আদতে শকুনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান, প্রতিভাশালী মানুষ। আর্যাবর্তের উচ্চ-নীচ ভেদাভেদের প্রতি তার কিছু ক্ষোভ ছিল, অভিযোগ ছিল। সেখান থেকেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়েছেন। হয়ত লোভীও ছিলেন। শকুনিকে বুঝতে গেলে তার এই ক্ষোভ, প্রশ্ন, লোভ আর মহাভারতের নানা কার্যকারণের দিকে লক্ষ্য করতে হয়। সেখান থেকে শকুনি চরিত্র বিশ্লেষণ করলে তাকে হয়ত সাহিত্যের প্রথম ‘সাইকোপ্যাথ’ বলেও ধরা যাবে। সে চেষ্টা করতে গিয়েই দেখলাম শকুনির মধ্যে রয়েছে নানামুখী প্রতিভা। তিনি ভালো পাশারু, হিসাবে দক্ষ। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতেন। আসলে মহাভারতে শকুনি কোন দৈব ক্ষমতা ব্যবহার করেনি। মানবীয় ক্ষমতা দিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কিন্তু একালে একতরফা ‘ভিলেন’ বানিয়ে শকুনির প্রতি যে অবিচার মানুষ করছে, সেরকম অবিচার করেছেন খোদ ব্যাসদেব। মহাকাব্যে যথেষ্ট জায়গা নিয়ে তিনি শকুনিকে আঁকেননি। কোথাও না কোথাও শকুনিও বঞ্চনার শিকার। শকুনি অবশ্যই ‘খল’ ছিলেন কিন্তু তাকে আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি মনে করি। সে বঞ্চনার ইতিহাস লেখা হয়নি। আমার মনে হয়েছে শকুনির কিছু বলার আছে। মহাভারতে দাঁড়িয়ে একমাত্র শকুনির পক্ষেই এমন অনেক কথা বলা সম্ভব যা বলার সাহস অন্য কারও ছিল না।
মহাভারত। একটি মহাকাব্যের নাম। এই মহাকাব্যের মূল রচয়িতা হলেন কৃষ্ণদৈপায়ন বেদব্যাস। মহাভারতের মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরব ও পান্ডবদের গৃহবিবাদ এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি।
এই মহাভারতের মূল দুটি অংশ হলো কৌরব অর্থ্যা ধৃতরাষ্ট্রের সন্তান এবং আরেকটা হল পান্ডব অর্থ্যাৎ পান্ডুর সন্তান। এই দুইটি বড় অংশ বাদ দিলে ও মহাভারতে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন গান্ধার রাজ্যের যুবরাজ শকুনি। এই শকুনির সাথে হস্তিনাপুরের সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল, হস্তিনাপুরের যুবরাজ ধৃতরাষ্ট্রের সাথে তার বোনের বিবাহদানের মাধ্যমে। তার মানে শকুনি হলো হস্তিনাপুরের আত্মীয়। কিন্তু,আমরা শকুনিকে মহাভারতের ভালো কাজে দেখি না। সে সব সময় তার কূটনীতিক প্রয়োগ করে পান্ডবদের বিপক্ষে কাজ করত। তার কুমন্ত্রণায় মূলত সংঘটিত হয় মহাভারতের যুদ্ধ। পরমকুটুম হওয়া স্বত্তেও শকুনি কেন করলেন এমন কাজ?
শকুনি সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি,এর বাইরে কি কিছুই নেই! শকুনি কি শুধুই একজন ভিলেন! এই মহাভারত গ্রন্থে শকুনির কি নিজের বলার মত কিছু আছে!
