শীতের এক রুক্ষ বিকেলে কয়েকজন তরুণের একটি চলচ্চিত্র বানানাের লক্ষ্যে বসা আড্ডায় উঠে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ঢাকা শহরের একটি মেসবাড়ির গল্প। মেসটির বাের্ডার রুদ্রনারায়ণ সামন্তের সাথে ঘটছে নানা রহস্যময় ঘটনা, আর নাজেহাল হতে হচ্ছে একই ঘরের বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঈশ্বর সিংহকে। কিন্তু এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে কে বা কারা? শত মাইল দূরে বিহারের ধানবাদের কয়লাখনিগুলাে লুকিয়ে রেখেছে কী রহস্য? এসব ঘটনার সাথে জর্মনির ডুইসবুর্গে অধ্যয়নরত বিভ্রান্তমস্তিষ্ক এক বাঙালি রসায়নবিদ অপূর্বকুমার ভট্টাচার্য ও রাজকীয় জাপানি সেনাবাহিনীর প্রবীন জেনারেল মাৎসুসিতা হিরােশির কী সম্পর্ক? রাঁচির ভারতীয় মানসিক রুগ্নালয় এখানে কী ভূমিকা রাখছে? শেষপর্যন্ত ঠিক কোন দিকে প্রবাহিত হয় ঘটনার | সময়রেখা? অতীত, বর্তমান, নাকি ভবিষ্যতে?
Tanveer Shenoy (Bengali: তানভীর শেণয়) (Marathi: तन्वीर शेणय) is the Nom de Plume of Tanvir Shahed Mirza (Bengali: তানভীর শাহেদ মির্জা) (Marathi: तन्वीर शाहेद मिर्ज़ा), an author born in Dhaka, Bangladesh on 10th July 1995. He has started his career by writing short stories in Bangladeshi and Indian Bengali newspapers and periodicals. Currently, he is a permanent resident of Kolkata, West Bengal, India, and studying Business Administration at Indira Gandhi National Open University. Before it, he lived in Pune, Maharashtra, India and studied Biotechnology at Fergusson College. He is the first student of that college who is opened about his sexuality. He is working with Lipighor Pvt LTDas a project internee.
His first book in Bengali is Hirak Shikar (Bengali: হীরক শিকার)
“The most effective way to destroy people is to deny and obliterate their own understanding of their history.”― George Orwell - ❝হীরক শিকার❞ - ঈশ্বর সিংহ, ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এক প্রাক্তন বিদ্রোহী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে তিনি রুদ্র নামের এক ব্যক্তিকে তার মেসে থাকতে দেন। কিন্তু রুদ্রর অস্বাভাবিক আচরণ তার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। - জেনারেল মাৎসুসিতা হিরোশি, জাপানি সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে তিনি ভারতে আসেন এক বিশেষ ধরণের হীরক শিকারে। তাই এই জেনারেল তার সেই শিকারের জন্য চালাতে থাকেন নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যার সাথে জড়িয়ে পড়ে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষজন। - এখন ঈশ্বর সিংহের মেসে ঠাঁই নেয়া রুদ্রের অস্বাভাবিক আচরণের কারণ কী? জেনারেল মাৎসুসিতা হিরোশি কোন ধরণের হীরক শিকারের নেশায় অবিভক্ত ভারতের নানা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ঘটনা কীভাবে বর্তমান সময়ের ঘটনাবলীকে প্রভাবিত করছে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক তানভীর শেণয় এর হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার ধারার উপন্যাস ❝হীরক শিকার❞। - ❝হীরক শিকার❞ বইয়ের মূল