ধোঁয়াশা—আগাগোড়া ধোঁয়ায় মোড়ানো একটা শহর। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের বিচিত্র সব ব্যবহার দেখার জন্য এই শহরে আপনাদের আসতেই হবে। এমন সাজানো-গোছানো শহর নিয়ন্ত্রণ করে একজন মেয়র। শহরবাসীর চোখের মণি তিনি। শহরের সবখানে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও শহরের বাইরে যাবার অনুমতি দেন না মেয়র সায়মন। কিন্তু তারুণ্য কি উটকো বাঁধা-নিষেধ মেনেছে কোনোদিন? তন্ময়দের চার সদস্যের অনুসন্ধানী দল “স্টিম ব্রিগেড ” তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য স্থির করে নিলো। শহরের রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া একটা ম্যাপ ইন্ধন দিলো এক অদ্ভুত রহস্যভেদ করার। শহরের বাইরে আসলে কী আছে? খোঁজ নিতে গিয়ে জট খুলতে থাকলো একেক পর এক। বেরিয়ে এলো শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা এক লোমহর্ষক অতীত!
ভিক্টোরিয়ান যুগের বাষ্প-নির্ভর যান্ত্রিক ব্যবস্থা (কারখানা, যন্ত্র, যানবাহন) উপজীব্য করে গড়ে ওঠে স্টিমপাঙ্কের দুনিয়া। আর ভিক্টোরিয়ান যুগের পোশাক-পরিচ্ছদ তো আছেই। ফিলিপ পুলম্যানের His dark Materials-এর লাইরার দুনিয়াটা আমার দেখা অন্যতম সেরা স্টিমপাঙ্ক দুনিয়া। এছাড়া Mortal Engines বই/সিনেমা, Bioshock গেইম, Love, Death + Robots সিরিজের s01e08, এইসবেও স্টিমপাঙ্ক দুনিয়ার চমৎকার চিত্রায়ন দেখতে পাবেন। স্টিমপাঙ্কের দুনিয়া-নির্মাণে জাকিউল অন্তু যারপরনাই ভালোই খেল দেখিয়েছেন। তৈরী করেছেন একটা বিচ্ছিন্ন শহর, 'ধোঁয়াশা', যা পুরোপুরি বাষ্পের ওপর নির্ভর করে। বিচিত্র যানবাহন যেগুলো 'সরাস' নামে পরিচিত, সেগুলো যেমন আছে, আবার সরাস নির্মাণ ঘিরেও শহরে নানারকম শিল্প এবং কর্মী শ্রেণি তৈরি হয়েছে। কেউ সরাস বানায় তো কেউ মেরামত করে, সরাসের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে কাজ করারও আলাদা এলাকা আলাদা ইন্ডাস্ট্রি আছে। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পোশাল-আশাক তো দেখিয়েছেনই। আর এই সবকিছুতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে অনিক সরকারের আঁকা। অনিক সরকার, যাকে আলাদা করে 'ভিন্নধারা কমিক্স'-এর 'অমর্ষ' থেকে চিনতে পারেন আপনারা। প্রতি অধ্যায়ে অনিকের অনবদ্য ইলাস্ট্রেশনের জন্য ধোঁয়াশা বইটা অন্য মাত্রা পেয়েছে। আর আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছে শহরের মানচিত্র! সেটা আবার এতটাই পরিষ্কার এবং চিহ্ন-অঙ্কিত ছিল যে বই পড়ার সময় ঘটনাবলীর সাথে মিলিয়ে নিতেও সমস্যা হয়নি।
সর্বোপরি, সংক্ষিপ্ত একটা বই, কয়েক পাতা করে যার একেকটা অধ্যায়। অনায়াসে পড়ে ফেলা যাবে। বইয়ের কাহিনী একান্ত শিশুসুলভ না হলেও ভেতরে বেশকিছু খামখেয়াল আছে। আমি অবশ্য এটাকে খারাপ বলবো না, বইটা তাতে করে নিঃসন্দেহে 'বাচ্চাদের বই' হিসেবে বাচ্চাদেরকেই পড়তে দিতে পেরেছি, তারাও বেশ উপভোগ করেছে।
চমৎকার ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিঙের এই বইটার কাহিনী খুব ঝরঝরে, একেবারে প্রথম অধ্যায়েই একশান সিকোয়েন্স শুরু হয়ে গিয়েছে, আর লেখক নিজের মতো যেসব যানবাহন, অস্ত্র, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন সেগুলো ভিন্নমাত্রা তো দিয়েছেই!
“Steampunk is...a joyous fantasy of the past, allowing us to revel in a nostalgia for what never was. It is a literary playground for adventure, spectacle, drama, escapism and exploration” ― George Mann - ধোঁয়াশা - ধোঁয়াশা হচ্ছে বাষ্পচালিত এক শহর, আপাতদৃষ্টিতে মোটামুটি আদর্শ শহর বলতে যা বোঝায় এটি ঠিক তেমনই। মেয়র সায়মনের শাসনকালে শহরের লোকজন মোটামুটি খুশি। কিন্তু এক অজানা কারণে শহরের লোকজনের এই শহরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। স্বভাবতই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি অনেকের আগ্রহ থাকায় শহরের বাইরের যাওয়ার ব্যাপারে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে গঠিত হয় "স্টিম ব্রিগেড" নামের একটি দল।
তন্ময়, অনিক, প্রজ্ঞা এবং পারমিতা- এই চার জনকে নিয়ে গঠিত এই দলের মূল লক্ষই ধোঁয়াশা এর বাউন্ডারি এর বাইরে কি আছে তা জানার চেষ্টা করা। তাদের এই প্ৰচেষ্টায় জড়িত হয় উড়ন্ত ক্যাফে "ক্যাফে ফার-ইন" এর দুই ভাই বোন তাজিন এবং ফারিন। তারা সবাই মিলে ধোঁয়াশা শহরের আসল রহস্য বের করতে গিয়ে জানতে পারে ভয়াবহ কিছু সত্য। এখন ধোঁয়াশা শহরের আসল রহস্য কি এবং স্টিম ব্রিগেডের সদস্যদের শেষ পর্যন্ত কি পরিণতি হয় তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক জাকিউল অন্তু এর স্টিমপাঙ্ক জনরার বই “ধোঁয়াশা”। - “ধোঁয়াশা” মূলত স্টিমপাঙ্ক ধারার একটি বই। স্টিমপাঙ্ক জনরাটি বোঝার জন্য কিছুদিন আগে লেখা একটি আর্টিকেলের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি। মূলত পাঙ্ক ভিত্তিক কল্পবিজ্ঞানের কথা উঠলেই প্রথমেই উঠে আসে স্টিমপাঙ্কের কথা। স্টিমপাঙ্ক জনরার বইয়ের পটভূমি হয় সাধারণত ভিক্টোরিয়ান সময়ের লন্ডন বা ইউরোপের কোন শহর কিংবা সে ধরণের সেটিং এর সেকেন্ডারি কোন ওয়ার্ল্ড। তবে এ ধরণের গল্পে সেই সময়ের চেয়ে অনেক উন্নত ধরণের প্রযুক্তি পাওয়া যায় যা মূলত স্টিম ইঞ্জিন বা বাষ্পশক্তি দিয়ে চালানো হয়। পুরোনো সময় আর আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে ফিকশনের এর এক অনন্য ধারা হলো স্টিমপাঙ্ক। কাহিনীগত দিক দিয়ে অনেক