ভয় শব্দটা, ইদানীং আমাদের জীবনের সাথে যেন ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গেছে ! এক অজানা আতঙ্ক যেন আমাদের তাড়া করে বেরাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সময়ের সাথে সাথে আমরা এই ভয়ের সাথে যুঝতে শুরু করেছি ঠিকই, কিন্তু ভয়ের আতঙ্কই যে অজানার মধ্যে লুকিয়ে আছে, কোথায় কখন সেই ভয় মূর্তিমান বিভীষিকা হয়ে উপস্থিত হবে আমাদের সামনে তা হয়ত আমরা কেউ ই জানিনা । আপাতসাধারণ অনেক ঘটনা আমাদের দৈন্দদিন জীবনে ঘটে যায় যেগুলোর বিষয়ে আমরা তেমন ভাবে মাথা ঘামাই না। যেমন ধরুন হঠাৎ করে আপনার পাশের বাড়ির বিজনবাবু বাজারে গিয়ে আর মাছের দোকানের দিকে পা বাড়ান না, আবার আপনার পাশের বাড়ির ছেলেটি যে বেড়াল এত ভালবাসত সে ইদানীং বেড়াল দেখলেই কেমন যেন সিঁটিয়ে যায়, কিংবা প্রতিদিনই আপনার সন্তান তার এক বন্ধুর কথা আপনাকে বলে যাকে আপনি চেনেন না। ওপরের ঘটনাগুলি খুব সাধারণ, এর মধ্যে ভাবনার বা চিন্তার কিই বা আছে ? তাই না ? তাই কি? একটু তলিয়ে ভেবে দেখতে বাধ্য করতে পারে ব্লু চেয়ার (Blue Chair)
অল্প কথায় গল্প বলে কল্পনাকে উশকে দেওয়া— এই স্বপ্ন নিয়েই লেখালেখি করেন কৌশিক সামন্ত। সুবিশাল ক্যানভাসে অসংখ্য চরিত্রের বর্ণাঢ্য উপস্থাপনা নয়; তাঁর লেখনী বরং মিনিমালিস্ট শিল্পীর মতো মাত্র ক'টি আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে চায় ছায়া আর মায়া, ভয় আর জয়। এই বইটি তাঁর সেই অনন্য শিল্পের কিছু নিপুণ নিদর্শন বহন করছে। প্রকাশক ও লেখক নীলাদ্রি মুখার্জি'র আবেগদীপ্ত 'ভূমিকা'-র পর এই বইয়ে যে গল্পগুলো স্থান পেয়েছে তারা হল~ ১. স্যামুয়েল ২. সেনোরিটা ৩. ভৈরব ৪. ঋ ৫. ডেভিড ৬. তানিয়া ৭. ব্রিজেট ৮. ভিকি আর কুশল ৯. রিজওয়ান ১০. প্যাত্রিজো ১১. ফ্যান্টম লিম্ব ১২. ফ্র্যান্সিস এদের মধ্যে অনেকগুলো লেখাই গল্পের বদলে নিজেদের ভিনিয়ে (vignette) স্তরেই আটকে রেখেছে। কিন্তু লেখকের নিজস্ব বর্ণনা-কৌশলের সঙ্গে পরিচিত বলেই আমরা সেই বিন্দুতে আতঙ্ক ও অসহায়তার সিন্ধু খুঁজে নিতে পারি। আর একটু যত্ন নিয়ে পরিমার্জনা করে, লেখাগুলোকে আরও একটু বড়ো করে প্রকাশ করলে তারা আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠত। তার অবর্তমানেও এই বইটিকে পাঁচ তারা দেওয়াই যায়। নীল চেয়ারে বসে গল্প শুনতে চাইলে এই বইটিকে আপন করে নিন। অন্ধকার আপনা থেকেই আপনার পেছনে এসে দাঁড়াবে।
ধরুন... আপনি এমন একটি বই পড়ছেন যার পাতায় পাতায় কোনো ভয়াবহ বর্ণনা নেই, নেই কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ঘটনার ঘনঘটা... কিন্তু পুরো গল্প জুড়ে এমন কিছু আছে যা পড়তে পড়তে একটা অদ্ভুত গা-শিরশিরে অনুভূতি হয় আপনার । পড়তে পড়তে থমকে যেতে হয় বেশ কিছু ক্ষেত্রে, আরেকবার পড়তে হয় এটা বুঝে ওঠার জন্য - ‘আরে ! এটা কী পড়লাম’ ??
