সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশের প্রথিতযশা এই রসায়নবিদ বাংলা ভাষায় রসায়ন শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিএসসি , এমএসসি, এমফিল - প্রত্যেকটি স্তরেই তাঁর লিখিত বই পঠিত হয়।
আমি যারপরনাই খুব কষ্ট পেয়েছি এই বইয়ের রেটিংয়ের এই অবস্থা দেখে। হয়তো যারা বইটিকে রেট করেছে, সবাই স্টুডেন্ট লাইফে করেছে, তাই রেটিংয়ের এই অবস্থা। আমি বইটি পড়ে শেষ করেছি আরো পাঁচ বছর আগে। পড়ে শেষ করেছি বলাটা ভুল হবে, একরকম আত্মস্থ করেছিলাম তখন। অবশ্য তখন খুব ভালো একজন কেমিস্ট্রি টিচারের কাছেও পড়তাম। স্যার সবকিছু খুবই সিম্পলিফাই করে পড়াতেন। তার গাইডেন্স পাবার পর এই বইটা পড়তে আমাকে খুব একটা বেগ পেতে হয় নি। খুবই ডিটেইলড সবকিছু, হয়তো ইনফরমেশন একটু বেশি। কিন্তু ভার্সিটি লেভেলে যাবার জন্য এতটুকু জ্ঞানের অবশ্যই দরকার আছে, যদি কেউ মেডিকেল অথবা কেমিস্ট্রি রিলেটেড কোনো সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে চায়। মেডিকেলের প্রথম বর্ষেই বায়োকেমিস্ট্রি পড়তে হয়, তখন আসলে এসব বেসিক ক্লিয়ার থাকলে পড়ার আসল মজাটা পাওয়া যায়। তা না হলে কেবল মুখস্থ করতে হয়, পড়তে একেবারে বিতৃষ্ণা লাগে। কলেজে অনেককেই দেখেছি বায়োকেমিস্ট্রিকে একেবারে ঘৃণার চোখে দেখতে, যেখানে ব্যাপারগুলো খুবই মজার। শুধু তা-ই নয়, এই বই ভালো করে পড়া থাকার কারণে আমি এখনো টিউশনি করিয়ে টাকা কামাই করতে পারছি, হাহা। ক্লাস ইলেভেন-টুয়েলভ পড়াতে পারলে ভালো অ্যামাউন্টের একটা ইনকাম থাকে, সেটা আমি পেয়েছি এই বই পড়া থাকার কারণে। এই বইয়ের দাম সর্বোচ্চ ২০০ কি ৪০০ হবে? আর এই কেমিস্ট্রি পড়িয়ে আমি মাসে ৭৫০০/- পেতাম। আর প্রতি বছরে এইচএসসির বৃত্তির ৫৫০০/-। কত গুণ, ভাবা যায়? তাই এই বইয়ের অর্থনৈতিক তাৎপর্যও অনেক 😂 এমন নানাবিধ কারণে আমি বইটিকে এত বেশি রেটিং দিচ্ছি। এই বইয়ের লেখক দু’জনের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ, আমার স্বপ্নপূরণে সহায়তা করার জন্য। তাদের জন্য অনেক, অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
ভাই কি বলবো! হঠাৎ করে মনে হলো এটাও তো বই। দেখি তো Goodreads এ এই বই আছে কিনা! ওমা,দেখি আছে। যাইহোক এটা নিয়ে কিছু কথা বলি। কলেজে উঠে এই বই দেখে তো পুরাই টাস্কি খাইলাম। এত বড় বই তারউপর তথ্যে গাঁদা। সময়টা যখন নোট এবং শিট পড়ার তখন একজন কৌশিক স্যার পেলাম যিনি এই বইয়ের বাইরে কিছুই পড়ায় না। আর এই বইটা পড়লে আমি বলবো কলেজ লাইফ থেকে শুরু করে যেকোনো admission বলেন, ৯০-৯৫% কাভার হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আর ৫-১০% বাকি রাখছি কারণ সাবধানের তো মার নেই। বছর শেষে দেখলাম না তো,এই বই তো খুব বড় না। অন্তত মানের দিক দিয়ে বাজারের সেরা বই। Even ছাত্র-শিক্ষক সবার কাছেই প্রথম পছন্দের বই এটি। তবু বলবো প্রতিবছর সংখ্যা ভিত্তিক তথ্য যেনো পরিবর্তন না করা হয়। তবেই ভালো থাকবে বই।
বইয়ে ইনফোরমেশন দিয়েছে ভালো কিন্তু সেগুলো বইয়ে বুঝাতে পারে নাই। যদি সবকিছু টিচার বা অনলাইন থেকেই বুঝতে হয় তাহলে বই দিয়ে কি লাভ! 🙂 সহজ সাবলীলভাবে ইনফোরমেশনগুলো বুঝিয়ে বলা নাই। এমনভাবে লেখা যেন আমরা অনেক আগে থেকেই সব জেনে বসে আছি যার জন্য আমাদের আর কিছু বোঝানোর বাকি নাই। নতুন নতুন টপিক ও বুঝিয়ে বলা নাই ভালোভাবে। কিন্তু এই বইটাই শুধুমাত্র ইনফোরমেশনের জন্য প্রিফারেবল সবার কাছে.... পাঠক হিসেবে বইটি পড়ে তৃপ্তি নাই। 🙂