সময় এই শাখার গল্পের সাথে কল্পবিজ্ঞানের আরেক শাখা “অল্টারনেটিভ হিস্টোরি” এবং ফ্যান্টাসি জনরার শাখা "গ্যাসল্যাম্প ফ্যান্টাসি" এর সাথে বেশ মিল পাওয়া যায় । চেরি প্রিস্ট-এর “বোনশেকার”, গেইল ক্যারিগারের “সোউললেস”, স্কট ওয়েস্টারফিল্ড-এর “লিভায়াথান” এই শাখার উজ্জ্বল উদাহরণ। এ শাখার অন্যতম এক প্রশাখা হলো ডিজেলপাঙ্ক যেখানে স্টিম ইঞ্জিন এর বদলে ডিজেল চালিত অত্যাধুনিক কোন যন্ত্র থাকে। শন ওয়ালেস-এর “দ্য ম্যামোথ বুক অফ ডিজেলপাঙ্ক”, ক্যারেন কিন্সি এর "শ্যাডোজ অফ এসফোডেল"- এই ধারার লেখা। বাংলা ভাষায় সাম্প্রতিক সময়ে সুমিত বর্ধন এর "অর্থতৃষ্ণা" স্টিমপাঙ্ক ঘরানায় লেখা হয়েছে। আমার জানামতে বাংলাদেশের প্রথম স্টিমপাঙ্ক ধারার লেখা হচ্ছে লেখক জাকিউল অন্তু এর লেখা “ধোঁয়াশা” যার ভেতরে কিছুটা ডিজেলপাঙ্ক এর ছোঁয়াও রয়েছে। - “ধোঁয়াশা” বইয়ের সবচেয়ে ভালো জায়গা আমার দৃষ্টিতে এর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং। বইয়ের সেটিং এক ফিকশনাল সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে হওয়ায় এর যানবাহন, নানা ধরণের তরল এবং এর ব্যবহার কিংবা বইয়ের প্রাণী থেকে শুরু করে অস্ত্র শস্ত্রে প্রচুর নতুনত্বের দেখা পাওয়া যায় যা এই ধারার বই না পড়া পাঠকদের অবাক করতে পারে, স্টিমপাঙ্ক নিয়ে হালকা পাতলা ধারণা থাকার পরেও বাংলা ভাষায় এ ধরণের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং আমাকে চমৎকৃতই করেছে। এই ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংকে কেন্দ্র করে যে কাহিনিটি ঘটেছে বইতে তা অনেকটাই কিশোর পাঠক সুলভভাবে লেখা হয়েছে যা খানিকটা প্রেডিক্টেবল লেগেছে আমার কাছে। বইটি পড়ার সময় আমার বার বারই মনে হয়েছে এ ধরণের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এর সাথে আরো সাস্পেন্সফুল কাহিনি থাকলে বইটা আরো জমতো। তবে বইয়ের একবারে শেষ অধ্যায় আবার বেশ ভালো লাগলো। অনেক প্লটের ব্যাপারে ধোঁয়াশা রেখেই বইটি শেষ হয়েছে, তাই সিক্যুয়াল আসবে যে বইটির তা ধরে নেয়াই যায়। - “ধোঁয়াশা” বইটির চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে আমার মতামত খানিকটা মিক্সড। পার্সোনালি মনে হয়েছে দলনেতা তন্ময় এর চেয়ে অনিক বেশি ফোকাস পেয়ে গেছে। স্টিম ব্রিগেডের বাকি সদস্যদেরও নিজেদের ক্ষেত্র বাদে বাকি ক্ষেত্রে অনেক সময় ডাম্ব টাইপের একেকটা চরিত্র মনে হয়েছে যা ইজিলি এভোয়েড করা যেতে পারতো। এদের থেকে সায়েন্টিস্ট "জিবরান" চরিত্রটি ইন্টারেস্টিং লাগলো। বইয়ের এন্টাগোনিস্ট এর চরিত্রও তেমন ভয় বা সাসপেন্স তৈরি করতে পারলোনা যে ধরণের ভয়াবহ চরিত্রের পূর্বাভাস বইয়ে দেয়া হচ্ছিলো। বইয়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের ইলাস্ট্রেশন থাকায় চরিত্রগুলোর আকার আকৃতি সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়, বর্ণনাও ঠিক তেমন সহজবোধ্য হলে আরো ভালো লাগতো। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর পোশাক-পরিচ্ছদের বর্ণনায় যেমন শুধু ফেডোরা, অ্যাসকট ইত্যাদি বলার চেয়ে ফেডোরা হ্যাট, অ্যাসকট টাই এভাবে বর্ণনা করলে বুঝতে সুবিধা হতো। “ধোঁয়াশা” বইটি লেখকের প্রথম উপন্যাস, তার উপরে স্টিমপাঙ্ক এর মত থিমের উপরে লেখা, তাই এ ধরণের বর্ণনাভঙ্গি বেশিরভাগ সময়ই ইগনোর করে গেছি অবশ্য। - “ধোঁয়াশা” বইয়ের কারিগরি দিক থেকে দেখ��ে বইয়ের প্রোডাকশন জাস্ট ভালো মনে হয়েছে, খুবই ভালো আমি বলবো না। বইয়ের এই দিক থেকে সবথেকে ভালো জায়গা হচ্ছে ইলাস্ট্রেশন গুলো। এই বইয়ের প্রায় প্রতিটি ইলাস্ট্রেশনই ভালো লেগেছে আমার। এই ছবিগুলোর অঙ্কণ যিনি করেছেন এ কারণে উনাকে বিশেষ ধন্যবাদ। বইতে ছোটখাট বানান ভুল দেখলাম, যা সংখ্যায় ৪-৫ টার বেশি হবে না। বইটির প্রচ্ছদও মোটামুটি ভালোই, নামলিপি অবশ্য বইয়ের কভারের চেয়ে বইয়ের ভেতরেরটাই ভালো লেগেছে। - ওভারঅল, বাংলা সাহিত্যে স্টিমপাঙ্ক নিয়ে কাজ হচ্ছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। এই দেশের সাহিত্যে এই ঘরানা বলতে গেলে একেবারেই শিশু, তাই “ধোঁয়াশা” বইটি নিয়ে ভালো-মন্দ যাই হোক আরো আলোচনা হওয়া দরকার, তাহলে ভবিষ্যতে পাঠকদের এ রকমের আরো নতুন ক্যাটাগরির লেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। লেখকের পরবর্তী লেখাগুলোর জন্য শুভকামনা রইলো।
বই: ধোঁয়াশা লেখক: জাকিউল অন্তু জনরা: স্টিম পাংক, ডিস্টোপিয়ান, ফ্যান্টাসি প্রচ্ছদ: অনিক সরকার প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ প্রথম প্রকাশ: মার্চ ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০ মুদ্রিত মূল্য: ২৭০/-
স্টিম পাংক জনরা নিয়ে আমার ধারণা অল্পই ছিল। কিন্তু বইটা পড়ার সুবাদে অনেকটাই বুঝলাম আর গুগলেও ঘাটাঘাটি করে বাকিটা পুষিয়ে নিলাম। তবে সেই যাই হোক এবার বই নিয়ে বলি।
বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চলে একটি শহর "ধোঁয়াশা"। কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে গোছানো, পরিপাটি, শান্ত একটি শহর। এই শহরে বাইরে কি আছে তা নিয়ে কোনো ধারণা নেই শহরবাসীর যেনো বাকিসব নিষিদ্ধ এলাকা বা আদোও কোনো এলাকা আছে কিনা কে জানে! যৌবনের গরম রক্ত যাদের শরীরে তারা কি সহজে কোনো নিষেধাজ্ঞা মানে? এমনই "স্টিম ব্রিগেড", চার বন্ধুদের গড়া একটি দল। যাদের দস্যিপনায় শহর অতিষ্ঠ থাকতো তারাই যে শহরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে কেউ কি ভেবেছিল?
