এ বইয়ে বিশাল ক্যানভাসে আঁকা হয়েছে সোভিয়েত রাশিয়াকে। এতে রয়েছে ইতিহাস কাঁপানো রুশ বিপ্লব, আনকোরা নতুন সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন, বিভীষিকাময় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, স্নায়ুযুদ্ধের শীতল তিমিরাচ্ছন্ন পঞ্চাশ বছর। রুশ আত্মার সন্ধানে জারতন্ত্রের আদি থেকে শেষ ইতিহাস, তার শিল্প, সাহিত্য, চিত্রকলা, সিনেমা, সংগীত আর দর্শনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। কোনোটাই এখানে বাদ পড়েনি। আছে সোভিয়েত রাশিয়ার ভাঙনের ইতিবৃত্ত, রাজনৈতিক উত্থান–পতন, ব্রেজনেভ, গর্বাচেভ, ইয়েলেৎসিন, পুতিনের মতো রাষ্ট্রনায়কদের গল্প, দুর্নীতি আর অলিগার্কদের উত্থান পবের্র সোজাসুজি বর্ণনা। সব মিলিয়ে বইটি হয়ে উঠেছে যেন নানা বর্ণের মিশ্রণে রুশ সমাজ ও ইতিহাসের রামধনতুল্য।
Mohammad Badruddoza Khan's "Soviet Russia Bhanglo Keno" is a thought-provoking examination of the factors that led to the disintegration of the Soviet Union, one of the most significant events in modern history. This book offers valuable insights into the political, economic, and social circumstances that contributed to the downfall of the Soviet empire. Basically, this book can be best described as a summarised version of the fall of the Soviets. The most substantial point of this book is that the writing style is so fluent and transparent and the writer’s ability to make complex historical and political concepts accessible to a broad audience. He presents the information in a clear and concise manner, guiding readers through the intricacies of Soviet history without overwhelming them with excessive jargon, shedding light on the multifaceted causes that culminated in the collapse.
Basically, anyone can read this book without any preparation and that's the biggest plus point of this book.
Now one of the things was a little confusing for me because the narrative starts from the writer’s background explaining why and how he went to the then USSR and then suddenly goes to Year 900 explaining the history of Russia. Another thing that I was expecting was that Writer will say something about Chernobyl disaster in 86 and how the Soviets competed with the US in astronomy and in rocket science in the ’60s but maybe he thought the reader already knows about those things.
Overall it’s a good book for those who have now-a-days little time to spare to read a book like myself and wants something easy to digest.
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যা পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অথচ তিন দশক আগেও দেশ দুইটি সোভিয়েত ইউনিয়ন এর অংশ ছিল। সেই সোভিয়েত রাশিয়া ভাঙার ইতিবৃত্ত এই বই। মাত্র ৭০ বছরের ব্যবধানে সমাজতন্ত্র আদর্শের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। বইটিতে শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন নি লেখক; সোভিয়েত অঞ্চলে মানুষের বসবাস হতে শুরু করে তাদের বিকাশ, রাষ্ট্র গঠন, সংস্কৃতি-সাহিত্যের মিশ্রণ ও অবশেষে আলাদা হয়ে যাওয়ার পুরো ইতিহাসকে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে লেখক বুয়েটে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ালেখা করতেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ হতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ স্কলারশিপ চালু করা হয়। লেখক স্কলারশিপ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর রাশিয়াতে যান এবং সেখানে দীর্ঘ এগারো বছর