জন্ম ২০ জনুয়ারি ১৯৬৫, নাটোরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিগ্রী স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে। সমকালীন মূলধারার বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অপরিহার্যতা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অনবরত বাঁকবদল তাঁর সাহিত্যিকতার প্রধান বৈশিষ্ট। বিষয় ও আঙ্গিকে, মাধ্যম ও প্রকরণে তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত অবস্থান সকল মহলেই স্বীকৃত। পেয়েছেন বাংলা একাডেমিসহ দেশের প্রধান প্রায় সকল সাহিত্য পুরস্কার।
"লখিন্দর একবার পেছনে ফিরে তাকায়। বলে-- নিজের প্রাণের জন্য কোনো সত্যিকারের পুরুষ কখনো স্ত্রীকে বা প্রিয়তমাকে অন্যের দৃষ্টির লালসার শিকার হতে দেয় না।"..
শুরুটা লখিন্দরের একটি সংলাপ দিয়েই করলাম।
লেখক সাহেব বইটি উৎসর্গ করেছেন উনার শিক্ষক " সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিহ্ "কে। বইটির নামকরণ করা হয়েছে প্রথম গল্পের নামানুসারে "বেহুলার দ্বিতীয় বাসর " হতে। এই গল্পগ্রন্থে মোট গল্প রয়েছে ১১টা। প্রত্যেকটি গল্পই আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। গল্পের নামকরণটা একটু ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি কেন এমন অদ্ভুত নামকরণ। কিন্তু প্রতিটি গল্প পড়ার পর মনে হয়েছে নামকরণ সার্থক।
>>গল্প নিয়ে খেজুরে আলাপ
১. বেহুলার দ্বিতীয় বাসর
বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনী নিয়ে গল্পটা। স্বর্গ থেকে লখিন্দরসহ তার বাকি ভাইদের ফেরার পর চাঁদ সদাগরের বাড়ির নানান ঘটনা,উৎসব আয়োজন,কথাবার্তা তুলে ধরেছেন এখানে। লখিন্দর -বেহুলার ভুল বুঝাবুঝির হয় কেন জানতে পড়তে হবে । (না পড়লে বোঝা যাবে না)
২. কখন যে জেগে ওঠে অচেনা গোপন!
এক পতিতা নাম ইসমত আরা আছেন কবি আনিসুর রহমানের বাড়িতে। সকালে বিছানায় চা এগিয়ে দেয়ায়, নাস্তায় আসতে বলায় অবাক হন ইসমত আরা। একসময় টাকা চাইলে আনিসুর রহমান একটা টেবিল দেখিয়ে দেন।তার ইচ্ছে মতো টেবিলের উপর থেকে শাড়ি অথবা দুহাজার টাকা নিতে। কিন্তু ইসমত আরা টাকা নিয়ে বের হয়ে যান। কিন্তু দূরে চলে যাওয়ার পর একসময় বলে উঠেন " ঐ রিকশা ঘুরাও! যেইখান থনে উঠছি,সেইখানে নিয়া চলো।
৩. নাটকের মানুষ
আনোয়ার একসময় নাটকে কাজ করত। কিন্তু বিয়ের পর বউয়ের কারণে ইসলাম পালনে মনোযোগী হয় এবং নাটকে অভিনয় ছেড়ে দেয়। কিন্তু তার বউ ছেলের শিক্ষকের সাথে চলে যায় । তারপরে সেই নাটকের এক মেয়ে ঝুমার সাথে আবার বিয়ে হয় আনোয়ারের।
৪. একটি রাবিন্দ্রক ভ্রমণকাহিনী