বইয়ের জনরা বইয়েই উল্লেখ করা তবুও আমার কাছে ফ্যান্টাসিই বেশি মনে হয়েছে। প্রিয় জনরার প্রতি সাধারণত এক্সপেকটেশন বেশিই থাকে তাও আবার বাংলাদেশের প্রথম স্টিম পাংক উপন্যাস। প্লট বেশ দারুণ কিন্তু ডিটেলিং আমার কাছে কম মনে হয়েছে। একটার পর একটা ঘটনা দ্রুতই ঘটেছে। মনের মধ্যে যদি বইয়ের কাহিনী ঠিকঠাক কল্পনা করতে না পারি তাহলে উপভোগ করবো কী করে? জিবরানের খোঁজ পাওয়ার পর ভেবেছিলাম এবার কাহিনী জমবে কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি ধরা পড়া আবার ক্রনোসরাসকে এতো সহজে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলার জন্য হতাশ হয়েছি। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট, মেশিন, অস্ত্র ও অদ্ভুত রাসায়নিকের বর্ণনা। অনিক চরিত্রটা বেশ মজার। বাকি চরিত্রগুলোর চরিত্রায়নও মোটামুটি ভালোই হয়েছে। তবে ক্যাপ্টেন হক ও ক্যাপ্টেন ইগলের শেষ পরিণতি নিয়ে এখনও কনফিউজড। শেষের টুইস্ট চমকে দিয়েছে কিন্তু হঠাৎ সমাপ্তি ভালো লাগে নাই। ওভারঅল মোটামুটি লেগেছে।
Pros: I was really hyped for this from the very beginning. A valiant effort indeed. Something out of our reader's comfort zone. Lots of techs and elements. Writer knew what he was dealing with. World building was pretty good too. Illustrations were top notch! This is a decent start to something great (I hope).
Cons: Few characters were naive and some dialogues were too thin. Final 30% was written haphazardly which made me wince because Zakiul Anto was moving smoothly considering everything. Protagonist felt childish and didn't get much time. Steambrigade leader Tonmoy never felt like a leader. Also severe mistakes in paragraph spacing and quotation were hampering a smooth read. This book needed a good proofreader and editing. It would've been a much, much better book if only it had gone through a good editor.
I sincerely thank Zakiul Anto for bringing out something very, very new in our industry. Being a pioneer in a genre takes guts and effort. I will be the first ones to purchase the second book in the series.
READ THE BOOK AND DISCUSS ABOUT IT MORE GUYS! THIS ONE DESERVES IT!
যেমনটা ভেবেছিলাম তেমনটা নয় মোটেও। আশাহত হয়েছি বলা যেতে পারে। ইচ্ছা ছিলো বাংলাদেশের ফার্স্ট স্টিম পাংক থ্রিলারের একটা ডিটেইল রিভিউ দিবো। কিন্তু আলসেমিতে আর দেয়া হলো না। দেখি পরে কোন সময় সেকেন্ড রিড দিলে রিভিউ দিবো।
ধোঁয়াশা - আগাগোড়া ধোঁয়ায় মোড়ানো একটা শহর। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের বিচিত্র সব ব্যবহার এই শহরে। এই শহরের সামগ্রিক শক্তির উৎস উষ্ণ প্রস্রবণ অর্থাৎ গরম পানির ঝরণা থেকে উৎসারিত বাষ্প। ঝরণাটা মূলত একটি স্টিম ইঞ্জিনের বয়লার রুমের ঢাকনা। বিকট আয়তনের একটা ডিজেলের গামলা বসানো আছে শহরের ঠিক মাঝখানে, শহরের শক্তির আরেকটা গৌণ উৎস হচ্ছে ডিজেল। আর এই ডিজেলের মূল উৎস হলো ধোঁয়াশার মাটির নিচে থাকা পেট্রোলিয়াম খনি। এই ডিজেলেই চলে পুরো শহরের এয়ারশিপ, বাইক, ট্রেন আর সরাস ( অনেকটা ডায়নোসরের আদলে গড়া একধনের বিশেষ যানবাহন) । বাষ্পীয় ঝরণা আর ডিজেলের পাত্রকে সম্মিলিত ভাবে 'লাইফ স্ট্রিম ' নাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শহরের ভূ-তলে পাওয়া কয়লা পুড়িয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় বিদ্যুৎ শক্তি। শহরের একপ্রান্তে রয়েছে ফিরোজা রঙের স্বচ্ছ পানি বিশিষ্ট টারকুইজ নদী আর অপর প্রান্তে রয়েছে 'ক্লকওয়ার্ক ওয়াস্টেজ ' নামক ভাগাড় যেটা মূলত নষ্ট হয়ে যাওয়া মেকানিক্যাল জিনিসপত্রের স্তুপ।
এই সাজানো গোছানো শহর নিয়ন্ত্রণ করে একজন মেয়র। শহরবাসীর চোখের মণি তিনি। শহরের সবখানে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও শহরের বাইরে যাবার অনুমতি দেন না মেয়র সাইমন। কিন্তু কেনো? কী আছে শহরের বাইরে?
কিন্তু তারুণ্য কি উটকো বাধানিষেধ মেনেছে কোনোদিন? শহরের চারজন তরুণ তরুণী মিলে তৈরি করেছে এক গোপন টিম যার নাম ' স্টিম বিগ্রেড ', যাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো এবং বিভিন্ন অজানা ব্যাপার সম্পর্কে জানা। তারা একেকজন একেক বিষয়ে পারদর্শী। প্রথম প্রথম কোনো রকম নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ঘুরে বেড়ালেও একসময় তাদের বন্ধুত্ব হয় ক্যাফে ফার ইন এর মালিক তাজিন ও ফারিন দুই ভাইবোনের সাথে। আকস্মিক এক দূর্ঘটনায় পড়ে তাজিন ও ফারিনের সাথে স্টিম বিগ্রেড পৌছে যায় ভাসমান ক্লাউড স্টেশন নামক জায়গায় । যেখানে তারা পরিচিত হয় 'জম্বিটিন' নামক নতুন একধরনের ধরনের মানুষরূপী যন্ত্রের সাথে, যাদের চালিকা শক্তি হচ্ছে স্টিলোরিয়াম নামক একধরনের টিয়া সবুজ রঙের তরল। যার অস্তিত্ব পাওয়া যায় ধোঁয়াশার ভূ-তলে। তাজিন ও ফারিনের কাছ থেকেই তারা জানতে পারে জিবরানের ব্যাপারে যে কিনা ধোঁয়াশার সবচেয়ে নামকরা বিজ্ঞানী, যাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জিবরানের নামে প্রচুর আবিষ্কার থাকলেও পেটেন্ট নেই কোনোটির। তার যুগান্তকারী আবিষ্কারের নাম হলো 'জিবরাস্ট-১৩', যা যে-কোনো ধাতুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া বন্ধ করে তাতে মরিচা পড়া রোধ করে। এছাড়াও তার আরও কিছু আবিষ্কার নাগরিক কল্যাণেও বেশ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এমন মেধাবী একজন বিজ্ঞানী, জীবন দশায় যিনি কারও ক্ষতির কথা চিন্তাও করতে পারেননি। তার প্রতি কার এতো ক্ষোভ ছিলো, যেজন্য তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করতে হলো?
