অবিখ্যাত, অথচ শিল্প ও সমাজের কাছে দায়বদ্ধ একজন লেখকের কাহিনি 'মৃত্যুগন্ধী'। রুচি ও আত্মসম্মানের কারণে সাহিত্যের প্রতিযোগিতায় নামতে তিনি নারাজ। অশান্তি থেকে বাঁচার জন্য একসময় তাকে চলে যেতে হয় অজ্ঞাতবাসে৷ এই দেশের মানুষের নিজেকে লুকিয়ে রাখার জায়গা নেই বললেই চলে। তবু মরিয়া লেখক নিজের জন্য পালানোর একটি আশ্রয় খুঁজে নিতে চান। তারপর শুরু হয় নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্ব। নিজেকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা। নিজেই তার উত্তর খোঁজা। অবচেতনে মত্যুর কথা ভাবেন বারবার৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনই তাঁকে সরিয়ে আনে মৃত্যুর কাছ থেকে। প্রমাণ হয় জীবন অনেক বেশি অপ্রতিরোধ্য।
জন্ম ২০ জনুয়ারি ১৯৬৫, নাটোরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিগ্রী স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে। সমকালীন মূলধারার বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অপরিহার্যতা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অনবরত বাঁকবদল তাঁর সাহিত্যিকতার প্রধান বৈশিষ্ট। বিষয় ও আঙ্গিকে, মাধ্যম ও প্রকরণে তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত অবস্থান সকল মহলেই স্বীকৃত। পেয়েছেন বাংলা একাডেমিসহ দেশের প্রধান প্রায় সকল সাহিত্য পুরস্কার।
একজন লেখকের অন্তর্জগতের টানাপোড়েন নিয়ে লেখা।চিন্তাভাবনার খোরাক আছে কিন্তু নতুন কিছু পেয়েছি তেমন বলা যাবে না।লেখক বইয়ের গুরুগম্ভীর ভাবের সাথে মেলোড্রামার মেলবন্ধন করতে পারেননি যথাযথ।
একজন লেখকের পারিবারিক জীবন ও লেখক সত্ত্বার টানাপোড়েন এর গল্প।যা থেকে বাঁচতে তিনি শহর ছেড়ে বেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামের এক পীরের দরগায়। লেখক এখানে বেশ কিছু বিষয়কে একসাথে নিয়ে এসেছেন ।যা নতুন কিছু মনে হয় নি বরং কিছুটা গোলমেলে লেগেছে ।
আপনি যেখানে থাকুন; অন্যথায় আপনি আপনার জীবন হারিয়ে ফেলবেন। -বুদ্ধ
মানুষ তার জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। আর এই ভালবাসার দায়ভারটাও ঠিক নিজের। অনেক মানুষ নিজেকে উজার করে দিয়ে ভালবাসে তবুও দিন শেষে সে একাই থাকে। কারণ তাকে ভালবাসার মতো মানুষের অনেক অভাব। তবুও সে হাসি মুখে ভালবেসে চলে।
জীবনের কাছে মানুষের অনেক ঋণ, এই ঋণ কখনও শোধ হবার নয়। তবুও মানুষ চেষ্টা করে ঋণ শোধ করার। কিন্তু জীবন প্রতিনিয়ত ঋণী করেই যাচ্ছে। মানুষ চাইলেও পারবে না এই ঋণ শোধ করতে।
মৃত্যু মানুষের একটি অমোঘ সত্য। এই সত্যকে মানুষ এড়িয়ে যেতে পারে না। একদিন না একদিন মৃত্যু এসে মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়বেই। তবে এর আগে মানুষ বেচে থাকে। অনেকেই জীবনের প্রতি, বেচে থাকার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মনে হয় মৃতের শরীরের বেচে থাকা। আবার মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখার পর জীবনের প্রতি যেন অন্য রকম এক ভালবাসা এসে যায়। এ যেনে জীবন মৃত্যুর দ্বন্দ্ব।
