'মরতে এসছো?জলদি ভাগো!!!! পাক্কা পঁয়ত্রিশ সেকেন্ড ঠায় দাড়িয়ে রইল বিপু ভাইয়া। পিঠে ঝোলানো পিঠব্যাগ।আজই বেড়াতে এসেছে ও, ওর ফেসবুক ফ্রেন্ড সাকিবদের বাসায়।এখনও বাসায় অবশ্য পৌঁছাতে পারে নি। মাঝপথে আবার ঐ ছোট্ট সাবধান চিরকুটটা,যাতে লেখা একটা সাবধানবাণী।কিছুই বুঝতে পারলো না বিপু ভাইয়া। এর আগে তো কখনও সে এদিকটায় আসেও নি, এমনকি সাকিবের সাথে তার দেখাও হয় নি। সাকিব অবশ্য ওর ছবি দেখেছে।সেই কি কোনো মজা করছে?পথ চলতে শুরু করলো বিপু ভাইয়া,বারবার মনে হচ্ছে কে যেন পিছু নিয়েছে!
কায়দা করে ধরে ফেললো একটা ছেলেকে,ওরই বয়সী। বিপু ভাইয়া ভাবলো সাকিব বোধয়।কিন্তু ছেলেটা ওকে চমকে দিয়ে আবারও মুখে বললো, "সাকিব তুমি কেন এসেছো আবার?বাঁচতে চাইলে জলদি পালাও!"
হঠাৎ করেই এখানে আগমন বিপু ভাইয়ার।কারণ অনেক দিন ধরে সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছিলো না,তাই সরাসরি দেখা করতেই চলে এসেছে।কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে সাকিবের এইভাবে কোনো খোঁজ না পাওয়া আর এখানে এই ঘটনার মাঝে রহস্য আছে! কি সেই রহস্য!!
রহস্য জানতে যাত্রা করতে হবে কিশোর গোয়েন্দা বিপু ভাইয়ার সাথে।
আমার শুরুর দিকে পড়া কিশোর রহস্যোপন্যাস। তখন বোধহয় তিন গোয়েন্দা বা মাসুদ রানা পড়ি নি। এটা মূলত কিশোর কণ্ঠ নামে একটা শিশু-কিশোর মাসিকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত রহস্যোপন্যাস। কিশোর গোয়েন্দা বিপ্লব ওরফে বিপু ভাইয়ার রোমাঞ্চ। কয়েকটা মাস খুব অপেক্ষায় কেটেছে। এক পর্ব পড়ার পরে আবার পরের মাসেরটার জন্য কত অপেক্ষা করেছি!! ভাবতেই কেমন যেন নস্টালজিক হয়ে পড়ছি :)
সাকিবের সাথে বেশকিছু দিন ধরেই বিপু ভাইয়ার কথা হচ্ছে না। ফেইসবুকে পরিচয়। এখনও ছবি বা ঐ জাতীয় কিছু দেখে নি সে। তবে সাকিবকে একবার বিপু ভাইয়া নিজের ছবি পাঠিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কয়েকদিন যাবৎ সাকিবের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এদিকে বিপু ভাইয়ার হাতে কাজ না থাকায় ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে সাকিবের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য, ভাগ্যিস ঠিকানাটা অন্তত নিয়েছিল। সেখানে গিয়ে আবার আরেক ঝামেলা। কে যেন সাবধানবাণীমূলক চিঠি ছুঁড়ে মারছিল, শুরুতে বিপু ভাইয়া এর পেছনে সাকিবকেই ধরে নিয়েছিল কিন্তু বুঝতে পারলো ঘটনা অন্যকিছু। ধীরে ধীরে বিপু ভাইয়া বুঝতে পারলো সাকিবের সাথে যোগাযোগ না হওয়ার আসল কাহিনী। বুঝতে পারলো এখানে বড় ধরনের গণ্ডগোল রয়েছে। বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসে জড়িয়ে পড়লো বিরাট রহস্যের মধ্যে। সাকিবের বাবা উঁচু দরের বিজ্ঞানী; সে নিখোঁজ এর পরপরই নিখোঁজ হয়ে গেছে সাকিব নিজেও।
এভাবেই শুরু নীল থাবা..............................
এটা আমার কাছে সবসময় স্পেশাল থাকবে, কত কত স্মৃতি! 💙
আমার পড়া প্রথম উপন্যাস। এর আগে কোনোদিন কোনো উপন্যাস পড়ছি বলে মনে পড়ে না। রহস্য উপন্যাস পড়ে অবাক হওয়া যাকে বলে তা এটা পড়েই হয়েছিলাম কারণ তো আর বলে দিতে হবে না। জীবনের প্রথম পড়া উপন্যাস বলে কথা। ২০১২ সালে পড়া সম্ভবত 🙄 মনে নাই ঠিক। ছোট বোন কিশোর কন্ঠ কিনতো। খুব পড়তো। মান সম্মান বাঁচাতে পড়েছিলাম😑
২য় বারের মত বইটা আবার পড়লাম।
কিশোর গোয়েন্দা বিপ্লব তার ফেসবুক ফ্রেন্ড সাকিবের সাথে হুট করে দেখা করতে যায়। এর আগে কখনো সে সাকিব কে দেখে নি। সেখানে গিয়ে সে এক রহস্যের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়ে।সাকিব ও তার বাবাকে কেউ কিডন্যাপ করেছে। সব রহস্য ভেদ করে সে সাকিব আর তার বাবাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উপন্যাসটি ড্রাগস সম্পর্কিত। নীল দল নামক একটা গ্যাং এই ড্রাগসের বিজনেস করে এবং ঘটনা চক্রে সাকিব ও তার বাবা এই জালে জড়িয়ে পড়ে। বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার সীমা পেরিয়ে বিপ্লব কেইস সল্ভ করে ফেলে।
২০১২ সনে যখন ক্লাস টু তে পড়ি তখন হঠাৎ করেই হাতে এসে পড়ে কিশোর কন্ঠ নামে এক মাসিক ম্যাগাজিন। বাসায় এসে উল্টাতে উল্টাতে চোখ পড়লো এই উপন্যাসটির উপর।বোধহয় প্রথম পর্বই পেয়েছিলাম এই রহস্যোপন্যাসটির। শেষ করতে পেরেছিলাম কিনা মনে নেই এখন আর। কিন্তু মনে আছে দুপুরবেলায় ইস্কুল থেকে ফিরে খেয়েদেয়ে যখন আব্বুর সাথে বিকেলের নিদ্রার জন্য বিছানায় যেতাম তখন দুজনে এই উপন্যাসটি পড়তাম। কি দারুন ছিল সেই সময়গুলো আহা!! ভাবলে নস্টালজিক হয়ে যাই। আবার যদি কোনভাবে ফেরত যেতে পারতাম সেই দিনগুলোতে!!
গল্পের চরিত্রগুলো মনে না থাকলেও প্লট হালকা হালকা মনে ছিল এতদিন পর্যন্তও। জীবনের প্রথম উপন্যাস বলে কথা!! গুডরিডসে কেন জানি না হঠাৎ করেই সার্চ দিলাম 'নীল থাবা' নামে। এবং আমাকে আশ্চর্য করে একদম ঠিক হাজির হয়ে গেল।এবং আরো আশ্চর্য করে দিল যখন দেখলাম ধীরে ধীরে সবকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। এই স্মৃতি, সেই দিন কখনো ভোলার নয়!!