"শেষ হয়েও হইলো না শেষ।" জ্বি পাঠক। এক বাক্যে এই কথাটাই বলা যায় এই বই সম্পর্কে। তাই বলে ভাববেন না এটা ছোট গল্প। এর পরিধি ও বিস্তার অত্যন্ত ব্যাপক। বড় বড় উপন্যাস পড়ে সব শেষে আপনি যেমন একটা সমাপ্তি খুঁজে পান, এই বইয়ে তা পাবেন না, যদিও বইটির আকার একটি যথাযোগ্য উপন্যাসের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মনে হবে যেখান থেকে শুরু করেছেন ঐখানেই আবার ফেরৎ চলে গিয়েছেন। পড়ার সময় উপভোগ করবেন। কিন্তু দিনশেষে গোলকধাঁধার চক্রে হারিয়ে যাবেন। বইটি আমি দুইবার পড়ে শেষ করেছি। এমন কোনো অধ্যায় নেই যেটা আমি বাদ দিয়েছি। তবুও দুইদিন পর আবার যখন এই বইয়ে হাত দিয়েছি, সব একদম নতুন নতুন লাগলো। প্রথমবার পড়ার আবেগ অন্যান্য বইয়ে যেমন প্রথমবার পড়েই শেষ হয়ে যায়, এই বইয়ের ক্ষেত্রে সেটা হবে না। যতবারই পড়বেন ততবারই মনে হবে প্রথমবার পড়া হচ্ছে। এই একটি বিষয়ের জন্য হলেও এই বইটি পাঁচ তারকা পাওয়ার যোগ্য। (বইটি এখনও Read list এ যোগ করতে পারিনি। এই বইটি সবসময় আমার কাছে হয়তো want to read হিসেবেই থেকে যাবে।)
খুক! খুক! (গলা পরিষ্কার করে নিচ্ছি) দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গাজী আজমল স্যারের এই বই আমার পড়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। যতবার পড়েছি ততবারই মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্রের সংখ্যার সমান পরীক্ষায় এমসিকিউতে আসতে পারা সম্ভাব্য তথ্যের ভীড়ে হারাতে হারাতে বেঁচে ফিরেছি। ফলস্বরূপ এই বই আমার Beyond the thrills, mind bending mysteries, pages that scream নামক shelf গুলোতে স্বমহিমায় বিরাজ করার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে। পরীক্ষার আগে চূড়ান্ত রিভিশন হিসেবে পুরো বইখানা মস্তিষ্কে আবারও ঝালাই করে নেওয়ার পর আমার সেই বন্ধুকে স্মরণ করে এই বই গুডরিডস শেল্ফে এড করছি যাকে প্রথম এই কাজ করতে দেখেছিলাম, এবং বলাই বাহুল্য এ নিয়ে বিস্তর হাসাহাসি করেছিলাম।
একাডেমিক বই এড করায় কেউ তেড়ে আসার অথবা নাক ছিটকানোর আগে আসন্ন পরীক্ষার জন্য দোয়া দিয়ে যান🥹
একাদশ শ্রেণীতে উঠে ঠিক জীব বিজ্ঞান কে ভালোবাসতে পারিনি । এইচ এস সির কিছু আগে আর এডমিশন টাইমে হঠাৎ বেশ ভালো লাগতে শুরু করে আমার জীব বিজ্ঞান । গাজী আজমলের লেখা এই বইটা বেশ কিছু দিক দিয়ে আগ্রহজনক ও ছিল আর অনেক ইন্টারেস্টিং তথ্য ও ছিল । যদিও শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কেই জড়িয়ে নিয়েছি কিন্তু জীব বিজ্ঞান কে অপছন্দ করি তা না ।
বায়োলজি হেটার হিসেবে রিভিউ দিচ্ছিনা। আসলে আমার কাছে যতই পড়ি ততই সহজই মনে হয় বাট দিনশেষে মনে রাখার যে ব্যাপারটা তা চান্দে উড়ে বেড়ায়"( প্রথম অধ্যায় বাদে বাকিসবই সহজ। দিনশেষে এক্সামের আগের রাতে মনে হয় সবই নতুন, অত্যাধিক জোস ব্যাপার না? 🙂
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে গাজী আজমল স্যারের বই কেবল একটি পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং এটি জীবনের জটিল রহস্য উন্মোচনের এক নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা। একজন মুমিন ও মানবতাবাদীর দৃষ্টিতে এই বইটির গুরুত্ব অপরিসীম।