Ishwarer Mrityu (ঈশ্বরের মৃত্যু) is a Bengali detective novel that revolves around the protagonist named Jyotishka Sen (জ্যোতিষ্ক সেন) and a seven year old boy who goes missing. 23 years after the disappearance the protagonist becomes curious about the case and sets out investigating. In the path towards truth he gets tangled up in conspiracy, murders, secrets and religious myths.
যেদিন থেকে বইটা প্রকাশের কথা শুনেছি পড়ার ইচ্ছা সেদিন থেকেই। প্রকাশের দিন অনলাইন সাইট হাতড়ে অর্ডার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ মনোরথ হতে হয় ডেলিভারি সংক্রান্ত অসুবিধার কারণে। তাই কাল যখন প্লে স্টোরে বইটা পেলাম, উচ্ছ্বসিত হয়ে সংগ্রহ করে ফেলি। বর্তমানে containment zone- নিবাসী হওয়ার সুবাদে (আর কিছু না হোক, অন্তত বই পড়ার জন্য এ এক অনন্য সুযোগ) পড়তে শুরু করি আজ সকালে এবং ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই শেষ কারণ এ এমন লেখা যা শুরু করলে শেষের পাতা অবধি না পৌঁছে থামা সম্ভব না কোনো রহস্যপ্রেমীর পক্ষে।
স্পয়লার না দিয়ে এই গল্পের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা বা রিভিউ লেখা শক্ত, তাও পটভূমি মোটামুটি এইরকম - ১৯৬৫ সালে সাত বছর বয়সী জেরেমি মর্টিমার নিখোঁজ হয় মফঃস্বলের এক মেলা থেকে। দীর্ঘ তেইশ বছর পরও তার অন্তর্ধান রহস্যের কোনো কিনারা না করতে পেরে পুলিশ কেসটিকে abandoned হিসাবে ঘোষণা করে। এদিকে বেশ ক'বছর নিরুদ্দিষ্ট থাকার পর আচমকা বাড়ি ফিরে জ্যোতিষ্ক সেন নিছক কৌতূহলবশত ঘাঁটতে শুরু করেন এই অমিমাংসিত ঘটনা নিয়ে। কিন্তু ক্রমেই সেখানে আঁচ পাওয়া যায় এক গভীর ষড়যন্ত্রের। অতঃপর অনুসন্ধান এবং সবশেষে সমাধান।
জ্যোতিষ্ক সেন বা গল্পের অন্যান্য চরিত্রের বর্ণনা গল্প থেকে পাওয়াই পাঠকের পক্ষে শ্রেয় তাই সে বিষয়ে সবিস্তার আলোচনায় যাব না। লেখার প্রসঙ্গে বলতে হয় বেশ পরিপাটি এবং নির্মেদ গল্পের বিবরণ। মূল কাহিনী তথা রহস্যের প্লটটি বেশ চিত্তাকর্ষক তবে খানিকটা অনুমেয়ও বটে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখার মধ্যে এক একটি বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করা সেই অনুমানে সহায়তা করেছে (জানিনা সেটা লেখকের ইচ্ছাকৃত কি না)। গল্পের ভূমিকাতেই লেখকের অকপট স্বীকারোক্তি যে তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্রটি শার্লক হোমসের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং প্রভাবিত, এমনকি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে প্রদোষ মিত্রের সাথেও জ্যোতিষ্ক সেনের কিছু কিছু মিল লক্ষ্যনীয়। অথচ সেসব ছাপিয়েও লেখকের নিজস্বতা এবং কাহিনীর অভিনবত্ব অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। তাই সব মিলিয়ে "ঈশ্বরের মৃত্যু" নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আগামীতে জ্যোতিষ্ক সেন এবং তার প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিপক্ষের সাথে (arch enemy কি না সেটা এখনি বলাটা হয়তো ঠিক হবে না) সাক্ষাতের অপেক্ষা রইল।
হারিয়ে গেল জেরেমি মর্টিমার। মাত্র সাত বছর বয়সী ছেলেটি মেলা দেখতে গিয়েছিল পরিবারের বিশ্বস্ত চাকরের সঙ্গে। কিন্তু সেখান থেকে সে নিরুদ্দেশ হল। পুলিশের যথাসাধ্য অনুসন্ধানেও তাকে আর পাওয়া গেল না। সে-ঘটনার দীর্ঘ তেইশ বছর পর পুলিশ নিরুপায় হয়ে তদন্ত বন্ধ করে দিল। নেহাতই ঘটনাচক্রে তার কিছুদিন আগেই নিরুদ্দেশ অবস্থা থেকে বাড়িতে ফিরেছিল প্রতিভাবান, বাউন্ডুলে, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও দুনিয়াদারিতে হিরের মতোই ধারালো ও দ্যুতিময় জ্যোতিষ্ক। সে এই 'কোল্ড কেস'-টির প্রতি আকৃষ্ট হল। তারপর কলকাতা, শ্রীরামপুর, আরও অনেক দূর দেশ ও কাল পেরিয়ে সত্যির সন্ধান পেল জ্যোতিষ্ক। কিন্তু জেরেমিকে কি খুঁজে পেল সে?
