বাঙালীর জাতীয় জীবনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান। নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে এনে দিয়েছেন শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা। আনোয়ার হোসেন আমাদের সূর্যসন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা। পিতৃবিয়োগের কারণে শৈশবেই আজন্ম মেধাবী, কর্মঠ আনোয়ারকে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠিন সংগ্রামের পথ। নেতৃত্ব গুনে গুনান্বিত আনোয়ার ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন রাজনীতি সচেতন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, সফল ছাত্রনেতা।দেশপ্রেমের চেতনা তাকে নিয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের দূর্গম প্রান্তরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য কিশোর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার সামনাসামনি ৭ মার্চের ভাষণ শুনে এসে বুকভরা বারুদ নিয়ে যোগ দেন ১ নং সেক্টরে। গ্রুপ কমান্ডার নির্বাচিত হয়ে অংশগ্রহন করেন সরাসরি গেরিলাযুদ্ধে।হন গুলিবিদ্ধ। বঙ্গবন্ধু তার নাম দেন বাঙ্গালী। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড পরবর্তী বিভিন্ন শাসকের শাসনামলে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মত আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর উপরেও নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির মিথ্যা মামলায় ভোগ করেন কারাদন্ড। ভেঙ্গে পড়েননি বাঙ্গালী।প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এক একজন ফিনিক্স। ভষ্ম থেকে পুনরায় মেলেছেন ডানা। তিনি জানতেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধই শেষ যুদ্ধ নয়। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে যতদিন না কাঙ্খিত মুক্তি না মেলে। বাঙ্গালী যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। যুদ্ধ শেষ হয়নি এখনও। অসমাপ্ত এ যুদ্ধের ইতি টানতে হবে আগামী দিনের নবীন যোদ্ধাদের। কবি রিয়াজ মোরশেদ সায়েম তার মায়াবী কলমের আচড়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিশু কিশোরদের সামনে তুলে ধরেছেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর মহাকাব্যিক জীবনের গল্প। এ আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
ছোটোবেলা থেকেই গল্প শুনতে শুনতে একসময় গল্প বলার ভাষাটা রপ্ত করে নিলাম। স্কুলে পড়ার সময় ব্যাংকার হতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম অঢেল সম্পদের মালিক হতে, কিন্তু না। হয়ে গেলাম কথার মালিক। জীবনের বাঁকে বাঁকে লক্ষ্য পাল্টে গিয়েছে। শেষমেশ সব পেশার মানুষকে আমার দিকে টেনে এনেছি, গল্প শোনাবো বলে। এই যে, আপনাকে যেভাবে আনলাম। আমার জন্ম দ্বীপ এলাকায়, যেখানে সমুদ্রের জোয়ার এসে আমাকে ছুঁয়ে দেয়। আবার ভাঁটায় গন্তব্য হারাই। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলায় ১৯৯৭ সালের ২০ জানুয়ারি রাতের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করি। বাবা ব্যবসায়ী, মায়ের পেশার শেষ নেই। কখনো ডাক্তার, কখনো ইঞ্জিনিয়ার, কখনো শিক্ষক, কখনো দরজি, কখনো গৃহিণী...। শুধু শখের জন্য লেখালেখি করি না। পেশার জন্য লিখি। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। থ্রিলার আমার পছন্দের জনরা। সে জনরায় কাজ করছি, চেষ্টা করছি পাঠকদের ভালো কিছু দিতে। কবিতার পথ ধরে হাঁটা শুরু করলেও থ্রিলার আমাকে তার পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে অনুবাদ আমার প্যাশন।
আমার প্রকাশিত অন্যান্য বই-
মৌলিক : জলজ্যোৎস্নার মাখামাখি - ২০১৯ ( কবিতা ), পদ্মজলের সিঁড়ি - ২০২০ ( কবিতা ), মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী কিশোর জীবনী - ২০২০ ( জীবনীগ্রন্থ ), চার একটি যৌগিক সংখ্যা, ২য় মুদ্রণ - ২০২১ ( থ্রিলার উপন্যাস ), বিশেষ দ্রষ্টব্য -২০২২ ( থ্রিলার উপন্যাস )।
শিশুতোষ : ১০ খন্ডে ছোটোদের নবি রাসূল - ২০২২ ( গল্পে গল্পে নবিদের জীবনী ) ৫ম মুদ্রণ, ৬ খন্ডে ছোটোদের মহানবী - ২০২২ ( গল্পে গল্পে মহানবীর জীবন )।
অনুবাদ : স্টিল লাইক অ্যান আর্টিস্ট, মূল - অস্টিন ক্লেওন (২০২২, মোটিভেশনাল) ; ম্যান'স সার্চ ফর মিনিং, মূল - ভিক্টর ই.ফ্রাঙ্কল (২০২৩, মোটিভেশনাল) ; মুরাকামির হাফ ডজন গল্প, মূল - হারুকি মুরাকামি (২০২২, গল্পগ্রন্থ), হাউ টু লাভ, মূল - থিক নাথ হান (২০২২, মোটিভেশনাল), হাউ টু ওয়াক, মূল - থিক নাথ হান (২০২৩, মননশীল), দ্য আলমানাক অব নাভাল রাভিকান্ত, মূল - এরিক জর্জেনসন (২০২৩, উদ্যোক্তা উন্নয়ন)।