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে, মাহমুদুর রহমানের "শকুনি উবাচ " পড়তে হবে।
আমার মন্তব্য : সম্পূর্ণ মহাভারত আমার পড়ার মতো সৌভাগ্য আমার এখনো হয়নি। তবে, ছোট থেকে ঘরের বিভিন্ন জনের কাছে থেকে শুনেছি এবং একটা টিভি সিরিয়াল দেখেছি। মহাভারত আমার কাছে মনে হয় মস্ত একটা গল্পের ঝাঁপি। এই মহাভারত নিয়ে গবেষণা মুলক গ্রন্থের সংখ্যা ও অনেক। "শকুনি উবাচ" কে ও গবেষণা গ্রন্থ বলা যায়। এই বইয়ে মহাভারতের একটা বিশেষ চরিত্রকে নিয়ে বলা হয়েছে। যে সাধারণত লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে। লেখক চেষ্টা করেছেন সেই চরিত্রের নিজের কথা গুলো জানাতে এবং সর্বোপরি এই শকুনি চরিত্রের ভিলেনের পার্ট ছাড়াও আলাদা একটা চিত্র আছে, সেটা তিনি দেখাতে চেষ্টা করেছেন।
বইটা আমার মোটামুটি লেগেছে। তার প্রথম কারণ গল্প বলার ধরন,সেটা আমার ঠিক পছন্দ হয়নি। দ্বিতীয় কারণ বানান, এই বইয়ে বানানের ভুলটা বড্ড চোখে পড়েছে। বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্য়ন্ত কর্ণকে "সুষেন" নামে ডাকা হয়েছে, কিন্তু মূল শব্দ টা হবে বসুসেন। এছাড়া,লেখকের হুটহাট করে বক্তা পরিবর্তন করার কারণে পড়ার ছন্দটা হারিয়ে যাচ্ছিল। এটা একজন পাঠক হিসেবে আমার সবচে বড় অস্বস্তির কারণ।
যারা মহাভারত নিয়ে আগ্রহী, এর সম্পর্কে জানতে চান। তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
যারা মহাভারতের উপর বই পড়তে আগ্রহী কিন্তু এখনো তেমন কোন বই পড়ে উঠতে পারেনি তাদের বইটি মোটামুটি ভাল লাগবে। তবে মহাভারতের উপর যারা ইতিমধ্যে বেশকিছু বই পড়ে ফেলেছে তাদের জন্য "not recommended"
মহাভারতে শকুনি কে একজন পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই রাখা হয়েছে । লেখক চেষ্টা করেছেন তার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করতে । খুব বিরক্ত লাগছে বই টা পড়তে । কারণ এর একদিন আগেই আমি এই লেখকের 'রাধেয়' পড়েছি । পেইজের পর পেইজ একই লেখা। একদম ctrl C +ctrl V . এখন কাহিনী একি তাই তা বদলানো সম্ভব না তবে তাই বলে একই লেখা ছাপাবে ? এইটা কোন কথা ? আপনার যদি টাকা আর সময় অতিরিক্ত না হয়ে থাকে তবে এই দুইটা বই কেনা বা পড়ার মানে হয় না। যেকোন একটা পড়েন ।
মহাভারত। তার ধর্মীয় গুরুত্ব আছে যেমন, তেমনি সাহিত্য এবং ইতিহাসের দলিল হিসেবেও তার দরকার সর্বজনবিদিত। মহাভারতকে নিয়ে গবেষণা হয়েছে, তাকে আশ্রয় করে সাহিত্যও সৃষ্টি হয়েছে। মহাভারত-আশ্রিত নানান ধর্মী উপন্যাস, আখ্যান এবং ইন্টারপ্রিটেশনের মাঝে বাংলাদেশী পাঠকরা সবচে আগে চিনে থাকবেন হরিশঙ্কর জলদাসের 'একলব্য'-কে। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর 'ছেলেদের মহাভারত' পড়ার সুযোগও ঘটতে পারে। তারপর আসে গজেন্দ্রকুমার মিত্রের 'পাঞ্চজন্য'। একলব্য-তে যেমন মহাভারতের একটা উপেক্ষিত চরিত্রকেই কেন্দ্র করে তার পেছনে দাঁড়িয়ে পুরো মহাভারতকে দেখা হয়েছে, তেমনি এপ্রোচ দেখা যায় পাঞ্চজন্য-তেও, সেখানে আগ্রহের কেন্দ্রে শ্রীকৃষ্ণ। একটু দূর থেকে তাঁকে উপলক্ষ্য করেই মহাভারতের বর্ণনা এসেছে, লেখক নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েছেন যথাকিঞ্চিৎ, ছাপ ফেলেছেন অল্প। যেটা একলব্যের বিপরীত। এরপর বাণী বসুর 'সুযোধন দুর্যোধন', 'কৃষ্ণা' আছে। আর ফিকশনের কথা বাদ দিলে মহাভারতকে নিয়ে মত দেওয়ার মতো গবেষণা গ্রন্থ আছে গন্ডায় গন্ডায়।
