বিটকেল, ছুঁচো, অপোগন্ড, বেল্লিক, মর্কট!
বোর্ডিংয়ের হাতেগোণা কয়টা ছেলে, আর সুপারিনটেন্ডেন্ট স্যার। ছেলেদের মাঝে কেল্টুরাম পালের গোদা, স্যারের চ্যালা, থাকে সারাক্ষণ নন্টে-ফন্টে'র মাথায় কাঁঠাল ভাঙার তালে। কিন্তু নন্টে-ফন্টের বুদ্ধির কাছে নিজেই প্রতিবার সাইজ হয়ে ফেরে। তার জন্য সাধারণত সুপারিনটেন্ডেন্ট 'ঘটোৎকচ ঘটক' স্যারের হাতে কেলানি খেতে হয় কেল্টুকে, সাথে জুটে উপরোক্ত বাহারি বিশেষণের গালাগাল। এবং মুন্ডুপাতের দাবড়ানি।
নেহাৎ ছেলেমানুষি গল্প। আর মজার ব্যাপার হলো, এই গল্পগুলোই সত্যিকার অর্থে 'ছেলেমানুষ' হবার মজা-টা ধরতে পেরেছিল। প্রি-ইন্টারনেট যুগের আর সব 'ছোটদের বই'য়ের মতো নীতিকথা শেখাতে আসেনি নন্টে-ফন্টে, এখানে মিথ্যে ভুজুং ভাজুং দেওয়ার কোনো অপরাধবোধ নেই, নেই অকারণে বড়দের নাজেহাল করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা। ছেলেমানুষের আবার মোরাল কোড! কিশোর ভারতী-তে প্রকাশিত এক স্ট্রিপ করে কমিকগুলো বেশ একটা রিলিফ দিতো সেজন্য। কোনো চিন্তা নেই, হাতে কমিক নাও, হারিয়ে যাও।
গল্পের সাথে নারায়ণ দেবনাথের মজাদার শব্দ-খেলা উপরি; আর সাথে কী সব বাহারি নাম! ডাক্তার ঢেকুলাল ঢেঁকি, জাদুকর ফেকুলাল ফেরেববাজ, ডাকাত পাতিরাম হাতি! সুপারিনটেন্ডেন্টের মুখে জবর সব বাংলা স্ল্যাং শোনা যায়, সময়ের সাথে যেসব হারিয়েছে অধিকাংশ।
১০টা কমিক নিয়ে সংকলন 'নন্টে ফন্টে লা-জবাব'। পত্রিকায় বেরোত যখন, একটা করে পড়া-ই ভাল ছিল। আর সব পড়ার মাঝে বেশ একটা কমিক রিলিফ দিতো। এক মলাটে একসাথে পড়তে গেলে উলটো হাঁপ ধরতে পারে, সবকয়টা একই ধারার গল্প কি-না!