মুসলিম উম্মাহর আজকের যে দুর্দশা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতি, এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? উম্মাহর মূলোৎপাটনে আগ্রাসী অমুসলিম শক্তিগুলোকে মোকাবিলায় আমাদের করণীয় কী? আমরা শুধুই উপরের দিকে দু’চোখ তুলে তাকিয়ে থাকব আসমানি কোন সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার জন্য, নাকি নিজেদেরও করার কিছু আছে? অতীতের জাতিসমূহের বেলায় যেমন শত্রুর দমনে নেমে আসত গায়েবি মদদ; তাদের নিজেদের কিছুই করতে হতো না, আমাদের বেলাতেও কি সেরকম নীতি প্রযোজ্য? নাকি চিরাচরিত সেই নিয়মের ভেতরে এসেছে নতুন কেন পরিবর্তন? এই বইতে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সুলেখক ড. রাগিব সারজানি।আরবের এই অনুসন্ধিৎসু লেখক তাঁর বিচক্ষণ দৃষ্টিতে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন উম্মাহর মুক্তির পথ। এর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপগুলোও তিনি হৃদয়ের আকুতি মিশিয়ে অত্যন্ত দরদি ভাষায় খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে পেশ করেছেন পাঠকের সামনে। যেন তা সহজেই প্রতিজন পাঠকের ভেতরে নাড়া দেয়, খুলে দেয় বোধের বদ্ধ দুয়ার।
"তোমরা যদি আল্লাহ (তা'আলার দ্বীন)-এর সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।" সূরা মুহাম্মাদঃ-৭
বইটি যেন উম্মাহকে আজকে এই আয়াতের মর্ম বুঝাতেই লিখা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হিসেবে আল্লাহর সাহায্য আমরা কিভাবে পেতে পারি আর তা পেতে হলে আমাদের করণীয় কি তা-ই এই ছোট্ট বইয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শায়েখ।
তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে আমরা আজ এমন কোনো যুগে নই যে আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো আর আল্লাহ আসমান থেকে বজ্রপাত বা অন্য কোনো আকারে আযাব পাঠিয়ে দ্বীনের দুষমনদের ধ্বংস করে দিবেন। বরং আমরা এমন নবীর উম্মত যাদের সাহায্য প্রেরণ করার পূর্বে তিনি আমাদেরকে পরীক্ষা করে দেখবেন যে আমরা কি আসলেই সেই সাহায্যের যোগ্য কি না। এমনকি আমাদের নবীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও আল্লাহর এই নীতিই ছিল। আর আমরা অবশ্যই আল্লাহর কাছে তাঁর থেকে বেশি প্রিয় নই।
আর এই সাহায্য পেতে যে যোগ্যতা গুলো প্রয়োজন এগুলো নিয়েই সাজানো হয়েছে বইটি। এখানে এমন দশটি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে যা প্রত্যেক মুসলমানের মধ্যেই থাকা আবশ্যক। এর মধ্যে কিছু আছে এমন যা সরাসরি কাজের সাথে সম্পৃক্ত আর কিছু আছে এমন যা আমাদের চিন্তাজগত বা দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সম্পৃক্ত।
খুব সংক্ষিপ্ত আকারে নিজের মতো করে এখানে এগুলো শুধু উল্লেখ করছি। ১) নিজের ব্যক্তিগত, সামাজিক,রাষ্ট্রীয় পরিসরে সাধ্যানুযায়ী দ্বীন পালন করার চেষ্টা করা, এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বা বিকল্প নেই। ২) কুরআন ও হাদিসের এই ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস রাখা যে মুসলমানরা ধ্বংস হবার নয় এবং চূড়ান্ত বিজয় ইসলাম ও মুসলমানদেরই। ৩) আমেরিকা ও তার মতো অন্যান্য যতো জালিম সম্প্রদায় রয়েছে তারা কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী অবধারিতভাবেই একসময় ধ্বংস হয়ে যায়। ৪) মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, কোনো বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত জাতি সাহায্য প্রাপ্ত হবে না। ৫) কোনো কাফির রাষ্ট্র কখনোই মুসলমানদের কোনো স্বার্থ ছাড়া সাহায্য আগেও কখনো করে নি আর ভবিষ্যতেও কখনো করবে না, তাই নিজেদেরকেই মূল কাজ করতে হবে।
৬) নিজেদের সংশোধন করায় গুরুত্ব দেয়া, তবেই নিজেদের থেকে বেরিয়ে আসবে যোগ্যতা সম্পন্ন কোনো নেতা বা গোষ্ঠী। ৭) আমেরিকা বা এরকম কুফফার দেশগুলোর মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পূর্বনির্ধারিত, তাই এদের কাছে সাহায্য চাওয়া চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়া বৈ কিছু নয়। ৮) মাত্র ৩ কোটি নাস্তিকের ছোট্ট একটি দেশ উত্তর কোরিয়া যেখানে আমেরিকার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়, ১৩০ কোটি মুসলমানেরা কেন পারবে না? তাই হীনমন্যতায় ভোগা যাবে না, চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