একান্ত ধার্মিকের চোখেই মহাভারতকে দেখা হোক, আর তার ওপর আঙ্গুল তুলে তাকে প্রশ্ন করাই হোক, এটা অনস্বীকার্য, যে, আদ্যিকালের 'গেম অফ থ্রোন্স' গোছের এই মহা-উপাখ্যানের চরিত্রদের একেকজনের একেক ধরণের অবদান আছে মহাভারতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে। মধ্যমণি বাসুদেব অথবা পাঁচ পান্ডব, কিংবা দুষ্ট চতুষ্টয়ের দুর্যোধন, তাদের যেমন প্রত্যক্ষ অবদান আছে, দূরে থেকে আছে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসের অবদান, এমনকি নিতান্ত ছোট ভূমিকায়ও বড় খেল খেলে গেছেন শকুনি'র মতো চরিত্ররাও।
'শকুনি উবাচ' নামের ১২০ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্র উপন্যাসে, মহাভারতের যে কয় পাতায় শকুনির উল্লেখ এসেছে তারচেয়ে কিছু বেশিই তুলে ধরা হয়েছে এই চরিত্রকে। না, বর্ণনায় না, বরং তার মনস্তত্ত্বে ঢুকে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, মহাভারতের এই নামকরা 'পাশারু'র ভিলেইনি'র পেছনের রহস্য কি।
শকুনি-কে যারা মনে রেখেছি, নিঃসন্দেহে তা মহাভারত সিরিয়ালের দরুণ, অন্তত অধিকাংশের ক্ষেত্রে। এই বইয়ের লেখকের দাবি, কেবল একটা সিরিয়াল বা সিনেমা নির্মাণের প্রয়োজনে, একটা খল চরিত্রের উপস্থাপনের দরকারেই শকুনি চরিত্রটাকে বসানো হয়েছে সে স্থান পূরণের জন্য। কিন্তু কোনো মানুষ কি কখনো খল হবার উদ্দেশ্যেই খল হয়? কোন বিষয়গুলো একজন মানুষকে চালিত করতে পারে সবার অপ্রিয়তা মেনে নিয়েও নিজের চরিত্রে বহাল থাকতে?
'শকুনি উবাচ'র সার্থকতা এতটুকুতেই। গান্ধারের রাজা, দুর্যোধনের মামা যে একজন উটকো লোকের চেয়ে বাড়তি কিছু ছিলেন, তার চরিত্রটা কতটা ইউনিক ছিল এবং কোন কারণে তিনি চালিত হয়েছিলেন মহাভারত ঘটাবার উপলক্ষ্য তৈরীর মতো সর্বনাশা উদ্যোগে, এসবের কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে চরিত্রটার মাঝে। পিতার হাড়ের পাশা অথবা পাশার দান নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু মিথের খন্ডনও ঘটেছে, সেগুলো মুখ্য নয়।
সর্বোপরি, যারা মহাভারত পড়ে বারবার উপভোগ করেন, একেকবার একেক দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটা শুনে মজা পান, তাঁরা প্রথম প্যারায় উল্লেখিত বইগুলোর বাইরে সদ্য সংযোজন এই 'শকুনি উবাচ'ও পছন্দ করবেন নিঃসন্দেহে, ১২০ পৃষ্ঠার বই ১৬৫টাকায় (সর্বোচ্চ ৪০% ছাড়ে) কিনে হলেও।
শকুনি উবাচ লেখক : মাহমুদুর রহমান জনরা : ঐতিহাসিক উপন্যাস প্রকাশক : নালন্দা মুদ্রিত মূল্য : ২৭৫ টাকা পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১২০ টাকা প্রচ্ছদকার : মাস্তাফিজ কারিগর
আমার মহাভারত জ্ঞান সীমিত। যতটুকু আছে তা বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ আর সিরিয়াল দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবারে যখন ঠিক করলাম মহাভারত ক্যারেক্টার ওয়াইজ পড়বো তখন যে কয়টা বইয়ের নাম সবার আগে এলো তার মধ্যে বাণী বসু'র ছয়টা বই আর হরিশংকর বাবুর "একলব্য" অন্যতম। এরমধ্যে মাহমুদুর রহমান সাহেবের দুইটা বইও দেখতে পেলাম। আমাদের প্রজন্মের লেখক, সাথে উনাকে আমি ফেসবুকেও ফলো করি। তাই উনাকে দিয়েই মহাভারতে প্রবেশ করলাম।
আগেই বললাম আমার মহাভারত জ্ঞান সীমিত। তারপরও গান্ধাররাজ শকুনিকে নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাইনি। ইন্টারেস্টিং একটা ধারণা দিয়েছেন লেখক যে হয়তো শকুনি সাইকোপ্যাথ ছিলেন। নিজে কিছু ঘটিয়ে একান্তে বসে সেই কর্মের আফটারম্যাথ দেখতে পছন্দ করতেন। লেখকের লেখায় বারবার উঠে এসেছে মহাভারতে শকুনিকে কম "ফুটেজ" দেয়ার কথা। সেক্ষেত্রে চাইলেও হয়তো বইখানা বড় করার সুযোগ ছিলোনা লেখকের কাছে।
