Jump to ratings and reviews
Rate this book

সায়েন্সভেঞ্চার

Rate this book

Hardcover

First published April 2, 2021

9 people are currently reading
47 people want to read

About the author

Nayeem Hossain Faruque

12 books50 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
33 (70%)
4 stars
11 (23%)
3 stars
1 (2%)
2 stars
0 (0%)
1 star
2 (4%)
Displaying 1 - 27 of 27 reviews
Profile Image for Mahatir Ahmed.
2 reviews
April 14, 2021
বুক রিভিউ/পাঠ-প্রতিক্রিয়া: সায়েন্সভেঞ্চার; ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী
প্রকাশনা: প্রান্ত প্রকাশন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
প্রকাশ: অমর একুশে বইমেলা, ২০২১


"If a butterfly flaps its wings at just the right time in just the right place. It can cause a hurricane thousands of miles away."

৪৬০ কোটি বছর আগে সেই হেডিয়ান ইওনে থিয়া গ্রহটার পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ, অগুনতি ধুমকেতুর বুকে করে পানির ক্রিস্টাল নিয়ে আসা কিংবা বার বার কোটি বছর ব্যবধানে মহাদূর্যোগে পৃথিবীর নরকে পরিণত হওয়া__ প্রতিটা ঘটনাই দায়ি আজকে আমার এই বুক রিভিউটা লেখার পেছনে। প্রতিটা ঘটনাই সমান ভাবে দায়ী হোমো স্যাপিয়েন্স নামের এক বুদ্ধিমান প্রজতির পৃথিবীর রাজত্বের পেছনে...That's how the butterfly effect is... A flap in a perfect time!

কোথা থেকে আসলাম আমরা?
কেনই বা আজকের পৃথিবীতে এতো প্রাণবৈচিত্র‍্য?
কিভাবেই বা সরল প্রোটোসেল থেকে এক কোষী প্রাণী আর তার থেকে পৃথিবীজুড়ে এই বিচিত্র প্রাণের বন্যা?
এই প্রশ্নগুলির সাবলীল উত্তর আলোচ্য বইটিতে।

এই বইটা একটা বিশাল বড় জার্নির মতো। লেখক আপনাকে বইজুড়েই ডুবিয়ে রাখবেন প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বিভিন্ন যুগে যুগে।

আপনার এ ভ্রমণের শুরু হবে একটু ভিন্নভাবে। শুরুতেই প্রাগৈতিহাসিক দুনিয়ায় যাচ্ছেন না।
কেমন হয় যদি আপনাকে ০.১ মিলিমিটার সাইজের করে ফেলে দেয়া হয় একটা মজা পুকুরে?
কতোটা ভয়াবহ আর নারকীয় হতে পারে এই পুকুর ০.১ মিলিমিটারের আপনার জন্য?

সেই পুকুরে আপনার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর(সরি ফর দ্যা স্পয়লার) লেখক আপনাকে জীবিত করে পাঠাবেন আরেকটা মিশনে। অসীম শক্তিশালী একটা ড্রীল মেশিন, যেটা আপনাকে নিয়ে যাবে মাটির হাজার হাজার কিলোমিটার গভীরে। ক্রাস্ট, মেহোরিভিক ডিসকন্টিনিউটি, নরক ম্যান্টল পেরিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে। যেখানে সূর্যপৃষ্ঠের সমান তাপমাত্রা। যেখানের চাপ ৪৮ হাজার হাতির ওজনের সমান। এই দুঃসাহসিক ভ্রমণে আপনার দেখা হবে নরকের ব্যাক্টেরিয়া থেকে শুরু করে দৈত্যাকার মহাসাগরীয় পানির আধারের সাথে। সবচেয়ে ইমপ্রেসিভ ব্যাপার হচ্ছে, এই দুঃসাহসিক এডভেঞ্চারের পাশাপাশি আপনার জানা হয়ে যাবে টেকটোনিক প্লেটের কাজ কি, কেন মহাদেশগুলির বিভাজন ঘটে। জানা হয়ে যাবে পৃথিবীর চুম্বকত্বের কারণ।



এ ভ্রমণের তৃতীয় যাত্রায় এবার লেখক আপনাকে পাঠাবেন শত শত কোটি বছর পূর্বে।
কতো পূর্বে?
কতো পূর্বে গেলে পৃথিবীর এই জীবন নাট্যের সূচনার স্বাক্ষী হওয়া যাবে?
-৪৬০ কোটি বছর।

আপনার ভ্রমণেই আপনি স্বাক্ষী হবেন থিয়ার সংঘর্ষে জ্বলন্ত নরক হয়ে যাওয়া পৃথিবীর। আপনার সামনেই পানির ক্রিস্টাল বুকে নিয়ে পৃথিবীতে আঁচড়ে পড়বে শত-হাজার ধুমকেতু।
সময় যাবে, এগুতে থাকবে আপনার জার্নি।

পৃথিবীকে আজকে অবধি আসতে চারটা ইওন পাড়ি দিতে হয়েছে।
হেডিয়ান, আর্কিয়ান, প্রোটারোজয়িক আর ফ্যানারোজয়িক। লেখক চেষ্টা করেছেন এই চারটা ইওনের ইতিহাসকেই গ্রন্থবদ্ধ করতে।

বইয়ের "প্রাচীন পৃথিবী" অংশের ২৬ টা অধ্যায়ে তুলে ধরেছেন পৃথিবীর প্রাণের ইতিহাস।
শুরুতেই সাবলীল উপস্থাপনায় "বিবর্তন", " রেন্ডম মিউটেশন", "ফসিল" সংক্রান্ত ব্যাপারগুলি ক্লিয়ার করা হয়েছে।

তার পরপরই এ বিশাল জার্নিতে আপনাকে হেডিয়ানের নারকীয় পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া হবে আর্কিয়ানের প্রথম প্রাণের উৎপত্তির দিনগুলিতে।
আর্কিয়ান ইওনে RNA World Hypothesis, ব্যাক্টেরিয়াদের "সায়ানোব্যাক্টেরিয়ায়" রূপান্তর, অক্সিজেন উৎপাদন__ এসব হাই থটের কাটখোট্টা ব্যাপারগুলি চমৎকার উপস্থাপন করেছেন লেখক।


আর্কিয়ানে উদ্ভব হওয়া এককোষীরা কিভাবে প্রোটারোজয়িক ইওনে বহুকোষী স্পঞ্জে রূপান্তরিত হলো কোটি কোটি বছরে?
কিভাবে সরল আদি কোষ বিবর্তিত হয়ে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ইউক্যারিওটিক কোষে পরিণত হলো?
কিংবা বর্তমান জীবিত সব ইউক্যারিওটদের শেষ এনসেস্টর, LECA-ই বা কিভাবে আসলো?
এ প্রশ্নগুলির সহজ ব্যখ্যা প্রোটারোজয়িক ইওন ভ্রমণের সময়ই পেয়ে যাবেন।

বইয়ের যে কয়টা ব্যাপারে আমি সন্তুষ্ট, তার একটা হচ্ছে যেখানেই শ্রেণিবিন্যাস জানার প্রয়োজনবোধ করেছি, সেখানেই লেখক সেই আলোচ্য পর্বের প্রাণির শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে হাজির হয়েছেন।
পাঠ্যবইয়ের কাঠখোট্টা উপস্থাপনায় যে ব্যাপারগুলিতে আমার এক প্রকার ফোবিয়া জন্মে গিয়েছিলো, সেই ব্যাপারগুলিই খুব বেসিক লেভেল থেকে বুঝিয়ে আনা হয়েছে বইয়ে।



আপনার ভ্রমণ রোমাঞ্চকর হওয়া শুরু করবে ক্রায়োজেনিয়ানের বরফ যুগ পেরিয়ে যখন এডিয়াকারান যুগে আসবেন। প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর এই যুগে পৃথিবীতে উদ্ভব হতে থাকে উদ্ভট, এলিয়েনের মতো দেখতে সব আজব প্রাণিদের।
যুগ-যুগান্ত পর আপনাকে নিয়ে লেখক ডুব দিবেন ক্যাম্ব্রিয়ানের প্রাণভর্তি মহাসাগরে।
কোটি কোটি বছর পর যখন আপনি ডাঙায় পা ফেলবেন, সেখানে মরতে বসবেন সাইলুরিয়ান যুগের অজানা, ভয়ানক প্রাগৈতিহাসিক খুনীদের কাছে।
তারপর ডেভোনিয়ান যুগ পেরিয়ে আপনার এডভেঞ্চার চলবে প্রাচীন পৃথিবীর সেই কার্বোনিফেরাস যুগে। যখন এই পৃথিবীতে রাজত্ব করতো ভয়ংকর, দৈত্যাকার আর রাক্ষুসে সব পোকামাকড়েরা।

আসবে জীব বৈচিত্রের যুগ পার্মিয়ন। সময়ের কাঁটা এগুবার সাথে সাথে স্বাক্ষী হবেন 'পার্মিয়ান মাস এক্সটিংকশানের' মতো নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের।
গল্পের আদলে বইয়ের কথক আপনাকে শিখিয়ে যাবে প্রাগৈতিহাসিক সেই যুগ-যুগান্তের প্রাণের বিবর্তনের ইতিহাস।

সময় যাবে, আর আপনার এই অভিযান ভয়াবহ হতে থাকবে। পরিচিত হবে প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপ, আমাদের পূর্বপুরুষদের একেক যুগে বিবর্তিত একেক প্রজাতির সাথে। জুরাসিক যুগের
অভিযানে দানবীয় সব প্রাণিদের দুনিয়ায় আপনার বাঁচাটাই মুশকিল হয়ে যাবে। বই না পড়লে সে যুগটা আঁচ করতে পারবেন না কেবল রিভিউ পড়েই।

তারপর একদিন, বহুকোটি বছরের বিবর্তনে পৃথিবীতে আবির্ভাব হবে মানুষ নামের এক প্রজাতির। তখন আপনি ধীর পায়ে ঢুকে পড়বেন আদিম গুহামানবদের ডেরায়, রাতের নক্ষত্রভর্তি আকাশের নীচে তাদের সাথে গলা মিলিয়ে গাইবেন চারশো ষাট কোটি বছরের বিবর্তনের গান।
মানব বিবর্তন অবধি এসে শেষ হবে এ বিশাল ভ্রমণ। মাইটোকন্ড্রিয়াল ইভ, Y ক্রমোজোমাল এডাম এর মতো ব্যাপারগুলির উপস্থাপন অনেক সন্তোষজনক ছিলো। বিবর্তন শেখার জন্য আপনার বোধগম্যতা নিয়ে কোনো জটিলতা থাকুক, এমনটা না রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিফলন দেখলাম বইয়ে।
মানব বিবর্তনের প্রায় প্রতিটারই ফসিলের ছবি দেয়া হয়েছে বইয়ে।

তৃপ্তিভরা একটা নিঃশ্বাসে শেষ হবে আপনার কোটি কোটি বছরের এই ভ্রমণ।



এ বই নিয়ে আমার একান্ত কিছু প্রাপ্তিস্বীকার উল্লেখ করার ইচ্ছা পোষণ করছি। এগুলি হতে পারে আপনারও মাথায় ঘুরতে থাকা প্রশ্ন:

১. প্রোটিন, ডিএনএ এসবের উৎপত্তি নিয়ে পড়লেও আমার জানা ছিলো না জীবকোষের মতো একটা কমপ্লেক্স ম্যাশিনে কোষীয় অঙ্গাণুগুলি কিভাবে আসলো। কিভাবেই বা আসলো পাওয়ারহাউজ মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিডের মতো অঙ্গাণুগুলি। লেখকের চমৎকার উপস্থাপন ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দিয়েছে। একদম মলিকুলার লেভেল থেকে আলোচনা করেছেন।❤️

২. আমি জীববিজ্ঞানে দূর্বল বিধায় জাইগোটে ব্লাস্টুলা- গ্যাস্ট্রুলা এগুলি নিয়ে মেসড আপ ছিলাম। আমি শিওর, আপনাদের অধিকাংশই আমার দলের। বইতে সুন্দর করে জীববির্তনের বিভিন্ন ধাপে একেকটা অংশের প্রয়োজনীয়তা দেখানো হয়েছে এদের, একই সাথে দেখানো হয়েছে কেন এদের উৎপত্তির দরকার ছিল। দেখানো হয়���ছে, কিভাবে জাইগোটে মেসোডার্ম জরুরি ছিলো। কিভাবে কোষ মাত্রার প্রাণিরা কোষ টিস্যু মাত্রার প্রাণিতে বিবর্তিত হয়েছে। দেখানো হয়েছে, কেবল কোন পরিবর্তনটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিহীন স্পঞ্জ থেকে হাত পা ওয়ালা জটিল জটিল সব প্রাণিদের উদ্ভব ঘটিয়েছে।

সত্যি বলতে, এই বইতে আলোচনার এই অংশটা আপনার একাডেমিক হোক কিংবা কৌতূহল মেটানোর জন্য হোক__ যেকোনো পার্স্পেক্টিভ থেকেই খুব চমকপ্রদ লাগবে।


লেখকের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, পরবর্তী এডিশনে প্রাগৈতিহাসিক সব প্রাণির নামের ইংরেজি বানান যেন ব্র‍্যাকেটে লিখে দেন। বই নিয়ে আমার আপত্তির জায়গা এটুকুই।


কথা হচ্ছে, ধরুন আপনি সারাদিন "গণিত-পদার্থবিজ্ঞান" জপ করা মানুষ। তাও আপনি এই বই পড়বেন কিনা? পড়ে বুঝবেন কিনা?
জ্বী, আপনি মিনিমাম বেসিক নিয়েই এ বই পড়া ধরতে পারেন।
আগেই বললাম, বেসিক যেসব ব্যাপারে টেক্সটবুক পড়ে (কিছু না বুঝায়) ফোবিয়া জন্মে গিয়েছিলো, সেগুলি এ বইয়ে বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি আমার।

এ বইটা একটুখানি গল্পের। তারচেয়েও বেশি বিজ্ঞানের।
সাথে অনেক খানি এডভেঞ্চারের।
"সায়েন্সভেঞ্চার "
নামের স্বার্থকতা এখানেই।

Happy Reading 🖤
&
Happy Journey🔥

*বিজ্ঞানযাত্রীর ক্ষতবিক্ষত হাতে রেখে এ বইটির ছবিটা প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে কার্বোনিফেরাস যুগে তোলা। হাতের আঁচড়টা সে যুগের দশফুট লম্বা দানব ওফিয়াকোডনের দেয়া। ভ্রমণে তাই সতর্ক থাকবেন।*
This entire review has been hidden because of spoilers.
2 reviews3 followers
April 13, 2021


বইয়ের নাম: সায়েন্সভেঞ্চার(৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস)
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী।
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা
পার্সোনাল রেটিং: ৮/১০

বইয়ের নাম দেখেই কিছুটা আন্দাজ করা যায় যে বইটিতে এডভেঞ্চারের গন্ধ আছে। একদম ঠিক।

বইটিতে লেখক প্রথমে ant-man বানিয়ে আপনাকে পুকুরে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে। পুকুরের ভেতরের জীবজগৎ সম্পর্কে জানতে পারবেন। পুকুরের নানা ধরনের জীব স্পাইরোগাইরা,ড্যাফনিয়া, ডাইভিং বিটল ইত্যাদি সম্পর্কে খুব সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। দুঃখের ব্যাপার পুকুরে শেষ পর্যন্ত ব্লাডারওয়ার্টের খাবারে পরিণত হবেন। আমি বলে দিলাম এটা। দেখেন বাঁচতে পারেন কিনা?

এরপর লেখক আপনাকে শক্তিশালী ড্রিল মেশিন দিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে যাবে।খুঁড়তে খুঁড়তে মাটির অনেক গভীরে বাস করা কিছু দীর্ঘায়ুসম্পন্ন অনুজীবের দেখা পাবেন।

আপনি জানতে পারবেন ক্রাস্ট,ম্যান্টলের,কোরের গঠন সম্পর্কে।ম্যাগমা কিভাবে সৃষ্টি হয়,এস্থেনোস্ফিয়ার-লিথোস্ফিয়ারে কী‌ হয়, পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড কিভাবে সৃষ্টি হয়, ম্যাগনেটিক ফিল্ড সোলার উইন্ড থেকে কিভাবে আমাদেরকে রক্ষা করে তা বুঝতে পারবেন।

বইয়ের পরবর্তী অংশ আমার অন্যতম প্রিয় বিষয়। আর সেটি হচ্ছে প্রাণ নিয়ে।

প্রাণ কী? বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কিভাবে প্রাণের সৃষ্টি হতে পারে তা নিয়ে যে আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস আছে সেটা খুব সহজে আপনি বুঝতে পারবেন এই বই পড়লে।

তারপর বিবর্তন কী ও বিবর্তনের বেসিক মেকানিজম সম্পর্কে জানতে পারবেন। আরো জানতে পারবেন ফসিল নিয়ে।

এখানেই কি শেষ! নাহ পিকচার আভি বাকি হ্যা। এতক্ষণ ট্রেইলার দেখলেন। এখন আসবে বইয়ের মূল বিষয় আর সেটা হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি যুগে কি কি ঘটলো এবং বিবর্তনের মাধ্যমে কিভাবে জীববৈচিত্র্য ঘটলো।

হেডিয়ান, আর্কিয়ান, প্রটেরোজয়িক,ফ্যানেরোজয়িকে কত কিছু হল তার রিভিউর মাধ্যমে সংক্ষেপে বলাও আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ-যুগগুলোর প্রতিটি ঘটনা একে অপরের সাথে কানেক্টেড। তাও কিছু কিছু ঘটনার কথা বলাই যায়। যেমন-মাস এক্সটিংশন, ক্যামব্রিয়ান যুগে হঠাৎ করে কমপ্লেক্স জীবের দেখা পাওয়ার কারণ, কার্বনিফেরাসের বড় বড় ফড়িং,তেলাপোকা ইত্যাদি প্রাণীদের দেখা পাওয়া।

মাঝে মাঝে চিন্তা করিএই যুগে যদি তেলাপোকার টিকটিকি ভয় পাওয়া মেয়েরা থাকতো তাহলে কি হত!
যাইহোক সমুদ্র থেকে কেন কিছু প্রাণী ডাঙায় এসে পড়লো,কিভাবে ডাইনোসর আসলো, কিভাবে ডাইনোসর থেকে পাখির বিবর্তন ঘটল, রেপটাইল ম্যামালের উদ্ভব কিভাবে হল, বনমানুষেরা কিভাবে আসলো তা খুব সহজ ভাষায় জানতে হলে এই বইটি পড়তেই হবে।

বইয়ের একেবারে শেষে আমাদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। মানব বিবর্তনের প্রায় প্রতিটি ধাপের ফসিলের ছবি দেওয়া হয়েছে।

বইটিতে এডিয়াকারান যুগে এসে অনেক কাঠখোট্টা নাম পড়তে হবে। এখানে লেখকের কিছু করার নেই। যারা এসব কাঠখোট্টা নাম দিয়েছে তাদের সাথে আলাপ করে দেখতে পারেন।দেখেন তারা চেঞ্জ করে কোনো সহজ নাম দেয় কিনা।

সমালোচনা
১. পুকুরের বিভিন্ন জীবের বর্ণনা এক পেইজে দিয়ে অন্য পেইজে ছবি দেওয়া হয়েছে এবং কিছু জীবের ছবির নিচে নাম দেওয়া হয়নি। যার ফলে আমার বর্ণনার সাথে ছবির মিল করাতে কষ্ট হয়েছে।

২. এই সমালোচনাটি ব্যক্তিগত। ant-man হয়ে যাওয়া, ড্রিল মেশিন দিয়ে ঘোড়ার যে সিচুয়েশন ক্রিয়েট করা হয়েছে তা আমার ভালো লাগেনি। এরপর সাইলুরিয়ান যুগে যে সিচুয়েশন ক্রিয়েট করে অনেক কথা বলা হয়েছে সেটাও আমার ভালো লাগেনি। এই জায়গাটাতে বিজ্ঞানের চেয়ে গল্পই বেশি মনে হয়েছে।(এছাড়া বইয়ের বাকি পুরো অংশ আমি খুব এনজয় করেছি। অনেক কঠিন কঠিন জিনিস নানা রকম সিচুয়েশন(যে সিচুয়েশনগুলো আমার ভালোই লেগেছে)ক্রিয়েট করার মাধ্যমে লেখক পানির মত সোজা করে বুঝিয়েছে

৩. বইয়ে মোটামুটি ভালোই বানান ভুল‌ রয়েছে।

৪. কিছু কিছু জিনিসে লেখকের ক্লিয়ার করার দরকার ছিল যে তিনি যা লিখেছেন সেটা হাইপোথিসিস। যেমন: পৃথিবীতে পানি কিভাবে এসেছে, মাস এক্সটিংশনের কারণ। তা না হলে সবাই ভাববে এমনটাই হয়েছিল।

কভার এবং প্রিন্ট:
কভারটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।
বইয়ের অফসেট প্রিন্টে পড়তে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি।



উপসংহার
খুব সহজ কথ্য ভাষায় এসব হার্ড টপিক নিয়ে আলোচনার বই খুব রেয়ার। লেখককে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি উপহার তার পাঠকদের দেওয়ার জন্য।
আর হ্যা বায়োলজি যে কি মজার একটি বিষয় সেটা এই বই পড়ে আমি বুঝতে পেরেছি। আবারো লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

Profile Image for Hridoy Hoque.
Author 2 books47 followers
December 22, 2022
বই: সায়েন্সভেঞ্চার (৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস)
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী
প্রকাশনী: প্রান্ত প্রকাশন
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
মলাট মূল্য: ৪৫০
ISBN: 978-984-94496-3-8
রেটিং: ৪.৮/৫

"তুমি যখন আয়নার সামনে দাঁড়াও, আর নিজের দু'পাশ সমান দেখতে পারো- তোমার মনে পড়া উচিত তুমি বাইল্যাটারিয়া। পিঠের সোজা ওই মেরুদন্ড মনে করিয়ে দেবে তুমি কর্ডাটা। চার হাত পা মনে করিয়ে দেবে তুমি টেট্রাপোডা। মায়েরা বাচ্চাদের দুধ খাওয়াতে গেলে মনে পড়বে তুমি ম্যামাল, বহু কোটি বছর আগে আদি সিন্যাপসিড মায়েরা এমনি করেই তাদের ডিমকে দুধ খাওয়াতো। আর তুমি যখন তোমার হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের দিকে তাকাবে, বিরাট বড়ো ব্রেইনটা নিয়ে কোনকিছু চিন্তা করবে, মনে পড়ে যাবে তুমি প্রাইমেট। তুমি চার'শ কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল।" — নাঈম হোসেন ফারুকী

প্রিয় একটি গল্প, উপন্যাস, কল্পবিজ্ঞান কিংবা হিস্টোরিক্যাল ফিকশনে বই হাতে তুলে নিন। পড়তে গেলেই যেনো ডুবে যাওয়া যায় সে বইয়ের জগতের মাঝে। মনে হয় যেনো যা ঘটছে বাস্তবেই। চরিত্রগুলো যেনো আপনি কিংবা আপনার আশেপাশেই ঘুরঘুর করছে। আপনি ঢুকে পরেছেন বইয়ের জগতে। শক্তির যোগান দিচ্ছে কল্পনা। চরিত্রগুলো? হয়তো কাল্পনিক কিংবা না। গল্প? হয়তো কাল্পনিক কিংবা না। স্থান-কাল-পাত্র? হয়তো কাল্পনিক, হয়তো না। নির্ভর করে কি পড়ছেন। কল্পবিজ্ঞান হলে উত্তর হবে সবই কাল্পনিক, হিস্টোরিক্যাল ফিকশন হলে সব কাল্পনিক না-ও হতে পারে৷ কিন্তু যদি বলি বিজ্ঞানের বই? তবে কল্পনার ঠাই মেলে কি?