প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অবিভক্ত ভারত। গল্পের মূল সময়কাল এবং সেসময়ের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলকে যেভাবে দেখানো হয়েছে তাতে বেশ নতুনত্বের ছোঁয়া রয়েছে। তবে প্লটের হিসেবে ঘটনাশৈলী যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা একটু আনকোড়া লাগলো, হয়তো লেখকের প্ৰথম বই বলেই। কোন প্লটের ঘটনা কোন সময়ে বলা হচ্ছে, চরিত্রগুলো কে কার পক্ষে কাজ করছে বা কে কার ছদ্মবেশে রয়েছে তা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বইয়ের লেখনশৈলী কিছুটা সাবেকি ঘরানার বলে মনে হয়েছে, যা কাহিনির হিসেবে খারাপ বলবো না আমি। তবে কিছু জায়গায় একটু বেশিই সাবেকি ঘরানায় হয়ে যাওয়ার ফলে সে জায়গাগুলোতে পড়তে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার মতো অবস্থা হযেছে, এর সাথে বেশ বিভান্তিমূলক কাহিনিশৈলী হওয়ায় অনেক সময়ই প্লটে জগাখিচুরি লেগে গিয়েছে। - ❝হীরক শিকার❞ বইয়ের চরিত্রের সংখ্যা কাহিনির তুলনায় প্রচুর পরিমাণে এসেছে, এর ভেতরে কিছু জায়গায় মনে হয়েছে চরিত্রগুলোকে আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেতে পারতো, তাহলে কাহিনির সাথে আরো ভালোভাবে সম্পৃক্ত হতে পারতাম। সাবেকি ঢং এ লেখা গদ্যশৈলীর সাথে "আহো ভাতিজা আহো" টাইপের সংলাপ ঠিকমতো খাপ খেল না। বইয়ের শেষভাগ বেশ অপ্রত্যাশিত ছিলো, সেখানে তাড়াহুড়ো না ধীরে সুস্থে গল্পটা শেষটা হলে আরো দারুণ লাগতো হয়তো গল্পটা। - ❝হীরক শিকার❞ বইয়ের প্রোডাকশন মোটামুটি ভালোই বলা যায়। প্রচ্ছদ অ্যাভারেজ লাগলো এই বইয়ের। কিছু জায়গায় সম্পাদনা আরো ভালোভাবে করা যেতে পারতো, তবে সেগুলো খুব বড় কোন ইস্যু নয়। - এক কথায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝঞ্ঝামূলক সময়ের ভিত্তিতে বেশ ভালো একটি হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার লেখার প্রচেষ্টা বলা যায় ❝হীরক শিকার❞ বইটিকে। যারা এ ধরনের সময়কালের গদ্যশৈলী এবং এই ঘরানার বই পড়তে অভ্যস্ত তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা রইলো।
শীতের এক রুক্ষ বিকেল। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন তরুণের সিনেমা বানানোর লক্ষ্যে আড্ডা, আলোচনা হচ্ছিলো। কথাপ্রসঙ্গে উঠে আসে এক গল্প। বহুমাত্রিক এক গল্প। ঘটনার শুরু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ঢাকা। এই চাঞ্চল্যকর সময়ের এক মেসবাড়ির গল্প। মেসের বোর্ডার রুদ্রনারায়ন সামন্ত অদ্ভুত আচরন করছে, রাতে কোথায় যেন উধাও হয়ে যায় সে। মেসে রহস্যজনক ভাবে একটা খুন হলো। উত্তর খোঁজে ঈশ্বর, বন্ধুকে বাঁচাতে সাহায্য চায় নিয়াজ রেজা চৌধুরীর। এদিকে ঈশ্বরও জড়িয়ে পড়ে আরেক রহস্যের জালে। এরিকা ইজকিয়েল জেসমিন। উদ্দেশ্য কি তার? ধানবাদের কয়লা খনি বা রাচি মেন্টাল হসপিটাল, কি রহস্য লুকিয়ে আছে? জেনারেল মাৎসুসিতা হিরোশি, কিসের জাল বুনছেন তিনি? সবপ্রশ্নের উত্তর কি পাবে নিয়াজ রেজা চৌধুরীর?
ব্যক্তিগত মতামত: যেহেতু লেখক নবাগত, সেহেতু শুরুতেই বরং প্রশংসাবাক্য বলি।
ঘটনাবিন্যাস: কিছু কিছু বই আছে স্লো পেসের। কৌতুহলউদ্দীপক অংশ শুরু হতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়, ধৈর্য্য হারিয়ে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে বইটা শুরুতে আগ্রহ জাগাতে সক্ষম। তারপর একটু এগোতেই একের পর এক রহস্য পাঠককে তৃপ্তি দেওয়ারই কথা।