তারপরও আমি কিছুটা হতাশই। যেরকম বিশ্লেষণধর্মী হওয়ার কথা ছিলো তা অনেকাংশেই মিসিং। অনেকটা রিরাইটিং টাইপ হয়ে গেছে অনেক ক্ষেত্রেই। কারোর আগে থেকে মহাভারত পড়া থাকলে কিংবা ভালো জানাশোনা থাকলে নতুন কিছু পাবার সম্ভবনা কম।
তবে লেখকের লেখার স্টাইল এবং ভাষাদক্ষতা চমৎকার। শকুনির বয়ানে বলা অধ্যায়গুলো মারাত্মক ভাষাগুণসম্পন্ন। অনেক শব্দ আছে যেগুলো আমরা নরমালি ব্যবহার করিনা এমনকি জানিওনা। সেই শব্দগুলোর অর্থ জানতে সাহায্য করেছে টিকা (লেখককে ধন্যবাদ) এবং "বানান আন্দোলন" অ্যাপটি। লেখক এই ধারায় আরোও অনেক বেশী বিশ্লেষণধর্মী বই নিয়ে আসবেন আশা করি।
নালন্দার বইয়ের প্রোডাকশন অত্যন্ত ভালো। অবশ্য দাম হিসেবে তা মানানসই। ১২০ পেজের বই ছাড়ের পর কিনেছি ১৭০ টাকায়। বানান ভুল নেই বললেই চলে। মুস্তাফিজ কারিগরের করা প্রচ্ছদটি ডিসেন্ট।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিলো পান্ডব এবং কৌরবদের মাঝে, মহাভারতের মোটামুটি মূল ইতিহাস যেটি। এখানে কৌরবপক্ষে কূটবুদ্ধি ও রাজনীতির চালে সিদ্ধহস্ত হয়ে মহাভারতের অন্যতম খল চরিত্র "শকুনি"। তিনি ছিলেন দূর্যোধন সহ ধৃতরাষ্ট্রের শত পুত্রের মামা, গান্ধারীর ভাই ও গান্ধার রাজ্যের রাজা। মহাভারতে তার নাম খুব বেশিবার আসে নি, কিন্তু যতবার এসেছে তার বুদ্ধির কাছে মার খেয়েছে বারবার। দ্যূতের খেলায় পঞ্চপাণ্ডবকে হারিয়ে দাস বানানো, দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, পান্ডবদের ১২ বছরের জন্য বনবাস থেকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, পুরোটিতেই শকুনি মামা এঁকেছিলেন মাস্টারপ্ল্যান। তাই যখন দেখলাম কেবল এই ক্যারেক্টার এর উপর একটি বই লেখা হয়েছে, স্বভাবতই এই বই আমাকে পড়তেই হবে।
কিন্তু ঠিক যতটা আগ্রহ নিয়ে বইটা পড়া স্টার্ট করেছিলাম ততটাই নিরাশ হয়েছি। এমন চমৎকার একটা বিষয়কে এমন আবর্জনা বানায় ফেলা যায় এই বই না পড়লে আমি বুঝতাম না। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে একজন শিল্পী চমৎকার একটা ছবি একে বেশি মাতাব্বরি করতে গিয়ে তার উপ্রে কালি ঢেলে দিয়েছেন। প্রথমত, এমন কঠিন ও খটমটে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যার আসলে কোনো প্রয়োজন ছিলো না। পরিচ্ছন্ন শব্দ ব্যবহার করেও একটি বইয়ে পৌরাণিক আবহ রাখা সম্ভব। যেই কারনে বইটা ভয়াভহভাবে গুরুচন্ডালী দোষে ভুগে পড়ার আমেজটাই নষ্ট করে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মাঝে মাঝে লেখক ব্যাখা ঢুকিয়েছেন। আরে মিথোলজিতে ব্যাখ্যা কে খোজে ভাই? ঋষিকে বধ করায় পান্ডু শাপপ্রাপ্ত হলেন কিভাবে এইটার যৌক্তিক ব্যাখা টানার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। এই আজাইরা প্রচেষ্টায় মেজাজ খারাপ ও পৃষ্ঠাসংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো কিছু এই তথ্য করতে পারে নাই। তৃতীয়ত, লেখাটা ভারি ইনকনসিসট্যান্ট। বিশেষ করে শেষের দিকে গিয়ে কাহিনী ম্যালা আগ-পিছ হয়েছে। এম্নিই মহাভারত একটা ভ্যাজাইল্লা স্টোরিলাইন, এর মাঝে কাহিনী আগপিছু করলে গিট্টু লাগা স্বাভাবিক। চতুর্থত, চরিত্রগুলোকে এক নামে ডাকলে ভালো হতো। কর্ণকে একেক জায়গায় একেক নামে ডাকা হয়েছে কিন্তু এই বিষয়টি টিকা আকারে দেয়া হয় নি। এজন্যও ভালো ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।
সর্বপরি যেইটুকু আগ্রহ নিয়ে বইটা শুরু করেছিলাম কিছুই নেই। কাজ করার অনেক চমৎকার সুযোগ ছিলো, কিন্তু কাজে না লাগাইলে কি আর করার! আফসোস!