নিজেকে মানুষ হারাতে চায় না। অনেক সময় হারিয়ে ফেলে। না চাইলেও মানুষ তখন একা নিঃসঙ্গ এবং অপরিচিত হয়ে পরে। খুজে ফেরে একটা আশ্রয়, যেখানে একটু নিঃশ্বাস নেয়া যায়। নিজেকে খুজে পাওয়া যায়। নিজের হারিয়ে ফেলা আমিকে আবারও নতুন ভাবে আবিস্কার করা যায়। জাকির তালুকদার রচিত “মৃত্যুগন্ধী” ঠিক তেমন ই।
অবিখ্যাত, অথচ শিল্প ও সমাজের কাছে দায়বদ্ধ একজন লেখকের কাহিনি 'মৃত্যুগন্ধী'। রুচি ও আত্মসম্মানের কারণে সাহিত্যের প্রতিযোগিতায় নামতে তিনি নারাজ। অশান্তি থেকে বাঁচার জন্য একসময় তাকে চলে যেতে হয় অজ্ঞাতবাসে৷ এই দেশের মানুষের নিজেকে লুকিয়ে রাখার জায়গা নেই বললেই চলে।
তবু মরিয়া লেখক নিজের জন্য পালানোর একটি আশ্রয় খুঁজে নিতে চান। তারপর শুরু হয় নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্ব। নিজেকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা। নিজেই তার উত্তর খোঁজা। অবচেতনে মত্যুর কথা ভাবেন বারবার৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনই তাঁকে সরিয়ে আনে মৃত্যুর কাছ থেকে। প্রমাণ হয় জীবন অনেক বেশি অপ্রতিরোধ্য।
তুমি এক বারই বাঁচবে কিন্তু যদি ঠিকভাবে বাচোঁ, এক বারই যথেষ্ট। -মে ওয়েস্ট
“মৃত্যুগন্ধী” পড়ার সময় আপনার মনে হবে অনেক অসংলগ্ন কথার ঝুড়ি। তবে আপনি যখন একটু গভীর ভাবে চিন্তা করবেন। চরিত্রের সাথে নিজেকে দাড় করিয়ে একই সাথে জীবনকে দেখবেন। আপনার জীবন নিয়ে ভাবনা বদলে যেতে পারে। তখন মৃত্যু আর জীবনে নতুন ভাবে আবিস্কার করতে পারেন। হয়ত আপনি যখন জীবন মৃত্যু নিয়ে ভাবতেন সেটা আবার নতুন ভাবে ভাবতে হতে পারে। কারণ সবার জীবন দর্শন আর মৃত্যু নিয়ে ভাবনা এক নয়। তাই জীবনকে নতুন ভাবে দেখার প্রয়োজন।
এই বইটি একটু কাঠখোট্টা। সবার ভাল লাগবে না। যারা একটু দর্শন বা এই বিষয় গুলো নিয়ে পড়তে ভালবাসেন তারা পড়তে পারেন। আপনাদের জন্য এটা হতে পারে জীবন দর্শনের এক নতুন অধ্যায়। আবার যারা একটু কম বয়সী রয়েছেন বা যাদের ভারী লেখা পছন্দ নয় তারা এই বইটি এড়িয়ে চলুন। কারণ বেশ গভীর প্রকৃতির লেখা।
এই সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হচ্ছেন জাকির তালুকদার। যিনি তার লেখার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই জীবন দর্শন। সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং জীবনের বাস্তবতা। মুলত এই সময়ের ভাবধারা তার লেখার অন্যতম একটি দিক।
সেই দিক থেকেই “মৃত্যুগন্ধী” অন্যতম। যদিও বইটি সবার উপযোগী নয়। তবুও যারা পড়তে চান পড়তে পারেন। হয়ত আপনার ও জীবন দর্শন পরিবর্তন হতে পারে।
বইঃ মৃত্যুগন্ধী লেখকঃ জাকির তালুকদার পৃষ্টাঃ ৮৫ প্রকাশনীঃ প্রথমা প্রকাশ