তারাপীঠের কথা জানেন না এমন বাঙালি, অন্তত এপারে, খুঁজে পাওয়া ভার। প্রতিবছর বহু মানুষ যান ওই স্থানে মায়ের টানে। সেই যাত্রায় ভক্তি, কিছু পাওয়ার আশা, বা নিছক নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ— এমন নানা ভাবনা মিশে থাকে। কিন্তু জায়গাটির ইতিহাস সম্বন্ধে আমরা কতটুকু জানি? একদা এই অঞ্চলের কিংবদন্তি এবং ভয়াল শ্মশান নিয়ে সিনেমাও হয়েছিল বটে। কিন্তু আজকের পাঠক ও দর্শকদের কাছে সেই স্মৃতির ভগ্নাংশও অবশিষ্ট আছে কি না সন্দেহ। সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য লেখা হয়েছে আলোচ্য বইটি। বর্ষীয়ান সাংবাদিক সুমন গুপ্ত ইতিহাস, কিংবদন্তি এবং লোককথার সমন্বয়ে এই বইটি লিখে আজকের ভক্তদের অশেষ উপকার করেছেন। তারই সঙ্গে তিনি কৌতূহলী পাঠককেও জানিয়েছেন নানা কাহিনি ও তথ্য, যাতে কিংবদন্তি আর পুরাণ, গুপ্ত তন্ত্র আর ইতিহাস একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত পটভূমি। বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক, আমার মতে, এতে থাকা অজস্র রঙিন ও সাদা-কালো ছবি। আর্ট প্লেটে ছাপা এই ছবিগুলো দেখতে-দেখতে যিনি আগে তারাপীঠে গেছেন, তাঁর স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আর যিনি আগে জাননি, তিনি যেতে চাইবেন। বইটি সুমুদ্রিত। আজকের নিরিখে অত্যন্ত সুলভও বটে। সর্বোপরি, আপনি আস্তিক হোন বা নাস্তিক, শাক্ত হোন বা শৈব, তারাপীঠের তারা মা-কে নিয়ে যদি আপনার কিছুমাত্র আগ্রহ থেকে থাকে, তাহলে এই বইটি পড়লে আপনি অবশ্যই উপকৃত হবেন। অলমিতি।