একজন বন্ধুবান্ধবের শান্তিনিকেতনে ভ্রমণের কথা। আছে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রবাসীদের নিয়ে একটা কথা বেশ খারাপ লেগেছে তবে কথাটা সত্য মনে হয়। নিচে দিচ্ছি - "" ওদের চা-পা-অলা কুত্তার দরকার নাই। কুত্তার মতো ব্যবহার করার জন্যে আমরা সব মিসকিন দেশের হাজার হাজার দুইপায়া কুত্তারা আছি না "
৫. অলৌকিক বেদনার ভার
ছেলেকে একটা চিঠিতে বাকিতে চাল দেওয়ার আর্জি জানিয়ে রাজ্জাক সাহেবের কাছে পাঠান সালেক মিয়া। কিন্তু পূর্বে ঋণ থাকায় চাল না নিয়ে চলে যায় ছেলে।না খেয়ে থাকায় এক পরিচিত ভাইয়ের কাছে যাওয়ার সময় দেখতে পায় তার বাবা সালেক মিয়া আয়েশ করে নাস্তা খাচ্ছেন।
৬. এখানে নয় অন্য কোনোখানে
এই গল্পটা একটু ব্যতিক্রম লেগেছে।আলমগীর হোসেনকে স্ত্রী,ছেলেমেয়েরা অবজ্ঞার চোখে দেখে। তিনি ঠিক করেন বাড়ি থেকে দূরে কোথাও চলে যাবেন। সবকিছু ঠিকঠাক করে। কিন্তু যেদিন চলে যাবেন সেদিন রাস্তায় দেখা হয় তন্ময়ের সাথে। তখন চলছে তনু হত্যার মানববন্ধন। তিনিও নিজের মেয়ের কথা চিন্তা করে যোগ দেন সেখানে।
৭. এক বর্ষাকালের প্রেমকাহিনী
স্বামী-স্ত্রীর প্রেমময় কথাবার্তা,রোমান্স, অতীতের নানান ঘটনা তুলে ধরেছেন এই গল্পে। এটা পাঠকের জন্য রেখে দিলাম গভীরে গেলাম না। হু 😑
৮. ভুল মিছিলের ভয়
আমার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লেগেছে এই গল্পটা। এই গল্পের ভালো লাগা কিছু অংশ আমার টাইমলাইনে পোস্ট করেছি পড়তে পারেন। নিসারর আর লামিয়ার কথোপকথনে গল্পটা এগিয়ে চলে। একসময় মিছিলে যাওয়ার কথা বলে নিসার। কিন্তু কয়েকটা মিছিল রাস্তা দিয়ে চলে গেলেও একটিতেও অংশ নেয় না নিসার। কারণ?... এই গল্পটা মাস্টরিড ❤️
৯. আলমগীরের জবানবন্দী
এই গল্পটা বাদশাহ আওরঙ্গজেব অর্থাৎ আলমগীরকে নিয়ে। এখানে লেখক ইতিহাস নিয়ে নানান রকম কথা বলেছেন। কেন তিনি তার ভাইদের হত্যা করেছেন?,কেন ফতোয়ায়ে আলমগীরি প্রণয়ন করলেন?নানা বিষয়ে লেখক তার নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন এই গল্পের মাধ্যমে।
১০. হে পুত্র!
এই গল্পে গোর্কির "মা" উপন্যাসটা ছেলেকে সাজেস্ট করেন পিতা। বিশদ আলোচনা করেন ছেলে পাভেলের কাছে। কিন্তু ছেলে বইটা ছুঁয়েও দেখে না..
১১. সুতানাগ
এই গল্পটা পাঠকের জন্য রেখে দিলাম। নিজে পড়ে চিন্তা করবেন কেমন???
মান্যবর লেখক জাকির তালুকদারের প্রথম কোনো গল্পের বই পড়লাম। এটি লেখকের অষ্টম গল্পগ্রন্থ। লেখকের ফ্যান হয়ে গেছি এক্কেবারে। লেখকের "মুসলমানমঙ্গল" বইটা পড়া সবার প্রয়োজন মনে করি।
গল্পগ্রন্থ ~ বেহুলার দ্বিতীয় বাসর লেখক ~ জাকির তালুকদার প্রকাশনী ~ আদিত্য অনীক প্রকাশনী প্রচ্ছদমূল্য ~ ১৯৯ /- প্রথম প্রকাশ ~ আগষ্ট, ২০১৭ পৃষ্ঠা ~ ৯৬