বিভিন্ন রকম অভিযান আর অনুসন্ধান করে স্টিম বিগ্রেড এর সামনে একের পর এক জট খুলতে থাকে, বেরিয়ে আসে শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা এক লোমহর্ষক অতীত। তারা জানতে পারে শহরে চলছে এক গোপন ষড়যন্ত্র, কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের পিছনে কাদের হাত আছে? তাদের মূল উদ্দেশ্য টা কি? এসব জানতে হলে আপনাকে বইটা পড়তে হবে।
বইয়ের সবকিছুই ঠিক ছিলো কিন্তু মেয়র সাইমন এর চরিত্রটা কিছুটা ছাড়া ছাড়া মনে হয়েছে, একেক জায়গায় একেক রকম। এতো ধূর্ত প্রকৃতির লোক যে কিনা এতোদিন ধরে সুণিপুন ভাবে শহরটা পরিচালনা করেছেন কিন্তু শেষ দিকে তার কর্মকান্ড কিছুটা বোকা বোকা লেগেছে। তাছাড়া ঈগল চাচা আর ক্যাপ্টেন হক এর অভিযান রহস্যটাও অজানাই রয়ে গেছে। শেষ অংশটুকু পড়ে যা মনে হচ্ছে বইয়ের পরবর্তী সিরিজ আসবে।
ডিস্টোপিয়ান বা ফিউচারিস্টিক সায়েন্স ফিকশনের আদলে অনেকটা ফ্যান্টাসি গোছের ভিক্টোরিয়ান ধারায় ভবিষ্যৎ বা বিকল্প পৃথিবীর কাহিনি নিয়েই স্টিমপাংক জনরা। এর আগে এই জনরার কোনো বই পড়া হয়নি, মূলত স্টিমপাংক জনরা নিয়ে 'ধোঁয়াশা'ই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বই। প্রথম বই হিসেবে লেখক ভালো লিখেছেন, শুধু ভালো না, বলা যায় বেশ ভালো লিখেছেন। বইটা পড়ে সত্যিই ভালো লেগেছে। তবে একবসায় পড়ে শেষ করতে পারলে আরও ভালো লাগতো, ব্যস্ততার জন্য হয়ে উঠেনি। সব মিলিয়ে 'ধোঁয়াশা' ভালো ছিলো, যারা নতুন কিছু ট্রাই করতে চাইছেন তারা বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
Readers should prepare their mind to get surprising story turns , plot twists before starting to read this book ... so many unique technologies, fantasy materials & science are the foundation of this book which will literally blow readers mind . Highly recommend for sci-fi and fantasy lovers .
‘ধোঁয়াশা’ নামটার নিজেই আগ্রহ জাগানিয়া বটে, সাথে স্টিমপাংক ফিকশন হওয়ায় আগ্রহের পাল্লা বেশ ভারী ছিল। এর আগে প্রথম বাংলা স্টিমপাংক ফিকশন ‘অর্থতৃষ্ণা’ পড়েছিলাম, দ্বিতীয়বার স্টিমপাংক জনরাটা বাংলায় পড়ার অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে যথেস্ট ভালো ছিল। স্টিমপাংক জনরায় কাহিনী মূলত সাধারণত ভিক্টোরিয়ান সময়ের লন্ডন বা ইউরোপের কোন শহর কিংবা সে ধরণের সেটিং এর সেকেন্ডারি কোন ওয়ার্ল্ডকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায়, সাথে থাকে খানিকটা ফ্যান্টাসি কিংবা উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। ওয়াল্ড বিল্ডিংকে এই জনরার প্রাণশক্তি বলা চলে। ধোঁয়াশা পড়ার সময় ভয় হচ্ছিল–এত ছোট পরিসরে ওয়াল্ড বিল্ডিং পার্ফেক্ট হবে কি? কিন্তু আমার ভয় অমূলক ছিল, অত্যন্ত সুন্দরভাবে পুরো শহরটা ধরা দিয়েছিল আমায়। আপাতদৃষ্টিতে ইউটোপিয়া থেকে অজান্তেই ডিস্টোপিয়ায় ধাবমান হওয়া নিয়েই এই কাহিনী। কাহিনী আর উপস্থাপনা বেশ ভালো লেগেছিল, কিন্তু মাঝপ্পথে কেন যেন আকষর্ণ খানিকটা কমে গিয়েছিল, তবে শেষে এসে আবার সব ঠিক হয়ে যায়, অপ্রত্যাশিত এণ্ডিং পেয়েছি। আর চরিত্রায়নের কথা বলতে গেলে সবাইকে মনে ধরেছে, তবে তন্ময় আর অনিককে পুরোপুরি অনুভব করতে পেরেছি। অত্যন্ত দ্রুত কাহিনী আগাচ্ছিল, তাই বিরক্ত হইনি। ইলাস্ট্রেশন থাকায় সুবিধা হয়েছে, আমার মত এই জনরায় যারা নতুন তাদের কল্পনা করতে অসুবিধা হবে না। পরিশেষে, বেশ উপভোগ্য ছিল।
---পাঠ প্রতিক্রিয়া --- ধোঁয়াশা লেখক: জাকিউল অন্তু জনরা: স্টিমপাংক সাই-ফাই/ফ্যান্টাসি প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ প্রচ্ছদ: অনিক সরকার প্রকাশকাল: মার্চ ২০২১
কাহিনী সংক্ষেপ: ধোঁয়াশা—আগাগোড়া ধোঁয়ায় মোড়ানো একটা শহর। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের বিচিত্র সব ব্যবহার দেখার জন্য এই শহরে আপনাদের আসতেই হবে। এমন সাজানো-গোছানো শহর নিয়ন্ত্রণ করে একজন মেয়র। শহরবাসীর চোখের মণি তিনি। শহরের সবখানে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও শহরের বাইরে যাবার অনুমতি দেন না মেয়র সায়মন। কিন্তু তারুণ্য কি উটকো বাঁধা-নিষেধ মেনেছে কোনোদিন? তন্ময়দের চার সদস্যের অনুসন্ধানী দল “স্টিম ব্রিগেড ” তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য স্থির করে নিলো। শহরের রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া একটা ম্যাপ ইন্ধন দিলো এক অদ্ভুত রহস্যভেদ করার। শহরের বাইরে আসলে কী আছে? খোঁজ নিতে গিয়ে জট খুলতে থাকলো একেক পর এক। বেরিয়ে এলো শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা এক লোমহর্ষক অতীত!
--প্রতিক্রিয়া-- আগেই বলে নিই, এটা কোনো রিভিউ না, আর আমি কোনো ভালো রিভিউয়ারও নই; শুধুমাত্র বইটা পড়ে পার্সোনালি আমার কেমন লেগেছে সেটা বলতে পারি!
