Jump to ratings and reviews
Rate this book

বনফুল সিরিজ #১

বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল

Rate this book
সবে মাত্র পুলিশ ডিপার্টমেন্টে সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে জয়েন করেছে অর্ক হাসান খন্দকার। তার পুলিশ জীবনের প্রথম কেইসটা দেখতে গেলে বেশ অদ্ভুত।

এসআই হিসেবে জয়েনের প্রথম দিনই এক লোক এসে আত্মসমর্পণ করে সনামধন্য এক লেখককে খুন করার দায়ে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভিন্ন এক তথ্য। খুনি যে লেখকের কথা বলেছিল সে শুধু কেবল একটি বইয়ের চরিত্র মাত্র। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া লাশটা কার?

তদন্ত এগুনোর সাথে সাথে বেরিয়ে আসতে থাকে বিভিন্ন সত্য। বাড়তে থাকে সাসপেক্টের সংখ্যা। সত্য মিথ্যা আর প্রতিশোধের বেড়াজালে লুকিয়ে থাকা মূল ঘটনা কী বের করে আনতে পারবে এএইচ খন্দকার? নাকি মিথ্যা মায়ার বেড়াজালে আটকে পড়ে হারিয়ে যাবে তিমিরময় কোনো স্থানে?

238 pages, Hardcover

Published February 6, 2021

2 people are currently reading
25 people want to read

About the author

Jawad Ul Alam

8 books43 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
10 (37%)
4 stars
6 (22%)
3 stars
8 (29%)
2 stars
3 (11%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 7 of 8 reviews
Profile Image for Anjan Das.
430 reviews17 followers
March 4, 2024
বইয়ের নাম : বনফুল তার বাড়িটি
বন্ধক রেখেছিল
লেখক : জাওয়াদ উল আলম
জনরা : রিভেঞ্জ থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার
প্রকাশনি : ঈহা প্রকাশ

কাহিনী সংক্ষেপ :
মাত্রই পুলিশ ডিপার্টমেন্টে সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে জয়েন করেছে তরুণ অর্ক হাসান খন্দকার।জয়েনিং এর প্রথম দিনই এক অদ্ভুত কেস এসে হাজির হল অর্কের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে। আরিফুর রহমান নামে এক ছেলে এসে আত্মসমর্পণ করে সনামধন্য এক লেখককে খুন করার দায়ে।কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে বেরিয়ে আসল ভিন্ন এক তথ্য।খুনি যে লেখকের কথা বলেছিল তা একটা বইয়ের চরিত্র! কিন্তু লাশ পড়ে আছে সেই বইয়েরই লেখক আশরাফুল ইসলামের!!ক্রাইম সিন এ পড়ে আছে তাঁরই বই "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"।তাহলে কি ছেলেটা মিথ্যে বলছে? মিথ্যে বললে পুলিশের কাছে এসে ধরাই বা দিবে কেন?নাকি এর পিছনে রয়েছে আরেক রহস্য??ভেতর থেকে কলকাঠি নাড়ছে অন্য কেউ??

আমজাদ আহমেদ গল্পের আরেকটি মুখ্য চরিত্র।মেয়ের আত্মহত্যার পর স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়া,মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত লোকটি হল কোতোয়ালি থানার ওসি।অর্কের সাথে মিলে এই কেসের সমাধানের জন্য তদন্ত শুরু করেন।তদন্ত যত এগোতো থাকে বেরিয়ে আসতে থাকে বিভিন্ন সত্য।বাড়তে থাকে সন্দেহভাজনের সংখ্যা।সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন আশরাফুল ইসলামের বড় ভাই আকবর ইসলাম,তাঁর স্ত্রী স্নেহা ইসলাম এবং অবশ্যই আরিফ।কিন্তু তদন্ত চলাকালীন হঠাৎ করেই খুন হন আকবর ইসলাম।অর্ক এবং আমজাদ আহমেদ এর মাথায় হাত!যাকে সন্দেহ করা হল সেই খুন!তার চেয়েও বড় অবাক ব্যাপার এই খুনের ক্রাইম সিনেও পড়ে আছে সেই বইটি," বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"। তবে কি একই খুনী দুটো খুন করল?নাকি ভিন্ন খুনী?সত্য মিথ্যা এবং প্রতিশোধের বেড়াজালে লুকিয়ে থাকা মূল ঘটনা কি বের করতে পারবেন অর্ক এবং আমজাদ আহমেদ?