বাংলায় ভালো রহস্য গল্পের অভাব নেই। স্মরণীয় রহস্যভেদীও নেহাত কম নেই বাংলা সাহিত্যে। তবু আলোচ্য বইটি বাংলার রহস্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হবে বলেই আমার ধারণা। তার কারণগুলো, আমার মতে, এ-রকম~ প্রথমত, বাংলায় ফেলুদার ক্লোনের সংখ্যা প্রচুর। ব্যোমকেশ হতে চাওয়া গোয়েন্দাও নেহাত কম নেই এ-ভাষায়। কিন্তু বেকার স্ট্রিটের বাসিন্দা সেই কিংবদন্তি'র কার্যকলাপ আর ব্যোমকেশের মনস্তত্ত্ব-আধারিত বিশ্লেষণকে মিশিয়ে জ্যোতিষ্ক সেনের মতো চরিত্র আমরা খুব-খুব কম পেয়েছি। তাই পাঠক জ্যোতিষ্কের টানেই এই সিরিজটি প্রতি আকৃষ্ট হবেন। দ্বিতীয়ত, দুষ্প্রাপ্য মূর্তি, বিরল ডাকটিকিট, বা হারানো উইলের মতো কৃত্রিম কোনো জিনিসকে এই রহস্যের কেন্দ্রে রাখা হয়নি। বরং মনের গাঢ়, নিশ্ছিদ্র অন্ধকার এবং ধর্মের নামে অন্ধকারের উপাসনা— এরাই হয়েছে এই কাহিনির উপজীব্য। এ বড়োই ব্যতিক্রমী ঘটনা। এখানেই এই উপন্যাসের নামের সার্থকতা। তৃতীয়ত, তথ্য ও তত্ত্বের মিশ্রণে, সহজ অথচ ধারালো গদ্যভাষায় লেখক যে কাহিনিটি পরিবেশন করেছেন তা একেবারে রুদ্ধশ্বাসে পড়ার মতো। বইটার দুটো জিনিস খারাপ লাগল। সেগুলো হল~ (১) প্রটাগনিস্ট ও তার সাইড-কিকের পটভূমি-নির্মাণে লেখক এই শীর্ণকায় উপন্যাসের প্রায় এক চতুর্থাংশ খরচ করেছেন। একে তো লেখাটা ভীষণ ছোটো— উপন্যাসের বদলে একে বড়োগল্প বলাই সঙ্গত। তার মধ্যে এত পাঁয়তারা কষা ভালো লাগেনি। (২) গল্পটার সর্বাঙ্গে অদৃশ্যভাবে জড়িয়ে আছে ডার্টমুরের চোরাবালি। মরিয়ার্টি-প্রতিম স্টেপলটনকে হয়তো সেজন্যই লেখক জিইয়ে রাখলেন পরবর্তী আখ্যানের জন্য। তবে তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। অনুকূল ডাক্তারকেও তো শেষ অবধি কিস্তিমাত হতেই হয়েছিল, তাই না? তবু বলব, যদি আধুনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত রহস্য আপনার ভালো লাগে, তাহলে এই বইটি পড়ে দেখুন। খারাপ লাগবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
ঈশ্বরের মৃত্যু এক নি:শ্বাসে পড়ে ফেলার মত বই। ধারে ও ভারে। প্রথমত, লেখনী সরল ও সাধাসিধে। আট থেকে আশির তা বুঝতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। ফলে এক থেকে দেড় ঘণ্টায় শেষ করা যায় প্রায় ১৬০ পেজের বইটি। দ্বিতীয়ত, প্লটের জটিলতা গল্পের শেষাংশে বেশি, তাই বেশ দুলকি চালে শুরু করা যায় পলাশ হকের লেখা প্রথম বই " ঈশ্বরের মৃত্যু"। কাহিনী সংক্ষেপে , প্রায় তেইশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বছর সাতেকের বালক জেরেমি মর্টিমারের অন্তর্ধান রহস্য। লেখকের ভ্রাতৃপ্রতিম