ধোঁয়াশা বইটার কাহিনী শুরু হয় বইয়ের মেইন প্রোটাগনিস্ট তন্ময়ের জ্ঞান ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে। জ্ঞান ফিরে পেয়ে নিজেকে বেশ আহত অবস্থায় আবিষ্কার করে, এবং সাম্প্রতিকালে তার সাথে ঠিক কী ঘটেছিলো, সেই ব্যাপারে মোটামুটি ধোঁয়াশায় থাকে সে। এরপর আস্তে আস্তে স্মৃতি ফিরে আসতে শুরু করে। এরপর এক টেপরেকোর্ডারের মাধ্যমে তন্ময়ের পাশাপাশি পাঠকও চলে যায় এমন এক শহরে, যেটার সাথে আমাদের চেনাজানা শহরের কোন মিল নেই। ধোঁয়াশা নামক সেই শহরটা চলে বাষ্পীয় আর ডিজেল ইঞ্জিনে। সেখানকার জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপকরণও এই দুই শক্তিভিত্তিক।
কাহিনী আরেকটু এগুতেই পরিচিত হই ‘স্টিম ব্রিগেড’ নামে একটা দলের সাথে যেই দলের লিডার স্বয়ং তন্ময়, আর তার সাথে আছে এক আর্টিস্ট এবং দক্ষ উদ্ভাবক অনিক; আছে প্রজ্ঞা-পারমিতা নামের দুই বোন। এই তরুণের দলের একটা লক্ষ্য হলো ধোঁয়াশার বাইরে আসলে কী আছে সেটা জানা, আর এই পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আছে কিছু মানুষ।
এরপর পরিচিত হই ক্যাফে ফাই-ইন নামক এক এয়ারশিপ ক্যাফে (ইনফ্লেটেবল বেলুনের সাথে আকাশে ভেসে বেড়াবার ক্ষমতাসম্পন্ন) এর দুই মালিক ফারিন-তাজিন ভাইবোনের সাথে। ধোঁয়াশা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী টারকুইজের পাশে এক ঘটনাবহুল দিনে অকস্মাৎভাবে স্টিম ব্রিগেডের সাথে জড়িয়ে চায় ফারিন-তাজিন; অথবা উল্টো করে বললে, ফারিন-তাজিনের সাথে জড়িয়ে যায় ওরা চারজন। ফারিন-তাজিনের মাধ্যমে ধোঁয়াশা শহরের উপর ঘনিয়ে আসা বিপদের কথা জানতে পারে স্টিম ব্রিগেড। জানতে পারে স্টিলোরিয়াম, ব্রাসমোনিয়াম, টারকুইজিয়াম নামক রহস্যময় তরলের কথা। জম্বিটিন নামক এক রোবোটিক ফুড ডেলিভারি দলের রহস্যের কথাও জানতে পারে কিছু কিছু। আর ধোঁয়াশার সাথে এগুলোর সম্পর্ক কী তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।
এরপর ছয়জন তরুণ তরুণীর দলটা একযোগে নেমে পড়ে আসন্ন বিপদের বিরুদ্ধে, এবং ধোঁয়াশার রহস্যের মূলোৎপাটনে। ঘটনার ঘনঘটায় এরপর কী হয় তা জানতে হলে পড়তে হবে এই চমৎকার বইটা।
এবার আমার কথা: বইটা পড়ে এককথায় বেশ চমৎকৃত হয়েছি আমি। কেন হয়েছি, এক এক করে সেই পয়েন্টগুলো বলি। প্রথমে কাহিনী যেখানে শুরু হয় সেখান থেকেই মোটামুটি ভালো লাগা শুরু, আর তার কারণ হলো, লেখকের শব্দপ্রয়োগ এবং বাক্যগঠনের দক্ষতা। লেখক প্রচুর ছোট গল্প লিখেছে জানি, আর এই দক্ষতাটা সেখান থেকেই এসেছে বোঝা গেছে। লেখকের মাথায় বইয়ের কাহিনী অক্ষর হিসেবে আসে না, আসে ছবি হিসেবে; যেন তার চোখের সাম���েই সবকিছু ঘটছে, আর তার কাজ হচ্ছে সেটাকে এক দক্ষ ধারাবর্ণনাকারীর মতো পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা। যে যত ভালোভাবে, এবং Picturesquely বর্ণনা করতে পারে, সে তত ভালো লেখক। কারণ, যত ভালো লেখা হবে, পাঠকের মানসপটে সেই লেখার চিত্রকল্প তত ভালোভাবে গঠিত হবে। এই ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে, এই লেখক সফল। বেশ ডিটেইলড বর্ণনা ছিলো, যার ফলে আমার মাথায় যে চিত্রকল্প গঠিত হয়েছিলো, তা বেশ কনভিন্সিং এবং ইন্ট্রিগিং।
এখানে একটা কথা বলে রাখি, যেটা সম্পূর্ন এবং সম্পূর্নভাবে আমার ব্যক্তিগত মতামত। তা হলো, লেখকের বাক্যগঠন বেশ চমৎকার, এবং বর্ণনাতে দাড়ি (।) ব্যবহার করেছেন বেশি; মানে বেশিরভাগই ভালোমানের সরল বাক্য। তবে বেশ কিছু জায়গায় যদি তিনি কমা (,), সেমিকোলন (;) এবং এম ড্যাস (—) এর মাধ্যমে পাশাপাশি বাক্যগুলোকে জুড়ে দিতেন, তাহলে আরও ভালো হতো। কেননা, যখন লেখক কিছু বর্ণনা করেন তখন অনেকসময় একই জিনিসকে বর্ণনা করতে কয়েকটা বাক্য ব্যবহার করতে হয়। এখন, দাড়ি (।) আপনাকে মোটামুটি থামিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। একই জিনিস বর্ণনায় বেশি দাড়ি ব্যবহার মানে, আপনাকে বারবার থামতে বলা। যদি দক্ষতার সাথে সেমিকোলনের মাধ্যমে একই ধরণের তথ্যকে একসাথে জুড়ে দেওয়া যায়, আবার কোনো বাক্যের সাথে সম্পর্কিত অন্য বাক্যকে এম ড্যাসের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া যায়, তাতে দাড়ির মতো বেশি সময়ের জন্য থামার প্রয়োজন হয়না; কিন্তু এমন একটা দীর্ঘ বাক্য গঠিত হয় যা বেশ সাবলীলভাবে পুরো ভাব প্রকাশ করতে পারে—এতে বর্ণনাটা আরও ভালো হয়ে ওঠে। আবারও বলছি, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত; কোনো সমালোচনা নয়।
দ্বিতীয় যে ব্যাপারটা ভালো লেগেছে তা হলো বইটার ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং! এক কথায়, ফাটাফাটি। বোঝা গেছে, লেখক খুব ভালোভাবেই জানতেন যে কী নিয়ে লিখছেন, কেন লিখছেন এবং কী লিখছেন। যন্ত্রপাতির খুঁটিনাটি বর্ণনা থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন স্থানের বর্ণনা বেশ দক্ষতার সাথে লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। শহরের ম্যাপ বইতে জুড়ে দেবার কারণে বইয়ের সেকেন্ডারি সেটিংসটা বুঝতে বেশ সুবিধা হয়েছে। মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বস্তুর নামকরণে বেশ বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন লেখক। তন্ময়ের বিড়াল ট্রফি এর নামটা যে হুট করে শেষে অমন একটা খেল দেখাবে তা বুঝতে পারিনি; বেশ মজা পেয়েছিলাম ওইসময়।