পাঠ-পর্যালোচনা : পশ্চিমা বিশ্বের বা জাপানি ডার্ক রিভেঞ্জ থ্রিলারগুলা খুব আগ্রহ নিয়ে ইদানীং অনেকগুলো পড়েছিলাম।তবে আমাদের দেশের মৌলিক রিভেঞ্জ থ্রিলারের মধ্যে এটাই প্রথম পড়লাম।দেশীয়ে প্রেক্ষাপটে রচিত দারুণ এক মৌলিক থ্রিলার হচ্ছে " বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"।

যা ভাল লেগেছে :
১."মার্ডার মিস্ট্রি" বিষয়ক থ্রিলার পড়ার সময়টায় প্রথমেই আমি লক্ষ করি তদন্ত প্রক্রিয়াটা।ঠিক ঠাক ভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে লেখক গল্পে উপস্থাপন করেছেন কিনা সেটা।গল্পটিতে এই জায়গায় আমি বেশ সন্তুষ্ট। দুটি খুনেরই তদন্ত প্রক্রিয়া,ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ,ফরেনসিক ডিটেইলস,আংগুলের ছাপ সনাক্তকরণ,সাসপেক্ট ইন্টারোগেশন খুব সূক্ষ্মভাবে লেখক ধাপে ধাপে সময় নিয়ে বর্ণনা করেছেন।সাধারণ এই টাইপ বিশ্লেষণ গুলো ধীর গতির হয়। এখানে তার ব্যাতিক্রম ঘটে নি।লেখক এখানে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

২.ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট টা এখানে সময় নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।যেমন গল্পের দুই মুখ্য চরিত্র অর্ক এবং আমজাদ এর ক্যারেক্টর বিল্ড আপ টা ধাপে ধাপে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন।তাড়াহুড়ো করা হয় নি কোন জায়গাতে।একদিকে যেমন তদন্ত প্রক্রিয়া দিয়ে কাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে ফ্ল্যাশব্যাকে আমজাদ আহমেদ এবং অর্কের ব্যাক স্টোরি দেখানো হয়েছে।চরিত্রায়নের জন্য যতটুকু সময় গল্পে দেওয়া দরকার ঠিক ততটুকুই বর্ণনা করা হয়েছে।

৩."মেমরি প্যালাস" সম্পুর্ণ নতুন একটা টপিক ছিল।এত এত গল্প মুভি দেখার পর ও এই টার্ম টা আমি এই প্রথমবারের মত জানলাম।যদিও কাহিনী তে এই টপিক তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।বেশ গুগল ও ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়েছে জানার পর।নতুন শব্দটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৪.মূল দুই চরিত্রের ক্যামিস্ট্রি টা দারুন লেগেছে আমার কাছে।যেন বড় দুই ভাইয়ের মধ্যেকার বন্ডিং দেখানো হয়েছে। আমজাদ আহমেদ এবং অর্কের মধ্যে কর্তব্যরত বস-কর্মচারির সম্পর্ক ছাড়াও তাদের মধ্যে ভালবাসা এবং স্নেহের যে বন্ধন গড়ে উঠেছে তা খুব ভাল লেগেছে আমার কাছে।সাধারণ থ্রিলার বইয়ে প্রোটাগনিস্ট এর মধ্যে এসব দেখানো হয় না শুধু তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আনুষঙ্গিক জিনিসে বেশি ফোকাস করা হয়।