I'm expecting a mythical/historical fiction on a epic scale (400+ pages) from Mahmudur Rahman, he has a beautiful style of writing. The language, the choice of words are very fine. I hope he keeps on experimenting.
সুখপাঠ্য কিন্তু নতুন কিছু পাইনি।বইয়ের ফরম্যাট ভালো লাগেনি। কিছুটা আলোচনা কিছুটা সরাসরি বর্ণনা না দিয়ে যে কোনো একটা হলে ভালো লাগতো। মহাভারতের পুনর্কথনে যে পরিমাণ নতুনত্ব আশা করেছিলাম তা নেই।মনে হয়েছে,এটা নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখলে বরং ভালো হতো।
I just finished 'Shakuni Ubach'. And I am speechless, I loved reading Mahabharata, and when I heard about this one and heard that it was from Shakuni's Pov, I thought the book will justify his actions. Well, it didn't. The book was like Shakuni writing his diary and it was fascinating. It was like reading about ' I know I am a bad guy, and I enjoy that, and even though my reasons will seem petty, I don't give a shit ' sort of person. Never thought I will enjoy something that highlighted Shakuni.
যদি বলা হয় মহাভারতে এমন দু'জন চরিত্রের নাম বলুন যাদের মস্তিষ্কের ধারের জন্যই কাব্যটি মহাকাব্য রুপ লাভ করেছে৷ নিঃসন্দেহে যাদের নাম আসবে তাদের একজন হলেন শ্রীকৃঞ্চ, অপরজন শকুনি। একজন নায়ক অপরজন খল নায়ক। 'শকুনি উবাচ' মানে শকুনি বলেছিলেন... মাহমুদুর রহমানের শকুনিকে উপজীব্য করে লেখা বইটি সত্যিই সুখপাঠ্য। বইটিতে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে৷ সৌবলের শকুনি হয়ে ওঠাতে কি কারো হাত নেই? ধর্মে কি ভিন্নতা থাকতে পারে না? দূর্বলেরা কি সবলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না? একজন ভাই কি বোনের স্বার্থ চিন্তা করতে পারে না? দাঁড়ানো যদি অধর্ম হয় তবে ধর্ম কি? শকুনি তার বাবার হাঁড় দিয়ে পাশার গুটি তৈরী করেছিলো? যাকে খল বলে চিনিয়ে বা চিনে নিয়ে আমাদের চিত্তাকর্ষণ করা হয় বা বিনোদন পাই আদতে সে কি তাই? এমন অনেক প্রশ্নের সমাধান মিলবে বইটিতে৷ সেই সময়ে শকুনির মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো বেশ ভালো ভাবে উঠে এসেছে বইটিতে। গল্পের শুরুতে দুই বন্ধু এক বর্ষা প্রবণ সন্ধ্যায় আটকে যায় এক প্রাচীণ মন্দিরে। এরপর এক বৃদ্ধ লোকের সেখানে আগমন ঘটে। ক্রমেই জানা যায় বৃদ্ধটি পুরোনো মন্দিরে ঘুরে বেড়ায় টুকটাক গবেষণাও করে। এরপর দুই বন্ধু জানতে পারে ভগ্নপ্রায় মন্দিরটি আসলে শকুনির মন্দির৷ বৃদ্ধটি গল্পচ্ছলে বলতে থাকে শকুনির কথা। মাঝেমধ্যে তিনজনের নিজেদের দর্শনবোধ নিয়েও ঠোকাঠুকি লাগে কিন্তু গল্প এগোতে থাকে। কোন অলৌকিকতা নয় বরং লৌকিক দিক দিয়েই তারা বিচার করেন শকুনিকে। গল্প শুরু হয় গান্ধারীর বিয়ের খানিক আগে। উঠে ��সে আর্যাবতের কথা। ভাগিনাদের মাধ্যমে হস্তিনাপুরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ। পান্ডবদের প্রতি কৌরবদের ঘুটি বানিয়ে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করবার আশা। এরপর সেই বিখ্যাত পাশা খেলা যার ফল কুরুক্ষেত্রের সেই ধ্বংসলীলা। সেই ধ্বংসলীলায় বিলীন হয় শকুনিও। কিংবা হয় না কে জানে সে কথা?