যদি একটি বিজ্ঞানের বইয়ের কথা বলি? যদি বলি সেখানে আছে নানান গল্প? থ্রিলার, ডিটেকটিভ, অ্যাডভেঞ্চার এবং এদের নিয়ে সত্যিকারের ইতিহাস! উত্তরে বলতে হবে নাঈম হোসেন ফারুকী'র লেখা “সায়েন্সভেঞ্চার” বইটির কথা।

অতীতে আমাদের শেকড়। কিন্তু সেথায় কখনো ভ্রমণ সম্ভব নয়। টাইম মেশিন আবিষ্কার সম্ভব হলেও, ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। যাবে না অতীতে ফেরা। কিন্তু তাই বলে অতীতের স্বাদ নেয়া যাবে না এমনটি নয়। বই থাকবে, সিনেমা কিংবা ডকুমেন্টারি থাকবে, সেগুলোর থ্রিডি আসবে। আরো নানান উপায় থাকবে৷ কিন্তু বই সকলের সঙ্গী। এ বইটিও এমন। বইটির পাতা উল্টিয়ে আমরা চলে যাবো অতীতে। অনেক অনেক অনেক আগের অতীতে। আমরা পৃথিবীর জন্ম দেখবো। পৃথিবীর ভেতরে ভ্রমণে বেরোবো। নানান লেয়ারের গল্প শুনবো। জিওগ্রাফিক্যাল ইতিহাস দেখবো।

তারপর শুরু হবে মূল গল্প। জীবনের গল্প। বইয়ের কল্পনায় চেপে আমরা বেড়াতে যাবো নানান যুগ-মহাযুগে। বিচিত্র নানান প্রাণের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হবে। গহিন বনের সুবিস্তীর্ণ রাস্তায় আমরা হেঁটে বেড়াবো, গভীর সমুদ্রে ঝাঁপ দেবো, কোয়েটজালকোয়াটলের পিঠে চড়ে ডাইনোসরদের জগতে ঘুরে-বেড়াবো।

একেক যুগে আমাদের চরিত্র হবে কখনো অভিযাত্রীর কখনো বা ডিটেকটিভের। আমরা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করবো, মিস্ট্রি সলভ করবো, ফসিল নিয়ে ঘাটাঘাটি করবো। কখনো বা হারিয়ে যাবো আত্মীয়ের মধ্যে কার সাথে কার কিসের সম্পর্ক তা নিয়ে।

আমরা যাত্রা করবো আমাদের পূর্বপুরুষের খোঁজে। উদঘাটন করবো নানান কমন পূর্বপুরুষ ও তাদের গল্প। তাদের ইতিহাস উদঘাটন করতে গিয়ে আমরা আবিষ্কার করবো নানান জীব। আমরা চলে যাবো যাবো ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে। দেখবো হঠাৎ করে প্রাণের বন্যা বইছে। বন্যায় ভেসে চলে যাবো কার্বোনিফেরাসের যুগে। যেখানে ইয়া বড়ো বড়ো পোকামাকড়ের বসবাস। যাবো জুরাসিকের ডাইনো যুগে। গল্প হলেও সত্যি এ-সব যুগ।

এরপর ধীরে ধীরে ভ্রমণ শেষ হয়ে আসবে। আমরা আমাদের পৃথিবীর সাথে আস্তে আস্তে চেহারা মিল দেখবো। নানান পরিচিত প্রাণীদের দেখে মন ভালো হয়ে যাবে। আমরা গল্পের মধ্যে নানান কঠিন কঠিন নামের প্রাণী দেখবো। শেষের দিকে দেখবো চিরপরিচিত একটি বৈজ্ঞানিক নাম। হোমো সেপিয়েন্স। আমাদের মন তখন খুশিতে ভরে ওঠবে। সেই প্রাণের শুরু থেকে প্রায় তিনশো পৃষ্ঠার এ বইয়ের শেষের দিকে আমাদের পরিচিত এ নাম দেখে আমাদের মনে মায়া জন্মাবে। বিশাল, ভৌতিক, দুঃখজনক নানান পর্বের শেষে আমাদের আনন্দের পালা। মানুষ এসে গেছে। মানুষের যুগ এসে গেছে।

তখন পাশে বসে রবীন্দ্রনাথের এ কবিতা কেউ শোনালে আমাদের অশ্রু টলটল করবে:

“তমোঘন অন্তহীন সেই আকাশের বক্ষস্তলে
অকস্মাৎ করেছি উত্থান
অসীম সৃষ্টির যজ্ঞে মুহূর্তের স্ফুলিঙ্গের মতো
ধারাবাহী শতাব্দীর ইতিহাসে।
এসেছি সে পৃথিবীতে যেথা কল্প কল্প ধরি
প্রাণপঙ্ক সমুদ্রের গর্ভ হতে উঠি
জড়ের বিরাট অঙ্কতলে
উদ্ঘাটিল আপনার নিগূঢ় আশ্চর্য পরিচয়
শাখায়িত রূপে রূপান্তরে।
অসম্পূর্ণ অস্তিত্বের মোহাবিষ্ট প্রদোষের ছায়া
আচ্ছন্ন করিয়া ছিল পশুলোক দীর্ঘ যুগ ধরি
কাহার একাগ্র প্রতীক্ষায়;
অসংখ্য দিবসরাত্রি-অবসানে
মন্থরগমনে এল
মানুষ প্রাণের রঙ্গভূমে;”

বইটির সহজবোধ্যতা, গল্পের ঢঙে ভ্রমণ পাঠকের মন আন্দোলিত করবে। মনে হবে যেনো যাত্রার ব্যক্তিটি সে নিজেই। সাথেসাথে ছোটখাটো জোক ডেলিভারিতে কখনো কখনো হাসি পাবে। কখনো বা মনে হবে সাহিত্য। আর শেষে হয়তো শোনার ইচ্ছে রয়ে যাবে লেখকের মুখে মানুষের জয়গানের গল্প!

আদিপ্রাণ থেকে মানুষের বিবর্তন, এ পৃথিবীর সুদীর্ঘ প্রায় ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে সায়েন্সভেঞ্চার বইয়ের দু'টো মলাটের মাঝে। অপেক্ষার প্রহর গুনছে। পাতা উল্টালে আপনাকে নিয়ে ভ্রমণে বেরোবে বলে…

হৃদয় হক
২২/১২/২২
চট্টগ্রাম
4 reviews5 followers
April 13, 2021
আপনি কী বায়োলজি হেটার?
বায়োলজি ভাল্লাগে না? ফিজিক্স ম্যাথ আপনার প্রিয় জিনিস, কেমিস্ট্রিও চলে। কিন্তু বায়োলজি ভাল্লাগে না, তাই না? কেনই বা ভালো লাগবে, শুধু বসে বসে খটখটে কঠিন জিনিস মুখস্ত করা, কীভাবে জানলেও “কেন?” টা জানা হয় না। বেসিকালি বায়োলজির কোন গল্প নেই তাইতো?
নাকি আপনার বায়োলজি পড়ার স্টাইলে সমস্যা, বায়োলজিকে ভালোবাসতে শেখানো হয়নি আপনাকে। কেউ গুছিয়ে বলেনি বায়োলজির বৈশিস্ট্যগুলো কীভাবে আসল। কেউ বলেনি বায়োলজির গল্পটা…
যদি আপনার সাথে উপরের কথাগুলোর সাথে মিলে যায় তাহলে আপনাকে বলবো সায়েন্সভেঞ্চার পড়তে। আপনার হয়ত আমার মতই পৃথিবীর সমস্ত জীবের ইতিহাসের ব্যাপারে ছাড়া ছাড়া জ্ঞান আছে, হয়ত শুধু ডাইনসরের অংশটা জানি, গ্রহানুর আঘাতে ম্যাস এক্সটিংকশনের গল্পটা জানি, আইস এজের গল্প জানি, প্রাইমেট থেকে মানুষ আসার গল্প জানি। কিন্তু এগুলো পৃথিবীর সাড়ে চারশ’ কোটি বছরের ইতিহাসের খুব সামান্য কিছু অংশ। আর এগুলোর একটার সাথে আরেকটার কানেকশনও স্পস্ট বোঝা যায় না। এই বইটায় চেস্টা করা হয়েছে এসব গল্পগুলোকে একসাথে বাধার, কোনটার পর কোনটা আসে সেগুলোকে একসাথে বলার। আছে প্রাচীন পতঙ্গ এর সাথে প্রাগৈতিহাসিক স্তন্যপায়ী, দানবাকৃতির সাপ সবগুলোর একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক। পৃথিবীর ৫ টা ম্যাস এক্সটিংশনের গল্প থেকে শুরু করে কতবার আইস এজ এসেছে, কতবার কীভাবে পৃথিবীর রুপ বদলে গেছে সব লেখা আছে এই বইয়ে। বায়োলজিকে ভালোবাসার জন্য এই বইটা আপনার পড়া আবশ্যক মনে করি।
বইয়ের ৮০% অংশ এটা, বাকি অংশে ছোট্ট করে লেখা আছে পৃথিবীর গভীরে গেলে কী কী দেখতে পারবেন আর এন্ট ম্যানের মত ছোট করে আপনাকে পুকুরে রেখে আসলে কী দেখবেন তার গল্প।
Profile Image for Joyant Sheikhar.
5 reviews
May 8, 2023
পার্সোনাল রেটিং: 1CB.75C28F5C28F5C28F5C29/460

কখনো কি জানতে ইচ্ছে হয় আমরা মানে দুই পায়ে ভর দিয়ে চলা মগজসম্পন্ন হোমো সেপিয়েন্স থেকে শুরু করে মগজহীন গাছপালার সৃষ্টি কিভাবে হয়েছে?প্রথম প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছে? আমার আপনার পূর্বপুরুষ কে? আমরা কি আসলেই বানর থেকে এসেছি নাকি এক জোড়া নারী পুরুষ থেকে নাকি অন্য কিছু?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে অ্যাডভেঞ্চারে চললাম।বিজ্ঞানের সাথে ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস জানার অ্যাডভেঞ্চার। যার নাম দেয়া হয়েছে সায়েন্সভেঞ্চার।

১→ অ্যান্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাঁপ

অ্যাডভেঞ্চারের শুরুতেই লেখক তার অলৌকিক ক্ষমতাবলে আমাকে এক মিলিমিটার সাইজের স্যুটে ভরে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে। ভিন্ন কোনো জগতে চলে এসেছি বলে মনে হচ্ছে। সেখানে শৈবাল আমার সামনে নির্ভয়ে সাঁতার কাটছে।পাশেই পিঁপড়ার সমান ব্যাকটেরিয়ার দল পাতালতা গুলোকে পচাচ্ছে। আমাকেও পচিয়ে ফেলতে পারবে ওরা এখন।লেখক আগেই সাবধান করে দিয়েছে তাই ওদের থেকে দূরে গিয়ে প্যারানিমা বীভৎস ভাবে তার শিকারকে কিভাবে গিলে খাচ্ছে তা দেখছি।সারাজীবন পাঠ্যব‌ইয়ে পড়ে আসা হাইড্রা, ড্যাফনিয়াকে চোখের সামনে নিজের থেকে বড় বড় দেখছি।ওদের পাশ কাটিয়ে আরেকটু দূরে গিয়ে দেখলাম দুইটা অ্যামিবার বিয়ে হচ্ছে।পুকুর ট্যুর করতে করতে আরো অনেক জীবের দেখা পেয়েছি। লেখক তার লেখনী দিয়ে দেখতে বাধ্য করেছে।

২→ জার্নি টু দ্য সেন্টার অভ দ্য আর্থ

এবার লেখক আমাকে অলৌকিক ড্রিল মেশিন কাম লিফটে করে পৃথিবীর কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে পাঠাচ্ছে। ড্রিলিং করতে করতে আমি পৃথিবীর ক্রাস্ট পার হ‌ওয়ার চেষ্টা করছি। তাপ, চাপ দুটোই বাড়ছে। একটু পরেই দেখা হয়েছে হাজার বছর বয়সী ব্যাকটেরিয়ার সাথে।তার থেকে বিদায় নিয়ে ড্রিল করতে করতে ক্রাস্টের শেষ অংশে পৌঁছে গেছি। তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। মাটির নিচের ম্যান্টল অংশের ট্যুর শুরু হবে এখন। হীরাদের জন্মস্থানে চলে এসেছি।পরিচলন প্রক্রিয়ায় পাথরগুলো অতিরিক্ত তাপ আর চাপের কারণে ম্যাগমায় পরিণত হচ্ছে।ম্যান্টলের গভীরের প্লেটগুলো থেক�� ভূমিকম্প কিভাবে হয় কিভাবে এতো মহাদেশ হলো সেগুলো বুঝিয়ে লেখক আমাদের নিয়ে যাবে পৃথিবীর কোর অংশে।সেই সাথে এই কোর অংশ কিভাবে আমাদের রক্ষা করছে তা বুঝিয়ে আরো গভীরের দিকে র‌ওনা দিবে। অবশেষে পৌঁছে গেছি পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে যেখানে মাথার উপর ৪৮ হাজার হাতির সমান চাপ আর সূর্যের পৃষ্ঠের সমান তাপ।

৩→ প্রাচীন পৃথিবী: ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস

এবার শুরু হচ্ছে ৪৬০ কোটি বছরের প্রাগৈতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার। এই ইতিহাস আমার,আপনার, আপনার বাড়ির পোষা বিড়ালটার, আপনার বাড়ির পাশের আম গাছটার। এই ইতিহাস প্রতিটা জীবের। তো শুরুতেই লেখক প্রাণ,বিবর্তন আর ফসিল সম্পর্কে বুঝিয়ে নিচ্ছে যাতে এই ৪৬০ কোটি বছরের অ্যাডভেঞ্চারটা সহজ হয়। লেখক টাইম মেশিনে করে পৃথিবীর জন্মলগ্ন, শৈশবকাল ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে।আমরা এখন আছি হেডিয়ান যুগের নারকীয় পৃথিবীতে।

লেখক আমার আপনার তথা প্রতিটা জীবের পূর্বপুরুষ মহামান্য লুকার সাথে দেখা করিয়েছে। ‌আর্কিয়ান ইওনে অক্সিজেনের জন্য সায়ানোব্যাকটেরিয়াদের আত্মত্যাগ দেখে তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে গেছি। এবার ২৫০ কোটি বছর আগের প্রোটারোজয়িক ইওনে আছি। বহুকোষীদের ডেলিভারি দেখছি। মাইটোকন্ড্রিয়া আর প্লাস্টিডের জন্ম দেখলাম এইমাত্র।

ঘুরতে ঘুরতে শীতকাল চলে এসেছে। প্রায় দশ কোটি বছর থাকবে এই শীতকাল। পুরো পৃথিবী এখন সাইবেরিয়া হয়ে গেছে। বরফের উপরে কোনো প্রাণের চিহ্ন না থাকায় লেখক বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা মহাসমুদ্রে আমাকে নিয়ে ঝাঁপ দিলো। সেখানে আদিম এককোষীদের সাথে পরিচয় হয়েছে। এবার লেখক সাগরের আরো গভীরে নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল প্রাণী স্পঞ্জের সাথে আলাপ করালো।

দীর্ঘ শীতকাল‌ শেষ করে এবার পৌঁছালাম এডিয়াকারান যুগে, আদিম উদ্ভট চেহারার প্রাণীদের যুগ চলছে এখন, এখনো সমুদ্রের তলদেশেই আছি।ছত্রাকের জন্ম হলো একটু আগে।আশেপাশে চার প্রতিসম প্রাণী দেখছি। এডিয়াকারানের তথা প্রোটারোজয়িক ইওনের শেষের দিকে চলে এসেছি। স্প্রিগনা, ট্রাইলোবাইট, প্রোটোস্টোম, ডিউটেরোস্টোমদের থেকে বিদায় নিয়ে লেখক ফ্যানরোজয়িক ইওনে নিয়ে চলে এসেছে।

এই ফ্যানরোজয়িক ইওনের তিনটা বাচ্চা আর বারোখানা নাতি আছে। এবার ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে আছি, পিকাইয়া আর ম্যারেলা ভাজা খাচ্ছি সেইসাথে এই যুগের অ্যানোম্যালাকারিস আর হ্যালিউসিজেনিয়া ইত্যাদি নিয়ে লেখকের লেকচার শুনছি।লেখক বেশ কিছু মেরুদন্ডী প্রাণীদের সাথে পরিচয় করালো। মেরুদন্ডী প্রাণীদের সম্ভাব্য প্রথম পূর্বপুরুষের সাথেও আলাপ করালো।এ যুগে যথেষ্ট কারণের সাথেই প্রাণীরা দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে।

বিবর্তনের এই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীতে আংশিক মাছ জাতীয় প্রাণীর আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। লেখক টাইম মেশিনে করে অর্ডোভিসিয়ান যুগে নিয়ে এসেছে।আশেপাশে হাতের তালুর সমান মস।এরাই আপনার বাড়ির পাশের গাছটার পূর্বপুরুষ।লেখক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শামুক ঝিনুক ও তাদের দূরের আত্মীয়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। অর্ডোভিসিয়ান জায়ান্টদের‌ও চিনিয়ে দিলো। বর্তমান পৃথিবীতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়লেও অর্ডোসিয়ান যুগের শেষের দিকে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমে গিয়ে পৃথিবী আবার জমে বরফ হয়ে যায়। ঐ যুগের শেষে মাত্র ১৪% প্রজাতি জীবিত থাকে।

যাদের নিয়ে সাইলুরিয়ান যুগ শুরু হচ্ছে। লেখক টাইম মেশিনে বসে বেশ ভয়ে ভয়ে এ যুগের প্রাণীদের চিনিয়ে দিচ্ছে।এ যুগের সমুদ্র ভয়ানক কাঁকড়া বিছায় ভরপুর। লেখক ই‌উরেপ্টিডদের মতো কাঁকড়া বিছার কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছে না। তাই টাইম মেশিন স্টার্ট দিয়ে চলে এলাম পরবর্তী ডেভোনিয়ান যুগে। এসেই লেখক
রাইনিওগ্ন্যাথা←ইকথাইওস্টেগা← জায়েকিলোপ্টেরাস← ডাঙ্কলিওস্টিয়াসের সুন্দর একটা খাদ্যশৃঙ্খল দেখালো। এ যুগেই প্রথম বড় গাছ আর চোয়ালযুক্ত মাছের দেখা মিলেছে।

এদেরকে ফেলে রেখে চললাম কার্বোনিফেরাসের যুগে চললাম।বর্তমানে যে কয়লা ব্যবহার করা হয় সেগুলো এই যুগের সম্পত্তি। চারপাশে দুই-তিন ফুট লম্বা ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে। লেখক বললো সেগুলো গ্রিফিনফ্লাই। একটুদূরে ১৬৬টা দাঁত ওয়ালা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো ওটা ওফিয়াকোডন। এর পরে লেখক এই যুগের সিড রাজকুমারদের কাহিনী বলতে শুরু করেছে।

কাহিনী শুনতে শুনতে চলে এলাম প্যালিওজোয়িক ইওনের শেষ যুগ পার্মিয়ানে।লেখক এখন ডাইমেট্রডন, গরগনপ্সিড ইত্যাদির গল্প বলছে। গল্প শুনতে শুনতে চলে এলাম পার্মিয়ানের শেষে দিকে, এখন থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে। চোখের সামনে পারমিয়ান-ট্রায়াসিক এক্সটিঙ্কশন দেখছি। পৃথিবী ঘন কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। সূর্যের আলোর অভাবে জল স্থলের সিংহভাগ প্রাণী মারা যাচ্ছে। চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ।লাশের স্তুপের উপর দিয়ে চলে যাওয়া একটা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো এটাই আর্কোসর। আগামী ১৫ কোটি বছর এর বংশধররা রাজত্ব করবে, টাইম মেশিন স্টার্ট করো,চলো মেসোজোয়িকে।

এ যুগের শুরু ট্রায়াসিকে গিয়ে প্রথমেই দেখা হলো ইকথাওসর শনিসরাসের সাথে। এটা কি তা জানতে হলে ব‌ইটা পড়ে ফেলুন।আশেপাশে অনেক পাইন গাছ। সেগুলোর ডালে প্ল্যাটিওসরাসরা বসে আছে। দূরের জলাভূমিতে একটা ইউর ্যাপ্টার প্যারাসুচার ধরে খাচ্ছে। তার লাঞ্চে ডিস্টার্ব না করে লেখক জুরাসিকে নিয়ে চলে এলো।

চলে এলাম ডাইনোসরদের পৃথিবীতে। বর্তমান থেকে প্রায় বিশ কোটি বছর আগের পৃথিবীতে আছি।লেখকের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে এই জুরাসিক অ্যাডভেঞ্চার বেশ দীর্ঘ হতে চলেছে। দূরের ফার্নের জঙ্গলগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৯০ ফুট লম্বা জিরাফোটাইটান দম্পতি।লেখক এই যুগের প্রাণীদের বর্ণনা দিচ্ছে, নানা জাতের উদ্ভট নামের টিকটিকির কথা বলছে। মাংসাশী তৃণভোজী বিভিন্ন ধরণের ডাইনোসরদের সাথে আলাপ করালো। সেই সাথে ম্যামালদের দেখিয়ে দেখিয়ে বর্ণনা দিচ্ছে।ডাইনোসরদের দেখতে দেখতে তাদের বিলুপ্তির সময়কালের কাছাকাছি চলে এসেছি।

এখন ক্রেটাসিয়াস যুগের ভারতীয় উপমহাদেশে আছি।এখনি টাইম মেশিনের উপর দিয়ে ১৩০ ফুট লম্বা পাতাগোটাইটান চলে গেলো। লেখক আমাকে শুরুতে যে পুকুরে নামিয়ে ছিলো তার সামনে টাইম মেশিন ল্যান্ড করেছে।এই প্রাগৈতিহাসিক পুকুরে এখন ৪০ ফুট লম্বা কুমির ডেইনোসুচাস একটা টি-রেক্সের মাথা চিবাচ্ছে। কুমিরের ব্রেকফাস্ট দেখতে দেখতে লেখক এ যুগের প্রাণীদের বাইট ফোর্স, গতি নিয়ে বেশ সহজ একটা লেকচার দিলো।টাইম মেশিনের উপরে আর্কিওপ্টেরিক্স বসেছে। এখনো আমাদের খেয়াল করে নি। লেখক আর আমি টাইম মেশিনে ঢুকে পরে আরেকটু ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেলাম। যাওয়ার আগে আর্কিওপ্টেরিক্সের একটা পালক ছিঁড়ে এনেছি।

দুই কোটি বছর পরের সময়ে চলে এসেছি। টাইম মেশিনের সাথে একটা সাইনোসরেপ্টেরিক্সের ধাক্কা লেগেছে, ব্যথাও পেয়েছে। উপর দিয়ে ভেলোসির ্যাপ্টরের তাড়া খেয়ে কনফুসিয়র্নিস পালাচ্ছে। আমি, লেখক আর আমাদের থেকে কয়েক মিটার দূরে বসে থাকা থেরিজাইনোসরাস সেটা দেখছিলাম।লেখক এদের বিবর্তন নিয়ে আবার বেশ লম্বা লেকচার দিয়ে সিটে বসেছে।টাইম মেশিনের পেছন দিকে অ্যাঙ্কাইলোসরাস আর ট্রাইসেরাটন্সের ঝগড়া লেগেছে।আঘাত পেয়ে ট্রাইসেরাটন্স আমাদের টাইম মেশিনের উপর আছড়ে পরতে পারে সেইজন্য লেখক আরেকটু ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করলেন। যেতে যেতে ম্যামলদের নিয়ে কিছু তথ্য দিলেন। সেই সাথে সাগরে দানবীয় কচ্ছপ আর্কিলন, মেজোসর, প্লেসিওসর ইত্যাদি প্রাণীদের‌ও দেখালেন।