এই বইটি ঠিক সেইরকম ।
📝 বর্তমান বাংলা সাহিত্যে ‘হরর’ জঁনরা নিয়ে যারা লেখালেখি করছেন তাদের মধ্যে কৌশিকদা অন্যতম । তার লেখা ‘প্রফেসর সোম’ এবং ‘মেলানকোলির রাত’ বইদুটি যারা পড়েছেন তারা জানেন এই লেখকের গল্প বলার একটি নিজস্ব স্টাইল আছে, আর ঠিক এই কারণেই সাহিত্যের এই বিশেষ ধারাটিতে স্বতন্ত্রভাবে বিচরণ করেন লেখক । ১২৬ পৃষ্ঠার এই বইটিতে আছে এমন ১২টি গল্প যেগুলি শুধুমাত্র ‘ভয়ের গল্পে’ই আবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছে এমন কিছু যা পাঠককে চিন্তা করতে শেখায় ।
📝 এই গল্পগুলি নিয়ে কোনো আলোচনা করবো না । কারণ, এই লেখকের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল - ‘ভীষণ অল্প কথায় গল্প বলা’ । গল্পের খাতিরে যতটুকু বর্ণনা প্রয়োজন ততটুকুই, অথচ প্রতিটি গল্পই যথাযথ ভাবে উপস্থাপিত । প্রতিটি গল্পের শেষেই আছে অপ্রত্যাশিত ট্যুইস্ট । আপনি পড়তে পড়তে ভাবছেন গল্পের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে, কিন্তু শেষে গিয়ে হঠাৎ দেখবেন লেখক পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন এক অব্যর্থ মোচড়ে ।
▪️গল্পগুলি আকারে ছোট, কিন্তু প্রতিটি গল্পই ভীষণ অভিনব এবং চমকপ্রদ । ডেমন, ভ্যাম্পায়ার, লাইট হাউস থেকে শুরু করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, বর্তমান সমাজের ভয়াবহ রূপ... এই সব বিষয়বস্তু উঠে এসেছে গল্পগুলির মাধ্যমে । যারা ‘মেলানকোলির রাত’ বইটি পড়েছিলেন তারা বুঝবেন... লেখক সেই বইটি যেখানে শেষ করেছিলেন, এই বইটি শুরু করেছেন ঠিক সেখান থেকেই ।
বইটা শেষ করে লেখক ভায়ার ফ্যান না হয়ে পারা যায় না। এনার লেখাই আরেক বই ছিল মেলানকোলির রাত আর এই পেলাম ব্লু চেয়ার। দুটোই প্রায় এক। কিছু রোমহর্ষক কিন্তু অতিশয় খুদ্রাকারের গল্পের সংকলন।
কিছু গল্প হয় পড়তে পড়তে মেরুদন্ড দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। পাতি ব্যাপার। কিন্তু কিছু এমন গল্প হয় যখন সেই স্রোত টা ঘাড়ের কাছে এসে থেমে সেখানেই রয়ে যায়। 😳অনেকটা সময় লেগে যায় স্বাভাবিক অনুভব করতে। সেই ধরনের চমক, রোমাঞ্চ আর আতঙ্ক এই বইয়ে ভরপুর মাত্রায় পাবেন।
এই বইয়ের কিছু বিশেষত্ব:
🌀 প্রতি গল্পের শুরুতে গল্পটার প্রাণ বা গল্পের কেন্দ্র এমন একটা জিনিসের ছবি আছে। Representative element এর মত। এমনিতে একটা সামান্য জিনিসের ছবি, দেখে নিরীহ মনে হবে। যথারীতি তাকে উপেক্ষা করে গল্প পড়া শুরু করবেন। গল্পের শেষে বুঝবেন ওই ছবির কি হাড়হিম করা রূপক অর্থ ছিল। Chilling 😳😳
🌀 প্রতিটা গল্পেই আছে কিছু unexpected twist. প্রথমে মনে হবে আপনি twist টা ধরে ফেলেছেন, তারপর দেখবেন তার পিছনেও আরও ভয়ানক কিছু একটা আপনি ignore করে ফেলেছেন। 😳😳
🌀 কিছু গল্প অসমাপ্ত আছে, ভূমিকার মধ্যে তা স্বীকার করাও আছে। ঐগুলো ইচ্ছাকৃত। মানে বাকিটা নিজের মত করে ভেবে নিন। ঐ প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখক দেবেন না। সব পাঠকের দায়িত্ব।🤔
ভৈরব আর ব্রিজেট আমার সেরা গল্প মনে হয়েছে।😳 ভয়ঙ্কর ছিল গল্পদুটো। তাছাড়াও সেনোরিটা, তানিয়া, প্যাত্রিজো, স্যামুয়েল বেশ ভালো লেগেছে। কি কি ভালো লেগেছে বলতে গিয়ে প্রায় গোটা সূচিপত্রই লিখে ফেললাম। এবার আপনারাই ভাবুন পড়বেন কি পড়বেন না?