This entire review has been hidden because of spoilers.
মহাভারতের প্রতিটি চরিত্রকে আমি স্বতন্ত্র বলে মনে করি। সেক্ষেত্রে অন্যতম চরিত্র শকুনি যে গান্ধার রাজ্যের যুবরাজ। হস্তিনাপুরের যুবরাজ ধৃতরাষ্ট্রের সাথে শকুনির একমাত্র বোন গান্ধারীর বিবাহের মাধ্যমে শকুনির প্রবেশ ঘটে হস্তিনাপুরে এবং কালক্রমেই বিভিন্ন কূটনৈতিক বুদ্ধি প্রয়োগ করে কৌরব এবং পান্ডবদের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করে, যার কারণে মূলত মহাভারতের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যারা কম বেশি মহাভারত সম্পর্কে জানেন তাদের সবারই এটুকু গল্প জানার কথা। তবে শকুনিকে শুধুমাত্র একজন দুষ্টচরিত্র না ভেবে এর বাইরেও অনেক কিছু জানার আছে। জানার এই অংশটি মাহমুদুর রহমান এর লেখা " শকুনি উবাচ " - এ অনেকাংশে ফুটে উঠেছে। যারা আগেই মহাভারত সম্পর্কে বিস্তর জেনেছেন, তাদের না পড়লেও চলবে। তবে একটি চরিত্রকে নতুন করে জানার লোভ কতটুকুই বা সামলানো যায়! তাই আমার মতো যারা শকুনিকে ভিলেন ছাড়াও এক অন্যরূপে জানতে চান, তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন বইটি।
গল্পটা সৌবলের শকুনি হয়ে উঠার। শকুনির কথনে উঠে এসেছে মহাভারতে তার করা কাজগুলোর পিছনের মনস্তত্ত্ব। যে পাশা খেলার জন্য শকুনি পরিচিত মহাভারতে, সেই পাশার চাল যে অনেক আগে থেকেই সাজিয়েছিলো সে সেই গল্পই বলেছেন লেখক। আর পাশার চালের মতো সে তার বুদ্ধি দিয়ে বারবার বদলেছে আর্যবর্তের ভবিষ্যত। কেন করেছে শকুনি এসব? পিছনের গল্পই বা কি? মহাভারতকে শকুনির দিক থেকে দেখতে পড়তে পারেন "শকুনি উবাচ।" মাহমুদুর রহমানের লেখা এই ১২০ পেজের বই দারুণ সুখপাঠ্য।
মহাভারতের কথা মনে হলেই মাথায় আসে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কথা। আর কুরুক্ষেত্র মানেই মামা শকুনি। বলা হয় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মূল হোতা দুর্যোধন নয়, বরং মামা শকুনি, যিনি পুরো মহাভারত জুড়ে রয়েছেন 'খলনায়ক' হিসেবে। 'উবাচ' শব্দের অর্থ 'বলেছেন'। তাহলে 'শকুনি উবাচ' এর অর্থ দাঁড়ায় 'শকুনি বলেছেন'। কিন্তু কী বলেছেন শকুনি? মুলত এই বইয়ে মাহমুদুর রহমান মামাশ্রীর চোখ দিয়ে দেখিয়েছেন মহাভারতকে। যেখানে গান্ধাররাজ শকুনি দেখেছেন কীভাবে ধর্মের নামে মানুষ অধর্মকে প্রশ্রয় দিয়েছে, ক্ষমতার নামে ধর্মকে পুঁজি করে দুর্বলের উপর অন্যায় করেছে। সরাচর খলনায়ককে নায়ক করে লিখালিখি হয়না। কিন্তু লেখক এখানে সেই চেষ্টা করেছেন বলে লেখককে সাধুবাদ জানাই। কাল্পনিক চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ গল্পের মূল লেখক ছাড়া অন্য কেউ করলে ্কখনোই আসলে চরিত্রের মনে কী ছিল বুঝা যায় না। তবুও লেখক গল্প যখন লিখেন তখন গল্পটা লেখকের, আর পাঠকের হাতে চলে গেলে গল্প হয়ে যায় পাঠকের। তখন পাঠক যেভাবে গল্পের চরিত্রের মন চিন্তা করে নিতে চায়, সেটাই চরিত্রের মনস্তত্ত্ব হয়। এদিক চিন্তা করলে গল্পটা পুরোপুরি পাঠকের হয়ে উঠতে পারেনি। বরং শকুনিকে নিয়ে লেখকের নিজের চিন্তার প্রকাশ 'শকুনি