জ্যোতিষ্ক সেনের আবির্ভাবের মাধ্যমে সেই বিস্মৃতপ্রায় ঘটনাবলী পুনরায় সামনে আসে। প্রথম গল্প হওয়ার জ্যোতিষ্ক সেনের সম্পূর্ন বিবরণ দেওয়ার জন্য ব্যয় হয়েছে কাহিনীর প্রথমাংশ। বাংলা ভাষায় গোয়েন্দা গল্পের কোনো কমতি নেই। ফলে স্থানে স্থানে তাদের সঙ্গে তুলনা আসতে বাধ্য। কিন্তু, সেটি মাথায় না রেখে যদি পড়া হয় তাহলে বলা যায়, যে একটি ঝরঝরে নির্মেদ নব্য গোয়েন্দার প্রাপ্তি ঘটলো বাংলা ভাষায়। কাহিনীটা সম্পূর্ন উহ্য রেখে কিছু আলোচনা করা যাক। প্রথমত, বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দাকে তার সহকারী অথবা রাশভারী পুলিশ প্রধানের থেকে বুদ্ধিমান বানানোর তাগিদে তাদেরকে হয় অতিমানব বানানো হয় অথবা চারপাশের মানুষদের বুদ্ধি তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়। এরূপ উদাহরণের ছাপ সর্বত্র। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই হয়েছে। মূলত, সহকারী তথা লেখকের সেরকম কোনো কাজ নেই। শুধুই মহাভারতের সঞ্জয়ের কাজ সামলেছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, গোয়েন্দার চিন্তাশৈলী বা কেস সলভিং পদ্বতি সম্পর্কে লেখক সম্পূর্ন মৌন। একেবারে ক্লাইম্যাক্স এ না পৌঁছলে গোয়েন্দার ভাবনা এবং কাহিনীর টুইস্ট সম্পর্কে পাঠকের কোনো আইডিয়া আসবে না। যেটি সামান্য হলেও হতাশাজনক।
তৎসত্ত্বেও বইটা ভালো লেগেছে। প্রথম লেখা গল্প, ভলিউম ছোটো, তবুও ফ্রেশ একটা অ্যাপ্রোচ আছে, যা মন ভালো করে দেয়। প্লটটি ভালো, বেশ ঘষে মেজে লেখা তাই বুঁদ করে রাখে অধিকাংশ সময়। শেষে একটি আর্জি বলা যায়। বর্তমানে বিদেশি লেখক বিশ��ষ করে লেখিকাদের মধ্যে একটি বিশেষ চল দেখা যায়। তারা নায়ক/নায়িকা প্রধান গল্প লেখেন না। প্রধান চরিত্র সাধারণের মতই damaged অথবা survivor। সেখানে তাদের জীবনের উত্থান-পতন আমাদের ভীষন চেনা ছবির মত। জ্যোতিষ্ক তা নন। তাঁকে হতেও হবে এমন কোনো মানে নেই। তবুও একটু হলেও ছক ভাঙতে দোষ কি? বিশেষ করে যার স্বভাবে এতগুলি গুণ রয়েছে, তাকে ভাঙলে বেশি আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা। রেটিং: পাঁচে সাড়ে তিন।
Books are my weakness and strength. Stories for me are pretty much all about the storytelling brilliance and the characters and character development in them. Often it so happens that in spite of the plot being strong either the story telling lacks my liking parameters or the characters with great potential get less of a justice by the creator. This piece of work however meets all my expectations.
