তব, নাকি তাউসের বাইপোলার ডিসঅর্ডারের প্রতিফলন? লেখক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি, ফলে পাঠককে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই উপন্যাসটির এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল থ্রিল তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, “তিন” হয়তো “চল”-এর মতো জটিল বা স্তরপূর্ণ নয়, কিন্তু এর সরলতা, শক্তিশালী চরিত্র এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন একে একটি উপভোগ্য ও চিন্তাজাগানিয়া পাঠে পরিণত করেছে। বিশেষ করে যারা চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প এবং মানসিক জটিলতার সূক্ষ্ম ইঙ্গিত পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা হবে।