যুগে যুগে মানুষকে আকৃষ্টে করেছে তার চাইতে বড়, তার চাইতে বিস্তৃত এক শক্তি। কোনো সমাজে সেই শক্তির নাম জুপিটার, কোনো সমাজে অলিম্পিয়ান, কোনো সমাজে এইসির। প্রিয় পাঠক, আজ আপনাদের শোনাবো সেই এইসিরদের গল্প। যারা দেবতা হয়েও...ঠিক দেবতা নন। শোনাবো দানো কিংবা জতুনদের গল্প, যারা সৃষ্টির বিপক্ষের শক্তি হয়েও...ঠিক অশুভ নন। শোনাবো ওডিনের কিংবদন্তি...যিনি সর্ব-প্রথম, সর্ব-পিতা ও দেবপ্রধান। শোনাবো থরের নানা অভিযানের কথা...যার নাম শুনলে থর থর করে কেঁপে ওঠে প্রতাপশালী হিমদানোরা। শোনাবো লোকির চালাকির আখ্যান...অতি চালাকের গলায় দড়ি কথাটা সম্ভবত যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খাটে। আর শোনাবো র্যাগনোরকের কথা...এই অন্তিম দিবস যা মহাবিশ্বে জন্ম দেবে নতুন এক চক্রের। এইসির-জতুন-থ্রাল-রিগ-এলফ-বামন-সিগার্ড-হেল... প্রিয় পাঠক, এদের গল্প শোনার জন্য প্রস্তুত তো?
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।
লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
গেইম্যানের নর্স মিথলজি পড়ে মজা পেলেও, আকারে ছোট হওয়ায় অতৃপ্তি থেকে গিয়েছিল। র্যাগনোরক: নর্স পুরাণের গল্প পড়ে সেই অতৃপ্তি মিটল। ছোট ছোট অধ্যায়ে নর্স পুরাণের মোটামুটি সব গল্পই উঠে এসেছে প্রায় ৩৫০ পৃষ্ঠার এ বইয়ে। স্বাদু, ঋজু গদ্যে তরতর করে পড়ে উঠেছি।
বেশ লম্বা একটা সময় নিয়ে অবশেষে শেষ করলাম বইটা। না না না.. প্যারা খাই নাই। খুবই মজা পাইসি। অন্যান্য বইয়ের সুবাদে নর্স মিথলজির দেবতাদের ভালো ভালো কাজ (এবং আকাম-কুকাম) সম্পর্কে হালকা পাতলা ধারণা থাকলেও এই বইটায় একদম মোটামুটি ডিটেইলে ছিল এবং গোছানো। বইটার শেষ অংশে যখন খুব থমথমে ভাবে বর্ণনা করা হচ্ছিল অন্তিম অবস্থার কথা.. কিভাবে পৃথিবী ধ্বংস হবে, শুভ-অশুভের লড়াই হবে, ফেনরির আর মিডগার্ডের সর্প যার যার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে শুরু করবে ধ্বংসযজ্ঞ... আমি জানি না, কেন হঠাৎ করে কেয়ামতের কথা মনে পড়ে গেল 🤣 আর খুবই দু:খের সাথে মনে হচ্ছিল দুনিয়াটা তো যে কোন একদিন এম্নেই ধ্বংস হয়ে যাবে! আমি কি করলাম :v এইকূলও কিছু হইলো না, অই কূলও কিছু হবে না।
সে যাকগা! অই ডিপ্রেশনের কথা মনে করায়ে লাভ নাই। আপাতত বর্তমানে যা আছে তাই সই! তো.. আর কি... এই বইটা এমন কিছু ব্যক্তিদের নিয়ে লেখা যারা দেবতা হয়েও ঠিক দেবতা নয়। দোষে-গুণে ভরা প্রায় মানুষই কিন্তু একটু বেশি ক্ষমতাওয়ালা এই আর কি! সর্ব-পিতা ওডিন, প্রতাপশালী থর, সুন্দরী ফ্রেইয়া, ধূর্ত লোকি আর অন্যান্য দেবতা, বামন-এলফ, হিমদানো ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছু নিয়ে সম্পূর্ণ অন্য এক দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম!
নর্স মিথলজি আমার সবথেকে প্রিয়। এজন্যই বইটা উঠিয়ে নেয়া। হতাশ হতে হয়নি মোটেও। পুরো বইটাই উপভোগ করেছি। বিশেষ করে ওডিন ও থরের কিংবদন্তিগুলো। যদিও অধিকাংশ-ই জানা ছিল। তবুও আরেকবার রিভাইস হল। ব্যাপারটা খারাপ না। তবে নিল গেইম্যানের নর্স মিথলজি বইটা পুরোটাই এটার ভেতরে রয়েছে। যারা নর্স মিথলজি বইটা পড়েছেন তাদের কাছে এই বইয়ের অনেককিছুই পরিচিত লাগবে। নিল গেইম্যান সাহেব মেজর ঘটনাগুলো তুলে ধরেছিলেন তার নর্স মিথলজি বইয়ে। র্যাগনোরক বইয়ে রয়েছে নর্স মিথের আরও কিছু কাহিনী। বিশেষ করে শুরুতে সব দেবতাদের একে একে বর্ণনা করা হয়েছে, এটা দেবতাদের পরিচয় জানার ক্ষেত্রে ভালো দিক। আবার ওডিন, লোকি ও থরের অভিযানেও অল্প হলেও কয়েকটা নতুন আখ্যান রয়েছে। যা আগে পড়িনি। বইয়ের ‘নর্স পুরানের অন্যান্য কাহিনী’ নামক পর্বের কাহিনীগুলো আমার কাছে নতুন। মোটামোটি লেগেছে পর্বটা। সৃষ্টিতত্ত্ব অধ্যায়ের মৃত্যুর পরের জীবন কিংবদন্তিটা ভালো ছিল। মিথলজি প্রেমিকদের জন্য মোটামোটি সংগ্রহে রাখার মত একটা বই আরকি।