I have read not read as much of Bengali literature as I have been in touch with its English cousins. Naturally, before picking up a Bengali book I am often sceptical and self critical about, if I will be able to do the book any justice, as a reader. But when a work is as gripping as ISHWARER MRITYU, it breaks all the scepticism and self doubts. I remember finishing this novel over a weekend, ditching the entire to-do list for the weekend and being literally glued to the content.
কখনো ফেলুদা আবার কখনো বোমকেশ বক্সী হয়ে ধরা দিয়েছেন লেখক। বেশ চমকপ্রদ ভাবেই লেখার ধারা চালিয়ে গিয়েছেন। রোহমর্ষক ব্যাপারটা দূর্দান্ত রকম করে খুঁটিয়ে তুলতে লেখক বরাবরই সক্ষম হয়েছেন।
গোয়েন্দা নির্ভর গল্প পেলেই লোভ সামলাতে পারিনা আর এই বইয়ের স্বাধ আমের মতো মিষ্টি!
চমৎকার! এক তারা বাড়িয়ে দিলাম যদি রেটিংটা একটু বাড়ে আরকি৷ নিঃসন্দেহে আরও বেশি রেটিং ডিজার্ভ করে বইটা। প্রথমেই বলতে হয় এর ঝরঝরে বর্ণনার কথা। বর্ণনাভঙ্গির কারণেই একটানা পড়ে ফেলা যায়। রহস্যটাও বেশ লাগলো। হয়তো অনেক বেশি আনপ্রেডিক্টেবল না কিন্তু পুরোটা সময় আগ্রহ ধরে রাখার মতো জমজমাট ছিলো। আর শেষে একের পর এক টুইস্ট যার বেশিরভাগই ছিলো অপ্রত্যাশিত- বইটা পড়ার আনন্দ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভালো লেগেছে শখের গোয়েন্দা জ্যোতিষ্ক সেনকেও। আশাকরি লেখক সামনে তাকে নিয়ে আরও কিছু লিখবেন।
বই- ঈশ্বরের মৃত্যু লেখক- পলাশ হক প্রকাশক- ছাপাখানা মূল্য- ৩৫০
আশির দশকের কলকাতা। সেখানে প্রায় তেইশ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছে একটি বাচ্চা ছেলে। এতদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পরে পুলিশও সেই কেস বন্ধ করে দিয়েছে। তখন মঞ্চে অবতীর্ণ হল জ্যোতিষ্ক সেন, গল্পের হিরো। সহজ সরল ভাষায় লেখা একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। ফেলুদা, শার্লক এবং ব্যোমকেশের প্রবল প্রভাব রয়েছে গল্পে। লেখক তা অস্বীকার করেননি। বরং উৎসর্গের জায়গায় ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের ভদ্রলোকের কথাই উল্লেখ করেছেন। ভাল লাগা আর মন্দ লাগাগুলো বলে নিই :---
