আলতাফ পারভেজের জন্ম ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬। দর্শনশাস্ত্রে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন শেষ করেন। ছাত্রত্ব ও ছাত্র রাজনীতির পর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু। পরে গবেষণা ও শিক্ষকতায় সংশ্লিষ্টতা। প্রকাশিত গ্রন্থ ছয়টি। যার মধ্যে আছে—‘কারাজীবন, কারাব্যবস্থা, কারা বিদ্রোহ : অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা’, ‘অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ, কর্নের তাহের ও জাসদ রাজনীতি’, ‘বাংলাদেশের নারীর ভূ-সম্পদের লড়াই’, 'মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী ইতিহাসের পুনর্পাঠ'।
ঘটনা এইরূপে ঘটে, বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে। দেশ গড়তে হবে সবাইকে নিয়ে। কিন্তু "সবাই" তো ভালো না। তাই তাদের পথে রাখা প্রয়োজন। পথে রাখার জন্য না-হয় একটু বিপথে যেতেই হোলো! উদ্দেশ্য তো মহৎ! তাই আদর্শ আর নিজেদের বানানো নীতি থেকে নিজেরাই সরে গেলাম না হয় (আবারও, উদ্দেশ্য মহৎ!) এভাবে চলতে চলতে মহৎ হতে হতে হতে নিজেরাই সৃষ্টি করে ফেললাম এক দানবের; যে দানব সবাইকে গ্রাস করতে চায়। লেনিন পার্টি ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা করেছিলেন, যেসব নিয়ম ভেঙেছিলেন, স্ট্যালিনের সময় তা বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছিলো। এ বই পড়ে মনে হচ্ছে ধ্বংসের বীজ লুক্কায়িত ছিলো একদম গোড়া থেকে। একাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশেও, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, শেখ মুজিব ভেবেছিলেন তাকে ত্রাতার ভূমিকায় নামতে হবে। ত্রাতা হতে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে হবে, সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। সবই কিন্তু দেশের নামে! নিজের জন্য কিছুই না! এইভাবেই মহৎ সাজা ও দেশকে উদ্ধার করা চলছে যুগে যুগে। দেশের নামে সবই করা জায়েজ।
পশ্চিমা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিপ্লবের প্রতীক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। বৃহৎ একটি অঞ্চলকে পুঁজিবাদের থাবা হতে মুক্ত করার লক্ষ্যে বিপ্লব সংঘটিত করেন এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের প্রাক্কালে 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব' নামে একটা গ্রন্থ রচনা করেন। বইটিতে বিপ্লব এবং বিপ্লব পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রের প্রকৃতি সম্পর্কে লেনিন নিবন্ধ লিখেছেন। উক্ত বইটির ব্যবচ্ছেদ হিসেবে আলতাফ পারভেজ আলোচ্য বইটি রচনা করেছেন।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অনিবার্য প্রশ্ন হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে ধরা দেয়, তাহলে কি লেনিন ভুল ছিলেন কিংবা লেনিনের স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনে তাঁর উত্তরসূরীরা চলতে পারেন নি? বিতর্কের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। তবে সেই বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কল্পনা না করে, তৎকালীন বিপ্লবের সময়কে ভাবলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হয়।