৯) কাউকেও যদি সংগী হিসেবে না পাওয়া যায় তারপরও আমরা আমৃত্যু হ্বকের পথে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। ১০) নেক কাজে বিলম্ব করা যাবে না, এখনই কাজে নেমে যেতে হবে। এই হলো মুটামুটি ভাবে বইয়ে উল্লেখিত শায়েখের দশটি উপদেশ। অনেকেই ভাবতে পারেন বই থেকে বইয়ের পাঠ্যানুভুতি হয়ে গেল বড়! আসলে বইটি এতো সুন্দর ও উপকারী ভাবলাম কেউ বই না পড়লে এটা পড়েও যেন কিছু লাভবান হয়ে যান।
অবশেষে সুন্দর এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন। আমাদের সকলকে এর উপর আমলের তৌফিক দিন। আমীন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরও জন্মের ৫০দিন পূর্বে এক অভূতপুর্ব ঘটনা ঘটে যায় পৃথিবীর বুকে। আবরাহা আল-আশরাম নামক এক শাসক তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে কা'বা আক্রমণ করে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে আসে। যে ঘটনা হস্তীবাহিনীর ঘটনা হিসেবে সূরা ফীলে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আবরাহার দলের উপর অসংখ্য ছোট ছোট পাখির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বর্ষণ করে ছোট পাথরের বৃষ্টি। যার ফলে আবরাহা ও তার দলের সবাই একদম চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়। এটাই ছিল আল্লাহ তায়ালার রীতি তখনকার যুগে। কিন্তু রাসূল সাঃ এর পূর্বের সকল নবীদের আমলে রীতি ছিল আল্লাহ তায়ালা কাফিরদের সমূলে বিনাশ করে দেন। কিন্তু রাসূল সাঃ এর জন্মের পর থেকে সেই রীতি পালটে যায়। নাযিল হয় সূরা মুহাম্মদের ৭ নং আয়াত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সমূহ সুদৃঢ় করবেন।" - সূরা মুহাম্মাদ(৭)। আমরা যতদিন আবাবিলের জন্য হাতগুটিয়ে বসে থাকব ততদিন কোনো সাহায্যের আশা আমরা করতে পারিনা। এতে আমাদের প্রতীক্ষার প্রহর ক্রমেই প্রলম্বিত হতে থাকবে। আমরা নিজেরা পদক্ষেপ নেওয়া ব্যতীত কখনোই আসমানি সাহায্য আসবেনা সেটা ব্যক্তি পর্যায়ের, সমাজ বা রাজনৈতিক সমস্যাই হোক না কেনো। আগে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তায়াল এই নিয়মই এই জাতির জন্যে ঠিক করে দিয়েছেন। লেখক বইয়ে আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়মের যথেষ্ট বর্ণনা দেন এরপর উম্মাহর বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজনীয় কিছু চিন্তা-চেতনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি শাসক থেকে সাধারণ, আরব-অনারব, স্বাধীন-পরাধীন সব ধরণের মুসলিমদের এই চিন্তা চেতনার বাহক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
মুসলিম উম্মাহর যাবতীয় সংকট সমাধানের পন্থা হিসেবে মসজিদের কোণায় বসে আল্লাহর গায়েবী সাহায্যের প্রার্থনা আর জালিমদের শাপশাপান্ত করাই আমরা আমাদের একমাত্র করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করে নিয়েছি। আমাদের যেন আর কোন দায় দায়িত্ব নেই। ভাবখানা এমন যে আল্লাহ চাইলে সাহায্য করবেন, না চাইলে আমাদের কি করার আছে? অথচ আল্লাহ বলছেন, "হে মুমিনগণ, তোমরা যদি আল্লাহ (তা'আলার দ্বীন)- এর সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।" (সূরা মুহাম্মদ: ৭)
আল্লাহর রাসূল কি কেবল ঘরে বসে আল্লাহর কাছে বদর, ওহুদ, খন্দকের বিজয় প্রার্থনা করেছিলেন? নাকি সাধ্যের মধ্যে নিজেদের সব পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছিলেন? মক্কার লোকজন কোনো রকম প্রতিরোধ না করে মক্কা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও আবরাহার বাহিনীকে মোকাবেলার জন্য আল্লাহ যেই গায়েবী সাহায্য পাঠিয়েছিলেন, মুসা (আঃ) এর বাহিনীকে রক্ষার জন্য আল্লাহ যে রকম নীলনদ দু-ভাগ করে দিয়েছিলেন- আল্লাহর রাসূলের জন্য এরকম কোনো প্রচেষ্টা ছাড়া গায়েবী মদদের নিদর্শন কয়টি? কিভাবে আল্লাহর মদদ এবং সাহায্য আল্লাহর রাসূল (সাঃ) পেয়েছিলেন সেটাই কি কেয়ামাত পর্যন্ত আমাদের জন্য করণীয় হিসেবে নির্ধারিত হয়নি?