তারপর আসি চরিত্রায়নে। গল্পের কিছু কিছু চরিত্রকে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। এরিকা ইজকিয়েল জেসমিন, জেনারেল হিরোশি এবং নিয়াজ রেজা অন্যতম। তবে ঈশ্বর সিংহের চরিত্রায়ন আমার কাছে দূর্বল মনে হয়েছে। প্রাক্তন বিপ্লবী কারো থেকে আরেকটু স্মার্টনেস আশা করেছিলাম।
প্রমিত ভাষার ব্যবহার: এদিক টা একই সঙ্গে পজেটিভ এবং নেগেটিভ দুটোই মনে হয়েছে। পজেটিভ কারন এটা একইসঙ্গে ব্যতিক্রমী এক অনুভূতি দেয় সাথে আধুনিক কিছু বইয়ে এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হয় যা সব পাঠকের ভালো লাগে না, এক্ষেত্রে ত্রুটিমুক্ত বইটি। নেগেটিভ কারন ক্রমাগত এমন ভাষা অনভ্যস্ত পাঠককে খেই হারিয়ে দিতে পারে। আমার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। তাছাড়া একাধিক ঘটনাপ্রবাহের জন্যও শেষের দিকে খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম।
তবে এককথায়, খুবই ভালো একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বাংলা মৌলিকে।
বইটা যখন শুরু করেছিলাম, কোনো ভাবেই আশা করিনি বইটা এতো দারুণ হবে। বইটার সবচেয়ে দারুণ যে বিষয়টা লেগেছে সেটা হলো এর স্টোরিটেলিং। দূর্দান্ত লিখেছেন লেখক সাহেব। তিনি যেভাবে গল্পটা ফুটিয়ে তুলেছেন আমার কাছে সত্যিই ভালো লেগেছে। সময়ে সময়ে গল্পে ফোরশেডো আর জায়গায় গিয়ে টুইস্ট। সত্যিই খুব ভালো লেগেছে।
গল্পের চরিত্রায়ন আমার কাছে ভালো লেগেছে। বিশেষত জেনারেল মাৎসুসিতার চরিত্র আমার নজর কেড়েছে। পাশাপাশি ঈশ্বর, অপূর্ব, নিয়াজ রেজা এরা প্রত্যেকেই উপভোগ্য ছিল।
গল্পের ব্যাপারে যদি বলি তবে খুব ভালো একটা প্লট বাছাই করেছেন লেখক। আর এই প্লটকে এলাবোরেট করেছেন আরো ভালোভাবে। সব মিলিয়ে বলব হীরক শিকার পড়া উচিত।
▪ কলেজের শেষ প্রজেক্টের জন্য সিনেমা বানানো নিয়ে জম্পেশ আড্ডা দিচ্ছে কয়েকজন তরুণ । গল্পের সূচনা এভাবেই । ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ঢাকা শহরের একটি মেসবাড়ির গল্প । শীতের রুক্ষ বিকেল ছাপিয়ে জমে ওঠে আড্ডা । মেসটির বোর্ডার রুদ্রনারায়ণ সামন্তের সাথে ঘটছে ব্যাখ্যাতীত নানা রহস্যময় ঘটনা । অন্যদিকে রুমমেটের অদ্ভুত আচরণে যারপরনাই অবাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঈশ্বর সিংহ । রুদ্র ছেলেটার হঠাৎ উদ্ভট আচরণের কারণ কী? ভেবে উত্তর খুঁজে পায় না ঈশ্বর সিংহ ।
একইভাবে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি হুট করে এসে কেন বাজারের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিল সেটার উত্তরও ভেবে পায় না জর্মনির ডুইসবুর্গে অধ্যয়নরত বাঙালি রসায়নবিদ অপূর্বকুমার ভট্টাচার্য । সব প্রশ্নের উত্তর কি ভেবে আদৌ পাওয়া যায় ? হয়তো যায় না । তবু উত্তরের খোঁজে নেমে পরে ডা. নিয়াজ রেজা চৌধুরী ।
শত মাইল দূরে, বিহারের ধানবাদের কয়লাখনিগুলো লুকিয়ে রেখেছে কী রহস্য? রাঁচির ভারতীয় মানসিক রুগ্নালয়ের রহস্য কী? আর রাজকীয় জাপানী সেনাবাহিনীর জেনারেল মাৎসুসিতা হিরোশির আসল মনোভাবটাই বা কী? কীসের জাল বুনছেন তিনি?
শেষপর্যন্ত ঘটনার সময়রেখা কোন দিকে প্রবাহিত হয়? অতীত, বর্তমান নাকি ভবিষ্যতে? কোথায় ই বা লুকোনো আছে মূল্যবান হীরক?