কিছু গল্পকে genre দিয়ে মাপা যায় না। লেমি বরাবর বলে এসেছেন মোটরহেড রক অ্যান্ড রোল মিউজিক বাজাতো। সেই একইভাবে আমিও আমার লেখাকে সহজভাবে ফ্যান্টাসি - ফিকশন বলে থাকি। এখন এই বইটিকে কী বলা যায়? বাকিরা কে কী বলবে জানি না আমি বলব এটি ডার্ক ফ্যান্টাসি - ফিকশন। সহজ ব্যাপার। অল্প কথায় গল্প বলা যায় তথ্যের বন্যা না বইয়েও, সেটা এই বইটি না পড়লে বোঝা যাবে না। লেখক মূলত মেলানকলি বোরিংপুরের জন্য বিখ্যাত হলেও আমার ধারণা এটি তার সবচেয়ে ভালো কাজগুলোর একটা। সহজভাবে গল্প দিয়ে কীভাবে ধাক্কা দিতে হয় সেটার জন্য এটি পড়তে হবে। তবে হ্যাঁ, প্রচ্ছদটি ঠিক যুতসই মনে হয়নি আমার। আর ভেতরের অলংকরণ আরেকটু ভালো হতে পারত হয়তো! ব্যস এটুকুই।
◻️"গল্পগুলি পড়ার পর আমার মনে বেশ কিছু প্রশ্ন জেগেছিল। উত্তরগুলো চাইতে যখন লেখকের শরণাপন্ন হলাম, তিনি মুচকি হেসে বললেন, উত্তরগুলো তো লেখকের কাছে নেই, আছে তার কাছে যিনি প্রচ্ছদের ওই নীলচে চেয়ারটাতে বসে আছেন।তার কাছে মানে কার কাছে? চেয়ার যে ফাঁকা!" - নীলাদ্রি মুখার্জী (ভূমিকা থেকে)
◻️প্রকাশের পরপরই পড়লেও সম্প্রতি একটা বিষয় খুঁজে দেখার জন্য আবার পড়ে ফেললাম উক্ত বইটি। চুপিচুপি বলি, প্রফেসর সোমের থেকে আমার কাছে 'ব্লু চেয়ার' ও 'মেলানকোলির রাত' একটু হলেও বেশি প্রিয়। তথাকথিত ভৌতিক অলৌকিক সংকলন না বলে ডার্ক থ্রিলারের সংকলন বলা যেতেই পারে। বইয়ে বারোট��� গল্প রয়েছে আর প্রত্যেকটা গল্পই একে অন্যের থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা - ১.স্যামুয়েল : এ এক আসলে বিবেক বোধ জাগ্ৰতের গল্প, আমার এই বইয়ের অন্যতম প্রিয়। ডেমনোলজিস্ট স্যামুয়েল, গল্পের অন্তিম পরিণতি শিহরণ জাগায়।
২. সেনোরিটা : ছোটোর মধ্যে সুন্দর গল্প , ভবিতব্য কোথায় নিয়ে আসতে পারে কাউকে সেটাই দেখা যায়।
৩. ভৈরব : গ্রাম-বাংলার গল্প। প্যারালালি চলতে থাকা দুটো সময়কালে অতীত-বর্তমানের মিশ্রণ বেশ উপভোগ্য।
৪.ঋ : গল্পের শেষের টুইস্টটা মারাত্মক। গ্যারান্টি দিচ্ছি বিস্ময় আর ত্রাস আপনাকে যুগ্ম ভাবে ট্রিগার করবে।
৫.ডেভিভ: পরিবারের কেউ এমনকি ডেভিদের মিস ও রাফায়েলের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে l এরকমটা কেন জানতে হলে পড়তে হবে গল্পটি l
৬.তানিয়া : নিজের জীবনের সবচেয়ে গোপন কথাটি পাল্টে দেবে একজন ব্যক্তির সৌন্দর্যl রাতারাতি হয়ে যাবে একটা অন্য মানুষ l পৌঁছে যাবে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে l কিন্তু এর জন্য মূল্যও চোকাতে হবে তাকে l
৭. ব্রিজেট : এই গল্পটি আসলেই ভালোবাসা-র । ভালোবাসার মানু্ষ সাথে থাকলে, যে কোনো পরিস্থিতিতে , যে কোনো স্থানে ভালোবাসার স্বর্গ রচনা করা যায়। দ্বিতীয় ফেভারিট গল্প এই বইয়ের। শেষে অপ্রত্যাশিত একটা চমক অপেক্ষা করছে।
৮.ভিকি আর কুশল : লেখক এই ধরণের গল্প গুলোয় কামাল করেছেন। ক্লাইম্যাক্স এককথায় অনবদ্য।