সংলাপে মাত্র অল্পকিছু জায়গায় বাৎসল্য থাকলেও বাকি সবজায়গায় বেশ ভালো লেগেছে। তন্ময় বেশি ফোকাস পেয়েছে, তাই তার সংলাপ বেশ ভালো ছিলো। ফারিন-তাজিনেরটাও ভালো ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে জিবরান ও বেশ ভালো করেছে।
এখানে সংলাপ নিয়ে আমার একটা অবজার্ভেশন বলি। ব্যাপারটা হলো, লেখক যখন সংলাপ গড়ে তখন আসলে সে সংলাপের মাধ্যমে কিন্তু একটা ছবিও গড়ে। এখন এই জায়গাটা ভালো থেকে আরও ভালো করার কিছু টেকনিক আছে। সংলাপ চলাকালে সেই দৃশ্যপটে দুইজনও থাকতে পারে, তিনজনও থাকতে পারে আবার বিশাল একটা দলও থাকতে পারে। টেকনিক ডিপেন্ড করে সংখ্যার উপর। যেমন, অনেক সময় দুইজন থাকলে একবার সংলাপ শুরু করে শুধু একটার পর একটা উদ্ধৃতি চিহ্ন দিয়ে সংলাপ বলে যাওয়া যায়, এতে বারবার ডায়লগ ট্যাগ ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না; মাঝে মাঝে ব্যবহার করলেই হয় [ডায়লগ ট্যাগ বলতে বোঝায়- বললো অমুক, তমুক বললো, এগুলো সংলাপ শেষে উদ্ধৃতি চিহ্নের সাথে জুড়ে দেওয়া]।
যখন দৃশ্যপটে দুইয়ের অধিক চরিত্র থাকে তখন কোন কথাটা কে বলছে তা বোঝানোর জন্য ডায়লগ ট্যাগ ব্যবহার অপরিহার্য একটা বিষয়, নইলে পাঠক কনফিউজ হয়ে যাবে যে, কোন কথাটা কে বলছে। এখন লেখার সময় বারবার ‘এ বললো, ও বললো, অমুক বললো, তমুক বললো’ এভাবে লিখলে লেখার ভিতর একটা একঘেয়েমি ব্যাপার চলে আসতে পারে। তাই এই অবস্থা পরিহার করার জন্য একশন ট্যাগ ব্যবহার করতে হয়। উদাহরণ দিচ্ছি: ‘আমি এখন বেরুবো,’ বললো অমুক। [ডায়লগ ট্যাগ] ‘আমি এখন বেরুবো।’ কথাটা শেষে গটগট করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো অমুক। [একশন ট্যাগ। যখন সংলাপের সাথে চরিত্রটার ঠিক ওইসময়ে করা একটা কাজ সম্পৃক্ত থাকে। শ্রাগ করল, মাথা চুলকালো, ভ্রূ উঁচু করলো, নড করলো, মুখে চিন্তার ছায়া পড়লো……] এই একশন ট্যাগ আবার বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। বাক্যের আগে জুড়ে দেওয়া যায়, পরে জোড়া যায়। সংলাপকে ভাগ করে মাঝে একশন ট্যাগ দিয়ে আবার সংলাপ দেয়া যায়; এতে বোঝানো যায় যে কথাটা বলার সময় চরিত্রটা কী করছিলো। এভাবে ডায়লগ ট্যাগ, একশন ট্যাগ এর বিভিন্ন অনুপাতের মিশেলে দারুণভাবে চিত্ররূপ দৃশ্যপট গড়া যায়, যা খুব রিডার্স ফ্রেন্ডলি। লেখক এটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন। হ্যাটস অফ!
তবে এখানে ছোট একটা কথা না বললে নয়। সেটা হলো, দীর্ঘ সংলাপের ক্ষেত্রে আমি একটু কনফিউজ হয়ে গিয়েছিলাম, আর তা মূলত হয়েছি সংলাপের উদ্ধৃতি চিহ্ন ও প্যারা ব্যবহারের কিঞ্চিৎ সমস্যার কারণে। কারণটা বলি। সংলাপের সময় যতিচিহ্ন ব্যবহারের কিছু নিয়ম আছে, যা অনুসরণ করা রীতিমতো বাধ্যতামূলক। উদ্ধৃতি চিহ্নের সাথে যদি ডায়লগ ট্যাগ ব্যবহার করতে হয় এবং সেই সংলাপে যদি বিস্ময়সূচক চিহ্ন বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন না থাকে তবে উদ্ধৃতি চিহ্নের ভিতরে শেষ বাক্যের সাথে কমা ব্যবহার করে এরপর ডায়লগ ট্যাগ ব্যবহার করতে হয়; আর একশন ট্যাগের সময় ব্যবহার করতে হয় দাড়ি (উপরের উদাহরণ দ্রষ্টব্য)। লেখক যদি উদ্ধৃতি চিহ্ন একবার শুরু করে তবে তাকে সেটা শেষ করতে হবে। ইংলিশে যেটাকে কোট-আনকোট বলে; কোট করলে আনকোট করতে হবে। এখন দীর্ঘ সংলাপ মূলত গড়া হয় কোনো বর্ণনাকে কোনো চরিত্রের মাধ্যমে বলিয়ে নেবার জন্য, তাই এই বর্ণনার ভিতর অন্যের কথাও আসতে পারে, অন্যের উক্তিও আসতে পারে। এখন সংলাপ যেহেতু একজন বলছে, এবং একবারেই বলছে, তাই লেখক যদি পুরো সংলাপটার মাঝে কোন আলাদা একশন ট্যাগ ব্যবহার না করে, বা সংলাপকে সাময়িক থামিয়ে অন্য কিছু না করে, তাহলে সেটা মাত্র একটা উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যেই পড়বে, তাতে সংলাপটা যত প্যারাতেই শেষ হোক না কেন! তাই সেই সংলাপের মধ্যে যদি অন্যের কোন উক্তি সেই চরিত্র বলে তবে সেটাকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে না রেখে পরোক্ষ উক্তি করে নিতে হবে, নইলে এক উদ্ধৃতি চিহ্নের মাঝেই অন্যের সংলাপ চলে আসে তার নিজস্ব উদ্ধৃতি চিহ্ন সহ; যা একটু অড লাগে, আবার ক্ষেত্রবিশেষে কনফিউজিং লাগে। এইজন্য বড় সংলাপের ক্ষেত্রে মাঝে একটু বিরতি দিয়ে অল্প কিছু একশন দেখিয়ে নেওয়া যেতে পারে, এতে পড়তে সুবিধা হয়, আবার দৃশ্যের ডিটেইলিং এর সুযোগও থাকে।
ধোঁয়াশা-তে দুইটা বড় সংলাপের ক্ষেত্রে দেখেছি যে প্রতি প্যারায় উদ্ধৃতি চিহ্ন শুরু করা হয়েছে, কিন্তু শেষ করা হয়নি; আবার এক সংলাপের ভিতরে অন্যের প্রত্যক্ষ সংলাপও উদ্ধৃতি চিহ্ন দিয়ে বলা হয়েছে, যা কিঞ্চিৎ ব্যাহত করেছে পড়ার ফ্লো টা। ব্যাহত করেছে মানে, আমাকে করেছে; অন্যদেরও যে করবে ব্যাপারটা তা নয়। তবে এটা খুব মাইনর একটা সমস্যা। নো বিগ ডিল।