৫.বাংলাদেশে মূলত(ব্যাতিক্রম কিছু বাদ দিলে)মৌলিক থ্রিলার এর পটভূমি সাধারণত ঢাকা ভিত্তিক বা ঢাকার আশেপাশে হয়ে থাকে।কিন্তু এই গল্পে চিটাগাং শহরের পটভূমি দেখানো হয়েছে যেটা বেশ ভাল লেগেছে।এই সুযোগে চিটাগাং শহরের কিছু জায়গার নাম ও জানা হল! চিটাগাং এর বাসিন্দারা আরো বেশি উপভোগ করবেন বইটি।

৬.বইটির মধ্যের দুইটি উক্তি আমার খুব পছন্দের।এর মধ্যে একটি হল,
জীবন হলো চলন্ত গাড়ির মতো। যতক্ষন পর্যন্ত ড্রাইভিং সিটে আছো ততক্ষন চালিয়ে যেতে হবে। প্রিয়জন নামের অনেক মানুষ প্যাসেঞ্জার সিটে বসবে। কিছুক্ষণ গাড়িতে তোমার সাথে সামনে এগিয়ে আবার অনেকেই চলে যাবে। কেবল গাড়িতে থেকে যাবে তাদের স্মৃতি নামক শরীরের ঘ্রাণ। তবুও ড্রাইভিং সিটে বসে তুমি জীবন থামিয়ে রাখতে পারবে না। এগিয়ে যেতেই হবে, সামনের দিকে।

আরেকটি পছন্দের উক্তি হচ্ছে,

অন্ধকার নিশাচরদের হাতিয়ার। তবে অন্ধকার হ‌ওয়াটা কী আসলেই ভুল? আসলেই কী সবসময় আলো থাকা সঠিক?

যা ভাল লাগেনি :
১.গল্পটিতে ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট এ সময় লাগলেও কোন কোন জায়গায় অহেতুক টেনে লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে।২৩৬ পৃষ্ঠার বই সম্পাদনা করে আরো কাটছাঁট করে ছোট করা যেত।এই অহেতুক কথাবার্তার জন্য গল্পটি মাঝে স্লো হয়ে গিয়েছিল এবং সাসপেন্স টাও কমে গিয়েছিল।

২.লেখনশৈলী তে দুর্বলতা দেখা গেছে।বাক্য গঠনে কোন কোন জায়গায় অপারদর্শিতা এবং শব্দচয়ন ও ঠিকঠাক লাগে নি।উন্নতির প্রয়োজন আছে লেখকের লেখনশৈলী তে।আশা করি সিরিজের পরবর্তী বইয়ে লেখকের কাছ থেকে আরো সুন্দর লেখনশৈলী দেখতে পারব।

৩.বইয়ের অন্যতম মূল চরিত্র অর্ককে একটু হলেও দূর্বলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।আমজাদ আহমেদের ছায়ায় যেন ছিল চরিত্র টি পুরো বই জুড়ে।আরো শক্তিশালী ভাবে উপস্থাপনের আশা করেছিলাম এই চরিত্র টি কে।

কেন বইটি পড়বেন :
রিভেঞ্জ এবং পুলিশ প্রসিডিওরাল এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যদি কোন থ্রিলার পড়তে চান তাহলে বইটি হাইলি রিকমেন্ডেড।গল্পটি তে একেবারে চমকে যাওয়ার মত টুইস্ট নেই,সাদামাটা টুইস্ট থাকলেও চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" এই রিভেঞ্জ থ্রিলারটি পড়ে বুঝতে পারবেন প্রতিশোধের নেশা মানুষকে কি থেকে কি বানিয়ে ফেলতে পারে।পাতায় পাতায় থ্রিল,সাসপেন্স যদি বইটি তে খুঁজতে চান তাহলে আপনাকে আশাহত হতে হবে।

প্রচ্ছদ :
তেমন ভাল লাগে নি প্রচ্ছদটা। তবে প্রচ্ছদের মধ্যে দেওয়া দুটি বইয়ের ছবির সাথে গল্পের প্লট এর সাথে সামঞ্জস্যতা লক্ষ করা গেছে।

