বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয় একক মূল্যবােধ গড়ে তুলতে দেয়া হয়নি। অথচ সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক বৈচিত্র্য সত্ত্বেও পশ্চিমাবিশ্ব কতিপয় । প্রতিষ্ঠিত মূল্যবােধ দ্বারা পরিচালিত। তাদের শিক্ষা, আইন, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি- সবকিছু রেনেসাঁর গর্ভে জন্ম নেওয়া লিবারেলিজম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।জাতিসত্ত্বার বিকাশে আমাদের এক বিশাল সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস আছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও আদর্শিক বিভক্তির রেখা চাপিয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের কোন জাতীয় চেতনা গড়ে উঠতে দেয়া হয়নি চেতনার নামে বাংলাদেশকে কিভাবে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে তার সমকালীন উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের দেখা মিলে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ আর শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের আমজমায়েতে। চেতনার আরােপিত ও অনাকাক্ষিত এ দ্বিধাবিভক্তির ফয়সলার জন্য আপনাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে এদেশের আপামর জনতার সেন্টিমেন্টের ঠিকানায়। সেকুলার তথা ইসলামি শিবিরের দুই মেরুকরণের বিপরীত গণসেন্টিমেন্টের। একটা উদারবাদী স্থান আছে। এদেশের আম-জনতা খেলাফতের চেতনায় বিভাের হয়ে আছে এটা যেমন এ মুহূর্তে বলা যায়না, তেমনিভাবে এখানের চেতনা ধর্মনিরপেক্ষতাকে লালন করেএটাও বলা যায়না কোনােভাবে। তবে সঠিকভাবে জনগণের পাল্স বিচার করা হলে তাতে এটা সহজেই ধরা পড়ে যে, ধর্মনিরপেক্ষতার তুলনায় ইসলামের নড়াচড়ার প্রবণতা এখানে অনেক বেশি প্রবল। শুধু তাই নয়, রক্ষণশীল উদারবাদী এ ইসলামি মানস আরাে শাণিত হয়ে একটা বৈপক্ষবিক জাগরণের জন্যও যে প্রস্তুত হতে পারে তার আলামতগুলাে স্পষ্ট হয়ে উঠে বাংলাদেশের নির্মোহ সমাজতাত্ত্বিক বয়ানে। একটা জাতীয় চেতনা বিকশিত হওয়ার জন্য তার পথকে নিষ্কণ্টক রাখতে হবে। তার স্বভাবজাত মসৃণ প্রবণতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইতিহাস-বিবর্জিত সংজ্ঞা দ্বারা বাধাগ্রস্ত করা মানে জনতার মানস আর সুপ্ত চেতনাকে উপেক্ষিত করা। ধর্মনিরপেক্ষতা-প্রসূত এ অরাজকতার মাশুল দিতে হচ্ছে খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই। এ বইয়ে সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি, নারী ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলােকপাত করা হয়েছে। জাতীয় ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার শূণ্যতাকে কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে কিভাবে কল্যাণকর ইসলামাইজেশনের মানবতাবাদী প্রকল্পকে হাজির করা যায় তা নিয়ে এ বইয়ে আলাপ উঠেছে। এক কথায় এ বইয়ে আপনি পাবেন সাংস্কৃতিক চেতনার চিহ্ন-রেখা আর আর্থসামাজিক রাজনৈতিক পথচলার মাইলস্টোন। এটা একটা ধারাবাহিকতা। আমরা হাজির হবাে ভবিষ্যতে আরাে বয়ান নিয়ে।ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয় একক মূল্যবােধ গড়ে তুলতে দেয়া হয়নি। অথচ সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক বৈচিত্র্য সত্ত্বেও পশ্চিমাবিশ্ব কতিপয় প্রতিষ্ঠিত মূল্যবােধ দ্বারা পরিচালিত। তাদের শিক্ষা, আইন, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি- সবকিছু রেনেসাঁর গর্ভে জন্ম নেওয়া লিবারেলিজম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জাতিসত্ত্বার বিকাশে আমাদের এক বিশাল সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ইতিহাস আছে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও আদর্শিক বিভক্তির রেখা চাপিয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো জাতীয় চেতনা গড়ে উঠতে দেয়া হয়নি। চেতনার নামে বাংলাদেশকে কিভাবে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে তার সমকালীন উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের দেখা মিলে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ আর শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের আমজমায়েতে। চেতনার মানচিত্র বইটি কোনো একক বিষয় নিয়ে লেখা বই না।বরং বলা যায় সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে লেখক তাঁর মনের ভাবনাগুলো ফুঁটিয়ে তুলেছেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে।বইয়ে একাধারে ইসলামি নববর্ষ থেকে বাংলা নববর্ষ,বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা,গণতন্ত্র,সেক্যুলারদের দ্বিমুখী নীতি,নাস্তিক্যবাদ,কওমী মাদরাসা শিক্ষা,অর্থনীতি,নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন জিওপলিটিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, বইটি মূলত সংস্কৃতি, শিক্ষা,রাজনীতি, অর্থনীতি, নারী ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে রচিত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :
প্রথমত, বইটিতে প্রায় কোনো বিষয় নিয়েই গভীরভাবে আলোচনা করা হয়নি।বেশিরভাগ বিষয় নিয়েই হালকা(বা কিছু অধ্যায়ে একটু গভীর)ভাবে আলোচনা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে লেখকের নিজের মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে।আর আলোচনাগুলো হয়েছে অনেকটা বিক্ষিপ্তভাবে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা না থাকায় সেই অধ্যায়টা আমার মাথার ওপর দিয়ে গিয়েছে।বইয়ে আরেকটা খুব দৃষ্টিকটু বিষয় ছিলো।সেটা হলো বানান ভুল।প্রায় প্রতি পৃষ্ঠাতেই বেশকিছু বানান ভুল রয়েছে। বইটি সম্ভবত এখন আর বাজারে নেই।হারুন ইজহার হাফি. ‘চেতনার ইশতেহার’ বইটির মতো এটাকেও ভালোভাবে সংশোধন,সম্পাদনা ও দরকার হলে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আরো কিছু প্রবন্ধ যোগ করে বাজারে এভেইলেবল করে দিলে সবার জন্য ভালো হতো বলে আমি মনে করি।