নিপাট ঝরঝরে বাংলায় লেখা গল্পটি পড়তে ভাল লাগে। আমার চোখে একটাও বানান ভুল ধরা পড়েনি। আশ্চর্যের কথা! জ্যোতিষ্ক সেন গোয়েন্দা হিসাবে ফেলু মিত্তির আর শার্লক হোমসের মিশ্রণ। (আসলে এটা ভাল না মন্দ বলতে পারছি না। গোয়েন্দা চরিত্রটিকে ভাল লাগলেও অতি-প্রভাব আদপে সুবিধের জিনিস নয়।) ফোন করার জন্য দোকানে ঢোকা, বা, নিউ এম্পায়ারে দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অফ ক্রাইস্ট দেখতে যাওয়া - পুরনো সময়কে তুলে ধরার এই চেষ্টা দেখে ভাল লাগে। এছাড়া আশির দশক পাঠকের চোখে আর কোথায় আঁকা হয়নি। রহস্য গল্পে যদি গোয়েন্দার সঙ্গে পাঠকও মাথা খাটানোর জায়গা পায়, তাহলে ভাল লাগে। কিন্তু এখানে জ্যোতিষ্ক সেন একাই সব করে গেছেন, বুঝে গেছেন এবং সলভ করেছেন। পাঠক কেবল পাঠ করেই ক্ষান্ত থেকেছেন-- এটা কাম্য নয়। গল্প যত এগোতে থাকে, তত বেশি করে পাঠক যদি সেই জালে নিজেও জড়িয়ে পড়েন, তবেই গল্পের মজা আঠেরো আনা পাওয়া যায়। ক্রিশ্চান ধর্মের অন্ধকার দিকটি এখানে তুলে ধরা হয়েছে, যা ড্যান ব্রাউনকে মনে পড়ায়। তবে ড্যান ব্রাউনের মতো থ্রিল এই গল্পে অনুপস্থিত। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে অধ্যায়ের নামগুলি। 'মাটির ম্যাডোনা,' 'হ্যালেলুইয়া,' 'লেট দেয়ার বি লাইট,' কিস অফ জুডাস।' যেন পাঠককে কিছু ইঙ্গিত দিতেই এমন নামকরণ।
প্রচ্ছদটি বেশ ভাল। জবড়জং লাল-কালো ভয়াবহ প্রচ্ছদের বাইরে এই বইয়ের প্রচ্ছদ চোখকে আরাম দেয়। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের আঁকার আমি অত্যন্ত ভক্ত। বইয়ের ভিতরে তাঁর প্রতিটি অলংকার অসাধারণ বললেও কম বলা হবে।
আপনি যদি বইটা না পড়ে থাকেন, তাহলে এতদূর এসে থেমে যান। স্পয়লার অ্যালার্ট--- ফ্লোরেন্স যদি উইলিয়ামকে ভালইবাসতেন, তাহলে তাঁর সম্পর্কে কুৎসা রটানোর অর্থ খুঁজে পেলাম না। ফাদার স্যামুয়েল গোটা চক্রে জড়িত থাকা সত্ত্বেও এমন বোকার মতো স্টেপ কেন নিতে গেলেন! ভিলেন, সে সেকেন্ড লিড ভিলেন হলেও বোকামি করার জায়গা এমন রাখলে গল্পে লুপ হোল তৈরি হয়ে যায়। জেরেমি মর্টিমার বাগানের দিকে একদৃষ্টে কেন তাকিয়েছিল, সেই নিয়ে প্রথম বেশ আগ্রহ তৈরি করলেও, পরে এসে তার আশানুরূপ ব্যাখ্যা পাইনি। জ্যোতিষ্ক সেনের এটাই প্রথম আবির্ভাব কিনা জানি না, তবে চরিত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে অতি আবেগ অবশ্য বর্জনীয়; নইলে রক্ত মাংসের মানুষকে অকারণ সুপারহিরো বলে মনে হবে। আমার রেটিং ৩.৫/৫
বইটির কথা জানতে পারি লেখকেরই ফেসুবুক প্রোফাইল থেকে। গোয়েন্দা কাহিনীর প্রতি অমোঘ টান থেকেই বইটি পড়া। লেখা ঝরঝরে, তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলা যায়। গোয়েন্দার চরিত্রে নতনত্ব কিছু নেই - বিভিন্ন বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র থেকে ধার করা, বিশেষ করে শার্লক হোমস, যদিও একথা লেখক নিজেই পরোক্ষে স্বীকার করেছেন লেখার মাধ্যমেই। সময়কাল প্রাক-মোবাইল, প্রাক-ইন্টারনেট