আর সবথেকে বড় প্রশ্ন, সত্যিকারের হীরকটি শিকার করবে কে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া ------------------------
ফ্ল্যাপ পড়ে বইটার প্রতি আগ্রহ জন্মায় । পরবর্তীতে প্রকাশের পরপরই সংগ্রহ করি বইটা । বইটা হাতে পেয়ে শুরুর দিকের কয়েক পাতা তৎক্ষণাত পড়ে ফেলি । ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান হয়ে উঠি কিছু ব্যাপারে । পাশাপাশি দারুণ একটা ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হয় । বইটার প্রতি সন্দিগ্ধতার কারণ ও ভালোলাগার অনুভূতি উভয় নিয়েই নিজস্ব কিছু মন্তব্য তুলে ধরছি । আশা করি পাঠ প্রতিক্রিয়াটি পড়ে পাঠক বইটার প্রতি সম্যক ধারণা লাভ করবেন ।
● প্লট
প্লটের শুরুটা সাদামাটা হলেও ক্রমশ দিকমুখিতা পেতে আরম্ভ করে । সত্যি বলতে একটা সময়ে গিয়ে মনে হয়েছিল প্লটের এতবেশি শাখা প্রশাখার পরিণতি কীভাবে টানবেন লেখক! যদিও আমাকে ভুল প্রমাণ করে বেশ সফলভাবেই গল্প এগিয়েছেন তিনি এবং চমকপ্রদ একটা পরিণতিও টেনেছেন । এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় দিক । তবে শুরুর দিকে অনেকটা সময় গল্প একটু খাপছাড়া মনে হতে পারে । একটু ধৈর্যশীলভাবে কিছুদূর এগোনোর পরে আপনা থেকেই জটলাগুলোর উত্তর পেতে আরম্ভ করবেন পাঠক । সাধারণত প্লট যত সামনে এগোয় পাঠক তত পরিণতি জানতে মরিয়া হয়ে ওঠেন । এই বইটির প্লটে কিছুটা ব্যতিক্রম পাবেন বলেই আমার বিশ্বাস । অন্তত আমি তাই ই পেয়েছি । প্লট যত বেশি সামনে অগ্রসর হয়, তত বেশি অন্তর্নিহিত গল্পটা জানতে আগ্রহোদ্দীপক হয়ে উঠেছি ।
● চরিত্রায়ন
গল্পের প্রয়োজনে অসংখ্য চরিত্রের আনাগোনা ঘটেছে । এরমধ্যে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে জেনারেল মাৎসুসিতা চরিত্রটি । ভিলেনদের প্রতি আমার সবসময়ই আলাদা আকর্ষণবোধ কাজ করে । আর সেখানে এত বেশি পরিণত ও শক্তপোক্ত চরিত্রায়নের প্রবীণ জেনারেলকে উপেক্ষা কীভাবে করতে পারি! তার স্ক্রিনটাইম অনেক বেশি ছিল এবং লেখক তাকে যথার্থভাবেই বাস্তবায়িত করতে পেরেছেন বলেই মনে হল আমার । ঈশ্বর সিংহ চরিত্রটিও বেশ উপভোগ করেছি । এছাড়া রাজকুমারী এরিকার চরিত্রায়ন আমার বেশ ভালো লেগেছে । তার ভেতরকার রহস্যময়তা লেখক চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন । বাকিসব পার্শ্বচরিত্রগুলো মোটামুটি লেগেছে আমার কাছে । খুব বেশি উপভোগ্য নয় ; তবে চলনসই ।
● ভাষাশৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি
ভূমিকায় বলেছিলাম বইটা পড়তে পড়তে কিছু সন্দিগ্ধতা মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল । কারণটা বলার সময় এসে গেছে । লেখকের ভাষাগত দক্ষতার প্রশংসা না করে পারলাম না । আর পাঁচটা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের সাথে এখানেই হীরক শিকারের পার্থক্য লক্ষ্যণীয় । প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসরণ করেছেন লেখক । পাশাপাশি চরিত্র ও বর্ণনার সময়ভেদে ভাষার তারতম্যটা স্পষ্ট চোখে পড়ার মত । পুরো বইজুড়ে ভাষার প্রমিত ব্যবহারটা সবথেকে বেশি উপভোগ করেছি আমি । পাশাপাশি উপমাগুলোও বেশ ভালো ও যৌক্তিক । সব মিলিয়ে এত সুন্দর ব্যাকরণিক প্রয়োগ আর এত চমৎকার বাংলায় লেখা থ্রিলার বই খুব বেশি পড়িনি । বিশেষত প্রথম পৃষ্ঠায় চোখ বুলিয়ে আপনি যখন শুরুর অনুচ্ছেদটা পড়বেন : “এখানে বর্ষাকালে ভেজা হিমশীতল আবহাওয়া, আর শীতকালে রুক্ষতার সাথে সাথে তাপমান যন্ত্রের পারদটাও কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকে । সাধারণ বাঙালির অভ্যেসের বাইরে এসব, তবে বেশ ক’বছর থাকলে এ আবহাওয়ার প্রেমে পড়তে বাধ্য যে কেউ ” – তখন স্বভাবতই আপনি লেখককে নিয়ে কৌতূহল বোধ করবেন । সচরাচর থ্রিলারের ভাষা তো এমন নয়! আমারও একই অনুভূতি হয়েছে । ফ্ল্যাপ থেকে জানতে পারলাম লেখক সত্যিই এখানকার বাসিন্দা নন । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পুণেতেই স্থায়ী তিনি ।