নিয়ে চলে আসলো ক্রেটাসিয়াসের শেষের দিকে। পৃথিবীতে পঞ্চমবারের মতো প্রাণীজগতে ধ্বংস হচ্ছে। কয়েক কোটি বছর ধরে দাপিয়ে ব��ড়ানো ডাইনোসর আর নেই। প্রাণীজগতের চার ভাগের একভাগ শুধু জীবিত আছে। এবার সময় এসেছে ম্যামালদের রাজত্ব করার। প্রকৃতি তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে।

শুরু হচ্ছে সিনোজোয়িক মহাযুগ।যার শুরু হচ্ছে প্যালিওজিন‌ দিয়ে। গাছের গাঁ বেয়ে দুই ইঞ্চি লম্বা টাইটানোমাইরা সারি বেঁধে উপরে উঠে যাচ্ছে। সেই সারি ভেঙে দিয়ে টাইটানোবোয়া গাছকে পেঁচিয়ে ধরে ঝুলে আছে।একটু পরে উড়ে এসে গ্যাস্টর্নিস গাছে বসতেই টাইটানোবোয়া কপ করে কামড়ে ধরলো।লেখক এখন ট্রি এঁকে তিমির বিবর্তন বুঝাচ্ছে। আরো ভবিষ্যতের দিকে যাবার আগে লেখক একটা দুই ফুট লম্বা একটা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো এই প্রাণীটার কোনো ভাই আমার তোমার আদি পূর্বপুরুষ। এটার নাম ডার‌উইনিয়াস।

নিওজিন যুগে আছি,এবার বনমানুষদের জন্মানোর সময় হয়েছে।লেখক এই সময়ের সাগর দাপিয়ে বেড়ানো মেগালোডনের একটা গল্প শুনালেন।উল্কাপাতে গর্ত গিয়ে প্রাণ রক্ষাকারী পার্গেটোরিয়াসরা মহাসুখে দিনযাপন করছেন এখন।এদের কোনো ভাই/বোন হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষ।লেখক প্রাইমেটদের কমন বৈশিষ্ট্য নিয়ে খুব সুন্দর লেকচার দিলো।প্রাইমেট সিমিয়ানদের শহরে এসে পরেছি এখন।

অ্যাডভেঞ্চারে এই প্রথম আমাদের কাছাকাছি লেভেলের প্রাণী দেখছি। টাইম মেশিন থেকে বের হয়ে চারপাশ দেখছি। মাথার উপর দিয়ে সাঁই করে কি যেনো একটা চলে গিয়ে গাছে থাকা প্ল্যাটারহিনকে ধরে নিয়ে গেলো। লেখক বললো এটা এ যুগের সবচেয়ে বড় পাখি থান্ডারবার্ড আর্জেন্টাভিস। সবচেয়ে বড় গন্ডার প্যারাসেরাথেরিয়াম‌ও আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। জায়গা সুবিধার না আরেকটু ভবিষ্যতে যেতে হবে।যেতে যেতে আদিম এইপ, আর্ডিপিথেকাস আর অস্ট্রেলোপিথেকাসের‌ সাথেও দেখা হয়েছে।

কোয়ার্টার্নারি অর্থ্যাৎ আমাদের যুগে এসে পরেছি। শুষ্ক ঘাসে ফাঁকে ফাঁকে উলি ম্যামথের তাড়া খাচ্ছে স্মিলোডন, টাইম মেশিনের একটু দূরেই মেগালোসিরাস হেঁটে বেড়াচ্ছে। সেই প্রাগৈতিহাসিক পুকুরে পানি খেতে এসেছে আর্কটোডাস।টাইম মেশিনে করে আরো ভবিষ্যতে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হোমো হ্যাবিলিস,হোমো জর্জিকাস,হোমো ইরেক্টাসদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেছি। হোমো নিয়ানডার্থালদের আর হোমো সেপিয়েন্সের সংসার দেখে খুব ভালো লাগছে।এক‌ই সাথে তাদের যুদ্ধ দেখেও খারাপ লাগছে। যুদ্ধে হেরে যাওয়া নিয়ানডার্থালরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।অন্য প্রজাতিদের বিপন্নতার মুখে ফেলে দিয়ে হোমো সেপিয়েন্সদের মুখে যুদ্ধ জয়ের তৃপ্তিমাখা হাসি।

৪৬০ কোটি বছরের অ্যাডভেঞ্চার এখানেই শেষ। সরি সায়েন্সভেঞ্চার।

উদ্ভট সব নামের জন্য জীববিজ্ঞানকে খুব‌ই বিদঘুটে এবং বোরিং লাগতো। তবে এই ব‌ইয়ের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। কাল্পনিকতাকে পুঁজি করে লেখক প্রমাণিত ও বাস্তব সত্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে গেছে কোটি কোটি বছর অতীতের।লেখকের লেখন শৈলী ও সবলীল ভাবে বুঝানোর দক্ষতা ঈর্ষনীয়। আরেকটা ভালোদিক হলো লেখক শেষে তথ্যসূত্র সংযুক্ত করে দিয়েছেন এবং ব‌ই/মুভি থেকে অনুপ্রাণিত হ‌ওয়া টপিকের ক্রেডিট দিতেও কার্পণ্য করেননি।

ব‌ইয়ের বাইন্ডিং, কভার ও পেইজ কোয়ালিটি খুব‌ই ভালো ছিলো।

ব‌ইয়ের বেশ কিছু ইভ্যুলিউশন ট্রি বুঝতে অনেকটাই কষ্ট হয়েছে।ট্রিগুলোকে আরেকটু সহজভাবে উপস্থাপন করা দরকার ছিলো বলে মনে হয়েছে। বেশ কিছু বানান ভুল ছিলো। পরবর্তী সংস্করণ অথবা সায়েন্সভেঞ্চার 2 তে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখার অনুরোধ করবো।

আমি বিজ্ঞান পাঠক। পড়তে ভালোবাসি।বুক রিভিউ দেয়া পড়ার তুলনায় অনেকটাই কঠিন লাগে আমার কাছে। ব‌ইটা পড়তে গিয়ে চোখের সামনে যা ভেসে উঠেছে সেগুলোই রিভিউ হিসেবে লিখেছি।

হ্যাপি রিডিং

হ্যাপি জার্নি
2 reviews
May 12, 2021

২০২১ সালের একটি সাধারণ রাত।

চেয়ারে হেলান দিয়ে পা দোলাচ্ছেন আপনি,আর বই পড়ছেন,বইয়ের নাম ব্যাঙাচি। বিসিবি নামে একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে,তারা বের করে এই ম্যাগাজিন।

আপনি চেয়ারে বসে আরাম করে বসে ম্যাগাজিন ব্যাঙাচি পড়ছেন,অথচ আপনি জানেন না এই মূহুর্তে আপনার বাড়ির পাশের পুকুরে আসল ব্যাঙাচির কি হাল হচ্ছে।সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া হওয়া হতভাগ্য ব্যাঙাচি,এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তাকে খপ করে ধরে খেয়ে নিচ্ছে ডাইভিং বিটেল,সে খবর রাখেন না আপনি।

যে চেয়ারটাতে বসে আছেন সেটা মাটিতে নেই।চেয়ারের নিচে আছে দামি টাইলস,তার নিচে সিমেন্ট কংক্রিটের ঢালাই করা মেঝে।আরো নিচে আছে লোহা আর কংক্রিট দিয়ে তৈরি শক্ত ভিত্তি।এর নিচে আছে মাটি।
কি আছে সেই মাটির নিচে যার উপর তৈরি হয়েছে আপনার বাড়ি,যার উপর সারাদিন হেঁটে বেড়ান আপনি?কি হবে মাটির গভীরে গেলে?শক্ত মাটি,নরম মাটি,কাদামাটি এভাবে যদি নিচে যেতেই থাকেন,কি পাবেন?নারকীয় জগৎ,যেখানে প্রচন্ড তাপে লোহাও গলে যায়।ধারণা করতে পারছেন সেই বিভীষকার ব্যাপারে?

আপনি একজন হোমো স্যাপিয়েন্স, এই গ্রহের সবচেয়ে উচুস্তরের প্রাণী।অন্য প্রাণীদের মত খাওয়াদাওয়া আর ঘুমে সীমাবদ্ধ নেই আপনার জীবন।আপনাকে অনেক কাজ করতে হয়।তাই সারাদিন এত কিছু নিয়ে ভাবার সময় হয়তো নেই আপনার।

আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে জীবন এমন ছিল না। আপনার পূর্বপুরুষদের জীবনযাপন ছিল অন্যরকম।কোনোরকমে থেকে দিন কাটাত তারা।জীবন এত উন্নত ছিল না।আরও পেছনে যান।হাজার বছর,লক্ষ বছর পেছনে, যখন আপনার আরো আগের পূর্বপুরুষরা গুহায় বাস করত, বনে ঘুরে বেড়াত,শিকার করে খেত। তাদের জীবন এত সহজ ছিল না আপনার-আমার মত।প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হতো তাদের।

আরো পেছনে যান,অনেক পেছনে লক্ষ কোটি বছর পেছনে।যখন হোমো স্যাপিয়েন্স নামক কোনো প্রাণীই ছিল না এই পৃথিবীতে,কারা ছিল তখন?দেখতে কেমন ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগের সেই দানবরা?পৃথিবীতে কি করে বেড়াত তারা?
কিভাবে এলাম আমরা?কিভাবেই বা সৃষ্টি হলো বিপুল জীববৈচিত্র‍্য?

এসব প্রশ্নের উত্তর চান?
হাতে নিন সায়েন্সভেঞ্চার-৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস।
একটা গল্পের বই,বিজ্ঞানের গল্পের।

স্বাগতম আপনাকে বিজ্ঞানের অ্যাডভেঞ্চারে,অজানা জগতের চিলেকোঠায়।

প্রথম অধ্যায়-পুকুরঃ

আপনি অ্যান্টম্যান হয়ে গেছেন।লেখক আপনাকে স্যুট,অক্সিজেন সিলিন্ডার আ ফ্লিপার দিয়ে নামিয়ে দিয়েছেন পুকুরে।।
আপনার আশেপাশে সবকিছু এখন বিশাল,আর আপনি সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।আপনি দেখবেন কিম্ভূতকিমাকার সব জীব কিলবিল করছে আপনার চারপাশে।লেখক আপনাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবেন পুকুরের জীবদের,ব্যাকটেরিয়া, ইউগ্লিনা,প্যারানিমা ইত্যাদি জীবের কান্ড-কারখানা দেখে হতবাক আপনি যখন সামনে এগিয়ে যাবেন,তখনই দানবের মুখে পড়তে হবে আপনাকে।সেই বিশালাকার দানবের সামনে এক মিলিমিটার সাইজের আপনার কি দশা হবে?বেঁচে ফিরতে পারবেন তো?
পড়া চালিয়ে যেতে হবে।

দ্বিতীয় অধ্যায় -জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্যা আর্থঃ

পুকুরের অ্যান্ডভেঞ্চার শেষ।এবার আপনার গন্তব্য মাটির গভীরে।লেখক আপনার হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন ড্রিল মেশিন।যেটা নিয়ে খুঁড়তে খুঁড়তে আপনি একেবারে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত চলে যাবেন।খোঁড়া শুরু হলো।মাটির গভীরে দেখা পাবেন নানান অণুজীবের। ইনফার্নাস ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে যখন জানবেন, মনে হবে,ইশ!কেন ইনফার্নাস ব্যাকটেরিয়া হলাম না!কেন?
পড়া চালিয়ে যান।

এ অধ্যায়ে একে একে জানবেন পৃথিবীর ক্রাস্ট,ম্যান্টল,কোরের গঠন সম্পর্কে।কি হয় মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে,কিভাবে তৈরি হয় পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড যা প্রতিনিয়ত আমাদের রক্ষা করে চলেছে সৌরঝড়ের হাত ত্থেকে।

মাথার উপর ৪৮০০০টা হাতির সমান চাপ সহ্য করে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে যখন ফিরে আসবেন আপনি,আপনার জন্য অপেক্ষা করছে বইয়ের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়।দৈত্যদানোর যুগে ঘুরে আসার জন্য প্রস্তুত হোন।

তৃতীয় অধ্যায়-প্রাচীন পৃথিবীঃ৪৬০ লোটি বছরের ইতিহাস -

মানুষ কতদিন বাঁচে?৩০,৪০,৮০,১০০?
অফিশিয়াল ডকুমেন্টস অনুসারে মানুষের সর্বোচ্চ বাঁচার রেকর্ড ১২২ বছর। আর আমাদের পৃথিবীটার বয়স কত জানেন? ৪৬০ কোটি বছর।এই সময় যে কত বিশাল,তা আমাদের মত ক্ষণস্থায়ী জীবের ধারণারও বাইরে।এই সুদীর্ঘ সময়ে কি কি করে ঘটেছে এই পৃথিবীতে,সেটা জানার প্রবল আগ্রহ নিশ্চয়ই রয়েছে আপনার মনে।আপনার সেই ইচ্ছা পূরণ হতে চলেছে।লেখক আপনাকে দেখিয়ে আনবেন ৪৬০ কোটি বছরের সেই বিশাল ইতিহাস,উত্থান-পতনের গল্প।প্রাণের সূচনা,বিবর্তন,দানবের রাজত্ব,সবশেষে মানুষের উৎপত্তি।

এই দীর্ঘ ইতিহাস বোঝার জন্য প্রথমে কিছু বেসিক জিনিস আপনাকে আপনাকে জানতে হবে।লেখক সেটা বইয়ে খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।প্রাণ কি,বিবর্তন কিভাবে কাজ করে,ফসিল ইত্যাদি সম্পর্কে সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে প্রাচীন পৃথিবীর শুরুতে।

বেসিক বোঝা শেষে এবার আপনার সুযোগ হবে ৪৬০ কোটি বছরের বিশাল উপাখ্যান দেখার।টাইম মেশিন স্টার্ট নিয়ে নিয়েছে।প্রাচীন পৃথিবীর দৈত্যদানবের রাজত্ব দেখিয়ে আনা হবে আপনাকে।
এ যাত্রার নায়ক হলো বিবর্তন,পৃথিবীতে এত বিশাল জীববৈচিত্র‍্য সৃষ্টির পেছনের কারিগর।

হেডিয়ান থেকে কোয়ার্টানারি পর্যন্ত অনেকগুলো যুগ।হেডিয়ানে জানা যায় পৃথিবী ও চাঁদের উৎপত্তি,পানির আগমন ও RNA World Hypotheses সম্পর্কে।প্রাণের সূচনা,সায়ানোব্যাকটেরিয়া আত্মদান,বহুকোষী জীবের আবির্ভাব সম্পর্কে জানা যাবে হেডিয়ান,আর্কিয়ন ও প্রোটোজোইক ইওন পিরিয়ডে।

ক্রায়োজেনিয়ানের বরফঢাকা পৃথিবী আপনাকে পরিচয় করাবে আমাদের সবার আদি পূর্বপুরুষ,পৃথিবীর সবচেয়ে সফলতম প্রাণীর সাথে।এডিকারানের এলিয়েনরা হাতছানি দিয়ে ডাকবে আপনাকে,অদ্ভূত সেই জগতে।কেন তাদের এলিয়েনের সাথে তুলনা করা হয়েছে?জানতে হলে বই পড়তে হবে।

ভ্রমণ করবেন একে একে প্যানিওজোয়িক,মেসোজোয়িক ও সিনোজোয়িক মহাযুগ।নিজ চোখে দেখতে পাবেন নানা অদ্ভূত জীবের রাজত্ব,তাদের উত্থান ও হারিয়ে যাওয়ার গল্প।সামান্য দুই ইঞ্চি লম্বা স্করপিয়ন দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠা আপনি যদি সাইলুরিয়ানের দানব ইউরেপ্টিডের মুখোমুখি হন,কেমন অবস্থা হবে?লেখক আপনাকে দেখা করিয়ে দেবেন তার সাথে।সামান্য দেড় ইঞ্চি লম্বা একটা তেলোপোকা দেখে যদি গা ঘিন ঘিন করে উঠে আপনার, কার্বোনিফেরাসে তবে বিভীষিকা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।প্রাচীন বিশালাকার উদ্ভিদের আড়ালে কি লুকাতে পারবেন এদের থেকে?
উদ্ভিদের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে এই অংশে।

ডাইনোসর আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগে?আপনার জন্য মেসোজোয়িক মহাযুগে অপেক্ষা করছে তারা।যেখানে একটু অসতর্ক হলেই টি-রেক্সের বোন ক্রাশার আপনার হাড়গুলো গুড়িয়ে পাউডার করে দেবে।মুখোমুখি হবেন নানা বৈচিত্র‍্যময় সরীসৃপ,ভয়ানক টিকটিকিদের।ক্রেটাসিয়াসে এসে তাদের জন্য নিশ্চয়ই মন খারাপ হতে পারে আপনার। পৃথিবীর বুকে দীর্ঘকাল রাজত্ব করা দানবরা হঠাৎ হারিয়ে গেল কি করে?বইয়ে উত্তর পাওয়া যাবে।

ডাইনোসরদের জন্য মন খারাপের কারণ নেই,এর পরেই শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষের রাজত্ব,আমাদের রাজত্ব।সিনোজোয়িক মহাযুগ।স্তন্যপায়ী ও তাদের পূর্বপুরুষের যুগ।এই উপাখ্যান শেষ হবে কোয়াটার্নারিতে এসে।
আপনি,আমি,আমাদের সবার যে পরিচয়-মানুষ,সেই মানুষের উৎপত্তি ও তাদের রাজত্ব শুরুর দৃশ্যপট অঙ্কিত হয়েছে এই অংশে।

এই বিশাল মহাযাত্রার সাক্ষী হয়ে আপনি কি হোমো স্যাপিয়েন্স হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করবেন?এই বই আপনাকে কালের পরিক্রমার প্রতিটি ধাপের সাথে পরিচয় করাবে,আপনার অস্তিত্বের অনুভূতি জাগ্রত করাবে।বইয়ের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে রোমাঞ্চ,অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার।লেখকের অত্যন্ত সাবলীল বর্ণনা ও লিখনশৈলী স্বয়ং পাঠককেই এ মহাযাত্রার নায়ক ও সাক্ষী করে তুলেছে। চমৎকার বাস্তবিক বর্ণনায় পাঠকের চোখে সমস্ত দৃশ্য বাস্তবের মতো ফুটে উঠবে।এই অনন্ত মহাযাত্রার মহাকাব্যে আপনি মগ্ন হয়ে যেতে বাধ্য।

বইটিতে কিছু বানান ভুল ছাড়া সমালোচনার মত আর কিছুই খুঁজে পাইনি।অবশ্য এটা প্রুফ রিডিং এর ফল,লেখকের তাতে হাত নেই।
সর্বোপরি,মন জয় করে নেয়ার মত একটি বই।বায়োলজি হ্যাটারদেরও বায়োলজি সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তিত করতে বাধ্য করবে।

মাস্ট রিড।
হ্যাপি রিডিং।
Profile Image for Iqramul Hoque.
2 reviews1 follower
April 19, 2021
বইয়ের নাম: সায়েন্সভেঞ্চার (৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস)।
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী।
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা।
প্রান্ত প্রকাশন।
হার্ড কভার বাইন্ডিং।

-------
---
মানুষ কখনও এলিয়েন দেখেনি কিন্তু কল্পনা করতে পারে। প্রাচীন মানুষের মস্তিষ্ক বহু অদ্ভুত এলিয়েনের জন্ম দিয়েছে। ডানাযুক্ত ঘোড়া, শেয়ালের মাথাযুক্ত মানুষ কিঙবা সিংহের শরীরে মানুষের মস্তক! প্রাচীনরা জানতো না সত্যিই পৃথিবীর জঠরে আপাত অদৃশ্য, অদ্ভুত দর্শন, ভিন্ন মাত্রার এলিয়েনরা বাস করে! আজকের আমরা এমন ভিন্ন মাত্রিক এলিয়েনদের জানি।

সায়েন্সভেঞ্চার বইটির প্রথম অধ্যায়ে
ডায়াটম, ইউগ্লিনা, হাইড্রা ভিরিডিস,,, নামে এমন কিছু এলিয়েনের সাথে লেখক আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

ডায়াটম। জায়ান্ট অক্সিজেন ডোনার। পীথাগোরাস সম্ভবত এদের কাছ থেকেই জ্যামিতির দীক্ষা পেয়েছিলেন!

অমরত্ব বড় অদ্ভুত ধারণা! একটা ফুল কিঙবা মশার কাছে মানুষ অমর, আবার একটা মানুষের কাছে মহাবিশ্বটা অমর! সবই সময়ের কারসাজি! হাইড্রা ভিরিডিসের কাছে আছে সময়কে ফাঁকি দেয়ার অদ্ভুত এক কৌশল! আমরা জানিনা কী সেই কৌশল! তাই আমাদের কাছে সে অমর!

কিছু এলিয়েন বাস করে মাটির আড়াই কিলোমিটার গভীরে ষাট ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এদের ক্ষুৎপিপাসা নেই, শ্বাসপ্রশ্বাসের দরকার হয়না কিঙবা এদের জগতে আলো নামক কোন ধারণা নেই! অন্ধকারই এখানকার দিনরাত্রি!

লেখক নাঈম হোসেন ফারুকী পৃথিবীর কোরে যাবার ভ্রমণটাতে আমাদেরকে সাথে নিয়েছিলেন। বহু কসরত করে, কষ্ট সহ্য করে, ঘেমে-নেয়ে, মাটির দেড়শো কিলোমিটার গভীরে গেলেন ঠিকই, কিন্তু ম্যান্টেলে এসে তিনি তাঁর রোমান্টিকতাকে লুকিয়ে রাখতে পারলেন না।
ওখান থেকে আলগোছে তুলে নিলেন এক টুকরো হীরে। সাথে সাথে নামও দিয়ে ফেললেন, প্রিয়ার চোখের একবিন্দু জল।
মাটির ৪৫০-৬০০ কিলোমিটার গভীরে এসে আবার তিনি থামলেন। এখান থেকে খুব যত্নসহকারে তুলে নিলেন নীল রত্ন রিংউডাইট! যার অনুর ভাঁজে লুকিয়ে থাকে জল।

কোরের এই যাত্রায় আমরা জেনেছি, পৃথিবীর হৃদয় কতোটা কঠিন! কতোটা ভরশুন্য!

সায়েন্সভেঞ্চার, ৪৬০ কোটি বছর। এটা একটা প্রাণ অনুসন্ধানের যাত্রা। কিন্তু প্রাণ বলতে যখন বইটিতে বলা হয়, প্রাণ হচ্ছে একসেট রাসায়নিক বিক্রিয়ার মিলিত সিস্টেম কিঙবা জীব মানে একথলি কেমিক্যাল, তখন নিজেকে উন্নত ধরণের রোবট ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যায়না! আমরা এমন একধরণের জৈবরাসায়নিক রোবট, যাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নেই, অনুভূতি নেই, চেতনা নেই। বিভিন্ন শারিরীর সেন্সরের ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া আমাদেরকে এসবের ধারণা দেয় মাত্র!

আসলে আমরা কেবল সাড়া দিই!