যাক, আর বড় না করি লেখাটা। শেষ করে এনেছি প্রায়। ধোঁয়াশার এন্টাগোনিস্ট আরেকটু রাফ হতে পারতো বলে আমার ব্যক্তিগত অভিমত। তবে বোঝা গেছে যে সিকুয়াল আসবে বইয়ের, তাই আমি আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছি যে লেখক আবার কোন নতুন চমক দেখায় তা জানার জন্য।
স্টিমপাংক জনরা বাংলাসাহিত্যে একদমই নতুন। জাকিউল অন্তুকে ধন্যবাদ এমন নতুন ধারা নিয়ে কাজ করার জন্য। বইটাতে চমৎকার কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা কাহিনীটাকে বেশ নতুন মাত্রা দিয়েছে। আর্টিস্টকে ধন্যবাদ এতো চমৎকার কাজের জন্য।
ভালো, ইন্টারেস্টিং কাহিনী তবে আরেকটু সুন্দর হতে পারত যদি আরেকটু ঝালাই করা যেতো। ভালো এডিটর এর কাছে থাকলে কাহিনী টা আরেকটু পলিশড হত। আমার কাছে পড়ে ভালই লেগেছে। বাংলাদেশের প্রথম স্টিম পাংক বই হিসেবে খুবই ভালো কাহিনী ছিল। লেখক এর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং খুব ডিটেইলসে দিয়েছেন তাই ভালো লেগেছে। আপাতত এটুকুই বলবো,পরবর্তীতে সুন্দর করে গুছিয়ে একটি রিভিউ লিখবো।
• ( পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বেশি কিছ�� লিখা আমার কাছে স্পইলার মনে হয়। তাই ছোট করেই লিখছি। )
বাংলাদেশের প্রথম স্টিম পাঙ্ক উপন্যাস হলো ‘ধোঁয়াশা’।
• স্টিমপাঙ্ক ফ্যান্টাসি একটা ব্যতিক্রম জনরা। ভিক্টোরিয়ান যুগের বাষ্পীয় ইঞ্জিনকে কল্পনায় বসিয়ে অনেক রকম যন্ত্র, মেশিন আর গেজেটের জন্ম দেওয়া হয়েছে। জায়গা, মানুষের জীবনযাপন, কাজকর্ম সবই ব্যতিক্রমভাবে উঠে এসেছে এই জনরায়। 'ধোঁয়াশা' উপন্যাসেও তাই হয়েছে।
কভার থেকে- ধোঁয়াশা-আগাগোড়া ধোঁয়ায় মোড়ানো একটা শহর। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের বিচিত্র সব ব্যবহার দেখার জন্য এই শহরে আপনাদের আসতেই হবে। এমন সাজানো-গোছানো শহর নিয়ন্ত্রণ করে একজন মেয়র। শহরবাসীর চোখের মণি তিনি। শহরের সবখানে যাবার অনুমতি থাকলেও শহরের বাইরে যাবার অনুমতি দেন না মেয়র সায়মন। কিন্তু তারুণ্য কি উটকো বাধানিষেধ মেনেছে কোনোদিন? তন্ময়দের চার সদস্যের অনুসন্ধানী দল ‘স্টিম ব্রিগেড’ তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য স্থির করে নিলো। শহরের রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া একটা ম্যাপ ইন্ধন দিলো এক অদ্ভুত রহস্যভেদ করার। শহরের বাইরে আসলে কী আছে? খোঁজ নিতে গিয়ে জট খুলতে থাকলো একের পর এক। বেরিয়ে এলো শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা এক লোমহর্ষক অতীত!
মতামত – বইটা হাতে নিয়ে একটানা পড়ে শেষ করেছি। খুব ভালো লেগেছে। তবে স্টিম পাঙ্ক ফ্যান্টাসির আসল স্বাদ পরিপূর্ণভাবে এটাই নেই। যদিও এটা সিকুয়াল আসবে তবে এটার মধ্যে আরো কিছু স্বাদ দরকার ছিল। আমি বলব বইটা পড়ে দেখা উচিত। এতে ব্যতিক্রম জনরা আর ব্যতিক্রম স্বাদ দুইটাই পাবেন।
ছোটখাটো একটা এডভেঞ্চার। কিছুটা কিশোর উপন্যাস গোছের। আর কিশোর উপন্যাস আমার বরাবরই পছন্দের। তবে কি বইটা শুধু বাচ্চাদের জন্যই উপভোগ্য? একদমই না। বাচ্চা-বুড়া, কচি-কাঁচা, বিবাহিত-অবিবাহিত, বেকার-চাকরিজীবী সবার জন্যই।
প্রথমত স্টিমপাংক জনরা সম্পর্কে ধারণা একেবারেই ছিল না। থাকবে কি করে? এটাই তো বাংলাদেশের প্রথম স্টিমপাংক জনরার উপন্যাস। বইটা পড়ে বুঝতে পারলাম এটাই তাহলে স্টিমপাংক জনরা। বইয়ের ভাষায়, ডিস্টোপিয়ান বা ফিউচারিস্টিক সায়েন্স ফিকশনের আদলে অনেকটা ফ্যান্টাসি গোছের ভিক্টোরিয়ান ধারার ভবিষ্যৎ বা বিকল্প পৃথিবীর কাহিনী নিয়েই স্টিমপাংক জনরা। আমি বলবো, একের ভিতর অনেক, তবে মূল চালিকাশক্তিটা হচ্ছে সাই-ফাই। সহজ সরল ভাষার ছোট কলেবরের বইটা একেবারে রোলার কোস্টার গতির। দ্রুতগতির পাঠকদের এক বসায়ই শেষ হয়ে যাবে। বিরক্তি আসবে না কোথাও।
গল্পের প্লট, পরিবেশ, বর্ণনা সবই খুব সুন্দর। সুন্দর চরিত্রায়ন। সবথেকে ভালো লেগেছে যেটা, কোথাও বাড়তি কথা লেখা নেই। চরিত্রগুলোর বর্ণনাও যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই লেখা। প্রতিটি অধ্যায়ের নামের সাথে কাল্পনিক চিত্রায়ন গল্পকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। একেবারে চিত্র ধরে ধরে সম্পূর্ণটুকু কল্পনা করা যায়। গল্পের কিছু কিছু জায়গায় অনুবাদের মতো লেগেছে। আর অল্প কিছু টাইপো ছাড়া তেমন কোন ভুলত্রুটি চোখে পড়েনি।
সর্বোপরি ভালো একটা সময় কেটেছে। খুব উপভোগ করেছি। এই জনরায় আরো কাজ হওয়া উচিৎ। আমার মতে এই গল্পটা নিয়ে দারুণ একটা মুভি/টিভি সিরিজ হতে পারে। নতুন জনরার বইটা একবার পড়ে দেখতে পারেন।
বইটা নিয়ে আগ্রহ ছিল। জাকিউল অন্তু সাহেবের ফেসবুকে লেখা ফ্যান্টাসি গল্পগুলো ফলো করতাম এককালে। ভূমিপ্রকাশের অফারের সময়ে তাই ওনার বইয়ের নাম দেখে দ্বিধা না করে কিনে ফেলেছিলাম। অনেকগুলো দিন জাহাজে পড়ে থেকে থেকে এবার শেষ করলাম।
জনরাটা নতুন। স্টিমপাংক। লেখকের ভাষ্যমতে বাংলাদেশে এ জনরায় এটিই প্রথম বই। বাংলায় লেখা হয়েছে অবশ্য এর আগে, লেখক ভূমিকাতেই সে বইয়ের নাম দিয়ে দিয়েছেন।
