১৯৯৬ সালে প্রথম প্রকাশের সময় এই সংকলনের লক্ষ্য ছিল লোকসংস্কৃতি-চর্চায় দুষ্প্রাপ্য অথচ গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক কিছু প্রবন্ধকে নতুন করে ছাত্র ও গবেষকদের কাছে ফিরিয়ে আনা। তখন এতে স্থান পেয়েছিল উনিশটি প্রবন্ধ। তারও ষোলো বছর পর প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণে আরও ছ'টি প্রবন্ধ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে এই বইয়ে তাই, 'প্রস্তাবনা' অংশটি বাদে, রয়েছে পঁচিশটি লেখা। তারা হল~ ১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর 'মেয়েলি ছড়া'; ২. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর 'বাংলার ব্রত'; ৩. শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়-এর 'রূপকথা'; ৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর 'লোক-সংস্কার'; ৫. জসীমউদ্দিন-এর 'পূর্ববঙ্গের নক্সীকাঁথা ও শাড়ি'; ৬. চন্দ্রকুমার দে'র 'মহিলা কবি চন্দ্রবতী'; ৭. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর 'জাতি, সংস্কৃতি ও সাহিত্য'; ৮. গোপাল হালদার-এর 'বাংলার কালচার'; ৯. যামিনী রায়-এর 'পটুয়া শিল্প'; ১০. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী'র 'বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা'; ১১. চিন্তাহরণ চক্রবর্তী'র 'বাংলার উৎসব'; ১২. আশুতোষ ভট্টাচার্য'র 'ধর্ম ও লোকাচার'; ১৩. বিনয় ঘোষ-এর 'ডোকরাশিল্প ও শিল্পীজীবন'; ১৪. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী'র 'ডাক ও খনা'; ১৫. মুহম্মদ আবদুল হাই-এর 'লালন শাহ ফকির'; ১৬. কামিনীকুমার রায়-এর 'লৌকিক দুর্গা'; ১৭. অক্ষয়কুমার দত্ত'র 'কর্তাভজা'; ১৮. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ-এর 'বঙ্গের গ্রাম্য সাহিত্য'; ১৯. নন্দগোপাল সেনগুপ্ত'র 'ময়মনসিং গীতিকা'; ২০. ডব্লিউ.জি. আর্চার-এর 'কালীঘাটের চিত্রকলা'; ২১. গুরুসদয় দত্ত'র 'বাংলার জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় নৃত্য'; ২২. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন-এর 'কবিগান'; ২৩. কবিশেখর কালিদাস রায়-এর 'ময়মনসিংহগীতিকা'; ২৪. সুকুমার সেন-এর 'বাঙলায় নারীর ভাষা'; ২৫. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়-এর 'বেতাইচণ্ডী প্রসঙ্গে'। এদের মধ্যে অনেকগুলোই ক্লাসিক হিসেবে পঠিত, আলোচিত এবং গবেষণার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমন একঝাঁক লেখাকে একসঙ্গে পরিচ্ছন্ন মুদ্রণে পরিপাটি হার্ডকভারে পেলে ভালো তো লাগেই। তারই সঙ্গে নতুন করে অবাক হতে হয় এই ভেবে যে একদা বাংলায় মনোজ্ঞ অথচ তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধের যে ধারাটি ছিল, সেটির আজ এমন অবস্থা কেন হল? লোকসংস্কৃতি এক অতি বিশাল বিষয়। সম্পাদকেরা তার এতরকম দিক নিয়ে প্রবন্ধের বদলে থিমের দিক দিয়ে সঙ্গতিপূর্ণ বেশ কিছু লেখাকে একসঙ্গে আনলে ব্যাপারটা আরও জুতসই হত। ইতিমধ্যে, যদি এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে এই বইটি অবশ্যই পড়বেন।