৪৬০ কোটি বছরের এই যাত্রাটা আসলে বিবর্তনের গল্প। আর এই পুরো গল্পটা চারটা অক্ষর দিয়ে (A, T, C, G) লিখা। কিন্তু এই লিখনপদ্ধতি তো হায়ারোগ্লিফ কিঙবা কিউনিফর্মের মতো আমাদের অতোটা জানা নেই। লেখক এক্ষেত্রে লিপির ব্যাকরণটা আন্তরিকভাবেই বুঝিয়েছেন।

এরপর লেখক বইয়ের পাতায় পাতায় এঁকেছেন বিভিন্ন ইওন, যুগ, মহাযুগের ছবি। ছবির সাথে সেই অদেখা সময়গুলোর সমুদ্রের ঢেউ, বিরান প্রান্তর, পোকার ডাক, সবুজের হাতছানিরা শব্দের মুর্ছনায় হয়ে উঠেছে অর্খেস্ট্রা।

নতুন কোন কিছু সৃষ্টির জন্য ধ্বংস অনিবার্য। পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তিরও বহু আগে নারকীয় ধ্বংসের হাত ধরে জন্ম হয়েছিলো সৌন্দর্যের। হেডিয়ান ইওনের গল্প এটা। থিয়ার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, উত্তপ্ত, মরা পৃথিবীর বলার মতো কিছুই ছিলোনা। ছিলো শুধু রাতের আকাশে দিগন্তজুড়ে ঝুলে থাকা দশগুন বড়ো চাঁদটা! আজও যাকে দেখে দেখে আমরা স্বপ্নের জাল বুনি।

স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় আর্কিয়ান ইওনে। হ্যালোব্যাক্টেরিয়া আর সায়ানোব্যাক্টেরিয়ারা পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখতো। একদিন তারা বন্ধী করে ফেললো অপরাজেয় সূর্যের আলোকে! কিন্তু যুগের নির্মম পরিহাসে এসব দুরন্ত সাহসী ব্যাক্টেরিয়ারা চলে যায় স্বেচ্ছানির্বাসনে, কোষের চার দেয়ালের ভেতর! তারা হয়ে যায় কোষেদের প্লাস্টিড কিঙবা মাইটোকন্ড্রিয়া!

ব্যাক্টেরিয়াদের স্বেচ্ছানির্বাসন বৃথা যায়নি। কোটি বছর পর স্পঞ্জরা তাই প্রমান করে!

আমাদের টাইম মেশিন পার হচ্ছে মহাযুগের পর মহাযুগ! ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে এসে দেখা হয়ে যায় পিকাইয়ার সাথে! ইনি বর্তমান পৃথিবীর সকল মেরুদন্ডী প্রাণী, মাছ, পাখি, সরীসৃপ, উভচর আর স্তন্যপায়ীদের পূর্বপুরুষ!

বহুকাল থাকা হলো জলে! এরপর জলের মায়া ছেড়ে ডাঙার কঠিন হৃদয়ে জন্ম নেয় পৃথিবীর প্রথম ভালোবাসারা। যারা শুন্যতার ক্যানভাসে নিজেদের করেছে রঙের উপকরণ। অর্ডোভিসিয়ানের সময়টা তাই মৃত্তিকার প্রাঙ্গনে নিঃশ্বাস নেবার। এটা ভবিষ্যত মানবের নিঃশ্বাস! শৈবাল আর মসরা সেই উষ্ণ নিঃশ্বাস ঠিকই টের পেয়েছিলো। ডেভোনিয়ানের শেষদিকে এসে আর্কিওপ্টেরিসরা যখন চারপাশ সবুজে ঢেকে দিয়েছিলো, সেদিন থেকেই বাতাসে একটা অদ্ভুত আগমনী বার্তা বাজতে থাকে!

আজকের সভ্যতায হালাগু-চেঙ্গিস-হিটলার কিঙবা পারমানবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞের ট্রেস আছে। মানুষ এসব দুঃস্বপ্ন দেখা বাদ দিয়েছে। ২৫ কোটি বছর আগে পারমিয়ন যুগে প্রকৃতি এমন একটা ভয়াবহ মার্ডার মিস্ট্রি চালিয়েছিলো। আগেও বলেছি, ধ্বংসের হাত ধরেই নতুনের যাত্রা। পৃথিবীও নতুন করে শুরু করেছিলো। যতোক্ষণ শ্বাস ততোক্ষণ আশ।

হঠাৎ বৃষ্টি। ট্রায়াসিকে এমন নাকি একবার হয়েছিলো! দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি! কেমন ছিলো সেই ভেজা দিনগুলো!

একদিন! গাছেরা শিখে ফেলে নতুন একটি ভাষা! সে ভাষার নাম ফুল! "ফুল" ভাষায় তারা কথা বলে, মৌমাছি আর প্রজাপতিদের ডাকে। তারপর কোনোএকদিন, মিলনসুখে গর্ভধারণ করে।

প্যালিওজিন যুগে মাটির বুক ছেঁদে বেরিয়ে আসে অবাধ্য ঘাসেরা। বাতাসে আমরা শুনতে পাই এক অমোঘ কন্ঠস্বর! একদা ওরা ধান, গম হয়ে মানুষদের দাস বানাবে।

পছন্দের লাইন-------

- বিবর্তন খুব নিখুঁত একটা গল্প।

- তুমি যখন আয়নার সামনে দাঁড়াও, আর নিজের দুপাশ সমান দেখতে পাও- তোমার মনে পড়া উচিত তুমি বাইল্যাটারিয়া। পিঠের সোজা ওই মেরুদন্ড মনে করিয়ে দেবে তুমি কর্ডাটা। চার হাতপা মনে করিয়ে দেবে তুমি টেট্রাপড। মায়েরা বাচ্চাদের দুধ খাওয়াতে গেলে মনে পড়বে তুমি ম্যামাল। বহু কোটি বছর আগে আদি সিন্যাপসিড মায়েরা এমনি করেই তাদের ডিমকে দুধ খাওয়াতো। আর তুমি যখন তোমার হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের দিকে তাকাবে, বিরাট বড়ো ব্রেইনটা নিয়ে কোনকিছু চিন্তা করবে, মনে পড়ে যাবে তুমি প্রাইমেট। তুমি চার'শ কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল।

একসময় ভুস করে যাত্রাটা শেষ হয়ে যায়। চোখে লেগে থাকে একটা বিশেষ দৃশ্য। একজন নিয়ান্ডার্থাল পুরুষ আরেকজন ফিমার ভেঙে ফেলা নিয়ান্ডার্থাল নারীকে পাঁজাকোলে করে গুহার দিকে নিয়ে যাচ্ছে! সেই নারীটির চোখে কী যেন একটা ছিলো!

বইটি সম্পর্কে অপছন্দগুলো---
১/প্রচ্ছদ মনঃপুত হয়নি।
বইয়ের ভেতরে যে দুশ্যপট ছিলো, তার ভয়াত্মক রিফ্লেকশন এসেছে প্রচ্ছদে।
২/ মলাটের ফ্ল্যাপে যে চুম্বক অংশটা লিখা হয়েছে, সেটা নিতান্তই গৎবাঁধা ধাঁচের। এই লিখাটাকে মোহনীয় করে দেয়া জরুরী।
৩/ সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গা হলো বইয়ের ভেতরের ছবিগুলো আর ছবির সাথের লিখাগুলো। সবগুলো ছবি রঙিন মোটা কাগজে আর সাথের লিখাগুলো আরো স্পষ্ট এবং বড় হরফে হওয়া দরকার।
৪/ বেশ কিছু ভুল বানান লক্ষ্য করেছি।
৫/ কোয়ার্টার্নারি যুগকে মনে হয়েছে একটা দীর্ঘশ্বাস! খুব অল্পতেই শেষ করে দেয়া হয়েছে!

বইটি সম্পর্কে ভালোলাগা---
১/ লেখকের বলার এবং বোঝানোর ধরণ চমৎকার। বিবর্তনের মতো কাঠখোট্টা বিষয়কে এ্যাডভেঞ্চারের মোড়কে উপস্থাপনাও প্রশংসার দাবীদার।
২/ ছবিগুলো সাদাকালো হলেও, বিষয়বস্তু পড়ার পাশাপাশি ছবি চোখের সামনে থাকায় বক্তব্য সুস্পষ্ট হয়েছে। আর মস্তিষ্ক সবসময় সচল থেকেছে ছবির উদ্দীপনায়।
৩/ বইয়ের শেষ দিকে মানব বিবর্তনের প্রধান ধাপগুলোর ফসিলের ছবি, বিবর্তন ট্রি, আর তথ্যসূত্র খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে তথ্যসূত্রগুলো বইয়ের নির্ভরযোগ্যতাকে একটা বিশেষ মাত্রা দেয়।
৪/ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞানের বেসিক থাকলে আর জানার আগ্রহ থাকলে, যে কোন স্তরের পাঠককে বইটি আনন্দ দিতে বাধ্য।
2 reviews1 follower
Want to read
May 26, 2021
বইঃ সায়েন্সভেঞ্চার
লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী।

বইটা বিজ্ঞানের আবার ইতিহাসের ও। যেখানে একের পর এক বলে যাওয়া হয়েছে পৃথিবীর ৪৬০ কোটি বছরের বিবর্তনীয় ইতিহাসের সব গুলো গল্প। প্রথমেই চলুন বইটার অধ্যায়গুলো নিয়ে অল্প একটু ধারণা নিই।

অধ্যায় একঃ

যেখানে লেখকের লেখায় প্রথমেই আপনি পরিনত হবেন একটা পুঁচকে অ্যান্টম্যানে। স্যাুট, অক্সিজেন সিলিন্ডার আর ফ্লিপার নিয়ে আপনি ঝাপ দিবেন একটা পুকুরে। তার সাথে সাথেই আপনি পৌঁছে যাবেন এক ভিন্ন জগতে। সেখানে লেখক ছবির মতোঙ আপনার চোখের সামনে একে একে প্রদর্শন করতে থাকবেন অদ্ভুত সব পরিবেশ, অদ্ভুত সব জীব জন্তু সকলদের মোটকথা আপনি তখন অনুভব করতে থাকবেন অজানা অচেনা এক সময়কালকে।

অধ্যায় দুইঃ

এখানটায় লেখক মূলত পৃথিবীর ভূমধ্যস্ত স্থর এবং এর প্রকৃতি, পরিবেশ বর্ণনা করে গেছেন। পৃথিবী গভীরের এ ভ্রমনে একের পর এক আলোচিত হয়েছে; ক্রাস্ট, ম্যান্টেল আর, কোর। তবে এক্ষেত্রে আলোচনার ধরনটা বেশ সাবলীল ছিল বলা যায়। পর্যাপ্ত ছবি আর উদাহরণ দিয়ে দিয়ে কঠিন বিষয়গুলো ও সহজ ভাষায় লিখে যাওয়া হয়েছে। ধারণা দেওয়া হয়েছে প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব সম্পর্কেও।

অধ্যায় তিনঃ

এ অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছে 'সেলিন শিরোনামের চমৎকার একটা গল্পের মাধ্যমে।
সত্যি বলতে বইয়ের প্রায় ৯০ভাগ আলোচনা আর বিবর্তনীয় ইতিহাস যা বলা হয়েছে তার প্রায় সবটুকুই এ অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে।
তবে 'প্রাচীন পৃথিবীঃ ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস' এর গল্পের শুরুতেই লেখক ধারণা দিয়েছেন 'প্রাণ', 'বিবর্তন' আর 'ফসিল' সম্পর্কে।

প্রাণ নিয়ে আলোচনার অংশে লেখক লিখেছেনঃ
"প্রাণ কাকে বলে?
নাসার মতে, জীবন হচ্ছে একটা স্বয়ংক্রিয় রাসায়নিক সিস্টেম যেটা ডারউইনীয় বিবর্তন করতে পারে।.........
....প্রাণ হচ্ছে কেবলমাত্র এক সেট রাসায়নিক বিক্রিয়ার মিলিত সিষ্টেম। সকল জীবদেহ কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এরকম কিছু মৌল দিয়ে তৈরি। এগুলো দিয়ে হাজার হাজার জটিল যৌগ হয়। এরা নিজেরা নিজেদের সাথে আর পরিবেশের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে। জীব মানে একথলি কেমিক্যাল।"
এরপর একের পর এক উদাহরণ, যুক্তি আর সহজবোধ্য গল্পের ছলে বলা আলোচনার মাধ্যমে নিজ বক্তব্যের যৌক্তিকতা তোলে ধরেছেন।

বিবর্তন অংশে লেখক আলোচনা করে গেছেন DNA, DNA রেপ্লিকেশন, জীবের মিউটেশন, বিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সিলেকশন আর তার বিভিন্ন প্রকারভেদ সম্পর্কে।
একই সাথে বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও ভাঙ্গা হয়েছে জনপ্রিয় কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়ে।
যে-সব প্রশ্নের জবাব লেখক একে একে দিয়েছেন সেগুলো হলোঃ
"১. প্রজাতির পরিবর্তন কীভাবে হয়?
২. মানুষ আর বানর পাশাপাশি আছে কীভাবে?
৩. বানর থেকে আর মানুষ হয় না কেন?
৪. নতুন প্রজাতি হতে কতদিন লাগে?
৫. চোখ কানের মতো জটিল জিনিসের বিবর্তন আসলে সম্ভব?
৬. বিবর্তন কি প্রমাণিত? ( বিবর্তনের কী কী প্রমাণ?)"

ফসিল অধ্যায়ে মূলত আলোচনা করা হয়েছে ফসিল তৈরী হওয়ার বিভিন্ন প্রক্রিয়া আর ফসিলের বয়স নির্ণয়ের প্রক্রিয়া।
এখানে ফসিল দেখে আসলে কি কি জানা যায়?
সব প্রাণী কি ফসিল হয়? এই দুইটা প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে মোটামুটি বিস্তৃত পরিসরেই।

আমার মতে পুরোটা বইয়ের মাঝে প্রাণ, বিবর্তন আর ফসিল অংশের আলোচনাটুকুতে সবচেয়ে বেশি গোছানো, সাবলীল আর সরাসরি বলে যাওয়ার ব্যাপারটা উপস্থিত ছিল। মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে এই অংশের আলোচনার গুরুত্বটুকু বিবেচনায় নিলে সেটা খুব প্রয়োজনীয়ই ছিলো।

এরপরের "হেডিয়ানঃ নারকীয় পৃথিবী (৪৬০-৩৬০ কোটি)" অংশের আলোচনায় প্রথমেই আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহ সৃষ্টির গল্প, এর প্রক্রিয়া, আর শেষে লেখা হয়েছে প্রথম প্রাণ সৃষ্টির শুরুর গল্পটুকু। তার সাথে সাথে প্রাণ সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও। তাছাড়া এ অংশটুকুতে সায়ানোব্যাকটেরিয়াদের সম্পর্কে ও জানা যাবে বেশ ভালো ভাবেই।

তারপর "প্রোরোজয়িক ইওনঃ বহুকোষীদের জন্ম" পরিচ্ছদে লেখক আলোচনা করেন ইউক্যারিওটদের জন্ম এবং বহুকোষী জীবদের সূচনা সম্পর্কে। এরপর বিভিন্ন অধ্যায়ে পর্যায়ক্রমে উঠে আসতে থাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে পৃথিবীর অবস্থা আর তাতে বাস করা বা উদ্ভুত হওয়া বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর ছত্রাকদের গল্প। পাঠককে নিয়ে সারা পৃথিবীর সমস্ত অতীতের গল্পের জগৎ ঘুরিয়ে, অবশেষে আজকের মানুষদের গল্প বলার মাধ্যমে লেখক তার ইতিহাস ভ্রমন অভিযানের ইতি টানেন।
যাইহোক এবার না হয় বইটি নিয়ে নিজস্ব কিছু ভালো লাগা, মন্দ লাগার ব্যাপারে লিখিঃ

১. বইটির সবচেয়ে ভালো দিক মনে হয় লেখকের সাবলীলতা। গল্পের ছলে একে একে সব গুলো ইতিহাস আর বিজ্ঞান এমন ভাবে বলা হয়েছে, পড়তে গিয়ে আমার অনুভুতিটা ছিল এমন ছিল যে মনে হয়েছে লেখক আমার সম্মুখে বসে আছেন আর ধীরে ধীরে বলে যাচ্ছেন উনার সমস্ত কথা আর আমি উনার মুখ থেকে সরাসরি তা শুনছি, জানছি, কখনও বা কোন অজানা জেনে বিস্মিতও হচ্ছি। তবে সব জায়গায় এমন সহজবোধ্যতা ছিলো না। ভাষা কাঠিন্যতা বা জটিল উপস্থাপনের ফলে মূল জিনিসটা আমার কাছে দুর্বোধ্য ঠেকেছিলো।

২. তারপর যে জিনিসটা আমার ভালো লেগেছে সেটা হলো বক্তব্য বোঝানোর প্রয়োজনে আলোচনার মাঝেখানে প্রয়োজনীয় সব প্রাণী, উদ্ভিদ আর বিবর্তন ট্রি এর ছবি তোলে দেয়া হয়েছে। এতে লেখাটা বুঝতে সহজ হয়েছিল। তবে প্রায় সবগুলো ছবিতেই কোন ক্যাপশন ছিলো না। যদি সবগুলো ছবির নিচে কিছুটা তথ্য যেমন প্রাণী বা উদ্ভিদটার নাম, তার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আরও দুই একটা তথ্য যদি লেখা থাকতো। তাহলে আমার মনে হয় লেখা গুলো আরও সহজবোধ্য হয়ে উঠতো। আর বিজ্ঞানের বইয়ের ক্ষেত্রে সহজ প্রকাশ ভঙ্গি কে আমি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

৩. প্রাণী বা উদ্ভিদ সম্পর্কে বলতে যেয়ে সেখানে কিছু কঠিন কঠিন নাম এসেছে। যেগুলো উচ্চারণ করতে গেলে আমার একটু হলে ও কষ্ট লাগে। তবে ভালো দিক হলো এই যে এগুলোর শব্দ সব ভেঙ্গে ভেঙ্গে এর এর সহজ বাংলাগুলো লিষ্ট আকারে তোলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া আলোচনার মাঝেও কঠিন নামগুলোর সহজ বাংলাটা লিখা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। কখনও কখনও হঠাৎ দুই একটা নাম যখন আসছিলো তখন এদের সম্পর্কে কিচ্ছু মনে করতে পারছিলাম না। তারপর পেছনের দু এক পাতা পড়ে বুঝে নিতে হয়েছিলো। তবে যেহেতু আমি দাগিয়ে দাগিয়ে বইটা পড়েছি সেহেতু বুঝতে যেয়ে আমার এতো বেশি বেগ পেতে হয়নি। না হলে কয়েকটি জায়গায় একটু বেশিই খটরমটর লাগতো।

৪. বইটির আরেকটা ভালো দিক হলো এতে আলোচনা গুলো অনেকটাই গোছানো আর লেখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় ছিলো। আর আলোচনাগুলো গল্প বলার মতো বলে যাওয়াটা আমার কাছে ভালো লেগেছিল।

৫. মন্দ দিক বলতে চাইলে বলবো বেশ কয়েকটি বানান ভুল ছিলো। আর সেটা চোখে পড়ার মতোই। আর কয়েকটা ছবি আর ট্রি এর লেখাগুলো সামান্য ছিলো। আশা রাখি পরবর্তী সংস্করণে লেখক সেটা বিবেচনায় নিয়ে বানানগুলো আরও নির্ভুল করবেন।

এতক্ষণ তো লেখকের লেখা নিয়ে লিখে গেলাম এবার তবে একটু লেখক কে নিয়ে আমার নিজের মতো করে লিখি। তবে তা একটু এই বই থেকে কপি বা সামান্য ঘষামাজা করে লিখছি।

হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে একটা মানুষ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সে মানুষকে বিজ্ঞানে আগ্রহী করতে, প্রমাণিত বিজ্ঞানের গল্প শোনাতে চায় বলে তার কপালে জুটেছে বিজ্ঞানবাদীর খেতাব। নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে যে মানুষটা বিজ্ঞানের বই লিখে যাচ্ছে, জানতে আগ্রহীদের প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত উত্তর দিয়ে যাচ্ছে - অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো অবিরাম সে মানুষটার কপালে জুটেছে অসংখ্য ঘৃণা আর অপবাদ। তবে সংখায় কম হলেও তিনি সিক্ত হচ্ছেন শক্তিশালী কিছু ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতায়। যা সংখ্যায় কম হলেও পরিমাণে বোধহয় অনেক অনেক বেশি।
ঝুপঝুপ বৃষ্টি, অবিরাম ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকাদের কোলাহলে যখন পরিবেশ মোহময় হয়ে ওঠে ক্লান্ত বিধ্বস্ত মানুষটা তারই মাঝে শান্তি খোঁজে বেড়ায়- অন্ধ, অকৃতজ্ঞদের আক্রমণ ভুলে যেয়ে।
1 review
February 7, 2022
বুক রিভিউ
সায়েন্সভেঞ্চার, নাইম হোসেন ফারুকী
প্রান্ত প্রকাশনী