এবার বইয়ের ভেতরে ঢুকি। গল্পটা ধোঁয়াশা নামক এক শহরের। যে শহরের গোটা শক্তির মাধ্যমই স্টিম। সুখী শহর। মেয়র সায়মন শহরবাসীর খেয়াল রাখেন খুব, তাদের কোনো কষ্টই আসতে দেন না। শুধু শহরের বাইরে যাওয়ার অনুমতিটাও দেন না। ধোঁয়াশার মানুষেরা জানে, এ শহরটাই পৃথিবী। এর বাইরে কিছু আছে কি নেই তা নিয়ে তাদের অত মাথাব্যথাও নেই। ব্যতিক্রম শুধু চারটে তরুণ তরুণীর। এদের বয়স যদিও উল্লেখ নেই কোথাও, তাই এদের কৈশোর পেরুনোও ধরা যায়। চারজনের ক্লাব, "স্টিম ব্রিগেড"। মজাচ্ছলে এডভেঞ্চার খুঁজতে থাকা এ চারজন শহরের বাইরে কী আছে জানতে গিয়ে বের করে ফেলে চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
বই পড়তে পড়তে মনে হলো, এ বইটা দিয়ে সুন্দর একটা এনিমেশন মুভি হবে। বিগ হিরো সিক্স কিংবা এলিটা স্টাইলের একটা সাক্সেসফুল মুভি বানানোর মতো কাহিনী বইতে আছে। লেখকের প্রথম বই হিসেবে চমৎকারই লিখেছেন লেখক। লেখকের জন্য শুভকামনা।
গল্পের শুরুটা অনেক চমৎকার ছিল তবে প্লট আহামরি না, আমি এই সেটিংএ আরো সাসপেন্সফুল কিছু আশা করছিলাম। লেখককের স্টোরিটেলিং এর প্রশংসা না করে পারছি না। এতো মসৃণভাবে এবং গুছিয়ে ঘটনার বর্ণনা করেছেন যে মাথার ভেতরে চিত্রটি এমনিতেই সুন্দরভাবে ফুটে উঠে। ওয়ার্ল্ডবিল্ডিংটা দারুন ছিল। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র, পরিবহণ ব্যাবস্থা ও রাসায়নিক শক্তির যে উৎসের কথা বলা হয়েছে তা স্টোরিতে পারফেক্টলি ফিট করে। তবে চরিত্রায়ণ আমার কাছে কিছুটা দূর্বল মনে হয়েছে, মাঝে মধ্যে তাদের সংলাপগুলো ওভার সিমপ্লিফাইড মনে হচ্ছিল। সাধারণত কিশোর উপন্যাসে যে রকম সংলাপ ব্যবহার করা হয়, অনেকটা সেরকম। শেষের টুইস্টটা মোটামুটি ভাল ছিল, এন্ডিং ও চলে টাইপের। ইলাস্ট্রেশনগুলো ছিল অসাধারণ, দশে দশ পাওয়ার মতন। রিডিং এক্সপিরিএন্সটা উপভোগ্য করতে সহায়তা করেছে এগুলো ।
লেখক চাইলে এই ওয়ার্ল্ডকে বেস করে আরো নতুন গল্প নিয়ে পারেন, হলে অবশ্য ভালোই হবে। উনার পরবর্তী বই আসুক সুযোগ পেলে পড়বো।
বইয়ে ভাষার ব্যবহার : খুবই সহজ-সরল শব্দ এবং ভাষা ব্যবহার করেছে। চরিত্রের দেহগঠন বুঝতে সুন্দর ইলাস্ট্রেশনও আছে।
পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি : প্রতিনিয়ত পড়া পাঠকদের কাছে খুব একটা আহামরি মনে হবে না। গল্পের ঘটনায় যুবক বয়সী এবং এর উপর যারা তাদের কাছে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করার মতো ক্ষমতা নেই।
বইটা কাদের জন্য : - ১/ রিডার ব্লক এ পরেছেন, ২/ ভারিক্কি শব্দের বই পড়তে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু পড়ার নেশা আঁকড়ে ধরেছে, ৩/ শিশু-কিশোর কিংবা নয়া পাঠকদের জন্য পড়া উচিত।
📌 বয়সের পার্থক্যে কিংবা গ্রহণ যোগ্যতা অনুযায়ী একেক জনের কাছে একেক রকম লাগবে বইটা। আমি ফিক্সড একটা রেটিং দিয়ে কারোর কাছে আকর্ষণীয় করতে চাই না, বা কারো কাছে বইটাকে তুচ্ছ করতে চ���ই না। ��ইটা পড়ার জন্য সময় উপযোগীরও একটা ব্যাপার আছে, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট তৃপ্তি নিয়ে বইটা পড়তে পারবেন। তাই লেখকের উচিত ২য় পার্টও প্রকাশ করা। সমাপ্তটা এমন ভাবে টেনেছে, পরের পার্টের প্রতি একটা খিধে জমিয়ে দিয়েছে।
ব্রিলিয়ান্ট কনসেপ্ট, সুন্দর শহর, স্টোরি টা বেশ, কিন্তু ভাল এক্সিকিউশনের অভাব, প্রচন্ড রকম অভাব, যার কারনে খুব ভাল কিছু হওয়ার সম্ভাবনা হতে গিয়েও বিলো অ্যাভারেজে পরিণত হয়েছে। কোন ক্যারেক্টারের ডেপ্ট ছিলো না, ছিলো না মনে রাখার মত কোন সাইড ক্যারেক্টার। আর অ্যান্টাগনিস্ট কে আমার কাছে সব থেকে বাজে লেগেছে। ক্যারেক্টার বিল্ড আপ না হওয়ার কারনে সব ডায়লগ "মেকী" লেগেছে।
দেশের প্রথম স্টিম পাংক উপন্যাস..এই সাহস নিয়ে লেখা টা অনেক বড় সাহস, এই জন্যে লেখক কে ধন্যবাদ...তবে মানুষ উপন্যাস কে শুধু এই একটি কারনেই মনে রাখবে, এটাই আফসোস...
ঝরনা ও ডিজেলের মাধ্যমে চালিত হয় পুরো "ধোঁয়াশা" শহর। শহরটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভান্ডার যা শহরের মানুষের জীবনকে করেছে অনেক সহজ , শহরের দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন একজন মেয়র , সাথে আছেন ক্যাপ্টন হক। তবে এই শহরের কিছু কড়া নিয়ম আছে যা শহরবাসীকে মেনে চলতে হয় ঠিক যেমন শহরের শেষ প্রান্তে যাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। মোটকথা এই শহরের বাহিরে কি আছে তা শহরবাসী জানে না।
তবে এই শহরেরই ভিতর চার বন্ধু তন্ময়, অনিক, প্রজ্ঞা, পারমিতা আছে যারা ধোঁয়াশার ইতিহাস জানতে চায়, শহরের শেষ প্রান্তে কি থাকতে পারে তা নিয়ে চার বন্ধু খুবই আগ্রহী তবে তারা জানে না ভবিষ্যতে তাদের জন্য কি বিপদ অপেক্ষা করছিলো। চার বন্ধু এই ইতিহাস জানার জন্য একটা টিম গঠন করে যা স্টিম বিগ্ৰেট নামে পরিচিত। এই অভিযানে তাদের সাথে যুক্ত হয় আরো কিছু মানুষ, অভিযানের মাধ্যমে তারা জানতে পারে এই শহর হওয়ার পিছনের মর্মান্তিক ইতিহাস।
যাদের সাইন্স ফিকশন পছন্দ তাদের বইটি ভালো লাগতে পারে। আমার খুব একটা ভালো লাগেনি।