অবস্থান করেন; সেই অভিজ্ঞতাও বইটি লিখতে লেখককে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ার জারতন্ত্রের অবসান ঘটে। ১৯২২ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৫ টি প্রজাতন্ত্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর প্রতিষ্ঠা হয়। লেলিনের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়। তবে লেলিন বেশিদিন ক্ষমতায় থাকেন নি। লেলিনের মৃত্যুর পর স্তালিন ক্ষমতায় আসে। স্তালিনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন অনেক গবেষক। স্তালিনের বিরুদ্ধে বহু নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে হত্যা ও নির্বাসনে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। তবুও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাহসিকতার সাথে দেশকে রক্ষার জন্য জীবদ্দশায় কোনো কঠোর বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বৈচিত্রময় একটি রাষ্ট্র। প্রজাতন্ত্রগুলোর ছিল আলাদা আলাদা ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনব্যবস্থা। এত বৈচিত্রতার মাঝেও তারা নিজেদের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকাতলে দেখতে চাইতো। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত প্রজাতন্ত্রগুলো স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে; কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল রাশিয়ার উপনিবেশে পরিণত হয়েছে অন্যরা। এই শোষনের প্রতিবাদে যখনই মানুষ রাস্তায় নেমেছে তাদের কঠোর হাতে দমন করেছে স্তালিন সরকার। সোভিয়েতের সকল অঞ্চলকে রুশীকরণের অংশ হিসেবে বহু নাগরিককে তাদের জন্মভূমি ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছে, এমনকি মৃত্যু হয়েছে লাখ লাখ মানুষের।
সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহিত্যের কদর সারা দুনিয়াজোড়া। লিও তলস্তয়কে বিশ্বসেরা সাহিত্যিক বলা হয়। তাঁর ওয়ার এন্ড পিস, আনা কারেনিনা, পুনরুত্থান উপন্যাসে বিপ্লবের চিত্র পাওয়া যায়। ফিওদর দস্তয়েভস্কি, আন্তন চেখভ, নিকোলাই গোগল, বরিস পাস্তেরনাক, মিখাইল শোলকভের লেখায় বারবার বিপ্লব ফিরে এসেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহিত্য ও সমাজতন্ত্রকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে তারা নিজ খরচে বিদেশি ভাষায় বই অনুবাদ শুরু করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কারণ হিসেবে লেখক তিনটি সমস্যাকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত বিপ্লবের মাধ্যমে সামাজিক মুক্তি কিংবা সমাজের পুনর্গঠন সম্ভব নয় বা সম্ভব হলেও ফলাফল যৎসামান্য। দ্বিতীয়ত রুশ ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো এবং রক্ষণশীল কিন্তু সোভিয়েত কর্তারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে উপেক্ষা করে চলেছেন। তৃতীয় কারণ হিসেবে সোভিয়েত সাম্রাজ্যের অতিমাত্রায় প্রসার এবং তার ফলে জন্ম নেওয়া জাতিগত সমস্যা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
কমিউনিস্ট পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বহু নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হত্যার শিকার হয়। এতে করে পার্টির ক্ষমতা অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এত বড় একটা রাষ্ট্র অথচ বৈচিত্র্য অনুযায়ী পরিকল্পনা ছিল না। যার ফলে দুর্নীতি বেড়ে গিয়েছিল এবং দরিদ্রদের নিষ্পেষণ হচ্ছিল। আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের পরাজয়, বার্লিন দেয়ালের পতন এবং গর্বাচভ-ইয়েলেৎসিন রাজনৈতিক অস্থিরতা সোভিয়েত ইউনিয়নের কফিনে শেষ পেরেক মেরে দেয়।
বইটি অনেক তথ্যবহুল। সোভিয়েত ইউনিয়নের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। ইতিহাসের পাশাপাশি তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। অনেকের হয়তো অনাগ্রহ লাগতে পারে, তবে ধৈর্য্য ধরে পুরো বইটা শেষ করতে পারলে মনে হবে পড়াটা সার্থক হয়েছে। হ্যাপি রিডিং।
বইটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের দোষে দুষ্ট। এক সময়ে আত্মজীবনিমূলক, এক সময় রাশিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, এক সময় সাহিত্যের সাথে বিপ্লবের সম্পর্ক আলোচনা তো আরেক সময় ভ্রমণমূলক। আবার গথবাধা ইতিহাস ফড়ফড় করে বলে যাওয়াও এই বইয়ের অংশ। ব্যাপারটা ক্ষেত্রবিশেষে ভাল লেগেছে বটে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা আমার ক্ষেত্রে বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে কেননা এতকিছু আনতে গিয়ে লেখক কোনটাতেই পুরোপুরি গভীরে যান নাই। লেখকের হয়ত মনে হয়েছিল যে, এ নিয়ে আর লেখার সুযোগ হবে না তাই সবই এক জায়গায় ঢুকিয়ে ট্রাফিক জ্যাম বাধায়া ফেলসেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস এবং ভাঙন অংশটা নিয়ে আমার কমপ্লেন না থাকলেও রুশ বিপ্লবের শুরু এবং অক্টোবর বিপ্লব এর জায়গায় লেখক ডিটেইলে যান নাই। ১৮০০-১৯১৭ এর ইতিহাসের বেলায় লেখক কেন যে এমন করলেন বুঝলাম না।
ভাঙল কেন তার ইতিহাস বুঝতে গেলে এর সূচনা বোঝাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমন জাতীয় একটা লাইন বইয়ে লেখক নিজেই বলে নিজেই সেটা সংক্ষেপে সেড়ে দিলেন। না লেনিন, না ট্রটস্কি লেখকের গভীর মনযোগ পেল, না আন্দোলনের গাঢ় ইতিহাসটা বইয়ে জায়গা পেল। তাছাড়া যাদের উপর ভিত্তি করে এত কিছু। মার্ক্স-এঙ্গেলস এদের নিয়ে কিছুই পাওয়া যাবে না বইয়ে। যা আছে তা না থাকার মত। এই বই পড়তে বসার পূর্বশর্ত হল যদি আসলেই কিছু বুঝতে চাও তাহলে মার্ক্স-এঙ্গেলস নিজ উদ্যোগে ঘেটে আস। এত বিপ্লবের সাথে সাহিত্য টানলেন লেখক, মার্ক্স আর এঙ্গেলসকে টানা গেল না। তবে বইটার সেকেন্ড হাফ তুলনামূলক ভাল ছিল। কিছু অধ্যায় 'সোভিয়েত রাশিয়ে ভাঙল কেন?' পড়তে না বসে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিষয়ক অন্য টপিকের বইয়ে পড়লে উপভোগ করতাম নিঃসন্দেহে। তবে ব্যাপারগুলো এই বইয়েই আরও ডিটেইলে জায়গা পেলে এই অভিযোগটা থাকত না। তাছাড়া এই বইয়ে সোভিয়েতের চেরনোব���ল ইস্যুটা একদমই জায়গা পেল না দেখে সত্যি বলতে অবাকই হয়েছি। মিখাইল গর্বাচেভ তার জীবনের অনেক সাক্ষাৎকারেই চেরনোবিলকে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেই সাথে আফগানিস্তান পেল কেবল একটি প্যারা! যেখানে সোভিয়েত রাশিয়ার আফগানিস্তান আক্রমণ সোভিয়েত রাশিয়ার ইতিহাসের একটি অনন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃত। তাছাড়া রক্ষকের যে ভক্ষক হতে টাইম লাগে না, পরিস্থিতি মুক্তিকামী নেতাকে যে স্বৈরাচারী বানাতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়ের ভাঙনের পুরোধা ইয়েলৎসিন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পরবর্তী রাশিয়ার ইতিহাসের সাথে আমাদের দেশের একটা সাদৃশ্য এখানে আমি পেয়েছি। তাছাড়া মানসম্পন্ন সম্পাদনা আর এত প্রুফ রিডিং এর পরও বইয়ে যে ভুলগুলো রয়ে গেছে তা হাস্যকর। সর্বোপরি রোমানভ পরিবারের হত্যা রুশ ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এ ঘটনাও এই বইয়ে মাত্র এক লাইনের বেশি নেয় নি এবং এসেছেও অন্য কন্টেক্সট এ। খুবই হতাশাজনক।
লিটারেচার এর পার্স্পেক্টিভ থেকে বিপ্লব আলোচনা বেশ ইন্টেরেস্টিং লেগেছে। বিপ্লপন্থীদের প্রবক্তা হিসেবে চেরনোশেভিস্ক এর 'কি করতে হবে?' যেমন সমাজতন্ত্রের একটা চিত্র এঁকেছে, দস্তয়ভস্কির নোটস ফরম আন্ডারগ্রাউন্ডে আমরা পাই বিপ্লবী ও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ। কিংবা তলস্তয় এর জীবন কেন্দ্রিক সংগ্রাম থেকে কিউমুলেটিভ কন্সট্রাকশন অফ হিস্টরি। বইটা পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম লেখন বুয়েটে মেকানিক্যাল ডিপার্টেমেন্টে স্বল্প সময়ের জন্য পড়েছেন।