বইয়ের নাম সায়েন্সভেঞ্চার ( ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস)। ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস তুলে ধরা চারটি খানি কথা? লেখকের এলেম আছে বলতএ হবে
বইটি শুরু হয়ে হয়েছে অ্যান্ট ম্যান হয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে। পুকুরে কি কি আণুবীক্ষণিক জীব থাকে তা সম্পর্কে জানতে হলে, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়াই হয়ত সব থেকে ভাল উপায়। কল্পনায় এই কাজটাই সম্ভব করে দেখিয়েছেন লেখক। পুকুরের নীচের জগতটা অত্যন্ত থ্রিলিং, চারিদিকে অগণিত প্রাণী ও উদ্ভিদ মিলে তৈরি হওয়া পুকুরের জীব জগতটাকে ফিল করতে চাইলে সায়েন্সভেঞ্চার পড়ুন।
ধরুন, আপনার একদিন জানতে ইচ্ছা হল পৃথিবীর মাটির নীচের জগতটা কেমন?
পৃথিবীর উপরিপৃষ্ঠের মতোই কি শান্ত- শিষ্ট?
আপনার যদি এ নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে আপনার জন্যই বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়।
এই অধ্যায়ে, লেখক আপনাকে নিয়ে যাবেন একেবারে পৃথিবীর ক্রাস্ট থেকে শুরু করে ম্যান্টল থেকে কোর, সব কিছু নিয়েই আলোচনা আছে এই বইয়ে।
আপনি কি জানেন পৃথিবীর ৫০০ কিলোমিটার গভীরে ১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অস্বাভাবিক চাপে নীল পাথরের গভীরে লুকিয়ে আছে পানির এক বিশাল ভান্ডার। সমুদ্রে যত পানি আছে তার প্রায় তিনগুন পানি লুকিয়ে আছে ম্যান্টলের ট্রাঞ্জিশন জোনে।
এই রকমই মজাদার সব ঘটনা নিয়ে পুরো বইটি।
পৃথিবীর আকাশে এত সুন্দর সুন্দর অরোরা তৈরি হয় পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড আর সূর্য হতে আসা চার্জিত কণ��র সংঘর্ষের কারণে, ব্যাপারটা কেন ঘটে এবং কীভাবে ঘটে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে বইটিতে।
এর পরেই আছে অসাধারণ একটা কল্পগল্প।
এরপরেই শুরু ৪৬০ কোটি বছরের অসাধারণ সেই মহাকাব্য। শুরুতেই কিছু বেসিক জিনিস, প্রাণ কাকে বলে, বিবর্তন(যেটা নিয়ে আমাদের জাতির খুব জ্বালাতন) কি জিনিস, ফসিল কি? আমরা বিবর্তনের প্রমাণগুলি কিভাবে পেলাম সেই গল্প। বাকি বই বোঝার মত বেসিক আলোচনা বেশ ভালোই করেছেন লেখক।
এরপর একে একে পৃথিবীতে বিভিন্ন যুগে ঘটে যাওয়া নানা প্রাগৈতিহাসিক ঘটনা স্থান পেয়েছে বইটিতে।
প্রথমেই হেডিয়ান যুগ। এ যুগে আমাদের পৃথিবীর দুইটা চাঁদ ছিল। এই যুগেই একটা চাঁদ আমাদের পৃথিবীকে এসে আঘাত করেছিল।
পৃথিবীতে প্রথম কিভাবে প্রাণের জন্ম হল তা নিয়ে অনেক প্রচলিত একটা হাইপোথিসিস RNA World Hypothesis এর বর্ণনা আছে বইটিতে।
আমাদের সবারই সর্বশেষ পূর্বপুরুষের নাম হচ্ছে LUCA- Last Common Ancestor। এই এককোষী
প্রাণি থেকেই জৈব বিবর্তনের মাধ্যেমে আমরা সহ সব জীব এসেছে। কি দারণ!!!
এরপর আর্কিয়ান যুগে ছিল আর্কিয়া, সায়ানোব্যাক্টেরিয়া, হ্যালোব্যাকটেরিয়াদের যুগ। এরা তখন পৃথিবীর সমুদ্র দাপিয়ে বেড়াত। এই যুগেই লুকার দুই বংশধর ব্যাকটেরিয়া এবং আর্কিয়া তৈরি হয়ে গেছে। এরা জীব জগতের তিনটা ডোমেইনের মধ্যে দুইটা।
এরপর প্রোটারোজয়িক ইওনে আর্কিয়া এবং ব্যাকটেরিয়া মিলে কিভাবে বহুকোষী জীব তৈরি হল তার অসাধারণ একটা ব্যাখা আছে বইটিতে।
আমরা প্রতিটা প্রাণি স্পঞ্জ থেকে এসেছি, আমাদের ডিএনএ আমাদের এই তথ্য দিয়েছে। স্পঞ্জের জন্ম ক্রায়োজেনিয়ানের শুরুর দিকে, প্রোটজয়িক ইওনের শেষ দিকে। তাই এই পৃথিবীতে বেচে থাকা সমস্ত প্রাণীর জীবন শুরুই হয়েছে এই সময় থেকে।
এরপর এডিয়াকারান যুগে পৃথিবীতে বাসা বেধেছিল অদ্ভুত সব জীব। যাদের উৎস সম্পর্কে আজও কেউ কিছু জানেনা। এই যুগেই প্রথম ছত্রাক ���ন্ম নিয়েছিল।
এই অদ্ভুত প্রাণিদের যুগ শেষে আসল ফ্যানারোজায়িক ইওন বর্তমানে এটাই চলছে, যার শুরু ৫৪.১ কোটি বছর আগে।
প্যালিওজোয়িক মহাযুগে ক্যাম্ব্রিয়ানে পৃথিবী প্রাণে ভরে যায়। সমুদ্রে তখন প্রাণের জোয়ার। সমস্ত পর্বের প্রাণিরা প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করে। এই যুগেই এসেছে কর্ডাটা, ইউআর্থপোডা প্রাণিরা এসেছে।
এরপর অর্ডোভিসিয়ান যুগে পৃথিবীতে প্রথম মস এল, এরাই প্রথম গাছ। এই যুগেই এসেছে প্রথম মাছ। এই চ্যাপ্টারটা পড়তে গিয়ে থ্রিলে আমি রীতিমতো কাপছিলাম, অসাধারণ উপস্থাপনা।
সাইলুরিনের সমুদ্র স্করপিয়নের পেটেই তো লেখক আমায় ঢুকিয়ে দিলেন। ভয়ে গা শিউরে উঠেছিল।
এই যুগের স্করপিয়নরা মানুষের থেকেও বড়। মাথায় আনলেই তো গা শিউরে ওঠে।
ডেভোনিয়ান যুগে কিছু প্রাণি মাটিতে উঠতে শুরু কর, ফার্নের জন্ম হয়, ফুসফুস ও বায়ুথলী যুক্ত ফুসফুস ও বায়ুথলী যুক্ত জীবের।
এরপর কার্বনিফেরাস যুগে বাতাসের ৩৩% অক্সিজেনের লাই পেয়ে পোকা মাকড় হয়ে উঠেছিল দানবের সমান।
এ যুগেই জন্ম হয়েছিল আমাদের বহুল পরিচিত তেলাপোকার মতো প্রাণী।
এরপর বাতাসে অক্সিজেন কমে গিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় কার্বোনিফেরাসের দানব পোকাগুলো। শুরু হয় পারমিয়ান পিরিয়ড, বরফের পৃথিবী।
এসময়ে সকল মহাদেশ একসাথেই ছিল, নাম প্যাঞ্জিয়া। চারপাশে বিশাল সমুদ্র, নাম প্যান্থালাসা।
এ যুগে সিড বংশের দুই বংশধর সিন্যাপসিড এবং সরোপিড বিবর্তিত হয়ে নানা জাতে বিভক্ত হয়ে যায়। সিন্যাপসিড থেকে এসেছে আজকের স্তন্যপায়ীরা। আর ডায়াপসিড থেকে এসেছে কচ্ছপ, টিকটিকি এবং আর্কোসররা।
আর্কোসর থেকে কুমির, পাখি ও ডাইনোসরদের পূর্বপুরুষদের আবির্ভাব।
পার্মিয়নে একবার গণবিলুপ্তির ঘটনা ঘটেছিল। পৃথিবীর ৯৬% প্রাণি এ যুগে হারিয়ে যায়। তবে যারা বেচে গিয়েছিল তারাই আজ অবধি টিকে আছে।
এরপর মেসোজয়িক মহাযুগ। ট্রায়াসিক, জুরাসিক, ক্রেটাসিয়াস এই তিন যুগের সমন্বয়ে মেসোজয়িক মহাযুগ।
ট্রায়াসায়িক যুগে রাজত্ব করেছে সরীসৃপরা। এই যুগে তীব্র বর্ষাসিক্ত জঙ্গলে নতুন এক প্রাণি রাজত্ব করতে শুরু করে, নাম তার ডাইনোসর।
তারপরই এলো বিখ্যাত জুরাসিক। এই যুগে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়িয়েছে বিশাল বিশাল ভয়ংকর সব ডাইনোসর। এই যুগের আকাশে উড়ে বেড়িয়েছে আজকের পাখিদের পূর্বপুরুষ সব ডাইনোসরগুলো।
তবে প্রাচীন প্রাণিদের মধ্যে আসলেই কারা ডাইনোসর ছিল আর কারা ছিল না তা জানতে অবশ্যই বইটির এ চ্যাপ্টারে চোখ বুলাতে হবে।
এরপর এল ক্রেটাসিয়াস যুগ, ডাইনোসরদের রাজত্বের শেষ দিন গুলোর গল্প।
আমরা সবাই জানি পাখি এসেছে থেরাপড থেকে।
কিভাবে এসেছে তা জানতে বইটি পড়তে হবে।
এইযুগের শেষ হল, ধংস হল বিশাল দেহধারী ডাইনোদরগুলো। টিকে গেল পৃথিবীতে কিছু প্রাণী-উদ্ভিদ।৷ এরপরই শুরু হল সিনোজয়িক যুগ, যেটাই বর্তমানে চলমান। এ যুগেরও আবার তিনটা ভাগ।
নিওজিন যুগে ছিল জীবজগতের ইতিহাস্র সবচেয়ে বেশি বাইট ফোর্সযুক্ত প্রাগৈতিহাসিক মেগালোডন শার্ক।
এছাড়া প্রাইমেট থেকে আধুনিক প্রাইমেটের গল্প তো রয়েইছে।
আর নিওজিন যুগের পর থেকে আজ অবধি চলছে কোয়ার্টার্নারি যুগ।
কার্বন নিঃসরণের একটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার কি জানেন?
ব্যাপারটা হচ্ছে কার্বন নিঃসরণের ফলে আমরা মানুষেরা দ্বিতীয় আইস এইজকে প্রায় ৫০ হাজার বছর দূরে ঠেলে দিয়েছি। কি অসাধারণ না! এরপর থেকে মানুষকে প্রকৃতির কাছে অতি নগন্য বলার আগে একবার অন্তত ভেবে নেবেন।
বইতে মানুষের বিবর্তন ও কাজিনদের বিবর্তন নিয়ে বেশ ভালো আলোচনা রয়েছে।
এভাবেই বইতে রয়েছে ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি স্বরূপ লিখনি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Azim Abdullah.
4 reviews2 followers
December 9, 2021
"মাটির নিচে আছে অন্ধকার দুনিয়া।সেখানে বাস করে অমঙ্গলের দেবতা হেডিস।তাঁর দুই অনুচর- কষ্ট আর ভয়" _ হারকিউলিস।


আমাদের এই গোলাটার নামই তো পৃথিবী,তাই না?
আমাদের এই পৃথিবীর বয়স কত?১শ বছর?১ হাজার বছর?১ লক্ষ বছর?
৪৬০ কোটি বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস এর!না,শুধু যুদ্ধ আর রাজ্য দখলের ইতিহাসের কথা বলছি না!
পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির সেই অদ্ভুৎ ইতিহাসের কথা বলছি।

আমরা যখন বায়োলজি পরীক্ষায় সংক্ষেপে মানুষ এর ইতিহাস লিখি,তখন আসলে আমাদের কোটি কোটি বছরের ইতিহাসই লিখে দিয়ে আসি।হয়তোবা অজান্তেই,কিংবা জেনে। আমরা মানুষ,হোমো স্যাপিয়েন্স।একইসাথে হোমিনিনি,আবার হোমিনিডি,এমনকি হোমিনইডি এবং সিমিয়ান। আমরা প্রাইমেট আবার আমরা-ই ম্যামাল।আমরা সিন্যাপসিড,আমরা বাইল্যাটারিয়া,একইসাথে কর্ডাটাও।আমরা অ্যানিমেলিয়া আবার এই আমরাই ইউক্যারিওটা!আমরা ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস।
অনেক গুলিয়ে ফেললাম,সরি।

আজ এই পৃথিবীতে রাজ করছে মানবজাতি।বেশ আরামসে খাচ্ছি,ধ্বংস করছি।কিন্তু আমাদের এই সুযোগ টি কি আদি-তেও ছিল?পৃথিবীর জন্ম থেকেই কি চলছে আমাদের রাজত্ব?

আচ্ছা,প্রাচীনকালেও তো অনেক প্রাণী ছিল,তাদের কয়জনই বা এখন আছে?থাকলে তারা কারা এবং কেন এখনো আছে?আর যারা চলে গেলো আমাদের ছেড়ে তারাই বা কেন চলে গেল?

আজ যদি আমাদের সঙ্গে ডাইনোসর থাকতো তাহলে কেমন হতো?নিশ্চই এই প্রশ্নের উত্তর আপনি আন্দাজ করে ফেলতে পারবেন,কারণ আমাদের বেশিরভাগই জুরাসিক পার্ক/ওয়ার্ল্ড মুভিগুলো দেখে এসেছি।কিন্তু সেখানে দেখানো ডাইনোসরগুলো কি আদৌ তেমন ছিলো?তারা কি এতটাই হিংস্র ছিলো যে আমাদের সঙ্গে থাকতে হলে তাদেরকে বেঁধে রাখতে হবে!

আমরা তো প্রাচীনকালে ছিলাম না(এই প্রাচীনকাল মানে কয়েকশো বছর আগের প্রা��ীনকালের কথা বলছি না,ওটাকে প্রাচীনকাল বলে না।আমি কয়েক কোটি থেকে কয়েকশো কোটি বছরের আগেকার কথা বলছি)।তো,প্রাচীনকালে মানুষ না থাকলেও কিভাবে আমরা আজ বলতে পারছি,অমুক সময়ে তমুক প্রাণী ছিলো,সে এই করতো সেই করত,একে খেত ওকে খেত?!বিজ্ঞানীরা ফসিল থেকে কিভাবে এত তথ্য পান?

সব ডাইনো-রা কি খারাপ?সবাই কি শুধু চোয়াল মেলে হা করে চিৎকার করত আর অন্য দুর্বল প্রাণীদের খেয়ে ফেলতো?

আজ যে তেলাপোকা আছে সে তেলাপোকা কয়েক লক্ষ বছর আগেও ছিলো।কিন্তু এখনকার তেলাপোকা আর তখনকার তেলাপোকারা দেখতে প্রায় একই হলেও এদের মধ্যেই আছে বিশাল ফারাক।

নতুন নতুন বিবর্তন নিয়ে জানলে,সবার মনেই কিছু কমন প্রশ্ন থেকে যায়।মানুষ কি আসলেই বানর থেকে এসেছে?ডাইনোসর(টি-রেক্স) কি তাহলে সত্যিই ছোট হয়ে মুরগী হয়েছে?আসলেই এককোষী প্রাণী থেকে সকল জীবের জন্ম?

এরকম,প্রাচীন পৃথিবী,বিবর্তন এবং প্রাচীন জীবজগৎ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে একটি থ্রিলার বইয়ের মতই লেখা হয়েছে এই বইটি।এরকম কিছু প্রশ্ন,হাইথটের কথাবার্তা,আর এডভেঞ্চার নিয়ে লেখা বইটি পড়লে অনেকসময় গা শিউরে উঠা ফিলিং আসবে,কখনো বা দুর্বলদের গল্প শুনে মায়া লাগবে।আবার কখনো একটা দুটা লাইন শুনে হাসি আসবে।আবার সেগুলো বুঝতেও কাজে দিবে।যেমন:
"প্রাইমেট তোমার নাম কি,দাঁতে পরিচয়!"

বইটিতে প্রথমে আপনাকে পিপড়ার সমান মানব,তথা Ant-man বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে পুকুরে।যখন আকার হয়ে যাবে ব্যাঙাচির চেয়েও ছোট,তখন বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল!
আকার,ছোট সাথে অক্সিজেন,স্যুট আর আপনি আছেন ব্যাকটেরিয়া,ব্যাঙাচি,মাছসহ সব জলীয় প্রাণীর সাথে,যদিও আপনি আকারে প্রায়(!) সবার চেয়ে ছোট।এরপর আপনাকে পরিচয় করানো হবে সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্যের সাথে!

এরপর কিছু জিওলজিক্যাল কথাবার্তা চলবে,তারপর আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হবে একটা ড্রিল।নিজেই কিছু জেনে আসুন না!

এরপর ধরেন একটা টাইম মেশিন পেলেন,মন চাইবে না কোটি কোটি বছর আগের প্রাকৃতিক বৈচিত্র উপভোগ করার?আপনাকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর অতীতে নিয়ে যাওয়া হবে,সরি পৃথিবীর শুরুতে।সেখান থেকেই শুরু আসল মজা।দ্য এডভেঞ্চার বিগিন্স...


এই হলো মূলত আমার নজরে বইটির প্রকৃতি।মূলত জীববিজ্ঞান এর বই বলা যায় একে।(যদিও প্রায় ৯০% ই প্রাচীন পৃথিবী)।তবে কোথাও কোথাও হালকা পদার্থবিজ্ঞান আছে।যেমন:প্লেট টেকটোনিক্স,জিওম্যাগনেটিজম,ওরোজেনেসিস(পর্বতের জন্ম), মিনানকোভিচ সাইক্যাল(ব্যাসিক্যালি আইস এইজ কেন হয়,ঋতু পরিবর্তনের কারণ ইত্যাদি নিয়ে)ইত্যাদি।
বইটির প্রোডাকশন কোয়ালিটি এভারেজ।যদিও কাগজগুলো বেশ শক্তপোক্ত।কিন্তু ফ্লেক্সিবিলিটি কেমন জানি।চেপে ধরে রাখতে হয়,নাহলে পেজ বন্ধ হয়ে যায়।যাইহোক,প্রোডাকশন আমার কাছে এভারেজ লাগার আরেকটা কারণ আমার কয়েকটা পেজে আঠা লাগানো ছিল,যার ফলে,আলাদা করতে গিয়ে কয়েকটা লাইন এর একটু ক্ষতি হয় :’(
লেখকের লেখার স্টাইল রীতিমতো চমৎকার।কারণ বেশি প্যাচালো না।সহজবোধ্য। আর সহজবোধ্য মানেই চমৎকার।
প্রোডাকশন ভালো না লাগলেও,এই বইয়ের কভারটা আমার এবছরে কেনা সব বইয়ের মধ্যে One of the best!

আমার দৃষ্টিতে বইয়ের কিছু ত্রুটি ছিলো,যেমন:কিছু ছবি ছিলো কোনো হেডিং ছাড়া,যেমন একটা গরগনস্পিডের ছবি আছে,ছবির নিচে নাম নেই যে এটা গরগনস্পিড কিনা।হ্যা,বর্ননা বেশ সুন্দরই ছিলো।কিন্তু টানা পড়তে গেলে,ছবির সাথে এডজাস্ট করা কষ্ট হয়ে যায়।বইটাতে বানান ভুলও ছিলো মোটামোটি।তবে,তা এডজাস্ট করার মত।

সবশেষে বলবো,এই বইটি ভালো লেগেছে,কারণ লেখার স্টাইল সুন্দর।বিষয়বস্তু রেয়ার(বাংলায় এই জনরার বই নেই বললেই চলে)।আর,এই বই পড়লেই হয়ত কেও একজন বুঝবে জীববিজ্ঞান মুখস্ত করার বিষয় না।এর মাঝেও রস আছে!

এটা গল্পের বই,
বিজ্ঞানের গল্প।

বইয়ের নাম : সায়েন্সভেঞ্চার (৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস)
লেখক:নাঈম হোসেন ফারুকী।

প্রকাশক:প্রান্ত প্রকাশন
প্রচ্ছদ:মেহরাব সিদ্দিকী সাবিত।
মূল্য:৪৫০৳
পৃষ্ঠা সংখ্যা : প্রায় ৩১০।
পার্সোনাল রেটিং :৮.৯/১০
রিডিং টাইম:অনেক(আমি স্লো রিডার)।

ধন্যবাদ,হ্যাপি রিডিং...
4 reviews
May 25, 2021
কখনও টাইম ট্রাভেল করার ইচ্ছা জেগেছে? একটা পদ্ধতি বলে দিতে পারি। আকাশের দিকে তাকান, আকাশের প্রতিটা মিটমিট করে জ্বলা আলো আপনাকে একপ্রকার টাইম ট্রাভেলের প্রশান্তি দেবে। আপনি আজকে আকাশের একটি তারার যেই অবস্থা দেখছেন সেটা কিন্তু তার আজকের অবস্থা নয়। ধরুণ দিনের বেলায় আপনি সূর্য দেখছেন, আপনি কিন্তু সূর্যের বর্তমান অবস্থা দেখছেন না, আপনি সূর্যের বর্তমান অবস্থা থেকে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড পূর্বের অবস্থা দেখছেন। কারণ আমরা কোনো বস্তু তখনই দেখি যখন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা আলো সেই বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, চোখের ভেতরের রিসেপ্টর গুলো সেগুলো ব্রেইনে পৌছে দেয়৷ সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড। যদি আলো আসতে আটমিনিট বিশ সেকেন্ড সময় লাগে তাহলে বর্তমানে যেই আলোটির দ্বারা আপনি সূর্যটাকে দেখতেছেন সেটাও আটমিনিট বিশ সেকেন্ড পূর্বের, রাইট? তাহলে আপনি আকাশে সূর্যের আটমিনিট বিশ সেকেন্ড পূর্বের অবস্থাকেই সবসময় দেখেন। একটা মজার ব্যাপার হলো সূর্য যদি কখনও অ্যাটম বোম্ব এর মতো বুম করে ফুটে যায় সেই অবস্থাও আমরা জানতে পারবো আটমিনিট পরেই।এরকম ভাবে রাতের আকাশের প্রতিটা তারাই আমাদেরকে সময় পূর্বে নিয়ে যায়। প্রক্সিমা সেন্টুরি থেকে আলো আসতে সময় লাগে চার বছর। তাহলে আমরা প্রক্সিমা সেন্টুরি এর কতবছর আগের অবস্থা বর্তমানে দেখতে পাই? ভেবে বলুন। পেলেন না টাইম ট্রাভেলের সেটিস্ফ্যাকশান?

ধরুন বিজ্ঞানীরা কখনো টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার করে ফেলল। আপনি ট্রাভেল করার একটি সুযোগ পেলেন।আপনি কোন সময় যেতে চাইবেন? আচ্ছা বাদ দিন,আমি আমার কথাই বলি। আমি সবসময়ে চাইতাম এনিহাও যদি আমি কখনও দেখতে পারতাম সৌরজগত সৃষ্টি হওয়ার সমটাকে, পৃথিবীর সেই সময়টা যখন পৃথিবীতে প্রথম বারের মতো জীবনের উদ্ভব হচ্ছিলো, সেই সময়টা যখন পৃথিবীতে উদ্ভিদ নামক কিছু ছিলোনা, সেই সময়টা যখন পৃথিবীর আকাশে উড়ে বেড়াতো বিশালদেহী টেরোসর, সমুদ্রে ভেসে বেড়াতো মোজেসর, মেগালেডন আর ভূপৃষ্ঠে কারকানোডন্টোসরাস, টাইরানোসরাস রা। পৃথিবীতে একটা সময় ছিলো যখন আজকের মাকড়াশা, ফড়িং এছাড়াও বিভিন্ন পোকাদের থেকে প্রায় ১০ গুণ বড় মাকড়াশা, ফড়িং, পোকারা বাস করতো। কিন্তু আমি কখনই সেই সময়টাতে যেতে চাইতাম না। নেভার। আরেকটা সময়ে যাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে আমার তা হলো যখন একই সময় হোমো গণের বিভিন্ন প্রজাতি, উপপ্রজাতি বসবাস করতো। আমি দেখতে চাই আমাদের ও তাদের মধ্যেকার পার্থক্য কি ছিলো। কি ঘটেছিলো এমন যা তাদের পুরোপুরিভাবে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে দিলো!