লেখকের বর্ণনাভঙ্গিও বেশ উপভোগ করেছি । যদিও শুরুর দিকে বেশ খানিকটা ধোঁয়াশা ছিল । কিন্তু স্বীকার করতেই হচ্ছে পুরো বইজুড়ে লেখকের কৌশলী বর্ণনাভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় । তবে যেরকমটা বললাম আরকি – বইয়ের শুরুর দিকে ঘটনার ঘনঘটা চোখে পড়েছে । প্লটের সাথে তাল মিলিয়ে উঠতে একটু সময়ক্ষেপণ করতে হবে পাঠককে । হয়তো এখানে আরেকটু সহজভাবে, কিছুটা বড় পরিসরে গল্পটা বলা যেত ।
● গল্পের বুণন
বেশ দক্ষতার সাথে গল্পটা তৈরি করেছেন লেখক । কিছু কিছু অধ্যায়ের শেষে প্রশ্ন রাখা, কখনোবা টুকটাক রসায়নের তথ্য, কখনোবা ব্ল্যাকআউটের ত্রাশ, রহস্যময়ী নারী চরিত্র এরিকা কিংবা ধূর্ত মাৎসুহিতা – সবকিছু লেখক দারুণভাবে এনেছেন । ফলে গল্পে খুব বেশি হোচট খেতে হয়নি । ফ্ল্যাপ পড়ে আন্দাজ করেছিলাম বইটা হয়তো যুদ্ধকালীন স্পাই স্টোরি বা ওরকম কিছু হবে । কিন্তু না, ধীরে ধীরে গল্প যতই সামনে এগোতে লাগলো বুঝলাম লেখক চমৎকার এক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের পসরা সাজিয়েছেন । তাই আগ্রহের সাথেই বইটা শেষ করেতে পেরেছি ।
● পরিণতি
অসংখ্য চরিত্র, ঘটনা আর প্রশ্নবাণে ভরা এই প্লটটির পরিণতি বেশ আগ্রহোদ্দীপক । শেষের দিকে বেশকিছু চমক রেখেছেন তিনি । বিশেষত গল্পের প্রধান বাঁকের চমকে এসে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি । গল্পের ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় পরিণতি নিয়ে অনেক ধারণা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল বটে ; তবে কস্মিনকালেও এমন পরিণতি আশা করিনি । তবে শেষের দিকে এসে যেন তাড়াহুড়ো করেই বইটা শেষ করা হয়েছে বলে মনে হল । এর দরুণ গল্পে তেমন কোনো প্রভাব না পড়লেও পাঠকমনে কিছুটা বিভ্রান্তি আসতে পারে । এই ব্যাপারে একটু পরে আলোচনা করবো ।
● প্রকাশনীর কথা
বইটা প্রকাশ করেছে ঈহা প্রকাশনী । বরাবরের মত তাদের পৃষ্ঠা ও বাঁধাইয়ের মান বেশ ভালো । প্রচ্ছদটা ভালো তবে নামলিপিতে আরেকটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া যেতেই পারত । আরেকটা বিষয়, ঈহার অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইতে মুদ্রনজনিত ত্রুটি খুবই কম পেয়েছি । এটা নিঃসন্দেহে একটা ভালো ব্যাপার । বানান ও ব্যাকরণজনিত ত্রুটিগুলোতে প্রকাশনী নজর দিচ্ছে দেখে বেশ ভালো লাগলো ।
● বিবিধ
আমাদের বর্তমান থ্রিলার সাহিত্যের প্রচলিত ভাষা, অপ-ব্যাকরণের সাথে মিল না থাকায় বইটির ভাষা কারো কারো কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে । আরেকটা ব্যাপার বইটি খুব মন না দিয়ে না পড়লে খেই হারিয়ে ফেলার তুমুল সম্ভাবনা রয়েছে । আমি নিজেও ধীরে ধীরে সময় নিয়ে বইটা পড়েছি । যারা বই বিঞ্জে রিড অর্থাৎ একবার করে মোটামুটি ভাবে পড়েই পাতা উল্টে যান, তাঁরা নির্ঘাত খেই হারিয়ে ফেলবেন । আমার নিজেকেও বইটা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়তে হয়েছে । ফলপ্রসু পূর্ণভাবে উপভোগ করেছি গল্পটা । ভাষাশৈলী তে এরকম বৈচিত্র রাখায় গল্প বলার ধরণটা লেখক আরেকটু সহজ করলে ভালো হত । দুটো জায়গাতেই জটিলতা হয়তো কিছু পাঠকের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে । এটা একটা ঋণাত্মক দিক হতে পারে বইটির জন্য । পরিশিষ্ট অংশ পড়ে মনে হয়েছে খুব সম্ভবত লেখক এই বই নিয়ে আরো কাজ করবেন । বিশেষত জেনারেল মাৎসুসিতাকে নিয়ে একটা পূর্বজ প্রেক্ষাপট আনা ই যায় এই বইয়ের । তার ব্যক্তিত্ব, চরিত্রের গভীরতা নিয়ে গোটা একটা বই লিখে ফেলা অসম্ভব নয় । দেখা যাক লেখক 'হীরক শিকার' বইটি নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কিনা । সেই অবধি তার জন্য রইল অঢেল শুভকামনা । সত্যিকারের হীরকের সন্ধান চলুক, তার লেখা আরো ক্ষুরধার হোক ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা রইল । আরেকটা ব্যাপার, পুরো পাঠ প্রতিক্রিয়ার সময়জুড়ে আমি চেষ্টা করেছি প্রমিত বাংলা ব্যবহার করার । জানি ব্যাপারটা অনেকাংশেই ফিকে লেগেছে আপনাদের কাছে; তবু ছোটখাটো চেষ্টা তো করা ই যায়, নাকি?