বাইন্ডিং :
এই বইটির বাইন্ডিং সন্তুষ্টজনক।একদম স্মুথ,দুইপাশে রেখে ইজিলি পড়া যায়,কোন জোরাজুরি করা লাগে নি এছাড়া বইটি ধরতেও বেশ আরামদায়ক।

বানান এবং সম্পাদনা :
খুব হতাশ এই জায়গাটায়।প্রচুর বানান ভুল ছিল।প্রায় অনেক জায়গায়ই যুক্তবর্ণ প্রিন্টে ঠিকঠাক ভাবে আসে নি। তাছাড়া যতি চিহ্নের ব্যবহারও সঠিকভাবে হয় নি।এসব ভুল পড়ার গতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছিল।আশা করি প্রকাশক ভবিষ্যতে সম্পাদনার দিকে একটু মনোযোগ দিবেন।

আপনার বইয়ের শুরুতে লিখা উৎসর্গপত্র টা আমার হ্নদয় ছুঁয়ে গেছে।অনেক অনেক ভাল লেগেছে আপনি যেভাবে লিখেছেন।অনেক অনেক শুভকামনা আপনি এবং আপনার পরিবারের জন্য।
"বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" সিরিজের পরবর্তী বইয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

পার্সোনাল রেটিং - ৪/৫
Profile Image for Zahidul.
450 reviews97 followers
March 27, 2021
মানুষ হবার সাধনা কোথায়? কোথায় চরিত্রবল?
জীবন-পথের কোথা ওরে তোর সেই সম্বল? - বনফুল
-
"বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"
-
অর্ক হাসান খন্দকার, বাংলাদেশ পুলিশের জুনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর। জয়েন করার প্রথম দিনেই তার হাতে আসে এক হাই ভোল্টেজ কেস। আরিফুর রহমান নামের একজন নিজ থেকেই থানায় এসে এক লেখকের নাম নিয়ে বলে যে সে তাকে খুন করেছে।

আরিফের দেয়া ভাষ্যমতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া যায় একটি মৃতদেহ। কিন্তু সেটি আত্মসমর্পণ করা আরিফের নাম বলা লেখকটি নয়, বরং সে অন্য একজন লেখক। এই খুনের তদন্তের ভার পরে অর্ক হাসান খন্দকার আর তার সিনিয়র অফিসার আমজাদ আহমেদের উপর। এই তদন্ত শুরু হলে তাদের হাতে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এখন আরিফুর রহমানের বলা নামের লোকটি আসলে কে? সেই ঠিকানায় পাওয়া লোকের লাশটি কার? এ সব কিছুর সাথে "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" বইটির কি সম্পর্ক? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক জাওয়াদ উল আলম এর লেখা উপন্যাস "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"।
-
"বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" বইটি মূলত ক্রাইম থ্রিলার এবং পুলিশ প্রসিডিওরাল এর মিশ্রন। বইয়ের মূল ঘটনার প্রায় পুরোটাই চট্টগ্রামে ঘটে তাই আমার মতো ঢাকাবাসী লোকের চেয়ে চট্টগ্রামে বসবাস করা লোকজন হয়তো বইটি বেশি উপভোগ করতে পারেন। "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" বইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক এর প্লট যেটি মোটামুটি ভালোই। বেশ ভালো একটি রহস্য নিয়েই গল্পটি শুরু হয়েছে। তবে প্লটের তুলনায় লেখনশৈলীতে গল্পটি পিছিয়ে থাকবে। অনেক সময় মনে হয়ছে অনেক অহেতুক কথা বলে গল্পকে টেনে বড় করা হয়েছে যা সম্পাদনা করে গল্পকে আরো টানটান করা যেত, যা বেশিরভাগ সময় অনেক স্লো হয়ে গিয়েছিলো এই অহেতুক কথাবার্তার জন্য।

"বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল" গল্পের চরিত্রগুলো মোটামুটি গল্পের প্রয়োজনে উতরে গেছে, তবে স্ট্যান্ড আউট কোন চরিত্র বইতে পেলাম না। এখানে প্রোটাগনিস্ট অর্ক হাসান খন্দকার কে ম্যামোরি প্যালেস ব্যবহার করতে দেখা যায় কিন্ত সেটাও যেভাবে এক্সপেক্ট করেছিলাম সেভাবে কাহিনিতে প্রভাব ফেলেনি। আর গল্প পড়তে গিয়ে নানা ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি চোখে পড়লো যেগুলোর জন্য পুরো বইটি হোচঁট খেয়ে পড়তে হয়েছে।

কারিগরি দিক থেকে বললে, আগের লটের বইগুলোর চেয়ে ঈহা প্রকাশের এবারের বইগুলোর প্রডাকশন বাহ্যিকভাবে বেশ উন্নত হয়েছে। আগের লটের বইগুলোতে প্রচ্ছদ, মোটা পেইজ দিয়ে বই ভারী করা এগুলো থেকে সড়ে এসে এবারে চমৎকার প্রচ্ছদ এবং মানানসই পৃষ্ঠা দেয়া হয়েছে (এখানে কভারে প্রচ্ছদশিল্পীর নাম আর বইয়ের ভেতরে প্রচ্ছদশিল্পীর নাম অবশ্য আলাদা, যার কারণ সঠিক বুঝলাম না)। তবে বইয়ের ভিতরের উন্নয়ন বাইরের মতো এত লক্ষণীয় নয়। প্রায় প্রতি পৃষ্ঠাতে টাইপো কিংবা বানান ভুল ছিল, অনেক বাক্য বিশেষ করে যুক্তবর্ণ যুক্ত শব্দগুলো প্রিন্টে সঠিকভাবে আসেনি। বাইরের ব্যাপারগুলোর সাথে বইয়ের ভিতরের ব্যপারগুলোও প্রকাশনীটি নজরে দিবেন আশা করি।

এক কথায়, বাংলাদেশি মৌলিক মার্ডার মিস্ট্রির ক্ষেত্রে বেশ ভালো একটি অ্যাটেম্পট "বনফুল তার বাড়িটি বন্ধক রেখেছিল"। যাদের মার্ডার মিষ্ট্রি, ক্রাইম থ্রিলার কিংবা পুলিশ প্রসিডিওরাল বই পড়তে ভালো লাগে তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা রইলো।
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews3 followers
March 12, 2021
গল্পটা অনেক ইন্টারেসটিং। প্লট সুন্দর।
তবে কয়েকটা ব্যাপারে কিছুটা অসংগতি আর বিরক্তির উদ্রেক করেছে।
১. গল্পের একদম শুরুতে পুরো এক পৃষ্ঠা জুড়ে অর্কের নুডুলস বানানোর বর্ণনা দেয়া হয়েছে, এই ব্যাপারটা গল্পের শুরুতেই একটু গতি কমিয়ে দিয়েছে।
২. চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল একটি বেসরকারি হাসপাতাল। যতদুর জানা আছে, এরকম খুন বা ধর্ষণের লাশের ময়নাতদন্ত, পুনঃময়না তদন্ত সমুহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে করা হয়।
৩. কনস্টেবল জাফরকে বলা হয় ধর্ষনের স্বীকার মেয়েটির লাশ কবর থেকে তুলে পুনঃতদন্ত করতে। জাফরও এক সাংবাদিককে নিয়ে গিয়ে লাশ তুলে আনলো। ব্যাপারটা এত সহজ নারে ভাই। একটা লাশ কবর থেকে তুলে পুনঃতদন্ত করতে আদালতের নির্দেশ লাগে, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কাজটা করা হয়।
এই ব্যাপারগুলো বেশ খটকা লেগেছে। এছাড়া দু'একটি জায়গায় শব্দের অর্থহীন ব্যবহার ভালো লাগেনি, যেমনঃ "লোসা মাংস", "ব্যস্তময়" এইরকম কিছু শব্দ।
সবমিলিয়ে ভালো লেগেছে। টুইস্টটা অনেক আগেই ধরে ফেলেছিলাম। তবুও লেখক পাঠককে তাঁর গল্পে ধরে রাখার যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, তার টানেই গল্পটা আমাকে একদম শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেল। শুভকামনা!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Junaed Alam Niloy.
86 reviews10 followers
July 30, 2021
Silence Of The Lambs এর বিখ্যাত ক্যারেক্টার হ্যানিবল লেকটার কে নিয়ে একটা TV series আছে 'Hannibal' নামে। এটা মূলত Silence Of the lambs এর আগের কাহিনি। কিভাবে Hannibal Lectre এর উত্থ্যান হয় তা নিয়ে সিরিজটা। তাকে ধরার জন্য বইয়ের আরেক চরিত্র Will Graham ও আছে সিরিজে। Will Graham এর আছে এক আশ্চর্য ক্ষমতা। সে কোনো ক্রাইম সিনে গেলে চোখের সামনে সব স্পষ্ট দেখতে পারে সেখানে কিভাবে কি হয়েছিল, যেন ক্রাইম সিনের এভিডেন্স এবং আসবাব গুলো তার সাথে কথা বলে।