যেহেতু টাইম ট্রাভেল মেশিন নাই, কখনও থাকলেও সময়ে পূর্বে যাওয়া পসিবল না (যতটুকু আমার পড়া) তাই এর বিকল্প কি হতে পারে? সবচেয়ে এঞ্জয়বল বিকল্প হতে পারে প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাস পড়ুন, পড়ে একটি কাল্পনিক রিয়ালিটি তৈরি করে এবং ডুব দিন সেই কাল্পনিক রিয়ালিটির রাজ্যে। ট্রাই করুন, গ্যারান্টি দিচ্ছি হতাশ হবেন না।

প্রাচীন পৃথিবীর ফিল নেয়ার জন্য জিম বেল এর "The Earth Book" ডাউনলোড করেছিলাম। পড়েছিলামও Primates চ্যাপ্টার পর্যন্ত। সত্যি বলতে মজা পাইনি। খুবই ডিস্ক্রিপটিভ টাইপের, ছোট ছোট কিছু তথ্য। বিরক্তিকর লাগে, কারণ প্রাচীন পৃথিবীটাকে ফিল করার জন্য যেই জিনিস গুলোর দরকার সেটার ল্যাকিংস আছে। প্রথমত আশেপাশের পরিবেশ টা কেমন হবে সেটা বলা নাই, তাহলে রিয়ালিটি টা তৈরি করবেন কেম্নে? তাই বিরক্তিকর লাগবে।

সায়েন্সভেঞ্জার প্রাচীন পৃথিবী ও জিওলজিক্যাল টাইমস্কেল নিয়ে জানার জন্য, বেসিক্যালি ফিল করার জন্য পারফেক্ট একটা বই হিসেবে আমার মনে হয়েছে। বইয়ের প্রথমের অধ্যায় থেকেই এমন একটা ড্রামাটিক গল্পের স্বাদ পাওয়া যায় যা অটোমেটিক্যালি আমাদের মস্তিষ্কে একটা কাল্পনিক রিয়ালিটি তৈরি করে দেয় প্রাচীন পৃথিবীটা কেমন ছিলো, কেমন ছিলো আশেপাশের পরিবেশের। বইয়ে থাকা ছবিগুলো আরও বেশি করে ইন্ধন যোগায় রিয়ালিটিটাকে আরো কমপ্যাক্ট আর কালারফুল বানানোর জন্য৷ তাই বইটা পড়ে আমার কাছে অসাধারণ অনুভূত হয়েছে। ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস একটি ৩০০ পেইজের বইয়ে ঢুকানো খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়৷ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মিসিং হয়ে যায়। কিন্তু লেখক খুব সুন্দরভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলো সুন্দর ও সাবলীল ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যা বইটার প্লাস পয়েন্ট।

একটা ব্যাপার বিবর্তনতত্ত্ব নিয়ে যাদের চুলকানি, খাউজানি আছে এই বই তাদের জন্য না। কারণ বইয়ের ইতিহাসের প্রতিটা ধাপ বুঝতে হলে আপনার বিবর্তন সমন্ধে বেসিক ধারণা থাকতে হবে৷ লেখক সেই কারণে বিবর্তন এর বেসিকও বইয়ে উল্লেখ করে দিয়েছেন। যাতে বুঝতে ইজি হয়, আর এটা যাতে মনে না হয় যে "হুট করে মাছ কিভাবে ব্যাঙ হয়ে গেলো"! কিন্তু বিবর্তন শব্দটা শুনলেই যাদের চুলকানি বেড়ে যায় তাদের প্রচুর চুলকাবে বইটা৷ তাই " থিংক বিফর ইউ রিড"। তবে যারা প্রকৃতপক্ষেই জানতে চান বিবর্তন অ্যান্ড অল দেস স্টাফস আপনাদের জন্য পারফেক্ট একটা চয়েজ হবে সায়েন্স ভেঞ্জার।

প্লাস পয়েন্ট - বইটার তথ্যগুলোর তথ্যসূত্র রয়েছে। পাঠক কোনো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পেছনের তথ্যসূত্র দেখে সেই ওয়েবসাইট এ গিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারে।
মাইনাস পয়েন্ট- বহু বানান ভুল। বাট এটা ইগনোর করা যায়।
এট লাস্ট, বইটা আমি যথেষ্ট এঞ্জয় করেছি। ফর দ্যাট থ্যাংক ইউ Nayeem Hossain Faruque

সায়েন্সভেঞ্জার
নাঈম হোসেন ফারুকী
Profile Image for Emdadul Hoque Afnan.
18 reviews2 followers
October 16, 2021
নামঃ সায়েন্সভেঞ্চারঃ ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস
লেখকঃ Nayeem Hossain Faruque
পৃষ্ঠাঃ ৩০৪
মূল্যঃ ৩৫১ (রকমারি)

বইটিতে মোট ৩ টা অধ্যায়।

১ম অধ্যায়ে আপনি হয়ে যাবেন অ্যান্টম্যান, ঝাঁপ দিবেন পুকুরের দুনিয়ায়। অনেক তো শহুরে ধুলাবালি খেয়ে মানবসভ্যতার মাঝে দিন কাটালেন, এবার না হয় আরেকটা দুনিয়া দেখে আসুন। আপনার সামনে আসছে ভয়ানক আর উদ্ভট সব দৈত্য দানব। আপনি তাদের জীবন দেখছেন। হুট করে কেউ হামলা করে দিবে ভেবে ভয়ে আছেন অথচ হুট করেই এই অধ্যায়ই শেষ হয়ে গেলো। এখানে আমি কিছুটা ডিসাপয়েন্টেড। আরো ব্যাখ্যা হলে ভালো হতো কিন্তু সেক্ষেত্রে মেইন অধ্যায় শুরু করার আগেই মেইবি বই অনেক বড় হয়ে যেত।

অধ্যায় ২ এ আসি।
পৃথিবী। এক অদ্ভুত গ্রহ। এখন অবধি প্রাপ্ত একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণ সম্ভব হয়েছে। কি আছে এর মাটির নিচে। আমরা আসলে কতটুকুই বা জানি এর অভ্যন্তরের সম্পর্কে? কোলা সুপারডিপ বোরোহোল মাত্র ১২ কি.মি. গভীর, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬ হাজার কি.মি.। কি আছে ১২ কি.মি. এর নিচে? প্লেটগুলা কিভাবে নড়ে চড়ে, আর সেই অদ্ভুত জীবের কথা কি জানেন যে অক্সিজেন না খেয়েও প্রচন্ড তাপ ও চাপে বেঁচে থাকে? না জানলে এখনি পড়ে ফেলুন।

অধ্যায় ৩।
আমাদের মূলগল্প শুরু। না গল্প না, ইতিহাস।
"সব ভুলে গেলেও অতীত ভুলা যায় না " - হূমায়ুন আহমেদ বলেন নি।
কিন্তু অতীত মনে রাখার জন্য তো আগে অতীত জানা প্রয়োজন। আর এ তো ৪৬০ কোটি বছরের অতীতের ইতিহাস।
টাইমমেশিন এখনো আবিষ্কৃত হয় নি। কবে হবে জানি না। কিন্তু আমি সব পারি, বানিয়ে ফেললাম টাইমমেশিন। যাত্রা করলাম ৪৬০ কোটি বছর আগে। মানুষের সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার রেকর্ড ১২২ বছর। ৪৬০ কোটি বছর আমি বাঁচবো না এই ইতিহাস দেখার জন্য। সবকিছু ফাস্ট ফরোয়ার্ড করলাম (মহান টাইমমেশিন দিয়ে সব সম্ভব)। এখানে আমার সাপেক্ষে ঘড়ির টিক টিকের ১ সেকেন্ডে সামনে কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর, হাজার হাজার বছর।
অত্যধিক চাপ ও তাপের পৃথিবীতে বিরান মাঠঘাটে ঘুরে বেড়াই। অনেক অনেক কোটি বছর পর সমুদ্র সৃষ্টি হয়। এখনো কোথাই কেউ নাই, কোনো প্রাণ নাই।
হেডিয়ানের ৬০ কোটি বছরে কোনো প্রাণের দেখা মিললো না। হতাশ হয়ে বসে থাকার সময় অত্যাধুনিক লাইফ ডিটেক্টর মেশিন জানান দিলো কোথাও লাইফের কিছু একটা সৃষ্টি হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে প্রথম RNA বেইজড কোষের। আমার চোখে মুখে হাসি ঝলকানি।

আর্কিয়ান শুরু হলো। ব্যাক্টেরিয়া আর আর্কিয়াদের মহাযুদ্ধ দেখলাম। এদের লক্ষ কোটি বছরের বিবর্তনে এরা যুদ্ধের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুত হয়েছে। তাদের যুদ্ধের কারণে আজ আমরা পেয়েছি অক্সিজেনভর্তি পৃথিবী। তাই এই দুই যোদ্ধাদের স্যালুট দিতেই হয়!
ধীরে ধীরে নতুন ইওন আসলো। ইউক্যারিওটরা জন্ম নিলো। একে একে সৃষ্টি হলো আমাদের পরিচিত সব পর্বসমূহের প্রাণী। মাঝে দিয়ে আবার বারবার আসে আইস এইজ। শুরুর সেই উত্তপ্ত গোলকই এখন বার বার শতমিটার আস্তরণের বরফে ঢেকে যায়। প্রোটারোজোয়িকের শেষের দিকে দেখা মিললো অদ্ভুত সব জীবদের। আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম। এরা কতো অদ্ভুত! এলিয়েনদের থেকে কম কি! ফ্যানারোজোয়িকে এসে ক্যাম্ব্রিয়ান এক্সপ্লোশন হলো। নানারকম প্রাণ ফুটে উঠলো পৃথিবীর বুকে। আমি দেখছি রূপকথার গল্পের প্রাণীদের থেকেও বেশি অদ্ভুত জীবদের। এদের দেখে কখনো গা শিউরে উঠে আর কখনো হা করে তাকিয়ে থাকি। পৃথিবীতে এলো মাছ, বিশাল বিশাল মস। আকাশ ছোয়া এসব মসের দিকে তাকিয়ে এখনো হা বন্ধ করতে পারলাম না। ডাঙায় বসে আছি। আমার সামনেই কিছু মাছ জাতীয় জীব ডাঙায় আসা শুরু করেছে। বিবর্তনের ধারায় স্থলচর আসলো, বিশাল বিশাল পোকামাকড় লাফিয়ে উড়ে বেড়ালো আমার চোখের সামনে। বিশাল হুঙ্কার দিয়ে শুরু হলো ডাইনোসরদের রাজত্বের। ইতিহাসের সব থেকে বড় ব্যাঙ বিলজেবুফো ভর্তা হলো ইতিহাসের সব থেকে বড় ডাইনোসর পাতাগোটাইটানের পায়ের তলায়। পাতাগোটাইটান টেরও পেল না।
ছোটবেলা থেকে টি-রেক্সের সাহসীকতার গল্প শোনার পর আজ দেখলাম দানব কুমিরের সামনে টি-রেক্সের অসহায়ত্ব, টি-রেক্স দিয়ে ডিনার করলো ডেইনোসুচাস।
ছোট কতো ডাইনোসর আমার পাশ দিয়ে খেলা করছে। সমুদ্রে দানব কুমিরকে ধাওয়া করেছে ৭০ ফুটের শনিসরাস। এরপর সময় যেতে যেতে দেখা পেলাম হোমো গণের পূর্বপুরুষদের। হ্যাবিলিস, আর্গাস্টার, হাইডেলবার্গ থেকে বিবর্তিত হয়ে আসলাম আমরা, আজকের আধুনিক মানুষ। তারপর দেখছি মানুষ প্রথম ফসিল খুঁজে পেয়েছে। জানতে চাচ্ছে পৃথিবীর সেই সুপ্রাচীন ইতিহাস, তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস। বিবর্তনের সঠিক ব্যাখ্যা তারা বুঝানোর চেষ্টা করছে আধাবিবর্তিতদের। এসব আধাবিবর্তিতরা ১৩০০-১৫০০ সিসির ব্রেইন নিয়েও বিবর্তন না জেনে বুঝেই মিথ্যা বলে। হায় রে!

বইয়ের শেষের দিকে বিবর্তনের প্রত্যেকটা ধাপের ফসিল রেকর্ডের ছবি দেওয়া আছে।

আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণঃ

প্রথমদিকের ৬০-৭০ পৃষ্টা পড়ার সময় চেষ্টা করেছিলাম যেন কমপক্ষে ১০% হলেও যেন মনে থাকে। মনে তো থাকলোই না উল্টা এই ৬০-৭০ পৃষ্টা শেষ করতে লাগলো কয়েকদিন।
তারপর ভাবলাম মনে রাখার কথা ভুলে গিয়ে জাস্ট বুঝে পড়ি আর মজা নিই। এবার বাকি ২৩০ পৃষ্ঠা শেষ করতে সম্ভবত ১২-১৩ ঘন্টা লেগেছে। (আমি বেশ স্লো)
এক বসায় পড়ে ফেলার মতো বই, যদি বুঝে পড়তে ইচ্ছুক হন। এতোসব তথ্য মুখস্থ করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না আর মুখস্থের চেষ্টাও করবেন না।
2 reviews
September 8, 2021
শুরুটা করি আজথেকে প্রায় পাঁচ'শ কোটি বছর আগে। নবজাতক নাদুশ দুদুশ একটা সূর্যের জন্ম হয়। তাকে ঘিরে যত উত্তেজনা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, মহাজাগতিক জিনিস পাতি গ্র‍্যাভিটির টানে আলিঙ্গিন করে একে অপর কে জন্মহয় গ্রহের। জন্মে পৃথিবী। সেই পৃথিবীর ইতিহাস নিয়েই এডভেঞ্চার। তবে অবশ্যই কোনো কল্প কাহনি নয়, নয় কোনো রম্যরচনা। একদম পিয়োর সায়েন্সের এডভেঞ্চার। সায়েন্সভেঞ্চার। যাত্রা শুরু করি, থিয়া ধেয়ে আসছে, খুব কাছাকাছি চলে আসার আগেই ধ্বংস করতে হবে। কিছুই মনে করতে পারছি না। শুধু জানি একে ধ্বংস করতে হবে। কেন যেন মাথা থেকে সব স্মৃতি উবে গেছে। গলা পাথরের স্যুপের মতো গ্রহটা, থিয়া কে ধ্বংস করার জন্য সেখানে দাঁড়িয়ে হিসেব করছি। অবশ্যই প্রোটেকশন নিয়ে। না, ধ্বংস করা আর হয়ে উঠল না। মোক্ষম সময়ে মনে পড়ে গেল একে ধ্বংস করা যাবে না। ধ্বংস করলে আর তারা ভরে রাতে চাঁদ দেখা হবে না।
হ্যাঁ, চাঁদ। থিয়া আর সে সময়কার পৃথিবী, একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। অনেক অনেক বছর পর থিয়ারই দেহাবশেষ থেকে জন্ম হলো চাঁদের। যেন মঙ্গলের আকৃতির থিয়া বর্তমান সময়ের চাঁদ কে তাঁর গর্ভে ধরে ছিল। তখন থিয়ার কল্যাণে পৃথিবীতে দিন রাত আসত ৫ থেকে ৬ ঘন্টা অন্তর অন্তর। খুবই দ্রুত রোটেট করতে থাকে পৃথিবী, থিয়া আর মুন এর দায়িত্বের ভারে সাড়ে ২৩° কোনে বেঁকেও যায় সে। তখন মুন অনেক টা কাছেই ছিল। নবজাতক বাচ্চা বাবা মায়ের কাছেই তো থাকবে। মাত্র চল্লিশ হাজার মাইল দূরে চা��দ। পৃথিবীর সার্ফেস ঠান্ডা হতে থাকে, চাঁদ বড়ো হয়ে মামা হয়ে ওঠার আগেই তাকে আরও দূরে যেতে হয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতিও স্লো হতে থাকে। এখন এখানে থাকা যাবে? না, এখনও অনেক টা দূর যেতে হবে। এখনও চলছে হেডিয়ান ইওন। পৃথিবীর জন্মের পর থেকে মোট সাড়ে চারশ কোটি বছরকে মাত্র চার টা ইওনে ভাগ করি। সে৷ চারটার একটা হলো হেডিয়ান, এখনও অনেক দূর দিল্লি।

এখনও বাকি, বৃষ্টি হবার। কাটখোট্টা গ্রহ টায় পানি এলো, অলৌকিক কোনো উপায়ে না, উল্কায় চেপে। আমাদের আশে পাশের যত পানি আছে সবই ৩.৯ 'শ কোটি বছর পুরানা। এখনও বাকি মহাপ্রলয় হবার। বিষাক্ত আবহাওয়ায় প্রাণের উদ্ভব সম্ভব না। আরও শত মিলিয়ন বর্ষবাদে প্রাণের উদ্ভব ঘটে পৃথিবীতে। প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে। হ্যাঁ, তখন থেকে যাত্রা শুরু। শুরু হয় আর্কিয়ান ইয়ন,চলে আরও অনেক কোটি বছর৷ সে প্রাণে কোণো কমপ্লেক্স কোষ নেই, সেই চেতনা হীন প্রাণ। অক্সিজেন ছাড়া, কোনো প্রকার সালোকসংশ্লেষণ ছাড়া, শক্তি নিয়ে বেঁচে যাওয়া প্রাণ আজ বসে বসে মোবাইল টিপছি। প্রোটারোজয়িক এর পর এসেছে ফ্যানারোজয়িক। দেখেছি ক্যাম্ব্রিয়ান এক্সপ্লোশন। পিকাইয়া শিকার করে খেয়েছি, টিকাটালিকের পিঠে ভর করে উঠে এসেছি ডাঙায়। সূয্যিমামার রেডিয়েশন সহ্য করে বেঁচেছি মোট জীবনের ৯৫% শতাংশ হারিয়ে। দেখেছি ডায়নোসর দের কামড়াকামড়ি, উল্কাপাতে হারিয়েছি সেই বিশালদেহি ডায়নোসরদের। সেখান থেকেও বেঁচে গেছি। বিশাল লেজ, নিয়ে গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়িয়েছি। কাটিয়েছি মানবেতর জীবন। সেই সেখান থেকে আমরা আজকের মানুষ। তবু যাত্রা টা এত টা সহজ ছিল না। পদে পদে ছিল বিপদ৷ গ্রেইট এইপ মানুষ হতে চেয়েছিল, মোবাইল টিপতে চেয়েছিল। তাই আজ আমরা মানুষ না। আমরা মানুষ হয়েছি কারণ আমরা এভাবে টিকে থাকতে পেরেছি।

সেই একটা ব্যাক্টেরিয়া থেকে শুরু করে ৩.৮ বিলিয়ন বছর বেঁচে থেকেছি। আমরা বেঁচে থেকেছি শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আমরা আজ বেঁচে, কারণ আমরা বেঁচে গেছি।
হ্যাঁ, আমরা পৃথিবীর সাড়ে চারশ কোটি বছরের ইতিহাস। আমরা বিবর্তনের ফসল।
সায়েন্সভেঞ্চার যা অক্ষরে অক্ষরে মনে করিয়ে দেয়। লেখকের জবাব নেই। অসাধারণ গল্পে আর লেখনিতে তুলে ধরেছেন, জন্মথেকে পথ চলা। ভুলিয়েছে, নিয়ে গেছে শত কোটি বছর আগে। ভাবিয়েছে, কীভাবে এলাম। বুঝিয়েছে, কীভাবে আছি।

ভোর, হয়েছে। সায়েন্সভেঞ্চারের এর এডভেঞ্চার শেষ হলো, সেপ্টেম্বর মাস। রাতে বৃষ্টি হয়েছে। জানালা খোলাইছিল, হালকা কুয়াশা ঢুকছে। ছাদে গিয়ে বসে, থাকি। নাইট্রোজেন আর আর কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা গলিত পাথরের পৃথিবীতে রাতে মধ্যেই সুন্দর সার্ফেস হয়েছে। অক্সিজেন ও আছে। ছাদে বুক ভরে অক্সিজেন নিতে পারব। এই অক্সিজেন কে বাড়তে দেয়া যাবে না। ওইযে, ৩৯০ কোটি বছর আগে আসা জলের কণা গুলো উড়ে বেড়াচ্ছে। ডায়নোসর দের থেকে বিবর্তিত হওয়া পাখিটা আমায় দেখেই পালাল। দূরে তাদের চিক চিক শব্দের মুখরিত হয়ে উঠেছে সকাল টা।
আহা, পৃথিবী। অদ্ভুত পৃথিবী।

বই:- সায়েন্সভেঞ্চার
লেখক:- Nayeem Hossain Faruque
নিজস্ব রেটিং:- ৯.৫/১০
Profile Image for Tasauf Islam Tonoy.
4 reviews
March 16, 2022
বই : সায়েন্সভেঞ্চার
লেখক : নাঈম হোসেন ফারুকী
পৃষ্ঠা : ৩০০
গায়ের মুল্য : ৪৫০৳
রেটিং :১০ এ ১০

খটমটে ফিজিক্স বই পড়ার পর পড়ছি "সায়েন্সভেঞ্চার" বইটা মুলত বিবর্তন আর ৪৬০ কোটি বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাস নিয়ে। আরো আছে দুইটা চ্যাপ্টার এন্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাপ দেওয়ার গল্প। বাড়ীর পাশের নোংরা পুকুরে যে এক ভিন্ন জগত আছে সেটা কখনো ভেবেছেন কী? ভাবতে চান? তাহলে আপনার জন্য এই বই-এর প্রথম চ্যাপ্টার। কী থাকতে পারে ওই নোংরা পুকুরের এক ফোটা পানিতে? আমি কিছুই বলবো না, তবে এটুকু বলছি অন্য জগতের কিছু অপার্থিব প্রাণির বাস সেখানে।

এর পরের চ্যাপ্টার হলো জার্নি টু দ্যা সেন্টার অফ দ্যা আর্থ। চমৎকার একটা চ্যাপ্টার। কেমন হতো যদি আপনাকে একটা ড্রিল মেশিনে চেপে পাঠানো হলো পৃথিবীর কেন্দ্রে। ভয় পাবেন না ড্রিল মেশিন যথেষ্ট নিরাপদ অনেক অনেক চাপ তাপ সহ্য করতে পারে। তো আপনি কী দেখবেন এই ধরণির গর্ভের মাঝে লুকিয়ে থাকা জ্বল জ্বল করা হিরা মানিক সাত রাজারধন রত্নভান্ডার, নাকি দেখবেন ভয়ংকর পাতালপুরীর টগবগ করে ফোটা আলকাতরার মতো ঘনো আধা তরল পাথরের রাজ্য এস্থেনোস্ফিয়ার।
এই চ্যাপ্টারে আছে সেই পাতালপুরির গল্প টেকটোনিক প্লেটের কথা, পৃথিবীর নারিভূড়ির গল্প আর আছে কীভাবে আসলো আমাদের জীবন রক্ষাকারী পৃথিবীর ম্যাগ্নেটিক ফিল্ড। এই ফিল্ডের জন্ম এই মায়াভরা পৃথিবীর গর্ভে। আরো আছে পৃথিবীর পেটের নানা রহস্যকথন, তো আপনি রেডি তো?

এখন শুরু হবে বই-এর মেইন চ্যাপ্টার বাকি পুরা বই জুড়ে এই চ্যাপ্টার। লেখক টাইম মেশিনে চড়িয়ে আমাদের নিয়ে যাবেন সাড়ে চারশ বছর আগের দুনিয়ায়। হাত ধরে দেখিয়ে দিবেন অতিতের সব রহস্য পরিচয় হবে আপনার অতিতের সব কালজয়ী শিকারির সাথে। এটা কী কম সৌভাগ্যের কথা বলুন । এখানে আপনি নিজে টাইম মেশিন করে যাবেন পৃথিবীর বিভিন্ন যুগে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সব যুগ ঘুরে আসবেন দেখবেন সেই যুগের অনুপম চিত্র আর শুনবেন তাদের গা শিউরে ওঠা জীবন কাহিনি আর আছে বিবর্তন এর গল্প কীভাবে বিবর্তন-এর ধারায় এসেছে আমাদের এই জীবজগৎ। দেওয়া আছে বিবর্তন এর বহু প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনার মনে আকিবুকি করছে।

আমরা কী সত্যি বাদর থেকে এসেছি? কেন কলা আর আমাদের ডি এন এ এর মাঝে মিল আছে আসলেই কী ট্রাঞ্জেনশনাল ফসিল( লোক জনের দেওয়া অবৈজ্ঞানিক নাম হলো মিসিং লিংক) নেই? ক্যাম্বিয়ামে এতো জীব কীভাবে এলো? প্রাণ আসলে কী? ফসিল কী? মিউটেশন কী এই সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই বই-এ

আজ থেকে অনেক বছর আগে পৃথিবী যখন নরক ছিলো চার পাশে গলিত লাভা থকবক করতো তখন আপনি চলে এসেছেন তখন কী দেখবেন আপনি? দেখবেন পৃথিবীর কপালে চাঁদ মাম টিপ দিতে আসছে সরি এটা চাঁদ মামা নয় থিয়া মামা। থিয়া মামার ধাক্কা খেয়ে পৃথিবীর এলো জ্বর চারপাশের নরক আরো নরকে পরিণত হলো। এই নরক লগ্নে জন্ম হলো চাঁদ মামার আহা কী সুন্দর কাহীনি তাই না?