তবে হ্যাঁ, আমি জানি : Noli ludere obumbratio
এক নজরে, বই : হীরক শিকার লেখক : তানভীর শেণয় প্রকাশক : ঈহাপ্রকাশ প্রকাশকাল : অমর একুশে বইমেলা ২০২১ প্রচ্ছদ মূল্য : ৩৪০ টাকা পৃষ্ঠা : ১৮৯
তানভীর শেণয়। নাম শুনে ভিনজাতির মানুষ মনে হয়, অথচ এমন চমৎকার বাংলায় তিনি লিখেছেন তাঁর প্রথম রহস্যরোমাঞ্চ উপন্যাসিকা, "হীরক শিকার" যা সত্যিই অবিশ্বাস্য! ফ্ল্যাপের লেখাগুলো পড়ে বইটি কিনতে আগ্রহ জেগেছিল। তারপর সংগ্রহ করে অবশেষে সময় করে পড়া হল। মোহম্মদ নাজিম উদ্দিনের "রবীন্দ্রনাথ ট্রিলজির" প্রথম বইটি শেষ করার পর একটু কম দৈর্ঘ্যের কিছু পড়ার আগ্রহ থেকেই "হীরক শিকার" পাঠ৷ "হীরক শিকার" কতটুকু খাঁটি হীরা, নাকি আরেকটি চকচকে প্রচ্ছদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বাজে রঙিন কাচ, এ সম্পর্কে যাচাই করে তারপর পাঠকদের অবহিত করতেই আজকের এ পাঠ প্রতিক্রিয়ার সূচনা।
গল্পের সূচনা হয় ভারতের পুণে শহরে। কিছু তরুণ কলেজের শেষ প্রজেক্টের জন্য একটি সিনেমা বানানো নিয়ে আলোচনা করছিল। সেই সিনে আলোচনার প্রেক্ষাপটেই উঠে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন ঢাকার গল্প, যেখানে এক মেসবাড়িতে নির্দিষ্ট একজনের সাথেই শুধু ঘটছে রহস্যময় কিছু ঘটনা। যার জেরে বিব্রত হচ্ছে একই ঘরে থাকা অপর সদস্য। এরপর গল্পে হঠাৎ আবির্ভাব হয় অভিনেত্রী কিন্তু রাজকুমারী এরিকার। যার সঙ্গে মিত্রশক্তির সেনাদের এক গভীর সম্পর্ক। দৃশ্যান্তরে আবির্ভূত হন অক্ষশক্তি জাপানের জেনারেল মাৎসুসিতা। ছদ্মবেশে ভারতের কয়লাখনিগুলোর ওপর শ্যেনদৃষ্টি দিয়ে অপেক্ষা করছেন মোক্ষম সময়ের।
সবই স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। মনে হচ্ছিল একটু পরই লেখক গতানুগতিক মার্কিনী স্পাই থ্রিলারের মতোই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষিতে ঢাকা, কলকাতা ও পূর্ব ভারতের অন্যান্য শহরকে কেন্দ্র করে এক স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার প্রসব করবেন। কিন্তু সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে দিয়ে লেখক শুরু করলেন এক অসামান্য মনস্তাত্ত্বিক খেলা। ঊনত্রিশ অধ্যায় পেরোতে না পেরোতেই মাথা ঘুরে যাবার যোগাড়। একি! এতক্ষণ যা যা জেনে এসেছি সবই তবে একজন ব্যক্তির মনোরোগের ফসল। কিন্তু এই মনোরোগের পূর্ব ইতিহাস জানতে ড. নিয়াজ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে রাঁচি থেকে কলকাতা ভ্রমণের পর উত্তেজনা বাড়ছিল। কীভাবে সমাধান হবে এই অদ্ভুত রহস্যের? জেনারেল মাৎসুসিতা