যুগ (অন্তত পড়ে তাই মনে হলো); বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে হলে ভালো লাগতো। গোয়েন্দার তদন্তপদ্ধতি সম্মন্ধে বুঝতে পারা যায় না। দু একটি ক্লু সহজেই বুঝতে পারা যায়, বাকিগুলোর ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হয় গোয়েন্দার রহস্য উন্মোচনের জন্য। স্পয়লার না দিয়েও বলা যায় যে ভিলেনের মোটিভ খুব একটা জোরালো মনে হয়নি ওইরকম ভয়ঙ্কর অপরাধ করার জন্য। গোয়েন্দার আর্চ এনিমি তৈরী করার জন্য এবং পরবর্তী গল্পের সুযোগ করে রাখার জন্য যে প্লট টুইস্ট গল্পের শেষে জোর করে আনা হয়েছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেরকম নেই। গল্পের শুরুর দিকে গোয়েন্দা চরিত্রটিকে বর্ণনা করার জন্য বা গড়ে তোলার জন্য যতখানি অংশ ব্যয় করা হয়েছে, বাকি সাপোর্টিং চরিত্র চিত্রায়নে লেখকের ততটা উৎসাহ দেখা যায়নি। গোয়েন্দা চরিত্রটিরও পুরোপুরি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায় না। তার অতীত কর্মকাণ্ড, বা শারীরিক সক্ষমতার কথা সেরকম ভাবে উল্লেখ নেই (যেরকম শার্লক বা ফেলুদার ক্ষেত্রে আছে)। তবে মোটের ওপর পড়তে ভালো লাগে।
তেইশ বছর পূর্বে নিখোঁজ হয় এক ছেলে জেরেমি। তাকে উদ্ধার করতে না পেরে পুলিশ যখন হাল ছেড়ে দেয় ঠিক তখন মাঠে নামে রহস্য সন্ধানী এক যুবক জ্যোতিস্ক। বেরিয়ে আসে একের পর এক রহস্য।
বাংলার গোয়েন্দা সাহিত্যের আকাশে আরেক নতুন 'জ্যোতিষ্কের' উদয়। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া একটি বাচ্চাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। এদিকে গোয়েন্দা নিজেই দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে ছিলেন! প্লট খুব আহামরি না, রহস্য বা তার সমাধানও খুব কিছু টানটান নয়। কিন্তু লেখকের লেখার হাতটি চমৎকার। ভবিষ্যতে আরও লেখা পড়ার ইচ্ছে রইলো। উপরি পাওনা, খুব সুন্দর ইলাস্ট্রেশন।
৭ম জন্মদিনে রহস্যময়ভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় জেরেমি। প্রাথমিক সন্দেহে সৎ বাবা মিলার অভিযুক্ত হলেও তার আত্মহত্যা বিষয়টিকে আরো জটিল করে তোলে।২৩ বছর পুরনো এই অসমাপ্ত কেসের সমাধান করতে মাঠে নেমে পড়ে জ্যোতিষ্ক ও কিংশুক। ছদ্মবেশে তারা খবর সংগ্রহ করতে থাকে ফাদার স্যামুয়েল ও কাকা এডওয়ার্ড ফ্রেডেরিক থেকে। তাদের রহস্যময় আচরণ শখের গোয়েন্দাদের ভাবনায় ফেলে দেয়। বিচারবুদ্ধি ও খানিকটা ইতিহাস তাদের আলোর মুখ দেখায়।
মূলত যীশুখ্রিষ্টের মৃত্যু নিয়ে ঘটে যাওয়া ধর্ম যুদ্ধের উপর বইটি লেখা। এতে তেমন একটা টানটান উত্তেজনা না থাকলেও নতুন বিষয় হওয়ায় পড়তে মন্দ নয়।