এই চান্দের দেশের জন্মের কথা লেখক "সেলিন" নামক গল্পের মাধ্যমে। এক কথায় অসাধারণ। লেখকের একটা বড় গুন কী জানেন তিনি গল্প বলতে বলতে আপনাকে খাইয়ে দিতে পারেন অখাদ্য মাথা ঘোরানো সব জটিল জটিল বিষয়। তিনি গল্পের সাহায্যে প্রত্যেক যুগ মানে পৃথিবীতে প্রথম কোষটা কী ভাবে এলো তার পর আরকিয়ানের সুমুদ্র প্রোটারোজয়িক ইওন এ বহুকোষীদের আগমন থেকে কার্বোনিফেরাস এর দৈত্যাকার পোকাদের(হ্যাঁ পোকা বড় বড় চ্যারা ফড়িং এসব আর কী) ট্রায়াসিক জুরাসিক শেষে কোয়ার্টার্নারি(এই কয়টা নিয়েই পুরো বই ভাবলে ভুল করছেন পৃথিবীর প্রত্যেক যুগ আর সেই যুগে আসা প্রানীদের নিয়ে আলোচনা আছে সূচি পত্র দেখলেই বুঝতে পারবেন) যুগের আমাদের গল্প সব এমন ভাবে বর্ননা করা হয়েছে যেনো মনে হয় আপনিই সেখানে ছিলেন নিজের চোখে দেখেছেন
,নিজে এক্সপেরিয়েন্স করছেন।

যারা বায়োলজিকে যাচ্ছাতাই মনে করেন তাদের জন্য এই বই পড়ার অনুরোধ রইলো বায়োলজি যে কতটা রহস্যময়, ফিজিক্সের থেকে কোন অংশে কম যায় না এই বই না পড়লে বুঝবেন না।
লেখকের আরেকটা গুনের কথা বলে যাই তিনি যে করেই হোক আপনাকে লেখার মাঝে ডুবিয়ে রাখবে উঠতেই দিবে না কিংবা আপনিই চাইবেন না।

৪৬০ বছরের ইতিহাস আর সেই ৪৬০ বছরে ঘটে যাওয়া কালজয়ী ঘটনা নিয়ে এই বই। তো যেতে চান না টুরে আদীম পৃথিবীর কুশায় ভরা রহস্যময় পৃথিবীতে? ���ইস গোলব আর্থে আইস ক্রিম খাওয়াবো চিন্তা নেই উঠে পড়ুন টাইম মেশিনে

জি-জি-জি-জীপ…….
আদীম পৃথিবীতে আপনাকে স্বাগতম
2 reviews
May 19, 2021
কোনো বই পড়ে যে আমার জীবনের দৈর্ঘ্য এত কম কেন অথবা সময়ের পেছনে যাবার ইচ্ছা হবে, আফসোস তো দূরের কথা- এ জিনিস আমি কখনো ভাবিনি। ৪৬০ কোটি বছরের পৃথিবীর বয়স, আর আমি আমার পৃথিবী ভ্রমণ হবে মাত্র অল্প কিছু বছরের জন্য। এই ২১ শতকের আধুনিকতম সময়ে বসে কারো মনে প্রাগৈতিহাসিক সময় না দেখতে পারার আফসোস তৈরি করা ফেলনা ব্যাপার না- এই বইটা আমার মধ্যে সেই অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

সময়ের পেছনে গিয়ে পৃথিবী ঘুরে দেখা তো সম্ভব না এখন- আমিও জানি, আপনিও জানেন। উপায়? বইটা পড়ে ফেলুন।
- ধুত্তোর! পড়া আর ঘোরা কি এক জিনিস? –
- এ বই পড়া আর ঘোরা এক জিনিস।
বর্ণনার সৌন্দর্যের কারণে বইয়ের পাতার সময়গুলোকে জীবন্ত মনে হয়। লেখকের লেখনীর জোরে আপনাকে কাহিনীর অংশ বানিয়ে দেবেন। “রোমাঞ্চকর”- আক্ষরিক অর্থেই রোমাঞ্চকর কাহিনী সাথে সাথে চলবে বিবর্তনীয় আর বৈজ্ঞানিক আলাপ-আলোচনা। মনে হবে আপনি সেই সময়টাতে আছেন, সেই সময়টাতে বাঁচছেন ।

আচ্ছা, এবার আরেকটু formal ভাবে কথা বলি। বইটার একটা জোস দিক হচ্ছে যে এটা পৃথিবীর প্রতিটা ইওন,পিরিওড,ইরা খুব সুন্দর করে আলোচনা করে গেছে (যেমনঃ হেডিয়ান, আর্কিয়ান,প্রোটারোজয়িক, ক্রায়োজেনিয়ান, এডিয়াকারান এবং আরও অনেক)। বিবর্তন এবং পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে যেকোনো বই পড়তে গেলে এই শব্দগুলো আর সময়গুলো অবধারিতভাবে উঠে আসে, কিন্তু মনে হয় পুরো ব্যাপারটাই খিচুড়ি বা হযবরল। ঠিক সুন্দর মতো সময়গুলোকে বোঝা যায় না, অনুভব করা যায় না। আর একটা বিষয় হচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক প্রানী, বিবর্তন এসব বিষয় নিয়ে বই লেখা হলে প্রায়ই এমন কথাবার্তা আসে যে অমুক প্রাণী থেকে তমুক প্রাণী, তাঁর থেকে বমুক প্রানী, তার থেকে আবার চমুক প্রাণী (দুঃখিত, ব্যখার স্বার্থে শব্দ বানালাম আরকি)। এইসব পড়ে মাথায় প্যাঁচ লেগে যায়, বোঝাও যায় না, লেখকগণ ধামধুম কিসব উদ্ভট পর্ব, গণ, প্রজাতির নাম নিয়ে এসে খেলা করেন মানে পুরাই ম্যাসাকার। নাঈম হোসেন ফারুকী’র লেখার সুন্দর বিষয় হচ্ছেন তিনি পাঠককে প্যাচে তো ফেলেনি নাই, উল্টো অনেক অনেক ছবি,ডায়াগ্রাম,নোট এর মাধ্যমে crystal clear করে তুলে ধরেছেন।

বইটার আগাগোড়া ভিত্তিই হলো বিবর্তন, বলতে গেলে বইটা বিবর্তন শেখায়, কিন্তু আমি কি শিখেছি? না, আমি এই বইটা থেকে বিবর্তন শিখিনি, শিখেছিলাম অন্য একটা বইয়েঃ খুব দৃঢ়ভাবে। কিন্তু, আমার মনে হলো যে আমি যদি এই বইটা থেকে প্রথমবার বিবর্তন শিখতাম তাহলে খুব শক্ত-পোক্ত ধারণা দাড়াতো না। সাবধান!! আমি কিন্তু বলিনি যে বিবর্তন সম্পর্কে অবিশ্বাস বা সন্দেহ জন্মাবে। বিবর্তন যে আসলে হয়, প্রকৃতিতে হয়ে এসেছে- অনান্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও প্রমানগুলো যথেষ্ট সুন্দর ও সন্তোষজনক।আমি যেটা বলছি সেটা হলো বিবর্তনের মেকানিজম সম্পর্কে ধারণা, যেটা গণিতের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে বোঝা যায়। যেহেতু, এটা সাধারণ পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখা তাই খুব সম্ভবত এটাই ভালো উপায় ছিলো। সেই এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত, যে মেয়েটি/ছেলেটি প্রথম বিবর্তন সম্পর্কে জানবে ( এ দেশে বিবর্তন শব্দটা জানে না এমন কেউ নেই, অধিকাংশই ভুলভাবে জানে অথবা জানলেও বিশ্বাস করে না) বা প্রথমবার পড়ে বিবর্তনে বিশ্বাস স্থাপন করবে তাঁর মতামত এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।


লেখকের গল্প বলার দক্ষতা প্রশংসনীয়। কিছু গল্পের টুইস্ট/ক্লাইম্যাক্স অতি মাত্রায় জোস !! বইটাতে গল্পবলার বিষয়টাও অত্যন্ত জরুরী ও চমৎকার ছিলো।

এবার আসি বইয়ের বাইন্ডিং আর প্রিন্ট নিয়ে। চমৎকার বাইন্ডিং, পৃষ্ঠাগুলোর মান বেশ উন্নত মানের, প্রচ্ছদ শিল্পী সাবিত ভাইকে লাল সালাম!!! বইটা হাতে নিলেই একটা “ভাব” চলে আসে।

শেষ নামাই নাকি? এত বড় রিভিউ কেউ পড়ে দেখেছে কিনা ক্যাম্নে বলবো, কি আর করার- লিখে যাচ্ছি। বইটা শেষ করে আমার দুইটা সুন্দর অনুভব হয়েছে- এক নিজেকে দেখলে আমি দেখতে পারি কোটি বছরের ইতিহাস, এই বিরাট সময়ের একটি সৃষ্টি আমি এটা ভাবলে শিহরণ জাগে। আর দ্বিতীয়, এই আফসোস যে আমি প্রাচীন পৃথিবী কোনোদিন ঘুরে দেখতে পারবো না। আফসোস এর মতো নেতিবাচক অনুভূতিও যে সুন্দর হতে পারে সেটা বুঝতে পারতাম না যদি কোনোদিন ঐ মেয়েটাকে ভালোবেসে পেয়ে যেতাম অথবা যদি হয়ে যেতাম প্রাগৈতিহাসিকতার মুসাফির ।





1 review
April 21, 2021
শুরুটা করছি শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নভেল সিরিজ “Game of Thrones” এর লেখক George R. R. Martin এর এক বিখ্যাত উক্তি দিয়ে।

“Sleep is good, he said, and books are better.”

অর্থ্যাৎ, “ঘুম ভালো , সে বলল, তবে বই তাঁর চেয়ে আরো ভালো”। কেমন হবে যদি এমন এক বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই যেটা কিনা আপনার প্রিয় সেই ঘুমকেই কিনা তাড়িয়ে দিতে সক্ষম। হ্যাঁ চলুন পরিচিত হয়ে আসি এমনই এক বইয়ের সাথে।

বইয়ের নাম “সায়েন্সভেঞ্চার – ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস”। বইয়ের নাম দেখেই হয়তো আপনি ধারনা করছেন, এটি কোনো দূর্দান্ত এডভেঞ্চারাস গল্প বা উপন্যাসের বই। তবে সাথে সায়েন্সের মাল মশলাও মেশানো। আপনার ধারনা সত্যি বলতে অনেকটাই সঠিক। সেই হিসেবে লাল সেলাম। তবে আপনি আরো কবার লাল সেলাম ঠুকবো যদি বইয়ের কভারের দিকে খানিক মন্ত্রমূগ্ধ হয়ে চেয়েই আপনি ভেতরের লেখায় মনোনিবেশ করেন।

পড়ার একদম শুরুতেই হয়তো আপনি বোকা বনে যাবেন। সুঠাম দেহী সারে পাঁচ ফুটের মানুষটিকে লেখক একেবারে ০.১ মিমি সাইজের এক মানুষে রূপ দিলো কিজন্য। হ্যাঁ কারণ আছে বৈকি। বড্ড বড়সড় কারন। আপনি এক ভয়াল অভিযানের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। তবে ভাগ্য খারাপ যে আপনি কিছুক্ষনের মধ্যেই কোনও এক মাংসাসী উদ্ভিদের পেতেই আপনার মৃত্যুবরন হতে যাচ্ছে বলে সো স্যরি!

এবার আপনার রিজারেকশন হলো। ধরুন লেখার শুরুর সেই গেইম অব থ্রোন্সের জন স্নোর মতো। জন স্নোকে না হয় বাচিয়েছেন রেড উইমেন খ্যাত মেলিজান্দ্রে। আপনাকে না হয় বাচাবেন খোদ লেখকই।
বেচে উঠেই আপনাকে পাঠানো হবে পৃথিবীর পেটের ভিতর। আপনি তখন ঘুরে ঘুরে দেখবেন কি কি আছে আস্তো পৃথিবীটার ভেতরে। সেখানে নরকের ব্যাক্টেরিয়া ব্যাসিলাস ইনফার্নাসের সাথে আপনাদের সাক্ষাত হতেই পারে! সে নিয়ে মাথা না হয় না চুলকালেন একটু!

এবার আপনি নিয়ে রওয়ানা হবেন পৃথিবীর একদম শুরুর দিকে। যখন এখানে প্রান বলতে আসলেই কিছু ছিল না। প্রচুর উষ্ণ ও বসবাসের অযোগ্য এক বিরান ভুমিতে কিভাবে এতো সূক্ষ্মভাবে এখানে প্রানের উৎপত্তি হয়েছিল তাও লেখক এখানে ফুটিয়েছেন বেশ সুন্দর করে। আস্তে ধীরে এলো বিভিন্ন আদিকোষীরা, এলো হ্যালোব্যাক্টেরিয়া ও অক্সিজেনেশনের ঘটনার বীর সেনানি সায়ানোব্যাক্টেরিয়ারা।

তারপরে প্রোটারোজয়িক যুগের বহুকোষীদের বিবর্তন, ক্রায়োজেনিয়ানের শেষের দিকের স্পঞ্জের আবির্ভাব, এডিয়াকারানের এলিয়েনের মতো দেখতে কিম্ভূতকিমাকার প্রাণীদেরও দেখানো হয়েছে সুন্দর ভাবে বইটায়।

লেখকের বইয়ে এরপরে স্থান পেতে থাকবে ফ্যানেরোজয়িক মহাযুগের ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের অগুনতি খোলস ওয়ালা প্রাণিদের আগমন, কার্বনিফেরাসের বিরাটাকার কীট নিয়ে নানান দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প। অতঃপর ট্রায়াসিক, জুরাসিক আর ক্রিটাসিয়াসের ডায়নোসরের প্রতি হালকা বন্দনা। মাঝে আরো এমন রহস্য রোমাঞ্চ, তারপর একেবারে শেষের দিকটা কেবল আমাদের জন্যই বরাদ্দ। অর্থ্যাৎ প্রাইমেটদের জন্যে। হোমো গনের বিভিন্ন প্রাণীদের রাজত্ব ও সাফল্যের গল্পগাথা।

বইটির বিশেষ দিকঃ

প্রথমত, বইটি মুলত বিবর্তনের বই। তবে গদবাধা বিবর্তন কি, কেম্নে হয়। সেসবের একঘেয়ে প্যাচাল খুব কমই এসেছে এখানে। তাঁর আগে লেখক ক্লিয়ার করেন প্রান, বিবর্তন ও ফসিলের ব্যাপারের বেসিকগুলি।

দ্বিতীয়ত, লেখকের উপস্থাপন ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। মজার ছলে মাঝে মধ্যে আপনাকে বানিয়েছে একটা পিঁপড়া, নিয়ে গেছেন হেডিয়ানের নারকীয় জগতে, কখনো আবার লোহাকে নাম দিয়েছেন বারোভাতারি মৌল। তবুও কথায় কথায় জানিয়ে দিয়েছেন অনেক অনেক গুরুত্ত্বপুর্ন তথ্যদিও।

তৃতীয়ত, এরপরে পৃষ্ঠা ২৯৩ থেকে ২৯৮ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসিল রেকর্ড এর ছবিগুলি এবং পৃষ্ঠা ৩০০ থেকে ৩০৩ এ উপস্থাপিত রেফারেন্স বইকে পূর্ণতা দিয়েছে।

চতুর্থত, ছবির কথায় যেহেতু এসেছেই, বলতেই হচ্ছে। বইটার অন্যতম বিশেষত্ত্ব হয়ত ছিল এই, লেখক বইয়ে দুইশত পঞ্চাশের ও অধিক ছবি ব্যবহার করেছেন। যা কিনা বইটিকে অনন্য উচ্চতায় নেবার জন্যে যথেষ্ট ছিল।

Anyway, happy reading!
Profile Image for Progoti Paul.
79 reviews4 followers
September 20, 2022
বইয়ের নাম: সায়েন্সভেঞ্চার; ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
প্রকাশ: অমর একুশে বইমেলা, ২০২১।
মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা।
প্রান্ত প্রকাশন।
হার্ড কভার বাইন্ডিং।

বইয়ে তিনটি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায়: পুকুর। এখানে আপনাকে অ্যান্টম্যান বানিয়ে প্রথমে পুকুর ঘুরিয়ে আনা হবে। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জুপ্ল্যাকটন, ফাইটোপ্ল্যাকটনগুলো আপনার চোখের সামনে বিশাল হয়ে ওঠবে এবং পানির নিচের এক অদ্ভুত জলরাশি এবং সমৃদ্ধ অনুবীক্ষণিক প্রাণীজগতের সাথে আপনার পরিচয় ঘটবে অত্যন্ত নিকট থেকে। মাইক্রোস্কোপিক প্রাণীগুলি তখন আপনার থেকে বড় হয়ে ক্ষুদ্র আপনাকেই আবার শিকার করে ফেলবে না তো?

দ্বিতীয় অধ্যায়: জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্যা আর্থ

সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেকদিন আগে একটা প্রজেক্ট তৈরির কাজ শুরু করে মাটির নিচে কী আছে দেখার জন্য। বিশ বছরের প্রচেষ্টায় মোটামুটি বারো কিলোমিটার গভীরতায় তাপমাত্রা যখন 120° সেলসিয়াসে পৌঁছে তখন কাজটি অসম্ভব হয়ে পড়ায় প্রজেক্টটি বন্ধ করতে হয়।পৃথিবীর কেন্দ্রে চাপ এবং তাপমাত্রা এতোই বেশি থাকে সেখানে যাবার কল্পনা করলেই গা শিউরে ওঠে কিন্তু সায়েন্সভেঞ্চারের মাধ্যমে আপনি সেই অসাধ্য সাধন করতে পারবেন। এখানে কাল্পনিক ড্রিল মেশিনের মাধ্যমে মাথার ওপর আটচল্লিশ হাজারটা হাতির সমান চাপ সহ্য করে মাটির নিচের ক্রাস্ট, ম্যান্টল, কোর, মাটির বিভিন্ন স্তর, সৌরঝড়, ইনফার্নাস ব্যাকটেরিয়া কিংবা ম্যাগনেটিক ফিল্ড সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে ওপরে ওঠে আসতে পারবেন।

তৃতীয় অধ্যায়: প্রাচীন পৃথিবী; ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস।

আজকের পৃথিবীতে প্রায় 750 কোটি মানুষের বসবাস কিন্তু এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ কেন কোনো প্রাণেরই অস্তিত্ব ছিল না। এই অধ্যায়ে শিশু পৃথিবীর জন্মের কথা আছে। সেলিন উপধ্যায়ে জানতে পারবেন কীভাবে পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। কীভাবে উত্তপ্ত পৃথিবী দীর্ঘদিন তথা কোটি বছরের ব্যবধানে ঠান্ডা হয়েছে। কীভাবে প্রথম জড় বস্তু থেকে প্রাণের উৎপত্তি ও ধীরে ধীরে বিকাশ ঘটেছে। বিবর্তনের প্রতিটি ধাপ ও পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা জানতে পারবেন ( মিসিং লিংক কই এটার উত্তর খুব ভালো করেই পাবেন) এখানে লেখক আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ফসিল কীভাবে তৈরি হয়, ফসিল কত প্রকার ও কী কী সেসব সম্পর্কেও অবগত করাবেন। ফসিল এর পার্ট শেষ করার পর আপনি হেডিয়ান, আর্কিয়ান, প্রোটারোজয়িক ইওন ( বহুকোষীদের জন্ম) শুরু করে জুরাসিক পর্যন্ত সকল ধরনের ঘটনার ই বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। কীভাবে পৃথিবীতে পাঁচটি মহাবিলুপ্ত ঘটে কীভাবে বরফ যুগ শুরু হয় এখন কেন বরফ যুগ হয় না, জানতে পারবেন ডাইনোসরের শেষ দিনগুলি ক্রেটাসিয়াস এবং সবশেষে নিওজিন এ প্রবেশ করে হোমো স্যাপিয়েন্সদের পূর্বপুরুষের সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পারবেন। যুক্তি, তথ্য, থ্রিলার আর রোমাঞ্চে ভরপুর একটি বই। যদি কিছু সময়ের জন্য প্রাচীন পৃথিবীতে হারিয়ে যেতে চান এই বইটি আপনার জন্য।

পজিটিভ দিক:

🔵 লেখক অনেক সহজ এবং সাবলীল ভাষায় বইটি লিখেছেন যার দরুন যারা সায়েন্স এখনো নেয়নি তারাও বইটি অল্প কিছু জায়গা বাদে পুরো বইটি উপভোগ করতে পারবে। প্রতিটি বর্ণনার সাথে সাথে চিত্র দেয়া আছে। সহজেই বোঝা যায়। ছোট ছোট গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার ফলে বইটি পড়ে বোর হবার তো কোনো কারণ ই নেই। কিছু কিছু জায়গায় মজার কিছু লাইন ছিল, 'গুড লাক, রন'। 'ফ্রাই করে গিয়েছো কোন দুঃসাহসে?' যার কারণে পুরো বইটি একঘেয়ে লাগে নি।

🔵 বইয়ের শেষে সোর্স হিসেবে জানার্লের লিংক দেয়া আছে। সহজেই নেট থেকে তথ্য নেয়া যাবে।

নেগেটিভ দিক: বইয়ে বানান ভুল ছাড়া আর তেমন কোনো খারাপ জিনিস আমার চোখে পড়ে নি সমালোচনার জন্য।
4 reviews
June 28, 2021
আমরা যদি পিপড়েদের সাইজের হতাম তাহলে চারপাশের পরিচিত দৃশ্য দেখতে কেমন লাগবে আমাদের কাছে?মশাকে কি দানব মনে হবে না?
কিংবা এন্টম্যান হয়ে পুকুরে বা নদীতে ঝাপ দিলে অতিক্ষুদ্র জীবগুলো তখন আমাদের নিকটে কি বিশাল ঠেকবে না?

ধরুন,আপনার কাছে অনেক চাপ ও তাপ প্রতিরোধী স্যুট এবং শক্তিশালী ড্রিল মেশিন আছে যা দিয়ে আপনি পৃথিবীর কেন্দ্রে ভ্রমণ করতে পারবেন।
কেমন হবে সে ভ্রমণকাহিনী? আপনি কি ভূ-পৃষ্ঠের স্তরে স্তরে সাজানো গল্পটা পড়তে পারবেন?

কিংবা আপনি টাইম ট্রাভেল করে চলে গেলেন পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে।কি দেখবেন তখন?