কি সেই করনীয়? এই বইয়ের মূল বক্তব্য সেটিই। ছোট্ট একটা বই। এক বসায় পড়ে ফেলার মত। কিন্তু ওজনের দিক থেকে অনেক অনেক ভারী।
১. সাহায্য হচ্ছে মূলত দেশীয় পণ্যের নাম। কোনো বাহিরের রাষ্ট্র থেকে তা আমদানি করা ঠিক না। ২. আপনার দেহের চামড়া আপনার নখের মতো কেউ চুলকানোর ক্ষমতা রাখেনা। যা করার আপ্নাকেই করতে হবে। ৩. তোমরা যদি আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচল রাখবেন। (সুরা মুহাম্মাদ:৭) ৪. আমার সকল কাজ আল্লাহর কাছে সঁপে দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তিনি তার বান্দাদেরকে পর্যবেক্ষণ করেন।
উপরের লাইনগুলো আছে “আমরা আবরাহার যুগে নই” বইতে। কি নিয়ে লিখা বইটা? - বইটা হলো সেই ভুলে যাওয়া বিষয়টাকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। - আমাদের হিম হয়ে যাওয়া রক্তকে টগবগে করে দেওয়ার জন্য। - আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে দেওয়ার জন্য। - আমাদের উপর আল্লাহর নাজিল করা বিশেষ দায়িত্বকে বুঝে নেওয়ার জন্য।
আমরা ভুলেই গিয়েছ যে আমরা আবরাহার যুগের নই। আমরা ভুলে গিয়েছি যে, রাসুলের মৃত্যুর পর মানুষ মুরতাদ হয়ে যাওয়ার সময় আবরাহার বাহিনিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো পাখি পাঠানো হয়নি। ৪৯২ সালে ক্রুসেডার বাহিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে একদিনে ৭০ হাজার মুসলিমকে হত্যা করেছে কিন্তু কোনো পাখির বাহিনি আসেনি।
তাতারীদের আক্রমণ থেকে মুসলিমদের সাহায্য করার জন্য কোনো পাখির ঝাঁক আসেনি। ৩১৭ হিজরিতে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান হারাম শরিফে অবস্থিত প্রায় সকল হাজিদের মেরে ফেলা হয়। এরপর হাজরে আসওয়াদকে সরিয়ে রাখা হয় পুরো ২২ বছর পর্যন্ত। কিন্তু এরপরেও আবাবিল আসেনি। এই সকল গ্লানি মুছতে আল্লাহর কিতাবের একটা আয়াতই যথেষ্ট। কি সেই আয়াত জানেন?