৯. রিজওয়ান : মানুষের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী কখনো ছায়া-মানব হয়ে উঠলে কি হতে পারে? চমৎকার প্লট।বইয়ের থার্ড ফেভারিট গল্প l
১০. প্যাত্রিজো : এই গল্পের ভাবনাও অনন্য। সমকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এক অন্য ধরনের গল্প।
১১.ফ্যান্টম লিম্ব : এই বিষয়টি একদম-ই অজানা ছিল আমার কাছে। নতুন তথ্য পেলাম।
১২. ফ্রান্সিস : গল্পে সুন্দর গতি ছিল এবং ভাবনাও অনন্য। একটা মেসেজও রয়েছে। ভালোই লাগে পড়তে।
◻️পুরো বই জুড়ে ছড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত অনুভূতি যা গা শিরশির করলেও,একটা ভালো লাগার রেশ তৈরী করে। প্রতি গল্প শুরু হয় এক রকম মেজাজে , কিন্তু শেষের চমকে পুরো অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন লেখক গল্পের ।গল্পগুলোর একটা বিশেষ দিকই হলো প্রত্যেকটিই যেন 'শেষ হয়ে হইল না শেষ', আর এটার জন্যই গল্পগুলো আরও আলাদা মাত্রা পেয়েছে। সাসপেন্স জাতীয় হলেও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে প্রায় প্রতিটা গল্পেই জড়িয়ে আছে জটিল মনস্তাত্বিক ক্রিয়াকলাপ। অভিযোগ শুধু একটাই, বেশ কিছু ভালো ভালো বড় গল্পের প্লট লেখক জলদি শেষ করেছেন। ওগুলো আরও একটু বড় করে উপস্থাপন করলে হয়তো আরও জমতো। তবে যারা এখনো পড়েননি, তাদের বলবো একবার 'ব্লু চেয়ার'-এ বসেই দেখুন, কথা দিচ্ছি উপভোগ করবেন।
বইখানা অনেকদিন আগেই কেনা। পড়া হয়ে উঠছিল না। পুচকি একটা বই, ইট্টু ইট্টু গল্প কিন্তু ইয়া বড় চমক। মানে ছোটা প্যাকেট বড় ধামাকা। ইদানিংকালে বেশ অন্যরকম অলৌকিক গল্প লেখার জন্য যে কজন পরিচিত হয়ে উঠেছেন, তাঁদের মধ্যে কৌশিক সামন্ত অন্যতম। আর পাঁচটা অলৌকিক গল্পের মতো তন্ত্রের ঘনঘনা নেই, বীভৎসতাও সে অর্থে নেই। কিন্তু একটা গা ছমছমে ভাব আর উৎকণ্ঠা যেন সব সময় ঘিরে ধরে রাখে। প্রায় প্রত্যেকটা গল্পের শেষেই একটা করে অনবদ্য করে টুইস্ট থাকে যা অনুমান করা বেশ দুঃসাধ্য। বইয়ে সব মিলিয়ে 12টা গল্প আছে। আলাদা আলাদা করে আলোচনা না করে বলি, প্রায় সিংহভাগ গল্পই বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে গল্প 'ফ্রান্সিস', 'তানিয়া', 'ডেভিড', 'ব্রিজেট', 'ভিকি আর কুশল' এগুলো উল্লেখযোগ্য। ভালো লাগেনি- বইয়ের প্রচ্ছদ। এমনই কালো আর নীল যে একটু দূর থেকে প্রায় কিছুই আলাদা করা যায় না। পুরোটাই কালো মনে হয়। ভিতরের অলঙ্করণগুলোও আরও ভালো হতে পারত। একই সঙ্গে এও বলে রাখি, বেশ কিছু ভালো ভালো বড় গল্পের প্লট লেখক কেন দুপাতায় নামিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বুঝতে পারিনি। লেখার অনীহা নাকি পাতার অভাব!! ওগুলো আরও একটু বড় করে উপস্থাপন করলে হয়তো আরও জমতো।
Was so eager to read this book since a while ago!!!
Although it was a short story, I really enjoyed the beautiful descriptions of the surroundings, the characters and the mystery of the strange blue chair!