হিরোশি চরিত্রটির স্ক্রিনটাইম অনেকটাই বড়ো ছিল, তবে এই চরিত্রটিকে এতটা সময় না দিলে গল্পের অনেকটাই অবোধ রয়ে যেত। ক্রমশঃ উত্তেজনা বাড়িয়ে শেষে এসে লেখক আবার নতুন এক ঝটকা দেবেন সেটাও অকল্পনীয় ছিল৷ আমার মনে হয়, প্রতি লাইনে লাইনে টুইস্ট না রেখে টুইস্টকে এভাবেই তুরুপের তাসের মতো ব্যবহার করা উচিত। যখন পাঠক নিজের মতো করে সমাপ্তি ভাবতে আরম্ভ করবেন, ঠিক তখনই মোক্ষম চালে লেখকের লাটাইয়ে থাকা পাকা ঘুড়ির মতোই ভাসবেন পাঠক। সার্থক থ্রিলার যাকে বলে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী "হীরক শিকার" কে সার্থক থ্রিলার বলা চলে। তবে শেষটা আরও একটু অন্যরকম হতে পারতো৷ অবশ্য লেখকের এটি প্রথম বই, তাও আবার বাংলায়। সেক্ষেত্রে শতভাগ ত্রুটিহীনতা আশা করা অনুচিত।
পরিশিষ্ট অংশ পড়ে মনে হয়েছে খুব সম্ভবতঃ লেখক এই বইয়ের সিকুয়েল আনতে পারেন। সেক্ষেত্রে একটি "শিকার ট্রিলজি" আশা করাই যায়। অন্তত মাৎসুসিতার জীবনালেখ্যসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে সিকুয়েল লেখা হোক। লেখকের ওপর ভরসা রেখে, তবেই এ অনুরোধটুকু করা হচ্ছে৷ অবশ্য সিকুয়েল আনা না আনা সম্পূর্ণ লেখকের এখতিয়ার।
আরও একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখেছি, যা না উল্লেখ করলেই নয়। লেখকের এই বইটি খুব মন না দিয়ে না পড়লে খেই হারিয়ে ফেলার তুমুল সম্ভাবনা। যারা বই বিঞ্জে রিড অর্থাৎ একবার করে পাতা উল্টে যান, তাঁরা অধিকাংশ সময়েই খেই হারিয়ে ফেলবেন বইটি পড়তে গিয়ে। এটা লেখকের নেগেটিভ পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে আমার, তাঁর বিঞ্জে রিডারদের কথাও মাথায় রাখা উচিত ছিল। নতুন লেখক হলেও, একজন লেখক অবশ্যই একজন ভালো পাঠক, সে হিসেবে সর্বশ্রেণীর পাঠকের কথাই তাঁকে ভাবতে হবে।
সব মিলে অনুসন্ধানের ইতি টানা যাক এই বলে যে, বর্তমান বাংলা রহস্যরোমাঞ্চ সাহিত্যে "হীরক শিকার" মাইলফলক ধরণের কিছু, অর্থাৎ ঝকঝকে হীরক নয়। তবে বিশুদ্ধতার দিক থেকে একে 'আনকাট ডায়মণ্ড' না বললে ভুল হবে, যা ধারে ভারে হীরকরূপী কাচকে কেটে ফেলতে পারে।
ধন্যবাদ। এই মহামারীর যুগে প্রচুর বই পড়ুন, অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে, সুস্থ থাকুন।
প্রথম বই হিসেবে উতরে গেছে আকর্ষণীয় লেখনী দিয়ে। কিন্তু আরও একটু বিস্তারিত বর্ণনা আশা করেছিলুম। কিছু জায়গায় অসঙ্গতি এবং প্রশ্নবোধক চিহ্নে কপালে ভাঁজ পড়ছিল। একশোতে সত্তর দেয়া যায়, অর্থাৎ এ যাত্রায় স্টার মার্ক পেয়ে রক্ষা পেয়ে গেলেন লেখক!