তোমরা যদি আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচল রাখবেন। (সুরা মুহাম্মাদ:৭) এটাই সেই মহিমান্বিত আয়াত। এই আয়াতেই আছে আমাদের প্রতি আসা লাঞ্ছনার প্রতিশোধের নমুনা। আমরা আজও আবরাহার যুগের মতো সাহায্যের আশায় মুখিয়ে আছি। কিন্তু আমাদের করণীয় আল্লাহ বলেই দিয়েছেন সেদিকে আমাদের ভ্রুক্ষেপ নেই।
অতীত ইতিহাসেও এরকম সাহায্য আসেনি, আর আগামীতেও আসবেনা শুধু তখন ব্যতীত যখন আমরা উক্ত আয়াতের উপর আমল করব। কেন আসেনি, কিভাবে সাহায্য আসবে, কর্মপদ্ধতি কি হবে এসব জানতে আপনাকে পড়তে হবে “আমরা আবরাহার যুগে নই”
আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে সীমালঙ্ঘনকারী বহু জাতিকে আজাবের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আবরাহা যখন ক্বাবা ঘর ধ্বংস করতে আসল, তখন মক্কাবাসী ভয়ে পালিয়ে গেলো। তারা বললো, "আল্লাহই কাবাকে রক্ষা করবেন।" হ্যাঁ, আল্লাহই এই ঘরকে রক্ষা করেছেন 'ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণের মাধ্যমে।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ জন্মের পর থেকে ইসলামের শত্রুদের ধ্বংস করার পদ্ধতি আল্লাহ বদলে দিলেন, সেটা নিয়ে কী ভেবেছেন কোনদিন? নবীজীর জন্মের পর এক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার রীতি হচ্ছে,
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تَنۡصُرُوا اللّٰهَ یَنۡصُرۡکُمۡ وَ یُثَبِّتۡ اَقۡدَامَکُمۡ "তোমরা যদি আল্লাহ (তাআলার দ্বীন)-এর সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।" [সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৭]
এটাই হচ্ছে আল্লাহর পদ্ধতি। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা আল্লাহর দ্বীন ইসলামের সাহায্য করছি।
রাগিব সারজানির এই বইটি ১১ অধ্যায় দিয়ে সাজানো হয়েছে। তিনি কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন জাতিদের ধ্বংস ও রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সিরাত থেকে অনেক ঘটনা সামনে এনে আমাদেরকে দেখালেন যে, আমরা যদি বসে বসে ভাবতে থাকি যে, আল্লাহর সাহায্য চলে আসবে, তাহলে আমি- আপনি-আমরা এক গভীর ঘুমের ঘোরে আছি, যদি কেউ মনে করে এই যুগের সাম্রাজ্যবাদীরা আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে সাহায্য করবে তাহলে সেও ভুলের মধ্যে ডুবে আছে। ড. রাগিব সারজানি এই বইয়ে দিশাহারা, হতাশাগ্রস্ত মুসলিমদের চিন্তার খোরাক জোগান দেয়ার জন্য ১০টি চিন্তা-চেতনার কথাও ব্যাখ্যা করেছেন, যা পড়ে একজন মুসলিম আরও সচেতন হয়ে উঠবে, ইন শা আল্লাহ!
"আমরা আবরাহার যুগে নই" বইয়ের নামটা এখানে রূপকার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। "আমরা আবরাহার যুগে নই' বইটা খুবই ক্ষুদ্র কিন্তু মেসেজটা বৃহৎ।
আবরাহার নাম দেখে অনেকে ভাবতে পারেন আবরাহার কাবা ভাঙ্গার কাহিনী নিয়ে মনে হয় বইটি। কিন্তু না, এটি এরচেয়েও আরো বেশি কিছু।
হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর জন্মের পূর্বযুগে যারা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেন। যেমনটা আমরা হযরত নূহ (আ.),হযরত লুত (আ), হযরত মুসা(আ) এর যুগে দেখতে পাই।
কিন্তু রাসূল (সা.)এর জন্মের পর আল্লাহ এই প্রথাটা বন্ধ করে দেন। কোনো কাজে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে মানুষকেই তারপর আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন।মানে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেদেরকেই করতে হবে তারপর আল্লাহর সাহায্য । যেমনটা আমরা দেখেছি বদর কিংবা খন্দকের যুদ্ধে।
“যদি তোমরা আল্লাহ তাআলার (দ্বীন)এর সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।” (সুরা মুহাম্মাদঃ৭)
এই লেখকের বইয়ে চিন্তায় নতুনত্ব পাওয়া যায় । সুন্দর, আধুনিক, বেশ গোছালো আর যুগোপযোগী চিন্তাভাবনা ।বইটাই উপরের উল্লিখিত আয়াত অনেকবার এসেছে।
৪৫ পৃষ্ঠা থেকে ৮০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আলোচনাটা দারুণ ছিল। আমাদের মুসলিম হিষেবে কি কর্তব্য তা নিয়ে দারুণ আলোচনা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ ব্যাপক ফায়দা পাবেন বইটা পড়ে।
বই ~ আমরা আবরাহার যুগে নই লেখক ~ ডা. রাগিব সারজানি অনুবাদ ~ মাহদি হাসান সম্পাদনা ~ আবদুল্লাহ আল মাসউদ প্রকাশনী ~ Maktabatul Hasan প্রচ্ছদ মূল্য ~ ১২০ (৫০% ছাড়ে প্রকাশনীর পেইজ থেকে কিনতে পারবেন ) পৃষ্ঠা ~ ৮০