লেনিন সমাজতন্ত্রের পাঠ নিয়েছিলেন জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস ও ফ্রেডেরিক এঙ্গেলসের থেকে। হেগেল দ্বারাও প্রভাবিত ছিলেন। লেনিনের মতে, শুধু গরিব হলেই শোষিত এবং ধনী হলেই শোষক শ্রেনি হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করা যাবেনা। সমাজের শ্রেণি বৈষম্য দূর করতে যে স্বপ্নের রাষ্ট্র লেনিন নির্মাণে সচেষ্ট ছিলেন তারই বহিঃপ্রকাশ 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব' বইটি। উক্ত বইটি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই রচিত হয়েছিল, যখন লেনিন বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক নির্বাসনে ছিলেন।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র লেনিনের মতে বহুদলীয় হওয়া উচিৎ। অথচ বিপ্লব পরবর্তী সময়ে এর উলটো চিত্র দেখা যায়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের শ্রম শিবিরে পাঠানো ছিল নিত্যকার ঘটনা। লেনিন এটাও স্বীকার করেছেন যে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রথম পর্যায়ে সাম্যাবস্থা আনা যায় না; তবে মানুষের উপর মানুষের শোষণ থাকেনা। এছাড়া একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্রিয়া-প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন লেনিন।
বইটি অনেকটা গবেষণামূলক ধরনের। তবে আলতাফ পারভেজের লেখার সাথে পরিচয় থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। ধৈর্য ধরে শুধু পড়তে পারলেই ভালো লাগবে আশা করি। সমাজতন্ত্র নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের চিন্তার খোরাক মেটাতে পারে বইটি। হ্যাপি রিডিং।
সুখপাঠ্য মনে হয় নাই। ভাসা ভাসা অনেককিছু ব্যক্তিগত পাঠ অভিজ্ঞতায়। শুধু কিছু টুকটাক নোট নিছি তাও দেখতে শুনতে অপ্রতুল।
তৎকালীন রাশিয়ার বিপ্লব পরিস্থিতি ও তার আনুষঙ্গিক রাষ্ট্রবিষয় বা ইউরোপের পরিসর নিয়ে লেনিনের ভাবনা। এই বই লেখার সময় [ রাষ্ট্র ও বিপ্লব ] লেনিন ছিলেন শুধুই নাগরিক আর যখন প্রকাশিত হয় তখন প্রলেতারিয়েত রাষ্ট্রনেতা।
" বিপ্লব কোনো ভোজ সভা নয় " - মাও উক্তি কিছুটা সহিংস। লেনিনের রাষ্ট্র ভাবনাও তাই। লেনিনের কাছে রাষ্ট্র ব্যবহারিক রাজনৈতিক প্রশ্ন।
* জার নিকোলাসকে সপরিবারে হত্যা কতটুকু যৌক্তিক এ প্রশ্ন জাগে মনে। * বলশেভিক বিপ্লবের ধারণা মৌলিকভাবে আন্তর্জাতিকতাবাদি অবস্থান থেকে মনে হয়।
* In lenin eyes state occurred because of only for that reason that not solving the class questions .
" রাষ্ট্র হল শ্রমের বিরুদ্ধে পুজির জাতীয় যুদ্ধাস্ত্র " * লেনিনের রাষ্ট্রে রাষ্ট্র কিভাবে আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে শাসন করে সেই কথা নাই। * মার্কসের মতে শ্রমিক শ্রেণী শাসন স্বৈরতান্ত্রিক নয় শ্রমিক শ্রেণী দ্বারা পরিচালিত সমাজ বুঝায়।।
খুবই দারুন একটি লেখা। রিভিউ যেহেতু লিখতে অভিজ্ঞ না আমি, সেহেতু লেখার চেষ্টা করে ভ্রান্তি সৃষ্টির রিস্ক নিচ্ছি না। বর্তমান সময়ে এসে বিপ্লব এবং রাষ্ট্র সম্পর্কীয় যে প্রশ্নগুলো সামনে আসে, আলতাফ ভাই খুব দারুন ভাবে সেগুলোকে সনাক্ত করে বিভিন্ন পার্সপেক্টিভ থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। আলোচনা এবং পর্যালোচনাগুলো খুবই দারুন। বইয়ের আরেকটি ভালো বিষয় হচ্ছে খুব সহজে যেকোন স্পেসিফিক বিষয়কে খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানের সাথে মিলিয়ে, গ্লোবালাইজেশন এর যুগে রাষ্ট্র কি পর্যায়ে আছে এবং এই সময়ে সোভিয়েতের বিপ্লব এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা কতটা প্রাসঙ্গিক তার খুব দারুন ব্যাখ্যা রয়েছে বইয়ে। আলতাফ ভাইকে ধন্যবাদ এই সময়ে এসে, সোভিয়েত বিপ্লবের ১০০ বছর পরে এসে বর্তমানের সাপেক্ষে তার পর্যালোচনার জন্য।