বইঃ হীরক শিকার প্রকাশকঃ ঈহা প্রকাশ (বাংলাদেশ) লেখকঃ তানভীর শেণয় ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৫ এ ৪
প্রায় ২০ দিন লেগে গেল বইটা শেষ করতে । প্রথম বই হিসেবে দূর্দান্ত লিখেছেন টুইস্টটাও হতাশ করেনি। শুধু মাত্র প্রমিত বানান রীতি ব্যবহার করায় কাহিনীর সাথে তাল মিলাতে পারিনি মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছি অবশ্য এটা আমারই ব্যর্থতা এর জন্য লেখকের দোষ দেয়া যায় না। বইটার পরবর্তী সিক্যুয়েল আনতে পারেন লেখক সেটার অপেক্ষায় আছি।
তানভীর শেণয়ের হীরক শিকার পড়ে ফেললাম অবসর সময় কাটাতে কাটাতে। লেখকের প্রথমের বই হলেও পড়ে তেমনটা বোধ হয় নি৷ লেখকের বায়োতে দেখলাম তিনি লেখা অপেক্ষা পড়তে বেশী ভালোবাসেন। সেটারই স্থূল ছাপ দেখতে পেয়েছি হীরক শিকার উপন্যাসটিতে৷
প্রথমেই আসি, পজিটিভ দিকগুলোতে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে তৎকালীন ঢাকা শহরের নিঁখুত বর্ণনা খুব ভালো লেগেছে৷ আরও ভালো লেগেছে এপ্ট চরিত্রায়ন৷ যতটুকু স্পেস দরকার দেওয়া হয়েছিল, সাথে ছিল রয়্যাল এক্সটেসির ছোঁয়া৷
দ্বিতীয়ত ভা���ো লেগেছে, ভিলেনের চরিত্রটা। গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো কিছু মুহূর্ত ছিল সেই ভিলেন চরিত্রের৷ এছাড়াও রয়েছে নানান চমকে দেওয়া মুহূর্ত৷
নেতিবাচক কিছু জিনিস ছিল বটে। বিশেষ করে ভাষাশৈলী ও এইপার বাংলার পাঠকদের হিসেবে কিছুটা কঠিন শব্দচয়ন পরিলক্ষিত হয় যা আমার মতো সফটকোর বাংলা পাঠকদের জন্যে একটু কঠিনই হয় বটে, তবে যারা দুই বাংলার যেকোন সময়ের অগণিত লেখা পড়েছেন অর্থাৎ বইপোকা তাঁদের কাছে ভাষা বা শব্দগুলোতে বেগ পেতে হবে না। লেখক ভারতীয় হওয়ায় হয়তো এমন ভাষা প্রয়োগ করেছেন৷
দ্বিতীয় পর্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে৷ মাৎসুইতো চরিত্রটাকে আবারও দেখতে চাই নতুন আবর্তে৷
তানভীর শেণয়ের লেখা প্রথম উপন্যাস 'হীরক শিকার' পড়লাম গত দু'দিন ধরে৷ কয়লার খনি থেকে হীরা উত্তোলিত হয়, হীরার প্রতি আদিমকাল থেকেই আমরা অবগত আছি৷ এই হীরা আহরণ, হীরা চুরি বা ডাকাতি নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক কাহিনী ঘটেছে৷
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেরর সময়কালীন এ দেশ যখন ব্রিটিশদের অধিকারব ছিল, সে সময়ের আবহে কয়েকজন তরুণের ফিল্মমেকিং নিয়ে আগ্রহ, সেখান থেকে খুন, একজন রহস্যময় ব্যক্তির আবির্ভাব, রুপসী রাজকন্যার ভেলকি থেকে শুরু করে টান টান উত্তেজনাপূর্ন একটি চমৎকার থ্রিলার হীরক শিকার৷
লেখক খুব সম্ভবত ভারতীয়, কেননা উপন্যাসের ভাষা পড়ে আমার এমনটাই মনে হয়৷ ওভাবে ঐ বঙ্গের সাহিত্য বা পুরোনো দিনের সাহিত্য না পড়ায় বা ব্যাকরণে ন্যুব হওয়ায় কিছু কিছু জায়গায় একটু ধাক্কা খেতে হয়৷ তবে সবার এমন লাগবে না৷ তবে উঁচুদরের সাহিত্যিক উপমা প্রয়োগ, মেদহীন বর্ণনা, সবকিছু মিলে বেশ ভালো লেগেছে৷
আর হ্যাঁ বানান ভুল জাতীয় কিছু অপ্রাসঙ্গিকতা এবং বর্ণায় অসামঞ্জস্যতা রয়েছে খুবই সামান্য৷
অল্প কথায় বললে চমৎকার, অনবদ্য, অভব্য ও অসাধারণ। লেখকের প্রথম উপন্যাস হলেও নেই কোন অনভিজ্ঞতার ছাপ, নেই কোন প্লটহোলের উপস্থিতি৷ উঁচুমানের লেখনী। সামনে আরও বই চাই৷
2.5 stars rounding up to 3. Plot was interesting, writing was a bit different (in a good way.), but didn’t like the story telling (it was all messed up) and didn’t care for what happened to the characters.