এই গল্পের প্রধান চরিত্রেরও সেম টাইপের একটা ক্ষমতা আছে, যা লেখক মেমোরি প্যালেস নামে দাবি করেছে। প্রথম বইয়ে সবার লেখনিই একটু খারাপ হয়, বাক্য গঠন নড়বড়ে হয়। কিন্তু এই বইয়ের স্টোরিটেলিং একটুও ভাল লাগেনি। পুরো বই হাস্যকর যুক্তিতে ভরা। শুধু শেষে ভাল টুইস্ট থাকলেই একটা বইকে 'ভাল' এর কাতারে ফেলা যায়না। বইটা শেষ করার আগ্রহই পাচ্ছিলাম না আমি। এটা পড়ার মাঝেই দুইটা আগে পড়া বই আবার পড়েছি। যাই হোক। সামনে লেখকের এই ভূল গুলো শুধরাবে আশা করি।
Profile Image for Ashik Sarwar.
Author 5 books50 followers
July 18, 2021
লেখকের লেখায় তথ্যগত ভুল ছিল কিছু৷ থ্রিলারের মূল নির্যাস সাসপেন্স, এন্টিসিপেসন তৈরি করা। এই দুইটা কম থাকলে পাঠককে গল্পে ঢুকাতে হয়, চরিত্রের সাথে পরিচয় করাতে হয় যেইটা কে বলে স্লো বার্ন৷ আমার কাছে বইটি মনে হল পান্তা ভাত৷ চরিত্রায়নও তেমন জমেনি। লেখনশৈলীতে আরও জোর দেওয়া দরকার৷ দুর্বল লেখনশৈলীর কারণে টুইস্ট গুলাও আগ্রহ জাগাতে পারেনি৷ আমার ব্যক্তিগত রেটিং ২.৫। গুড রিডসে ৩ এর কম তো দেওয়া যায় না৷ আশা করি লেখক সামনে লেখার দিকে আরও জোর দিবে৷
9 reviews2 followers
March 18, 2021
অনেকদিন পর এরকম থ্রিলার বই পড়ে ভালো লাগলো।🤔 লেখক নতুন হলেও বেশভালোই গুছিয়ে লিখেছেন।
Profile Image for Jim Hasan.
39 reviews
October 31, 2021
অনেক টুইস্ট দেয়ার চেষ্টা করা হলেও সেগুলো লিখনিতে ভালো ভাবে ফুটে উঠেনি। আশা করা যায় পরবর্তী বইতে সেগুলো আরো ভালোভাবে প্রকাশ পাবে
Displaying 1 - 7 of 8 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.