আপনার আয়ু যদি কোটি কোটি বছর হয় তাহলে পৃথিবীর কালের গহবরে লুকানো ইতিহাস পড়ে ফেলবেন নিশ্চয়ই!!
দেখতে পাবেন সেই আদিম পৃথিবীতে কীভাবে প্রাণের উদ্ভব ঘটলো এবং সেই আদিম প্রাণী থেকে পরিবর্তিত হয়ে আজকের এই বিশাল জীবজগৎ এলো।

হ্যাঁ, আমি বলছি বিজ্ঞান বিষয়ক এমন একটি বইয়ের কথা যেটাতে লেখক গল্প বলে কল্পনায় আমাদের ঘুরিয়ে আনবেন পৃথিবীর কেন্দ্রে বা পাঠিয়ে দিবেন আদিম পৃথিবীতে।

বইটিতে মাত্র তিনটি অধ্যায় রয়েছে।

⚫প্রথম অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়ে লেখক আপনাকে পিপড়ে বানিয়ে পুকুর কিংবা নদীতে ফেলে দিয়ে এক মজার জগৎ থেকে ঘুরিয়ে আনবেন।গল্প ছলে বলবেন পানিতে বাস করা জীবদের ভৌতিক কাহিনি।

⚫দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়ে লেখক আপনাকে স্যুট-ম্যুট পরিয়ে(সাথে ড্রিল মেশিন তো আছেই) নিয়ে যাবে পৃথিবীর কেন্দ্রে যেখানে স্তরে স্তরে সাজানো গল্প পড়তে পড়তে আপনি প্রফুল্ল চিত্তে পৌঁছে যাবেন।

⚫তৃতীয় অধ্যায়ঃ এই অধ্যায়টা মূলত বিবর্তনের।লেখক আদিম পৃথিবী থেকে এ পর্যন্ত জীবজগতের পরিবর্তনকে খুব সুন্দরভাবে গল্পে গল্পে বুঝিয়েছেন।সাথে বিবর্তনের ব্যাসিকসহ মেকানিজম ব্যাখা করেছেন।বিবর্তন বিষয়ে জানতে চাইলে এটা মাস্ট রিড।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ লেখকের গল্প বলার ঢং এর প্রশংসা করতে হয়।অনেক তথ্যবহুল বই এটি।লেখক একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়েও বায়োলজি বেশ ভালোই বুঝেন এবং বুঝাতে পারেন।

বেশি করে ছবি স���যোজনের ব্যাপারটা ভালো লেগেছে যেটা আমাকে বিবর্তনের ফ্লো বুঝতে সাহায্য করেছে।আপনি পড়ার সময়ে ছবিগুলো ভালোভাবে খেয়াল না করলে কাহিনি বুঝতে অনেক কষ্ট হবে।

লেখকের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে লেখককে বলবো বিবর্তন বুঝাতে গিয়ে গল্পটা বোধহয় একটু বেশিই করে ফেলেছেন।টীকা যোগ করার সময় টীকা নাম্বার সুপার স্ক্রিপ্ট করে দেওয়া উচিত ছিলো কারণ এটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।


[আপনি বিবর্তন না মানলেও বইটি পড়তে পারেন।তাহলে আপনি বিবর্তনের বিস্তারিত জানলেন এবং সমালোচনা করে বানরতত্ত্বে বিশ্বাসীদের দাঁত ভেঙে দিতে পারবেন]
2 reviews
August 1, 2024
এসএসসির পর একাডেমিক প্রেসার না থাকায় আরাম করে বেশ কিছু বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। তার মধ্যে একটা হলো নাঈম হোসেন ফারুকীর লেখা সায়েন্সভেঞ্চার। এই বইটা কিনে রেখে দিয়েছিলাম বেশ আগে। কিন্তু বায়োলজির বই পড়ার চেয়ে ফিজিক্স ম্যাথের বই পড়লেই ভালো হবে ভেবে পড়া হয়েছিলো না। আসলে আমি আগে ভাবতাম বায়োলজি মুখস্থ করার জিনিস। এতে বোঝার, আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই, যেমনটা ফিজিক্স, ম্যাথে আছে। যাহোক, বইয়ের ভেতরের বাহারি সব জীব-জন্তুর ছবি দেখে সামান্য আগ্রহ জাগলো। পড়ে ফেললাম। বই পড়ার অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো না। মনে হয়েছে আমি শ্রেফ গল্প পড়ছি, কিন্তু আসলে সেই গল্পের ছলে শিখে ফেলছি কতকিছু! এ বইয়ের বায়ো অংশ দুইটা, প্রথম অধ্যায়ে মার্ভেলের পিচ্চি অ্যান্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাপিয়ে পড়া, বিচিত্র সব প্রাণিদের সাথে দেখা হওয়া আর শেষে ভয়ানক এক উদ্ভিদের পেটে চলে যাওয়া! সবকিছুই অতিমাত্রায় বাস্তব মনে হয়েছে। এরপরের অধ্যায়টা জিওগ্রাফির, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আর চমকপ্রদ সব তথ্যে ভরপুর এই অংশটা। তৃতীয় অধ্যায়টাই বইয়ের মূল অংশ- পৃথিবীর জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাস। কীভাবে জীবের উৎপত্তি, জীব আসলে কী?! এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভেঙে ভেঙে বোঝানো হয়েছে। এই পুরো অধ্যায় জুড়ে বিবর্তনের একটা স্ট্রং বেসিক তৈরী করা হয়েছে। খণ্ডন করা হয়েছে বিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু প্রচলিত ফালতু ভুল ধারনা। পাঠানো হয়েছে ভয়ানক সব মিশনে। তাছাড়াও দেয়া হয়েছে আদিম পৃথিবীর অদ্ভুত সব জীবের সাথে মানুষের আকারের তুলনামূলক চিত্র, যা থ্রিডি সিমুলেশনের মতো জীবকে সামনে থেকে দেখার অভাবনীয় অনুভূতি দেয়। বইয়ের শেষের দিকে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মানুষের বিবর্তন বোঝানো হয়েছে। সবশেষে, মানব বিবর্তনের প্রায় সবগুলো ধাপের ফসিলের ছবি আর রেফারেন্স লিংক। বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় লাইন-
"তুমি চারশো ষাট কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল।" - এই লাইনের মর্ম বুঝতে পারবেন কেবল পুরো বই পড়লে। রেটিং দিয়ে ছোটো করা বই নয় এটা। জীববিজ্ঞান যে নিছক মুখস্থের বিষয় নয়, বরং অস্বাভাবিক রকমের ইন্টারেস্টিং তা অনুভব করতে চাইলে এই বই অবশ্য পাঠ্য।
2 reviews
April 28, 2021
বইয়ের শুরু হয়েছে অধ্যায় ১এ নোংরা পুকুরের আশ্চর্য রহস্যময় দুনিয়া নিয়ে। যেখানে আপনি ০.১ mm সাইজের হয়ে পুকুরের জীবজগৎ সম্পর্কে জানতে পারবেন।এখানে বিভিন্ন শৈবাল, ফাঙ্গাস, প্রটোজোয়া, হাইড্রা,ডাইভিং বিটল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ২য় অধ্যায় আলোচনা করা হয়েছে ভূত্বকের গঠন।যেখানে আপনি শক্তিশালী ড্রিল মেশিনে করে পৃথিবীর কেন্দ্রে যাত্রা শুরু করবেন।যাত্রা পথে জানতে পারবেন ক্রাস্ট, ম্যান্টেল, টেকটোনিক প্লেট, আগ্নেয়গিরি, কিছু ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে। এসব জানতে জানতে আপনি চলে যাবেন পৃথিবীর কোর এ। যেখান থেকে উৎপন্ন হয় পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড।জানতে পারবেন কিভাবে ম্যাগনেটিক ফিল্ড সোলার উইন্ড থেকে আমাদের রক্ষা করে। কারন ৩ য় অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস। শুরুটা হয়েছে পৃথিবী আর থিয়ার সংঘর্ষ দিয়ে।যার প্রভাবে পৃথিবী ঘুরতে শুরু করল।উত্তপ্ত হলো পৃথিবী পৃষ্ঠ।শুরু হল নতুন অধ্যায়। পরের অংশে আলোচনা করা হয়েছে প্রানের উৎপত্তি নিয়ে। পরে বিবর্তন এর কিছু বেসিক জিনিস। কিভাবে ফসিল দ্বারা বয়েস নির্ধারন করা হয়।কিভাবে ফসিল তৈরি হয়।এসব নিয়ে আলোচনার পর শুরু হবে নারকীয় পৃথিবীর ( হেডিয়ান যুগ) গল্প। এ ইওনের শেষ থেকেই হবে প্রানের শুরু।RNA world hypothesis.।এরপর শুরু হবে আর্কিয়ান ইওন। মহান সায়ানোব্যাক্টেরিয়ার উৎপত্তি।এবং তাদের নিজেদের পায়ে কুড়াল চালিয়ে পরবর্তী প্রানীদের সুবিধা করে দেওয়ার গল্প ।আইস এইজের শুরু।প্রোটোজোয়িক ইওনের শুরু।প্রোটিস্টার আগমন।স্পঞ্জের আগমন।ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের প্রানের বন্যা।কিংডম প্লান্টির আগমন ( যারা না থাকলে ডাঙার প্রানীদের অস্তিত্ব থাকত না)। দৈত্যাকার সামুদ্রিক বিছা।পোকামাকড় এর রাজত্ব।। ১ ফুট চওড়া মাকড়সা।২২ ইঞ্চি চওড়া পোকা। সরিসৃপ দের রাজত্ব, ডাইনোসর এর আগমন। গন বিলুপ্তি।কোয়ার্টানারী তে ম্যামেল দের রাজত্ব মানুষের উৎপত্তি। বইয়ের পরিসর অনেক বেশি।সব কিছু রিভিউতে রাখা সম্ভব না।লেখক কঠিন ব্যাপার গুলও বেশ সহজভাবে বুঝিয়েছেন। সবথেকে ভাল লেগেছে বিভিন্ন ছবি আর বিবর্তন ট্রির ব্যবহার
3 reviews
September 12, 2021
#বুকরিভিউ
বইয়ের নামঃ সায়েন্সভেঞ্চার
লেখাঃ নাঈম হোসেন ফারুকী

বায়োলজিতে সবসময়ই আমার অনীহা। তবে বিবর্তনপাঠ এর ব্যতিক্রম। বিষয়টি নিয়ে জানার পর থেকে বিভিন্ন আর্টিকেল বা ইংরেজি বই থেকে এ সমন্ধে জানার চেষ্টা করেছি।তারই পরিপ্রেক্ষিতে সায়েন্সভেঞ্চার বইটি পড়া।লেখক শুরুতেই বিবর্তন নিয়ে কপচাননি।১ম অধ্যায়ে অ্যান্টম্যান বানিয়ে পুকুরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।অন্তত এই একটি কারণ হলেও মানুষ হয়ে জন্মানোর মধ্যে সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি।ছোট হয়ে জন্মালে চারপাশে সবাই আমাকে মৃত্যুস্বাদ দেয়ার জন্য যে অধীর আগ্রহে বসে থাকতো তা ভাবলেই শিউরে উঠি।পরের অধ্যায়েও বিবর্তন নিয়ে আলোকপাত করা হয়নি তেমন।এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। পৃথিবীর মহাদেশগুলো কেন বিভক্ত হলো,কেন ভূমিকম্প হয়,প্যাঞ্জিয়া প্রক্সিমা কবে হবে,মেরু ধারণা, অরোরা সহ নানা বিষয়ে লেখক আলোচনা করেছেন।মূলতঃ অধ্যায় ৩ থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের এই পৃথিবীর ইতিহাসের সূচনা।শুরু হয়েছে প্রাণের সঙ্গা দিয়ে।এরপর ধীরে ধীরে বিবর্তন, ফসিল, জীবের বয়স নির্ণয় পদ্ধতি দিয়ে আগানো হয়েছে।এরপর ঢুকে পড়া হয়েছে হেডিয়ান যুগে এবং আস্তে আস্তে পুরো ৪৬০ কোটি বছরের একটা সামারি তুলে ধরা হয়েছে।শুধু তাই নয় বরং প্রাণীরা দেখতে কেমন ছিল, তাদের খাদ্যাভ্যাস নির্বিশেষে জীবনযাপন বর্ণিত হয়েছে।আপনি বইটি পড়তে চাইলে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলতে পারবেন তবে আমার মনে হয় যথেষ্ট টাইম নিয়ে পড়া উচিৎ। এনসাইক্লোপিডিয়া টাইপের বই তাই অনেক তথ্য আছে তাই সময় করে তথ্য গলাধঃকরণ করেই বইটি পড়া উচিৎ। কারণ আপনি কারো কাছে পুরো ইতিহাস বর্ণনা করতে গেলে অবশ্যই তথ্যাদি উপস্থাপন করতে হবে।তবে বইটি কিন্তু বিবর্তনের প্রমাণ বিষয়ক নয়।বিবর্তনকে প্রমাণিত ধরে(এবং তা প্রমাণিতই) সম্পূর্ণ ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে।
Profile Image for Khachar vitor  Ochin  Pakhi .
8 reviews
January 8, 2023
বই - সায়েন্সভেঞ্চার
লেখক - নাঈম হোসেন ফারুকী
বিষয়- জীববিজ্ঞান

খুব ছোটবেলায় আমার আঁকার খাতা জুড়ে থাকতো সাগরতলের ছবি। সাগরতলের জীবদের বিচিত্র সব ছবি আঁকতাম। সেসব ছবিতে যতটা না থাকতো বাস্তবতা,তার চেয়ে অনেক বেশি থাকতো আমার নিজের কল্পনার ছোঁয়া।
মাছ,অক্টোপাস,সামুদ্রিক গাছ - এসবের গায়ে আঁকতাম বিচিত্র সব নকশা! এই বইটার শুরুতেই লেখক নিয়ে গেছেন গ্রামের সাধারণ নোংরা পুকুরের আশ্চর্য রহস্যময় দুনিয়ায়।দেখেছি ভলভক্স,ড্যাফনিয়া,ইউগ্লিনা,প্যারানিমাসহ আরো অনেক বিচিত্র জীবকে! বলা বাহুল্য তাদের রূপ এবং কাণ্ডকারখানা আমার সেই ছোটবেলার উদ্ভট কল্পনাগুলোর চেয়েও অদ্ভুত! এরপরে ডুব দিয়েছি মাটির নিচে।
গিয়েছি ভূগর্ভের সব স্তরে। শুনেছি টপ সয়েল,সাব সয়েল,ক্রাস্ট,ম্যান্টেল আর পৃথিবীর কোরের গল্প। এরপর লেখক বুঝিয়েছেন বিবর্তন কী,কীভাবে কাজ করে।
ভুল ধারণাগুলো ভেঙেছেন। এর স্বপক্ষের বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরেছেন। ফসিল কী,কীভাবে হয়,ফসিলের বয়স কীভাবে বের করা হয়,ফসিল আমাদের কী কী জানায়- এসবও বুঝিয়েছেন সাবলীলভাবে।
এরপরেই শুরু হয়েছে আশ্চর্য সুন্দর সেই যাত্রা যে যাত্রায় টাইম মেশিনে করে লেখকের সাথে দেখে এসেছি ৫৪ কোটি বছরের জীবনের ইতিহাস। থ্রিলারের দুর্ধর্ষ সব গল্পের ছলে বলা হয় ৫৪ কোটি বছরের জীবনের সত্য ইতিহাস! দেখেছি এডিয়াকারানের গাছের মতো এলিয়েন জাতীয় প্রাণীদের। বেরিয়েছি পিকাইয়া শিকার করতে। সংজ্ঞা হারিয়েছি হ্যালুসিনেশন জাগানিয়া আদিম জীব হ্যালুসিজেনিয়াকে দেখে।আদিম পৃথিবীর দানবদের ভয়ে অস্থির হয়েছি!!!
কার্বোনিফেরাসের বিরাট বিরাট তেলাপোকা,ফড়িঙ দেখে গা গুলিয়ে এসেছে!
এ যেন এক বর্ণনাতীত নিঃসীম সুন্দর উপাখ্যান! হাতে সময় নেই। যা মাথায় এলো লিখে গেলাম। পারিনি সুন্দর একটা রিভিউ লিখতে... তবে,আশা করি প্রকাশিত হয়েছে বইটাকে ঘিরে জন্ম নেয়া আমার পরম আনন্দ...
Profile Image for আকাশ আব্দুল্লাহ.
92 reviews29 followers
February 25, 2024
This book gives you the rare opportunity to start a time journey back from the formation of our beloved earth to the present time and shows how life evolved from a single nucleic acid to much complex multicellular organism throughout these 4.2 billion years. You won't never feel any boredom reading this books as every page is like a wild adventure in the prehistoric earth. You will get to see gigantic prehistoric animals and peculiar microbes, tree size moss and fungus, monstrous T. rex and most importantly, our ancestors. The only complain I got for this book is it was too short despite being 300 page long. As 4.2 billion years of history is a damn big picture to portray, the writer was a bit haste in the later part of the book. I wouldn't have mind if the book was 500 page long.
Profile Image for Subrata Das.
164 reviews19 followers
December 24, 2021
খুবই ইনফরমেটিভ আর সুখপাঠ্য। বাংলাভাষায় এমন একটা বই খুবই প্রয়োজন ছিল। এ বইটি বিবর্তনবিরোধী আর অপবিজ্ঞানীদের জন্য মোক্ষম চপেটাঘাত।
5 reviews
April 23, 2023
The book is written for sale only on low quality paper. There is no education in it.
Profile Image for Ratul Basak.
2 reviews
December 31, 2022
আপনি কি বিজ্ঞানপ্রেমী? পৃথিবীর সৃষ্টি,জীবনের সৃষ্টি,মানুষের সৃষ্টি এসব কি আপনাকে ভাবায়? তাহলে এই বইটি আপনার জন্যই..

বইয়ের নামঃ সায়েন্সভেঞ্চার
লেখকঃ নাঈম হাসান ফারুকী
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৫০ টাকা
ফ্রমঃ প্রান্ত প্রকাশন

প্রথমেই বিসিবিকে ধন্যবাদ এত সুন্দর বিজ্ঞানচর্চার একটা প্লাটফর্ম তৈরী করার জন্য। বিসিবির কল্যাণেই সায়েন্সভেঞ্চার বইটি সম্পর্কে জানতে পারি। সূচিপত্র দেখার সাথে সাথেই বইটি কিনার ইচ্ছা জাগে।পরবর্তীতে অফার পেয়েই কিনে ফেলি এই জোস বইটি।

এবার মূল কথায় আসি। নাম শুনে বুঝতেই পারছেন এইটি অ্যাডভেঞ্চারের বই।বিজ্ঞানের অ্যাডভেঞ্চার,আর একটু ইতিহাস। বইয়ের শুরুতেই লেখক আপনাকে নিয়ে যাবে পুকুরের নিচে। তারপর সোজা পৃথিবীর কেন্দ্রে। কিন্তু বইয়ের আসল মজা শুরু ৩য় অধ্যায় থেকে। এখানে আছে প্রাণ সৃষ্টির ইতিহাস,এককোষী থেকে বহুকোষী উন্নত প্রাণী সৃষ্টির ইতিহাস। আর এতকিছুর পিছনে আছে সিম্পলি বিবর্তন।
যাদের আবার বিবর্তন বুঝতে সমস্যা,তাদের জন্য বইয়ের শুরুতেই প্রাণ কি,বিবর্তন কি,বিবর্তন কিভাবে হয়,বিবর্তনের প্রমাণ কি এসব ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। সাথে বোনাস হিসেবে থাকছে ফসিলের ব্যাখ্যা। তাই পরবর্তীতে বইটি বুঝতে কোনো সমস্যাই হবে না।

বইটির পরবর্তী অংশে আপনি পৌঁছে যাবেন ৪৬০ কোটি বছর আগের নারকীয় পৃথিবীতে। যেখানে প্রাণের স্পন্দন পাওয়াও অসম্ভব। কিন্তু আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসে থিয়া। পৃথিবীতে আবির্ভাব হয় ঋতুর। অবশেষে নরকতুল্য হেডিয়ান যুগের অবসান ঘটিয়ে আর্কিয়ান যুগে পা দেয় পৃথিবী। কালের বিবর্তনে সৃষ্টি হয় প্রথম প্রাণ। আদি কোষী প্রাণী। তারপর আসে প্রোটারোজয়িক যুগ। জন্ম হয় বহুকোষী প্রাণীর। এভাবে চলতে চলতে অবশেষে কোয়ার্টার্নারি যুগে আসি আমরা অর্থাৎ মানুষ (মাঝখানে আরো অনেকক ধাপ)। এই পর্যায়ে এসে বইয়ের এই লাইন দেখে থামতে আপনি বাধ্য-

"তুমি হোমো সেপিয়েন্স, কিন্তু একই সাথে তুমি হোমিনিনি,হোমিনিডি,হোমিনইডি,সিমিয়ান, প্রাইমেট আর ম্যামাল।তুমি সিন্যাপ্সিড,তুমি বাইল্যাটারিয়া,তুমি কর্ডাটা।তুমি অ্যানেমেলিয়া, তুমি ইউক্যারিওটা। তুমি ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস। "

একটু সমালোচনা-
১) বইয়ের বেশকিছু ছবি বুঝাই যাচ্ছিল না। কষ্ট হয়েছে বুঝতে
২) কিছু কিছু বিষয় তাড়াতাড়ি বুঝাতে গিয়ে লেখাটা একটু জটিল হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার পড়ে বুঝতে হয়েছে।
৩)মাঝখানে মাঝখানে কয়েকটি প্রাণী হঠাৎ করেই চলে এসেছে। কার থেকে এসেছে ওইটা জানানো হয়নি।এইটা আরেকটু ক্লিয়ার করে যেত হয়তোবা।

সবশেষে, বইটা এতটাই ভালো ছিল যে এই সমালোচনা গুলো কিছুই না।পুরা বইটাই ছিল ইনফরমেটিভ । বিজ্ঞানপ্রেমী হিসেবে একটিবার বইটি পড়াই যায়

Personal Rating: 8/10
Profile Image for Asma Akter.
11 reviews
October 5, 2022
প্রথমে ধন্যবাদ লেখকে বায়োলজিকে এত সুন্দরভাবে গল্পের চলে তুলে ধরার জন্য এবং আমাকে বইটা গিফট করার জন্য। ধন্যবাদ দেওয়ার বিশেষ আরেকটা কারণ হচ্ছে বায়োলজির প্রতি আমার বরাবরই অনীহা কাজ করতো এখনো কাজ করে না যে তা নয় একাডেমিক বায়োলজি বইয়ের গৎবাঁধা কেচ্ছা কাহিনি পড়তে পড়তে বিরক্তির চরম শেকরে পৌছানোর পর এই বইটা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।

( দুঃখীত রিভিটা সম্পূর্ণ নয়)
৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস।


না না আমাদের সমাজ বইয়ের সেই মোগল যুগ, পাল যুগ, ইংরেজ শাসন যুগের ইতিহাস না। যুদ্ধ, খুনাখুনি করে রাজ্য দখলের ইতিহাসও না।

এটা হলো পৃথিবীর ইতিহাস। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত সময়ের ইতিহাস।

" মাটির নিচে আছে অন্ধকার দুনিয়া। সেখানে বাস করে অমঙ্গলের দেবতা হেডিস। তার দুই অনুচর - কষ্ট আর ভয়। "
--- হারকিউলিস

শুরুতে লেখক আপনাকে ছোট অ্যান্টম্যান বানিয়ে ছেড়ে দিবে নোংরা পুকুরের বিচিত্রময় দু���িয়ায়। যেখানে অপেক্ষা করছে চমক আর চমক। পুকুরের দুনিয়ায় আপনার চারপাশে ঘুরে বেড়াবে বিচিত্র রকমের প্রাণী। যাদের কাউকে দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন। আবার কাউকে দেখে আপনি ভয়ে কুঁকড়ে যাবেন।

আপনাকে যদি কোথাও ঘুরতে বলা হয় আপনি কোথায় যাবেন??
হয়তো লন্ডন, আমেরিকা,সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো। কারো কারো অঢেল টাকা পয়সা থাকে শুক্র, শনি কিংবা বৃহস্পতির বুকে যেতে মন চাইবে।
কখনো কি পৃথিবীর কেন্দ্র যাওয়ার ইচ্ছা জেগেছে? হাজার হাজার সেন্টগ্রেড তাপমাত্রা পৃথিবীর পেটের ভেতরে ঘুরে আসার ফিল কি হবে তা বইটা পড়ে কিছুটা আঁচ করা যায়।
হেডিয়ানের মরা পৃথিবী। যখন না ছিল গাছ না ছিল প্রাণী। কোষ নামের কোনো অস্তিত্ব ছিল হেডিয়ানের যুগে। DNA, RNA মাত্র তৈরী হতে শুরু করে সেই ইওন পাড় করে পৃথিবীতে শুরু হবে ব্যাকটেরিয়ার রাজত্ব।নীলভ গ্রহ পৃথিবী তখন সবুজে ছিল সবুজে আবৃত। আর্কিয়ান ইওন রাজা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার ত্যাগে প্রোটারোজয়িক ইওনের শুরু। শুরু বহুকোষী প্রাণীর জন্ম।

ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে ম্যারলা ফ্রাই খেতে খেতে ডুকে যাবেন মাছের দুনিয়ায় (অর্ডোভিসিয়ান যুগ)।সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিচিত্র সব মাছ।অর্ডোভিসিয়ানের যুগ ঘুরে আসার সাথে সাথে ঘুরে আসবেন সাইলুরিয়ান, ডেভোনিয়ানের যুগে ( এক টিকিটে তিন দুনিয়ায় ভ্রমন)

Displaying 1 - 27 of 27 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.