উবাচ' এবং শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে লেখক গান্ধাররাজকে খলনায়ক হিসেবেই চিন্তা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। লেখক চাইলেই এই মহাখলনায়ককে নায়ক করে তুলতে পারতেন। তার কুটিলতা, ছলকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন। এতে শকুনি যা বলতে চেয়েছে কিংবা যা চিন্তা করেছে তার পক্ষের যুক্তি গভীর এবং জোরালো হতো। এটা ছাড়াও গল্পের কিছু ব্যাপার আমার মনোপুতঃ হয়নি। যেমন প্রথমত, গল্পের গভীরতা আনতে লেখক অনেক সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার করেছেন, বেশ কয়েক জায়গায় সেসব শব্দের সংক্ষিপ্ত টিকা দিয়েছেন। এই বিষয়টা ভালো। তবুও যেহেতু রোজদিনের কথায় আমরা সংস্কৃত ব্যবহার করি না বললেই চলে, তাই আমার বুঝতে বেগ পেতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পাণ্ডুর কেন সন্তান হয়নি, কেন ঋষি পাণ্ডুকে অভিশাপ দিয়েছেন এই সব কথা গল্পে না আনলেও চলতো। এইটুকের কারণে মনে হয়েছে গল্পের কলেবর বড় হয়েছে, কিন্তু এতে কাহিনীতে কোনো প্রাসংগিকতা আসেনি বলে মনে হয়েছে। সবশেষে , খুব গভীর আলোচনা না হলেও হালকা ধাঁচে আয়েশ করে শকুনির চিন্তার সাথে পাতা উল্টিয়ে শেষ করে ফেলার মতো বই 'শকুনি উবাচ'।
রাধেয় পড়ার পর কোন কিছু চিন্তা না করে সাথে সাথেই হাতে তুলে নিয়েছিলাম শকুনি উবাচ। মহাভারতের কাহিনী আশ্রিত বই তো কতই আছে। নানান চরিত্রকে মূল ধরে মূল কাহিনীর সমান্তরাল কাহিনী-ও কত আছে। কিন্ত যাকে উপমহাদেশের সাহিত্যের প্রথম খলনায়ক হিসেবে ধরা যায়, তাকে নিয়ে একটা আস্ত বই এই প্রথম আমার চোখে পড়ল।
শকুনি ছিল কৌরব রাজপুত্রদের মামা; অর্থাৎ গান্ধারী'র ভাই। এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের জন্যেও তাকে দোষারোপ করা হয় বৈকি। তবে মহাভারতে শকুনির বর্ণনা এসেছে খুব কম। এমন স্বল্প রসদ নিয়েও নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শকুনির একটা চরিত্রায়ন এঁকে ফেলা খুব একটা সহজ কাজ হবার কথা না। এবং বইটা পড়বার সময় বোঝা যায় লেখক কী যত্ন নিয়ে প্রত্যেকটা চরিত্রের কথা লিখেছেন।
বইটাতে শকুনিকে মহান করে দেখানো হয়নি। শুধুমাত্র তাঁর চিন্তা প্রক্রিয়া এবং তাঁর কৃতকর্মের একটা অনুমান করা হয়েছে। তার সাথে যোগ হয়েছে মহাভারতের অলীক বিষয়বস্তুর কিছু যৌক্তিক ব্যাখ্যা। শকুনির নিজ ভাষায় বিভিন্ন বর্ণনা বিস্তৃত হয়েছে বিভিন্ন সময়রেখায়। এর সাথে যখন বর্তমান সময়ের এই যোগসূত্র স্থাপন হয়েছে তখন বিভ্রান্ত তো হই-ই নি, বরং বেশ উপভোগ করেছি।
বইটা নিয়ে একটাই ছোট্ট অভিযোগ, রাধেয়'র সাথে বেশ কিছু জায়গায় হুবহু মিল। এমন হতে পারে যে পরপর পড়বার কারণে একটু বেশি-ই চোখে লেগেছে বিষয়টা। তবে হয়ত বা লেখক একই ঘটনা দুই চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখাতে এই কাজটি করেছেন। কিন্ত তারপরেও আমার মনে হয় যে একই ঘটনা কোন দুই ব্যাক্তি একইভাবে দেখবে না। খানিক হলেও তাতে অমিল থাকবে। তাই এই বর্ণনাগুলো একটু পরিবর্তন হলে পাঠানুভুতি আরেক্তু ভালো হত।
মাহমুদুর রহমান সুলেখক। শব্দচয়ন-ও প্রশংসনীয়। তবে রাধেয়'র চাইতে এই বইতে বানান এবং অন্যান্য ভুলের পরিমাণ একটু বেশি-ই ছিল। সবকিছু মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটা বই। কলেবর নিয়েও কোন অভিযোগ নেই। লেখকের অন্যান্য বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম।
শকুনি উবাচ — নামটা দেখে বইয়ের ভেতরে যে জিনিসটা বেশি করে চেয়েছিলাম, সেটা হচ্ছে 'শকুনির মনস্তত্ত্ব'। সেটা যে বইতে একেবারেই মিসিং ছিল তেমনটা নয়, তবে পরিমা��ে কম পেয়েছি বলেই মনে হয়েছে। মহাভারতের কাহিনী আমার মোটামুটি জানা। শকুনিকে মোটাদাগে খল চরিত্র হিসেবেই দেখা হয়। তাই সেই চরিত্রটার মনস্তত্ত্বের চমৎকার বিশ্লেষণ পাওয়ার একটা বাসনা ছিল। লেখক গল্পের খাতিরে মহাভারতের কাহিনী তুলে ধরেছেন। শকুনির উপস্থিতি মেলে ধরেছেন, কিছু কিছু ঘটনায় শকুনির চিন্তাভাবনা কেমন হতে পারে সেটা দারুণভাবে ফুটিয়েও তুলেছেন। কিছু মিথকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখানোর চেষ্টা করেছেন — সেগুলো ভালো লেগেছে। শকুনি একজন সাইকোপ্যাথ — এই ধারণাটাও দারুণ লেগেছে। লেখক শকুনির মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তবে সেটা পরিমাণে খানিক কম হওয়াতেই একটু আক্ষেপ থেকে গেছে — এই যা্! শকুনিকে নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তোলার উপাদান কম মনে হয়েছে। তাছাড়া গল্প বলার ধরনও কিছু কিছু জায়গায় কেমন জানি লেগেছে। বইটা পড়তে মোটামুটি ভালোই লেগেছে, কিন্তু ঠিক চমৎকৃত হতে পারিনি।
শকুনি উবাচ – নামটা দেখে বইয়ের ভেতরে যে জিনিসটা বেশি করে চেয়েছিলাম, সেটা হচ্ছে 'শকুনির মনস্তত্ত্ব' । সেটা যে বইতে একেবারেই মিসিং ছিল তেমনটা নয়, তবে পরিমাণে কম পেয়েছি বলেই মনে হয়েছে। মহাভারতের কাহিনী আমার মোটামুটি জানা। শকুনিকে মোটাদাগে খল চরিত্র হিসেবেই দেখা হয়। তাই সেই চরিত্রটার মনস্তত্ত্বের চমৎকার বিশ্লেষণ পাওয়ার একটা বাসনা ছিল। লেখক গল্পের খাতিরে মহাভারতের কাহিনী তুলে ধরেছেন। শকুনির উপস্থিতি মেলে ধরেছেন, কিছু কিছু ঘটনায় শকুনির চিন্তাভাবনা কেমন হতে পারে সেটা দারুণভাবে ফুটিয়েও তুলেছেন। কিছু মিথকে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখানোর চেষ্টা করেছেন সেগুলো ভালো লেগেছে। শকুনি একজন সাইকোপ্যাথ – এই ধারণাটাও দারুণ লেগেছে।
লেখক শকুনির মনস্তত্ত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তবে সেটা পরিমাণে খানিক কম হওয়াতেই একটু আক্ষেপ থেকে গেছে – এই যা! শকুনিকে নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তোলার উপাদান কম মনে হয়েছে। তাছাড়া গল্প বলার ধরনও কিছু কিছু জায়গায় কেমন জানি লেগেছে। বইটা পড়তে মোটামুটি ভালোই লেগেছে, কিন্তু ঠিক চমৎকৃত হতে পারিনি।
মহাভারতে শ্রী কৃষ্ণের পর শকুনিই আমার প্রিয় ক্যারেক্টার। এইজন্যই বইটা মূলত পড়লাম। এটা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। শকুনি চরিত্রের ব্যবচ্ছেদ। গল্প বলার স্টাইল ভালো লাগেনি আমার। তবে পড়ে দেখতে পারেন।